Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

রামের নামে বেকারিত্বের দানব পালাবে কি?

প্রবুদ্ধ বাগচী

 


কাজের সুযোগ কম, মজুরি কম, স্থানীয় এলাকার চাহিদার প্রতি নির্লিপ্তি, নারীদের ক্ষমতায়নের প্রশ্ন উপেক্ষিত, আর প্রতিটি ক্ষেত্রের মতোই কর্পোরেটস্বার্থের সিদ্ধি— একই ট্র্যাডিশনের প্রতিধ্বনি এবারেও। রামের নামে ভূত পালিয়ে গেলেও ‘জি রামজি’র নামে বেরোজগারির দানো পালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা না করাই ভালো

 

২০০৪ সালে কেন্দ্রে ইউপিএ সরকার প্রতিষ্ঠার পর গ্রামীন কর্মসংস্থানের বিষয়ে প্ল্যানিং কমিশন একটি দেশব্যাপী নিবিড় সমীক্ষা করে। সেই সমীক্ষক দলে ছিলেন দেশের নামী অর্থনীতিবিদ ও সমাজকর্মীরা। তাঁরা দেশ ঘুরে দেখেছিলেন, সত্যি সত্যি গ্রামীণ ক্ষেত্রে মানুষের হাতে কাজ ও তার উপযুক্ত মজুরি দিয়ে স্বনির্ভর করতে গেলে বছরে অন্তত তিনশো দিনের কাজ দেওয়া দরকার। এর সঙ্গে সামান্য আপস করলেও অন্তত দুশো দিনের কাজের গ্যারান্টি দরকার। তৎকালীন ইউপিএ-র চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধিকে এই খবর জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষে এতটা ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়, আপাতত বছরে একশো দিনের কাজের ব্যবস্থা হোক, পরের পর্বে তা বাড়ানোর কথা ভাবা যেতে পারে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই চালু হয় একশো দিনের কাজের প্রকল্প, পরে সংসদে পাশ করিয়ে এটিকে আইন করা হয়। প্রকল্প ও আইনের পার্থক্য হল, প্রকল্পের আওতায় কাজ পাওয়া মানুষের আইনি অধিকার থাকে না, তাঁকে কাজ থেকে বঞ্চিত করা যায়। কিন্তু আইনি রক্ষাকবচ থাকলে কাজ পাওয়া তাঁর অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কাজের দাবি করতে পারেন, কাজ দিতে না পারলে তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ থাকে। স্বাধীন দেশে গ্রামীণ মানুষের কাজের অধিকারের প্রশ্নে এই আইনটি ছিল সব দিক দিয়েই ব্যতিক্রমী। কেবল দেশের মধ্যেই নয় বিদেশি অনেক খ্যাত অর্থনীতিক গ্রামীণ ভারতের মানুষের হাতে কাজ দেওয়ার এই প্রকল্পকে দু-হাত তুলে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। ২০০৫ সালে সংসদে সর্বসম্মতভাবে এই আইনটি পাশ হয় এবং গত কুড়ি বছরে সরকারের বদল ঘটলেও তার পরিধিতে থাকা গ্রামীণ মানুষরা এর ভিত্তিতে কাজ পেয়ে এসেছেন।

