Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

মহাপৃথিবী-র কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

অনিল আচার্য

 


লেখক এই সময়ের একজন অগ্রগণ্য প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও কবি। সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক ত্রৈমাসিক ‘অনুষ্টুপ’-এর সম্পাদক।

 

 

তোমার কবিতার তরবারি
কোনওদিন খাপে ঢোকাওনি
আমার গানকে আমি থামাইনি
তোমার লেখনী, আমার কণ্ঠ
কোথায় যেন মিল আছে
যেমন মিল তোমার সঙ্গে আমার৷
তু সালামত রহো হাজার বরষ…

হেমাঙ্গ বিশ্বাস[1]

শতবর্ষ পেরিয়ে উপচে পড়ল সময়৷ যে সময় থেমে থাকে না, কিন্তু ইতিহাসের পৌণপুনিকতায় সময় যেন ফিরে ফিরে আসে৷ আর সে ফিরে আসে মনের মণিকোঠায়, আসে বারংবার৷

দেশকালপাত্র সমন্বিত এই জীবনকে কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দেখেছেন প্রবাহিত মনুষ্যত্বের প্রকাশ হিসেবে৷ আর এই প্রবাহের উচ্চাবচতা, মাটি ও পাথর, অগ্নি ও বারির দ্বন্দ্বের বিকাশ ঘটেছে তাঁর কবিতায় ও ভাবনায়৷

‘মানুষ’ শব্দটি বার-বার ধ্বনিত হয়েছে তাঁর কবিতায়— প্রতিবাদে, দুঃখে, বেদনায়, আনন্দে, বৃষ্টি ও ঝড়ে৷ প্রকৃতির সন্তান মানুষ বার-বার আত্মপ্রকাশ করেছে সংগ্রাম ও দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে৷ প্রেম ভালোবাসা তো নদীর মতো প্রবাহিত হয় এবং তিরের বন্ধন তুচ্ছ করে তার গতি, আর সেই চলা তো থেমে থাকেনি৷

আর তা থাকেনি বলেই তো বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আমাদের স্মরণে ও মননে এই ২০২০ সালেও বিদ্যমান৷ প্রকৃতির ভাষা যেমন ধ্বনিসম্পৃক্ত এবং অনুভবের দ্বারা উপলব্ধির বিষয়৷ কবির ভাষাও তাই৷ ভাষা যখন সত্যকে ‘বচনের’ দ্বারা আড়াল করে, ভাষা সেখানে মুখোশ মাত্র৷ আর সেজন্যই কবিকে গদ্যের ও ভাষার মুখোশের থেকে আড়াল করে জাঁ পল সার্ত্র বলেন— ‘পোয়েটস আর মেন হু রিফিউজ টু ইউটিলাইজ ল্যাঙ্গুয়েজ।’ আর এই ‘ইউটিলাইজ’ কথাটি থাকে ইটালিকস্-এ৷ কারণ কেন্দ্রীয় ভরটি ওই ‘ইউটিলাইজ’ বা ব্যবহার করার ওপর দাঁড়িয়ে আছে৷ কবির কাছে তাই ‘ভাষা’ মানুষের মুখনিঃসৃত বা লিখিত কার্য-কারণ নির্ণয়ের বিষয় নয়৷ আবার ছদ্মবেশ বা মুখোশও নয়৷ কবি কখনওই তাকে হাতাখুন্তিকুড়ুলের মতো ব্যবহার করেন না৷ সে কোনও বস্তু নয়, সে প্রকৃতির মধ্যেকার ধ্বনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়৷ অথচ সে সত্যের কথা, ভালোবাসার কথা যেমন বলে প্রতিবাদের এবং সততার কথাও বলে থাকে৷ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতায় তাই এক প্রবহমানতা যা গরিবের সংসারে এক সারল্যময় জীবনের প্রতিরূপ৷ ভাষা সত্যকে খুঁজে বেড়ানোর যন্ত্র বা তাকে ব্যাখ্যা করার উপায় বলে ভাবা হয়৷ তাই কবি সে-ভাষা ব্যবহার করেন না৷ ‘সেই সত্য যা রচিবে তুমি’৷ কবি তাই সত্যকে ব্যাখ্যা করেন না, তাকে উপলব্ধির স্তরে নিয়ে আসেন৷ আর তাই কবি নিশ্চয়ই খুঁজে বেড়ান অন্য কবিদের রচনায় সেই সত্য৷ রামায়ণ, মহাভারত, বাইবেল তাঁর মনোজগতে ভিন্ন এক বার্তা দেয়৷ বাইবেল থেকে তার অনুবাদ হয়ে ওঠে কথামৃত, যেখানে এক-একটি লাইনই এক-একটি কবিতা:

সিংহ খুশি হলে শিয়ালদের মাইনে বাড়বে৷
ধার্মিক মানুষ তার কুকুরদের সেবাযত্ন করেন৷
ধবংস হোক যারা স্বাধীন চিন্তা করে বা স্বপ্ন দেখে৷
বোকারা পাপকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে,
বুদ্ধিমানেরা তাকে নিয়ে বাণিজ্য করে৷[2]

মহাপৃথিবীর কবিতা-য় বাইবেল থেকে অনুবাদ করার সময় তিনি তাঁর স্বদেশ ও সময়ের কথা ভেবেছেন৷ সেই সব কবিতা বেছেছেন যার মধ্যে শুধু তাঁর সময়ের বীজ লুকিয়ে নেই, এই বিষবৃক্ষের বীজ আজ একবিংশ শতকের বিশের দশকে এসে বিষবৃক্ষ হয়ে উঠেছে৷ আর সেই বিষবৃক্ষের ভয়াবহতা আজ বিশ্বজুড়ে৷ তাঁর কবিতার লাইন যে মেঘাবৃত আকাশে বিদ্যুতের রেখার মতো, অত্যাচার, অবিচার ও অনাচারের অন্ধকারকে হঠাৎ আলোর চমকানি দিয়ে ঝলসে দেয়৷ আর এখানেই তাঁর বিশ্বজনীনতা৷ এখানেই যেন শুনতে পাই উপনিষদের বাণী, তমসো মা জ্যোতির্গময়৷ আর এই বাইবেলের এই তিনটি পংক্তি কি আজকের সময়, আজকের সমাজকে ব্যাখ্যা করে না? তাহলে সিংহ খুশি হলে শেয়ালের কেন মাইনে বাড়ে? এরকম যদি ব্যাখ্যা করি? সিংহ জঙ্গলের রাজা, রাজনৈতিক নেতারা তাই এই মানুষের রাজা৷ শেয়াল হচ্ছে এদের সহায়ক নির্বোধ মানুষ যারা শেয়ালের মতো ধূর্ত ও এই নেতাদের ওপর নির্ভরশীল৷ আর এখন ধর্ম হয়ে উঠেছে তাদের হাতে প্রধান অস্ত্র৷ ধর্মকে অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহার করে মানুষের মধ্যে ভয় সঞ্চার করার জন্য তারা হিংস্র পোষা কুকুর লেলিয়ে দেয়৷ মানুষের স্বাধীন চিন্তা ও স্বপ্নকে তারা ভয় পায়, তাই সেই সব চিন্তাকে ও স্বপ্নকে এরা ধবংস করতে চায়৷ পাপ অর্থে যত অন্যায় অবিচার, লোকঠকানো এদের বাণিজ্যের উপায়৷ আর বোকারা এই সব তঞ্চকদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করলে এই সব বুদ্ধিমান ও চালাক লোকেদের কীইবা যায়-আসে৷ এই বুদ্ধিমান নেতা, ব্যবসায়ী ও অনুগত মানুষ শেষ অব্দি সাধারণ মানুষকে বোকা বানায়৷

বাইবেল, লাতিন, জাপান ও চিন, জর্মন কবিতা, তৎসহ লোক-কবিতা তিনি নিজে পড়েছেন এবং তার অনুবাদ করেছেন৷ তিনি নিজেও এই কবিতার দর্শন ও প্রতিবাদের অনুসারী৷ আর এখানেই তাঁর এক ধরনের বিশ্বজনীনতার সন্ধান পাই আমরা৷

