Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

ইরান আজ শুধু স্বাভাবিক জীবন চাইছে

তমাল মিত্র

 


ইরানের ইতিহাস আজ এক পূর্ণবৃত্ত সম্পূর্ণ করতে চলেছে। আড়াই হাজার বছর আগে সাইরাসের যে উদারতা ছিল, যে ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল, আজ রক্তগঙ্গা পেরিয়ে ইরান সেই উদারতা ও ধর্মনিরপেক্ষতাকেই খুঁজে চলেছে। ১৯৭৯ সালে ইরানিরা ভেবেছিল ধর্ম তাদের মুক্তি দেবে, আজ তারা বুঝল ধর্ম কেবলমাত্র পায়ের বেড়ি ছাড়া আর কিছুই নয়। ইতিহাসবিদরা বলবেন, ইরান ১৯০৬ সালে সংবিধান চেয়েছিল, ১৯৫৩ সালে তেল চেয়েছিল, ১৯৭৯ সালে ইসলাম চেয়েছিল, আর ২০২৬ সালে এসে তারা শুধু স্বাভাবিক জীবন চাইছে

 

সেদিন সমাজ-মাধ্যম খুলতেই ভিরমি খাওয়ার জোগাড়। ইরানের এক তরুণী সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের ছবিতে আগুন ধরিয়ে, সেই শিখা থেকেই অবলীলায় ধরিয়ে নিচ্ছে নিষিদ্ধ সিগারেট। কত বড় আস্পর্ধা! ইরানের ‘মরাল পুলিশ’রা বোধহয় এতক্ষণে হার্টফেল করে বসেছে। ভয় খেলাম, এই মেয়েকে তো জ্যান্ত কবরে পুঁতে ফেলবে কট্টরপন্থীরা! কিন্তু ওমা! মুহূর্তের মধ্যেই একাধিক মেয়ের ভিডিও ও ছবিতে ছেয়ে গেল গোটা নিউজফিড। এ কি তবে নতুন কোনও বিপ্লবের সঙ্কেত? তারা চিৎকার করে বলছে, ‘ইসলাম নয়, জরথুস্ট্রবাদই আমাদের ধর্ম।’ যে আগুনের উপাসনা করত তাদের পূর্বপুরুষরা, আজ সেই আগুনেই কি তারা ভস্মীভূত করতে চাইছে মধ্যযুগের মৌলবাদকে? ইতিহাস বড়ই রসিক, তার রসবোধ বড়ই নির্মম। সে ঠিক সময়মতো নিজের লেজ কামড়ে ধরে।

একটু পেছনে ফেরা যাক। ৫৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। সাইরাস দ্য গ্রেট তখন আকামেনিদ সাম্রাজ্যের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। জরথুস্ট্রবাদ তখন বাজারে সুপারহিট। সম্রাট নিজেকে ‘আহুরা মাজদা’ বা ‘জ্ঞানী প্রভুর’ অনুসারী ঘোষণা করলেন বটে, কিন্তু ছিলেন বুদ্ধিমান। তিনি জানতেন পেটের খিদে আর ধর্মের নেশা এক জিনিস নয়। তাই তিনি ব্যাবিলনের মারদুক কিংবা মিশরের আমুন-রা-র মতো বিদেশি দেবতাদের দেখে নাক না সিঁটকিয়ে বরং তাদের সঙ্গে ‘হাই-হ্যালো’ সম্পর্কই বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু তাল কাটল সাসানীয় আমলে। তারা মাথার ঘিলু খেয়ে বলল, ‘ধর্ম ও রাজতন্ত্র যমজ ভাই’। ব্যস! আর যায় কোথায়! সেই যে রাজনীতির ককটেলে ধর্মের আফিম মিশল, আড়াই হাজার বছর পরে আজও ইরানিরা সেই নেশার ঘোরে টলছে।

তারপর এল ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দ। আরবদের তরোয়ালের খোঁচায় পারস্যের আগুন নিভে গিয়ে ইসলামের আলো জ্বলে উঠল। ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে শাহ ইসমাইল ভাবলেন, সুন্নি থাকলে চলবে না, শিয়া হতে হবে। কারণ? প্রতিবেশী অটোমান তুর্কিরা সুন্নি, তাদের থেকে আলাদা হতে হবে। দুই দেশের মধ্যে শিয়া-সুন্নির বর্ডার টানতে হবে। শুরু হল ধর্মান্তরের বিপ্লব।

