Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

এসআইআর: চরিত্রগতভাবে এক ফ্যাসিবাদী প্রকল্প

সুমন কল্যাণ মৌলিক

 


দুর্ভাগ্যের বিষয় হল এই ফ্যাসিবাদী প্রকল্প ভারতীয় জনগণের জন্য কী বিপর্যয় ডেকে আনছে তা অনুভব করতে ব্যর্থ হয়েছে সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। কোনওরকম সংবিধান সংশোধন ছাড়া, কোনও দেশব্যাপী বিতর্ক ছাড়াই একতরফাভাবে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে ধ্বংস করে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আলোচনার শুরুতেই আমরা উল্লেখ করেছি যে সংসদীয় বিরোধী দলগুলো এসআইআরের প্রায়োগিক সমস্যাগুলোর বিরোধ করে এবং কিছু রিলিফ আদায় করেই খুশি থাকছে। এরা ভুলে যাচ্ছে এই অবস্থানের কারণে একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে তারা বৈধতা দিচ্ছে এবং গণহারে ভোটদানের অধিকার হরণ করার কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠছে

 

পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর-বিতর্ক নিত্যনতুন রং দেখাচ্ছে। একদিকে প্রথম দফায় এক কোটি রোহিঙ্গার হদিস করতে না পেরে নির্বাচন কমিশন ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (বিহারে এটা ছিল না) নামক এক খুড়োর কল আমদানি করে সাধারণ মানুষকে সন্ত্রস্ত করে রাখার কাজটা জারি রাখতে পেরেছেন। এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে অঘোষিতভাবে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিত্যনতুন নির্দেশিকা, নথির প্রশ্নে সার্কুলার এবং বিএলওদের উপর নামিয়ে আনা অঘোষিত সন্ত্রাস। তবে এটাই একমাত্র ছবি নয়। বিপ্রতীপে আছে একাধিক মামলা (মুস্তাকি বানোর মামলা-সহ), পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল এবং অবশ্যই আদালতের আংশিক হস্তক্ষেপ। এ-কথা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই যে এই আইনি লড়াইগুলো না থাকলে আধার কার্ডকে সহায়ক নথি হিসাবে মেনে নেওয়া, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বয়সের প্রমাণ হিসাবে মেনে নেওয়া, মাইক্রো অবজার্ভারদের ক্ষমতা হ্রাস বা একদম শেষবেলায় ‘অবিশ্বাস’-জনিত কারণে হাইকোর্ট নিযুক্ত ল অফিসার দিয়ে নথি যাচাইয়ের মতো আংশিক রিলিফ পাওয়া যেত না। মনে রাখতে হবে দেশে পশ্চিমবঙ্গ একমাত্র রাজ্য যেখানে এসআইআর নিয়ে বিরোধিতা করতে নাগরিক সমাজের বড় অংশের মানুষ সক্রিয়। এই সক্রিয়তাকে সমর্থন করেই বর্তমান নিবন্ধে কিছু কথা বলতে চাই যা বর্তমান সময়ে আলোচনায় উঠে আসা জরুরি। আমরা যদি এ-রাজ্যে এসআইআর-বিরোধিতার ন্যারেটিভটা পর্যবেক্ষণ করি তাহলে দেখতে পাব এই বিরোধিতাগুলি এখনও পর্যন্ত এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলিত প্রয়োগগত সমস্যাগুলোকে সামনে আনছে। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য যে সমস্ত নথিগুলো চেয়েছে তার অসম্পূর্ণতা, মানুষের যন্ত্রণা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দাদাগিরি, সময়াভাব— এগুলোই বিরোধিতার ভরকেন্দ্রে রয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এক বাঁধা গৎ আউরে যাচ্ছে, তা হল তারা কেউই স্বচ্ছ ভোটার তালিকার বিরোধী নয়। এই যুক্তি মোতাবেক বলা যেতে পারে যে কমিশন যদি প্রায়োগিক সমস্যাগুলো মেটাতে পারত তাহলে ‘ভালো এসআইআর’-এর স্বপ্ন সফল হতে পারত। এই নিবন্ধ এই ভাবনার বিপরীতে কিছু কথা বলতে চায়।

এই এসআইআর প্রকল্পের স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ পারাকলা প্রভাকর সঠিকভাবে মন্তব্য করেছেন:

SIR of electoral roll means that it is the government choosing the voters instead of the other way round.

