Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

নিরপেক্ষতার কফিনে শেষ পেরেক, মূর্তি ভাঙা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের ফল

গৌতম সরকার

 

সর্বনাশটা শেষ পর্যন্ত হয়েই গেল। বাংলা হয়তো আর বিদ্যাসাগরের উত্তরাধিকার দাবিই করতে পারবে না। কী করে পারবে? একে তো মূর্তি ভেঙে খানখান। এখন পরস্পরের মধ্যে দোষারোপের মাঝে শুনছি, রবীন্দ্রনাথ নন, সহজপাঠের স্রষ্টা নাকি বিদ্যাসাগর। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ নাইট উপাধি ত্যাগ করেছিলেন। বেঁচে থাকলে হয়তো তাঁর সৃষ্টি কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে নোবেলটাও জমা দিয়ে আসতেন।

ঠাট্টা-মশকরা থাক। কথাটা হল, যে জাতি তার অতীত ভোলে, শিকড়চ্যূত হয়, উত্তরাধিকারকে অপমান করে, তার ঘোর সর্বনাশ হয়ে যায়। বাঙালির সেটাই হওয়ার মুখে। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর চোখের সামনে, এই মুহূর্তে মহাশক্তিধর নির্বাচন কমিশনের নজরদারির মধ্যে কলকাতা মহানগরে তাঁর নামাঙ্কিত কলেজে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ‘কে বা কারা’ ভেঙে দিয়ে চলে গেল, তার হদিশ পর্যন্ত মিলল না।

পারস্পরিক দোষারোপের পাশাপাশি মূর্তি নতুন করে গড়ে দেওয়ার অধিকার নিয়ে দ্বৈরথ শুরু হয়ে গিয়েছে। তার একদিকের নেতৃত্বে স্বয়ং দেশের ‘চৌকিদার’ নরেন্দ্র মোদি, অন্যদিকে বাংলার দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বঙ্গবাসীর কি জানার অধিকার নেই, কার পাপে আলো-ঝলমল রাজপথের ধারে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা পড়ল? কে এই বাঙালির আবেগে আঘাত করার কাজটি করলেন?এই ঝুঁকি নিয়েও যে, এর দায় প্রমাণিত হলে ভোটের বাক্সে তীব্র প্রভাব পড়তে পারে? আমরা জানি, উত্তর দেওয়ার সাহস কারও হবে না। বিশেষ তদন্তকারী দল মানে ‘সিট’ গঠিত হয়েছে। তার রিপোর্ট কবে প্রকাশিত হবে, আদৌ হবে কিনা, জানা নেই।

তাছাড়া ২৩ মে-র পর দেশের গতিপ্রকৃতি বুঝে তদন্তের পথনির্দেশ হবে কিনা, তাও আমাদের বোধগম্যতার বাইরে। তবে এই কথায় তো কারও আপত্তি থাকার কথা নয় যে, গোলটা বাঁধল একটি রোড শো-কে কেন্দ্র করে। রোড শো পার হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাণ্ডব শুরু হল বিদ্যাসাগর কলেজে। কিন্তু রোড শো যত নষ্টের গোড়া বললে একদল কাঁচা খিস্তি সহকারে জানতে চাইবেন, কত টাকা খেয়েছেন দাদা, আর কত দালালি করবেন ইত্যাদি ইত্যাদি বাক্যবচন। কিন্তু আমরা আমআদমি সেদিন দেখেছিলাম, দুপর থেকেই কলকাতা তেতে উঠছে। লেনিন সরণীতে কিছু ফ্লেক্স, ফেস্টুন সরানো নিয়ে গোলযোগের সূত্রপাত। বলা হল, নির্বাচন কমিশন সরিয়ে নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে। মাঝখান থেকে সরানোর জন্য আনা গাড়িগুলি আক্রান্ত হল, ভাঙচুর হল।