ফাস্ট ফরোয়ার্ড ১৯৫৩। আমাদের এই উপমহাদেশের মতোই তখন ইরানেও ইসলাম ও গণতন্ত্র হাত ধরে ঘোরাঘুরি করছে। কিন্তু গণতন্ত্রের মাপকাঠি কে ঠিক করবে? কে আবার! সবার মাথার ওপর যিনি বসে আছেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারা ভেবে বসল, ইরানে কিছু ঠিক নেই। ইরানকে উদ্ধার করতে হবে। কিন্তু কাদের হাত থেকে? ইরানের জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেকের হাত থেকে! তাঁর অপরাধ? তিনি ব্রিটিশদের পেটে লাথি মেরে ইরানের তেল ইরানের মানুষের জন্য জাতীয়করণ করতে চেয়েছিলেন। বোঝা উচিত ছিল, পৃথিবীর সমস্ত তৈলভাণ্ডারের ওপর আমেরিকা ও তার বন্ধুদের একচ্ছত্র অধিকার। তারা এত বড়ই আহাম্মক! তার চেয়েও বড় আহাম্মক জাতিসংঘ, যাদেরকে কাঁচকলা দেখিয়ে আমেরিকা ও ব্রিটিশরা একজোট হয়ে শুরু করল ‘অপারেশন এজাক্স’। বিপ্লবের ফলাফল? ইরানের মসনদে বসলেন রাজতন্ত্রের ধ্বজাধারী শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি।

মার্কিন আশীর্বাদপুষ্ট শাহ তখন ‘গ্রেট সিভিলাইজেশন’-এর স্বপ্নে বিভোর। হাতে অঢেল পেট্রো ডলার। তিনি ভাবলেন, তেহরানকে রাতারাতি লন্ডন বানিয়ে দেবেন। বাংলার মানুষ এহেন পরিকল্পনার সঙ্গে সম্যক পরিচিত। পার্থক্য একটাই, শাহ করে দেখালেন। ১৯৬৩ সালে শুরু হল শ্বেতবিপ্লব। সামন্তপ্রথা বিলোপ করে কৃষকদের মধ্যে জমি বিতরণ করলেন। গ্রামে গ্রামে শিক্ষার প্রসারে ‘লিটারেসি কর্পস’ পাঠালেন। কারখানার শেয়ার শ্রমিকদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেন। ইসলামি শাসনে অভ্যস্ত নারীরা হঠাৎ করে আলোর মুখ দেখল। তারা পুরুষের সমান অধিকার পেল। হিজাব পরা আর ট্রেন্ডিং রইল না।

তেলের রোশনাইয়ে শহরে আলো জ্বলে উঠল বটে, গ্রামগঞ্জে তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। প্রাচুর্যের বিকট বৈষম্য। সাধারণ মানুষ মাথার ওপর ছাদ জোটাতে হিমশিম খাচ্ছে। হিজাবকে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেওয়ায় গ্রামের মা-মেয়েরা বেজায় খাপ্পা। মেয়েদের বিকিনি পরে ঘুরতে দেখে রক্ষণশীলদের ভিরমি খাওয়ার জোগাড়। এ আবার কী ধরনের অসভ্যতা! তাঁরা বললেন, ‘হিজাব আমাদের অধিকার’। দুঃখ একটাই, যাদবপুরের মতো কেউ তাঁদের পাশে এসে দাঁড়াল না। আর দাঁড়াবেই বা কী করে! শাহের পোষা সাভাক পুলিশের হাতে আঁতেলরা নাকানিচোবানি খাচ্ছে। কমিউনিস্ট দেখলেই তাঁদেরকে দেশদ্রোহীর তকমা দিয়ে দেশ ছাড়তে বলা হচ্ছে। তাছাড়া নিত্যনতুন কেলেঙ্কারি তো লেগেই আছে।

কিন্তু ক্ষমতায় অন্ধ হয়ে শাহ মস্ত বড় ভুল করে বসলেন। তিনি ইসলামে নাক গলালেন। ভূমিসংস্কারের জাঁতাকলে ইসলামিক ওয়াকফ সম্পত্তি সরকারের হাতে চলে যাওয়ায়, মোল্লারা গরম তেলে পড়া বেগুনের মতো চিড়বিড় করে উঠেছিল। এরপর শাহ ইসলামিক ক্যালেন্ডার বাতিল করে ইম্পিরিয়াল ক্যালেন্ডার নিয়ে আসতেই ইসলাম বিপদে পড়ল। এ যেন ইসলামের বিরুদ্ধেই জেহাদ ঘোষণা! এমন মামদোবাজি আর কাঁহাতক সহ্য করা যায়!

