Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

আগাছা

খালিদা খানুম

 

নিয়ামত শেখ যখন পারুলকে বিয়ে করে নিয়ে এল, তখন কিছু উৎসাহিত পাড়া প্রতিবেশী ছাড়া আর কেউই বাড়ির সদর দরজায় ছিল না। তাদেরই কেউ একজন বলল, ‘নতুন বউকে বসতে দে, একখান চেয়ার আন।’

নিয়ামতের তৃতীয় পক্ষ, ফরিদা তখন এক গাদা এঁটো বাসন নিয়ে কলতলার দিকে যাচ্ছিল। আর প্রথম পক্ষ, আসিরন বিবি এক থালা পান্তা ভাত আর কয়েকটা শুকনো লঙ্কা পুড়িয়ে ভাত খেতে বসেছিল।

পাশের বাড়ির চাচী, পারুলকে রান্না ঘরের দাওয়াতে এনে আসিরনকে দেখিয়ে বলল, ‘এ তোমার বড় সতীন।’

পারুল বলল, আপা আসলামওলায়কুম।

আসিরন কাঁচা পেঁয়াজে কামড় দিয়ে বলল, ‘আবাগী মাগী, জানোস না খাওনের সুমা সালাম দিতি নায়।’

 

নিয়ামতের বিঘা পঞ্চাশ জমি, ছয়টা পুকুর, দুটো খামার বাড়ি। আসিরনের সাথে বিয়ের পাঁচ বছর পর যখন কোনও সন্তান হল না, তখন কাজললতাকে বিয়ে করে।

দ্বিতীয় পক্ষ কাজললতা, বিয়ের তিন মাসের মধ্যে রাজমিস্ত্রি সালামের সাথে পালিয়ে যায়।

 

বৌভাত অনুষ্ঠানের পর বাড়ি ফাঁকা হতে আরও কিছু দিন লাগে। পারুল মামার বাড়িতে মানুষ, বাবা মা নেই। অষ্টমঙ্গল হয়নি।

আসিরন পারুলের ঘরে এসে দেখে পারুল এলো চুলে বসে আছে। ‘মাগী চুল বাঁধ, শয়তানের নজর লাগবো’ বলে পাশে এসে বসে বলে — খুব কষ্ট হয়?

পারুল কিছু বলতে পারে না। ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে।

‘রাতে দুধ দিয়া যামু এক গেলাস, যত্ন করে খাওইয়া দিস সোয়ামীরে। নতুন বিয়ার পর দুধ খাউন লাগে।’

পারুল মাথা নাড়িয়ে বলল, জী আপা।

 

পরের দিন সবাই যখন নিয়ামত শেখের লাশটা হসপিটাল থেকে ফেরত নিয়ে এলো, আসিরন হাঁসুয়া নিয়ে বাড়ির পিছনের বাগানে গেল বড় ধুতুরা গাছটা জড় সহ উপড়ে ফেলতে। আগাছা গাছটা ফুল ফলে ভরে গেছে।