Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বাংলাদেশি রাজনীতির কাঠামোগত রূপান্তর

সাদিক মাহবুব ইসলাম

 


ভারত ও বাংলাদেশ ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও পারিবারিক বন্ধনে এমনভাবে জড়ানো যে— চাইলেও কেউ পুরো আলাদা থাকতে পারবে না। কাজেই প্রশ্ন হল: তারা কি অতীতের গোলকধাঁধায় ফিরবে, নাকি বাস্তববাদী পথে হাঁটবে? এই নির্বাচনের পর রিসেটের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে দিল্লিকে ঢাকার নতুন বাস্তবতাকে বুঝতে হবে, আর ঢাকাকে আজকের দিল্লির বদলে যাওয়াটাও মাথায় রাখতে হবে। দু-পক্ষেরই এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়— ‘বয়ানের যুদ্ধ’ চালাবে, নাকি ‘রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভাষা’ খুঁজে নেবে

 

গত ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কাঠামোগত রূপান্তরের সূচনালগ্ন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংকট এবং আওয়ামি লিগের আমলে বিতর্কিত, অগণতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যে নির্বাচন আয়োজন করেছে, তা শুধু প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, রাজনৈতিক বৈধতা ও জনসম্পৃক্ততার মানদণ্ডেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যাপক সহিংসতা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া দক্ষিণ এশিয়ার অস্থির গণতান্ত্রিক বাস্তবতায় একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।

ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফলে সংখ্যাগতভাবে সেন্ট্রিস্ট দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সুস্পষ্ট আধিপত্য প্রমাণিত হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভূ-রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য আরও বহুমাত্রিক। বিএনপি জোটের ২১২ আসনের বিপরীতে ধর্মভিত্তিক ডানপন্থী দল জামায়াতে ইসলামি জোটের ৭৭ আসন প্রাথমিকভাবে দ্বিদলীয় ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে বিএনপি এককভাবে ২০৯ আসন দখল করে কার্যত রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে চলে এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ব্যাপক সুবিধা ভোগ করা জামায়াতের পক্ষে যে ধুয়া উঠেছিল, সেই ধুয়া ফাঁপা বেলুনে পরিণত হয়েছে। ভোটের হারেও বিএনপির প্রাধান্য স্পষ্ট— মোট প্রদত্ত ভোটের অর্ধেকেরও বেশি তাদের বাক্সে গেছে। জামায়াত পেয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ ভোট। কিন্তু এটি নির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত, এবং এই প্রবণতা বিশেষ নিরীক্ষার দাবি রাখে।

এই নির্বাচনকে কেবল সরকার পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখলে এর গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনুধাবন করা সম্ভব নয়। বরং এটি তিনটি মৌলিক প্রবণতাকে উন্মোচিত করেছে: প্রথমত, বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক বয়ান নির্মাণের মাধ্যমে প্রধানতম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়া; দ্বিতীয়ত, জামায়াতের সীমান্তসংলগ্ন ও প্রান্তিক অঞ্চলে সংগঠিত, আদর্শভিত্তিক উত্থান; এবং তৃতীয়ত— সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— আওয়ামি লিগের প্রাতিষ্ঠানিক বর্জনের পরও তাদের ভোটব্যাঙ্কের সামাজিক পুনর্বণ্টন।

নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামি লিগের আনুষ্ঠানিক অনুপস্থিতি নির্বাচনী মাঠকে শূন্য করেনি; বরং তাদের সমর্থকভিত্তি বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলের হিসেবকে পাল্টে দিয়েছে। এর ফলে বহু ঐতিহ্যগত আওয়ামি দুর্গ বিএনপি ও জামায়াতের হাতে স্থানান্তরিত হয়েছে— যা কেবল দলীয় পতনের চিহ্ন নয়, বরং স্থানীয় ক্ষমতাকাঠামো ও ভোটার আচরণের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বহন করে।

একই সঙ্গে, এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক রূপান্তর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে— বিশেষত ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। সাম্প্রতিক আঠারো মাসের কূটনৈতিক শীতলতা, বয়ান-যুদ্ধ ও আস্থাহীনতার প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন এক ধরনের রিকনসিলিয়েশনের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত করেছে।

