Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

তারান্তিনো — বারো

প্রিয়ক মিত্র

 

গত সংখ্যার পর

রমাকান্ত রায়ের বাড়ি থেকে একজন যুবতীকে টেনে হিঁচড়ে বের করা হচ্ছে। যদি সদর দরজা দিয়ে বের করা হত তাহলে আশপাশে এই রগড় দেখতে ভিড় জমে যেত। কিন্তু খিড়কি দরজা দিয়ে বের করা হচ্ছে। তার ওপর রাতও গভীর। ফলত এ ঘটনার সাক্ষী খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তবে সাক্ষী রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অদূরেই আড়ালে দাঁড়িয়ে দুটি লোক। একজন জেমসন সাহেব। পাশের মানুষটিকে কালো সাহেব বলেই মনে হয়। কিন্তু এ আদতে একজন চাষি, এদেশীয়। কোনও এক গ্রাম থেকে সে চলে এসেছে।

গ্রাম থেকে বহু চাষি উৎখাত হয়ে যাচ্ছে। ধানের জমিতে চাষ হচ্ছে নীল। ওই জমিতে আর কোনওদিন কোনও ফসল চাষ হবে না। এই শতকের গোড়ার দিকে নীলচাষের ধুয়ো উঠেছিল। তখন রাজা রামমোহন রায়-রাও বললেন নীলচাষ করা জরুরি। পরে চাষিরা দেখল ধান পাট চাষে বেশি লাভ। কিন্তু লোলুপ ইংরেজরা তা মানবে কেন? তাদের মুনাফায় ঘাটতি পড়লে চলবে কেন? আগে ছিল কোম্পানির আমল, এখন রানির শাসন শুরু হয়েছে। অধস্তনরা রয়ে গিয়েছে আগের মতনই অমানুষ। কোথাও কিছুই পাল্টায়নি। ফলত জোর করে চাষিদের দিয়ে নীলচাষ করানো শুরু হয়েছে। চাষিরা কী করবে কেউ জানে না, তারা হত্যে দিচ্ছে জমিদারদের কাছে গিয়ে। কিন্তু জমিদাররাও খুব সুবিধে করতে পারছে না নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে। যে জমিদারদের নামে বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খেত তারাও নীলকরদের কাছে কেঁচো। ফিরিঙ্গিদের জুলুমের থেকেও তীব্র দেশি দেওয়ানদের জুলুম।

রমাকান্ত রায়ের জমিদারিতেও সম্প্রতি শুরু হয়েছে নীলকরদের রবরবা। মঙ্গলগঞ্জের নীলকুঠি হয়ে উঠেছে মৃত্যুপুরী। অবাধে ধর্ষণ, গুমখুন এবং সীমাহীন অত্যাচার চলেই যাচ্ছে। রমাকান্ত রায়ের পাইক-বরকন্দাজের জুলুম তো ছিলই, তার সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে নীলকরদের অত্যাচার।

এই বোবা দম্পতি ছিল রমাকান্ত রায়ের জমিদারিতে ভাগচাষি। নাম মোহন ও পাঁচী। নীলকরদের ঠেলায় তাদের ঘর ছাড়তে হয়েছিল। কলকাতায় এসে ভাগ্যান্বেষণের চেষ্টায় ছিল তারা। তার আগেই এই দুর্বিপাক ঘটে গেল। রমাকান্ত রায়ের লালসার শিকার হতে হল পাঁচীকে।

কিন্তু এখন পাঁচীকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?

জেমসন সাহেবের ভ্রূ-তে ভাঁজ পড়ল।

কিন্তু পাঁচীকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে সবথেকে বেশি অধীর হয়ে উঠল মোহন।

তার চোখ জ্বলে উঠল ধক করে। দাঁতে দাঁত ঘষে সে সোজা এগিয়ে যাচ্ছিল সামনের দিকে। জেমসন তার হাতটা চেপে ধরল।

অনেক কষ্ট করে লোকটিকে বুঝিয়েছেন জেমসন। মোহনকে তিনি বিশ্বাস করাতে সমর্থ হয়েছেন যে তিনি মোহনের ভালো চান। তিনি চান তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে আনতে।

