Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

আমাদের সাজানো বাগান কি শুকিয়ে যাবে!

দেবলীনা নাথ

 


লেখক গবেষক, শিক্ষক, বাচিক শিল্পী

 

 

 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইট তোলপাড় অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে। মেহনতি মানুষের পথ চলা দেখল আবিশ্ব। শ্রমজীবী মানুষের উত্তর গোলার্ধ থেকে দক্ষিণ গোলার্ধের পথ চলা দেখে কবিরা কবিতা লিখলেন, শিল্পীরা ছবি আঁকলেন আর ভারতমাতার গোসন্তান থুরি সুসন্তানেরা একচোট রাজনীতি করে নিলেন আর আমার আপনার  মতন কেএফসিতে বসে বার্গার চিবনোর ফাঁকে ফাঁকে দেশের অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে তর্ক করা র‍্যাডিক্যালরা  জানতে পারলাম ‘পরিযায়ী শ্রমিক’-এই লেভেল আঁটা হাজার হাজার মানুষ আমাদের দেশের নানা প্রান্তে নুড়ি পাথরের মতন ছড়িয়ে আছেন। আজ অন্তত করোনার করুণায় আমরা তাঁদের চিহ্নিত করতে পেরেছি।

তবে এ তো গেল অজানিতদের ইতিহাস। কিন্তু সেই শিল্পী-শ্রমিকরা আজ কোথায় যাঁরা দিনের পর দিন মঞ্চে আলো জ্বালিয়ে, অভিনয় করে আমাদের রুচিশীল সংস্কৃতির খোরাক জোগানোর দায়ভার গ্রহণ করেছিলেন? তাঁরা এখন কি অবস্থায় আছেন? জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার তাগিদে যে মানুষগুলো আগে মঞ্চে আলোর খেলা দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দিতেন আজকে তাঁরা কোন অন্ধকারে ডুব সাঁতার দিচ্ছেন তা আমরা জানি না! লকডাউনের দৌলতে আমরা মানুষের জীবন-জীবিকার পরিবর্তনের নানান চিত্র দেখেছি; অটোওয়ালার অপটু হাতের মাছ কাটা কিংবা টোটোগুলোর পোর্টেবল বাজার হয়ে ওঠা ইত্যাদি। জিজীবিষার তাগিদে মানুষ উদ্ভ্রান্তের মতো ছোটাছুটি করছে, কিন্তু থিয়েটারের যে ছেলেটা বা মেয়েটা মঞ্চে শাজাহান কিংবা ক্লিওপেট্রা অবতারে এক লহমায় দর্শককে মাতিয়ে তোলে, আর যাঁরা তাদের রক্তমাংসের মানুষ থেকে স্বপ্নের চরিত্র করে তোলেন সেই মেকআপ আর্টিস্ট কিংবা যে আলোকশিল্পী ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের মত নাটকে শুধু আলো দিয়েই দর্শককে মুগ্ধ করে দেন, আগামীতে তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে? যৌথ যাপনের আর এক নাম থিয়েটার, যার শক্তি হচ্ছে দর্শক। কিন্তু আজ মঞ্চ জুড়ে সর্বনাশের ঝড় বইছে বারবার মনে ভাসছে হুইটম্যানের অনিবার্য অনুভবের আর্তনাদ “Here captain Dear father fallen cold and dead.”

