Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

বাংলা গদ্যের সীমাবদ্ধতার অন্যতম কারণ আমাদের কলকাতা-কেন্দ্রিক মধ্যবিত্ততা

অজিত রায়

 

এই নিবন্ধটি প্রয়াত সাহিত্যিক অজিত রায় ওঁর ফেসবুক দেওয়ালে লিখেছিলেন গত ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। নিবন্ধটি গুরুত্ব, প্রাসঙ্গিকতা এবং আমাদের বর্তমান সংখ্যার (অক্টোবর ২০২৩) মূল ভাবনার সঙ্গে সাযুজ্য বিচার করে আমরা নিবন্ধটি পুনঃপ্রকাশ করলাম।

“বাংলা সাহিত্যের পিঠ এখন দেয়ালে এসে ঠেকেছে”— যাঁরা এই ডিবেটের পক্ষে লজিক দেখান তাঁরা যেন ধরেই নিয়েছেন বাংলা সাহিত্য ম্যানুফ্যাকচার হয় একমাত্র কলকাতা মণ্ডিতে। তাঁরা যেন আরও ধরে নিয়েছেন, কলকাতা থেকে হুগলির চর, এটুকুই বাংলা সাহিত্যের চতুরন্ত। তার বাইরে এ ভাষায় কেউ লেখেন না। লিখলেও, সেগুলো পাতে দেওয়ার উপযুক্ত নয়। কারণ, তেনারা কলকাতার বাইরের বাংলা ভাষাকে ডিকোড করতে পারেন না। বিশেষত, বাঙলার বাইরের কতিপয় গদ্যকারের ভাষাপ্রযুক্তি তথা ডিসকোর্স এমন বেপোট, এমন আনখাপ্পা যে তা পড়তে গিয়ে তেনাদের মত পুরুত-উলামাদের যাকে-বলে তৎসমে হাঁকুপাকু এবং তদ্ভবে পোঁদে বাঁশ হাতে লণ্ঠন হবার যোগাড়। তাঁদের পক্ষে এটাই স্বাভাবিক। তাঁদের বানানো নির্দেশপঞ্জি, অনুশাসন আর মডেল মান্য করে না-লিখলে তো তাঁরা সেই সাহিত্যকে ডিকোড করতে পারবেনই না, অধিকন্তু ভাষাপরিচ্ছদে কিঞ্চিৎ বেশাসন দেখলে তাঁদের মূল্যবোধ ও নন্দনতত্ত্ব অসহায় লেভেলের হাহাকার করে ওঠে। সেই লেখা তাঁদের কাছে দুর্বোধ্য, অতএব ব্রাত্য সুতরাং পরিহার্য। বাংলা সাহিত্যের তাজপোশী প্রদানের ইজারা যেহেতু তাঁদেরই দখলীকৃত, ফলে তাঁদের ভাষা-স্ট্রাকচার নকল করা বেহদ জরুরি।

এবার আসি আসল বক্তব্যে।  যাঁরা বলছেন বাংলা সাহিত্যের পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে, তাঁদের চোখও ফোটেনি, কানেও গন্ধিপোকার বাস। তাঁরা এখনো সেই যুগে খড়ম-মাথায় বসে আছেন যখন পুরোনো দিল্লির চাঁদনী চক থেকে লালকেল্লা অব্দি ট্রাম চলত। কলকাতা পশ্চিমবঙ্গীয় বাংলা সাহিত্যের উচ্চতম সাধনপীঠ, নিঃসন্দেহে। কিন্তু, কলকাতার বাইরেও, পশ্চিম বাঙলার অন্যবিধ তথা দুরস্থ প্রান্তরে তো বটেই, পশ্চিম বাঙলার বাইরের যে বিশাল পৃথিবী, সেখানেও বাংলাভাষার কিছু কিছু রচনাকার বাসেন। এবং ভাষা ও শৈলী নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সিংহভাগই, ভাঙা-গড়ার ধাক্কাগুলির প্রায় সবখানিই,— আশ্চর্য,— আসে, বাঙলার, বাইরে, থেকে। কারণ? কারণ, যে একটি মাত্র ভাষা জানে, সে আসলে কোন ভাষাই জানে না। ভাষা, উচ্চার্য্য বা অনুচ্চার্য্য। বঙ্গের বাইরে তো আরও এক ভারতবর্ষ, তাহার রূপ-রস-গন্ধ-বৈচিত্র্য সুদূর বিসারিত। কিছুকাল, কিছু দীর্ঘতর কাল অন্তত তথায় না কাটাইলে অনুধাবন করা অসাধ্য। সুতরাং আবদ্ধতা। জল, যদি আবদ্ধ, তবে পচন। এবং পচা জলে, হেজে যাওয়া জলে নূতন কী জন্মাইবেক?