 

বিএনপির এত বড় জয়ের রহস্য

আজকের ফল দেখে মনে হতে পারে বিএনপি শুরু থেকেই শক্ত অবস্থানে ছিল। কিন্তু বাস্তবতা ছিল উল্টো। নির্বাচনের এক মাস আগেও দলটি ভয়াবহ দোলাচলে ছিল।

জামায়াতের ১১ দলীয় জোট তখন রাজনৈতিক মাঠে কার্যত ঢেউ তুলেছিল। দলীয় কোন্দল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগে বিএনপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপর্যস্ত হচ্ছিল। এর মধ্যেই চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা দলটিকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। প্রবাসী ইউটিউবারদের ছড়ানো গুজব— তারেক রহমান আর দেশে ফিরবেন না, এমনকি বেগম জিয়ার মৃত্যুর ভুয়া খবর— বিএনপিকে তখন কার্যত কোণঠাসা করে ফেলেছিল।

পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলায় তরুণ রাজনীতিবিদ ও অ্যাক্টিভিস্ট শরীফ ওসমান হাদীর ওপর হামলা ও তাঁর মৃত্যুর পর। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, পুড়িয়ে দেওয়া হয় প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর অফিস। এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে জামায়াতপন্থী অনলাইন অ্যাক্টিভিজমের সংযোগ জনমনে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করে— রাজনীতি কি মবের দখলে যাচ্ছে? এই ভয়ই এক বড় অংশের ভোটারকে জামায়াতবিরোধী করে তোলে। শহুরে মানস ও তরুণ নারীদের মাঝে জামায়াতের প্রতি অনাগ্রহ ও ভয় ছড়িয়ে পড়ে এবং এর ফলে ব্লক ধরে বিএনপি ভোট পায়।

২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপিকে নতুন প্রাণ দেয়। ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ স্লোগানে শুরু হয় নতুন ধরনের প্রচার— ঝটিকা সমাবেশ, পরিকল্পিত ভাষণ, অর্থনৈতিক রূপরেখা ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক সহায়তা কর্মসূচির মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়। একই সময় জামায়াতের একাধিক ভুল তাদের ভাবমূর্তিকে বড় ধাক্কা দেয়— নারী নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হওয়া থেকে শুরু করে নৈতিকতার প্রশ্নে বিতর্ক।

ইসলামপন্থী ভোট ভাঙতেও বিএনপি কৌশলী ছিল। কওমি ঘরানার জমিয়তে উলামাকে জোটে নেওয়া এবং চরমোনাইয়ের ইসলামি আন্দোলনের জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া এক বাক্সে ইসলামি ভোট পড়ার পথ বন্ধ করে দেয়।

এই সব মিলেই শেষ পর্যন্ত বিএনপি মাঠে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। এর মাঝে বিএনপি তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী বিজয় লাভ যে করেছে, কেবল তা-ই নয়। বাংলাদেশের রাজনীতির আদি দুই শক্তি— বিএনপি ও আওয়ামি লিগের ট্রাডিশনাল দ্বি-দলীয় বৃত্ত ভেঙে রাজনীতির মাঝে তারা এখন এককভাবে বিরাজমান। এহেন আধিপত্য বিএনপি আগে ভোগ করেনি। ২০ বছর পর গদিতে বসা দলটির জন্য এটি বেশ বড় একটি অর্জন। এর চেয়ে বড় অর্জন, দলটি বল্গাহীন আচরণ করেনি জয়ের পর। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া প্রচণ্ড শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছে, প্রতিপক্ষের প্রতি উদারতা দেখিয়েছে, হিংসা ছড়ায়নি। উপমহাদেশের ‘উইনার টেকস অল’ রাজনীতির সংস্কৃতিতে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। এখন সব চোখ তারেক রহমানের দিকে। তিনি তাঁর পরিবারের লিগ্যাসি বহন করে আসছেন রাষ্ট্রক্ষমতায়। পিতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মাতা আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এবার তাঁর পালা।

 

