Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

ব্রাহ্মমুহূর্ত

কৌশিক দত্ত

 

২৩শে জুলাই ২০১৮ আনন্দের দিন, কারণ ভাইগুলো বেঁচে গেছে, ভাইয়েরা জিতে গেছে। আজ ওদের জড়িয়ে ধরে আদর করার দিন, মুখে খাবার তুলে দেবার দিন। আজ ওদের সেলাম জানানোর দিন।

আমি সহি বিপ্লবী মেটিরিয়াল নই, পৌরুষেরও সম্যক অভাব। বদলে খানিক মা-মাসি গোছের জিন আছে শরীরে। ফলে আমার প্রথম আনন্দ, ওরা বেঁচে আছে। প্রত্যেকে বেঁচে আছে। অবজ্ঞা করে, অপমান করে, মিথ্যে রটিয়ে ওদের জেদ বাড়িয়ে তুলে অনাহারে মেরে ফেলার সবরকম চেষ্টা সত্ত্বেও এমনকি পঞ্চাশ কিলোর কম ওজনের ছেলেটাও চোদ্দদিনের অনশন পেরিয়ে জীবিত। দ্বিতীয় আনন্দ হল এই যে ওরা স্রেফ না মরে বেঁচে নেই, ঠিকঠিক বাঁচার মতো করে ঋজু শিরদাঁড়ায় মাথা উঁচু করে বেঁচে আছে।

আজ ওদের সেলাম জানানোর দিন। আজ ওদের ধন্যবাদ জানানোর দিন। আমার মতো ফুরিয়ে যাওয়া আধবুড়ো মানুষদের ওরা আবার উঠে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছে, প্রেরণা জুগিয়েছে। নীতি, অধিকার, আত্মসম্মান খিদের থেকে বড়, একথা বুঝলে তবেই মানুষ, এমন এক কঠিন ও জরুরি শিক্ষা ওরা আমাদের দিয়েছে দুই সপ্তাহ ধরে। ওদের ইস্কুলে এই কদিন পড়তে পেয়ে ধন্য হয়েছি। ওদের পাশে দাঁড়িয়ে আসলে দেবার কিছু ছিল না আমাদের, শুধু নিয়েছি দু’হাত ভরে। নিশ্চিন্ত বোধ করেছি এই ভেবে যে আগামী পৃথিবীকে বলিষ্ঠ হাতে উদার হৃদয়ের আশ্রয়ে ছেড়ে যেতে পারব আমরা।

২৩শে জুলাই ২০১৮ দায়িত্ব বেড়ে যাবার দিন, কারণ একটা লড়াই যেখানে শেষ হয়, সেখান থেকেই শুরু হয় পরের লড়াই। মেডিক্যাল কলেজের এই আন্দোলন যেমন গণতন্ত্রের পক্ষে শুভঙ্কর, তেমনি রোগী-চিকিৎসক সম্পর্ক নির্মাণে এক মাইলস্টোন। চিকিৎসকদের সামনে খুলে গেছে এক নতুন দরজা, যা একই সাথে সুযোগ ও গুরুদায়িত্বের উঠোনে এনে দাঁড় করায়। শুধুমাত্র চিকিৎসকদের সামনে নয়, জনসাধারণের সামনেও এসে দাঁড়িয়েছে নতুন করে শুরু করার এক অনন্য মুহূর্ত। মেডিক্যাল কলেজের জুলাই বিপ্লবের জাদুতে রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে যে হাত ধরাধরির শুভারম্ভ হল, তা বদলে দিতে পারে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের চিত্র, আমাদের এগিয়ে দিতে পারে সুস্থতর ভবিষ্যতের দিকে কয়েক কদম। সেই সুস্থতার ভাগীদার হব আমরা সবাই, দায়িত্বেরও তাই ভাগাভাগি আছে।

