Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

#MeToo এবং পাবলিক

সৌমিত দেব  

 

#MeToo মুভমেন্টের ইতিহাস ও তার সাম্রাজ্যবিস্তার নিয়ে বিবিধ পনেরো নম্বরের রচনা আছে। এই চারনম্বর প্ল্যাটফর্মেই শতাব্দী দাশের এ বিষয়ে একটি অসামান্য লেখা ক’দিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে #MeToo ও তার সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু প্রশ্ন ও তর্কের যুক্তিযুক্ত উত্তর দেওয়া হয়েছে। তাই সেই দিকে না গিয়ে আমরা একেবারে ‘আপনি কাহানি, আম আদমি কি জুবানি’তে #MeToo মুভমেন্টখানা দেখব। মোদ্দা কথাটা হল, আপনি যদি কখনও কারও দ্বারা শারীরিক বা মানসিকভাবে যৌন হেনস্থার শিকার হন, তা হলে আপনি সেই ঘটনার কথা ও ব্যক্তির নাম সরাসরি সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখতে বা বলতে পারেন #MeToo জুড়ে দিয়ে। অর্থাৎ কিনা ‘তুমি একা নও আমিও এ হেনস্থার শিকার’।

কিন্তু প্লেটো বলেছিলেন— ‘যে কোনও বিষয় পপুলার হলেই তাই নিয়ে মাজাকি শুরু করে দেওয়া পাবলিকের মৌলিক অধিকারের আওতায় পড়ে।’ তাই বর্তমানে মোটের ওপর সকলেই জানেন যে #MeToo, খায় এবং মাথাতেও দেয়। আজ্ঞে হ্যাঁ, বর্তমান কলোকিয়ালে এক নিদারুণ মশকরা, যাকে বাংলায় জোক বলে, তা হল— ‘এসব বলিস না ভাই, #MeToo খেয়ে যাবি।’ উইথ হাসির হররা। যাদের যাদের মাথায় #MeToo দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন নিজ কৃতকর্মের জন্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন, কয়েকজন প্রবল প্রতিবাদ করেছেন। কেউ কেউ হয়তো ইহাও বলে থাকতে পারেন যে বৈবাহিক ধর্ষণ, বা নারী স্বাধীনতার মতো #MeTooও আমাদের সঙোস্কিতি অ্যালাও করে না। যদিও এ কথা আমি শুনিনি, তাই মোটেই আমাকে বিশ্বাস করার কোনও কারণ দেখি না। বরং সুধি, আসুন, আমরা নিজেরাই ঝালিয়ে টালিয়ে দেখে টেখে নিই দেশ কি আওয়াজ কী বলছে #MeToo সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে।

কনসেন্ট

যেহেতু আমাগো দ্যাশে যৌনতা এখনও ট্যাবু হয়ে রয়ে গিয়েছে তাই যৌনতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়েও আমাদের চিন্তাভাবনা ভয়ঙ্কর ঘাঁটা। কারণ এ দেশে বিষয়টা গোড়া থেকে কনফিউজড। কারণ বেশিরভাগ ব্যক্তিমানুষ একাধারে যৌনতাকে ‘নোংরা’ বলে মনে করেন আবার খুব স্বাভাবিকভাবেই এটা থেকে একটা চূড়ান্ত আনন্দের আশা রাখেন। বাঙালির বিবেক চন্দ্রিল ভট্টাচার্য এক বিতর্কসভায় বলেছিলেন— ‘যেটা থেকে তুই এমন একটা আনন্দ ডিরাইভ করিস, সেটা নোংরা হতে পারে না।’ যৌনতা একটা স্বাভাবিকতা। একটা দরকার। কখনও আবার সেটা চরমতম আনন্দদায়ক একটা অভিজ্ঞতা। কিন্তু ওই অক্সিমোরোনটার ফলেই সেটা ও সেই সংক্রান্ত বিষয়গুলো রয়ে গেছে চরমতম ধোঁয়াশায়। যাদের মধ্যে সর্বাগ্রে আসবে কনসেন্টের কথা।