জামায়াতের উত্থান— শক্তিশালী কিন্তু সীমান্তে ঘনীভূত

জামায়াত এবারের নির্বাচনে ইতিহাসের সেরা ফল করেছে— ৬৮টি আসন। কিন্তু এই সাফল্যের ভৌগোলিক চরিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ৫৮টি আসনই এসেছে ভারত-সংলগ্ন বিভাগগুলো থেকে। খুলনা বিভাগের ৩৬টির মধ্যে ২৫টি আসন, রংপুরের ৩৩টির মধ্যে ১৬টি রবং রাজশাহীর ৩৯টির মধ্যে ১১টি। ভোটের শেয়ার এসব অঞ্চলে প্রায় ৪০ থেকে ৪৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়। সীমান্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা উদ্বেগ, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড, চোরাচালান ও জাতীয় পরিচয়ভিত্তিক ক্ষোভ কাজ করে। এই “ফ্রন্টিয়ার মানসিকতা” ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য উর্বর জমি তৈরি করেছে। জামায়াত সেই আবেগকে রাজনৈতিক পুঁজিতে রূপ দিতে পেরেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এতদিনের আওয়ামি লিগের মিত্র ও গৃহপালিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টির পতন। উত্তরবঙ্গে যে আবেগভিত্তিক ভোট একসময় সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে ঘিরে আবর্তিত হত, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পতনের পর লিগের দোসরদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোয় সেই শূন্যতা সবচেয়ে দ্রুত পূরণ করেছে জামায়াতের সংগঠিত নেটওয়ার্ক।

আরেকটি বড় ফ্যাক্টর তাদের তৃণমূল কাঠামো— মাদ্রাসা, সমাজকল্যাণমূলক কাজ, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে তারা বহু এলাকায় সামাজিক প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। মূলধারার দলগুলোর দুর্নীতিগ্রস্ত স্থানীয় নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে জামায়াত নিজেদের শৃঙ্খলাবদ্ধ শক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে পেরেছে। তাদের রাজনৈতিক ভাষ্যও বদলেছে— আগের কট্টর ভাবমূর্তি থেকে সরে এসে নৈতিকতা, সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী পরিচয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। “সৎ লোকের শাসন চাই”— এই স্লোগান বহু হতাশ ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

তবে বাস্তবতা হল, জামায়াতের উত্থান এখনও আঞ্চলিক। সীমান্ত অঞ্চল বাদ দিলে তারা দেশের বড় অংশে আধিপত্য গড়তে পারেনি। এমনকি এসব এলাকাতেও বিএনপি প্রধান শক্তি হিসেবেই রয়ে গেছে। ঢাকায় তাদের কয়েকটি আসন পাওয়া ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিলেও এটি এখনও প্রবণতা মাত্র, ঢেউ নয়। এবং এটাই হবে জামায়াতের ভবিষ্যতের রাজনীতির সর্বোচ্চ সাফল্য। জামায়াত তাদের চিরায়ত রাজনীতি ও আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে লিবারেল সাজতে চেয়েছে, বিদেশি পরামর্শে দল গুছিয়েছে এবং অনলাইন-অফলাইনে বিপুলভাবে বিনিয়োগ করেছে। জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান দলটির আধুনিকীকরণের চেষ্টা করেছেন, এবং এরপরেও জামায়াতের পরাজয় তার নেতৃত্বকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ। সামনের দিনই নির্ধারণ করবে দলটির ভবিষ্যৎ।

 

আওয়ামি লিগের ভোটিং প্যাটার্ন— বর্জনের ডাক, কিন্তু ভোটে উপস্থিতি

নির্বাচনের অন্যতম বিস্ময়কর অধ্যায় হল আওয়ামি লিগের দল হিসেবে অনুপস্থিতি, ভোটার হিসেবে উপস্থিতি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানিয়েছে— আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রতিরোধের দলীয় নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দলের একাংশ নেতা-কর্মী-সমর্থক ভোটার হিসেবে ভোট দিয়েছেন। টিআইবি ৩০০ আসনের মধ্যে প্রতিনিধিত্বশীল নমুনায় ৭০টি আসন পর্যবেক্ষণ করে এই চিত্র তুলে ধরে।

