নিদ্রিত ভারত জাগে…

অমর্ত্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 


আন্দোলনের মুখ হয়ে থেকে যাবেন সেই বিশেষ-ক্ষমতাসম্পন্ন ছাত্রেরা— সংসদ-অভিযানের সময় যাঁরা সাঙ্কেতিক প্রতীক-চিহ্নের মাধ্যমে হাত-মুখ নেড়ে, তাঁদের এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে চলেছিলেন। মুখ হয়ে থেকে যাবেন সেই ছাত্র, যিনি লাগাতার লাঠির মার খেতে খেতেও ক্রমাগত বলে চলেছিলেন, “আরও মারুন, আরও মারুন, লাঠি ভেঙে যাওয়া অবধিই তো মারতে পারবেন স্যর!” নিদ্রিত ভারত জেগেছে কিনা, তা জানতে আরও খানিক সময় প্রয়োজন। তবু দেশের স্বার্থে চাইব, ‘আরশোলা’রা আরও অনেকবার আমার সংশয়কে ভুল প্রমাণিত করুক। শহুরে, শিক্ষিত সমাজের প্রত্যেক প্রতিনিধিই যে তলে-তলে ‘অরাজনৈতিক, সুবিধেবাদী’ শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন না, সেই সত্যই আরও অনেকবার উন্মোচিত হোক

 

পূর্বাভাস

গণতন্ত্রে, বিশেষত ভারতের মতো বিরাট ও বহুত্ববাদী গণতন্ত্রে, সচরাচর ইতিবাচক ভোটে শাসক পরিবর্তন ঘটে না। ইতিহাস সাক্ষী, প্রায় প্রতিবারই নেতিবাচক তথা অপছন্দের ভোটেই এক-একটি দলের ভোটযুদ্ধে পরাজয় ঘটেছে। স্বভাবতই এমন প্রতিটি পরিবর্তনের প্রাক-মুহূর্তে দেশ অথবা রাজ্য জুড়ে দানা বেঁধেছে প্রতিষ্ঠানবিরোধী আন্দোলন, রাজপথে দেখা গিয়েছে নাগরিক সমাজেরও (একাংশ, কিয়দংশের) তরফে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ। ক্রমশ সেই ক্ষোভ রাজনৈতিক পথে এগিয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধিতাই ক্রমশ সংঘবদ্ধ হয়ে পালা-পরিবর্তনের পথ সুগম করেছে। বলতে দ্বিধা নেই, এই যাত্রাপথ রাজনৈতিক। রাজনীতির প্রশ্নে রাজনৈতিক সমাধানই জরুরি। নচেৎ ভুল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। সরকার অথবা শাসকপক্ষকে আমরা যখন গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ আসনে নির্বাচিত করি, আমরা এক বা একাধিক রাজনৈতিক দলকেই নির্বাচিত করি। সেই রাজনৈতিক দলের নীতি, আদর্শ অনুসারেই দেশের নীতি ক্রমশ নির্ধারিত হয়। কাজেই সরকার অথবা প্রতিষ্ঠানের বদল চাইলে, আমরা আদতে সেই সরকার অথবা প্রতিষ্ঠানের মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করা নীতি বা আদর্শেরই পরিবর্তন চাইছি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। কাজেই ‘রাজনীতি না বুঝে’ গণতন্ত্র অভ্যাস দেশের পক্ষে বিপজ্জনক। এই বিপদই আমরা প্রাক-২০১৪ সময়ে প্রত্যক্ষ করেছি। এ-রাজ্যেও তা প্রত্যক্ষ করেছি ২০২৪এর ‘অভয়া’ আন্দোলনের সময়।