মোহনের নাম যদিও তিনি জানতে পারেননি। পাঁচীর নামও না।

প্রায় অজানিত এক গ্রাম্য দম্পতির জন্য নিজের জীবনকে বাজি রাখতে দ্বিধা করছেন না জেমসন সাহেব। এ যেন তার জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়। প্রায় নিঃস্বার্থভাবেই এ কাজ তিনি করছেন বলে বোধ হবে, কিন্তু আদতে তার কোনও উদ্দেশ্য অবশ্যই আছে। কী সেই উদ্দেশ্য কেউ জানে না।

মোহনকে সাহেবের ছদ্মবেশ পরাতে কম বেগ পেতে হয় নি জেমসনকে। এইসব সং সাজার অর্থ মোহন বুঝতেই পারেনি। কিন্তু জেমসন নাটকটা খুবই যত্ন নিয়ে সাজিয়েছে। সে জানে কীভাবে পা ফেলতে হবে, কতটা সতর্কতার সঙ্গে।

তাই এই মুহূর্তে মোহনের উত্তেজনা সামাল না দিলে বিপদ ঘনিয়ে আসবে চকিতেই।

রমাকান্তের বিশ্বস্ত অনুচর বিশ্বনাথের চোখ সজাগ। আশেপাশে কেউ এই ঘটনার সাক্ষী থেকে যাচ্ছে না তো?

ইন্দ্রকমলের কঠোর নির্দেশ। কেউ যেন জানতে না পারে যে রমাকান্তের শিকারকে ওই আংটি দিয়ে কিনে নিয়েছেন ইন্দ্রকমল।

আংটিটা দেখে রমাকান্ত এবং বিশ্বনাথ দুজনেরই মাথা ঘুরে গিয়েছিল লহমায়। এই আংটির গল্প লোকমুখে অনেকেই শুনেছে। কিন্তু তার এই রহস্যময়ী, এই ভয়াবহ রূপের কথা কে জানত?

রমাকান্ত হাত কচলে বলেছিল, “আপনার এই পারিবারিক অভিজ্ঞানের শোভা কি গরিবের বাড়িতে মানায় হুজুর?”

মুখ খুলল ইন্দ্রকমল।

গম্ভীর, এব‌ং হাড়হিম করে দেওয়া স্বর।

“এখানে আমি জেলেপাড়ার স‌ং দেখতে আসিনি। আমার যা চাই তা আমি না পেলে এই আংটি আবার যথাস্থানে ফেরত যাবে।”

রাধামোহনের বিশদে বুঝিয়ে না দিলেও চলত, ইন্দ্রকমল কী চান তা বোঝার মতন বুদ্ধি আছে রমাকান্তর। তবু রাধামোহন চাপা স্বরে সবটা বুঝিয়ে এটাও জানিয়ে দিল যে বিষয়টির গোপনীয়তা রক্ষা করা অবশ্য কর্তব্য।

মেয়েটিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে জুড়িগাড়িতে তুলতে হচ্ছে। বোবা হলে কী হবে! মেয়েটির তেজ ভয়াবহ! ঘুম না পাড়িয়ে রাখলে কিছু কেলেঙ্কারি ঘটিয়ে ফেলতে পারত।

মেয়েটির সঙ্গের লোকটি বোধহয় ওখানে পড়েই মারা গেছে, বিশ্বনাথ জীবনে এত গোঁয়ার আর বেয়াদব লোক দেখেনি। প্রজাদের নিয়েই তার কারবার। কিন্তু এত আস্পর্ধা! রমাকান্তর পাইকদের গায়ে হাত তোলে এত বড় দুঃসাহস তো কলকাতা শহরে কারুর হয় না!

তবে লোকটিকে দেখার পর থেকে বিশ্বনাথের মন খচখচ করেই চলেছে। কোথায় যেন দেখেছেন লোকটিকে? কোথায়?

মঙ্গলগঞ্জে কি? রমাকান্তর জমিদারিতে?