স্বাস্থ্য মানুষের সম্পদ ও অবলম্বন। স্বাস্থ্য পরিষেবা একটি মৌলিক প্রয়োজন। সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে স্বাস্থ্যের অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত। অথচ অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা ইত্যাদি মৌলিক প্রয়োজন বা অধিকারের মতোই স্বাস্থ্যও পণ্যে পরিণত হয়েছে ক্রমশ, হয়ে উঠেছে মুনাফার মাধ্যম মাত্র। সর্বক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিষেবা আজ মহার্ঘ। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য পরিষেবায় আপনার প্রয়োজন আসলে কী, তাও নির্ধারণ করছে বাজার। বলা ভালো বাজার আপনার প্রয়োজন নির্মাণ করে দিচ্ছে, কেবলমাত্র বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নয়, বিজ্ঞানের মাধ্যমেও। বিজ্ঞানচর্চা আজ কতটা বাজার নিয়ন্ত্রিত, কীভাবে তা নির্দিষ্ট ধরনের অর্থনীতির সেবা করে, তা বিস্তৃত আলোচনার বিষয়, যা এখানে সম্ভব নয়। এটুকু বলা যায় যে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে নানারকম জুজু তৈরি করা যায়, যেগুলোর কথা আপনার পিতামহ জানতেন না। অতঃপর সেইসব জুজু চেনার পরীক্ষা আপনাকে করানো সম্ভব, খাওয়ানো সম্ভব জুজু তাড়ানোর ওষুধ, যা আপনাকে আপনার ঠাকুরদার চেয়ে বেশি ভালো ক্রেতা করে তুলবে। (ভুল বুঝবেন না, বিজ্ঞান যতরকম স্বাস্থ্যবিষয়ক চেতাবনি দেয়, তার সবই মিথ্যে ভয় দেখানো নয়, অনেকগুলোই অত্যন্ত জরুরি। ঠিক এই কারণেই সত্য আর অর্ধসত্যকে আলাদা করে চেনা কঠিন।)

বিস্তারিত আলোচনা এড়িয়ে বলা যায়, রিয়াল এস্টেট, ফুড প্রসেসিং, হোটেল-রেস্তোরাঁ, রেমন্ডস-লেভাইস বা জিও ইউনিভার্সিটির মতোই স্বাস্থ্যক্ষেত্রও ধীরে ধীরে কর্পোরেট পুঁজির জিম্মায় চলে যাচ্ছে। এই চলে যাওয়াটা ক্রমশ অবশ্যম্ভাবী, যুক্তিসঙ্গত এবং স্বাভাবিক মনে হচ্ছে আমাদের চোখে। আমাদের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বিভিন্ন অর্থনৈতিক, আইনি, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও প্রচারকৌশলে। অথচ আমাদের দেশের তথা পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ তো মহার্ঘ চিকিৎসা কিনতে পারবেন না। তাঁদের কী হবে? বাজারের কাছে মানুষের পরিচয় শুধুমাত্র ক্রেতা বা বিক্রেতা হিসেবে। বাজারেরও নিজস্ব নিয়ম, আইন ও এথিক্স আছে, কিন্তু তা ক্রেতা-বিক্রেতা পরিচয়প্রাপ্ত মানুষের জন্য। যে কিনতে বা বেচতে সক্ষম নয়, তার জন্য বাজারের কাছে দয়া বা ভালোবাসা আশা করে লাভ নেই। অ্যাডাম স্মিথের অদৃশ্য হাতটি আদতে কোনও মানুষের হাত নয়, একটি ব্যবস্থার হাত, ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের দানবের হাত। সেই হাত কর্ম করে, নিজস্ব নিয়মে কাউকে ঠেলে এগিয়েও দেয়, কিন্তু গলা চেপেও ধরতে পারে, আর নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট নিয়মে মুছে দেয় সকলের নাম। তার খেলায় চ্যাম্পিয়ন আছে, সাফল্য আছে, ব্যর্থতা আছে, উল্কাসম উত্থান আছে, পতন আছে, উৎসব আছে, কিন্তু তার কোনও প্রিয়জন নেই, অশ্রু নেই, থেমে থাকা নেই। তার হাত শুশ্রূষু নয়। চিকিৎসাক্ষেত্রে তার পরুষ হাতের স্পর্শ তাই শান্তি আনে না।