কিন্তু তারও পূর্বে, পূর্বাভাস-শিরোনাম প্রসঙ্গে কিছু কথা বলা জরুরি। গণ-আন্দোলনের রাজনৈতিক চরিত্র থাকুক বা না থাকুক, যেহেতু আমরা ইতিহাস অনুসারে দেখেছি, নেতিবাচক নির্বাচনের মাধ্যমেই এ-দেশে (ও অন্যান্য আরও অধিকাংশ দেশেই) সরকার পরিবর্তন হয়, তাই পরিবর্তনের প্রাক-লগ্নে দেশব্যাপী নাগরিক আন্দোলনই, কার্যত যেন তেমন এক পরিবর্তনের সূচনা-বিন্দু হিসেবে কাজ করে। যেমনভাবে আমরা দেখেছি জরুরি অবস্থা ও ইন্দিরা গান্ধির পতনের সময় জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলন, ২০১৪-পূর্ববর্তী সময়ে আন্না হাজারের দুর্নীতি-বিরোধী আন্দোলন, নির্ভয়া আন্দোলন, অথবা ২০২৪-এর পশ্চিমবঙ্গে ‘অভয়া’ আন্দোলন। এর পাশাপাশি চলমান সময়ে আমরা প্রত্যক্ষ করছি দিল্লি ও তারই সঙ্গে সারা দেশজুড়ে পরীক্ষা-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন। নিঃসন্দেহে এই আন্দোলন ক্রমশই বর্তমান শাসকের পক্ষে অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরাও ক্রমশ এই আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন সম্ভব, এহেন ভাবনাতেই উজ্জীবিত হয়ে উঠেছি।

যদিও মোদি-সরকারের বিরুদ্ধে এমন সরাসরি রাজপথের আন্দোলন এটিই প্রথম নয়। এর আগে আমরা নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলন দেখেছি। দেখেছি ২০২০ সালের কৃষক আন্দোলন। জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলনে বেশ কিছু খামতি থাকলেও (বিশেষত ইন্দিরা গান্ধিকে উৎখাত করতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক আরএসএসের সাংগঠনিক ভিত্তিকে ব্যবহার করা— এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনওদিনই সহমত হতে পারিনি, আজও পারি না) সেই আন্দোলনের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক চরিত্র বিদ্যমান ছিল। যে কারণে সেই আন্দোলন-পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পটচিত্রে পরিবর্তন এলেও, সামাজিক পরিসরে সে অর্থে সরাসরি কোনও চরিত্রগত পরিবর্তন ঘটেনি। যদিও সাম্প্রদায়িক আরএসএস-বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের বাড়বাড়ন্ত সেই সময় থেকেই ক্রমশ শুরু হতে পেরেছিল। এর বিপরীতে আন্না হাজারের আন্দোলন ও ‘অভয়া’ আন্দোলন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে হয়তো দেখিয়ে দিয়ে গেছে, রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের আন্দোলন ‘অরাজনীতি’র কবলে গিয়ে পড়লে, তার পরিণতি কতখানি ভয়াবহ হতে পারে।

আশার কথা হল, ‘আরশোলা’রা অন্তত সেই পথে হাঁটেনি।

অন্তত এখনও অবধি নয়। আবারও বলতে চাইব, রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে, যে কোনও দেশে যে কোনও সময়ে গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াইতে, সততার পথে অবিচল থেকে, রাজনৈতিক আন্দোলনই এক ও একমাত্র বিকল্প পদক্ষেপ।

 

আমরা’ যা পারিনি

নির্ভয়া আন্দোলনকে এই আলোচনা পরিসর থেকে সামান্য তফাতে রাখতে চাইব। সেই আন্দোলন এক সামাজিক সমস্যাকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। তার স্বতঃস্ফূর্ততায় রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যকলাপ কাজ করেছিল অথবা করেনি, সেই বিতর্কে না গিয়েও বলতে পারি— সেই আন্দোলনের সামাজিক চরিত্র ও স্বতঃস্ফূর্ততায় সততার ভাগ ছিল বেশি। তারও পাশাপাশি তদানীন্তন সরকারেরও সেই আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় ভূমিকা ছিল প্রণিধানযোগ্য। বিপরীতে ২০১৪-র সরকার পরিবর্তনে আন্না হাজারের আন্দোলনেরই ‘অবদান’ অনেকাংশে বেশি বলে বোধ করি সকলেই একমত হবেন।