এই ভাবনা ভারতের সংবিধানে উল্লিখিত সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভাবনার বিরোধী। সরকার যাদের ভোটার তালিকায় দেখতে চায় না, তাদের ভোটার তালিকা থেকে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাদ দিতে চায়। ইতিমধ্যে ভাইরাল হওয়া নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেছেন এসআইকরার সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের নয়। তাহলে প্রশ্ন হল এই সুবিশাল কর্মযজ্ঞের সিদ্ধান্ত আসলে কার! এই এসআইআরের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে কারণ কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন সরকারের এনআরসি করার পরিকল্পনা বিগত সময়ে গণ-আন্দোলনের চাপে সফল হয়নি। এক বিশাল সংখ্যক মানুষকে (যাঁদের মধ্যে বেশিটাই সংখ্যালঘু, প্রান্তিক ও মহিলা) যদি রাজনৈতিক সমাজ থেকে বহিষ্কার করা যায় তাহলে এঁদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে রূপান্তরিত করা যাবে। তাই সহজ কথাটা হল এসআইআর ভোটার লিস্টের প্রয়োজনীয় সংশোধনী নয়, আদতে ভোটার তালিকার পুনর্লিখন।

চলমান এসআইআর প্রক্রিয়া এখনও পর্যন্ত সাংবিধানিক বা আইনি বৈধতার কোনও নথি দেখাতে পারেনি। এক্ষেত্রে মূলগত বিষয়টা হল যে, এই প্রক্রিয়া সরাসরি ন্যায়বিচারের ধারণাকে অস্বীকার করছে। আমরা জানি একটা মানুষ ততক্ষণ নির্দোষ যতক্ষণ না তিনি আইনের চোখে দোষী সাব্যস্ত হচ্ছেন এবং সেই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত (এক্ষেত্রে অনাগরিক) করার দায় হল রাষ্ট্রের বা সেই ব্যক্তির যিনি কারও নাগরিকত্ব নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এখানে ঠিক তার উল্টো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া সমস্ত জনগোষ্ঠীকে নাগরিকত্বের বিষয়ে সন্দেহের চোখে দেখছে এবং নাগরিককে বাধ্য করছে এক কঠিন ও অবাস্তব প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নাগরিক প্রমাণ করার। এইজন্য এসআইআর হয়ে উঠেছে গণহারে ভোটাধিকার বঞ্চিতকরণের এক মহাপ্রকল্প। একই সঙ্গে পরিষ্কারভাবে মনে রাখা দরকার ভারতীয় সংবিধানের কোথাও নির্বাচন কমিশনকে নাগরিকত্ব যাচাই করার অধিকার দেওয়া হয়নি, সেই দায়িত্ব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। অথচ এবার ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয় দুটিকে একসঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

দিল্লির ক্ষমতাসীন শাসকদের কাছে কেন দরকার হল সেই সন্ধানটাও জরুরি। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে কোনওরকমে জেতার পর নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তারা নতুনভাবে চিন্তাভাবনা শুরু করে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, একই সঙ্গে তা একটি নির্দিষ্ট দলের চিরকাল ক্ষমতায় থাকাকে নিশ্চিত করে না। অথচ সরকারি ক্ষমতা ছাড়া কল্পিত হিন্দুরাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। তাই একদিকে শুরু হয় ভোটপ্রক্রিয়াকে ‘ম্যানেজ’ করার নানান ষড়যন্ত্র (সাম্প্রতিক সময়ে ভোটচুরির সেই সমস্ত প্রমাণ সামনে এসেছে) এবং অন্যদিকে ভোটারতালিকায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। বিজেপির বশংবদ নির্বাচন কমিশন সেই অ্যাজেন্ডাকে পূরণ করতে সক্রিয় হয়েছে। সমাজতত্ত্ববিদ আদিত্য নিগম এ-বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উপস্থিত করেছেন:

‘SIR’ has been undertaken as a completely opaque process precisely to ensure that by the time the 2029 elections are held, there will only be ‘the people’ who have been ‘elected’ by the regime.[1]

