হীরক সেনগুপ্ত
মধুপর্ণার সরে যাওয়ার ধীরে ধীরে আঘাত কল্পর জীবনকে তছনছ করে দিল। ভয়ঙ্কর ওলটপালটে প্রথিতযশা চিত্রশিল্পী তথা ভাস্করের চারপাশ থেকে মুছে গিয়েছিল উজ্জ্বল আলোর বলয়।
দুই.
চারকোল, তুলির টানে আঁকা ছবির ফ্রেম ভেঙে মাটি-খড়ের সংযোজনে চিত্রকলার অভিনব ঘরানা, কল্পম। নান্দনিক বিচারে কল্পম অনবদ্য সৌন্দর্যের বিস্ফোরণ। কল্পমের আকর্ষণে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ছুটে আসে।
ততদিনে আমূল বদলে গেছে কল্প সোম। নিজের হাতে নষ্ট করে ফেলছে সমস্ত ভাস্কর্য। শ্বেতপাথর কুঁদে কুঁদে সৃষ্ট নারীমূর্তির মুখে ওপর টানা সূক্ষ্ম ওড়নার আভাস। গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ধুলোয় মিশে যাচ্ছে, বামিয়ান বুদ্ধের মতো।
তিন.
ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে কল্প। প্রত্যাখানের প্রবল অভিঘাতে দুর্জ্ঞেয় কল্প, নির্মোহ সন্ন্যাসী। ২২২৬-এর লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড ফর আর্টস হেলায় ফিরিয়ে দেয়। অর্থ, যশ পড়ে থাকে ধুলোয়। তুরীয় আনন্দে, অগম্য দ্বীপের নিভৃতচারী শিল্পী। তার অন্দরমহলে রুক্ষ নির্জনতা। পৃথিবীর যাবতীয় কোলাহলের ঢেউ সেখানে পৌঁছতে পৌঁছতে পরম উষ্ণতায় ঋণাত্মক! স্তম্ভিত শিল্পীমহল।
বিপন্নতাকে আশ্রয় করে কল্পর এলোমেলো জীবনযাপন। শিল্পানুরাগীরা ছুটে আসে। কিন্তু ছুটে আসলে কী হবে?
কল্প মহাশূন্যে বিচরণকারী মৃত আলোর দূরবর্তী নক্ষত্র। এসবই ঘটেছিল জনৈকা তারাখসা শিল্পানুরাগী, মধুপর্ণার সৌন্দর্যের প্রবল আকর্ষণে। কল্প যে মধুপর্ণার রূপের বহ্নিশিখায় পাগল ছিল!
চার.
নিজস্ব জগতের নিভৃত স্বেচ্ছাচারে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়ে কল্প। সভ্যতার মুকুরে দ্বিধাবিভক্ত শিল্পী কল্প, ক্রমশ অধঃপতিত।
তলিয়ে যাচ্ছে।
পাঁচ.
গুণগ্রাহী ভক্তরা শিল্পীর এমন ট্রাজেডিতে ছুটে এলেও কেউ দায়িত্ব নেয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার মতন ছিলই বা কে? যার শৈশব কেটেছে অনাথ আশ্রমে, সে তো প্রথম থেকেই গভীর মরুভূমির বাসিন্দা। তার আপন প্রতিবেশী শুধু বিষধর ঝুমঝুমি সাপ আর ফণিমনসা।
তবুও প্রকৃতির আশ্চর্য খেয়াল!
যার জীবনেই কোনও রং ছিল না, সেই কল্প সোমই হয়ে উঠেছিল ভুবনমাতানো রঙের জাদুকর। নিজেকে নিজেরই অচেনা লাগত।
ছয়.
অনেকের প্রচেষ্টায় ভয়ঙ্কর হিংস্র হয়ে ওঠা কল্পর স্থান হল মঙ্গলকাব্য রিহ্যাব সেন্টারে। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সময়ে সঙ্গে সঙ্গে সচেতন সমাজের মন থেকে হারিয়েই গেল কল্প।
সাত.
কল্প সোমের বিচিত্র জীবন শুরু হয় মঙ্গলকাব্যে। অচেতন, অর্ধচেতন অবস্থিতিতে টের পায় কী যেন অচেনা, অভিনব ঘটনাপ্রবাহ ওকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছে!