আজ বিভিন্ন আলোচনা ও বিশ্লেষণ থেকে এ-কথা মোটামুটি স্পষ্ট, আন্না হাজারের আন্দোলন ‘অরাজনৈতিক’ মোড়কে পরিবেশিত হলেও, সেই আন্দোলন সরাসরি রাজনৈতিক লক্ষ্যেই নির্মিত হয়েছিল। বিজেপি ও আরএসএসের কূট-পরিকল্পনার মাধ্যমে সে-হেন একটি ‘অরাজনৈতিক, দুর্নীতি-বিরোধী’ আন্দোলন গড়ে তুলে, দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হয়েছিল। এখানেই প্রমাণিত, রাজনৈতিক প্রশ্নে যখনই ‘অরাজনৈতিক’ মুখগুলির অনুপ্রবেশ ঘটে, অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কায়েমি স্বার্থের প্রতিনিধি হিসেবে চিনে নেওয়া যায়। চিনে নেওয়া উচিত। তাই স্বাভাবিক নিয়মেই ২০১৪-পরবর্তী ভারতবর্ষে ‘আন্না হাজারে’-নামক পণ্যবস্তুটির বাজার থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটল। আমরা অমৃতকালের ভারতবর্ষে পা দিলাম।

একই কৌশল আমরা প্রত্যক্ষ করলাম ২০২৪-এও। ‘অভয়া’ আন্দোলনে ব্যক্তিগতভাবে আমার অংশগ্রহণ কতখানি ছিল, অথবা কেমনভাবে ছিল— সেই বিষয়ে কেউ কেউ হয়তো অবগত আছেন। অন্যান্য পাঠকের স্বার্থে কেবল এইটুকু বলে রাখব, ‘অভয়া’র জন্য চলা অনশন আন্দোলনের দিনগুলি আমার জীবনের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে মনে করি। এর সঙ্গে জুড়ছি, বিগত প্রায় দুই-দশক ধরে কলকাতা শহরে ঘটে যাওয়া প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে কমবেশি জুড়ে থাকার অভিজ্ঞতা-পরবর্তীতেও, ‘অভয়া’ আন্দোলন প্রসঙ্গে আমি ঠিক এতটাই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করব। সেই আন্দোলন অথবা অনশনে সামিল হওয়া বিরাট সংখ্যক মানুষের সততা, তিতিক্ষা ও আন্তরিক অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আমি এতটুকুও প্রশ্ন তুলব না। কিন্তু বিপদ ঘটাল ভদ্রবিত্ত, ‘অরাজনৈতিক’ মানুষেরাই। এই স্তর বা শ্রেণি থেকে উঠে আসা মানুষেরা, বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক শিক্ষা বা অভ্যাস-ব্যতীত এই আন্দোলনে ‘সামিল’ হয়ে পড়লেন। এলাকাবিশেষে ‘সংগঠক’ অবধি হয়ে উঠলেন। তাঁরা জানতে বা বুঝতেও পারলেন না, সুকৌশলে তাঁরা প্রত্যেকেই বিজেপি-আরএসএসের কূটকৌশলে পা দিয়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এক-একজন ‘আন্না’ হয়ে উঠতে চলেছেন। এই কারণেই বোধহয়, ভগৎ সিংয়ের উদ্ধৃতি ধার করে নিয়ে, সামান্য পালটিয়ে বলতে হয়, “বিপ্লবের প্রথম শর্ত হল, ‘রাজনৈতিক শিক্ষায়’ শিক্ষিত হও।”

এহেন ভদ্রবিত্তদের একটা বড় অংশই কিন্তু ‘অভয়া’ আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন যত না বিচারের দাবিতে, তার চেয়ে অনেক বেশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সামাজিক পরিচয়ের বিপরীত বিন্দুতে থাকা শ্রেণিগত, ব্যক্তিগত এক বৈরিতার অবস্থান থেকে। তাঁদের কাছে কালীঘাট থেকে উঠে আসা ‘অশিক্ষিত’ কেউ মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবে, যাঁর ইংরেজি অথবা বাংলা কোনও উচ্চারণই ‘সঠিক’ (পড়ুন, ‘মার্জিত’) নয়, অবচেতনের এই বিদ্বেষই তাঁদের আন্দোলনে নেমে মমতা-বিরোধিতায় অনেকাংশে চালিত করে। আরও দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, রাজনৈতিক বামপন্থীদের একাংশও একই ধারায় গা-ভাসিয়ে দেন। বিচার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত অথবা কলেজ-ক্যাম্পাসে ছাত্রভোট, ইউনিয়ন-নির্বাচন এহেন গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিপরীতে, চটি-পিসি-ভাইপো— এহেন ত্রিমুখী-আবর্তেই ক্রমশ আন্দোলনের রাজনৈতিক সাফল্যের অন্তর্জলী যাত্রা ঘটে। এরপর, ২০২৬-এর নির্বাচনে আমরা তারই প্রতিফল দেখেছি।

