পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা
এপস্টাইন ফাইলের তথ্যগুলি নিয়ে এখন পৃথিবীর নানা দেশে চর্চা চলবে। কোথাও কোথাও নতুন করে তদন্ত শুরু হবে। আবার কোথাও তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলবে। আপাতত, এপস্টাইন ফাইলের দৌলতে পাওয়া তথ্যগুলির সত্যতা যাচাই করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, তবে প্রাপ্ত তথ্যগুলি থেকে রাজনৈতিক বিষয়ে নানা ঈঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও একটা জিনিস নিঃসন্দেহে বলা যায়, প্রাচীন যুগের মতো এই যুগেও অর্থ এবং ক্ষমতার লোভ ও ইন্দ্রিয়পরায়ণতা থেকে আমাদের মুক্তি নেই। আমাদের দেশের ইতিহাসে অর্থ, প্রতিপত্তি ও যৌনতা অনেক বড় বড় সাম্রাজ্যের ভাগ্য নির্ণয় করেছে, আজ এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও এই তিনের ককটেল একইরকম শক্তিশালী ও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে
এপস্টাইন ফাইল নিয়ে এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রথমে এপস্টাইন ফাইলের প্রেক্ষাপট নিয়ে একটু আলোচনা করা দরকার। তারপর এই ফাইলে উল্লেখিত আমাদের দেশের তিনজন মানুষকে নিয়ে আমরা কথা বলব। নামগুলি যথাক্রমে— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অনিল আম্বানি ও হরদীপ সিং পুরি।
প্রথমত, জেফ্রি এপস্টাইন কে ছিলেন? জেফ্রি এপস্টাইন ছিলেন নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা। অনেক পেশায় কাজ করার পাশাপাশি এপস্টাইনের পরিচিতি মূলত আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে, তিনি নামী-দামী মানুষদের উপদেশ দিতেন কীভাবে অর্থসঞ্চয় ও বিনিয়োগ করতে হবে, উপার্জিত অর্থ লগ্নি করে তা আরও বাড়ানো যাবে, ইত্যাদি। উনি একজন লবিইস্ট ছিলেন। এর অর্থ হল, সরকারে যেই থাকুন না কেন, এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং এপস্টাইন সরকারের নানা নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে পরামর্শ দেওয়ার ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা রাখতেন। যাই হোক, ২০১৯ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রতি যৌন নিগ্রহের অভিযোগে এবং তাদের দিয়ে জোর করে গণিকাবৃত্তি করানোর দায়ে এপস্টাইনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একজন নারী থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে অনেক নারীই এপস্টাইনের বিরুদ্ধে বয়ান দিয়েছিলেন। আইনি হেফাজতে থাকাকালীন কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই ২০১৯-এর আগস্ট মাসেই এপস্টাইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং জানা যায় যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। প্রসঙ্গত, এইসব বেআইনি কাজে এপস্টাইনকে সাহায্য করতেন একজন ব্রিটিশ মহিলা সোশালাইট, ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বর্তমানে তিনি বিশ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি ভোগ করছেন।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডেরাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই লক্ষ লক্ষ পাতার নথি প্রকাশ করেছে যাতে জেফ্রি এপস্টাইনের বহু ইমেল, মেসেজ, তথ্য, অডিও রেকর্ডিং, ভিডিও ও ফটোগ্রাফ রয়েছে। পরিমাণে বিপুল এই নথির নামই এপস্টাইন ফাইলস। মার্কিন সরকারের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস এই নথি প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে বা বলা ভালো দিতে বাধ্য হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইছিলেন না এই সমস্ত তথ্য বাইরে আসুক। কিন্তু ওদেশের কংগ্রেস গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের শেষের দিকে একটি প্রস্তাব পাশ করে যে এপস্টাইনের এই নথি প্রকাশ করতে হবে। ট্রাম্পের দলেরও বেশ কিছু সদস্য বা রিপাবলিকানরাও চাইছিলেন যে এই নথিগুলি জনসমক্ষে আসুক। এই বিলটি পাশ হওয়ার পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আর কিছু করার ছিল না। ফলত, গত কয়েকমাস ধরে এপস্টাইন ফাইলের তথ্যগুলি প্রকাশ পেতে শুরু করে যার শেষতম পর্বটি বেরোয় জানুয়ারি মাসের তিরিশ তারিখ।
