Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

রেফিউজি লাইন : ২

মৃণাল চক্রবর্তী

 

১৯৭১ সালে আমার বয়েস তখনও নয় ছোঁয়নি, ওরা এল। আসছিল অনেক দিন ধরেই। বড়রা কথা বলত ওদের ব্যাপারে অভিভাবকের সুরে, আমরা না দেখলে কে দেখবে? দাদা একবার বাড়ি ফিরে বলেছিল, শেয়ালদা স্টেশনে রেললাইনেও লোক বসে আছে। পূর্ব পাকিস্তানের মিলিটারির অত্যাচার নিয়ে গল্প শুনতাম। বীররসের প্রাবল্য নিয়ে যেভাবে হুমদো লোকেরা অত্যাচারীদের ওপর কী করা উচিত সেই নিদান দিত, আর বাড়ির মেয়েরা যেভাবে কটাক্ষ আর কপট শাসানি দিয়ে সেই পুরুষদের আস্কারা দিত, এই দৃশ্য বাড়িতে বাড়িতে দেখতাম। এরা সব উত্তর কলকাতার মানুষ-মানুষী। আমরা জাতে বাঙাল হলেও বহু পুরুষ উত্তরে থেকে নিও-ঘটি হিসেবে গৃহীত হয়েছিলাম। মাঝে মধ্যে আমাদেরও ঠেস দিয়ে বলত, তোদের দ্যাসের লোক! আমরা না থাকলে কী হত বুয়েচিস? রেডিওতে শুধু যুদ্ধের খবর, গান : জ-য় বাংলার বাংলার জয়, হবে হবে হবে, আবার যুদ্ধের খবর, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রশ্রয়মেশানো হাসির উদ্গার, আর ভারত সরকার, মানে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর দিন-নেই-রাত-নেই-ঘুম-নেই-খিদে-ছিঃ প্রতিবেশীপ্রেম নিয়ে দিনরাত বাসে-ট্রামে (তখন দেদার ট্রাম চলত) যে-ভলিউমে আবেগ ঝরে পড়ত তাতে আমরা প্রভাবিত হতাম। আমরা ভাবতাম, আমাদেরই মা-বাবা-ভাই-বোন লড়ে যাচ্ছে আমাদেরই তো এক্সটেনডেড দেশে, তাই আমরাও ওদের ভালোবাসব, আদর করে বুকে টেনে নেব। চোখ ছলোছল করে উঠত ঘরদোর হারানো, আরশোলার মতো তাড়া খাওয়া মানুষগুলোর কথা ভেবে। কিন্তু তখনও ওরা আসেনি।

প্রথম ওদের দেখলাম বেলগাছিয়া পার্কে। সিমেন্টের কয়েকটা পাইপ ছিল এদিক-ওদিক ছড়িয়ে। তার মধ্যে বেঁচে থাকার দ্বিতীয় খেলা শুরু হল। পুরুষ-মহিলা-বাচ্চা-বুড়োবুড়ি, সবাই পাইপের মধ্যে, দশ-ফুট-বাই-দশ-ফুটের চেয়ে অনেক ছোট গোলগোল জায়গায় নতুন সংসার শুরু করল ওরা। এক শীতের সকালে কাকুর সঙ্গে বাজার থেকে ফেরার পথে ওরকমই এক পাইপের পাশে একটা নীল রঙের মানুষের বাচ্চা পড়েছিল। প্রথমে আমি খেলনা ভেবেছিলাম, কিন্তু কাকুর কিটকিটে উত্তরে এবং সোজা সামনে চলার কমান্ডে এগিয়ে চললাম। তখন কিছু বুঝিনি। আজ ভাবি, আমার কাকুই ওই লাশটার বাবা ছিল না তো? কোনও না কোনও কাকু-মামা-দাদা নিশ্চয়ই ছিল আবডালে। কাকিমা-মামি-বৌদিকে দেখিনি। ওদের গোপালের মা, লতিকা, কুসুম নামে আমাদের বাড়িগুলোতে কাজ করতে দেখেছি। তখন বুঝিনি, পরে বুঝেছি, এবার বড় মজা হয়েছে ঝিয়ের বাজারে। শস্তায় বেশি কাজ। বিশ্বকবির সোনার বাংলা নজরুলের বাংলাদেশ… আবার গান। রেডিও চলাকালীন মেঝে চেঁছে ময়লা তোলা ওই ‘মেয়েছেলে’দের দেখেছি। বাড়ির মহিলাদের নজরদারি দেখেছি তাদের ওপর। পুরুষরা যে দু’দলের মহিলাদেরই মাগি বা মেয়েছেলে বলে, শুনেছি। বাড়ির হোক, বা পাইপের। নারীরা তখনও অর্ধেক আকাশ জুড়ে ছিল, তবে অন্য দুই নামে। মাগি আর মেয়েছেলে।