কনসেন্ট, যার আভিধানিক বাংলা করলে দাঁড়ায় সম্মতি আর চলতি বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘আমাদের সময় এ সমস্ত ছিল না ভাই! এখনই যতসব নতুন ফ্যাকড়া শুরু হয়েছে।’ সম্মতি, অর্থাৎ কিনা সে আমার বউ, প্রেমিকা যা খুশি তাই হতে পারে, কিন্তু তার যদি যৌনতার ইচ্ছে না থাকে আপনি কিছুতেই তাকে বাধ্য করতে পারেন না।

‘সে কী! কিন্তু এমনকি আমাদের চালক ও বাহক বলিউডও তো সে কথা বলে না! সে তো আমাদের সেই কবে থেকেই শিখিয়ে দিয়েছে যে ‘না মানেই হ্যাঁ!’ সে না বলবে, আমি জোর খাটাব, তারপর সে ‘অসুব্যু’ বলে ঝঁপিয়ে পড়বে আমার ওপর!’

ভুল শিখিয়েছে। এমনকি মেয়ে, ছেলে নির্বিশেষে যে কোনও মানুষের, যৌনতা চলাকালীনও মনে হতে পারে যে, না, আমার আর কনসেন্ট নেই। অপরজনকে সেটা মেনে নিতে হবে। কারণ সেটাই সভ্যতার শর্ত।

‘অধিকার ফলালে রেগে যাবে, নাকি না ফলালে?’

কী দারুণ একটা কবিতার লাইনের মতো শোনাচ্ছে না? শেষে তিনখানা ডট জুড়ে দিলেই পাঁইপাঁই লিটলম্যগ। কিন্তু সমস্যাটা হল কোনটাকে আপনি ‘অধিকার’ বলে মনে করছেন। আপনি যদি মনে করেন স্ত্রী বা প্রেমিকার ইচ্ছের বিরুদ্ধেও তাকে যৌনতায় বাধ্য করটা আপনার অধিকার, তা হলে অধিকার সম্পর্কে আপনার ধারণা ততটাই ভুল যতটা ক্রমাগত আত্মহত্যারত চাষিদের উন্নতিস্বার্থে কোনও পদক্ষেপ না করে, কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচা করে একটা আখাম্বা মূর্তি খাড়া করে দেওয়া।

এইবার আপনি বলবেন— ‘সে কী কতা বাই? না ফা বলাটা তো পার্ট অফ দা প্লে! বললেই হল? সেই আমার ঠাকুমার আমল থেকে চলচে দেখছি! কই দেখাও দেকি খারাপ কিছু! আমার বাবারা তো আঠাশ ভাই। কী খারাপটা হয়েছে?’

এই যে ধোঁয়াশা, একটা গ্রে অঞ্চল, এই যে আপনার বুঝতে না পারা, এই যে একটা নিষ্পাপ অসহায়তা, এইটে কাটানোরও একটা চমৎকার উপায় আছে। আরেকটা হ্যাশট্যাগ #NoMeansNo।

না মানে না-ই। না-এর মানে কখনওই হ্যাঁ নয়।

এইবার আপনি আবার বলবেন— ‘কিন্তু এই যে ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, মুখে না বললে কী হবে, আসলে না-টা হ্যাঁ। তো সেগুলো কি মিথ্যা নাকি হে? আর এ তো সেই কবে থেকে চলছে?’

তা সেই কবে তো সতীহদাহও হত। ভালো হত? বা বাল্যবিবাহ? বা ধরুন একবার স্বামী মরে গেলে আজীবন কালের জন্যে অল ভেগান নো সেক্স? ভালো হত? তারপর ধরুন আপনি ব্রিটিশের জুতো চেটে দিচ্ছেন, আপনার বৌকে নবাব তুলে নিয়ে যাচ্ছে, এমনিই চাবুক মারছে, এসবও হত। ভালো হত? না, আপনার মতোই বাকি আর যে কোনও সুস্থ স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই এই একই কথা বলবে। ভালো হত না। হওয়ার কথা না। তাই আপনি সেই কবে থেকে একটা ভুল জিনিসকে ঠিক বলে আসছেন বলেই সেটা ঠিক হয়ে যায় না। ডাহা ভুলই থাকে। ঠিক এই ‘মুখে না বললে কী হবে, আসলে তো হ্যাঁ’ বলার মতোই।

এতদিন পর কেন?