২০১১-র পশ্চিমবঙ্গ অথবা ২০১৪-র ভারতবর্ষে, বাস্তব অর্থেই রাজ্যে সিপিএম অথবা কেন্দ্রে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস অথবা বিজেপি-ব্যতীত আর কোনও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল না। কাজেই অঙ্কের নিরিখে প্রতিষ্ঠানবিরোধী ভোট (আন্না হাজারের আন্দোলন যদি সরাসরি রাজনৈতিক বোধেরও উদাহরণ রাখত, তবুও) এই দুই দলেরই পক্ষে যাওয়া কার্যত অনিবার্য ছিল। এর বিপরীতে ২০২৬-এর বাংলায় ‘ভদ্রবিত্ত, শিক্ষিত’ বাঙালির হাতে, বাম-বিকল্পের অন্তত একটি হলেও সম্ভাব্য পরিসর ছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয় আমরা দেখলাম ‘রাজনীতি-সচেতন’ বাঙালি, ‘উত্তরপ্রদেশ-বিহার না হতে চাওয়া’ বাঙালি, ‘বুদ্ধিজীবী’ বাঙালি কোনও অবিশ্বাস্য কারণে সাম্প্রদায়িক, সংবিধান-বিরোধী বিজেপি-আরএসএসের প্রতিই ভোটবাক্সে আস্থাজ্ঞাপন করলেন! ‘ভদ্রবিত্ত’ বাঙালির এক বিরাট অংশের আদতে চূড়ান্ত শ্রেণি-সচেতন, সাম্প্রদায়িক স্বরূপ এই নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে সরাসরি উন্মোচিত হল। এ কারণেই সামাজিক স্তরে রাজনৈতিক শিক্ষার প্রয়োজন। প্রয়োজন অরাজনীতির আকাশকুসুমের বিপরীতে সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান।

ঠিক যে কারণে ‘আরশোলা’দের কার্যকলাপের প্রতি সন্দিহান ছিলাম।

এখনও যে সন্দেহ পুরোপুরি কেটেছে তা বলব না। কেবল এই লেখার সময় অবধি— অন্তত সেই সংগঠন বা তার সমর্থকেরা অনেকাংশে যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও উদারতার উদাহরণ রেখেছেন, সেই কারণেই মনে করছি, এই আন্দোলন নিয়ে আশাবাদী হওয়াই যায়।

 

জাগরণ

মাটি তো আগুনের মতো হবেই,
যদি তুমি ফসল ফলাতে না জানো,
যদি তুমি বৃষ্টি আনার মন্ত্র ভুলে যাও,
তোমার স্বদেশ তাহলে মরুভূমি!

২০-২১ জুলাইয়ের দিল্লি শহর, বারেবারেই মনে পড়িয়েছে এই পংক্তি ক-টিকে। নির্বিচারে তা উচ্চারণও করেছি, অস্ফূটে, অথবা সোচ্চারেও। ২০ তারিখের সংসদ অভিযানে পাঁচ লক্ষ সাধারণ নাগরিক অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। তদুপরি এই বিরাট মিছিলের একটা বড় অংশই ছিলেন সাধারণ, কমবয়সি পড়ুয়া— যাঁদের অনেকেরই এহেন আন্দোলনে আসা এই প্রথম! এহেন সমাবেশের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ যে কায়দায় দমনপীড়ন চালাল, ভাবতে কষ্ট হয় সেই সমস্ত পুলিশকর্মীরাও দায়িত্বশেষে বাড়ি ফিরবেন। বাড়ি ফিরে তাঁদেরও আয়নার সামনে নয়, নিজের পরিবারের বাকি সদস্যদের সামনে বিনা-উর্দিতে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। তাঁরা তখন পিতার পরিচয়ে, স্বামীর পরিচয়ে, ভ্রাতৃ-পরিচয়ে নিজেদের নতুন করে উপলব্ধি করবেন। (প্রসঙ্গান্তরে, কিঞ্চিৎ তাচ্ছিল্য-সহকারে বলতে বাধা নেই, পশ্চিমবঙ্গের শার্দূল-সম সাহসের অধিকারী, মাননীয় সরকারি কর্মচারীরা মুখ ফুটে কোনওদিন বলুন— ভূতপূর্ব সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকারের আমলে তাঁরা বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে ঠিক কতখানি অগ্রাধিকার পেলেন?)