এখানে মনে করিয়ে দেওয়া ভালো, এ-লেখা উদ্বাস্তুদের দেশ ছাড়া এবং এদেশে পৌঁছনোর গল্প নিয়ে নয়, এখানে বেড়ে ওঠা নিয়ে। তাই, রেফিউজি লাইন : ২।

ধীরে ধীরে ওরা আমাদের পাড়ায় ঢোকে। যাদের হাতে কিছু টাকা সীমান্তদালালকে দিয়ে, পাইপদালালের হাত এড়িয়ে, রয়ে গিয়েছিল, ওরা ভাড়াটে হয় পাড়ায় পাড়ায়, পাশের বাড়িতে, পাশের ঘরে, মানে পাশের পাইপে। এভাবেই কুট্টি আমাদের পাড়ায় আসে। পায়ে শুকিয়ে-যাওয়া পাঁচড়ার দাগ, কুঁচকিতে দাদ জ্বালায় তখনও, এমন চুলকোয় মনে হয় দু’পায়ের মাঝখানে যা আছে সব ছিঁড়ে তুলে আনবে। তাইলে বলে, ইসে বলে। বই প’ড়ে শান্তিপুরি বাংলা শেখা আমারই বয়েসি কুট্টি দিশেহারা হয়ে যায় স্মার্ট ঘটিজনতার ঠাট্টায়। তাদের বাংলা শ-এর বদলে ইংরেজি এস উচ্চারণে। তারপর, পেছনে চিমটি খেয়ে, বিচিতে টিপুনি খেয়ে, কিছু দরাজ পরিত্রাতার প্রশ্রয়ে কুট্টি বড় হতে থাকে। সে-ও একদিন চিৎকার করে ওঠে কাউকে নিয়ে, সালা সুয়ারের বাচ্চা! এভাবে কুট্টি সমাজে গৃহীত হয়। বাঙালু সাক খালু পয়সা দিলু না এই বিদ্রূপ করতে শেখে তারও পরে আসা বাঙালদের নিয়ে। রেডিওতে তখনও গান বাজে, সাড়ে সাত কোটি মানুষের আদেশ পেলাম (কোরাসে : মুজিবর মুজিবর)। পাইপে থাকার চেয়ে অনেক ভালো একটা দশ-ফুট-বাই-দশ-ফুট ঘরে বিছানা-নেওয়া ঠাকুদ্দা, মা, ছ’বছরের বড় দাদা, এক দিদি আর দুটো ভাগনে নিয়ে থাকা। বাবার হদিশ নেই। বড়রা জানে, বেঁচে নেই। ও জানে না। বাবা আইব বলে পরক্ষণেই ভুল ঠিক করে নেয়, আসবে।

কুট্টির ছোড়দা খুব পয়মন্ত। তার যাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হল তারা বড়লোক। বাঙাল-ঘটি নির্বিশেষে। সে বেলবটস পরে দেব আনন্দের মতো হাঁটত। এক হাতে হালকা করে চুল সরিয়ে নিত কপাল থেকে। বড় ভাইয়ের পাঠানো সংসার খরচের টাকা তার হাতেই আসত। চোদ্দ বছরেই তাকে মায়ের সঙ্গে কথা বলে মাসের বাজার, অন্যান্য খরচ চালাতে হত। এই ফাঁকে নিজেও ফুর্তি করে নিত। পূর্ব পাকিস্তানের স্কুলে সে ক্লাস এইটে ফার্স্ট হয়ে উঠত। কলকাতায় এসে পড়াশোনার মাথাটা বিগড়ে গিয়েছিল।

তবু ওদের বাড়িতে টাকা আসত। সেই টাকা পাঠানোর মানুষ দিল্লিবাসী দাদাও আসত মাঝে-মধ্যে। কুট্টির সুন্দরী যুবতী দিদি এখানে-ওখানে ঘুরে জামাইবাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছিল। সে বাইরে বেরোলে ছেলেরা আওয়াজ দিত, পুরুষেরা ফিকির করত কাছে ঘেঁষার। কুট্টির দিদিকে দেখে পুরুষদের মনে কী জাগে, আমাকে সেটা শিখিয়েছিল গুরুপদ। ও তিন-চার ক্লাস ফেল করে আমার সঙ্গে ফোর-এই পড়ত। তখনও প্রকাশ্যে রক থেকে আওয়াজ দেওয়া হত মেয়েদের। কিন্তু রেফিউজি মেয়েদের আওয়াজ দেওয়া ছিল কন্ডোমের মতো নিরাপদ এবং সমাজ-স্বীকৃত। তা তারা পাইপের ভেতরে থাকুক, আর বাইরে।