পশ্চিমবঙ্গীয়, বিশেষত কলকাতার একজন লেখক, যিনি শারীরিক তো বটেই, এমনকি মানসিক ভাবেও শস্য-শ্যামলা বঙ্গজননীর অঞ্চলপ্রান্ত হইতে দূরে মুখ লুকাইয়া আছেন— তাঁহার সহিত দু-চার ঘন্টা কথা বলিলেই বাইরের রচনাকারদের অপরিসীম ক্লান্তি জন্মে। ক্লান্তির গাদ।

অবশ্য, ইতিহাস নথি রেখেছে। বাংলার মতো এলায়িত ও বিশাল ভাষার পক্ষে একটি শহরে কয়েদ থেকে তিলোত্তমা হওয়া সম্ভব ছিল না, যেখানে বাঙালি সেখানেই তার ডালপালার বিস্তার ঘটেছে। সচেতন পাঠক মাত্রেই জানেন, কথাটা রিপিট করছি— পশ্চিম বাঙলার বাইরের যে বিশাল পৃথিবী, সেখানেও বাংলাভাষার কিছু কিছু রচনাকার বাসেন। এবং, আবারও রিপিট করছি, শ-খানেক বছর ধরে লাগাতার নতুন আর অভিনব সংযোজনার নাতায় বাংলা সাহিত্যে বিহার ও ঝাড়খণ্ড বেজায় অদুনা থেকেছে। এই দুই রাজ্য বাংলা সাহিত্যের এক আরামকর অধ্যায়। উপরন্তু বর্ণ-উজ্জ্বল। সুরম্য ইতিহাস। বিশেষত, ‘নতুন’ ও ‘প্রথম’ যোগান দেয়া বাবদ বিহার ও ঝাড়খণ্ডই বাংলার কাছে হামেহাল উত্তমর্ণ থেকেছে। এ এমনই এক চমকালো-গোছের সত্যি, নাকচ সম্ভব নয়। তা করলে বাংলা ভাষার ঘাড়ে যে পাপ চড়ে, সেইটে রফা। যেভাবেই ইতিহাসকে পিষতে চেষ্টা করা হোক, সত্যের আলোক চিরসমুজ্জ্বল। সে আলোকস্পর্শে কোন কিছুরই সত্যমূল্য অস্বীকৃত হতে পারে না। বিহার ও ঝাড়খণ্ড দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে, কত পোজে, কী বিচিত্র কেতায় সাহিত্য বসর করে গাছের পাতায়, পাথরে, আকাশে, সময়ে, মাটির ভাঁজে ভাঁজে, দেড় হাজার ফুট নিচে নেমে কাটছে যে কয়লা, তার বুকে।