এখানে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় তিনটি।

১) দলীয় অবস্থান বনাম তৃণমূল বাস্তবতা— “ইনস্টিটিউশনাল বয়কট” টেকেনি: অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামি লিগের নিবন্ধন স্থগিত ও দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দলটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনকে “অবৈধ” বলে ঘোষণা করে। জুলাই অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অবৈধ ও ষড়যন্ত্রমূলক’ আখ্যা দিয়ে প্রতিরোধের আহ্বানও ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, তৃণমূলের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক অধিকার ছাড়তে রাজি নয়। তারা ভোট দিতে গেছে।

এটা কোনও নৈতিক বিতর্ক নয়, এটা বাঙালির ভোট দেওয়ার প্রতি অসীম আগ্রহ আর ক্ষমতার হিসেবনিকেশের মারপ্যাঁচ। বাংলাদেশের ভোটারদের মধ্যে, বিশেষ করে স্থানীয় ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনে ভোট দেওয়া কেবল রাজনৈতিক মতপ্রকাশই নয়, এটা তাদের সামাজিক সুরক্ষা ও মিথষ্ক্রিয়ার অংশও বটে। দল হিসেবে নিষিদ্ধ হলেও স্থানীয় রাজনীতিতে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড-থানাস্তরের মানুষ নিজেদের ভবিষ্যৎ ভোট বর্জন করার মধ্যে দিয়ে ঝুঁকিতে রাখতে চায় না। পরাজিত ঘোড়ার ওপর বাজি ধরতে আওয়ামি লিগের নেতাকর্মীরাও আগ্রহী নয় এটাই বোঝা যাচ্ছে।

২) নৌকার ভোটব্যাঙ্ক সবাই টেনেছে: প্রতিদ্বন্দ্বী দল এবং প্রার্থীরা আওয়ামি লিগের ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করে প্রতিযোগিতা করেছে। এর ফলে আওয়ামি লিগের ভোট একটি ‘রিলিজড ভোটব্যাঙ্ক’ হয়ে যায়, যা সংগঠিতভাবে একদিকে না গিয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, টিআইবি-র পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বহু আওয়ামি লিগ নেতা-কর্মী প্রতিদ্বন্দ্বী দলে যোগ দিয়ে প্রচারণাতেও অংশ নিয়েছেন। অর্থাৎ, ভোট শুধু ভোটার হিসেবে নয়— ক্যাম্পেইন মেশিন হিসেবেও স্থানান্তরিত হয়েছে। নিষিদ্ধ দলের স্থানীয় নেটওয়ার্ক এভাবে “সার্ভিস প্রোভাইডার” হয়ে গিয়ে সেই আসনে যে দল জয়ের সম্ভাবনা বেশি, তার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়।

৩) ‘দুর্গ’ ভাঙার মানচিত্র: আওয়ামি শক্ত ঘাঁটি কোথায় গেল?— ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত চার নির্বাচনে আওয়ামি লিগ অন্তত তিনবার জিতেছে এমন আসন ছিল ৮১টি; এর মধ্যে ২৯টি আসনে চারবারই জিতেছিল। এবার দল নিষিদ্ধ থাকায় সেই ঘাঁটিগুলো দখল হয়েছে অন্যদের হাতে— বিএনপি নিয়েছে ৬২টি, জামায়াত ১৫টি, অন্যরা ৪টি। এইখানে চলে আসে ভোটের রাজনীতির সূক্ষ্ম হিসেবনিকেশ। আওয়ামি “দুর্গ” সবচেয়ে বেশি ছিল ঢাকা বিভাগে (২৭), তারপর খুলনায় (১৬)। ঢাকায় ওই ২৭ আসনের মধ্যে বিএনপি নিয়েছে ২৩, জামায়াত ৩, অন্যরা ১। খুলনায় ১৬টির মধ্যে বিএনপি ৮, জামায়াত ৮। মানে দক্ষিণ-পশ্চিমে জামায়াত শুধু সীমান্তভিত্তিক উত্থান নয়, আওয়ামি ঘাঁটি ভাঙার সুবিধাভোগীও।