কথায় কথায় ভাঙচুরই যেন সংস্কৃতি হয়ে যাচ্ছে আমাদের। হাসপাতালে রোগী মরলে ভাঙো, পথে দুর্ঘটনায় কেউ মরলে ভাঙো, ফি বাড়ালে স্কুল ভাঙো, কেউ মার খেলে ভাঙো। যেন ভাঙলেই সব সমস্যার সমাধান। সে যাকগে, কথাটা হল, গাড়িগুলি যদি নির্বাচন কমিশনের হয়, তাহলে সেই মহাশক্তিধর সংস্থা তার মোকাবিলা করল না কেন? পুলিশ দিয়ে তখনই তো কড়া হাতে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। বিধিমতে এখন প্রশাসন, পুলিশ সবই কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। তাসত্ত্বেও রোড শো-র দিন সন্ধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দুই পক্ষকে রণংদেহি চেহারায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেওয়া হল কেন? কত আন্দোলনে দেখি পুলিশ বিনা কারণে গুলি চালিয়ে দেয়। সেদিন সামান্য চেষ্টা করলেই তো দু’পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া যেত।

কোনও পক্ষেই খুব মারাত্মক জনবল ছিল না। ছিল হিংসাত্মক প্রবৃত্তি, অশান্তি পাকানোর মরিয়া প্রয়াস। তাদের সরিয়ে দিলে কোনও সমস্যাই সেদিন হত না। পুলিশ শুধু উভয় পক্ষের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকল। আর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিদ্যাসাগর কলেজে যে এমন কাণ্ড ঘটানো হবে, তার কি কোনও আগাম সতর্কবার্তা ছিল না? যদি না থাকে, তাহলে বুঝতে হবে চরম গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে নির্বাচন কমিশন সেই ব্যর্থতার জন্য কোনও ব্যবস্থা নিয়েছে কি?জানা যায়নি। বিদ্যাসাগর কলেজে মূর্তি ভাঙার আগে তাণ্ডব চলেছে। প্রশ্ন হল, পুলিশ সেখানেই বা কী করছিল? পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন কমিশনও বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার দায় এড়াতে পারে না।

ঘটনাটি প্রমাণ করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কমিশন চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। কত ক্ষেত্রে তো কমিশন নানা কড়া পদক্ষেপ করে। এক্ষেত্রে করল না কেন? রাজনৈতিক দলগুলি নানা প্রশ্ন তুলছে। কমিশনের নিরপেক্ষতাও কাঠগড়ায় উঠেছে। আমরা একবার যদি নিজেরা দেখি, সেদিন আসলে কী হয়েছিল। তার আগে বলে নিই, ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে কিছু লোক আওয়াজ তুলল সিসিটিভি-র ফুটেজ কই? জানা গেল, বিদ্যাসাগর কলেজের সিসিটিভি-র হার্ড ডিস্ক আগে থেকে অন্য এক কারণে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় জমা ছিল। ফলে রোড শো-এর দিন সিসিটিভি অচল ছিল। এর পিছনে অবশ্য পূর্বপরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

তর্কের খাতিরে সে অভিযোগ না-হয় মেনে নেওয়া গেল। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের ফুটেজ মানতে আপত্তি কেন?সিসিটিভি কাজ করছে না জেনেই কি বাহানা পাওয়া গেল? সংবাদমাধ্যমের ফুটেজে তাণ্ডবে একদল গেরুয়াধারীকে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। তার আগে দুপুর থেকে রোড শো-র যে ছবি দেখা গিয়েছে, তাতে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের মুখেই ছিল ক্রুরতা, হিংস্রতা এবং যে মুখগুলির সঙ্গে বাংলার মানুষের তেমন মিল নেই। তাহলে এরা কারা? এদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনও পক্ষেরই কোনও নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে ভোটের প্রচারে ফায়দা লোটা যে উদ্দেশ্য ছিল, তা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। কিন্তু ঘটনাটি আত্মঘাতী হয়ে যাওয়ায় এখন মূর্তি আবার গড়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