সমস্যা হল, এই হাত যখন যে জিনিস ছোঁয়, তাকে নিয়ে ছাড়ে। রাষ্ট্র, রাজনীতি, আইন, প্রচারমাধ্যম, সবকিছুকে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করার ম্যাজিক তার জানা আছে। শুনেছি সেই হাত নাকি স্পর্শমাত্র সোনা ফলায়। সোনাই ফলায় শুধু, ফুল ফোটায় না। যে মানুষকে ছোঁয়, সেও ধাতু হয়ে যায়, মূল্যবান ধাতু, মানুষ থাকে না আর। আমরা সকলেই কম-বেশি তার দ্বারা স্পৃষ্ট। আমরা সকলেই অংশত ধাতু হয়ে গেছি, অংশত মূল্যবান, অংশত অমানুষ। কেউ বেশি, কেউ কম। আমাদের আইনসভা তাই বাজারের নিয়মগুলোকেই লিপিবদ্ধ করে আইন হিসেবে, আমাদের আদালত তাকে তুলে ধরে, প্রয়োগ করে সর্বত্র, এমনকি অলাভজনক ক্ষেত্রেও। ক্রমশ এই সর্বব্যাপী প্রয়োগ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বাজারের শর্তাবলিকে মান্যতা দেয়, পণ্যের তালিকায় স্বাস্থ্যের অন্তর্ভুক্তি পাকা করে। আমাদের রাজনীতি ক্রমশ দরিদ্রের জীবন থেকে সরকারকে সরিয়ে নেয়, চিকিৎসার জন্য তাকে থলে হাতে বাজারে ছুটতে বাধ্য করে ঘটিবাটি বন্ধক রেখে। আমাদের প্রচারমাধ্যম জাদুহাতের স্পর্শে জেগে উঠে তার বন্দনাগান গেয়ে কাঞ্চনের আরাধনা করে। আমাদের চিকিৎসকেরাও সেই হাতটিই ধরে ফেলে, কেউ সজ্ঞানে, কেউ অজ্ঞাতে। সেই হাত ধরতে গিয়ে আমাদের হাতের মুঠি থেকে খসে যায় রোগীর হাত। মিডাসের অভিশাপে আমার আঙুল সোনালি হয়ে ওঠে, তাতে উজ্জ্বল নখ। আঁচড় লাগে রোগীর শরীরে।

এই চারিত্রিক পরিবর্তন সত্ত্বেও চিকিৎসকের ভূমিকা অন্য কিছু খেলোয়াড়ের (যেমন মার্কেটিং একজিকিউটিভ বা ম্যানেজার) মতো বাজারোপযোগী হয়ে উঠতে পারে না, বিশেষত ভারতের মতো দেশে? বরং কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক হয়ে ওঠেন বাফার বা ব্যারিয়ার। কেন? কারণ আমাদের দেশের সামাজিক কাঠামো এখনও ধনতন্ত্রের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। বস্তুত প্রাকসামন্ততান্ত্রিক আত্মীয়তাভিত্তিক সম্পর্ক (kinship relations), গ্রাম বা গোষ্ঠীগত পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক (যা এদেশে এখনও দ্রুত স্থাপিত হয় এবং নবপরিচিত ব্যক্তি অনায়াসে ভাই-দাদা-দিদি হয়ে ওঠেন), ইত্যাদি আমাদের পারস্পরিক আদানপ্রদানের ভিত্তি, এমনকি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও। এখানেই চিকিৎসক প্রাচীন মানবিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে বাজারের সাথে পাল্লা দিতে ব্যর্থ হন। অসুস্থ ছেলেটির বিধবা মা এসে ডাক্তারের হাত জড়িয়ে ধরে হাউহাউ করে কাঁদতে পারেন আজও। অতি গৃধ্নু চিকিৎসককেও তখন বাজারের নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে, এমনকি বিজ্ঞানের হুকুমের বিরুদ্ধে গিয়েও চিকিৎসার খরচ কমানোর চেষ্টা করতে হয়। ফলে মুনাফা কমে। ওদিকে ‘maximization of profit’ না হলে নাকি বাজারের গোঁসা হয়! ওই লক্ষ্যটিতে পৌঁছতে গেলে, অতএব, সামাজিক ফেব্রিকটাকে অগোছালো করে দিতে হবে, মানুষকে মানুষের বদলে ইনস্টিটিউশনের ওপর, ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভরশীল করে তুলতে হবে। ব্র্যান্ড বা ইনস্টিটিউশন অপৌরুষেয়। সেখানে গিয়ে কারও হাত জড়িয়ে কাঁদা যায় না, রিসেপশন ডেস্কে বসা মেয়েটি মালিক নয়, পনেরো-কুড়ি হাজার টাকা মাইনের কর্মচারী মাত্র, মালিকের নাম আপনি জানেন না, আপনার কান্না পার্সেল করতে চাইলে তাঁর ঠিকানা খুঁজে পাবেন না। সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতে চাইলে মানুষকে মানসিকভাবে আরও বিপন্ন, অসহায় করে তুলতে হবে, যাতে আপনি কাউকেই বিশ্বাস করতে না পেরে এ-দরজা, ও-দরজা ছুটোছুটি করে শেষ অব্দি বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ধরা পড়েন। এই লক্ষ্যে পৌঁছনোর এক আবশ্যিক ধাপ চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর মানবিক সম্পর্ক নষ্ট করে দেওয়া। অন্তত তিন দশক ধরে ধীরে ও সুকৌশলে সেই কাজটি হয়ে চলেছে। ইদানীং তা ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছে অদৃষ্টপূর্ব দ্রুতি লাভ করেছে।