অদৃশ্য বৈদেশিক শত্রুর আক্রমণে, নাটক দেখার দিন ভাসমান হওয়ার এক যুগ আগে থেকেই পৃথিবীর বিনোদন পরিবারে আগমন ঘটে সিনেমা নামের এক তরুণ যুবার। প্যারিসে ‘লুমেরি ব্রাদার্স’-এর মধ্যে দিয়ে ১৮৯৫ সালে  যার জন্ম, পিট্সবার্গের ‘দ্য নিকলোডিয়ান’-এ কৈশোর পর্ব কাটিয়ে ভারতে ‘রাজা হরিশচন্দ্র’র (১৯১৩) ভূমিকায় আবির্ভূত হন ইনি। এরপর থেকেই সিনেমা হয়ে ওঠে ভারতের সাংস্কৃতিক বিনোদন জগতের সবথেকে জনপ্রিয় এবং বলিষ্ঠ মাধ্যম। যার ফলস্বরূপ ১৭৯৫ সালে স্টেপ্নোভিচ লেবেদফের হাত ধরে গড়ে ওঠা ভারতীয় প্রসেনিয়াম থিয়েটারের উত্তরসূরিদের সঙ্গে সিনেমার দ্বন্দ্ব অনিবার্য হয়ে পড়ে। একদিকে জনপ্রিয়তা আর অন্যদিকে বাজার অর্থনীতি— এই দুইয়ের যুগলবন্দিতেই সিনেমা যেমন দিন দিন সমৃদ্ধশালী হয়েছে ঠিক তার উল্টোপিঠে থিয়েটার হয়ে উঠেছে ধূসর পাণ্ডুলিপির মতন ম্রিয়মাণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সিনেমার জনপ্রিয়তা আরও প্রবল হতে থাকে, দেশে দেশে গড়ে ওঠে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু থিয়েটার ইন্ডাস্ট্রি? তা যেন “তাতল সৈকতে বারিবিন্দু সম”। এরপর অবশ্য ভারতে গণনাট্য ও নবনাট্য আন্দোলনের রিবুস্ট প্যাক রিচার্জ করার পর জৌলুসহীন থিয়েটার আবার রক্তকরবী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেখানেও ভাটা পড়ে নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে। টেলিভিশনের বাড়বাড়ন্ত মানুষের বিনোদন জগতকে চার দেওয়ালে বন্দি করে দেয়। সেই আবার শেষের শুরু; কালে কালে হরেকরকম ডিজিটাল বুলবুলভাজার কৃপায় ওয়াই জেনারেশন আজ আর ‘নাটক ফাটক’ দেখতে যায় না। তারা ওয়েব সিরিজে মশগুল। থিয়েটারের হলে পড়ে থাকেন হাতে গোনা কয়েকজন দর্শক। এখন প্রশ্ন হল, থিয়েটারে দর্শক না হওয়ার কারণ কী? এর জন্য কি কেবল দর্শককেই দায়ী করা যায়? নাকি থিয়েটারকর্মী এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রকেও এর দায় নিতে হবে?

শম্ভু মিত্র বলেছিলেন, সর্বক্ষণের থিয়েটার কর্মী চাই, অর্থাৎ থিয়েটারকে হতে হবে পেশাগত, নেশাগত নয়। এর অন্যথা হলেই মুশকিল। অন্যদিকে রাষ্ট্রও স্বাধীনতার পর থেকে মনে করেছিল থিয়েটারের প্রয়োজন আছে, তাই থিয়েটারের স্বার্থে থিয়েটারকর্মীদের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই নানান স্কিমের ব্যবস্থা শুরু করলেন— যেমন অডিটোরিয়াম স্কিম, একুইভমেন্ট স্কিম, ফেস্টিভ্যাল স্কিম, পেনশন স্কিম ইত্যাদি। এছাড়াও থিয়েটারের বিভিন্ন দলকে রেপার্টরি গ্র্যান্ট দেওয়া শুরু হয়। এই স্কিম অনুযায়ী দলের প্রত্যেক সদস্য প্রতি মাসে ৬০০০ টাকা পান আর দলের নির্দেশক ১০০০০ টাকা। অর্থাৎ যদি কোনও দলের সদস্য সংখ্যা হয় ১১ জন (১০ জন সদস্য + ১ জন নির্দেশক), তাহলে তাদের বছরে রেমুনারেশন আসে ৮৪০০০০ টাকা। আবার এই সরকারি অনুদানেরও গ্র্যাভিটি তত্ত্ব আছে। এই ধরনের অনুদানগুলি সরকারের আদর্শগত ভর ও ভারের ওপর নির্ভরশীল। তাই কংগ্রেস আমলে রবীন্দ্রনাথের দেড়শো বছর পূর্তিতে, সরকার একই ফিনান্সিয়াল ইয়ারে বিভিন্ন দলকে একই প্রজেক্টের জন্য অনুদান দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারের কাছে বিবেকানন্দ রোলমডেল হওয়ায় তাঁর স্মরণে বিভিন্ন দলকে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। মোদ্দা কথা সরকারের আদর্শগত ভার এবং পছন্দের ভর মাথায় রেখেই নির্ধারণ করা হবে কার ভাগ্যে আনুদানের শিকে ছিঁড়বে। তবে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের কালচারাল পলিসির মূল কথা থিয়েটারের মধ্যে দিয়ে তথাকথিত দেশপ্রেম জাতীয় ভাবধারা বেশি সংখ্যক মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া। এই আদর্শকে সামনে রেখেই কেন্দ্রীয় কর্তামশাইরা ঝাঁপি নিয়ে বসেন। নানান কঠিন মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই অনুদানের শিঁকে ছেড়ে আবেদনকারীর ভাগ্যে। তবে অনুদান পাওয়ার পর কোনও দল যদি সরকার আরোপিত চিন্তা-চেতনাকে একটু বাইপাস করে নিজেদের মত করে নাটক পরিবেশন করতে চায়, তাহলে পরের ফিনান্সিয়াল ইয়ারে তাদের কেন্দ্রীয় অনুদানে নির্মলা দেবী সাড়েসাতি হয়ে বসে পড়েন। যেমনটা হয়েছে গোত্রহীনের (দমদম) সঙ্গে। এই দলটার বয়স প্রায় তেরো। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটা বিধ্বংসী কাজ করে সাড়া ফেলে দিয়েছে। যেমন মান্টোর ‘খোল দো’, নবারুণ ভট্টাচার্যের ‘যাঁরা আগুন লাগায়’ (অনূদিত), ‘বেবী কে’ এবং সুপ্রতিম রায়ের ‘নীলকণ্ঠের দেশ’ ইত্যাদি। এই নাটকগুলো যথারীতি কর্তামশাইদের কুনজরে আসে এবং এই  কুনজরে আরও একটু লঙ্কাবাটা লেপন হয়, সুপ্রতিম রায়ের ‘দেশ ও দ্রোহী’ নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ার পরে। কারণ এই নাটকগুলোর পরতে পরতে দেখানো হয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার, সংখ্যালঘুদের উপর সংখ্যাগুরুদের মাতব্বরি। এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গেলে গোষ্ঠী ঐক্যই একমাত্র আয়ুধ— এমন ধরনের কুমন্ত্রণা রূপকের মেকআপ দিয়ে যত্ন করে ঢেকে পরিবেশন করা হয়েছিল নাটকগুলিতে। বলাবাহুল্য ‘দেশ ও দ্রোহী’-র পর থেকে আগামী প্রোডাকশনের জন্য আর কোনও অনুদান পায়নি গোত্রহীন (দমদম)। তবে এই গপ্প শুধুমাত্র গোত্রহীনেরই নয়, বেশ কয়েকটি গ্রুপ থিয়েটারের রিহার্সাল রুমের চাপা গুঞ্জন। বর্তমানে বাংলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার গ্রুপ থিয়েটার রয়েছে এবং এই সাড়ে তিন হাজারের সঙ্গে যুক্ত আছে অসংখ্য মানুষের সৃজন। জন্ম থেকেই এই গ্রুপ থিয়েটার শম্ভু মিত্র, উৎপল দত্ত, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বাদল সরকারের দেখানো আদর্শের লেন-বাইলেন ধরে ছুটতে-ছুটতে, ধুঁকতে-ধুঁকতে হয়ত এই অতিমারির বীভৎসতাকে স্বীকার করেও টিকে যাবে। কারণ এই দলগুলির অধিকাংশ শিল্পীই, সারাদিন জীবনযুদ্ধে ব্যস্ত রুটে খাটা অটোর মতই পরিশ্রম করেও দিনের শেষে মঞ্চের চন্দ্রগুপ্ত হয়ে ওঠেন। আর তাঁদের এই ইচ্ছাশক্তির কাছে কেন্দ্রীয় অনুদানই হোক আর বিদেশি ভাইরাস কেউই ঠিক সুবিধা করে উঠতে পারে না।