সে এক স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতির বলিষ্ঠ অথচ কমনীয় প্রবাহ, যাকে উপেক্ষা করে ও কিছুতেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে না। সে কোমল মায়ার ঝর্ণায় আছে শুধুই নিবেদন, অজ্ঞাত অনুভবের নিজস্ব নিবন্ধন। কী যে অত্যাশ্চর্য বোধোদয়! কল্প কিছুতেই ব্যাখ্যা করে উঠতে পারছে না। পারছে না নিজেকে সরিয়েও রাখতে। কোনও এক অস্পষ্ট অথচ অমোঘ ভবিষ্যতের ঢালুপথে ওর চৈতন্যের ক্রমবিকাশ ঘটছে। কার অনিবার্য মায়ায় যে নিজেকে পুনরাবিষ্কার করে কল্প, জানে না।
আট.
নারীর অনপনেয়, দূরতিক্রম্য ভালোবাসা, মমতার অনিবার্য মন্থনে দ্বিতীয়বার জন্ম নেয় সে।
সুস্থ, সুন্দর কল্পর জীবনে অংশীদার হয়ে ওঠে অনিন্দিতা, মঙ্গলকাব্য রিহ্যাবের সর্বক্ষণের কর্মী।
রুক্ষ, কর্কশপ্রিয়, শুষ্ক ফণিমনসার বিষাক্ত কাঁটা অনিন্দিতার কোমল স্পর্শে হয়ে ওঠে চিরহরিৎ নির্ঝরিণী গঙ্গোত্রী।
কল্পকে সুস্থ করার আপ্রাণ চেষ্টায় সফল হল মঙ্গলকাব্য রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার। খবর ছড়িয়ে পড়ছে, আগুনকে ধেয়ে যাওয়া বাতাসের মতো। কৌতূহলী মানুষজন ছুটে আসে। সবাই দেখা পেতে চায় ক্ষণজন্মা মানুষটিকে।
নয়.
অনিন্দিতা কল্প সোমের নাম আগে থেকেই জানত। এখন চিকিৎসা ও সেবার সূত্রে তাকে প্রত্যক্ষ করে মুগ্ধ। কী আশ্চর্য প্রতিভা, আঙুলের জাদু!
সে বছর কল্পর বানানো সরস্বতীতে অনিন্দিতার বাড়িতে পুজো হয়। মঙ্গলকাব্য রিহ্যাবে প্রতিবছর সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষজনের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে তাদেরই বছরভর বিভিন্ন কাজের সম্ভার সাজিয়ে প্রদর্শনীর নিয়ম আছে। সেই প্রদর্শনীতে কল্পর সৃষ্টি, একগুচ্ছ শ্বেতপাথরের কল্পম, তুমুল সাড়া ফেলে।
দশ.
অনিন্দিতা ক্রমশ অনুভব করে ও গভীরভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়েছে কল্প সোমের প্রতি। এমন বিস্ময়কর মানুষটিকে যেন হারাবার ভয়ে সর্বদা আগলে আগলে রাখে। কল্পর বিগত খ্যাতির বিড়ম্বনায় সর্বদা সন্ত্রস্ত, সতর্ক।
এগারো.
অনিন্দিতার অনুমতি ছাড়া সাক্ষাৎ মেলে না। কল্প তো এখন শুধুমাত্র কোনও প্রাক্তন রোগী নয়, ও তো তার মনের মানুষ। অনিন্দিতার জীবন জুড়ে এখন শুধুই কল্প, আর কল্প।
রিহ্যাবের অনেকেরই কল্প-অনিন্দিতার এই ঘনিষ্ঠতা চোখে পড়েছে। তারাও খুব খুশি। যাক এতদিনে মেয়েটার একটা হিল্লে হল।
বারো.
অপূর্ব সুন্দরী, বিদূষী ডাক্তার অনিন্দিতা করঞ্জাইয়ের সঙ্গে কল্প সোম একবারে মানানসই।
অত্যাধুনিক চিকিৎসা তথা সেবাকেন্দ্রের মানুষজনের কাছে এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ওষুধ, ইঞ্জেকশন, এমআরআই, স্ক্যান, ড্রিপের মতো নৈর্ব্যক্তিক, নিরাসক্ত, উদাসীন, উৎকণ্ঠার পরিবেশে বইছে আশ্চর্য মলয় বাতাস।
তেরো.
পুনরুত্থিত কল্প। ধীরস্থির, লাজুক মানুষ। প্রবল উদ্যমে শুরু হয়েছে শিল্পীসত্তার দ্বিতীয় অধ্যায়। আকাঙ্ক্ষা জাগে পরিপূর্ণ, প্রস্ফুটিত, সাজানো সংসারের। একদা পিছুটানহীন উৎকেন্দ্রিক মানুষ, আজ ভয় পায় বিচ্ছিন্ন হতে।
রূপ-রসের মাধুর্যে আকর্ষণ করতে অনিন্দিতার জুড়ি নেই। চরম নিরাসক্ত চিকিৎসকও ধীরে ধীরে মনের মধ্যে সাজিয়ে তুলছে ওদের আনন্দ নিকেতন। অনিন্দিতার কাছে কল্পর পূর্ব-ইতিহাস এখনও ধূসর।
চোদ্দ.
