মার্কিন নীতি বদল, যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তন: ত্রিমুখী আঘাতে বিপন্ন ক্ষুধার্ত বিশ্ব

দেবাশিস মিথিয়া

 


বাংলাদেশ বা নেপালের মতো কৃষিপ্রধান দেশগুলি, যারা সারের জন্য সম্পূর্ণভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের সামনে আজ এক অন্ধকার ভবিষ্যৎ। সারের দাম বাড়লে কেবল চাষের খরচ বাড়ে না, বাড়ে খাবারের প্রতিটি দানার দামও। বিদেশের যুদ্ধ আজ আমাদের ছোট চাষিদের পকেটে টান ফেলছে। যখন উৎপাদনের ব্যয় কৃষকের আয়কে ছাড়িয়ে যায়, তখন কৃষকের জমি আর অন্নদাতা থাকে না, বরং গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়ায়। আর, যখন খিদের জ্বালায় পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায়, তখন মানুষ নিরুপায় হয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে অজানার পথে পাড়ি দেয়। এই যুদ্ধ শুধু ভূ-খণ্ডের দখল নেওয়ার লড়াই নয়, এটি আসলে বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের থালা থেকে শেষ ভাতটুকু কেড়ে নেওয়ার এক নিঃশব্দ ষড়যন্ত্র। মানুষের জীবন-জীবিকার ভিত্তিমূলকে উপড়ে ফেলার এক সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক আগ্রাসন

 

নেপালের পাহাড়ি ঢালু জমিগুলিতে যেখানে একসময় সোনালি ভুট্টার হাসি দেখা যেত, সেখানে আজ কেবল খাঁ খাঁ রোদে পুড়ে যাওয়া মাটির হাহাকার। মার্কিন সহায়তা আর সারের জোগানকে সম্বল করে, ভাগ্য বদলের আশায় নেপালের কিষাণীরা তাঁদের একচিলতে জমিতে লাঙল ধরেছিলেন। কিন্তু মার্কিনিরা সেই সহায়তার হাত তুলে নিতেই আজ তাঁদের স্বপ্নের পৃথিবী তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছে। নেপালের অসংখ্য মহিলার কাছে আজ মাতৃত্বের চেয়ে পেটের ক্ষুধা বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে; কোলের শিশুকে বাড়িতে ফেলে রেখে তাঁরা চোখের জল মুছতে মুছতে পাড়ি দিচ্ছেন কুয়েত বা ভারতের অজানা গন্তব্যে, শুধু একমুঠো ভাতের আশায়। কয়েক দশকের পরিশ্রমে গড়া কৃষি উন্নয়নের বনিয়াদ আজ মাত্র এক বছরের অর্থায়নের অভাবে বালির বাঁধের মতো ধুয়ে মুছে গেছে। যে হাত একসময় ফসল ফলাত, সেই হাত আজ বিদেশের মাটিতে পরিচারিকার কাজ খুঁজছে— এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা উন্নয়নকে যেমন স্তব্ধ করে দিয়েছে, তেমনই একটি আস্ত প্রজন্মের শৈশব আর মাতৃত্বের নিঃশব্দ বিসর্জন ঘটিয়েছে।

 

