Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

নয়ডা শিল্পাঞ্চলের প্রতিবাদ এবং শ্রমিকশ্রেণির শক্তি

সরোজ গিরি

 


এটি কোনও নতুন প্রবণতা নয়। নয়ডা ২০১৩ সালে একই ধরনের শ্রমিক প্রতিবাদের সাক্ষী। মারুতি সুজুকির শ্রমিক আন্দোলনের পর থেকেই শ্রমিকশক্তির উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে মতাদর্শ-নির্ভর ঐতিহ্যবাহী ট্রেড ইউনিয়নগুলো ক্রমশ প্রান্তিক হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নগুলো অনেক ক্ষেত্রেই এখন শ্রমিকদের জন্য কেবল ‘পিআর’-এর ভূমিকা পালন করছে, যেখানে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন শ্রমিকরা নিজেরাই। ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় শ্রমিকরা আর তেমন গুরুত্ব খুঁজে পাচ্ছে না, বরং নেতারাই যেন এই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন। শ্রমিকদের এই অভ্যন্তরীণ পরিসরে প্রবেশাধিকার পেতে হলে, তাঁদের কাছে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে হবে

 

আজ আমরা শ্রমিকশক্তির এক নতুন রূপের সাক্ষী। সমষ্টিগত দরকষাকষির জায়গা নিয়েছে সমষ্টিগত কর্ম— সরাসরি কর্মসূচি। শ্রমিকশক্তির এই ‘দাঙ্গা-ধর্মী’ রূপ কোনও ধরনের মধ্যস্থতাকেই স্বীকার করে না। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে— ট্রেড ইউনিয়ন, লেবার কমিশনার, রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটি, আদালত, অ্যাক্টিভিস্ট, এনজিও কিংবা অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যে-কোনওরকম মধ্যস্থতাই এখানে অনুপস্থিত। অবশ্য পরে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করতে এই মধ্যস্থতাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হতেও পারে।

এই প্রসঙ্গে, ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল নয়ডায় ঘটে যাওয়া ব্যাপক অশান্তি ও সহিংস প্রতিবাদকে বিবেচনা করা যেতে পারে। উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সরকার এই প্রতিবাদের “পেছনে” থাকা ব্যক্তিদের নেতা, আলোচক বা ট্রেড ইউনিয়নের পরিবর্তে, “উস্কানিদাতা” ও “ষড়যন্ত্রকারী” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পরপরই সরকার যে সর্বস্তরে ন্যূনতম মাসিক বেতন বাড়াতে সম্মত হয়েছে, তা এই প্রতিবাদগুলির ক্ষমতা ও তীব্রতাকেই প্রকাশ করে। তাই বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ ও তদন্ত করা জরুরি।

একই কথা প্রযোজ্য এই বছরের শুরুর দিকে হওয়া সহিংস প্রতিবাদগুলোর ক্ষেত্রেও, যেমন হরিয়ানার পানিপথ, মধ্যপ্রদেশের সিংরাউলি, এবং আরও বহু জায়গায়, যার মধ্যে কিছু ঘটনা খবরে এসেছে, আবার অনেকগুলিই আসেনি। এই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে মানেসার, গুরুগ্রাম, নয়ডা, ফরিদাবাদ, পালওয়াল এবং রাজস্থানের শিল্পাঞ্চলে। এখন একমাত্র প্রশ্ন হল: এরপর কোথায়?

প্রতিটি প্রতিবাদের ক্ষেত্রেই আমরা দেখেছি যে কর্তৃপক্ষ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হাজির হয়েছে এবং শ্রমিকদের দাবি মেটানোর আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছে। নিঃসন্দেহে এটি এক ধরনের ছদ্ম-কৌশল। তবে এবার হয়তো কর্তৃপক্ষ আর বিষয়টিকে একইভাবে উতরে দিতে পারবে না। দেখা যাচ্ছে, কোনও পরিকল্পিত উদ্যোগ ছাড়াই ঘটনাপ্রবাহ এক অদ্ভুত মোড় নিয়েছে। শ্রমিকশক্তি হঠাৎ করেই যেন রুখে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা ও দারিদ্র্য, এবং প্রতিনিধিত্বের অভাব, সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অথচ সুবিধাজনক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। এর ফলে তারা এমনভাবে নিজেদের সংগঠিত করতে বা কর্মপদ্ধতি তৈরি করতে পেরেছে, যা অংশগ্রহণকারী শ্রমিকদের বাইরে আর কেউ ঠিক করে বুঝে উঠতে পারছে না। ফলত এমন এক অনন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে ১৩ এপ্রিল নয়ডার ঘটনা ও সহিংসতার ‘ভেতরের কাহিনি’ আসলে কারও পক্ষেই পুরোপুরি স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হয়নি।