পাশাপাশি সরকার যখন সাধারণ রোগীর মাথার ওপর থেকে হাত সরিয়ে নিতে চান, তখন নিজেকে বিপন্ন না করে, আক্রমণের লক্ষ্য না হয়ে, ভোটের বাক্স বাঁচিয়ে তা করতে গেলে রাজনীতিরও একটি নধর বলিপ্রদত্ত ছাগল প্রয়োজন হয়। এই ক্ষেত্রেও আদর্শ পাঁঠা হল চিকিৎসক, কারণ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে এই লোকটিকেই সামনে পাওয়া যায় এবং আমাদের দেশের প্রাচীন সামাজিক সম্পর্কের কারণে মানুষ একমাত্র মানুষকেই চেনে। তার ওপর আবার ডাক্তার নাকি ভগবান! রোগীর মায়ের মনে হবে এই লোকটির সামনে হাত জোর করলেই সে সব অব্যবস্থার সুরাহা করে পটাপট রোগ সারিয়ে ফেলবে। অক্সিজেন, ওষুধ, অপারেশন থিয়েটার, ভেন্টিলেটর বা সিটি স্ক্যানের যন্ত্র না থাকলেও, সবকিছুর জন্য তাৎক্ষণিক ভরসা হয়ে থাকবে সেই লোকটিই। সে ব্যর্থ হলে মায়ের অভিশাপ ভস্ম করবে তাকেই। ভিলেন বানানোর জন্য এর চেয়ে আদর্শ চরিত্র আর কোথায় পাবেন রাজনীতির কারবারিরা? আর একবার ভিলেন বানিয়ে দিতে পারলে মজাটা এই যে মশা মারার ব্যবস্থা না থাকলে, অপরিস্রুত জল খেয়ে কলেরা হলে বা সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের জন্য অমুকবাবুর পরিকাঠামোহীন কোম্পানি থেকে কেনা ভ্যাক্সিনে বা ট্যাবলেটে আদৌ ওষুধ না থাকলে বা সেসবের থেকে প্রাণঘাতী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলেও রাগ গিয়ে পড়বে সেই ভিলেনের ওপর।

দশচক্রে ডাক্তার নামক “ভগবান” অগত্যা ভূতে পরিণত হলেন। তার মানে এমন নয় যে এই মেটামর্ফোসিসের জন্য চিকিৎসক কোনওভাবে দায়ী নন। সব পেশার মতোই চিকিৎসা পেশাতেও দুঃখজনক মানবিক অবক্ষয় হয়েছে। ‘ভালো ছাত্র’দের ডাক্তার বানানোর জন্য ইস্কুলবেলা থেকেই মা-বাবারা যখন প্রাণপণ চাপ দিয়ে জয়েন্ট এন্ট্রান্সের বৈতরণী পার করানোর চেষ্টা করেন, তখন তাঁদের মাথায় থাকে সেবাব্রত নয়, সাফল্য, মূলত আর্থিক সাফল্য। সেই সন্তানেরা সেভাবেই বেড়ে ওঠে, সাফল্যের খোঁজে অর্থের পিছনে ছোটে। বিকল্প সাফল্য, সুখ আর শান্তির কথা তাদের শেখানোই হয় না কোনওদিন। আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতিও চরিত্রগতভাবে এতটাই রিডাকশানিস্ট, এত বেশি যুক্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর, তার মধ্যে আর্ট ও মানবিক ছোঁয়া জাতীয় ‘অবৈজ্ঞানিক’ ‘ভাববাদী’ অংশগুলো ক্রমশই এমনভাবে ফুরিয়ে আসছে যে একজন দক্ষ ডাক্তারকেও দেখতে লাগে অনেকটা কর্মবীর রোবোর মতো। ফলে চিকিৎসক ক্রমশ রোগীর অনাত্মীয় হয়ে গেছেন। পাড়ার ডাক্তারকাকু এখন মিউজিয়ামে। বিচ্ছিন্নতার ক্ষেত্র যখন প্রস্তুত হচ্ছিল, তখন আমরা প্রতিরোধ করিনি, বদলে আরও সরে গেছি।