অতি সম্প্রতি সংসদে ওই একশো দিনের কাজের চালু আইনটি হঠাৎই পাল্টে গেল। অবশ্য আকস্মিক কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। গত কয়েকবছর ধরেই এই আইন নিয়ে ইতিউতি সংশয় জাগিয়ে তোলা হচ্ছিল এবং ধারাবাহিকভাবে এই খাতে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছিল কেন্দ্রীয় বরাদ্দ। ভাবখানা এমন যে এই কর্মসংস্থানের সুযোগেই নানা আর্থিক দুর্নীতি হচ্ছে, নানা জায়গায় খুঁজে পাওয়া গেছে ‘ভুয়ো জবকার্ড’— সুতরাং এবংবিধ জনমুখী প্রকল্পের বৈধতাই জিজ্ঞাসার মুখে! কথা হল, সরকারি সব প্রকল্পেই কম-বেশি আর্থিক দুর্নীতি হয়, খোদ প্রতিরক্ষা দপ্তরে তার প্রকোপ সর্বাধিক— এই অজুহাতে সরকারি প্রকল্পের নজরদারি ব্যবস্থা পোক্ত করাই বিধেয়, প্রকল্পটা বন্ধ করে দেওয়া নয়। কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি। মনে করে দেখা যেতে পারে, ভুয়ো জবকার্ডের সংখ্যা গুজরাতে বা উত্তরপ্রদেশে কম নয়, কিন্তু বারবার এই রাজ্যের দুর্নীতির কথাই আলোচিত হয়েছে বেশি। যার ভিত্তিতে গত চার বছর আমাদের রাজ্য এই প্রকল্পের অর্থ থেকে বঞ্চিত। রাজ্যের পক্ষে যদি সামান্যতম বেনিয়ম হয়ে থাকে তার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তদন্ত করা যায়, গরিব মানুষের মজুরির টাকা আটকে রাখা যায় না। আরেকটা বিষয় হল, এই আইনের যে ধারায় প্রকল্পের অর্থ বেনিয়মের জন্য সাময়িক মুলতুবি করার সুযোগ আছে তারই উপধারায় আর্থিক তছরুপের কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার কথাও বলা হয়েছে। আজ পর্যন্ত রাজ্যের বিরুদ্ধে বারবার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হলেও একজনের বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়মের মামলা করা হয়নি— রাজ্য যদি এই বিষয়ে গড়িমসিও করে, কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন দপ্তর নিজে থেকেও এফআইআর করতে পারত, করেনি। আর, রাজ্য-কেন্দ্র চাপান-উতোরের মধ্যে আমরা জানতে পারিনি কেন্দ্রের পক্ষে আপত্তিগুলি কোথায় কিংবা রাজ্যের পক্ষেই বা তাদের স্বচ্ছতার যুক্তি কী? উভয়েই শ্বেতপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে লুকোচুরি খেলছে। কিন্তু এবার যা ঘটল তা একেবারে উলটপুরাণ!

ঠিক কী বদল হল তাহলে? প্রথম অবশ্যই নাম। মহাত্মা গান্ধি জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান সুনিশ্চয়তা আইন (মনরেগা) থেকে আকস্মিক তা হয়ে গেল ‘জি রাম জি’— যে সংক্ষিপ্ত নামের মধ্যে ‘রাম’নাম ঢোকানো হল খুব বিচিত্র উপায়ে। এই প্রকল্পের নামে ব্যবহৃত ‘অজীবিকা’ শব্দটির খুব নির্দিষ্ট কোনও আভিধানিক অর্থ নেই। ‘অজীবিক’ দু-হাজার বছরের পুরনো একটি প্রাচীন ভারতীয় ধর্মীয় সম্প্রদায় যারা নিয়তিবাদকে অস্বীকার করতেন বলে জানা যায়— তাঁদের প্রসঙ্গ এই স্কিমের ক্ষেত্রে কী হিসেবে ঢুকল সে ভারি সন্দেহের বিষয়, কার্যত যার কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। কিন্তু এই নামবদল নিয়েই হইহই হল বেশি। মহাত্মা গান্ধির বদলে কেন রাম, এই বিরুদ্ধতায় ডুবে রইল বিরোধীরা। আসলে নাম শুধু নয়, বদলে গেল আরও নানা অভিমুখ।

বিগত আমলে বিশদ আলোচনা করে যে প্রকল্পকে আইনের আওতায় এনে গ্রামীণ মানুষের কাজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল এবার আবার তাকে ফিরিয়ে আনা হল সেই স্কিম বা প্রকল্পের আধারে। অর্থাৎ কাজের অধিকারের ক্ষেত্রটি সরাসরি অস্বীকার করা হল আবার। খেয়াল রাখতে হবে, কোভিডের সময় বিভিন্ন মেট্রোপলিটান শহর থেকে যখন অভিবাসী শ্রমিকরা নিজেদের গ্রামে ফিরছিলেন তখন এই মনরেগা আইনের মাধ্যমে তাঁরা বেশ কিছু কাজ পেয়েছিলেন বলে জীবিকাগত ধাক্কা সামলাতে পেরেছিলেন, নয়তো মহামারির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ত দুর্ভিক্ষ। তাছাড়া এই প্রকল্পের পরিধি ছড়ানো হয়েছিল শহরে পুরসভার ক্ষেত্রেও, সেখানকার গরিবরা শহরে নানা প্রকল্পে কাজ পাচ্ছিলেন। নতুন রাম-নামাঙ্কিত মিশনে আপাতত তার আর সুযোগ রইল না।