প্রসঙ্গে ফিরে এসে বলি, যে বিরাট সংখ্যক ছাত্রছাত্রীরা স্রেফ তাদের গতানুগতিক ‘জেন-জি’ পরিচয়কে সম্বল করে এই বিরাট আন্দোলনে সামিল হয়ে পড়লেন, কেনই বা তাঁদের ‘রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত’ বলে মনে করছি? লক্ষ করে দেখবেন, এক-আধটি পোস্টার বা স্লোগান ব্যতীত, তাঁদের প্রতিটি স্লোগান অথবা দাবি-দাওয়ার ভিত্তি যুক্তিপূর্ণ ও রাজনৈতিক। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ তাঁদের একমাত্র দাবি নয়। তাঁরা এনটিএ-র প্রস্তাবিত কাঠামোটিকেই বাতিল করতে চান। কেন্দ্রীয়ভাবে এমন বিরাট পরিসরে এক-একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করায়, এনটিএ-র বর্তমান পরিকাঠামো চূড়ান্ত ব্যর্থতার নিদর্শন রেখেছে। এর পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষানীতির প্রশ্নেও তাঁদের স্পষ্ট অবস্থান রয়েছে। কেবল শিক্ষাব্যবস্থার গৈরিকীকরণই নয়, চয়েস-বেসড-ক্রেডিট-সিস্টেম-সহ আরও অন্যান্য অনেক বিষয়ে, ঘোষিত জাতীয় শিক্ষানীতির অভ্যন্তরে যে বিরাট ফাঁকফোকরগুলি থেকে গিয়েছে তাঁরা সেগুলিরও বদল প্রত্যাশা করেন। এঁদের আন্দোলনে গান্ধি-ফুলে-অম্বেদকরের নাম ধরেই স্লোগান উঠতে শোনা যায়। এঁরা সংবিধান-রক্ষা, গণতন্ত্র-রক্ষা, বাকস্বাধীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, লিঙ্গ-নিরপেক্ষতার কথা বলেন। ‘চটি-পিসি’ সমতুল ‘চা-ওয়ালা’-তুল্য ব্যক্তিগত আক্রমণ এখানে শোনা যায় না। বরং গোদি-মিডিয়ার বিরুদ্ধেই এঁদের স্পষ্ট অবস্থান লক্ষ করা যায়। সর্বোপরি এঁরা রাস্তায় নেমে এসে পুলিশের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিতে পারেন। ২০-২১ জুলাইয়ের দিল্লি শহর সেই চরম নৃশংসতার ছবি প্রত্যক্ষ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের শখের ডিএ-আন্দোলনকারীদের মতো কুলার-শোভিত তাঁবুর আশ্রয়ে বসে এঁরা ভাষণে সময় কাটাননি। অনশনে গিয়েছেন, রাস্তায় নেমে কাঁদানে গ্যাস ও বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছেন। মোমবাতি-মিছিলের আলোয় ভদ্রবিত্তের মিনমিনে কবিতা-আন্দোলনেই এঁদের লড়াই ফুরিয়ে যেতে পারেনি। পাশাপাশি, অন্তত এই লেখার সময় অবধি, বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ‘আরশোলা’দের অভ্যন্তরে এক সুস্থ মিথোজীবিতার আশাব্যঞ্জক সম্পর্ক লক্ষ করা যাচ্ছে।

