Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

শিক্ষাঙ্গনে কি সুরক্ষিত শিশু?

শতাব্দী দাশ

 

হরিয়ানায় সিবিএসই বোর্ডের কৃতি ছাত্রী ধর্ষিত হওয়ার খবরটি সম্প্রতি আলোড়ন ফেলেছে। কিন্তু ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের থেকেও ন্যক্কারজনক, মনে হয়, শিক্ষাঙ্গনেই ছাত্রী-ধর্ষণ। পাটনার একটি বেসরকারি স্কুলের ঘটনা তাই ত্রাস সৃষ্টি করেছে চলতি সপ্তাহে। স্কুল ক্যাম্পাসে শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের দ্বারা ‘ইম্প্রপার টাচ’-এর নজির আমরা প্রায়শ দেখি। কিন্তু পাটনার ওই স্কুলের অধ্যক্ষ ও এক শিক্ষক গত বুধবার গ্রেপ্তার হয়েছেন সরাসরি একাধিকবার নিষ্ঠুর ধর্ষণের অভিযোগে। ফুলওয়ারিশরিফ পুলিশ স্টেশনে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন ১২ বছরের এক কিশোরীর বাবা-মা৷ মেয়েটি ওই স্কুলেরই ছাত্রী। মেয়েটি ওই অধ্যক্ষ ও শিক্ষকের দ্বারা বহুবার ধর্ষিত এবং বর্তমানে তিন সপ্তাহের গর্ভবতী বলে অভিযোগ।

কিশোরীকে বাবা-মা ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গেছিল তলপেটে ব্যথা হওয়ায়। মেয়েটি যৌন লালসার শিকার হয়ে অন্তঃসত্তা, তা বুঝতে ডাক্তারকে বেগ পেতে হয়নি।

ফুলওয়ারিশরিফের এসএইচও মহম্মদ কাইজার আলম জানিয়েছেন, Protection of Children from Sexual Offences Act-এ গ্রেপ্তার হয়েছে ওই দুজন। নির্যাতিত জানিয়েছে, প্রায় একমাস আগে সে প্রথমবার ধর্ষিত হয় অধ্যক্ষর দ্বারা৷ ভয়ে কাউকে জানাতে পারেনি সে। কিন্তু কিছুদিন পর দ্বিতীয় অভিযুক্ত, অর্থাৎ গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষকমহাশয়, কোনওভাবে ঘটনার কথা জেনে যায়। ছাত্রীটিকে রক্ষা করার পরিবর্তে সে-ও যৌন নির্যাতন শুরু করে। ক্রমশ প্রিন্সিপাল ও শিক্ষকের মধ্যে গড়ে ওঠে আঁতাত। পালা করে ধর্ষণ করা হতে থাকে৷ কখনও শিক্ষক কোনও অজুহাতে মেয়েটিকে পাঠাত অধ্যক্ষের ঘরে। কখনও ঘটত উল্টোটা। ঘটনার এইসব বিবরণ নথিভুক্ত হয়েছে কিছুটা নির্যাতিতর বর্ণনা অনুযায়ী, কিছুটা অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি অনুসারে। অর্থাৎ অধ্যক্ষ ও শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করেছে। অন্য কোনও ছাত্রছাত্রী এই ব্যক্তিদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে কিনা অতীতে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাটনাতেই কয়েক মাস আগে স্কুল প্রাঙ্গনে গণধর্ষণের আরেক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেটি আরও মর্মান্তিক। জুলাই মাস নাগাদ সারানে আরেকটি বেসরকারি স্কুলের অধ্যক্ষ, এক শিক্ষক ও দুই ছাত্র ধরা পড়েছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত চার্জশিটে নাম ছিল আঠারোজনের। অধ্যক্ষ ও দুই শিক্ষক বাদে বাকি পনের জনই ছাত্র। দশম শ্রেণির এক বালিকাকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ক্রমাগত এদের মধ্যে বিভিন্নজন ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেল করেছে-এমন অভিযোগ উঠেছিল। মেয়েটির বাবার শহরে না থাকার সুযোগে মেয়েটিকে বিপদে ফেলা হয় বারংবার৷ বাবা ফিরলে মেয়েটি সব খুলে বলে। বাবা এরপরও পুলিশে না গিয়ে তখন স্কুলেই খোঁজ নিতে যান। তিনি খোঁজ নিয়ে ফিরে এলে ছাত্র ও শিক্ষকদের দ্বারা আক্রান্ত হয় মেয়েটি। কোনওমতে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে এসে মেয়েটি অভিযোগ দায়ের করে একমা পুলিশ স্টেশনে। একমা-র এসএইচও অনুজ কুমার সিং ছাপরার নারী পুলিস স্টেশনে পাঠায় মেয়েটিকে। সেখান থেকেই তদন্ত শুরু করা হয়। মেয়েটি জানায়, প্রথমবার সে ধর্ষিত হয় স্কুলের টয়লেটে, পাঁচ ছাত্রের দ্বারা। ক্রমে তার যৌন নির্যাতকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। প্রিন্সিপালের ছেলেও ব্ল্যাকমেইল করে যৌন নির্যাতন চালাত অন্যদের সঙ্গে। এরপর মেয়েটি প্রিন্সিপালের কাছে অভিযোগ জানায়। অধ্যক্ষ বলেন, পুলিশে জানালে স্কুল ও তাঁর পরিবার কলঙ্কিত হবে৷ তাই মেয়েটি যেন চুপ থাকে। তারপর? তিনিও তাকে ধর্ষণই করেন।