আজকের বাংলা সাহিত্যের বহু মসনদী কুর্সি বিহার আর ঝাড়খণ্ড থেকে পাঠানো। পাওনা ঢের, শুধবে কে? এ সত্যি অদ্ভুত প্রাণভূমি, বিহার-ঝাড়খণ্ড। স্বপ্নভূমি। এখানে কত রজনীগন্ধার ডাঁটি, অযত্নে শুকিয়ে। অথচ কত তাজা ফুলের বুকে, এখান থেকে মোড়া! বিশ্বে আর কোন ভাষা, যার কুঁড়ি এভাবে পাছদোরে ফোটে! এখন অপেক্ষা আরও-কিছু ফুলের। তোড়ার। ফিরদৌসের। আরেকটু সময়, একটু বোধ, একটু শ্রম। ঠর খোয়ালে চলবে না। বাংলায় আরও কিছু ‘প্রথম’ বিহার-ঝাড়খণ্ড থেকেই আসবে, লরিবোঝাই ‘নতুন’। আসবেই। সাধনা প্রবহমান, ফলের জন্য সবুর একটু।

আবার ‘কলকাতা’র কথায় ফেরৎ যাই। ভারতবর্ষীয় বাংলা সাহিত্যের ‘কেন্দ্র’ কেন-যে একা কলকাতা রয়ে গেল, এ নিয়ে সচেতনভাবে ভাবা দরকার। বেশির ভাগ ভারতীয় ভাষায় দেখা গেছে তাদের ‘সাহিত্যকেন্দ্র’ কোনো একটি-মাত্র জায়গায় থিতু থাকেনি। তা ছিৎরে গেছে। এলাহাবাদ, আগ্রা, জয়পুর, ইন্দোর নাকি ভারতীয় সরকারের ভোপাল কোনটা হিন্দী সাহিত্যের ‘রাজধানী’ তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামান না। ওড়িয়া সাহিত্যে ভুবনেশ্বর, কটক, সম্বলপুর ইত্যাদি কেন্দ্রগুলি একই হারে প্রাণবন্ত। কেউ এগিয়ে বা পেছিয়ে নেই। বাংলার মতো আর কোনো ভাষাতেই এমন ছুকছুকে ভাগ-বাঁটোয়ারা নেই। কলকাতা বাংলা সাহিত্য-শিল্পের পীঠস্থান, এটা তো বারবার স্বীকার করছি। এটা তো, আমরা যারা বাংলা ভাষায় কথা বলি, প্রত্যেকের কাছে শ্লাঘার। হ্যাঁ, ‘আমাদের কলকাতা’। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের একটিই মাত্র কেন্দ্র,— এই ঘটনা সত্যিই কি আনন্দের? কেন কেবলমাত্র একটি শহরের সাহিত্যকেই ‘শ্রেষ্ঠ’ বলে জোর করে দেগে দেয়া হবে? আর, যাঁরা দেগে দিচ্ছেন তাঁরা প্রত্যেকে কলকাতাবাসী ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক সংস্থা। তাঁরা স্বঘোষিত পণ্ডিতপ্রবর তথা সবজান্তা, কেন্দ্রে বসে জ্ঞান বিতরণ করে প্রান্তবাসীদের মূর্খ ও সেকেন্ড ক্লাশ খাড়া করার এই চক্রান্ত অনেকাংশে ভারতবর্ষ তথা আফ্রিকায় বৃটিশ উপনিবেশীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করায়। বা, সোভিয়েত রাশিয়া যা করেছিল মধ্য এশিয়ায়। সাম্রাজ্যবাদী গুণ্ডা আমেরিকা যা করে চলেছে বিভিন্ন দেশে। প্রাচীন গ্রিসে সবক’টি নগররাষ্ট্র সমান ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এথেন্স চতুরতায় চড়ে বসেছিল চূড়ান্ত হিগেমোনিয়ায়। পরে যেভাবে প্রুশিয়ার হেগেমোনিয়া ছিল জার্মানিতে।