আরও কিছু গুরুতর বদল ঘটেছে এই নতুন মিশনে যার সবকটাই নানা ধরনের জিজ্ঞাসার জন্ম দেয়— সত্যিই কি এই পরিবর্তিত প্রকল্প মানুষের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রটা বাড়িয়ে দিতে চায় নাকি আরও জটিল করতে চায় তাঁদের দাবিকে? পুরনো আইনে কাজ চাওয়ার হিসেবনিকেশ তৈরি হত গ্রামীণ এলাকার মানুষের সম্মতি ও চাহিদার দিকে নজর রেখে। অর্থাৎ কোনও গ্রামে যদি একটা বাঁধ তৈরির প্রয়োজন হয় সেই কাজের দাবি উঠে আসত গ্রামসভায়, তারপর সেই কাজের জন্য কত মানব-দিবস লাগতে পারে তার বিচার করে শ্রমবাজেট পাঠানো হত উপরের স্তরে। সেইভাবে অর্থের সংস্থান করা হত আর বরাদ্দ অর্থের নব্বই ভাগ দিতেন কেন্দ্রের সরকার, বাকিটা রাজ্যের সরকার। সম্মিলিত কর্মোদ্যোগে যে স্থায়ী সম্পদ তৈরি হত (রাস্তা, পুকুর, বাঁধ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইত্যাদি) তার ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছিলেন এলাকার মানুষ। এবারে কিন্তু বিষয়টা হয়ে যাচ্ছে বিপরীত। ওপরের স্তর থেকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে কাজের ধরন, সেটা নিচের তলায় বাস্তবায়িত হবে— স্থানীয় মানুষের দাবি ও চাহিদা সরাসরি অস্বীকৃত হচ্ছে এই ব্যবস্থায়। সরকার যদি মনে করে পছন্দের কর্পোরেট সংস্থার সুবিধের জন্য ছত্তিশগড়ের বন কেটে সাফ করা দরকার, তবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার শ্রমসম্পদকে ব্যবহার করে সেই কাজ করিয়ে নেওয়া সম্ভব। তাতে এলাকার স্থায়ী সম্পদ তৈরি হোক বা না হোক সরকারের কিছু আসে যায় না। এই প্রকল্প আসলে হয়তো একটা ছক মাথায় রেখেই প্রবর্তন করার কথা ভাবা হচ্ছে।

এরপরে আসে, আর্থিক দায়ের প্রসঙ্গ। এতদিন যে অনুপাতে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই দায়ভাগ বন্টন করা ছিল (নব্বই ও দশ) এখন তা পাল্টে গিয়ে হয়ে যাচ্ছে ষাট ও চল্লিশের ভাগাভাগি। অর্থাৎ, কেন্দ্রের আর্থিক দায় কমিয়ে বেড়ে যাচ্ছে রাজ্যের দায়। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আলোয় কাজের দিন বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণার আদৌ কি সঙ্গতি আছে? বলা হচ্ছে, একশো দিনের বদলে একশো পঁচিশ দিন কাজ পাওয়ার কথা। কার্যত এখনকার চালু আইনে সর্বাধিক একশো দিনের কাজ দেওয়ার সংস্থান থাকলেও সারা দেশে বছরে একশো দিনের কাজ পান মাত্র ৭-৮ শতাংশ মানুষ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বছরে ৫০-৬০ দিন কাজ মেলে। যদি এই হিসেব মাথায় না রেখেও ধরা যায় বছরে একশো পঁচিশ দিনই কাজ মিলবে, তাহলে তার আনুপাতিক ব্যয় বেড়ে যাবে এবং সেই বাড়তি অর্থের সিংহভাগ চাপবে রাজ্যের ওপর। দেশের রাজ্য সরকারগুলির আর্থিক হাল কারও ভাল নয়— জিএসটি থেকে রাজ্যগুলির পাওনা টাকা নিয়মিত মিলছে না, নিজেদের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্র সঙ্কুচিত। এই অবস্থায় বাড়তি আর্থিক দায় তারা কীভাবে জোগাড় করতে পারবে তা নিয়ে ঘোর সংশয়— ফলে কাজ পাওয়া ও দেওয়ার ক্ষেত্রে দাঁড়িপাল্লা যে একদিকেই হেলে থাকবে এটা প্রায় স্পষ্ট। তবে যে রাজ্যগুলিতে তথাকথিত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার আছে তারা কিছু বাড়তি অনুগ্রহ পেতে পারে এবং কার্যত তাতে এই বার্তাই দেওয়া যাবে কেন্দ্রের সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চললে সেই রাজ্যের ভাঁড়ে ভবানী এবং সেখানকার মানুষের কাজ পাওয়ার সুযোগও বিশ বাঁও জলে।