দুটি ঘটনা। বিহ্বলতা কাটিয়ে বিশ্লেষণাত্মক যদি হওয়া যায়, তবে কিছু সাধারণ উপলব্ধিতে পৌঁছনো যায়।

  1. স্কুল বাচ্চাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বাড়ি বা পরিবারও তা নয়।
  2. শিক্ষকরাও সকলে শিশুর জন্য নিরাপদ নন। এতেও মনে হয় আর অবাক হওয়ার কিছু নেই। বাবা-কাকার দ্বারাও ধর্ষণ আকছার ঘটে।
  3. যৌনসুরক্ষা বিষয়ক শিক্ষাদানের একটা ভেন্যু হিসেবে স্কুলকেই ব্যবহার করা হয়। যৌন অত্যাচার নিয়ে আলোচনা বা ভিডিও দেখানোর জন্য স্কুলকে আদর্শ পরিসর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ এইসব শিক্ষার ভার যাদের উপরে, তাদের অনেকের মধ্যেই যৌন-বিকৃতি মজ্জাগত। তারা ছাত্রছাত্রীদেরই অবজেক্টিফাই করে, যৌনবস্তু ভাবে।
  4. প্রাইভেট স্কুলগুলির অবস্থা বোধ করি আরও বেশি আশঙ্কাজনক। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই স্কুলগুলির মালিকেরা যত্নবান নন। বেসরকারি স্কুল এদের কাছে ব্যবসা-বিশেষ। কম পারিশ্রমিকে শিক্ষক/শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করার সময় এরা যে তাদের নৈতিক উৎকর্ষ দেখার প্রয়োজন মনে করবেন না, শিশুর প্রতি তাদের মনোভাব, শিক্ষকতার পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা ইত্যাদি খতিয়ে দেখবেন না — এটাই স্বাভাবিক।
  5. এই শিক্ষকদের হাতে তৈরি ছাত্ররাও যে সহপাঠিনীকে ভোগ্যবস্তুই ভাবতে শিখবে, তা বলাই বাহুল্য। কৈশোর পেরোনোর আগেই তাই তারা ধর্ষক হয়ে উঠছে। নির্ভয়া-কাণ্ডে অভিযুক্ত বালকটির কথা মনে করিয়ে দেয় এরা। তার ফাঁসি হয়নি, লঘুদণ্ড হয়েছিল বয়সের কারণে। অথচ সে ছেলে আক্ষেপ করে বলেছিল, যৌনাঙ্গে রড ঢোকানোর বুদ্ধি যে তারই মস্তিষ্কজাত, তা সকলে ভুলে গেল। যেন বলতে চেয়েছিল ‘ডিউ ক্রেডিট’ পেল না সে।
  6. লক্ষণীয়, দুটি ক্ষেত্রেই একবার ধর্ষণের কথা জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর ধর্ষিতা বহুবার ধর্ষিতা হচ্ছে। এই সূত্রে আবারও মনে পড়ল, গতবছরের খবরে প্রকাশ, ক্যান্সার আক্রান্ত এক তরুণী ধর্ষিতা হওয়ার পর পথে এক প্রতিবেশীর দেখা পায়। তার সাহায্য চায়, বাড়ি পৌঁছে দিতে বলে। প্রতিবেশী তখন আবার ধর্ষণ করে মেয়েটিকে। অর্থাৎ ভারতীয় ধর্ষণ-সংস্কৃতিতে একটি মেয়ে একবার ধর্ষিত হলে সে নষ্ট, পতিত৷ নষ্ট শরীরকে আরেকবার, তারপর আরও একবার, বারবার নির্যাতন করা এমনকি প্রথম ধর্ষণের সমতুল্য অন্যায়ও নয় সাধারণ জনমানসে।