বিভেদ আর পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়তে বাড়তে চরমে পৌঁছে গেছে ইদানীং। গণধোলাই এখন ছেলেধরা আর ডাক্তারের জন্য সমানভাবে বরাদ্দ। তার জন্য অবশ্য যুগের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতিও দায়ী। আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক ‘অপর’ চিহ্নায়ন বা নির্মাণ মানুষের বহুযুগের প্রবণতা, কিন্তু ক্রমশ তা তীব্রতর হচ্ছে। পাল্লা দিয়ে তীব্র হচ্ছে প্রায় সবধরনের ‘অপর’, অর্থাৎ অচেনা বা ভিন্ন মানুষের প্রতি অসূয়া, অসহিষ্ণুতা। ধর্মের ক্ষেত্রেই হোক বা রাজনীতিতে, দুনিয়া জুড়ে এমন তীব্র হিংস্রতা এবং তার মধ্যে সাধারণ মানুষের এভাবে জড়িয়ে পড়া এই গ্রহ বোধহয় আগে দেখেনি। এগরোল নিয়ে বিতর্কের জেরে গুলি চলছে, গাড়ি ওভারটেক করার শাস্তিতে খুন হচ্ছে, গরু খেলেও খেয়ে থাকতে পারে ধরে নিয়ে মানুষকে পিটিয়ে মারছে মানুষ, পাগড়ি পরা শিখ যুবককে ঘৃণাভরে হত্যা করছে আমেরিকা। যুগের মনের কথা মনে হয় ‘দ্বেষ’। এই পরিস্থিতিতে চায়ে চিনি বেশি হয়ে যাবার অপরাধে দোকানদার, ছাত্র ফেল করলে শিক্ষক অথবা শিরায় চ্যানেল করতে গিয়ে রক্ত বেরোলে নার্স বা ডাক্তার মার খেতেই পারেন। তবে এই পরিবেশের মধ্যেও চিকিৎসকদের প্রতি সার্বিক ক্ষোভ ও তার হিংসাত্মক বহিঃপ্রকাশ উল্লেখযোগ্য এই কারণে যে তা হঠাৎ হয়ে যাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নিয়মিত, ক্রোধের নিশানা ব্যক্তিবিশেষ নয়, বরং একটি সমগ্র পেশার মানুষ, এই ক্ষোভ বা অসূয়া তাত্ত্বিকভাবে সুগঠিত (structured), বিশ্বাসের ভূমিতে গভীরভাবে প্রোথিত এতদিনে (অনেকটা জাতিবিদ্বেষের মতো) এবং পরিমাপের দিক থেকে একটি ভয়াবহ সমস্যা হয়ে উঠেছে। এই সমস্যার ফলে শুধু যে চিকিৎসকেরা বিপন্ন হচ্ছেন তা নয়, গভীর বিপদে পড়ছেন অসংখ্য রোগী ও তাঁদের পরিজন। আতঙ্কিত চিকিৎসকেরা এখন নিজের ঘাড়ে দায়িত্ব কম নিয়ে পিঠ বাঁচানো পদ্ধতিতে চিকিৎসা করছেন। ফলে বেড়ে যাচ্ছে রেফার আর খরচসাপেক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা। অর্থাৎ এই অবিশ্বাস আর হিংসার বাতাবরণ সৃষ্টির ফলে সেটাই হচ্ছে, যা কর্পোরেট পুঁজি চায়। বাজারের পৌষ মাস, রোগীর সর্বনাশ।