বিশ্বনাথের ভাবনায় ছেদ পড়ল। জুড়িগাড়ি প্রস্তুত! এবার রওনা দিতে হবে।

বিশ্বনাথের যাওয়া চলবে না। রমাকান্তর অনুচর হিসেবে তাকে অনেকেই চেনে। কেউ দেখে ফেললে বিপদ আছে।

বিশ্বস্ত লোকদের হাতেই দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। গোপনে কাজ সারবে তারা।

জুড়িগাড়ি রওনা দিল ইন্দ্রকমলের কুঠির দিকে।

বিশ্বনাথ দেখল জুড়িগাড়ির চলে যাওয়া।

এই নিশুতি রাতেও কলকাতা শহরে অনেক মানুষ জেগে থাকে। জেগে থাকে শহরের অন্ধকার। নানান দুরভিসন্ধি নিয়ে রাস্তায় বেরোয় অনেকেই।

বিশ্বনাথ আপাতত একাই। দারোয়ানদেরও কাছেপিঠে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। কাজেই এবার অন্দরমহলে ফিরে যাওয়াই বোধহয় ভালো।

এই ভেবে পিছু ফিরলেন বিশ্বনাথ, আর তার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তার পিঠে ঠেকল একটা শীতল ধাতব যন্ত্র।

বিশ্বনাথের শিরদাঁড়ায় ঠান্ডা রক্তের জোয়ার খেলে গেল।

জেমসন সাহেব বিশ্বনাথের পিঠের পাশ দিয়ে কানের কাছে মুখ এনে বললেন, “ভালো চাও তো বলো, মেয়েটাকে কোথায় পাঠালে?”

বিশ্বনাথ মাথাটা ঘোরানোর আগেই জেমসনের লম্বা পিস্তলের নল উঠে এল বিশ্বনাথের ঘাড়ে।

“পিছু ফিরতে বলিনি মূর্খ। আমার প্রশ্নের উত্তর দাও। আর চিৎকারের চেষ্টা করলে গলা থেকে স্বর বেরনোর আগেই তোমার ইন্তেকাল হবে।”

ভাষা বাংলা হলেও বাচনভঙ্গিতে পরিষ্কার লোকটা সাহেব‌। বিশ্বনাথের মাথা গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। এই লোকটা কেন জানতে চায় কোথায় নিয়ে যাওয়া হল মেয়েটাকে?

বিশ্বনাথ বুঝল সে শাঁখের করাতে পড়েছে। এখন এই সাহেবের হাত থেকে বাঁচা সহজ নয়। রমাকান্তের খিড়কি দরজা তার থেকে দশহাত দূরে। চট করে কোনও দারোয়ানকে ডাকলে সাড়া পাওয়া মুশকিল। কিন্তু এই খব‍র যদি সেইই ফাঁস করে তাহলে রমাকান্ত বা ইন্দ্রকমল কেউ তাকে ছেড়ে দেবে না।

সে দুদণ্ড ভাববার সময় নিতেই তার ঘাড়ে আবার খোঁচা লাগল।

“চুপ করে আছ কেন বাস্টার্ড? কানে কথা ঢুকছে না?”

বিশ্বনাথ শুকিয়ে যাওয়া অথচ ঠান্ডা গলায় বলল, “রাজা ইন্দ্রকমল সিংহের কুঠি। আহিরীটোলায়..”

“সে কুঠি কোথায় আমি জানি। তুমি চুপচাপ এবার চলে যাও অন্দরমহলের দিকে। আর কাউকে কিচ্ছু বলবে না। বললে তোমার বিপদই বাড়বে।”

বিশ্বনাথের ঘাড় থেকে সরে গেল ধাতব স্পর্শ।

সে কোনওমতে মাথাটা ঘোরাল।

কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না।

জেমসন ততক্ষণে অদৃশ্য।

পিলে চমকে উঠল বিশ্বনাথের।

“বাবা রাধামাধব! রক্ষে করো! এই রাত্তিরে কোন অশৈলীর পাল্লায় পড়তে হল বাবা!”