সাহায্য যখন বাণিজ্যিক পণ্য

মার্কিন সহায়তা কমিয়ে এই মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনার পেছনে কাজ করছে এক নিষ্ঠুর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। একসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়াকে মানবিক কর্তব্য মনে করলেও, বর্তমানে দরিদ্র দেশগুলোর সামনে সহায়তার পরিবর্তে কঠিন বাণিজ্যিক শর্ত ছুঁড়ে দিচ্ছে। আগে এই সহায়তা প্রকল্পগুলো পরিচালিত হত USAID (United States Agency for International Development)-র মাধ্যমে। তখন সংস্থাটির লক্ষ্য ছিল অনুন্নত দেশগুলোতে দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা ও কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান মার্কিন প্রশাসন সেই দায়িত্বের ভার তুলে দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ বা USDA-র হাতে। এই কাঠামোগত রদবদলের ফলে মানবিকতার চেয়ে এখন মার্কিন কৃষকদের উদ্বৃত্ত পণ্যের বাণিজ্যিক মুনাফাই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে; ফলে আগের ‘Food for Peace’ নীতি আজ ‘Food for a Price’-এ পরিবর্তিত হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই নতুন নীতির কারণে প্রতিটি সাহায্যের সঙ্গে আজ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকছে বাণিজ্যিক শর্তের নতুন শিকল। এখন আর ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না নয়, বরং মার্কিন কৃষকদের উদ্বৃত্ত পণ্যের নতুন বাজার তৈরি করাই হয়েছে মূল লক্ষ্য। সাহায্য পেতে হলে এখন দরিদ্র দেশগুলিকে বাজার খুলে দিতে হচ্ছে, সারের ভর্তুকি কমাতে হচ্ছে, কিংবা বাধ্য হতে হচ্ছে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে নিতে।

তারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে সম্প্রতি মার্কিন সরকারের আন্তর্জাতিক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে নতুন করে অর্থ বরাদ্দের ঘোষণায়। মানবিকতার মোড়কে মোড়া এই নতুন অর্থায়নে ক্ষুধার্ত মানুষের প্রয়োজনের চেয়ে মার্কিন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অ্যাজেন্ডাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের “Food for Peace” কর্মসূচিতে কঙ্গো, এল সালভাদর, ইথিওপিয়া, গুয়াতেমালা, হাইতি, কেনিয়া এবং রুয়ান্ডা— এই ৭টি দেশের জন্য নতুন করে লক্ষ লক্ষ ডলারের ফান্ড বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছে। তবে এই সহায়তার পেছনে একটি বড় শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে; ফান্ডের মোট টাকার ৫০ শতাংশ অবশ্যই আমেরিকার উৎপাদিত পণ্য (যেমন শস্য) এবং আমেরিকান মালবাহী জাহাজের ভাড়ার (ocean freight) পেছনে খরচ করতে হবে, যাকে তারা “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি হিসেবে অভিহিত করছে। ইতিমধ্যেই উদ্যোগটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে, কারণ সাহায্য পেতে যাওয়া ৭টি দেশের মধ্যে মাত্র একটি দেশ জাতিসংঘের সবচেয়ে বেশি খাদ্য সংকটে থাকা দেশের তালিকায় রয়েছে; বাকিরা কেউ সেই তালিকায় নেই। অথচ গত বছর সরকারিভাবে গাজা এবং সুদানে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা সত্ত্বেও, প্রকৃত ভুক্তভোগী এই দেশ দুটিকে নতুন তহবিলের তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

ক্ষুধার্ত পৃথিবীর হাহাকার

মার্কিন মুলুকের এই কুৎসিত রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক হিসাবনিকাশের ফলে আর্থিক সহায়তা থেকে যে দেশগুলিকে বঞ্চিত করা হল, তাদের মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সাহায্যের এই বাণিজ্যিকীকরণের বলি হয়েছে নেপাল— সে-কথা শুরুতেই আলোচিত হয়েছে; তবে নেপাল ছাড়াও আরও অনেক দেশ আজ একইরকম অন্ধকারের মুখোমুখি। যখন মানবিক সহায়তাকে ব্যবসার পণ্যে রূপান্তর করা হয়, তখন তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা এই বাদ পড়া এবং শর্তের বেড়াজালে পিষ্ট দেশগুলির দিকে তাকালেই বোঝা যায়।

সুদান: গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সুদানে আজ লাখ লাখ মানুষ একমুঠো খাবারের জন্য হাহাকার করছে। তাদের প্রয়োজন সাহায্য। অথচ সাহায্য পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা বলছে, যা এই মুহূর্তে যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের পক্ষে অসম্ভব। এর ফলে, ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে খাবার পৌঁছানোর আগেই সাহায্যের জাহাজ বন্দর থেকে ফিরে যাচ্ছে। আর এই রাজনৈতিক দড়িটানাটানিতে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে শত শত শিশু।