বিরোধী দলগুলি জোটবদ্ধভাবে, এককাট্টা হয়ে রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছে। যে কায়দায়, ২১ জুলাই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি, সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধি ও অখিলেশ যাদবের উপরেও পুলিশি হেনস্থা হল— তা আদতে আমাদের গণতন্ত্রের চূড়ান্তরকমে অবদমিত, কদর্যতায় নেমে আসা রূপটিকেই জনসমক্ষে আরও একবার উন্মোচিত করল। ‘অভয়া’ আন্দোলনের সময় বিজেপি-ব্যতিরেকে রাজ্যের অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এমন জোটবদ্ধ পরিসরে আসতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়। ‘অরাজনীতি’র চোরাবালি থেকে সেই আন্দোলনকে বের করে আনতে, যে বামপন্থী দলগুলির আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল, তারা সে কাজ করে উঠতে পারেনি। তবুও, ‘আরশোলা’-আন্দোলনে অন্তত বামপন্থীদের তরফে জাতীয় স্তরে সেই ‘পাপ’স্খালনের উদ্যোগ অনেকটাই চোখে পড়েছে।

সোনম ওয়াংচুক অথবা অভিজিৎ দীপকেদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অথবা দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, শুরু থেকে একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠন সরাসরি এঁদের পাশে থেকেছেন। কমরেড নেহা-সহ আইসা-র মোট তিনজন সদস্য সরাসরি অনশন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজ, নাসিরুদ্দিন শাহ, অরুন্ধতী রায়-সহ এমন একাধিক সামাজিক ব্যক্তিত্ব, যাঁদের সরাসরি রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁরা নিজেরা আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। সংসদ অভিযান আন্দোলনে সামিল হয়ে শাবানা আজমি ও প্রকাশ রাজ রীতিমতো পুলিশি হেনস্থা ও ধস্তাধস্তির মুখে পড়েছেন। আন্দোলনে এই সর্বাত্মকতারই প্রয়োজন। নিজেকে উজাড় করে দেওয়া প্রয়োজন। এমনিভাবেই সরাসরি রাজনৈতিক স্লোগান তোলা প্রয়োজন। দমনপীড়নের মতবাদকে কেবল বিরুদ্ধ, বিকল্প, রাজনৈতিক মতবাদ দিয়েই রোখা সম্ভব। এই বোধ না এলে, গঠনমূলক রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলা চলে না। সেই আন্দোলন কেবল তিনদিনের হুজুগে পর্যবসিত হয়।

‘আরশোলা’রা চাইছেন তাঁদের দাবির সঙ্গে সহমত প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বকে তাঁদের মঞ্চে আহ্বান করতে। যে কারণে, উদ্ধব ঠাকরে থেকে শুরু করে ‘ভীম আর্মি’র চন্দ্রশেখর আজাদ, তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র অথবা সাগরিকা ঘোষ থেকে শুরু করে কংগ্রেসের পবন খেড়া, বামপন্থীদের তরফে বৃন্দা কারাত, এম এ বেবি-সহ বিস্তৃত রাজনৈতিক পরিসরের সকলেই সেই মঞ্চে সামিল হয়েছেন। তাঁরা নিজেদের মতো করে সেই আন্দোলন-সংগঠনে সামিল হচ্ছেন। এভাবেই বৃহত্তর ইস্যুটির বিরাট গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে, দেশের ভবিষ্যতের প্রশ্নে, শিক্ষার প্রশ্নে, দেশের যুবকদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার প্রশ্নে এক বিরাট রাজনৈতিক ঐক্যের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এই প্রতিটি ইস্যুর ক্ষেত্রে এককাট্টা হওয়া, সহমত হওয়া, সম্মিলিত একটি রাজনৈতিক অবস্থানে আসা— প্রকৃত দেশপ্রেমের এর চেয়ে বড় কোনও উদাহরণ দেখি না। আজ ‘আরশোলা’দের দ্বারা শুরু হওয়া কোনও আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশ যদি সেই বৃহত্তর ঐক্যের পথে এগোয়, তবে ‘আরশোলা’-সহ সেই আন্দোলনে সামিল হওয়া প্রত্যেক রাজনৈতিক সংগঠনকে, ও প্রত্যেক সাধারণ অংশগ্রহণকারী নাগরিককে আমার তরফে আভূমি প্রণাম-ভিন্ন আর কিছুই দেওয়ার নেই।

 