বিড়বিড়টা বোধহয় একটু জোরে করে ফেলেছিল সে। তার নিজেরই কান তাকে সতর্ক করল।

সে আর উচ্চবাচ্য না করে রওনা দিল অন্দরমহলের দিকে।

জেমসন যা আন্দাজ করেছিলেন তাই হয়েছে। সকালে ইন্দ্রকমলকে ঘটনাস্থলে দেখেই এই পরিস্থিতির কথা মনে মনে ভেবেছিলেন তিনি।

জেমসন কোত্থেকে জোগাড় করেছিলেন একটা ঘোড়ার গাড়ি। মোহনকে তিনি দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন একটা গাছের আড়ালে। তার হাত ধরে টেনে তাকে ঘোড়ার গাড়িতে তুলে চালককে হুকুম দিলেন। তারপর মোহনের দিকে ফিরে বললেন,

“তোমার বউকে যেখানে নিয়ে গেছে সেখানে যাচ্ছি।”

জেমসনদের ঘোড়ার গাড়ি ছুটল ইন্দ্রকমলের কুঠির উদ্দেশে।

 

মঙ্গলগঞ্জের নীলকুঠি থেকে রাতদুপুরে মাঝেমধ্যেই শোনা যায় আর্তনাদ। গ্রামবাসীরা তটস্থ। ওই নীলকুঠিতেই থাকেন দুই নীলকর সাহেব। প্যাটন সাহেব ও চার্লি সাহেব। গ্রামবাসীরা অবশ্য ডাকে পেটান সাহেব আর চাল্লি সাহেব বলে। দুজনেই যমদূত। প্যাটন সাহেবের নামটা যে পেটান হয়ে গেছে গ্রাম্য উচ্চারণে, তা যথার্থই হয়েছে। আর চার্লির মতন নারীলোলুপ ধূর্ত শয়তান কমই হয়। গ্রামবাসীদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচারের জন্য কুখ্যাত এই দুই সাহেবকে শায়েস্তা করার উপায় কী, তা গ্রামের লোক জানে না। গ্রামের জমিদার রমাকান্ত রায় থাকেন কলকাতায়, ফূর্তিবিলাসে মেতে তার দিন কেটে যায়। বিপদেআপদে তিনি হাজিরও হন না রক্ষা করার জন্য। তার জমিদারি যে জ্বলে খাক হয়ে যাচ্ছে সে খবর কি তিনি পেয়েছেন?

তবে সম্প্রতি গ্রামবাসীদের মনে একটু আশার আলো জেগেছে। রমাকান্তর ছেলে কালীনাথ এসে রয়েছে এই জমিদারিতেই। আর কালীনাথ বাবার মতন ফূর্তিবাজ নয়। ঠান্ডা মাথার বিচক্ষণ মানুষ। আর সবচেয়ে বড় কথা প্রজাদরদী, এবং একইসঙ্গে দাপুটে। নীলকরদের এক নায়েবকে সে উত্তমমধ্যম প্রহার করেছে আজ সকালেই। গ্রামবাসীদের কাছে তারপর থেকে সে ভগবান।

যদিও সে নিঃস্বার্থ নয়। সে জানে এই চাষিরা যে তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছে এ ভালো লক্ষণ। বছরকয়েক আগে সিপাহীরা খেপে উঠে মিউটিনি করে যে কাণ্ড ঘটিয়েছে, তা বেশ দুশ্চিন্তার। চাষিরা নিজে নিজে ক্ষেপে উঠলে অমন অনাসৃষ্টি ঘটাতে পারে। তার থেকে ওদের রাশ কারুর হাতে থাকা ভালো‌।

রানির শাসনে সবাই কোম্পানির মতন অমানুষ নয়। নীল কমিশন তৈরি করেছে সাহেবরা। দেখা যাক নীলকরদের এই বাড়াবাড়ি কদ্দিন চলে।

কালীনাথ জানে বাবার মতন ফূর্তি করে জীবন কাটবে না। জমিদারির দেখভাল তাকে করতেই হবে। আর সেটা ঠান্ডা মাথায়। যুগের হাওয়া ভালো না।