গাজিপুরের পাঁচটি আসন ছিল আওয়ামি দুর্গ— এবার বিএনপি পাঁচটিই নিল। গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে আগে ‘নৌকা মানেই জয়’— এবার বিএনপি তিনটিই নিল। কিশোরগঞ্জ-৪, শরিয়তপুরের তিন আসন, মাদারিপুরের তিন আসন— যেখানে দীর্ঘদিন নৌকার বিকল্প কল্পনাও ছিল না— সেগুলোও পাল্টে গেল। উত্তরাঞ্চলে ঠাকুরগাঁও-১ ও ২, দিনাজপুর-১ ও ২— নৌকার “গ্যারান্টেড” আসনগুলো বিএনপি দখল করেছে; নীলফামারি-২ ও গাইবান্ধা-২ মতো কিছু ক্ষেত্রে জামায়াতও জিতেছে। খুলনা-১, বাগেরহাট-১, নড়াইল— এমন ঐতিহাসিক আওয়ামি ঘাঁটিও হাতছাড়া হয়েছে; কোথাও বিএনপি, কোথাও জামায়াত।

এই তালিকার রাজনৈতিক অর্থ সোজা। আওয়ামি লিগকে আন্দোলনের মাধ্যমে পরাস্ত তো করা গেছেই, এখন আওয়ামি ভোটকেও পুনর্বণ্টন করা হয়েছে মাঠের বাস্তবতায়। নিষেধাজ্ঞা তাদের প্রতীক কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু ভোটারকে ঘরে আটকে রাখতে পারেনি। ফলে নৌকার ভোট নানা প্রতীকে গিয়ে পড়েছে— যেটা সবচেয়ে কার্যকরভাবে ধরতে পেরেছে বিএনপি; আর কিছু কিছু অঞ্চলে জামায়াত।

 

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক: ‘শীতলতা’ থেকে পুনঃসমন্বয়ের সুযোগ— কিন্তু শর্তসাপেক্ষ

গত ১৮ মাসে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখন আর কূটনীতিকদের গোপন ভাষার বিষয় নয়। এটি জনমতেরও বাস্তব অভিজ্ঞতা। আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের পরিসর অনেকটা সোশাল মিডিয়ার ভুল তথ্য, অর্ধসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান-যুদ্ধের দখলে চলে যায়। ফলে দুই পাশেই একটি ধারণা শক্ত হয়— বাংলাদেশ যেন নতুন করে পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো অংশীদারের দিকে ঝুঁকছে, আর ভারত যেন শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশকে ‘আগ্রহের তালিকা’ থেকে নামিয়ে ফেলেছে। আর ভারতীয় মিডিয়ার ক্রমাগত অপতথ্যের বয়ান আর হিংসা ছড়ানো কোনওভাবেই সাহায্য করেনি উভয়পক্ষের সুবুদ্ধিসম্পন্ন জনগণকে।

উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠক হলেও ‘কমপ্লিকেটেড’ সম্পর্কের বাস্তবতা বদলায়নি। বরং যে কানেক্টিভিটি করিডর— রেল, সড়ক, বন্দর ও ট্রানজিট— গত এক দশকে দুই পক্ষ মিলেই তৈরি করেছিল, তা অনেক ক্ষেত্রেই অব্যবহৃত পড়ে থাকে। একই সময়ে পর্যটক ভিসা প্রত্যাহার ও নানা ধরনের বাণিজ্য-সুবিধা কমে যাওয়ায় দুই দেশের প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য কার্যত তলানিতে নেমে আসে— অর্থাৎ রাজনৈতিক টানাপোড়েন সরাসরি অর্থনীতি ও জনজীবনে আঘাত করে।

এখানে আরেকটি বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয়। বাংলাদেশের চোখে এটি কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয়; এটি ক্ষমতা বদলের পর রাষ্ট্রীয় বৈধতার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। দিল্লি যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের ঠিক আগে হাসিনাকে কেন্দ্র করে মিডিয়া-ঝড়ের সুযোগ দেয় এবং নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ভারতে সাবেক আওয়ামি লিগ নেতাদের দুইটি সংবাদ সম্মেলন হতে দেয়— সেগুলো ঢাকার কাছে লিগকে আস্কারা দেওয়া বলেই মনে হয়েছে। এই ধরনটি পারস্পরিক সন্দেহ বাড়িয়েছে, কমায়নি।