এই ফাইলে অনেক বিখ্যাত মানুষের নামের উল্লেখ রয়েছে। অবশ্য এর মানে এই নয় যে এপস্টাইন ফাইলে যাঁদের নাম আছে, তাঁরা সবাই এপস্টাইনের মতো খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি এও সত্যি, এই ফাইলে যাঁদের নামের উল্লেখ আছে তাঁরা কেউই ধোয়া তুলসিপাতাও নন। প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো বটেই, তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রচুর মানুষজনের নামের উল্লেখ রয়েছে এই নথিতে। যেমন, বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্কের নাম রয়েছে। আমেরিকার ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে লিটল সেন্ট জেমস নামে একটি দ্বীপের মালিক ছিলেন এপস্টাইন। এই দ্বীপেও এপস্টাইন প্রচুর বিখ্যাত মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং তাঁরাও এপস্টাইনের আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন। যেমন, পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং থেকে শুরু করে নোম চমস্কি। ব্রিটেনের রাজকুমার প্রিন্স অ্যান্ড্রু-র নাম আছে এই ফাইলে। এছাড়াও রয়েছেন মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেটস, গুগলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সেরজেই ব্রিন, মার্কিন ধনকুবের ও ভার্জিন এয়ারলাইন্সের মালিক রিচার্ড ব্র্যানসন, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন ও তাঁর কাছের কয়েকজন— যেমন ল্যারি সামার্স, যিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং ক্লিন্টনের আমলে সেক্রেটারি অফ ট্রেজারির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন। মাইকেল জ্যাকসন, রোলিং স্টোনসের গায়ক মিক জ্যাগার, উডি অ্যালেন, মেরিল স্ট্রিপ, ইজরায়েলের প্রাক্তন প্রতিরক্ষা ও প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, রবার্ট মুগাবে, এমনকি দলাই লামা— কে নেই এই তারকাখচিত ফাইলে!
তবে এই নিবন্ধে আমরা মূলত কথা বলব তিনজন ভারতীয়কে নিয়ে। ৩০ জানুয়ারি এপস্টাইন ফাইলের যে কিস্তিটি বেরোল তাতে দেখা যাচ্ছে অনিল আম্বানি ২০১৭ থেকে ২০১৯-এর মধ্যে এপস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। নিয়মিত তাঁদের মধ্যে ইমেল চালাচালি হত। প্রথমত, সামরিক যন্ত্রপাতির ব্যবসা-সংক্রান্ত বিষয়ে অনিল আম্বানি প্রথমবার এপস্টাইনের সাহায্য চাইলেন। এপস্টাইনের সাহায্য নিয়ে আম্বানি ২০১৭-তে ইজরায়েলের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের সঙ্গে দেখা করলেন। এরপর ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এ অনিল আম্বানি সুইডেনের এরিকসন কোম্পানির কাছে একটা কেসে হেরে যান। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ৪৫৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেয়। অন্যথায়, কারাবাস। এই সময় অনিল আবার এপস্টাইনের শরণাপন্ন হন এবং কীভাবে সহজে ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার বাজার থেকে তোলা যেতে পারে সে বিষয়ে পরামর্শ চান। যাই হোক, ক্ষতিপূরণের টাকা অনিল আম্বানিকে জোগাড় করতে হয়নি। সেই পুরো টাকাটাই অনিলের দাদা মুকেশ আম্বানি ভাইকে দিয়ে দেন। কিন্তু এই সময় এপস্টাইন অনিল আম্বানিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একজন শিল্পপতি সুলতান বিন সুলায়েমের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সুলায়েম বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ চালানোর সংস্থা ডিপি ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার। এছাড়াও আম্বানির সঙ্গে এপস্টাইনের নানা বিষয় নিয়ে কথা হত, যেমন বিশ্ব-পরিস্থিতি, ব্যবসার হাল, এমনকি কার কেমন নারী পছন্দ তা নিয়েও। এপস্টাইন আম্বানির জন্য ‘লম্বা সুন্দরী সোনালি চুলের’ মেয়ে জোগাড় করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং আম্বানি তাতে সায়ও দিয়েছিলেন (“Arrange it”)। নথিতে আরও দেখা যাচ্ছে, এই সময় অনিল ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া হলাঁদ-এর সঙ্গে প্যারিসে গিয়ে দেখা করছেন। আমাদের মনে থাকবে, এই সময় অনিল আম্বানির সংস্থা ডেসল্ট ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে অংশীদারিত্বে রাফালে বিমান ও তার কিছু স্পেয়ার পার্ট সরবরাহের বরাত পেয়েছিলেন।
আমরা আজ এইসব নিয়ে এত কথা কেন বলছি? তার কারণ আজ এই মুহূর্তে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে অনিল আম্বানি সেইসময় প্রধানমন্ত্রী মোদির ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী বার্তাবহ হিসেবে কাজ করেছিলেন। সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে অনিল আম্বানির এপস্টাইনের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁর নিজস্ব ব্যাবসায়িক সফলতার সূত্রগুলি আমাদের সামনে গোটা বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তোলে। এপস্টাইনের সাহায্যে অনিল যুক্তরাষ্ট্রে নবনির্বাচিত মার্কিন সরকারের উপদেষ্টা এবং ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনার এবং ট্রাম্পের সহ-রিপালকিন স্টিম ব্যাননের সঙ্গে দেখা করেন। এই সাক্ষাৎগুলি ওয়াশিংটনে মোদির প্রথম সফরের আগে তাঁর সফরের সুযোগ ও ক্ষেত্র প্রস্তুত করার জন্য জরুরি ছিল। এপস্টাইন বারবার অনিল আম্বানিকে উল্লেখ করছেন ‘হিজ গাই’ হিসেবে, এই ‘হি’ যে কে তা আমাদের স্পষ্ট করে কেউ বুঝিয়ে না বললেও আমরা বুঝে নিতে পারি। এপস্টাইন ফাইল আরও বলছে, অনিল আম্বানি বলতেন যে যেহেতু চিন ভারতের শত্রু, তাই মার্কিন যুক্তরাষ্টের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখাটা দরকার। বলা বাহুল্য, আমাদের বিদেশমন্ত্রক এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে, এবং সবটাই একজন ‘শাস্তিপ্রাপ্ত দাগী অপরাধীর অর্থহীন অবান্তর প্রলাপ’ বলে নস্যাৎ করে দিয়েছে।
পাশাপাশি, স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদিই ইজরায়েল সফরে যান, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে। তখন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এখনও তিনিই সে দেশের প্রধানমন্ত্রী। এপস্টাইনের ফাইল অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে মোদির ইজরায়েল সফর করানো হয়েছে, এবং নরেন্দ্র মোদি যে ওখানে গিয়ে খুব গেয়েছেন ও নেচেছেন (‘singing and dancing’) তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুশি। আমরা জানি না ‘singing and dancing’ কোনও কোড ওয়ার্ড কিনা, তবে এপস্টাইনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে দেখা যাবে ঠিক সেই সময়কালের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইজরায়েল সফর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। যদিও বিদেশমন্ত্রক যথারীতি বিবৃতি দিয়েছে যে এই তথ্যগুলি সর্বৈব মিথ্যা। তাছাড়া আজ আর অনিল আম্বানি মোদি সরকারের কাছের মানুষদের মধ্যে একজন নয়, হাজার হাজার কোটি ব্যাঙ্কের টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে ফেরত দিতে না পারার জন্য তাঁর ও তাঁর ছেলের ঘরে সরকারি আধিকারিকরা রেইড করছেন। ফলত, অনিল আম্বানির মুখও এখন বন্ধ থাকবে।