কিন্তু আপনি যেমন জানতেন না কনসেন্ট বলে একটা ব্যাপার হয়, তেমনই আপনার প্রাক্তন প্রেমিকা বা ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডও সেইটে জানত না। ফলে তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও হয়তো সে বহুবার মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। কারণ আপনার মতোই তার তখন মনে হয়েছে হয়তো এটাই স্বাভাবিক।

তাই— ‘এতদিন পরে কেন বলল?’ বলার আগে, কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখা দরকার।

এতদিন পর বলেছে বেশ করেছে। তার মনে হয়েছে তাই বলছে। বেএএএএএশ করেছে। তার ইচ্ছে। তার যদি মনে হয় সে সঙ্গে সঙ্গে বলবে, তো সঙ্গে সঙ্গে বলবে। যদি মনে হয় ক’দিন পর বলবে, ক’দিন পর বলবে। যদি মনে হয় মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে বলবে তো তাই। আর যদি মনে হয় বলবে না তো, যদি আপনি জানতে পারেন তার সঙ্গে এমন কিছু ঘটেছে, তা হলে তাকে সাহস যোগান। তার পাশে থাকুন। তাকে বলতে উৎসাহ দিন যে সে কোনও অপরাধ করেনি।

বহু মানুষের যৌন হেনস্থার প্রথম অভিজ্ঞতা হয়েছে নিজের বাড়িতে। নিজের পরিবারের বিশ্বস্ত মানুষের হাতে। এবং কী হয়েছে সেই অভিজ্ঞতার পর?

প্রথমে সে বিশ্বাসই করতে চাইবে না যে যে মানুষটা আমায় জন্ম থেকে দেখছে, যাকে আমি অন্ধের মতো বিশ্বাস করি, ভরসা করি, সে হঠাৎ আমার সঙ্গে এমন একটা কাজ করল। এটা একটা শক। একটা বিরাট ধাক্কা। ফলে প্রথমে সে নিজেকে জিজ্ঞাসা করবে যে, আমি যা হয়েছে বলে ভাবছি, আদৌ কি সেটা হয়েছে? আমি নিজেই ভুল ভাবছি না তো? এইটে কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এইবার আবার ঘটবে একই ঘটনা। সে জানাবে তার বাড়ির লোককে। তারপর?

ব্যক্তিগতভাবে আমি এমন বহু মানুষকে চিনি যাদের সঙ্গে ঘটেছে এই এক ঘটনা। তারা জানিয়েছে, তাদের বাবা-মাকে। কী হয়েছে জানানোর পর? না তাদের বাড়ি থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই সমস্ত কথা যেন কোনওভাবে আর কেউ না জানতে পারে। কারণ সেটা করলে পরিবারের বদনাম হবে। বকেঝকে, তাতে কাজ না হলে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করে, আদেশ দিয়ে, আরও নানান হাম সাথ সাথ হ্যায় জনিত কাজকর্মের মাধ্যমে তাদের জানানো হয়েছে যে, তারা এই নিয়ে মুখ খুললে সমস্যাটা যে শুধু পরিবারেই হবে এমনটা মোটেই নয়। বরং সমস্যাটা তার হবে সবচাইতে বেশি কারণ দুনিয়াসুদ্ধু সকলে তাকেই উলটে মন্দ ঠাউরে দেবে।

এই এতকিছু, ফ্রম প্রতিবেশীর ‘তানা’ টু নিজের বাড়ির লোকের তানানানা, এই সব পেরিয়ে তাকে বলতে হয়। এর জন্যে সাহস দরকার হয়। হ্যাঁ, হওয়ার কথা ছিল না। অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে তাকে চিনিয়ে দেওয়াটাই স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি তো। আমরাই তো হতে দিইনি। এখন আপনি কী করবেন? বিধাতার কাছে গিয়ে রিবুট বোতামের দাবি জানাবেন, নাকি চেষ্টা করবেন যারা এত কিছুকে পেরিয়েও বেরিয়ে আসছে, অপরাধীকে চিনিয়ে দিচ্ছে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর?