তবু টাকার জোগানদার থাকায় কুট্টিরা চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ওদের ঠিক পাশের বাড়ির রেফিউজি দুই বোনের ‘জামাই’ ছিল পাড়ার দোকানদার মদনকাকু। রাতে নিশিপদ্মের ধুতি-পাঞ্জাবি পরে পঞ্চাশোর্ধ্ব মদন ওই দুই বোনের সঙ্গে মদ-টদ খেয়ে আনন্দ করত। আশপাশের বারান্দা থেকে বৌরা-মাসিরা সব অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকত ওই বাড়ির দিকে। নিজেদের মধ্যে ফিচফিচ হাসত, এ-বারান্দা থেকে মজার হাসি ছুটে যেত অন্য বারান্দায়। তখন মদন ওদেরই মতো বা ওদের মেয়েদের মতো একজোড়া মেয়ের জামাই। তবে মেয়েগুলো উদ্বাস্তু।

রিস্ক-ফ্রি, কম খরচ। গুরুপদ সব শিখিয়েছিল। সে লুকিয়ে মা-দিদিদের গল্প শুনত। আমার ন-দশ বছরের যৌন কৌতূহল চটকে দিয়েছিল গুরুপদ। এক প্রকট গদগদে কুটিল কামের গল্প শুনিয়ে আমাকে মজবুত এবং ভবিষ্যতে রক-এ বসার যোগ্য পুরুষ বানিয়েছিল। বেশিরভাগ গল্প অবশ্য রেফিউজি মেয়েদের নিয়ে। সংখ্যায় অনেক বেশি তো। টালাপার্কে সন্ধেবেলা বসতে যেত অনেকে। ছোট প্রেম, অল্প টাকা। যাদের সুবিধেমত শোবার জায়গা নেই, তাদের সুবিধেজনক টুনটুনিতীর্থ।

আমি এ-কথা বিশ্বাস করতে চাই যে, গোটা উত্তর কলকাতার সংখ্যাগুরু মানুষ এমন ছিল না। নিশ্চয়ই তাদের লজ্জা করত প্রতিবেশীদের অ্যাটিটিউড দেখে। নিশ্চয়ই তারা ছেলেমেয়েদের অন্যরকম করে ভাবতে শেখাত। তবে আমি শ্যামবাজার অঞ্চলেও একই গল্প শুনেছি। তা ছাড়া সংখ্যাগুরু কোনও শেষ কথা নয়, মাত্র একুশ শতাংশ মানুষও যদি আমি দেখে থাকি মদনের মতো, বা আশপাশের বাড়ির ইচ্ছুক কিন্তু ভিতু মদনের মতো, তা হলে সেটাই একটা মানক হয়ে উঠতে পারে। সোজাসুজি বলে দেওয়া যেতে পারে যে, এপার বাংলার মানুষদের রেফিউজি নিয়ে ‘ভাই রে, বুকে আয় রে’ মনোভাব আছোলা ঢপ। ওখানে বরং দুর্বলের প্রতি ফিউডাল সবলের ভালোবাসার ঢ্যামনামো ঘোর বিদ্যমান।

র‍্যাশন দোকানে, বাজারে, জিনিসের দাম বাড়ায় প্রথম টার্গেট ছিল ‘এই বাঙালগুলো’। দুর্দান্ত কালোবাজারি হত তখন, দায়ী বাঙালেরা। একথা নিশ্চয়ই সত্যি যে, উদ্বাস্তুরা আসার ফলে আমাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছিল, কিন্তু ত্রাণের টাকা কোথায় যেত? কালোবাজারি হত কী করে? এসব পরেও আমায় কেউ বোঝানোর চেষ্টা করেনি। যেসব মেয়ে-বৌরা আমাদের বাড়ি খুব অল্প টাকায় কাজ করত, তারা কি এই কালোবাজারি বানিয়েছিল? আমার ধারণা, রেফিউজিরা ছিল পরম অপর, দি ইটার্নাল আদার। এসব সময় এমনকী ধর্ম নিয়ে যারা জিকির তোলে, তারাও চুপ করে যায়। বেশিরভাগ উদ্বাস্তু তো হিন্দুই ছিল, কী হল তাতে? এর মানে হল, হিন্দু-মুসলমান বিতর্কে ধর্ম প্রথমে আসে না। সুবিধেজনক ধান্দামূলক বস্তুবাদ তত্ত্ব দিয়ে গোটা ব্যাপারটাকে দেখতে হবে।

