Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

শক্তি চট্টোপাধ্যায় স্মারক বক্তৃতা: একটি প্রতিবেদন

সমতা বিশ্বাস

 

গত ১৪ই ডিসেম্বর যাদবপুর ইউনিভার্সিটি তে অনুষ্ঠিত হোল পঞ্চম শক্তি চট্টোপাধ্যায় স্মারক বক্তৃতা। অনুষ্ঠানের সভামুখ্য অধ্যাপক গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, বক্তা অধ্যাপক অরিন্দম চক্রবর্তী। বক্তব্যের শিরোনাম, ‘শোক, শ্লোক, মৃত্যু, সত্য কবিতার দর্শন’। আনাচেকানাচে ভরা ত্রিগুণা সেন প্রেক্ষাগৃহে, অধ্যাপক অম্লান দাশগুপ্ত আসনে বসা এবং আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের সাথে যথাক্রমে শক্তি চট্টোপাধ্যায় (শক্তি কিছুদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন, তাঁর পরিবারের অনুদানে এই বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়) স্মারক বক্তৃতার ও সভামুখ্যের পরিচয় করিয়ে দেন। গায়ত্রী স্পিভাক শ্রোতাদের সাথে পরিচয় করান বক্তা অরিন্দম চক্রবর্তীর, তাঁর শিক্ষা, গবেষণা, চাকুরী, ইংরাজি ও বাংলা বই, পুরস্কার এবং অন্যান্য প্রকাশনার মাধ্যমে। স্পিভাক তাঁর স্বভাবচিত ভঙ্গিতে তাঁর নিজের সাথে অরিন্দম এর হৃদ্যতা ও তাত্ত্বিক কথোপকথনের কথাও উল্লেখ করেন। স্পিভাক বলেন, অরিন্দমের বক্তব্য সাহিত্যের সহতা-র সাথে শ্রোতাদের পরিচয় করিয়ে দেবে।

মূল বক্তব্যটি পেশ করার সময় অরিন্দম সাহায্য নিলেন একাধিক কবির কবিতার, W. H. Auden, Emily Dickinson থেকে বিনয় মজুমদার, জীবনানন্দ দাশ, শক্তি নিজে এবং আরও অনেকের, ব্যাস থেকে অভিনবগুপ্ত, van Gogh এর ছবি, উর্দু কবিতা ও গান ইত্যাদির। (ইংরিজি কবিতাগুলি অরিন্দম বেশিরভাগ নিজে অনুবাদ করেছেন, কয়েকটি নিজে পড়ে শোনালেন আর বাকিগুলো তাঁর বন্ধুর গলায় আবৃত্তি)।

চারভাগে বিভক্ত বক্তব্যের শিরোনাম, অরিন্দম এই চারটির মধ্যে সম্পর্ক কবিতার উদাহরণ দিয়ে দেখালেন। শোক কী? শোককে কীভাবে রসাত্মক শব্দে-শ্লোকে উপস্থাপনা করা যায়, এবং সেই উপস্থাপনা কি আদৌ সফল হওয়া সম্ভব? নাকি শব্দ হামেশাই বেইমানী করবে, এবং তা থেকে আসবে দ্বিতীয় পর্যায়ের শোক? আদি প্রয়োগ উপনিষদ অনুযায়ী, ভোজ্য আর ভোজের মধ্যে যোগ করাবে শ্লোক, ‘its task is to join। কিন্তু সেই শ্লোকে ভর করে বিনয় মজুমদারের অমোঘ নিদান, ‘এর নাম মৃত্যু, মহাশয়’। সত্য কি তাহলে শ্লোকে উপস্থিত? উদ্দেশ্য আর বিধেয়র মধ্যে সম্পর্ক হল সত্য, ‘যা তা’।

অরিন্দম পড়ে শোনালেন Emily Dickinson এর কবিতা নম্বর ২৮০,

‘I felt a Funeral, in my Brain,

And Mourners to and fro

Kept treading- treading- till it seemed

That sense was breaking through–

অরিন্দম কবিতার অনুবাদ করেই ক্ষান্ত হলেন, তবে Dickinson এর ‘sense’ আসলে পথ দেখায় সেই সত্যের, যা শ্লোকে বাস করে।

কবিতার শেষ অবশেষ কি? যে অপহা, excess নিয়ে কবিদের কারবার, তাকে ধরার প্রচেষ্টার নামই কি ব্যর্থতার সাফল্য? Dickinson এর ‘sense’ এর প্রতিফলন কি জীবনানন্দের “বোধ” কবিতায়ঃ

‘আলো-অন্ধকারে যাই – মাথার ভিতরে

স্বপ্ন নয়, কোন এক বোধ কাজ করে।

স্বপ্ন নয় – শান্তি নয় – ভালোবাসা নয়,

হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়।‘

স্মারক বক্তৃতায় প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকে না। তবে তার অভাব সহজেই, এবং হয়ত অনেক বেশি ভালোভাবে পূরণ হল বক্তৃতার পরে স্পিভাকের ভাষ্যে। কিছুটা বকে, (‘অরিন্দম, Dickinson এর অনুবাদটা—তুমি ছন্দে ফেলে দিলে? ওই যে ড্যাশ দিয়ে দিয়ে লেখা, সেটার অনুবাদ, আসলে অনুবাদই কি অসম্ভব নয়?’), এবং অনেক বেশী প্রশংসা করে তুলে ধরলেন কিছু প্রশ্ন, যা জড়িত সাহিত্যের ও উপাখ্যানের চরিত্রের সাথে।