Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

জবর বিচার

হকারভাই

 

 

বলব কী ভায়, দিল্লি গেলুম— বলছি তোমায় রেখে ঢেকে
শুনতে পেলুম কয়েদখানায় গরম গরম বাক্যি লেখে
ভয়ঙ্কর সে মনিষ্যি এক! রাজা বলেন ষড়ের পাণ্ডা!
কীসব যেন মিছিল করে হাজত গেছে। কিন্তু ঠান্ডা
হচ্ছে কোথা! সুযোগ পেলেই মুখের হাসি ছড়িয়ে দিচ্ছে!
ব্যাপার যেন হয়নি কিছুই! ভাবটা যেন এমনি ইচ্ছে!

ষড়ের গপ্পো জানতে চাও তো? বলছি খুলে। ব্যাপার ভীষণ!
যেই না রাজা বুদ্ধি দিলেন দেশের সীমায় দে পার্টিশন,
সঙ্গে বাপু অন্য দেশের আমার জাতের মানুষগুলোর
জন্য রাখিস অবাধ এন্ট্রি, অন্যকে দিস বাতাস কুলোর,
অজাত-কুজাত করব সাফাই, ঘাড় ধরে সব করব বিদেয়—
যেই না বলা, ঘাড়ত্যাড়াটা দেশের নামে হুঙ্কার দেয়—
‘এ দেশ তোমার, এ দেশ আমার, একটি জাতের নয় সে কোনও
জাত হিসেবে দেশ চলে না, স্পষ্ট করে রাজা শোনো’
রাজপেয়াদা চালান করে কয়েদঘরে অমনি তাকে।
ঘাড়ত্যাড়া তো একলাটি নয়, সঙ্গে আরও ক-জন থাকে।

এমনি তো নয়— গণের তন্ত্রে ফ্যাকড়া থাকে হাজার রকম
বিশাল বিশাল কেতাব আছে, ফালতু যত বকম বকম
পক্ষী যেন ছুটতে না পায়— রাজার কোটাল ফন্দি আঁটে
মুখের কথা বদল করে, এদিক-সেদিক একটু কাটে
শুনতে যাতে খানিক লাগে শত্রুদেশের বন্দনাগান,
নয়তো যেন নিজের দেশের শাপশাপান্ত, মন্দবাখান

আরেকটু কুছ ভাবতে হোগা, এতই সহজ স্বস্তি পাওয়া?
কোটালমশায় ভাবতে বসেন, বুদ্ধি আসে— হুঁ হুঁ বাওয়া
আসছে দেশে শুনতে পাচ্ছি রাজাবাবুর বড়সাহেব
তাকেই যেন করতে চাচ্ছে ঘাড়ত্যাড়াটা বেবাক গায়েব
এমন একটা কেস বানিয়ে ফটাস করে দিলাম ঠুকে
এমন কানুন মারব ছুড়ে থাকবে ব্যাটা জেলেই ঢুকে

বুদ্ধি দারুণ, কিন্তু ছিল একটুখানি গোঁজের ব্যাপার
আসবে সাহেব, খবরখানা জানত কেবল কোটাল ও তার
সর্বেসর্বা কৌটিল্য, তা হোক, তবু শাস্তিস্বরূপ
পচুক জেলে, প্রমাণ-টোমান কিংবা কিছু ঢপ অনুরূপ,
জোগাড় দিয়ে রাখছি সবই, হলেও প্রকাশ কালক্রমে
কয়েদে থাক বেল্লিকটা, দিক মাশুল ওর স্বাধীন-ভ্রমের।

এমন করে পাঁচটা বছর বিন-বিচারে পগারটি পার
দেশ বানাতে একটু-আধটু এমন কী আর মন্দ ব্যাপার!