মঙ্গলকাব্যের সুপারের কাছ থেকে অনায়াসেই তা জানা যায়। কিন্ত যে বিষয় অনিন্দিতাকে সচেতনভাবেই জানানো হয়নি, সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা তো অনৈতিক। নীতিহীনতা বনাম আবেগের স্নায়ুযুদ্ধে, ডাক্তার অনিন্দিতার কাছে ব্যক্তি অনিন্দিতা পরাস্ত হয়।
অভিমানী মনে তীব্র ক্ষোভ। কেন কল্প নিজে থেকে কিছু জানায় না?
কল্প সুস্থ হয়েও মঙ্গলকাব্যের কাছাকাছি ফ্ল্যাটে রয়ে গেল। সে বন্দোবস্তও করেছিল অনিন্দিতা।
পনেরো.
দিন যায়, দিন যায়। এক ভরা বর্ষায় গান গাইতে গাইতে ছুটে আসে কল্প। ঝাঁপিয়ে পড়েছিল অনিন্দিতার বুকে। কল্প যে এত ভালো গান করে অনিন্দিতার তো জানা ছিল না!
সেই মুহূর্তে অনির্বচনীয় অনুভূতিতে ভেসে যায় অনিন্দিতা…
—একটু বোসো। চা নিয়ে আসছি…
চায়ের ট্রে এনে টেবিলে রাখে।
কল্প কাপে চা ঢালছে।
অনিন্দিতা বলল,
—তোমার বাড়িতে জানে আমাদের এই ঘনিষ্ঠতা?
চা ঢালতে ঢালতে কল্প উত্তর দিল,
—না
—না মানে?
—না মানে না।
—কেন?
কল্প ইতস্তত করে। ভারী গলা।
—আমি সরকারি হোমে বড় হয়েছি।
—সে কী!
—হুঁ। কেউ রেখে গেছিল।
—খবর নেয়নি?
—না
—হোমের তরফ থেকেও চেষ্টা করেনি?
—কী জানি!
—হোমের নাম কী?
—দিগন্ত
—দিগন্ত! শুনেছি ওখানকার ব্যবস্থাপনা চমৎকার। বাচ্চারা খুব আদরযত্নে বড় হয়!
ষোলো.
কল্প অন্যমনস্ক। বিস্মৃত বেদনার পাড়ে ভেসে ওঠে…
…সমস্ত মিথ্যে প্রচার অনি… কেউ কিচ্ছু জানে না… মনে মনে তোলপাড় চলছে… সেখানে ভয়ানক চোরাস্রোত, শিশুদের চুরমার পৃথিবী… বিভ্রান্তি আর খিদের কষ্টে ঘুমিয়ে পড়া শিশুরা বিপন্ন, বিচ্ছিন্ন…
সে চিত্র কি শব্দে অঙ্কন করা যায়?… অসংখ্য উদ্বেগ, অজানা আতঙ্কে ভেসে চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব, কোটি কোটি শিশুর অনাদর, সামাজিক সংযোগের দুর্লঙ্ঘ দূরত্ব… উদাসীনতার প্রবল ধসে দুলতে থাকা প্রাণ… অকথ্য শারীরিক নিগ্রহ…
আগামী প্রজন্মের কল্পনাবিস্মৃত পৃথিবীর মানুষকে বোঝানো সম্ভব!… অবধারিত ও অবাঞ্ছিত পরিবেশের প্রভাবে সংকটাপন্ন শৈশবের চুড়ান্ত নিঃশব্দ বিকৃতির খবরে কে আগ্রহী?…
লেবানন, ইরান, জর্ডন, ইউক্রেন, প্যালেস্তাইন, আফগানিস্তানে… চিরতরে ছিন্নভিন্ন শৈশবের তীব্র নৈরাজ্য…
এ সম্মিলিত অবজ্ঞার খবর কি রাখো অনি? কতগুলো দিগন্তের কথা বলব?…
সতেরো.