কুট্টি তখন খুব বখে যাচ্ছিল। আগে আমার কাছ থেকে অনেক বই নিত। হেমেন্দ্রকুমার রায়, নীহাররঞ্জন গুপ্ত, স্বপনকুমার, বেতাল, ম্যানড্রেক — সব গপাগপ খেয়ে নিত। উল্টোদিকের বাড়ির টুটুলের কাছ থেকে প্রহেলিকা সিরিজ, কাঞ্চনজঙ্ঘা সিরিজ — ধরে ধরে গিলত। পরে আর দেখাই হত না ওর সঙ্গে। এর মধ্যে ওর জামাইবাবু এসে নিয়ে গেছে দিদি আর বাচ্চা দুটোকে। বুড়ো দাদু মরে গেছে। একদিন খবর পাওয়া গেল, ওর বাবার মরে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কোথা থেকে যেন ওরা পুজো-টুজো করে এল। ন্যাড়া মাথা নিয়ে কুট্টি আর ওর দাদাকে আমি এদিক-সেদিক যেতে দেখেছি।

কুট্টির বন্ধুদের আমি অনেকবার দেখেছিলাম। বয়েসে অনেক বড়। দেখলে ভয়-ভয় করত। ওদের সঙ্গে স্কুল কেটে সিনেমা দেখত কুট্টি, আর কী করত আমি জানি না। তবে ওর সঙ্গে সবাই মিশতে বারণ করত। তের বছর বয়েসেও খেয়াল করিনি, কিন্তু আজ মনে পড়ে, কুট্টির মতো কেউ আমাদের বাড়িতে কখনও ঢোকেনি। বাইরে থেকে বই নিয়ে চলে যেত। আমিও ভেতরে ডাকিনি, আমরা কেউ ডাকিনি, কে জানে কেন?

তবে বখে যাওয়ার পরে কুট্টি অন্যান্য অনেক বাড়িতে ঢোকার আমন্ত্রণ পেয়েছিল। একটু দূরে মোড়ের মাথার বাড়িতে আমাদের শুমিত আর ওর সুমিতের সঙ্গে আড্ডা মারত ওরা ক’জন। তাদের আমরা দাদা বলে ডাকতাম। কবে যেন একদিন ওরা চলে গেল। যেভাবেই হোক, ও, পরিমল, মাধব-গলির এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছড়িয়ে-থাকা বাঙালেরা, কবে যেন সবাই চলে গেল।

এর বছর দশেক পরে বাবা ঠিক করল যে, উত্তর কলকাতা ছেড়ে দক্ষিণে যাবে। পুরনো বাড়ি বিক্রি করে আমরা চলে এলাম যাদবপুরে। সুপুরি নারকোল গাছ নিয়ে দোতলা একটা দারুণ বাড়ি। চারপাশে রেফিউজি কলোনি। বেশিরভাগ মানুষই ১৯৪৮-৪৯-এ চলে এসেছিল। মোটামুটি সচ্ছল মানুষ। বাড়িগুলোতে অনেক বাঙাল নিয়ম-কানুন চলত। ভাষাও অনেকে সেই যে সঙ্গে নিয়ে এসেছিল, আর ছাড়েনি। অফিসে টুপটুপে কত্তারাও বাড়ি ফিরে লুঙ্গি পরে ‘কী হইসে? কই যাস? ক্যান?’ বলে দ্যাশের গল্প করতেন, যেমন করত চারপাশের কলোনিতে ৭১-এ আসা নতুন উদ্বাস্তুরা। তারা তখনও লড়ছে। কিন্তু অনেক প্রশ্রয়ে, অনেক সহমর্মিতার মধ্যে। অনেকে ভুলেই গেছে কে আগে কে পরে এসেছে। টাকার তফাত আছে পুরনোর সঙ্গে নতুনের, কিন্তু মাছ ক্রেতা আর বিক্রেতা দুজনেই নিজের জায়গায় কঠিন বসে আছে। ঠাট্টা-ইয়ার্কিও চলে শ্রেণিচেতনাকে টুসকি দিয়ে।

তখন আমি খুব দামি, কেজো মানুষ। জবরদস্ত জীবন। কোম্পানির গাড়িতে অফিসে যাই, অফিস থেকে ফিরি। এর কদিন পরেই বিয়ে করব ইংরেজি সাহিত্য পড়া কোনও মেয়েকে। বা প্রেম করে বিয়ে করব তাকে। কুট্টির কোনও খবর নেই।

কোথাও নেই। অফিস যাওয়া আর সেখান থেকে ফেরার পথে আমার মাঝে মধ্যে দুর্দান্ত বাঙাল পাড়া পেরিয়ে যেতে যেতে, বা ওখানে ফিরে আসতে আসতে, চট করে মনে পড়ে, কুট্টিরা প্রথমে দক্ষিণে এলে কি বেশি ভাল থাকত? জাত-ধর্ম সব ছাড়িয়ে কে বেঁচে থাকে? শুধু ভাষা? নাকি, শুধুই আমার বাঙালপনা?