আলবাত দ্বিতীয়টা। আর কেউ যদি— ‘এতদিন পর কেন’ বলে, তাকে সবার আগে এই কথা বোঝানোর চেষ্টা করুন। আর একান্তই না বুঝলে, আবার চেষ্টা করুন। কারণ আর্কিমিডিস বলেছেন ‘অশিক্ষিতকে শিক্ষিত করার জন্যে, দরকার হলে মিড ডে মিলও চালু করতে হবে।’

মজাই তো নিচ্ছিল

দেখুন আমি বা আমার বন্ধুবান্ধবেরা থাকি একটা পেল্লায় শহরে। এর ঠিক আগের জায়গাটায় যার বা যাদের কথা বললাম, তারাও থাকে সেখানেই। ভারতবর্ষের মেট্রোপলিটানগুলোর মধ্যে একটা, একটা রাজ্যের রাজধানী, সেখানকার চেনাজানা ‘প্রগতিশীল’ পারিপার্শ্বে এই অবস্থা। তা হলে ভাবুন শহরের একটু বাইরের দিকে গেলে অবস্থা কী মারাত্মক হতে পারে। আগের অবস্থাগুলো তো থাকেই, সঙ্গে আরও অনেক কিছু।

কলেজের দাদা। এমনিই নানারকম ইয়ার্কি ফাজলামো চলে। একদিন রাত্তিরবেলা সে হঠাৎ চ্যাট করতে করতে তেমনই ইয়ার্কির ছলে কিছু একটা বলল।

উদাহরণ—

–তোর শরীরটা কিন্তু বেশ হয়েছে।
–ত্যাত! মোটা হয়ে যাচ্ছি, কী যে বলো।
–একটু চর্বি না থাকলে, ওসব করে সুখ নেই।
–আচ্ছা। শুতে যাই, কাল কথা হবে।
–চ
–মানে? কী যে বলো?
–পরিষ্কার করেই তো বললাম, চল, শুই।
–শোনো, এসব কথা আমার আমার একদম পছন্দ নয়।
–কেন? কথা পছন্দ নয়? আচ্ছা তা হলে কাজেই হোক।

বা এমনই কিছু একটা। এরপর কথাটা আরও বাড়বে। এবং ফাইনালি মেয়েটা প্রতিবাদ করার পর ছেলেটা বলবে— ‘স্যরি, আমি তো ইয়ার্কি মারছিলাম’ বা ‘তুই বুঝতেই পারলি না এটা আসলে একটা সোশাল এক্সপেরিমেন্ট।’ আর মেসেজগুলোর স্ক্রিনশট দেখে লোকজন বলবে, ‘মেয়েটাও তো মজাই নিচ্ছিল’। আমার আগের এতটা লেখা নাল অ্যান্ড ভয়েড হয়ে যাবে, কারণ কেউই তলিয়ে ভাববে না। ভিকটিম ব্লেমিং সেলিব্রেটেড হবে আর সঙ্গে সিম্প্যাথি ভোটে ছেলেটি হুররা।

তাই আমাদের সকলের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে তলিয়ে ভাবা। আগের বলা কথাগুলো নিজের মতো করে উপলব্ধি করা, আর উপলব্ধি করে যারা #MeToo দিয়ে সামনে আসছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা। তাদের সাহস যোগানো।

এবং আর একটা জিনিসও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বটে। ‘না’ বলা। পরিষ্কার করে, জোর গলায় ‘না’ বলা। হ্যাঁ যেমন ‘হ্যাঁ’-ই তেমনভাবেই ‘না’টাও না’-ই। বরং না’টা বলতে হবে আরও চিৎকার করে। আরও দৃপ্তভাবে।

কেউ কি কিছুটি না করে নেমশেমের ভিক্টিম হতে পারে না?