এটাও ঘটনা যে, সেদিন ওই পরিস্থিতির পিছনে প্ররোচনাও ছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কালো পতাকা দেখানোর কর্মসূচি সেই প্ররোচনারই অঙ্গ। তাণ্ডবকারীরা সেই প্ররোচনায় পা দিয়েছে। এ তো গেল দু’পক্ষের গোপন অ্যাজেন্ডার কাহিনি। কিন্তু আসলে কী হল? এবার লোকসভার ভোটের প্রচারে বিভাজন, উস্কানি, মেরুকরণের যে বিষবাষ্প ছড়ানোর কাজ চলছিল, তার ফল মিলে গেল। ভূলুণ্ঠিত হল বাঙালির আবেগ, বাঙালির আবেগ। সেজন্য বীরসিংহ গ্রামের বাসিন্দারা ছাড়া আর কাউকে ক্ষমা চাইতে দেখলাম না। বরং একপক্ষ প্রশ্ন তুলল যে, যারা একসময় বিধানসভায় ভাঙচুর করেছিল, তাদের পক্ষে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে কথা বলা মানায় না। অর্থাৎ তুমি অধম বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন, নীতিবাক্যটির উল্টো পথে চলার প্রতিযোগিতা। এভাবে যেন নিজেদের কুকীর্তি আড়াল করার চেষ্টা দেখা গেল।

সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আর এক বেনজির কাণ্ড ঘটে গেল বাংলায়। ৩২৪ ধারা প্রয়োগ করে শুধু এই রাজ্যে প্রচারের সময় কমিয়ে দেওয়া হল। পদক্ষেপটি নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে নিঃসন্দেহে। কিন্তু এ যেন রোগের মূল না ধরে রোগীকেই মেরে ফেলা। ৩২৪ ধারা কার্যকর করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে নির্বাচন কমিশন তা মোকাবিলায় কী করল, এই পাল্টা প্রশ্ন তোলাই যায়। যদি বুঝে ওঠার আগে তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েই থাকে, তাহলে তা মোকাবিলার বন্দোবস্ত করাও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। শুধু এক্তিয়ারের আস্ফালন না করে দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন থাকা জরুরি। এই পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের অধিকার খর্ব করেনি, সাধারণ মানুষের ভোটের প্রচার শোনার ও তাতে অংশগ্রহণ করার অধিকারেও হস্তক্ষেপ করেছে। তথ্য জানার অধিকারে তাই কেউ জানতে চাইতেই পারেন, ৩২৪ ধারা প্রয়োগের কোনও উপযুক্ত কারণ কি আদৌ ছিল? রোড শো-র সন্ধ্যায় তাণ্ডবের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কিন্তু বাংলায় তেমন কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেনি। তাহলে কীসের ভিত্তিতে প্রচারের সময় ২০ ঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হল, সেই জবাবদিহির দায় কিন্তু নির্বাচন কমিশনেরও। একটি কথা কমিশনের নির্দেশিকায় বলা হচ্ছে, জেলায় জেলায় প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় সহযোগিতা করেনি। রাজ্যবাসী তো দেখেছেন, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগে অনেক অফিসারকে সরিয়েই দিয়েছে। তারপরেও যদি এমন পরিস্থিতি থাকে, তাহলে বলা যেতেই পারে যে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে বা এই পরিস্থিতির অজুহাত তৈরির সুযোগ দিয়েছে।

কেশপুরে ভোটের দিনের ছবি সবারই জানা। বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ আক্রান্ত হলেন। তাঁকে সেদিন কার্যত দিনভর আটকে রাখা হল যাতে তিনি নিজের কেন্দ্র ঘুরে তদারকি না করতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব তো একজন প্রার্থীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। তিনি যাতে নির্বিঘ্নে ভোটের কাজ করতে পারেন, তার বন্দোবস্ত করা। সেদিন তো সেই ভূমিকায় নির্বাচন কমিশনকে দেখা যায়নি। আধা সেনার কুইক রেসপন্স টিমের টিকিটিও মেলেনি সেদিন। ভারতী ঘোষ বারবার প্রশ্ন তুলেছেন, কোথায় নির্বাচন কমিশন?