কেবল অংশগ্রহণকারী শ্রমিকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, অস্বচ্ছ এই অভ্যন্তরীণ পরিসর সবাইকে তথ্যের জন্য হন্যে করে তুলেছে। ফলে এমন কোনও ‘নেতা’ বা ‘মধ্যস্থতাকারী’ নেই, যার মাধ্যমে পুঁজিবাদীরা ও রাষ্ট্র জানতে পারে শ্রমিকরা ‘কী পরিকল্পনা করছে’। কোথায় পরবর্তী অশান্তি বা প্রতিবাদ সংগঠিত হবে, তা কেউই জানে না।

নয়ডা এমন এক জায়গা, যেখানে প্রায় সব বড় ২৪x৭ মিডিয়া হাউসের স্টুডিও ও অফিস অবস্থিত। তবুও শ্রমিকদের এই আন্দোলন সম্পর্কে তাদের কোনও ধারণা নেই। গ্রাউন্ডে নেমে যে অল্প কিছু সাংবাদিক প্রতিবেদন করছেন, তাঁরা শ্রমিকদের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলছেন যেন তাঁরা ভিনগ্রহের মানুষ, কারণ মিডিয়া কখনওই ‘শ্রমিক’ নামক শ্রেণিটির দিকে বা উৎপাদনের শর্তাবলির দিকে মনোযোগ দেয়নি; তারা বরং ‘টকিং পয়েন্টস’-জোগাড় করতেই ব্যস্ত থেকেছে।

শ্রমিকদের কর্মপরিস্থিতি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকেই সরাসরি জন্ম নিয়েছে এই আন্দোলন। এই বঞ্চনা ও পরিত্যক্ত অবস্থাই বরং শ্রমিকদের অনুপ্রাণিত হতে সাহায্য করেছে। তাঁদের কর্মপরিস্থিতি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকেই সরাসরি এই আন্দোলনের জন্ম। নয়ডার শ্রমিকদের বলতে শোনা গেছে— “দেখুন, আমরা এই যে প্রতিবাদ করছি, এখন ম্যানেজমেন্ট আমাদের বের করে দেবে।” অর্থাৎ শ্রমিকরা ইতিমধ্যেই তাঁদের অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়া ও চুক্তিভিত্তিক অবস্থার বাস্তবতাকে হিসাবের মধ্যে নিয়ে ফেলেছেন। যেহেতু যে-কোনও সময়ে তাঁদের চাকরি চলে যেতে পারে, তাই আইনগত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই ‘দাঙ্গা-ধর্মী’ প্রতিবাদে অংশ নিতে তাঁরা আর ততটা দ্বিধাগ্রস্ত নন। অতিরিক্ত চুক্তিভিত্তিককরণই এখন নতুন ধরনের সংগঠন ও প্রতিরোধ গড়ে ওঠার পূর্বশর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শ্রমিকরা নিজেরাই যখন সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে সরাসরি সাপ্লাই চেইন ও ডাম্পার ট্রাক থেকে প্রতিবেদন করছেন, তখন তাকে আর উপেক্ষা করা যায় না। ইনস্টাগ্রাম রিলস যেন ভাইরালিটির নতুন সংজ্ঞা তৈরি করছে কারণ তারা উৎপাদনের ক্ষেত্রকেই সরাসরি কর্মসূচির ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল বাস্তবতা রিয়েল টাইমে শ্রমিকদের এই সরাসরি আন্দোলনকে বহুগুণে বাড়িয়ে তুলছে। যোগী আদিত্যনাথের সরকার এখন হোয়াটস্যাপ গ্রুপকে সম্ভাব্য পরিকল্পনার কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে তা নজরদারির চেষ্টা করছে।