এই সরকারের কোনও জনবিরোধী প্রকল্প বাজারে আসার আগে কৌশলে তার পক্ষে এক জনমত তৈরির চেষ্টা চলে। দ্বিতীয়ত, প্রোগ্রামের পরিকল্পনাটা এমনভাবে করা হয় যাতে নাগরিকরা তার দ্বারা সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লেও একটা বড় অংশের মানুষ এটা বিশ্বাস করতে শুরু করেন, সব কিছু হচ্ছে রাষ্ট্রের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য। এর আগে এই ন্যারেটিভটা আমরা দেখেছি বিমুদ্রাকরণ ও অতিমারির সময় ঘোষিত লকডাউনের সময়। বিমুদ্রাকরণের সময় ঘোষিত লক্ষ্য ছিল কালো টাকার উদ্ধার, সন্ত্রাসবাদীদের টাকার উৎস বন্ধ করার শপথ। অতিমারির সময় ছিল গরিব মানুষের রুটিরুজি কেড়ে করোনা আটকানোর প্রতিজ্ঞা। এবারের ন্যারেটিভটার ভরকেন্দ্র হল সঙ্ঘ পরিবারের প্রিয় অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোর হুঙ্কার। এরা বিজেপির ভাষায় রোহিঙ্গা এবং ঘুষপেটিয়া। আসল উদ্দেশ্য হল মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক পলিসি হল অমিত শাহ-কথিত Detect-Delete-Deport। নোটবন্দি ও লকডাউনের সময় যুক্তিমালা ইতিমধ্যেই মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে। বিহারের সমাধিত হওয়া এসআইআর রোহিঙ্গা-সংক্রান্ত গল্পটিকে এক শূন্যগর্ভ আস্ফালনে রূপান্তরিত করেছে। কিন্তু পরিসংখ্যান যাই বলুক না কেন, এই ঘৃণ্য ন্যারেটিভকে বহু মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন।

এই এসআইআর প্রক্রিয়া সমস্ত দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও এর কাঠামো কিন্তু এক নয়। রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণের জন্য এই কাঠামো নিয়ত পরিবর্তশীল। বাংলার ক্ষেত্রে প্রথম খসড়া তালিকায় এক কোটি রোহিঙ্গার সন্ধান করতে না পেরে পরের ধাপে নির্বাচন কমিশন কৌশল বদলে ফেলে। যৌক্তিক অসঙ্গতিকে নতুন বলার কারণ বিহার এসআইআরে এই বিষয়টি ছিল না। এক্ষেত্রে বানান ভুল, ছয় সন্তানের পিতা, বাবা ও ছেলের বয়সের অসঙ্গতি, এমনকি ২০০২-এ কোনও ভোটারের কার্ডে যদি কোনও তথ্যগত বিভ্রান্তি পরে কমিশনের নিয়মে সংশোধন হয় তবে সেই মানুষকেও শুনানির চিঠি ধরানো হয়েছে। জানা গেছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা ১.৬৭ কোটি। এদিকে আমরা দেখলাম নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্ররা ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি অ্যাপের প্রয়োগগত সমস্যার কারণে এত অসঙ্গতি তৈরি হচ্ছে। আর এই অসঙ্গতির অজুহাতে কাদের নিশানা করা হচ্ছে সেটাও স্পষ্ট। সাংবাদিক অপর্ণা ভট্টাচার্য দি ওয়ার পোর্টালে একের পর এক প্রতিবেদনে স্পষ্ট করেছেন এই রাজ্যে সবচেয়ে বেশি শুনানির চিঠি গেছে সংখ্যালঘু-প্রধান জেলাগুলোতে, এমনকি সবচেয়ে বেশি সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে মুসলমানদের নাম। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশন কীভাবে চালিয়েছে তা প্রকাশ করে দিয়েছে রিপোটার্স কালেকটিভ:

In West Bengal, the ECI did not run the SIR in a vacuum. Rather, they issued orders one after another that twisted the process to such an extent that even those who were running the process could not keep it straight. None of these intermittent orders were made public. While some changes to the SIR were communicated in writing to local officers, most of the important instructions reached the staff through informal channels.[2]