এখন নির্বাচনের পর ভারতের মনোভাবে ‘রিসেট’-এর দরজা খুলেছে, কিন্তু সতর্কতা থাকবে।

ফল ঘোষণার পরদিনই নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দনবার্তা— “ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী, গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন”— ইঙ্গিত দেয়, ভারত এই ফলকে সম্পর্ক পুনঃসমন্বয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে। ভারতের নিজস্ব হিসাবও সোজা। মালদ্বীপ ও নেপালের সঙ্গে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন, পাকিস্তান-চিনের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতা— এই পটভূমিতে ভারত আরেকটি সীমান্তে অস্থিরতা চাইবে না। উপরন্তু বাংলাদেশ এমন এক প্রতিবেশী, যার সঙ্গে ভারতের সীমান্ত সংযোগ অত্যন্ত দীর্ঘ ও ঘনিষ্ঠ— এবং যে সীমান্তের বেশিরভাগটাই বাংলাদেশের সঙ্গে। স্থিতিশীল বাংলাদেশ ভারতেরও স্বার্থসিদ্ধি করে। সীমান্তের পাশে এত বড় বৈরী দেশ নিয়ে দুইপক্ষই বিপদে পড়বে।

তবে এই ‘রিসেট’ সহজ হবে না। তারেক রহমান বারবার বলেছেন তিনি ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চান পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়া ভিত্তিতে। কিন্তু প্রশ্ন হল: তিনি কি বাস্তবে তা কার্যকর করতে পারবেন? কারণ বাংলাদেশের ঘরোয়া রাজনীতিতে ভারত-প্রসঙ্গে জনমনের সন্দেহ ও সীমান্ত-আবেগ শক্তিশালী; এবং নির্বাচনে উত্থিত জামায়াতপন্থী বয়ান যে কোনও কূটনৈতিক স্বাভাবিকতাকেও দ্রুত “দালালি” বলে ফ্রেম করতে পারে। ফলে বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জটি বাহ্যিকের চেয়ে বেশি অভ্যন্তরীণ।

 

প্রথম বড় পরীক্ষা: হাসিনার প্রত্যর্পণ— ‘ধাক্কা’ নাকি ‘ডিকাপ্লিং’?

সবচেয়ে ত্বরিত ও স্পর্শকাতর ইস্যু হবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। ঢাকার চাপ থাকবে আর দিল্লির রাজনৈতিক-আইনি সীমাবদ্ধতাও থাকবে। এই টানাপোড়েন যদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সবকিছু গিলে ফেলে, তাহলে রিসেট প্রক্রিয়াই ভেঙে পড়বে।

এখানে একটি বাস্তববাদী প্রস্তাব আলোচনায় আসে যে দিল্লি চাইলে তাকে তৃতীয় দেশে স্থানান্তরে সহায়তা করতে পারে— যাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর এই ইস্যুর স্থায়ী বোঝা না থাকে। ঢাকা শুরুতে এতে সন্তুষ্ট নাও হতে পারে, কিন্তু এটি সম্পর্ককে একটি ইস্যুর জিম্মি হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে। কূটনীতিতে একে বলা যায় ডিকাপ্লিং— একটি বিষাক্ত ইস্যুকে আলাদা করে বাকিগুলোকে এগোনোর চেষ্টা।

 

পানি— গঙ্গাচুক্তির নবায়ন, তিস্তা ও ‘কোবওয়েবস’ পরিষ্কার করা

পানি ভাগাভাগি সামনে আরেকটি বড় ফ্রন্ট। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে— নবায়নের সময় আসছে। এটি যদি আরেকটি সংঘাতের ইস্যু হয়ে ওঠে, তাহলে রিসেটের মাটি নরম হয়ে যাবে। বরং দুই পক্ষই চাইলে জল-কূটনীতির জমে থাকা ধুলো ঝেড়ে ফেলতে পারে এবং একই সঙ্গে তিস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভাঙতে পারে।