তবে গ্রামের মানুষ জানে অকুতোভয় অত্যাচারী নীলকররা যমের মতন ভয় পাচ্ছে কালীনাথকে।

আজ রাতে মঙ্গলগঞ্জের নীলকুঠি থেকে শোনা গেল শম্ভুর আর্তনাদ, শম্ভুর বউকে তুলে নিয়ে গেছে অত্যাচারী নীলকররা। শম্ভু হাতেপায়ে ধরতে গিয়েছিল নীলকরদের, তার ইনাম হিসেবে মিলছে চাবুকের ঘা।

কালীনাথের কাছে পৌঁছে গেল খবর।

সপাং সপাং শব্দে চাবুক চলছে শম্ভুর পিঠের ওপর। সঙ্গে প্যাটন সাহেবের গালাগালের ফোয়ারা আর পাইপ কামড়ে বসে থাকা চার্লির পৈশাচিক হাসি‌।

প্যাটন সাহেব মাথার ওপর তুলে চাবুক ঘোরাচ্ছিল, তারপর সেটা সশব্দে আছড়াচ্ছিল শম্ভুর নগ্ন পিঠে।

প্যাটন সাহেবের মাথার ওপর উঠে স্থির হয়ে গেল চাবুক।

শক্ত হাতে সেটাকে আঁকড়ে ধরেছে কেউ। পেছন থেকে।

প্যাটনের বিস্ফারিত চোখ পেছনে ফিরল।

কালীনাথ দাঁড়িয়ে চাবুকের গোড়া হাতে।

সাহেবদের দিকে রক্তচক্ষু নিক্ষেপ করে সে বলল, “প্রাণের মায়া থাকলে চাবুকটা ফেলে দাও সাহেব। তুমি রায়দের জমিদারিতে রয়েছ সেটা ভুলে যেও না!”

প্যাটন চেঁচিয়ে উঠল, “এই নিগারটাকে কে ঢুকতে দিয়েছে এখানে? ক্যাষ্ঠ!”

কেষ্টর নামের ওই উচ্চারণই বেরোয় প্যাটনের মুখ দিয়ে। কেষ্ট অতিকষ্টে রক্তাক্ত কপাল চেপে এসে দাঁড়াল দোরগোড়ায়।

প্যাটন চার্লি এবং তাদের মোসাহেবদের চোখ কপালে উঠল।

চার্লি দাঁতে দাঁত ঘষে বলল, “এই নিগারটাই আজ সকালে রামধনকে ব্রুটালি বিট করেছে!”

প্যাটনের চাবুক এখনও শক্ত করে ধরা কালীনাথের হাতে।

কালীনাথ মুচকি হেসে বলল, “কী সাহেব! আমি যে অন্য ধাতুতে গড়া তার নমুনা পাচ্ছ নিশ্চয়!”

 

ইন্দ্রকমলের কুঠিবাড়ির খিড়কিতে গভীর রাতে এসে থামল জুড়িগাড়ি। ঘুমন্ত পাঁচীকে নামিয়ে আনল রমাকান্তর লোকেরা।

রাধামোহন এবং আরও দুজন লোক দাঁড়িয়ে ছিল খিড়কির সামনে। পাঁচীকে নিয়ে তারা ঢুকে গেল বাড়ির ভিতরে।

জেমসন এবং মোহন দুজনেই দেখল দৃশ্যটা। মোহনের চোখে রাগে, ঘৃণায় জল চলে এসেছে। হাতটা একবার মুঠি করল সে শক্ত করে।

জেমসন তার কোমরে একটা পিস্তল গুঁজে দিল অকস্মাৎ। বলল, “এসো আমার সঙ্গে!” তার স্বর ধীর, সাবধানী।

বাঘের মাথাটা সাঁটা দেওয়ালের সঙ্গে। ইন্দ্রকমলের পূর্বপুরুষের শিকার। মনোযোগ দিয়ে বাঘের চোখটা দেখছিলেন ইন্দ্রকমল। তার মনোযোগে ছেদ পড়ল।

“হুজুর! শিকার হাজির!”

রাধামোহনের কণ্ঠস্বর।

একটা ক্রুর হাসি ফুটে উঠল ইন্দ্রকমলের মুখে।

 

এরপর আগামী সংখ্যায়