উপসংহার

এই লেখার সময় অবধি জানা যাচ্ছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় আন্দোলনে যোগ দিতে পঞ্জাবের কৃষকেরাও এই মুহূর্তে দিল্লি-সীমান্তের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। বাণিজ্য-চুক্তি নিয়ে বিশদ আলোচনার পরিসর এই নিবন্ধে নেই। তবু, ২০২০-র কৃষক আন্দোলনকে মনে রেখে বলব, যে অসামান্য সাংগঠনিক ক্ষমতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় সে সময়ে কৃষক সংগঠনগুলি দেখিয়েছিল, সেই প্রেক্ষিতে স্বভাবতই এবারেও কৃষকদের তরফে ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে আগাম ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। দিল্লির শম্ভু-সীমান্তে এই মুহূর্তে রাষ্ট্র ও কৃষক মুখোমুখি। ভুললে চলবে না, একশো বছরের সঙ্ঘ-রাজনীতির ইতিহাসে সর্বপ্রথম ২০২০ সালের কৃষক আন্দোলনের সময়েই সঙ্ঘের অধীনে থাকা বিজেপি দল কোনও নীতি বা আইনের তোয়াক্কা না করে তাদের একপক্ষীয় ঘোষণা পরবর্তীতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। কৃষি আইনগুলি পুনর্বিবেচনার জন্য আবারও সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। গত ২০ জুলাই, ছাত্র আন্দোলনের সময়েও নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে দেখা যায় মহামহিম নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং সংসদ ভবন থেকে কার্যত কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। নিরস্ত্র ছাত্রছাত্রীদের মিছিলের বিপরীতে তখন রাষ্ট্রের তরফে উদ্যত মেশিনগান! গণতন্ত্রের দুর্দান্ত উদযাপন। সেই ছবিও সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে ইতিমধ্যেই সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে গিয়েছে।

আন্দোলনের মুখ হয়ে থেকে যাবেন সেই বিশেষ-ক্ষমতাসম্পন্ন ছাত্রেরা— সংসদ-অভিযানের সময় যাঁরা সাঙ্কেতিক প্রতীক-চিহ্নের মাধ্যমে হাত-মুখ নেড়ে, তাঁদের এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে চলেছিলেন। মুখ হয়ে থেকে যাবেন সেই ছাত্র, যিনি লাগাতার লাঠির মার খেতে খেতেও ক্রমাগত বলে চলেছিলেন, “আরও মারুন, আরও মারুন, লাঠি ভেঙে যাওয়া অবধিই তো মারতে পারবেন স্যর!” নিদ্রিত ভারত জেগেছে কিনা, তা জানতে আরও খানিক সময় প্রয়োজন। তবু দেশের স্বার্থে চাইব, ‘আরশোলা’রা আরও অনেকবার আমার সংশয়কে ভুল প্রমাণিত করুক। শহুরে, শিক্ষিত সমাজের প্রত্যেক প্রতিনিধিই যে তলে-তলে ‘অরাজনৈতিক, সুবিধেবাদী’ শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন না, সেই সত্যই আরও অনেকবার উন্মোচিত হোক।

আমরা বাঙালিরা যে প্রজ্ঞা অথবা দূরদর্শিতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছি; নেহা-দীপকে-ওয়াংচুকদের আন্দোলন কৃষকদের সহযোগিতায়, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, অথবা চন্দ্রশেখর আজাদদের মতো এক-একজন নির্ভীক, দূরদর্শী সংগঠক, রাজনীতিকের সহযোগিতায়, নাগরিক পরিসরে বৃহত্তর ঐক্য গঠনের মাধ্যমে— সেই আন্দোলন দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত করুক। এতদিন আমরা (বাঙালিরা) দেশকে পথ দেখিয়ে এসেছি (সে অনেককাল আগের কথা বোধহয়), আমরা বরং এইবারে অন্তত বিরাট এই প্রসারিত দেশের কাছ থেকে নতুন করে কিঞ্চিৎ শিক্ষাগ্রহণ করি চলুন।