গাজা: দীর্ঘদিনের সংঘাতের মাঝেও যে মানবিক সংস্থাগুলো নারীদের আইনি সহায়তা এবং নিরাপত্তা দিত মার্কিন অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় তারা আজ নিঃস্ব। বিশেষ করে ‘Wefaq’-এর মতো নারী-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলো এখন অসহায়। যে মায়েরা যুদ্ধের ময়দানে সন্তানদের আগলে রাখতেন, তাঁদের আইনি ও সামাজিক নিরাপত্তার শেষ আশ্রয়টুকুও আজ কর্পোরেট ও রাজনৈতিক স্বার্থে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সাহায্য এখন আর অধিকার নয়, বরং আনুগত্যের মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইথিওপিয়া: একসময় কৃষিবিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর ইথিওপিয়ার কৃষকরা আজ সারের অগ্নিমূল্য আর মার্কিন সাহায্যের কঠোর শর্তাবলিতে দিশেহারা। এই মানবিক সংকটের সুযোগ নিয়েই মার্কিন সরকার ইথিওপিয়ার কৃষিকে পুরোপুরি পরনির্ভরশীল (ত্রাণ দেওয়ার নামে) করে তুলতে ব্যস্ত। সাহায্যের শর্ত হিসেবে তারা সে-দেশের বাজারে নিজেদের উৎপাদিত হাইব্রিড বীজ আর কীটনাশক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় কৃষিব্যবস্থাকে ধ্বংস করে বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফার পথ প্রশস্ত করছে। এর ফলে কয়েক দশক ধরে তিলে তিলে গড়া ইথিওপিয়ার কৃষি-পরিকাঠামো আজ ভেঙে পড়ার মুখে।

 

রণক্ষেত্র থেকে রান্নাঘর

কিন্তু এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনই শেষ কথা নয়; কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো এসে জুটেছে ইরান যুদ্ধের দাবানল। যুদ্ধ আজ শুধু সীমান্তের কাঁটাতারে সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি হানা দিয়েছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। মনে রাখতে হবে, আধুনিক কৃষির প্রাণভোমরা যে রাসায়নিক সার, তার প্রধান কাঁচামাল আসে এই প্রাকৃতিক গ্যাস থেকেই। যুদ্ধের ফলে সারের কারখানাগুলোর উৎপাদন আজ প্রায় বন্ধ হতে চলেছে, আর যা-ও উৎপাদিত হচ্ছে তার দাম আকাশছোঁয়া। সারের বাজারে লাগা এই আগুনের হলকা সরাসরি আছড়ে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ চাষের জমিতে।

বাংলাদেশ বা নেপালের মতো কৃষিপ্রধান দেশগুলি, যারা সারের জন্য সম্পূর্ণভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের সামনে আজ এক অন্ধকার ভবিষ্যৎ। সারের দাম বাড়লে কেবল চাষের খরচ বাড়ে না, বাড়ে খাবারের প্রতিটি দানার দামও। বিদেশের যুদ্ধ আজ আমাদের ছোট চাষিদের পকেটে টান ফেলছে। যখন উৎপাদনের ব্যয় কৃষকের আয়কে ছাড়িয়ে যায়, তখন কৃষকের জমি আর অন্নদাতা থাকে না, বরং গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়ায়। আর, যখন খিদের জ্বালায় পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায়, তখন মানুষ নিরুপায় হয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে অজানার পথে পাড়ি দেয়। এই যুদ্ধ শুধু ভূ-খণ্ডের দখল নেওয়ার লড়াই নয়, এটি আসলে বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের থালা থেকে শেষ ভাতটুকু কেড়ে নেওয়ার এক নিঃশব্দ ষড়যন্ত্র। মানুষের জীবন-জীবিকার ভিত্তিমূলকে উপড়ে ফেলার এক সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক আগ্রাসন।

 