দুর্বলতা ও অনিশ্চয়তাই এখানে সংগ্রামের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। নতুন ধরনের প্রতিরোধ সরাসরি পুঁজির বর্তমান রূপকেই প্রতিফলিত করছে। মুহূর্তের মধ্যে গড়ে ওঠা এক গণ-দাঙ্গা যেন পুঁজির ‘just in time’ উৎপাদন ব্যবস্থা বা সুপারমার্কেটের ‘flash sale’-এর এক যথাযথ সমান্তরাল রূপ।

বহু আগেই কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস তাঁদের কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো-তে যে চিরায়ত কথাটি বলেছিলেন, এই সম্ভাবনা যেন তারই পুনরাবৃত্তি: “বুর্জোয়ারা সর্বোপরি যা উৎপাদন করে, তা তাদের নিজেদেরই কবর-খনক ছাড়া কিছু নয়।” অর্থাৎ কোনও ‘বাইরের’ বুদ্ধিজীবী বা সংগঠক ছাড়াই, একেবারে প্রাথমিক স্তরে পুঁজি নিজেই শ্রমিক প্রতিরোধ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের রূপ সৃষ্টি করে। মধ্যস্থতা ও দরকষাকষির পরিসর ক্রমশ সঙ্কুচিত হওয়ায় এক ধরনের ‘হয়-নতুবা’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হয় এই চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরা চূড়ান্ত শোষণের মধ্যে পড়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও অসহায় অবস্থায় নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য হবেন, নতুবা তাঁরা সরাসরি কর্মসূচির মাধ্যমে এককাট্টা হতে নিজেদের সংগঠিত করবেন— যা কোনও নিয়ন্ত্রণ বা মধ্যস্থতার আওতায় আনা যাবে না। এই ফলস্বরূপ, গতকাল পর্যন্ত নয়ডার চকচকে কাচ ও ইস্পাতের ভবনগুলো ‘Make in India’-র জন্য সর্বোচ্চ উৎপাদন দিচ্ছিল, পরের দিন বা পরের মুহূর্তেই হঠাৎ সবকিছু ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে।

তবে এটি কোনও নতুন প্রবণতা নয়। নয়ডা ২০১৩ সালে একই ধরনের শ্রমিক প্রতিবাদের সাক্ষী। তখনকার সরকারের ক্ষেত্রে ‘কঠোর নিয়ন্ত্রণ’ ও শৃঙ্খলার দাবিটা এতটা উচ্চকিত ছিল না, ফলে এই শ্লেষটিও ততটা প্রকট হয়নি। অন্তত মারুতি সুজুকির শ্রমিক আন্দোলনের পর থেকেই শ্রমিকশক্তির উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে মতাদর্শ-নির্ভর ঐতিহ্যবাহী ট্রেড ইউনিয়নগুলো ক্রমশ প্রান্তিক হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নগুলো অনেক ক্ষেত্রেই এখন শ্রমিকদের জন্য কেবল ‘পিআর’-এর ভূমিকা পালন করছে, যেখানে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন শ্রমিকরা নিজেরাই। ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় শ্রমিকরা আর তেমন গুরুত্ব খুঁজে পাচ্ছে না, বরং নেতারাই যেন এই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন। অভিজ্ঞ অ্যাক্টিভিস্ট ও ইউনিয়ন নেতাদের অন্ধকারে রাখা, সামান্য ভিতরের খবরের জন্য অপেক্ষায় রাখাও এখন প্রায় লোককথার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিকদের এই অভ্যন্তরীণ পরিসরে প্রবেশাধিকার পেতে হলে, তাঁদের কাছে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে হবে।

প্রয়োজন হলে শ্রমিকরা বেছে বেছে আইনজীবী, লেখক, অ্যাকাডেমিকদের মতো পেশাদার শ্রেণির সঙ্গে যুক্ত এই অ্যাক্টিভিস্ট ও নেতাদের ব্যবহার করবেন। যাতে দাঙ্গা-ধর্মী আন্দোলনের ফলে যখন আইনি জটিলতা তৈরি হয়, তখন তাঁরাই উচ্চপ্রোফাইল আইনজীবীর ব্যবস্থা করতে পারেন। পানিপথের শ্রমিক অশান্তির পর সরকার নাকি এখন দায়িত্বশীল ট্রেড ইউনিয়নদের হস্তক্ষেপ চাইছে, যাতে এই আকস্মিক শ্রমিক কর্মসূচির উপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়। এই মুহূর্তে শ্রমিকরা সরাসরি কর্মসূচি নিয়েই স্বচ্ছন্দ, কোনও ধরনের প্রথাগত রাজনৈতিক সংগঠন বা সমষ্টিগত দরকষাকষির প্রয়োজন তাঁরা তেমন অনুভব করছেন না।