তবে এপস্টাইন ফাইলে নাম আছে এমন আরেকজন এখনও সরকারের কাছের লোক। তিনি বতর্মানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি। হরদীপ ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিসে থাকাকালীন নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। যেমন তাঁর শেষতম পদটি ছিল জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি (India’s Permanent Representative to the United Nations)। ২০১৪-তে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি অবিলম্বে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন এবং খুব শীঘ্র মোদিজির কাছের লোক হয়ে ওঠেন। এ-হেন হরদীপ সিং পুরি তিনবার এপস্টাইনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এ বিষয়ে হরদীপের বক্তব্য তিনি দেশে বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছিলেন, এবং লিঙ্কড-ইনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানকে এ-দেশে আনার চেষ্টা করেছিলেন। যাই হোক, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র এপস্টাইন ফাইলের প্রেক্ষিতে হরদীপ সিং পুরি ও এপস্টাইন দ্বীপে তাঁদের ফূর্তির উল্লেখ করে একটি টুইট করেন। মহুয়ার দাবি হরদীপ একটু পরেই মহুয়াকে ফোন করে টুইটটি মুছে দেওয়ার কথা বলেছেন, না-হলে ফল খারাপ হতে পারে এবং তিনি তখন আর মহুয়াকে কোনও সাহায্য করতে পারবেন না। শ্রীমতী মহুয়া মৈত্র হরদীপের এই ফোনকলকে ‘প্রচ্ছন্ন হুমকি’ আখ্যা দিয়ে আবার সমাজমাধ্যমে লিখলেন।
এছাড়াও এপস্টাইন ফাইলে প্রাক্তন ভারতীয় কূটনীতিক, যশবর্ধন কুমার সিনহারও নাম উঠে এসেছে। এপস্টাইন ফাইল অনুযায়ী ভারতীয় দূতাবাসের জনৈক ওয়াইকে সিনহা এপস্টাইনের কাজের সঙ্গে ভালোরকম পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই ব্রিটিশ রাজকুমার প্রিন্স অ্যান্ড্রু ও এপস্টাইনের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল। যশবর্ধন আপাত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন, “দ্বীপভূমিতে এপস্টাইনের ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জনৈক ওয়াইকে সিনহার নাম যুক্ত করে সমাজমাধ্যমে খবর ছড়ানো হচ্ছে। আমি এ-কথা স্পষ্ট করে দেওয়া দরকার মনে করছি যে আমি ব্রিটেন ২০১৬ থেকে ২০১৮ অব্দি ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলাম ঠিকই, কিন্তু টুইটারে ওয়াইকে সিনহা হিসেবে উল্লেখিত মানুষটি আমি নয়, অন্য কেউ। আমি জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্কও অস্বীকার করছি।”
এপস্টাইন ফাইলের তথ্যগুলির ওপর ভিত্তি করে এখন সারা পৃথিবীর নানা দেশে চর্চা চলবে। কোথাও কোথাও নতুন করে তদন্ত শুরু হবে। আবার কোথাও তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলবে। আপাতত, এপস্টাইন ফাইলের দৌলতে পাওয়া তথ্যগুলির সত্যতা যাচাই করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, তবে প্রাপ্ত তথ্যগুলি থেকে রাজনৈতিক বিষয়ে নানা ঈঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও একটা জিনিস নিঃসন্দেহে বলা যায়, প্রাচীন যুগের মতো এই যুগেও অর্থ এবং ক্ষমতার লোভ ও ইন্দ্রিয়পরায়ণতা থেকে আমাদের মুক্তি নেই। আমাদের দেশের ইতিহাসে অর্থ, প্রতিপত্তি ও যৌনতা অনেক বড় বড় সাম্রাজ্যের ভাগ্য নির্ণয় করেছে, আজ এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও এই তিনের ককটেল একইরকম শক্তিশালী ও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