একই ভাষাগোষ্ঠির লোক সবাই সমান হওয়া সত্ত্বেও রংদারি ফলায় কলকাতার স্বঘোষিত কর্তাবাবারা। বাংলা সাহিত্যে এঁদের একচ্ছত্র বোলবালা। খুবই লজ্জার, দুঃখের কথা। ভারতবর্ষের অন্যান্য জায়গায় বাঙালির সাহিত্যের যে বাস্তবিক বিস্তৃতি, তাকে জবরদস্তি খাটো করার এই খেলা বাংলা সাহিত্যের স্বার্থেই বন্ধ হওয়া দরকার। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কলকাতার যে স্থান বা মর্যাদা, কারো ব্যক্তিগত অভীপ্সায় তা থেকে তাকে চ্যুত করা সম্ভব নয়। কলকাতা তো থাকবেই, আমি চাই, সাহিত্যের কেন্দ্র হিশেবে কলকাতার বাইরেও গড়ে উঠুক আরও কিছু ‘কলকাতা’।

আজ কলকাতা নামক ক্ষমতাকেন্দ্রের তরফ থেকে বহির্বঙ্গের লেখকদের ‘ঠেকনো’ দিয়ে দূরে সরিয়ে রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না। যাঁরা এখনো মনে করছেন, ক্ষমতাকেন্দ্র চিরকাল এ খেলায় অভ্যস্ত, সে চিরকালই তার সেন্টার-এর চৌহদ্দির বাইরের লোকজনদের ঢুকতে দ্যায়নি। এ কথা যে ভুল, সেটা একটু আগেই বিহার-ঝাড়খণ্ড এলাকার ফর্দ দিয়ে প্ৰমাণ করেছি। যেটা এক বাক্যে স্বীকার্য, আজকের ঝাড়খণ্ডে দু-তিনটি-অন্তত, বেশ পরিণত, স্থির লক্ষ্য, ঋদ্ধ পত্রিকা ও পত্রিকাগুলিকে ঘিরে কিছু সচেতন কবি-গদ্যকার রয়েছেন, যাঁরা ‘অনুকরণ’-যোগ্য। একথা বলেই শেষ করা যেত, কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, হাল আমলের বেশ কিছু নির্মাণ নতুন করে ঝাড়খণ্ডকে আলোচনার কেন্দ্রভূমি করে তুলেছে। এ দ্বারা এ কথাও প্রমাণিত, যে, ঝাড়খণ্ড বাংলা সাহিত্যের আকর। এখানে এমন কিছু আছে যা মানুষের চেতনায় ‘স্বপ্ন্’ এঁকে দেয়। লেখককে সাহসী, সৎ এবং নির্লোভ হতে সাহায্য করে। আর একটা কথা তো বলতেই হবে, মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে, মিডিয়া বা প্রচার যেখানে পৌঁছয় না, পাঠক নেই বললেই চলে, একটা জরুরি গ্রন্থের জন্য কলকাতা ছুটতে হয়,— এরকম এক মরুভূমিতে, কিছু মানুষ, কেবল ভাষার টানে, ছন্দ ও শব্দের বন্ধনে, আত্মসমর্পণ করেছেন— এর মূল্য ইতিহাস দেবে। যত প্রতিরোধই আসুক, ঝাড়খণ্ডে যে নতুনত্বের ‘ইতিহাস’ আছে তা মুছে যাবার নয়। বাংলা সাহিত্যকে বহু ‘নতুন’ যোগান দিয়েছে অতীতের বিহার-ঝাড়খণ্ড, এবং আরও বহু নতুনের যোগান দিতে প্রস্তুত এ সময়ের ঝাড়খণ্ড। আগামী প্রজন্মের বেশ কিছু পৃষ্ঠা, অধ্যায়, ঝাড়খণ্ডের বাংলা সাহিত্যের জন্য অপরিহার্য।