যাই হোক ইতিমধ্যে কয়েকটা গ্রুপ থিয়েটারের দল থিয়েটারের স্বার্থে কতগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেমন:

নাটক যাঁদের একমাত্র পেশা তাঁরাই সমস্যার সবচেয়ে অতলে ভাসছেন। তবে এই পার্সেন্টেজটা এতটাই নগণ্য যে সরকারিভাবে নথিভুক্ত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। লকডাউন শুরু হওয়ার দেড় মাসের মাথায় রানাঘাটের তেত্রিশ বছরের এক থিয়েটারকর্মী সকালবেলার বিশেষ পরিষেবার ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন, পরিবার সূত্রে জানা যায় বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। নাটকই ছিল তাঁর একমাত্র পেশা এবং নেশা। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেটি লকডাউন ও তাঁর পরবর্তী টানাপোড়েন নিয়ে এতটাই অস্থির হয়ে ওঠেন যে আত্মহত্যাই তাঁর কাছে সহজ বলে মনে হয়। আজও তাঁর মৃত্যুর খবর ফেসবুকের দেওয়ালে দেওয়ালে কাঁটার মতো বিঁধে আছে। লকডাউনের জেরে মঞ্চে মঞ্চে অমাবস্যার যবনিকা, থার্ড বেলের শব্দ আবার কবে শুনতে পাব কেউ জানি না! পোস্ট করোনাকালে কতটা বদলে যাব আমরা? নেগেটিভিটির মাস্কে মুখ ঢেকে সারাদিন খালি অবিশ্বাসের চাউনি বিনিময় করতেই হয়ত ব্যস্ত থাকব! আবার কবে একদল বন্ধু মিলে হই হই করে পাশাপাশি বসে নাটক দেখতে পাব জানি না। পাঁচ হাজার বয়সী পৃথিবীর জীবন্ত কলামাধ্যম নাটক। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নাটক দেখা আদৌ কি সম্ভব! ক্লোজ প্রক্সিমিটি ছাড়া নাটক তো পারফর্ম করা যায় না। তাহলে আগামী দিনের নাটকের গঠনগত দিক, প্রযোজনার গতিপ্রকৃতি কেমন হতে চলেছে? স্পেস ওরিয়েন্টেশন বজায় রাখলে তা কতটা অথনৈতিকভাবে সঙ্গত হবে?