আলবাত পারে। আমার এক বন্ধুর এক আত্মীয়ের সাথেই এই এক ঘটনা ঘটেছে। শুধুমাত্র টাকা আদায় করার জন্যে তাকে ও তার পরিবারকে চূড়ান্ত অপদস্থ করা হয়েছিল।

কিন্তু একটা পাতি ‘সোশাল এক্সপেরিমেন্ট’ করে দেখুন। আপনার আশেপাশে যতজন চেনা মহিলা আছে, যাদের সঙ্গে আপনি কম্ফর্টেবল, যাদের সঙ্গে আপনি খোলাখুলি কথা বলতে পারেন, তাদের সকলকে একবার জিজ্ঞাসা করে দেখুন যে, তারা গোটাদিনে কতবার মানসিক বা শারীরিকভাবে যৌন হেনস্থার শিকার হয়। এবং তারপর আপনার আশেপাশে যতজন চেনা পুরুষ আছে, যাদের সঙ্গে আপনি কম্ফর্টেবল, যাদের সঙ্গে আপনি খোলাখুলি কথা বলতে পারেন, তাদের সকলকে একবার জিজ্ঞাসা করে দেখুন যে তাদের মধ্যে ক’জনকে অযথা নেমশেমের শিকার হতে হয়েছে? আপনার উত্তর আপনি পেয়ে যাবেন।

হ্যাঁ সত্যিই কোনও প্রমাণ বা ‘যথাযথ’ স্ক্রিনশট ছাড়াই নেমশেম করে দেওয়া যায়। কিন্তু কেউ সেটা অযথা কেন করবে? আপনি বলুন তো, আপনি হঠাৎ অযথা কাউকে এমন একটাভাবে দাগিয়ে দেবেন, নাকি দাগিয়ে দেওয়ার কথা ভাববেন? আপনার তো কাজকর্ম আছে নাকি?

যদিও কিছু এক্সেপশন থাকে। যেমন একবার দেখেছিলাম এক ছেলে, এক মেয়েকে, ফেসবুকের মেসেঞ্জারে শুধুমাত্র ‘hi’ লিখেছিল বলে, মেয়েটি সেটার স্ক্রিনশট তুলে ছেলেটিকে ‘পোটেনশিয়াল রেপিস্ট’ মর্মে দাগিয়ে দিয়েছিল। ফল কী হয়েছিল? না মেয়েটি সে পোস্ট ডিলিট করতে বাধ্য হয়।

শুনুন, আপনি যদি সত্যি কিছু করে না থাকেন তা হলে নেমশেমে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কেভিন স্পেসি হাউজ অফ কার্ডস থেকে বাদ চলে গ্যাছেন। নানা পাটেকর এখনও পর্যন্ত মজবুত কোনও স্টেটমেন্ট দেননি। অথচ বরুণ গ্রোভারের ওপর থেকে অভিযোগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর রাখি সাওয়ান্তের ভিডিওখানা নিয়ে কিছু বলবেন কি?

তা হলে খাড়াইলটা কী? খাড়াইল পৃথিবীটা গোল। তাই…

মোদ্দা কথাটা হল, আপনি যদি কখনও কারও দ্বারা শারীরিক বা মানসিকভাবে যৌন হেনস্থার শিকার হন, তা হলে আপনি সেই ঘটনার কথা ও ব্যক্তির নাম সরাসরি সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখতে বা বলতে পারেন #MeToo জুড়ে দিয়ে। অর্থাৎ কিনা ‘তুমি একা নও আমিও এ হেনস্থার শিকার’।

কিন্তু প্লেটো বলেছিলেন, “যে কোনও বিষয় পপুলার হলেই তাই নিয়ে মাজাকি শুরু করে দেওয়া পাবলিকের মৌলিকে অধিকারের আওতায় পড়ে” তাই বর্তমানে মোটের ওপর সকলেই জানেন যে #MeToo, খায় এবং মাথাতেও দেয়।

বেশ করে।

In all my senses I support the #MeToo movement.

অনেককাল হল। এইবার মুখোশ খোলার সময় এসে গেছে।