এছাড়া, সবচেয়ে বড় কথা,— ডায়াসপোরা তো নিছক স্থানিক নয়, তা মানসিকও বটে— তার প্রাচীন উদাহরণ যদি হন ঈশ্বর গুপ্ত, তাহলে নতুন দৃষ্টান্ত কমলকুমার, অমিয়ভূষণ মজুমদার, উদয়ন ঘোষ, রবীন্দ্র গুহ, অরুণেশ ঘোষ, মলয় রায়চৌধুরী, সুবিমল বসাক, কমল চক্রবর্তী, নবারুণ ভট্টাচার্য, রণবীর পুরকায়স্থ, প্রদীপ দাশ শর্মা, অরুণ চট্টোপাধ্যায়, বারীন ঘোষাল, শুভংকর গুহ, দেবজ্যোতি রায়, অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং, এই সারিতে এত নাম যে চটপট লিখে শেষ করা অসম্ভব। (এখানে অবশ্য গদ্যকারদেরই নামের সূচি দিলাম, যদিও এটি একান্তই অসম্পূর্ণ— এবং, আমার অপারকতা। এছাড়া অভিনবেশ যোগ্য কবির সংখ্যা তো আরও ব্যাপক)। এঁদের ভাষা ও ভাষা সংক্রান্ত ভাবনাচিন্তা সম্পূর্ণত ডায়াসপোরিক। অতীতে আমরা আরও দেখেছি, যে বিদ্যাসাগর কথায় কথায় স্ল্যাং বলতেন, স্ল্যাং-এর তরফে তাঁর ঐতিহাসিক পক্ষপাতিত্বের কথাও আমাদের অজানা নয়;— সেই বিদ্যাসাগরই বাংলা ভাষার বৈজ্ঞানিক বিধিবদ্ধতার ও শিক্ষার প্রকরণ গড়েছিলেন। তারও আগে বঙ্গলিপি প্রবর্তনের পরবর্তী পর্যায়ে বিদ্বজ্জন বাঙালি নকশা, প্রহসন, ব্যঙ্গ, স্যাটায়ার, নাটক ইত্যাদি ভাষাশিল্পে জনমনোরঞ্জন ও সামাজিক সমালোচনা জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। শুধুমাত্র কলকাতায় চলে, সেসব নয়, বাংলা ও বাংলার প্রতিবেশী ভাষা থেকেও শব্দ আহরণ করে যারা ‘নতুন’ বাংলা ভাষার জন্ম দিয়েছেন বা এখনো দিয়ে চলেছেন, তাঁদেরকে বাদ দেবে কোন আহাম্মক? সৃষ্টিশীল সাহিত্যিক স্বাধীন ভাবে ভাষাবুনন করেন বৃহত্তর বাংলা সমাজের যে কোন এক বা বহু প্রান্তের সজীব ভাষার প্রত্যক্ষ আহরণ বা পরোক্ষ মিশ্রণ ক’রে। এখন সাহিত্যিক তাঁর ভাষার মাধ্যমে ভিন্নতর মৌলিকতার সন্ধান ও প্ৰতিষ্ঠা করতে উন্মুখ। পরিপ্রেক্ষায় অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ ‘নিজ’ ‘অপর’ সব মিলেমিশে যাচ্ছে। ভাষা আন্দোলনে এটি একটি বৈপ্লবিক আয়োজন। একে নাকচ করতে চাইলেও তা করা যাবে না।

এবার বলুন পাঠক,— বাংলা সাহিত্যের পিঠ সত্যিই কি দেয়ালে গিয়ে ঠেকেছে, নাকি, সমুখে সুপ্রশস্ত রাজবর্ত্ম?? যে কোনও ভাষায় সাহিত্যের প্রকৃত ভোর হয় মধ্যরাতে। হতাশা ও ব্যর্থতা বোধ একলপ্তে মুছে যায়। ধোঁয়াশা-মিশ্রিত কুয়াশার মধ্য দিয়েই ওভার ব্রিজে বিজয়ের ধ্বজা উড়িয়ে হেঁটে আসেন পথপ্রদর্শক।


*বানান অপরিবর্তিত