১৯৭৯-এ বামপন্থী, উদারপন্থী (পড়ুন পুঁজিবাদী) এবং ইসলামপন্থীরা একসঙ্গে জোট বাঁধলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নাম দিলেন ‘রেইনবো কোয়ালিশন’। চলতি বাংলায়, জগাখিচুড়ি। তাঁদের দাবি— শাহের পতন। তখন ইন্টারনেট ছিল না। টিভি ও বেতার সম্প্রচার ছিল শাহের পকেটে। কুছ পরোয়া নেহি। তাঁদের অস্ত্র ছিল অডিও ক্যাসেট। প্যারিস থেকে আয়াতুল্লাহ খোমেনির জ্বালাময়ী ভাষণ ক্যাসেটে রেকর্ড করে পাড়ায় পাড়ায় বাজানো হত। নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যেত এক-একটা ক্যাসেট।

শাহের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতল ১৯৭৮-এর ১৯ আগস্ট। আবাদান শহরের ‘সিনেমা রেক্স’ দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। ৪০০-র বেশি মানুষ মারা গেলেন অগ্নিদগ্ধ হয়ে। আসলে আগুন লাগিয়েছিল ইসলামিক চরমপন্থীরা, যাদের কাছে সিনেমা দেখা ছিল হারাম। কিন্তু জনতা রায় দিল, এ কাজ খুনি সরকারের। ১৯৭৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, তেহরানের জালেহ স্কোয়ারে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হল ১০০ বিক্ষুব্ধ জনতা, কিন্তু বিরোধীদের দাবি সংখ্যাটা ৪০০০ ছাড়িয়েছে। প্রতিবাদে তেলশ্রমিকরা ধর্মঘটে যোগ দিতেই দেশের চাকা বন্ধ হয়ে গেল। সরকারি কর্মচারীরাও কলম ছেড়ে রাস্তায় নামল। ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস গর্জে উঠল। বিপ্লবের কালো ধোঁয়াতে অন্ধ হয়ে গেল একটা গোটা জাতি, আর সেই ধোঁয়া কাটলে দেখা গেল, দাঁত বের করে হাসছে একনায়কতন্ত্রের নতুন সংস্করণ— ইসলামিক প্রজাতন্ত্র।

আজ, খোমেনির উত্তরসূরি খামেনি ইরানের সর্বাধিনায়ক। তাঁর প্রেরণায়, কড়া ইসলামিক অনুশাসনে ইরানিদের নাজেহাল অবস্থা। এরই মধ্যে ২০২২-এর ১৬ সেপ্টেম্বর, ২২ বছরের যুবতী মাহশা আমিনিকে ইরানের নৈতিক পুলিশ গ্রেপ্তার করল। অপরাধ? হিজাবের আড়াল থেকে একগুচ্ছ অবাধ্য চুল নাকি উঁকি দিয়েছিল। এতেই ইসলামের স্তম্ভ কেঁপে উঠল। সমাজকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য পুলিশ তাঁকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করল। তার ফল হল মারাত্মক। দাবানলের মতো সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল। ইসলামের চোখে ব্রাত্য মেয়েরা রাজপথে নামল। তারা হিজাব খুলে ফেলল। কয়েকজন একধাপ এগিয়ে প্রকাশ্যে তাদের চুল কেটে ফেলল। ধর্মরক্ষকরা গোলাবারুদ চালিয়ে বিক্ষোভ দমন করল। ৪৭৬টি তাজা লাশের ওপর দাঁড়িয়ে খামেনি পরম তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললেন। তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পেলেন না ইতিহাস বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে নিঃশব্দে এগিয়ে আসছে।

২০২৫ সালে, ইজরায়েলের বিরোধিতা করতে গিয়ে ইরান নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনল। ‘১২ দিনের যুদ্ধে’ ইজরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের তেলের পরিকাঠামো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ফলস্বরূপ, ইরানিদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে হাজির হল আমেরিকা। ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ ইরানের নাতানজ আর ফোরদোর পরমাণুকেন্দ্রগুলোকে আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে পরিণত করেছে। ইরানের ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর গর্ব হামাস ও হিজবুল্লাহর চিহ্ন মুছে গিয়েছে।