*********

National Study on Child Abuse (2007) নামক সমীক্ষাটির ব্যাপ্তি ও গভীরতা উল্লেখযোগ্য। ১৩টি রাজ্যের ১২৪৪৭ জন শিশু-কিশোর ও ২৩২৪ জন তরুণ-তরুণীকই আওতাভুক্ত করেছিল এটি। জানা গেছিল, স্কুলে-না-যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৫৩.১৮%, স্কুলের শিশুদের মধ্যে ৪৯.৯২%, শ্রমিকশিশুদের মধ্যে ৬১.৬১%, পথশিশুদের ৫৪.৫১% যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। ২০.৯০% ক্ষেত্রে এই নির্যাতন ধর্ষণ বা সমতুল্য মাত্রার। ৫০% ক্ষেত্রে পরিচিত ব্যক্তির দ্বারা শিশু-কিশোর নির্যাতিত হয়।

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস বুরোর ২০১৭ সালের তথ্য অনুসারে, ভারতে ঘণ্টায় চারজন করে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। অর্থাৎ, প্রতি পনেরো মিনিটে একটি শৈশব হত্যা। আবার ২০০৬ সালের তামিলনাড়ুর এক এনজিও-র সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি দুজনে একটি শিশু নাকি কোনও না কোনওভাবে অযাচিত যৌনতায় জড়িয়ে পড়ে। প্রতি পাঁচজনে একজনের ক্ষেত্রে সেই নির্যাতন চরম পর্যায়ের হয়। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস বুরো আরও বলছে — ভারতে শিশুর যৌন নির্যাতনের হার বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক। ২০১৬ সালে রেকর্ডেড কেসের সংখ্যা ১০৬৯৫৮। তার মধ্যে পক্সোয় অভিযুক্ত হয়েছে ৩৬,০২২টি কেসের অভিযুক্তরা।

আমরা যেহেতু শিক্ষাঙ্গনে বা শিক্ষক কর্তৃক নির্যাতনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি এই আলোচনায়,  তাই আরও কিছু কথা মনে রাখা প্রয়োজন।

  1. গৃহশিক্ষকের দ্বারা যৌন নির্যাতনও বাস্তবে অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা৷ সুতরাং গৃহশিক্ষকের হাতে নিঃশর্তে শিশুকে সমর্পণ না করে নজরে রাখুন তাদের আদান-প্রদান।
  2. শিশু স্কুলে বা গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে যেতে অনীহা দেখালে গুরুত্ব দিয়ে তার কথা শুনুন। পড়াশুনোয় ফাঁকি মারার থেকে গূঢ় কোনও কারণ থাকলেও থাকতে পারে।
  3. শিক্ষিকা, গৃহশিক্ষিকা, মহিলা পরিচারিকা প্রভৃতির সাথে একটি বাচ্চা ছেলে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। নিরাপদ নয় ছেলেরাও। প্রতি ছয় জনে একজন ছেলেও নির্যাতনের শিকার। বাচ্চা ছেলেদের নির্যাতন অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের দ্বারাই হয়। কিন্তু মহিলারাও নির্যাতকের ভূমিকায় থাকতে পারেন। চণ্ডীগড়ে সম্প্রতি ১৫ বছরের বালক স্কুলশিক্ষিকার দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে। গৃহশিক্ষিকার দ্বারা নির্যাতনের ঘটনাও বিরল নয়। আমেরিকার হস্টনে আলেকজান্দ্রিয়া ভেরার ঘটনাটি তো সুবিদিত।

**********

পক্সো আইন অবশ্যই শিশু-কিশোরদের উপর যৌন অত্যাচার ঠেকাতে একটি বড় পদক্ষেপ। কিন্তু এই আইন শাস্তি দিতে পারছে ক’জনকে? রিপোর্টেড হচ্ছে ক’জন? ধরা পড়ছে কজন? অথবা, শুধু শাস্তিবিধানেই কি স্বস্তি মিলবে?