ধরা যাক নাকাশে শিগেহারু-র কবিতা থেকে কয়েকটি লাইন:

এটাই তো পশ্চিমি দুনিয়া
কুকুরদের মুখে ইংরেজি বুলি৷
এখানে
জেগে থাকা আর ঘুমানো সবই পশ্চিমি কসরত৷[3]

ওপরের কবিতাগুলির মধ্যে আমরা খুঁজে পাই বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মহাপৃথিবী৷ তিনি নিজে অন্বেষণ করেছেন এক মহাপৃথিবী সেখানে তিনি দুঃখ-বেদনার সঙ্গে খুঁজে পেয়েছেন এক বাস্তবতা৷ আর সেই বাস্তবতা সাধারণ মানুষের চোখ দিয়ে দেখা এক সত্য৷ মহাপৃথিবীর কবিতা-য় যে কবিতাগুলি তিনি চয়ন করেছেন তার সবগুলিই শাসক-শোষক বনাম সাধারণ মানুষের মুখ থেকে উচ্চারিত হাহাকারের সত্য৷ হিটলার, মুসোলিনি যেমন বিংশ শতকে ফ্যাসিবাদের সূচনা ঘটিয়েছিলেন স্বস্তিকা চিহ্ন, দেশপ্রেমের বুলি ও সংখ্যালঘু ইহুদিদের নির্যাতন করে, তার ছায়াপাত হয়েছিল গ্রিসে, আজ একবিংশ শতকে যেন তার আবির্ভাব ঘোষিত হয়েছে প্রাচীন গ্রিক কবিতায়:

…যদি ভিক্ষুকের পোশাক
পরে আথেন্সের নাগরিকদের কাছে রাষ্ট্র সম্পর্কে কিছু
নিবেদন করার দুঃসাহস দেখাই— আর, একটা কমেডি নাটকে৷
এমনকি, একটি কমেডি নাটকও
সত্য ভাষণ করতে পারে
আমাদের খাঁটি স্বদেশী নেতা
ক্লিয়ন, আপনারা সবাই জানেন বক্তৃতায় তিনি কীরকম
আগুন ছোটান, এখানে তিনিও উপস্থিত আছেন, তিনিও আমার
বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনতে পারবেন না, আমি
বিদেশীদের সামনে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো কুৎসা রটাচ্ছি৷…[4]

প্রাচীন গ্রিসের কবিতায় যে সব কথা ধ্বনিত হয়, ঠিক সেই সব কথা আমরা কি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনে প্রতিদিন শুনতে পাচ্ছি না? এই ভয়ঙ্কর শাসনের মধ্যে থেকে হতাশ না হওয়ার কথা, বিপদের এই অকূল সমুদ্রে অদম্য শক্তিতে সাঁতার কাটার কথা সেদিন যদি বলা হয়ে থাকে, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতায়ও সেকথা বার-বার ধ্বনিত হয়েছে, সেই গ্রিক কবিতার অনুরণন…

শিখে নে সেই সাঁতার
প্রলয়ের নদী হবি পার
বাঘের মতন ঢেউগুলি যত করুক হম্বিতম্বি
তোকে রুখবার স্পর্ধা না যেন করে৷[5]

আর এই সাধারণ সত্যকে বিনষ্ট করতে শাসকের মূর্খতার কথা বোঝাতে তিনি পোলিশ কবিতাটি, তার মহাপৃথিবীর কবিতা-য় অন্তর্ভুক্ত করেন:

বিশাল সেনাবাহিনীগুলি, বীর সেনাপতিবৃন্দ, পুলিশ
শাদা পোষাক পরা, ইউনিফর্ম পরা, পুরুষ, মহিলা—
কাদের বিরুদ্ধে এরা সবাই একজোট? মাত্র গুটিকয়
ভাবনার বিরুদ্ধে, আর ঐ ভাবনাগুলিও নতুন নয়[6]