এই ফাটল যখন ক্রমশ চওড়া হচ্ছে আর শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বুঝে উঠতে পারছেন না খাদে তলিয়ে যেতে থাকা রোগী-চিকিৎসক সম্পর্ককে টেনে তোলার কোনও উপায় আদৌ আছে কিনা, ঠিক তখনই ঘটে গেল মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র আন্দোলন। ঘটানো হল আসলে। অন্যায়ের মাত্রা ছাড়িয়ে ছাত্রদের বাধ্য করা হল আন্দোলনের পথ নিতে। তারপর অভুক্ত ছাত্রদের প্রতি চূড়ান্ত নির্দয় আচরণ করে নাগরিক সমাজকে বাধ্য করা হল ঘর ছেড়ে পথে নামতে, ছাত্রদের হাত ধরতে, হাতে হাত মিলিয়ে ন্যায়বিচার ছিনিয়ে নিতে। মসীহার মতো মঞ্চে আবির্ভূত হলেন দুই ব্যক্তি… মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ উচ্ছল কুমার ভদ্র এবং মাননীয় রাজনেতা ডঃ নির্মল মাজি মহাশয়। এঁরাই সম্ভব করলেন অসম্ভবকে। এঁরা না থাকলে নিয়মমতো হস্টেল কাউন্সেলিং হত, শয্যা বিতরণ হত নতুন ছাত্রাবাসে। কোনও আন্দোলন হত না তাহলে, বরং সরকার এতদিনে নিজেদের সাফল্যের তালিকায় জুড়ে দিতে পারতেন মেডিক্যাল কলেজের নতুন ছাত্রাবাসের নাম। পুরনো হস্টেলগুলোর ভগ্নদশা নিয়ে ছাত্রদের যা কিছু অনুযোগ বা দাবিদাওয়া, একটু মন দিয়ে শুনলে আর ভদ্রভাবে (এখানে ‘ভদ্র’ একটি বিশেষণ, কোনও পদবি নয়) উত্তর দিলে সেসব থাকত মেডিক্যাল কলেজের চৌহদ্দির মধ্যে সীমাবদ্ধ। এমনকি ছাত্রদের সঙ্গে শিক্ষকদের বা কর্তৃপক্ষের এসব আলোচনা নিয়ে নাক গলাতে উৎসাহী হতেন না প্রাক্তনীরাও। এঁরা দুজন না থাকলে খবরের কাগজে আর সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ত না হস্টেলের ঘরের ভাঙা ছাদ, নোংরা জল থইথই বাথরুম, ঘরের জানালার পাশেই পুতিগন্ধময় আবর্জনার স্তুপের ছবির লক্ষ লক্ষ কপি। রাজ্যবাসী জানতেও পারতেন না, যেসব হবু ডাক্তারদের ‘এলিট অপর’ ধরে নিয়ে ভাবনার নির্মাণ হয় সাধারণ মানুষের মনে, তারা আসলে নরকে বাস করে অথবা সেই স্থানটুকুও তাদের জোটে না, কোনওক্রমে বেঁচে থাকার অধিকারটুকু পাবার জন্যেও তাদের অনশন করতে হয়!

কিন্তু এই মসীহারা ছিলেন, আছেন। তাই আন্দোলন হল, চোদ্দ দিন লাগাতার অনশন করে কলেজের প্রাক্তনী দাদা-দিদিদের কাঁদিয়ে ছাড়ল ছোট ভাইয়েরা। সংবাদমাধ্যম প্রথমে মুখ ফিরিয়ে থাকার চেষ্টা করলেও পরে যোগ দিতে বাধ্য হল এবং শেষদিকে স্পষ্ট সোচ্চার হল আন্দোলনের সপক্ষে। প্রশাসকের অহংকার, উদাসীনতা, নিষ্ঠুরতা আর প্রহ্লাদের আর্তনাদ একসময় নাড়িয়ে দিল নারায়ণের শয্যা, তিনি নেমে এলেন জনগণেশের রূপ ধরে, এলেন হাজারে হাজারে, এলেন বজ্রনির্ঘোষে… আকাদেমি চত্বর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া কেঁপে উঠল স্লোগানে, মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাস থেকে রাজপথ ঢাকা পড়ে গেল নরনারায়ণের পায়ের তলায়; বামনকে তুচ্ছ ভেবে নিশ্চিন্ত রাজা তখন অবাক হয়ে তাকালেন আর নারায়ণ তাঁর তৃতীয় পদ স্থাপন করলেন রাজার মাথায়। সেতুবন্ধন হল হাতে হাতে। সেই সেতু বেয়ে আমরা পেরিয়ে এলাম ফাটল, পেরিয়ে এলাম খাদ। যদি কোনওদিন এই রাজ্যে, এই দেশে, এই পৃথিবীতে আবার রোগী-চিকিৎসকের সুসম্পর্ক স্থাপিত হয়, তবে সেই সুন্দর আগামী কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে এই দুজনকে। চারণেরা হয়ত গাইবেন ছাত্রদের গাথা, কলেজগামী তরুণের টি-শার্টে হয়ত আঁকা থাকবে অনিকেতের ছবি, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় রানি মেরি আঁতোয়ানিয়েতের মতোই অক্ষয় হয়ে থাকবে এই জনজাগরণের অনুঘটকদের নাম। ধন্যবাদ প্রফেসর ভদ্র, ভাগ্যিস আপনি বলেছিলেন, মাথায় ছাদ ভেঙে পড়লে স্ট্রেচারে করে ইমার্জেন্সিতে যাবে, নতুন হস্টেল নিয়ে কী হবে? তারপর পুলিশ ডেকে ছাত্রদের পিটিয়ে সত্যি সত্যি ইমার্জেন্সিতে পাঠিয়েছিলেন ভাগ্যিস। নইলে সাধারণ মানুষ কি এভাবে এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরতেন হবু ডাক্তারদের হাত?