শিশুকামীদের প্রতি সমাজের সম্মিলিত ঘৃণা স্বাভাবিক। কিন্তু শাস্তিবিধানই যদি উত্তরণের একমাত্র পথ হত, তবে এই অপরাধ উত্তরোত্তর বাড়ত না। যে হারে শিশু বা কিশোর-কিশোরীর ধর্ষণ হচ্ছে, যৌন নিগ্রহ হচ্ছে, তা বোধহয় সঙ্কেত দেয়, এ শুধু এক বিশেষ ধরনের বিকৃত কাম নয়। পিডোফিলদের মস্তিষ্কের গঠনে কিছু তারতম্য পেয়েছিলেন জার্মান বিজ্ঞানীরা ২০১২ নাগাদ। পিডোফিলিয়া একরকম ওরিয়েন্টেশন না বিকৃতি — তা নিয়েও গত এক দশক ধরে বহু চর্চা হয়েছে। কিন্তু সব চর্চা যেন একটাই অভিমুখে ধাবিত হয়। প্রাপ্তপবয়স্কদের থেকে অনেক কম ক্ষমতাশালী, অসহায় শিশু-কিশোর-কিশোরীর যৌন নির্যাতন আটকানোই যেন পাখির চোখ হয়। যদি পিডোফিলিয়া একরকম ওরিয়েন্টেশনও হয়, তবেও পিডোফিলের ব্রেনের গঠন নিয়ে আলোচনা শুধুমাত্র আকাদেমিক পরিসর থেকে মুক্ত হোক। তা ব্যবহৃত হোক পিডোফিলের সনাক্তকরণে। প্রয়োজনে এদের শিশুদের থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করা হোক।

শিশু-কিশোর-কিশোরীর সংস্পর্শে আসতে হবে, এমন যেকোনও কাজের ক্ষেত্রে নিয়োগপদ্ধতি আরও সচেতন ও সতর্ক হোক।

শিশুকাম বিষয়ক, শিক্ষক-ছাত্রী, শিক্ষিকা-ছাত্রর যৌন সম্পর্ক বিষয়ক পর্নোগ্রাফি বন্ধ করা হোক।

শিশুর যৌন নিগ্রহের পরিসংখ্যান যা বলছে, সে অনুসারে ধরে নিতে হয়, সংখ্যাগুরু মানুষই শিশুকামী। তাই কি? নাকি বড়দের থেকে শিশু যৌনবস্তু হিসেবে সহজলভ্য বলেই তারা শিকার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে? সম্ভবত দ্বিতীয়টি সত্যি৷

এমতাবস্থায়, সবচেয়ে জরুরি হল নীরবতা ভঙ্গ করা — সে পারিবারিক স্তরেই হোক বা বিদ্যালয় স্তরে৷ নির্যাতন হওয়া মাত্র বাবা-মা যেন শিশু-কিশোরকে ঘটনাটি গোপন করতে না শেখান। বরং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। বাচ্চা বাবা-মা-র উপর আস্থা ফিরে পাবে এর ফলে, নিজের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হবে। তার সাথে অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়া সহজ নয়-এই প্রতীতি জন্মাবে৷

অন্যদিকে, প্রায়শই দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ঘটনাটি ঘটলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেন। ঘটনার দায় স্বীকার করে নিয়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন, শিশুর যৌনশিক্ষা ও শিশুর সুরক্ষার ব্যাপারে আরও যত্নবান হবেন — এটাই অভিপ্রেত৷

শিশুকে যৌন সুরক্ষার শিক্ষা দেওয়া, চাইল্ডলাইন সহ সরকারি ব্যবস্থাগুলিকে আরও কার্যকরী করে তোলা এবং নীরবতা ভঙ্গ করা — এই ত্রিমুখী প্রচেষ্টাই শিশুকে সুরক্ষিত করতে পারে। সঙ্গে পক্সোর মতো জোরালো আইন থাকুক। এই ধারাকে এতটুকু শিথিল না করা হোক৷ আর ‘শিক্ষার অধিকার আইন’ অনুযায়ী মানসিক বা শারীরিক কোনও নির্যাতন শিশুর স্কুলে আসার পথে অন্তরায় হলে তার দায় বিদ্যালয়ের। যৌন নির্যাতন এই দুই প্রকার নির্যাতনেরই সমষ্টি এবং তার চেয়েও বেশি নির্মম। শিক্ষার অধিকার আইনের প্রণেতারা হয় শিক্ষাঙ্গনে যৌন নির্যাতনের ক্লজটি ঢোকানোর বিষয়ে সচেতন ছিলেন না, এটিকে অপ্রয়োজনীয় ভেবেছিলেন, অথবা সঙ্কোচ করেছিলেন। পক্সো যদিও অমিতবলশালী এক আইন, তবু প্রয়োজনে স্পষ্ট করে ‘শিক্ষার অধিকার আইনে’ লিখতে হবে বৈকি — ’কোনও যৌন নির্যাতনের কারণে যেন শিশু স্কুলে আসতে ভয় না পায়’। পৃথিবীকে শিশুর বাসযোগ্য, বিদ্যালয়কে শিশুর বিচরণযোগ্য করে তোলার দায়িত্ব নিতেই হবে সরকারকে, শিক্ষামন্ত্রককে, আইনপ্রণয়ণকারীকে, শিক্ষককে, বাবা-মাকে, সাধারণ নাগরিককে — সবাইকে।