প্রচলিত মনরেগা প্রকল্পের আরেকটি ধাঁচও পাল্টানো হচ্ছে যার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহের কালো মেঘ। বর্তমান ব্যবস্থায় টানা একশো দিনের কাজ দিয়ে মাঝে একদিনের ব্যবধান রেখে আবার তা চালু করা যায়। যেখানে মানুষের কাজের চাহিদা ও সুযোগ আদপে ব্যস্তানুপাতিক। সেখানে নতুন ‘রাম’ মিশনে বলা হচ্ছে বছরের দু-মাস কাজ বন্ধ করা হবে— অর্থাৎ একজন শ্রমিক যদি টানা একশো পঁচিশ দিনের কাজও পান তাঁকে দু-মাস বাধ্যতামূলকভাবে বসে যেতে হবে। কেন এই দু-মাস? এর একটা সহজ ব্যাখ্যা হল, দেশে ফসল বোনা ও ফসল কাটার সময় বড় কৃষকদের মোটামুটি দু-মাস নিয়মিত কৃষি-শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। গ্রামীণ কৃষি-শ্রমিকরা যদি ‘সরকারি প্রকল্পে’ স্থানীয়ভাবে কাজ পেয়ে যান তাহলে তাঁরা আর ভিনরাজ্যে বা ভিনজেলায় কাজে যেতে আগ্রহী হবেন না। সুতরাং তাঁদের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া গেলে ধনী কৃষকদের সস্তায় শ্রমিক পাওয়ার পথ খুব নির্লজ্জভাবেই খুলে দেওয়া যায়। যে কৃষি-আইন নিয়ে সরকারকে ঢোক গিলে সরে যেতে হয়েছিল, এই ব্যবস্থায় সম্পন্ন কৃষক বা কৃষি-কর্পোরেটদের প্রতি দরাজও হওয়া গেল এই সুযোগে।

তবে এই নতুন নিয়মে সবচেয়ে বিপন্ন হলেন গ্রামীণ মহিলারা, আদপে যাঁরা ছিলেন মনরেগা আইনে কাজ পাওয়া শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় অংশ। সমীক্ষা বলে, অন্তত নব্বই শতাংশ মহিলা চালু আইনে কাজ পাচ্ছিলেন। তার কারণ, মনরেগা-য় নিজের স্থায়ী আবাসের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে কাজ মেলে, দূরে গিয়ে সাময়িক আস্তানা করার প্রয়োজন হয় না। একটি পরিবারের একজন পুরুষ সদস্য দূরে কাজ করতে গেলেও সেই পরিবারের মহিলা সদস্য স্থানীয়ভাবে কাজ করে পরিবারে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে আসতে পারেন। কার্যত এই প্রমীলা মনরেগা বাহিনী বিভিন্ন গ্রামে একটা সামাজিক গোষ্ঠী হিসেবে উঠে এসেছেন। বাড়তি আয়ের জন্য তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা গেছে, তাঁরা অল্পবিস্তর সঞ্চয় করতে পেরেছেন। আরেকটা ব্যাপার হল, এই আইনে নারী-পুরুষের মজুরির ভিন্নতা নেই যা অন্য যে-কোনও কাজে দেখা যাবে। ফলে এই সুবিধা পেয়েছেন মহিলারাই। ২০০৫ সালের মনরেগা চালুর সময় এই কাজের মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যূনতম মজুরি আইন মানার দাবি উঠেছিল যদিও সেই দাবি মানা হয়নি। আজ এত বছর বাদে প্রকল্পের খোলনলচে পাল্টে গেলেও নতুন ‘জি রামজি’-র আওতায় ন্যূনতম মজুরি আইন মেনে নেওয়ার পথেও সরকার এগোল না। কাজের সুযোগ কম, মজুরি কম, স্থানীয় এলাকার চাহিদার প্রতি নির্লিপ্তি, নারীদের ক্ষমতায়নের প্রশ্ন উপেক্ষিত, আর প্রতিটি ক্ষেত্রের মতোই কর্পোরেটস্বার্থের সিদ্ধি— একই ট্র্যাডিশনের প্রতিধ্বনি এবারেও। রামের নামে ভূত পালিয়ে গেলেও ‘জি রামজি’র নামে বেরোজগারির দানো পালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা না করাই ভালো।


*মতামত ব্যক্তিগত