Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

জনস্বাস্থ্য — অধিকার ও প্রাপ্তি : দ্বিতীয় বর্ষ, একাদশতম যাত্রা

জনস্বাস্থ্য

স্টেশন মাস্টার

 

...এত ‘ভালো’-র গভীরে গেলে সমস্যার কিছুটা আন্দাজ পাওয়া যায়। নবজাতক মৃত্যুর হারে আমাদের যতটা উন্নতি, তার থেকে ঢের বেশি উন্নতি করতে দেখি শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশকে। দেখি, আমাদের দেশের শিশুদের মধ্যে শতকরা ৪৩ ভাগের ওজন স্বাভাবিকের থেকে কম, যেখানে পাকিস্তান— হ্যাঁ, পাকিস্তানও— আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে। দেখি, যক্ষ্মারুগ্ন মানুষের হিসাবে আমাদের দেশ এক নম্বরে।

এইসব দেখা ও শোনার মাঝে রেখে দিতে চাই এই সংখ্যার মূল ভাবনা— ‘জনস্বাস্থ্য -- অধিকার ও প্রাপ্তি’...

 

২০১৬ সালে দিল্লির বিশ্বখ্যাত জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু যুবক যেসব স্লোগান দিয়ে দেশের মানুষের কাছে যুগপৎ আদরণীয় ও বিরাগভাজন হয়েছিল এবং দেশের সরকারের চক্ষুশূল হয়েছিল, তার মধ্যে ‘ক্ষুধার থেকে স্বাধীনতা’— এই বাক্যাংশটুকুও ছিল। আমরা, যারা শিক্ষিত ও নিজের নিজের কোমরের মাপ নিয়ে চিন্তিত, তারা সেটা ভুলে গিয়েছি। মনে রেখেছি যেটুকু, সেটুকু তাদের দেশদ্রোহী বলে দাগিয়ে রেখে দেবার জন্য। কারণ আমরা আজাদ, আজাদি আমাদের চাহিদার মধ্যে পড়ে না আর। আমরা প্রায় যা-খুশি-তাই কিনতে পারি কী না!

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুদ্ধের এই ঋতুতে, যখন শীত আর বসন্তের মধ্যে, শুকনো পাতা আর পলাশের মধ্যে, আর সাধারণ দেশবাসীর মনে কোথা হইতে কী হইয়া গেল টাইপের অযুত কনফিউশন, সেই সময়ে কিছুটা সচেতনভাবেই এই যুদ্ধ সরিয়ে রেখে এক অন্যতর যুদ্ধের দিকে তাকাব বলে ঠিক করা গেল।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৫ থেকে ২০১৫, এই দশ বছরে ভারতীয়দের গড় আয়ু ৬৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৮। ২০১৪ সাল থেকে পোলিওমুক্ত হয়েছে দেশ। নবজাতক মৃত্যুর হার প্রতি হাজার জীবিত নবজাতকের মধ্যে ৫৭ থেকে নেমে এসেছে ৩৭-এ— এই দশ বছরে। কিন্তু এত, এবং অনুল্লেখিত আরও অনেক উন্নতির মধ্যেও যে বিষয়টা নজর এড়ায় না, তা হল ১৯৫টি দেশের মধ্যে স্বাস্থ্যব্যবস্থার অভিগম্যতা ও মানের দিক থেকে ভারতের স্থান ১৩৪।

এত ‘ভালো’-র গভীরে গেলে সমস্যার কিছুটা আন্দাজ পাওয়া যায়। নবজাতক মৃত্যুর হারে আমাদের যতটা উন্নতি, তার থেকে ঢের বেশি উন্নতি করতে দেখি শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশকে। দেখি, আমাদের দেশের শিশুদের মধ্যে শতকরা ৪৩ ভাগের ওজন স্বাভাবিকের থেকে কম, যেখানে পাকিস্তান— হ্যাঁ, পাকিস্তানও— আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে। দেখি, যক্ষ্মারুগ্ন মানুষের হিসাবে আমাদের দেশ এক নম্বরে।

অথচ সরকারের তরফে ব্যবস্থা নেবার কথা শুনতে পাওয়া যাচ্ছে যথেষ্ট। দেখছি নতুন নতুন প্রকল্প, এবং শুনছি সমস্তই কেমন চমৎকার চলছে!

এইসব দেখা ও শোনার মাঝে রেখে দিতে চাই এই সংখ্যার মূল ভাবনা— ‘জনস্বাস্থ্য — অধিকার ও প্রাপ্তি’— এই বিষয়ের কয়েকটা লেখা। বিষাণ বসু লিখলেন চিকিৎসাব্যবস্থায় কর্পোরেটের ভূমিকা নিয়ে। কৌশিক দত্ত জানালেন ‘সব-পেয়েছির-দেশ’ বেসরকারি হাসপাতালের অন্দরমহলের কথা। মানস গুমটা তাঁর রচনায় আলো ফেললেন প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার হালহকিকতের ওপর। রেজাউল করীম তুলে ধরলেন ওষুধের দাম-বিষয়ক কিছু জরুরি বিষয়। পুণ্যব্রত গুণ আলোচনা করলেন স্বাস্থ্যবিমার সমস্যার কথা। ছন্দা চক্রবর্তীর লেখায় আমরা পেলাম তাঁর অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্য ও তারই বিশ্লেষণ।

এ-ছাড়াও যেমন থাকে, তেমন রইল আমাদের নিয়মিত বিভাগগুলো। স্মরণ করলাম সদ্যপ্রয়াত কবি আল মাহমুদ, চিন্তক ও প্রাবন্ধিক অশ্রুকুমার সিকদার, কবি সমর চক্রবর্তী ও ইতিহাসবিদ সুশীল চৌধুরীকে।

এছাড়া গল্প, অণুগল্প, ধারাবাহিক, অন্যগদ্য, প্রবন্ধ, ফটোফিচার, বই-আলোচনা, ভালো খবর… রইল।

সেগুলি প্রসঙ্গে দু একটি কথা জানিয়ে দেওয়া দরকার।

যুদ্ধ সরিয়ে রাখার কথা বললাম। কিন্তু পুরোপুরি সরানো তো যায় না, কারণ এই যুদ্ধ-যুদ্ধ আবহাওয়া আমাদের সামনে এমন কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, যেগুলি সম্পর্কে উদাসীন থাকাটা অনুচিত। আমরা রাখলাম দুটি বিশেষ নিবন্ধ। লিখেছেন আশীষ লাহিড়ী এবং শৈলেন সরকার

অরণ্যবাসী জনগণকে উচ্ছেদের রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, রায়টি তারপর স্থগিতও রেখেছে। যাই হোক, এ নিয়ে আমাদের নিজেদের রাজ্যে, পুরুলিয়ায়, কী হচ্ছে সে নিয়ে সৌরভ প্রকৃতিবাদীর একটি বিশেষ রচনা রইল এবারের সবুজ স্লিপারে।

আমাদের এ মাসের কবি তৃষ্ণা বসাক। তাঁর কবিতা নিয়ে আলোচনা করলেন নীলাঞ্জন হাজরা।

সব শেষে, স্টিম ইঞ্জিন বিভাগে আমরা রাখলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সভ্যতার সংকট’ নিবন্ধ থেকে একটি নির্বাচিত অংশ।

পড়ুন, মতামত দিন, ভালো থাকুন, সু-স্বাস্থ্যে থাকুন…