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ভিডিও কনফারেন্স, মৌখিক ফতোয়ার এক জগৎ যা বিএলওদের জন্য এক সন্ত্রাসের রাজত্ব বয়ে এনেছিল।

এসআইআর প্রকল্পের পরতে পরতে রয়েছে ফ্যাসিবাদী বৈশিষ্ট্য। জার্মানিতে ইহুদিনিধনযজ্ঞ শুরু করার আগে ক্রমাগত মিথ্যা প্রচার করে ইহুদিদের বিরুদ্ধে এক ঘৃণার পাঠক্রম তৈরি করা হয়েছিল। এ-দেশেও মুসলমানদের বিরুদ্ধে একইভাবে ঘৃণা ও সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করা হয়েছে। অনুপ্রবেশের জুজু দেখিয়ে এসআইআরের পক্ষে বৈধতা তৈরি করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদ জনগণকে শেখায় রাষ্ট্রের স্বার্থে জনগণ বলিপ্রদত্ত। নোটবন্দি যেমন মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছিল, এই এসআইআর তেমনি এক তথাকথিত অনুপ্রবেশমুক্ত শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখিয়ে জনগণের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নামিয়ে এনেছে।

ফ্যাসিবাদের আরেকটি চরিত্রলক্ষণ হল মতপ্রকাশের অধিকারকে, প্রশ্ন করার অধিকারকে রুদ্ধ করা। এসআইআর শুরু করার আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার-সহ সমস্ত কমিশনারদের এমনভাবে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা যাবতীয় প্রশ্ন ও আইন থেকে রক্ষা পান। এই রক্ষাকবচ থেকে সর্বোচ্চ আদালত বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করেছে যে কমিশনাররা কি আইনের সীমানার বাইরে!

ফ্যাসিবাদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল আইনবিভাগ, বিচারবিভাগ-সহ সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শাসকের সুরে কথা বলে। এসআইআর-সংক্রান্ত একাধিক মামলায় বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ থাকলেও আদালত কিন্তু এসআইআরের সাংবিধানিক বৈধতা-সংক্রান্ত মামলাটিতে কোনও নির্ণায়ক রায় দেয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে বিচারব্যবস্থা বিভিন্ন মামলায় যেভাবে সরকারের পক্ষ নিয়েছে তাতে অবশ্য এটাই স্বাভাবিক।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হল এই ফ্যাসিবাদী প্রকল্প ভারতীয় জনগণের জন্য কী বিপর্যয় ডেকে আনছে তা অনুভব করতে ব্যর্থ হয়েছে সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। কোনওরকম সংবিধান সংশোধন ছাড়া, কোনও দেশব্যাপী বিতর্ক ছাড়াই একতরফাভাবে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে ধ্বংস করে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আলোচনার শুরুতেই আমরা উল্লেখ করেছি যে সংসদীয় বিরোধী দলগুলো এসআইআরের প্রায়োগিক সমস্যাগুলোর বিরোধ করে এবং কিছু রিলিফ আদায় করেই খুশি থাকছে। এরা ভুলে যাচ্ছে এই অবস্থানের কারণে একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে তারা বৈধতা দিচ্ছে এবং গণহারে ভোটদানের অধিকার হরণ করার কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠছে। দাবিটা হওয়া উচিত ছিল এসআইআর প্রক্রিয়াকে বর্জন করার, এই অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে বাদ পড়া সমস্ত নামকে ভোটারতালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার। বলা উচিত ছিল ভোটারতালিকাকে সংশোধন করার কাজের সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ যুক্ত করা আইনবিরুদ্ধ, দাবি করতে হত আজ পর্যন্ত যত ভোটারতালিকা প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোকে জনতার সামনে প্রকাশ করার এবং ভোটারতালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট বছরকে মান্যতা দেওয়া যাবে না। সৌভাগ্যের বিষয় হল মুষ্টিমেয় অধিকার সংগঠন তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ এ-কথাগুলি বলেছেন। তবে সেই কথাগুলি যাতে জনতার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারে তার জন্য চেষ্টা জারি রাখতে হবে।


[1] kafila.online.
[2] আয়ুশি করের প্রতিবেদন।


*মতামত ব্যক্তিগত