বাইরে যখন এই ল্যাজেগোবরে দশা, তখন ঘরের ভেতরে আবার ফুঁসে উঠল যুবসমাজ। ইরান সরকার ভাবল, এই পোলাপানরা সারাদিন রিলস আর টিকটক বানিয়ে সময় কাটায়, তাই ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলেই এরা নিস্তেজ হয়ে পড়বে। ৮ জানুয়ারি ২০২৬-এ নামল ডিজিটাল অন্ধকার। জেন-জিদের হাঁটুতে বুদ্ধি ভাবার ফল হল উল্টো। আকাশে নক্ষত্রের মতো জ্বলে উঠল ইলন মাস্কের ‘স্টারলিঙ্ক’ স্যাটেলাইট টার্মিনাল। ১৯৭৯-র ক্যাসেট আজ পরিণত হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তিতে।

১৯৭৯ সালে শাহ ছিলেন যেন এক ‘দোদুল্যমান হ্যামলেট’। নিজের দেশের মানুষের ওপর গুলি চালাতে গিয়ে তাঁর হাত কেঁপেছিল, বিবেকে বেধেছিল। কিন্তু আজকের শাসকরা প্রফেশনাল। তারা বেছে নিয়েছে ‘সিরিয়া মডেল’। অর্থাৎ, গদি বাঁচাতে যদি গোটা দেশকে শ্মশান বানিয়ে দিতে হয়, তো ‘বিসমিল্লাহ’! জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই নিহতের সংখ্যা ১২ থেকে ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। ১৯৭৯-র গোটা বিপ্লবে যেখানে মরেছিল মাত্র ২,৭৮১ জন, সেখানে আজকের শাসকরা এক সপ্তাহেই সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। একেই বলে ‘উন্নয়ন’। বিচারমন্ত্রী হুঙ্কার দিয়েছেন, যারা রাস্তায় নামবে তারা আল্লাহর শত্রু, আর এর শাস্তি একটাই— মৃত্যু।

নিয়তির প্যাঁচে ইতিহাসের চাকা ঘুরে আজ তেহরানের রাস্তায় শোনা যাচ্ছে, ‘রেজা শাহ, রুহাত শাদ’ অর্থাৎ রেজা শাহ, তোমার আত্মা শান্তি পাক। ভাবুন একবার! যে রাজতন্ত্রকে উৎখাত করতে তাদের বাবা-দাদারা রক্ত ঝরিয়েছিল, আজ সেই রাজতন্ত্রের প্রতীক ‘সিংহ ও সূর্য’-খচিত পতাকাই তাদের বিপ্লবের আইকন। তাদের নতুন স্লোগান— আমাদের শত্রু ওখানে (আমেরিকা) নয়, আমাদের শত্রু এখানে।

ইরানের ইতিহাস আজ এক পূর্ণবৃত্ত সম্পূর্ণ করতে চলেছে। আড়াই হাজার বছর আগে সাইরাসের যে উদারতা ছিল, যে ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল, আজ রক্তগঙ্গা পেরিয়ে ইরান সেই উদারতা ও ধর্মনিরপেক্ষতাকেই খুঁজে চলেছে। ১৯৭৯ সালে ইরানিরা ভেবেছিল ধর্ম তাদের মুক্তি দেবে, আজ তারা বুঝল ধর্ম কেবলমাত্র পায়ের বেড়ি ছাড়া আর কিছুই নয়। ইতিহাসবিদরা বলবেন, ইরান ১৯০৬ সালে সংবিধান চেয়েছিল, ১৯৫৩ সালে তেল চেয়েছিল, ১৯৭৯ সালে ইসলাম চেয়েছিল, আর ২০২৬ সালে এসে তারা শুধু স্বাভাবিক জীবন চাইছে।

কিন্তু এই স্বাভাবিক জীবনের দাম বড্ড বেশি। তেহরানের রাজপথ আজ রক্তে পিচ্ছিল। তবুও, আগুনের উপাসক জাত কি আগুনকে ভয় পায়? তারা জানে, ফিনিক্স পাখি ভস্ম থেকেই জন্ম নেয়। ইরানের ইতিহাস যেখান থেকে শুরু হয়েছিল, হয়তো সেখানেই গিয়ে মিলবে আবার, কিংবা হয়তো শুরু হবে নতুন কোনও সংঘাত। কে জানে, হয়তো আগামী পঞ্চাশ বছর পর, সমাজমাধ্যম খুলে আবার চমকে উঠতে হবে।


*মতামত ব্যক্তিগত