মেডিক্যাল কলেজের এই আন্দোলন তাই শুধুমাত্র ছাত্রদের বা চিকিৎসকদের আন্দোলন নয়, শুধুমাত্র একটি কলেজের প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন নয়, কোনও সরকারকে গদিচ্যুত করার আন্দোলন নয়, বরং এসবের চেয়ে অনেক বড় এক লং মার্চের সূচনা। দাবি মেনে নেওয়া, ছাত্রদের জয়, অনশন ভঙ্গ, ইত্যাদিতে তাই শেষ হচ্ছে না আমাদের দায়িত্ব, আমাদের পথ চলা, বরং শুরু হচ্ছে এখান থেকে। এই হাত ধরাধরিকে সাময়িক হ্যান্ডশেকের মতো ফুরিয়ে যেতে দেওয়া চলবে না, একে মজবুত এবং স্থায়ী করতে হবে। বিষবাষ্পের নেশা কাটিয়ে সংকটের মুহূর্তে সাধারণ মানুষ এগিয়েছেন চিকিৎসকদের দিকে, এবার চিকিৎসকদেরও এগোতে হবে মানুষের দিকে। যে নতুন ধরনের পারস্পরিক আদান-প্রদানের সূচনা হল, তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বহু যোজন।

স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার কাজটা সহজ নয়। সূচনামাত্র হয়েছে। সকলকে পাশে পাওয়া গেছে, তাও নয়। মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও অনেকেই অনাহারী বন্ধুদের অগ্রাহ্য করে, পাশ কাটিয়ে ক্লাসে গিয়েছেন নিয়মিত। অবশ্যই তাঁরা বিদ্যার্জন করেছেন এই কদিনে, সেই অর্জিত বিদ্যা তাঁদের টেকনিকাল দক্ষতা এবং বিক্রয়যোগ্যতা বাড়াবে আশা করি, কিন্তু কখনওই তাঁদের নর্মান বেথুন বা অগ্নীশ্বর করে তুলবে না। এর জন্য সেই ছাত্রদের উপর রাগ করার কিছু নেই, তাঁরা কোনও অন্যায় করেননি, ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপঃ করছিলেন। ছোটবেলা থেকে গুরুজনেরা যা শিখিয়েছেন, তাই করছিলেন এঁরা, কিন্তু সংবেদনশীলতার পাঠ লাভ করতে তাঁদের যেতে হবে অন্য এক পাঠশালায়, যার ঠিকানা এখনও তাঁদের কেউ বলে দেয়নি। চিকিৎসকেরা সকলেই রাতারাতি দেবদূত হয়ে যাবেন না। একথা সত্যি যে এখনও বেশিরভাগ চিকিৎসকই রোগীকে সুস্থ দেখতে চান, এমনকি সবচেয়ে রোজগারমুখী চিকিৎসকও, কিন্তু রোগীর স্বার্থকে নিজের স্বার্থের ওপর স্থান দেওয়া খুব সহজ কাজ নয়। সবার কাছে তা আশা করাও অন্যায়। শিক্ষক, চিকিৎসক সকলেই সমাজের অংশ, সমাজের ফসল। একবিংশ শতকের ধনতান্ত্রিক বাস্তবে কোনও শিবি রাজা নিজের মাংস কেটে প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন না, চিকিৎসকদেরও তা করতে বলা বোকামি। সব চিকিৎসক পুণ্যব্রত গুণ বা বিনায়ক সেন হবেন না। হতেই বা হবে কেন? সকলেই অথবা বেশিরভাগই যদি বেশ খানিকটা মানবিক এবং সংবেদনশীল হন, তবে কাউকেই আর সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী হতে হয় না।