তিস্তা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— এটি কেবল পরিবেশ নয়, ভোট-রাজনীতিও। তিস্তার একটি খসড়া চুক্তি বহু আগে আলোচিত হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আপত্তির কারণে তা চূড়ান্ত হয়নি— ফলে ঢাকায় ‘ভারত চায় না’ ধরনের ধারণা জমাট বাঁধে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তিস্তা অবকাঠামো উন্নয়নে চিনা বিনিয়োগ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে, যা দিল্লি বিরোধিতা করেছে। কারণ প্রকল্পটি শিলিগুড়ি করিডরের (ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বে যাওয়ার ২২ কিমি চওড়া স্ট্রিপ) কাছে— অর্থাৎ ভারতের নিরাপত্তা-দৃষ্টিতে স্পর্শকাতর।

এই টানাপোড়েন মিটিয়ে তিস্তা নিয়ে অন্তত একটি কার্যকর কাঠামো দাঁড় করাতে পারলে— দুই পক্ষই গুডউইল দেখাতে পারবে।

 

চিন-বাস্তবতা: দিল্লির ‘স্বীকার’ ও ঢাকার ‘ভারসাম্য’

বাংলাদেশে চিনের উপস্থিতি এখন কাঠামোগত— বন্দর, ডিজিটাল অর্থনীতি, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা— সবখানেই। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এলেও এই সম্পর্ক পুরো উল্টে যাবে— এমন আশা বাস্তবসম্মত নয়। বরং সম্ভাব্য পথ হল: ঢাকা বেইজিং ও দিল্লি— দুই দিকই ব্যালান্স করবে।

ভারতের জন্য কঠিন কিন্তু জরুরি রিয়েলাইজেশন হল চিন বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছে না। তাই দিল্লিকে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে হবে এই বাস্তবতা মাথায় রেখে— ‘জিরো-চায়না’ শর্ত দিয়ে নয়। অন্যদিকে ঢাকাকেও বুঝতে হবে— একটি অংশীদারের ওপর অতিনির্ভরতা ঋণঝুঁকি ও কৌশলগত ঝুঁকি বাড়ায়। অর্থাৎ ভারসাম্য ঢাকারও স্বার্থ।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের সবচেয়ে কার্যকর সূত্রটি আদতে খুব সাদামাটা— কম প্রত্যাশা, বেশি সংলাপ। দুই দেশই পুরনো বোঝা নামিয়ে, নিজেদের “রেড লাইন” স্পষ্টভাবে একে অন্যকে জানালে অকারণে ভুলবোঝাবুঝি কমবে। শুধু সরকার-সরকার নয়— ব্যবসা, সীমান্ত প্রশাসন, পানি-বিশেষজ্ঞ, মিডিয়া, সিভিল সোসাইটি— সবাইকে নিয়ে খোলা ও সৎ সংলাপ প্রয়োজন।

ভারত ও বাংলাদেশ ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও পারিবারিক বন্ধনে এমনভাবে জড়ানো যে— চাইলেও কেউ পুরো আলাদা থাকতে পারবে না। কাজেই প্রশ্ন হল: তারা কি অতীতের গোলকধাঁধায় ফিরবে, নাকি বাস্তববাদী পথে হাঁটবে?

এই নির্বাচনের পর রিসেটের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে দিল্লিকে ঢাকার নতুন বাস্তবতাকে বুঝতে হবে, আর ঢাকাকে আজকের দিল্লির বদলে যাওয়াটাও মাথায় রাখতে হবে। দু-পক্ষেরই এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়— ‘বয়ানের যুদ্ধ’ চালাবে, নাকি ‘রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভাষা’ খুঁজে নেবে।

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন স্থিতিশীল। এই স্থিতাবস্থা কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে বিএনপি কতটা কার্যকর শাসন দিতে পারে এবং জামায়াত তাদের উত্থানকে জাতীয় রাজনীতিতে কার্যকরভাবে রূপ দিতে পারে কি না তার ওপর। আর আওয়ামি-প্রশ্নের কী সেটেলমেন্ট হয় দিনশেষে তার ওপরেও। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত— বাংলাদেশের রাজনীতি আর আগের জায়গায় নেই। এই বাস্তবতাকে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়পক্ষই যত দূর মেনে নেবে, ততই মঙ্গল।

 


*মতামত ব্যক্তিগত