তবে এই সমগ্র পরিস্থিতিতে যা স্পষ্ট নয়, তা হল— এই আকস্মিক সরাসরি কর্মসূচির ধরণ কতদিন টিকে থাকবে। নিশ্চয়ই এই পর্যায়েরও একসময় অবসান ঘটবে। দাঙ্গা যেন শ্রমিকের বাস্তব জীবনে তাঁর কল্পনার এক ক্ষণস্থায়ী বাস্তবায়ন— যার শেষ অবধারিত। এখানেই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র লুকিয়ে আছে। এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে, কেন একই অর্থনৈতিক দাবির জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রতিরোধের রূপ বেছে নেওয়া হয়, অন্যটি নয়। এই সরাসরি কর্মসূচি কোনও নতুন রাজনৈতিক সংগঠনের রূপ খুঁজছে— এমনটা বলা হয়তো এখনই ঠিক হবে না। বরং এই পরিবর্তনশীল অবস্থাকে কিছুটা সময় দেওয়া জরুরি। যা এখন সরাসরি কর্মসূচি বলে মনে হচ্ছে, সেটাই হয়তো ইতিমধ্যেই নতুন রাজনৈতিক সংগঠনের রূপ, অথবা তার বীজ বহন করছে। আমরা এখনও নিশ্চিত নই, এই দাঙ্গা-ধর্মী প্রবণতা বৃহত্তর সমাজের অন্যান্য অংশকে যুক্ত করে এক ধরনের গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেবে কিনা। কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে পুরো চিত্রটাই বদলে যায়।

দাঙ্গা-ধর্মী এই রূপটিই হয়তো শ্রমিক শক্তির প্রকাশের যথার্থ পদ্ধতি হতে পারে। যদিও শ্রমিকরা সচেতনভাবে এটিকে ভেবে বা বেছে নিয়েছেন এমন নয়, তাই যথার্থ শব্দটি এখানে হয়তো পুরোপুরি খাটে না। তবু স্বতঃস্ফূর্ত হলেও এর কার্যকারিতা ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা (virality) প্রমাণ করে যে এটি অন্তত একটি সফল পদ্ধতি। খুব সহজে সময়, সম্পদ, দূরত্ব অতিক্রম করার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল ও শহরের শ্রমিকদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে এর এক বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।

এই জায়গাটাই ট্রেড ইউনিয়নগুলো বুঝতে পারেনি, কারণ তারা এখনও ১৯৭০-এর দশকের কল্যাণরাষ্ট্র ও সামাজিক গণতন্ত্রের মডেলে আটকে আছে। তারা যাকে ‘নব্য উদারবাদ’ বলে, তাকে মোকাবিলা করা যাবে না অতীতের তথাকথিত ‘সোনালি যুগ’, অর্থাৎ স্থায়ী চাকরি ও সামাজিক সুরক্ষার দিকে ফিরে গিয়ে। আজকের তরুণ শ্রমিকদের কাছে বার্ধক্যভাতা বা পেনশনের স্বপ্ন ততটা প্রাসঙ্গিক নয়, এই ধারণাটাই আমূল বদলে গেছে। শ্রমিকরা বরং অনেক বেশি এগিয়ে; তাঁরা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছেন, এবং উৎপাদন, লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইনের নতুন রূপগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁদের প্রতিরোধের পদ্ধতিও বদলাচ্ছে।

 


*সরোজ গিরি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির অধ্যাপক এবং Forum Against Corporatisation and Militarisation (FACAM)-এর সঙ্গে যুক্ত। The Wire-এ ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত তাঁর এই লেখাটি চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম-এর জন্য অনুবাদ করে দিয়েছেন সোমরাজ ব্যানার্জি। মতামত লেখকের ব্যক্তিগত।