শুধুমাত্র চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সততা আর সংবেদনশীলতার ঘাটতিতেই জনস্বাস্থ্য আটকে আছে আর সেটুকু মেরামত হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে, তা কিন্তু নয়। সকলের জন্য স্বাস্থ্যের স্বপ্নকে সাকার করতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি প্রয়োজন। অবশ্যই প্রশিক্ষিত কর্মী হিসেবে চিকিৎসকদের এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। তাঁদের মধ্যেই তো কেউ কারিগর, কেউ বিজ্ঞানী, কেউ শিক্ষক, কেউ সমাজকর্মী, কেউ অর্থনীতিবিদ আর সকলেই নাগরিক। তাঁরাও যদি সংবেদনশীল, সচেতন এবং সহযোগী হন, যোগ দেন এই সামগ্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক (inclusive) উন্নয়নের যজ্ঞে, তবে সুদিন আসবেই। এই কাজটিও সহজ নয়। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সাধারণ মানুষ যখন সাহায্যে এগিয়ে আসছেন, তখন নির্দিষ্ট স্বার্থে অন্ধ কিছু মানুষ অনশনকারী তরুণদের বিদ্রূপ করেছেন, এমনকি তাঁদের মৃত্যু কামনাও করেছেন প্রকাশ্যে। পাঠক হয়ত ভাববেন, এঁদের পরাজিত করে এগিয়ে যেতে হবে, কিন্তু চিকিৎসকেরা তো কাউকে বর্জন করতে পারেন না, তাই আমরা স্বপ্ন দেখি এইসব পথভ্রষ্ট মানুষেরাও একদিন মনুষ্যত্বে ফিরে আসবেন। সব মানুষের জন্য প্রকৃত উন্নয়ন হলে, তার আওতা থেকে তো এঁরাও বাদ যাবেন না। সকলের জন্য স্বাস্থ্য বাস্তবায়িত হলে, এঁদের মুখেও হাসি ফুটবে। এই পরিবর্তন বাস্তবে অতি কঠিন… প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার চেয়ে, সরকার পরিবর্তন করার চেয়ে মানুষ পরিবর্তন করা ঢের কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।

অসম্ভব নয়, এই বিশ্বাস নিয়েই এগোতে হবে। সেই বিশ্বাস নিয়ে হাঁটছিল ২৪শে জুলাইয়ের মহামিছিল। বামপন্থীদের একটি প্রিয় স্লোগান বহুবার শুনেছি, “দিকে দিকে কমরেড, গড়ে তোলো ব্যারিকেড।” এই মিছিলে শুনলাম নতুন স্লোগান, “ডাক্তার-রোগী কমরেড, গড়ে তোলো ব্যারিকেড।” ঠিক এটাই। চিকিৎসক আর রোগীর মহাজোট কোনও রাজনৈতিক দল বা সরকারকে হারিয়ে দেবার জন্য নয়, এই মানববন্ধন, এই ব্যারিকেড মৃত্যুকে প্রতিহত করার জন্য, মনুষ্যত্বকে বাঁচানোর জন্য।

আসলে এই লড়াই শুধু মানুষকে বাঁচানোর লড়াই নয়, মনুষ্যত্বকে বাঁচানোর লড়াই, মনুষ্যত্বহীনতার হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচানোর লড়াই। চিকিৎসক আর রোগীর মধ্যে থেকে শত্রুতা বা antagonism মুছে দেবার চেষ্টা দিয়ে যে সংগ্রামের শুরু, হয়ত একদিন সেই পথ বেয়েই আমরা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারব সবরকম ঘৃণাকে, হত্যাকে, যুদ্ধকে। হয়ত পৌঁছতে পারব সেই সুদিনে, যখন মানুষের সাথে মানুষের সকল দ্বন্দ্ব বৈরিতাবিহীন (non-antagonistic contradiction) হয়ে উঠবে। যেদিন মানুষ আর মানুষের মৃত্যু কামনা করবে না, বদলে মৃত্যুপথযাত্রীর চারপাশে গড়ে তুলবে ভালোবাসার ব্যারিকেড।

রাত যখন সবচেয়ে অন্ধকার মনে হয়, তখন চোখ তুলে চাইতে হয় পূর্বদিকে। সেখানে হয়ত জমা হচ্ছে বিন্দু বিন্দু রক্তিমাভা। এই ব্রাহ্মমুহূর্তে যদি আমরা জেগে উঠতে পারি, তাহলে ভোরের প্রথম আলোয় উদ্ভাসিত হবে আমাদের সকলের মুখ, এমনকি আমাদের ঘুমন্ত সাথীদেরও।