এ সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে টাইমমেশিনে একবার শেক্সপিয়ারের যুগে ঘুরে আসতে হয়। শেক্সপিয়ার যখন গ্লোব থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেইসময় লন্ডন বিউবনিক প্লেগে ছেয়ে যায়। পথ থেকে পথ শুধুই মৃত্যু দিয়ে ঢাকা। মহামারির দোর্দণ্ডপ্রতাপে শেক্সপিয়ার উন্মুক্ত গ্লোব থিয়েটার ছেড়ে চলে আসেন ব্ল্যাকফ্রয়ার্স নামের একটি প্রসেনিয়াম মঞ্চে। মঞ্চ পরিবর্তনকে মাথায় রেখেই শেক্সপিয়ার শুরু করেন নতুন স্টাইলের নাটক রচনা। শুধু নাটকের ক্ষেত্রেই নয় অভিনয়রীতির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলেন তিনি। তার ফলস্বরূপ ইংরেজি সাহিত্য তথা বিশ্বসাহিত্য পায় ‘দ্য উইন্টার’স টেল’ (১৬১০)। তাই আগামী দিনের থিয়েটারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার অধ্যাপক শান্তনু বোসের কাছে জানতে চাইলে উনি শেক্সপিয়ারিয়ান মাহাত্ম্যের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই বলেন, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে অভিনয় করতে গেলে হয়ত নতুন এক অভিকরণ তত্ত্বের সৃষ্টি হবে। শরীরী ভাষাকে আরও বাঙ্ময় হতে হবে। যার ফলে সহ-অভিনেতার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেও ভালোবাসা ও ঘৃণার দৃশ্য সাবলীল হয়ে উঠবে দর্শকের  কাছে। আশাবাদী অধ্যাপক বলেন, We will bring the world to the new opening.

অন্যদিকে আগামীদিনের থিয়েটার সম্পর্কে নির্দেশক দেবেশ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, আর এই অপেক্ষা এসএমএসের মতন নয়, চিঠির মতন।

লকডাউন শিথিল হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্র বাদে সর্বত্র অবাধ বিচরণ শুরু হয়েছে আবার। এমনকি বড় বাজেটের সিরিয়ালগুলো শুরু হয়ে গেছে, কিন্তু নাটকের কোনও নামগন্ধ নেই। মাঝে মাঝে বিভিন্ন থিয়েটারকর্মী লাইভে এসে তাদের অন্ধকার জীবনের কথা বলে আবার মিলিয়ে যাচ্ছেন। তাতে কারও কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। কারণ আমাদের রাজ্য তথা দেশের থিয়েটারে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা এতটাই নগণ্য যে তাতে ভোটবাক্সে এমন কোনও প্রভাব পড়ে না। তাই একাধিকবার নাট্য অ্যাকাডেমিতে চিঠি পাঠিয়েও কোনও ফল পাননি তাঁরা। ইতিমধ্যে বিদেশের একটি খবর সাড়া ফেলেছে সোশ্যাল দুনিয়ায়। লন্ডনের সরকার জানিয়েছেন লকডাউনের মধ্যে যেসব থিয়েটারকর্মীরা সাধারণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে বিনোদন দিয়ে গেছেন, তাদের যথাযোগ্য পারিশ্রমিকের বন্দোবস্ত করবেন। লন্ডনের পর জার্মানিও থিয়েটারকর্মীদের কথা মাথায় রেখে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দিচ্ছেন বার্লিনের একটি থিয়েটার হল। অবশ্য ফিজিক্যাল ডিসটেন্সের কথা মাথায় রেখে আগে যেখানে ৩৬০ জন দর্শক বসে নাটক দেখতেন, তার বদলে এখন সংখ্যাটা হবে ৭০ জন। বার্লিন শহরের শিক্ষাক্ষেত্রগুলোর জন্য বরাদ্দ ভর্তুকির কিয়দংশ দিয়ে এই হলগুলোর ক্ষয়ক্ষতির কিছুটা মেরামত করা হবে। আর আমরা ফেসবুকের বুক জুড়ে  ‘Even the darkest night will end the sun will rise’ লিখে আর মুখে মাস্ক এঁটে কলকাতা লন্ডন হতে আর কটা স্টেপ পিছিয়ে আছে তা নিয়ে তর্ক করে কথার জলপ্রপাতে ঢেকে রাখব আমাদের ব্যর্থতার সাজানো বাগানকে।