৩২৪ ধারা প্রয়োগ করার কথা সেদিন ভাবা যেত। ওই দিনের পর প্রচার খর্ব করার নির্দেশ দেওয়া হলে তার একটা মানে থাকত। তার বদলে যেভাবে শেষ দফার ভোটের আগে এই পদক্ষেপের পিছনে তাই সন্দেহ থেকেই যায়। এবার প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশন বারবার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার দিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা জানিয়ে দিলেন, নির্বাচনের প্রচারে রাজনৈতিক দলগুলি সেনাবাহিনীর উল্লেখ করতে পারবে না। কিন্তু গোটা দেশ দেখল, সেই নির্দেশ ভাঙলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। একবার নয়, বারবার। তারপর রাহুল গান্ধীর ওয়ানাডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে তাঁর মুখে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বার্তা পাওয়া গেল। কোনও ক্ষেত্রেই কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনও পদক্ষেপ করল না। পাশাপাশি এবারের নির্বাচনেই প্রথম আমলাকুল ও সেনাবাহিনীকে রাজনীতির অস্ত্র করে তোলা হল।

আমলাদেরও বিভাজন হল আমরা-ওরায়। নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রের শাসকদল তো বটেই, রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলও তাতে ইন্ধন জোগাল। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা গেল, আমার সিপি (পুলিশ কমিশনার) থাকলে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙতে দিতেন না। আরও একধাপ এগিয়ে তিনি বললেন, যিনি আছেন, তিনি আমার সিপি নন। আমলাদের এভাবে রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে টেনে আনা প্রশাসনের নিরপেক্ষতারই পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটায়। সেটা নির্বাচন বলে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন চালানোর কাজে প্রথম থেকেই এমন মনোভাব দেখা গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনও সেই পথে হেঁটেছে। ভোটের মুখে একজন অফিসারকে বদলি করে নতুন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ায় সুফলও কিছু মেলেনি। কেননা, নতুন অফিসারের ক্ষেত্রে দায়িত্ব বুঝে নিতে নিতেই ভোটগ্রহণ পার হয়ে গিয়েছে। আসলে যেটা হয়েছে, সেটা হল আমলাদের রাজনৈতিক বিভাজন।

তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করার বদলে বিভাজনের বার্তা দেওয়া। মেরুকরণ, বিভাজনের পাশাপাশি এই নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ তাই প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকেও শেষ করে দেওয়ার পথ তৈরি করল। টি এন শেষনের হাত ধরে দেশের গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিষ্ঠানটি একসময় যে গরিমা অর্জন করেছিল, তা বিদ্যাসাগরের মূর্তির মতো ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। আজকাল দেশের সমস্ত গণতান্ত্রিক সংস্থা, পরিকাঠামোর রাজনীতিকরণের অভিযোগ ওঠে। সেই রাজনীতিকরণের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের আচরণ, পদক্ষেপ কফিনের শেষ পেরেক বলা যায়। এরপর অবাধ, সুষ্ঠ ভোট নিশ্চিত করার বিশ্বাসযোগ্যতা আর কমিশনের থাকল না। বিভাজনের রাজনীতিতে এটাও জরুরি। একদেশ, এক জাতির প্রবক্তারা এটাই চান। তাঁদের উদ্দেশ্য হল, গণতান্ত্রিক রীতিনীতিগুলিকে ঠাণ্ডা ঘরে পাঠিয়ে একাধিপত্য কায়েম করা। হিটলার, মুসোলিনির সময় থেকে সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে। ঘোর বিপদের সামনে গোটা দেশ।