মহাপৃথিবীর কবিতা অনুবাদ করার ইচ্ছে হল কেন কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের? এক আলাপচারিতায় তিনি বলছেন, কেবল ইচ্ছে নয়৷ তিনি ‘প্রয়োজন’ বা দরকার বলে হাত লাগিয়েছিলেন এই অনুবাদে৷ সেখানে পাঁচটি মহাদেশের কবিদের নির্বাচিত কবিতা অন্তর্ভুক্ত করেছেন৷ শুনলে মনে হবে পাঁচটি মহাদেশের কবিতা থেকে চয়ন করেছেন যত ফুল, সেই ফুল দিয়ে, বিভিন্ন রং ও গন্ধের ফুলগুলি একত্র করে এক বিচিত্র মালা নির্মিত হয় বুঝি৷ আসলে তা নয়৷ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এত সব লেখার মধ্যে থেকে খুব সরল, স্বাভাবিক, সাধারণ কিছু কবিতাই বেছে নিয়েছেন, যেখানে দুঃখের কথা যেমন আছে, তেমন দুঃখ নিবারণের জন্য প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং শেষকালে জয়ের কথা বলা আছে৷ সেখানে ‘সেই মানুষটি যে ফসল ফলিয়েছিল’ যেমন আছে তেমন আছে জাপানি ও জর্মন কবিদের কবিতা যেখানে শানিত বিদ্রূপের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদের কথা এমনকী সেই প্রসঙ্গে হাইনরিখ হাইনে বা ব্রেশটের কবিতাও৷

কবি কি তাহলে তাঁর নিজের ভাবনার মধ্যে কোনও এক বিশ্বজনীনতার অনুসন্ধান করছিলেন? এমন কথা তো খুব কঠিন হয়ে গেল! কবি নিজেই একথা শুনলে আঁতকে উঠতেন৷ এসব কথা তো রবীন্দ্র সমালোচকদের কথা! সরল, সাদাসিধে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কি এসব ভাববেন? তিনি ভেবেছেন বলেই তো দুঃখ যে অভাবের কথা বলে, তার থেকে পেটের মধ্যে যে ক্ষুধার আগুন, তার নিবৃত্তি যে ‘অন্ন’ তার উদ্দেশ্যে তিনি পাঠ করেন এক মন্ত্র৷ আর সেই মন্ত্রটি এক বিশ্বজনীনতার কথাই তো বলে? বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতাকে বার-বার উচ্চারিত সাধারণ মানুষের প্রতিবাদী শ্লোগান যদি বলা হয় তবে তো তা মন্ত্রই৷ মন্ত্রেও যে একই কথা বার-বার উচ্চারিত হয়৷ দার্শনিক অরিন্দম চক্রবর্তী তাঁর দর্শনের বই ভাতকাপড়ের ভাবনা-তে খুব সুন্দরভাবে তার ব্যাখ্যা করেছেন৷

কবি শঙ্খ ঘোষও তাই তো বলছেন: ‘এই কবির রচনা থেকেই তৈরি হয়ে উঠবে ‘কবিতা কী?’ প্রশ্নের নতুন একটা উত্তর৷ এই অর্থে, পৃথিবীর অন্য অনেক দেশের মতো, আধুনিক কবিতার ধারণা তাঁর কবিতায় এসে পৌঁছয় এক আধুনিকোত্তর যুগে, কেননা পৃথিবী ঘুরছে৷ এই অর্থে বাংলা কবিতাকে এক নতুন ভাষা দিতে পারেন বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়৷’

আর এই ‘নতুন ভাষার’ উপাদান সরলতা, স্লোগান— যার সূত্র হল তার ভেতর থেকে উদ্গত হওয়া মন্ত্র৷ কবি শঙ্খ ঘোষ এইভাবেই তার ব্যাখ্যা করেছেন:

সেই ভাষায়, কবিতা তাঁর কাছে পায় স্লোগানের তেজ ও সরলতা, সে স্লোগান হয়ে ওঠে মন্ত্রের মতো ঘন৷ সেই ভাষায় যখন তিনি লেখেন:

অন্ন বাক্য অন্ন প্রাণ অন্নই চেতনা,
অন্ন ধ্বনি অন্ন মন্ত্র অন্ন আরাধনা৷
অন্ন চিন্তা অন্ন গান অন্নই কবিতা
অন্ন অগ্নি বায়ু জল নক্ষত্র কবিতা৷
অন্ন আলো অন্ন জ্যোতি সর্বধর্মসার
অন্ন আদি অন্ন অন্ত অন্নই ওংকার৷[7]

এ তো গেল মন্ত্রোচ্চারণ, কিন্তু তারপর এই একই মন্ত্রের শেষে একই ছন্দে আমরা পাই তীব্র প্রতিবাদের গর্জন:

সে অন্নে যে বিষ দেয় কিংবা তাকে কাড়ে
ধ্বংস করো ধ্বংস করো ধ্বংস করো তারে

(মুখে যদি রক্ত ওঠে)[8]

আর সেখানেই আর একজন প্রতিবাদী কবি তার আলোচনায় ঘোষণা করেন:

তখন সে লেখা হয়ে উঠতে পারে আমাদের পীড়িত ক্ষুধার্ত দেশের এক জাতীয় স্লোগান, এক জাতীয় মন্ত্র[9]

এই প্রসঙ্গে বলা যায় শঙ্খ ঘোষ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার মধ্যে সেই সব গুণ ও বৈশিষ্ট্য দেখতে পান এক গভীর অন্বেষকের দৃষ্টিতে৷ কেননা বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পরে ভিন্ন ভাষায় ভিন্ন প্রকারে হলেও শঙ্খ ঘোষের কবিতাই পরবর্তীকালে প্রতিবাদের ও প্রতিরোধের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পেরেছে৷ তিনি যেন বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার উৎস সন্ধানে এই মন্ত্রের খোঁজ পেলেন৷ আর কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিজের কথায়, ‘কবিতার মধ্যেই কবিতাকে মন্ত্র করার নিয়ম শিখতে আমার বয়স গেল৷’ এর পরেই শঙ্খ ঘোষ আদর্শ শিক্ষক ও আলোচকের ভাষায় বিশ্লেষণ করেন:

কিন্তু ঐশ্বরিক মন্ত্রের বদলে, সেই উপহাসের নিয়ম শিরোধার্য করে তিনি তুলে নেন আরেক রকমের মন্ত্র, সেই নিয়মের পাশে দাঁড়িয়ে তার প্রার্থনা হতে পারে:

আমার ক্ষুধার রাজ্যে যে কোনো শব্দের মধ্যে
এখন প্রার্থনা থেকে মন্ত্র
মন্ত্র থেকে পবিত্র আগুন
পবিত্র আগুন থেকে মত্যু হতে পারি৷

(সভা ভেঙে গেলে)[10]

শতবর্ষে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে আর একবার শুধু প্রতিবাদের জন্য নয়, নতুন ভাষা সৃষ্টির জন্য মনে রাখতে হবে৷ আর সে ভাষা শুধু তার ব্যবহারযোগ্যতার জন্য নয়, সে ভাষা সতত আন্তরিক ও সত্যের অনুসন্ধানে সততার ভাষা৷


[1] বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দুরারোগ্য ক্যানসারে প্রয়াত হওয়ার পর, হেমাঙ্গ বিশ্বাসের কবিতা/আগুন হাতে প্রেমের গান , বিশেষ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সংকলন, অনুষ্টুপ
[2] মহাপৃথিবীর কবিতা, বীরেন্দ্র সমগ্র, ৪র্থ খণ্ড 
[3] তদেব
[4] তদেব
[5] তদেব
[6] তদেব
[7] আগুন হাতে প্রেমের গান, বিশেষ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সংকলন, অনুষ্টুপ
[8] মহাপৃথিবীর কবিতা, বীরেন্দ্র সমগ্র, ৪র্থ খণ্ড
[9] আগুন হাতে প্রেমের গান, বিশেষ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সংকলন, অনুষ্টুপ
[10] তদেব