যদিও পাদটীকায় এ-কথা না জুড়লেই নয়, গত ২০ জুলাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও নাগরিক উদ্যোগে, বিরাট এই নাগরিক আন্দোলনের সমর্থনে এক বিশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়। সেই মিছিলের জনসমাগম ও স্বতঃস্ফূর্ততা আমাদের বাংলা সম্পর্কেও একেবারে নিরাশ হয়ে পড়তে বারণ করে। হাজার হোক, এই বাংলায় এখনও যাদবপুর মিথ্যে হয়ে যায়নি। ‘আরশোলা’ আন্দোলনের সমর্থনে দেশের অন্যতম প্রাচীন বিজ্ঞান-গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অব সায়ান্সেও প্রতিবাদ সংগঠিত হয়েছে। দেশ-রাজ্য নির্বিশেষে আজ, এহেন আঠারোরই জয়গান অব্যাহত হোক! কাঠবেড়ালি হয়েও সেই আন্দোলনে, আমরা নিশ্চিত প্রত্যেকে জুড়ে রয়েছি!

 

সংযোজন (২২ জুলাই, রাত ৯টা ৫)

এক বিবৃতির মাধ্যমে জানা যাচ্ছে হাসপাতালে অন্তরীণ থাকা সোনম ওয়াংচুক, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন দুইটি শর্তে তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন।

১) আত্মঘাতী ছাত্রদের সরকারি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
২) বিষয়টি নিয়ে সংসদে যথাযোগ্য আলোচনা করতে হবে।

লক্ষণীয় বিষয় হল, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, এনটিএ বাতিল অথবা রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতির পুনর্বিবেচনা— তিনটি প্রধান দাবির কোনওটিই আর এই চিঠিতে দেখা যাচ্ছে না। স্বাভাবিক কারণেই আমরা জানি এহেন অনশন আন্দোলনের ক্ষেত্রে সম্মানজনক পশ্চাদপসরণেরও একটি জায়গা রাখা প্রয়োজন। কিন্তু প্রধান তিনটি দাবি থেকেই এভাবে সরে আসা, ও সেই কৌশলের পিছনে কোন বুদ্ধি কাজ করছে, ভাবতে আবারও আশঙ্কা হয়।

অন্যদিকে আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে ‘নিষ্পাপ ছাত্রদের সঠিক আন্দোলনে’ রাজনীতির অনুপ্রবেশ কেন? এই নিয়ে এত যুগ ধরে নির্বাক থাকা অনেকেই অবাক বিবৃতি দিতে শুরু করেন। তখনই সন্দেহ জাগছিল, সরকার বোধহয় সত্যি এই আন্দোলনে ভয় পেয়েছে, এবং বুঝেছে তড়িঘড়ি এই আন্দোলনকে ‘অরাজনীতি’র পথে ফেরাতে না পারলে বিপদ। আবারও চাইব আমার সব আশঙ্কা যেন মিথ্যে প্রমাণিত হয়।

সমস্যা গোটা সরকারি ব্যবস্থাকে নিয়েই, তাই সমাধানের পথও সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে, সরকারি নীতির বিরুদ্ধে। বিকল্প নীতির প্রয়োজনে। যা দেওয়ার যোগ্যতা বা সদিচ্ছা বর্তমান সরকারের নেই। এক প্রধানকে সরিয়ে অন্য প্রধানকে আনলেও কোনও সমাধান হবে না। যদিও, সেটুকু দাবি থেকেও যদি আজ পিছিয়ে আসা হয়, তবে হাতের পেন্সিলটুকুই ললিপপ হয়ে থেকে যাবে কেবল।

দুর্ভাগ্যবশত প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও-বার্তাতেই আশ্বস্ত বোধ করে ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার ও গীতাঞ্জলির একাধিক বিবৃতি আন্দোলনে ‘অরাজনীতি’র অনুপ্রবেশ-জনিত আমার একাধিক আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণিত করেছে। আশার কথা এইটুকুই যন্তর-মন্তরে অবস্থানরত ‘আরশোলা’রা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ-সহ অন্যান্য মূল দাবিগুলির বিষয়ে এখনও অনড়। ‘অরাজনীতি’র ফেরিওয়ালাদের থেকে সাবধান থাকা জরুরি। এই বার্তাই আরও একবার উল্লেখ করব। আন্দোলন যেন পথভ্রষ্ট না হয়। এই লড়াই সংবিধান রক্ষার আন্দোলন। গণতন্ত্র রক্ষারও আন্দোলন।

 

২৪/০৭/২০২৬

 


*মতামত ব্যক্তিগত

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 5420 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.