বিশ্বব্যাপী মূল্যবোধের অপরিসীম ফাটলের গভীরে অসংখ্য বাতিল শিশুর বিলুপ্তির বেদনা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠল সেই প্রাচীন জীবন্মৃত কল্পর অভ্যন্তরে।
যে মানুষের কাছে অভূতপূর্ব পরিস্থিতির চাপে সভ্যতার প্রথা, রীতিনীতি… মানসিক প্রস্তুতির যাবতীয় স্তম্ভ ভেঙে খানখান…
কল্প নির্বাক বেদনায় দিশাহীন…। সত্যি-মিথ্যে, সম্ভব-অসম্ভব, প্রতিষ্ঠানবিরোধী বিচিত্র অবস্থানে প্রাগৈতিহাসিক কল্প ছটফট করে।
শৈশবের নির্যাতন, মানসিক বৈকল্য, বাস্তব জীবনের সঙ্গে অবাস্তবকে মিশিয়ে অত্যাচার ভুলে থাকার ছুতোয় আত্মহত্যার আনন্দ, নেশাগ্রস্ততার আসক্তি, বিচ্ছিন্নতাবোধের মধ্যে জীবনের সব উদ্দেশ্য অর্থহীন অন্বেষণের প্রগাঢ় ইচ্ছে…
কল্পর মাথায় ঘুমন্ত ভলক্যানো… হুঙ্কারে ফেটে পড়তে চায়…
কিন্তু আজ?
ভালোবাসার পশম আবরণে সে অনল ক্রোধ আশ্চর্য প্রশমিত!… অশ্রুবাষ্পের অনটনে আচ্ছন্ন কল্প, গভীর আশ্লেষে জড়িয়ে ধরে অনিন্দিতাকে।
আঠেরো.
কল্পর চোখে ছিন্নমূল, সর্বহারার ভাষাহীন ক্লেশ ফুটে উঠেছে… অনিন্দিতা কল্পর মুখ চেপে ধরে।
—থাক কল্প। ওসব কথা থাক।
ওর চোখের যাবতীয় অশনিসঙ্কেত। ঈশ্বরপ্রদত্ত নারীর বিশেষ অনুমানের ক্ষমতায় অনিন্দিতা অনুভবে করে কল্প ভেঙে ছত্রখান হয়ে যাচ্ছে।
—আমি আর কোনও কথা শুনতে চাই না। কল্প চুপ করো। সহ্য করতে পারছি না।
—বেশ… যখন না করছ, থাক। আমার অভিশপ্ত জীবনের মুক্তি হল।
উনিশ.
মঙ্গলকাব্যের কোয়ার্টার্স ছেড়ে দেয় অনিন্দিতা। কল্প খুব খুশি। কল্পর ফ্ল্যাট বেশ বড়ই। একতলায় ওর স্টুডিও। মনের মতো করে সাজিয়েগুছিয়ে দিল অনিন্দিতা। দোতলায় নিবিড় সংসার।
যৌথ জীবনযাপনের অপার আনন্দে ওরা ভেসে যাচ্ছে। চমৎকার বোঝাপড়ায় কত যে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত পার হয়ে গেল, খেয়াল নেই। অথচ দুজনেই দুজনের কাজে গভীরভাবে মগ্নও বটে।
কুড়ি.
এমনই এক ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে কল্প বলল—
—অনি, আমাদের এ সংসারে নতুন সদস্য আসবে না?
কথাটায় অনি কি কেঁপে উঠল? চুপ করে থাকে অনিন্দিতা।
—অনি, অনি…
—উঁ…
কল্প সামান্য ঠেলা দিয়ে টের পেল, অনি কেমন একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেছে।
শরীর বরফ।
—অনি…!
যেন দূর থেকে ভেসে আসছে ওর কথা।
—কী বলো…
—আমার কথার কোনও উত্তর দিচ্ছ না!
—এর উত্তর আমার জানা নেই কল্প!
—কী আবোলতাবোল বকছ!
—আবোলতাবোল নয় কল্প। আমি সত্যিই জানি না!
—হেঁয়ালি কোরো না অনি…
—আমি কোনও হেঁয়ালি করছি না।
—মানে? আমার জানা নেই— এ জবাব কি হেঁয়ালি নয়?
—না কল্প হেঁয়ালি নয়। আমি সত্যি বলছি। আমার জানা নেই।
কল্প উত্তেজিত হয়ে ওঠে। প্রবলভাবে অনিকে ঝাঁকাতে থাকে।
—তুমি মিথ্যে কথা বলছ।
—মিথ্যে কথা বলছি না। আমার সত্যিই জানা নেই। আমার শিশুর জন্ম দেওয়ার কোনও ক্ষমতাই নেই।
—সে কী!
—হ্যাঁ কল্প। আমি মিথ্যে বলছি না। আমি ফিমেল হিউম্যানয়েড।


আপনার মতামত...