প্রকৃতির মরণকামড়

মানুষের তৈরি এই কৃত্রিম সংকটগুলো যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রকৃতি তার শেষ মরণকামড়টি বসিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের অস্বাভাবিক উষ্ণতা থেকে জন্ম নেওয়া ‘এল নিনো’ আজ বিশ্ব জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়েছে, যা এখন এক চরম অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া থেকে আফ্রিকা— সর্বত্রই আজ আবহাওয়ার চরম খামখেয়ালিপনা। এই এল নিনোর প্রভাবে কোথাও শুরু হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী খরা, আবার কোথাও বিধ্বংসী অকাল বন্যা। যে মাটি একসময় নরম ও উর্বর ছিল, আজ বৃষ্টির অভাবে তা পাথরের মতো শক্ত হয়ে ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।

নেপাল বা ইথিওপিয়ার ক্ষুদ্র কৃষক, যিনি সারের অগ্নিমূল্য আর মার্কিন সাহায্য বন্ধ হওয়ায় আগে থেকেই খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েছিলেন, এল নিনোর এই খরা তাঁর সেই শুকনো জমিতে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিয়েছে। নদীগুলো আজ শুকিয়ে যাচ্ছে, ভূ-গর্ভস্থ জলের স্তর এমন নেমেছে তা নাগালের বাইরে। যুদ্ধের প্রভাবে একদিকে যখন ডিজেল আর জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া, তখন পাম্প চালিয়ে সেচ দেওয়ার ক্ষমতাও হারিয়েছেন সাধারণ চাষি; আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আকাশের বৃষ্টির এই অভাব তাঁকে পুরোপুরি নিঃস্ব করে দিয়েছে। এল নিনোর এই প্রভাব কেবল ফসলহানি ঘটাচ্ছে না, তা নষ্ট করে দিচ্ছে আগামী বছরের বীজের জোগানও। গবাদি পশুর চারণভূমি শুকিয়ে যাওয়ায় গ্রামগুলিতে আজ হাহাকার। বৃষ্টির আশায় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা তৃষ্ণার্ত চোখের জলটুকুও যেন আজ রোদে শুকিয়ে গেছে।

 

একমুঠো ভাতের লড়াই

সহজ কথায়, সুদান, গাজা, ইথিওপিয়া কিংবা নেপাল— মানচিত্র বদলে গেলেও হাহাকারের ভাষা আজ সবখানেই এক। নেপালের রুক্ষ পাহাড় থেকে সুদানের তপ্ত মরুভূমি পর্যন্ত আজ একই সংকটের করাল গ্রাস। বিশ্ব-রাজনীতির এই ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ বা মরণফাঁদ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, মানবিকতা আজ কেবলই অভিধানের শব্দ। যে আমেরিকা একসময় বিশ্ব-ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল, আজ তারাই সাহায্যের আড়ালে নির্মম ব্যবসার জাল বিছিয়েছে। মানবিক সহায়তাকে রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার বানিয়ে আমেরিকা আজ কেবল ক্ষুধার্তের মুখের গ্রাসই কেড়ে নেয়নি, বরং ভেঙে দিয়েছে কয়েক দশকের বিশ্বস্ততার বুনিয়াদ। প্রকৃতির রোষ আর যুদ্ধের গোলাগুলির মাঝে দাঁড়িয়ে বিশ্ব আজ এক মহাপ্রলয়ের মুখোমুখি— যেখানে লড়াইটা আর ভালো-মন্দের নয়, লড়াইটা স্রেফ একমুঠো ভাতের জন্য বেঁচে থাকার। সাহায্যের ছদ্মবেশে আসা এই বাণিজ্যিক আগ্রাসন উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার বদলে বরং দেশগুলোকে এক দীর্ঘস্থায়ী পরনির্ভরশীলতার অতলে তলিয়ে দিচ্ছে। সাহায্যের এই বাণিজ্যিকীকরণের ফলে গরিব দেশগুলো আজ রাজনীতির দাবার ঘুঁটি— যেখানে মানবিকতা হেরে যাচ্ছে কর্পোরেট স্বার্থের কাছে, আর সহায়তার ছদ্মবেশে রাজত্ব করছে কেবলই নির্মম মুনাফা।

 


*মতামত ব্যক্তিগত

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 5371 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...