Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

‘ভারতীয় বসন্ত’ কবে আসবে?

মণিশংকর বিশ্বাস

 




কবি, গদ্যকার

 

 

 

সতেরোই ডিসেম্বর দু হাজার দশ সকালবেলা, ফল বিক্রেতা মোহাম্মদ বাইজিজি তার ঠেলাগাড়িটি নিয়ে তিউনিসিয়ার সিদি বোজিডের স্থানীয় বাজারের মধ্যে দিয়ে এগুচ্ছিলেন। তার ঠেলাতে ছিল একদম সেরা জাতের কিছু কমলা, খেজুর এবং আপেল। আগের দিন রাতে মোহাম্মদ তাঁর মাকে বলেছিলেন, “মা, আমি কাল তোমার জন্য একটা উপহার আনব। এত ভালো জাতের ফল পেয়েছি!… প্রচুর লাভ থাকবে আমার… কাল দিনটা ভালো যাবে আমাদের।”

যে ঠেলাগাড়িটিতে মাল-সাজিয়ে মোহাম্মদ ব্যবসা করতেন, অর্থাৎ ঘুরে ঘুরে ফল বিক্রি করতেন, সেটাকে বাতিল করে, পয়সা জমিয়ে একটা পিকআপ ট্রাক কেনবার জন্য, অসম্ভব পরিশ্রম করতেন তিনি। মোহাম্মদ বাইজিজি ছিলেন সেইসব হাজার হাজার হকারদের একজন, যারা জালিয়াতি ও দুর্নীতির কারণে বাজারে স্থায়ী দোকান করে ব্যবসা না করতে পেরে, ঠেলায় করে মাল বিক্রি করে বেড়াতেন।

কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশকর্মীরা ছিল এই রকম হকারদের জন্য এক বিভীষিকা। চাঁদাবাজি, তোলাবাজি, যতরকমভাবে হেনস্তা করা যায়, এই পুলিশকর্মীরা তার কিছুই বাদ রাখত না।

তিউনিসিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় সমুদ্র সৈকত থেকে সামান্য দূরে, শহরের মূল রাস্তায় ফিকাস গাছের নিচে যেখানে সব হকাররা জড়ো হত, সেই বাজারের অসংখ্য দুর্নীতির গল্প, আমাদের এই কাহিনির নায়ক, তার মাকে শোনাতেন, রাতের বেলায় কাজ থেকে বাড়ি ফিরে।

আগেই বলেছি, যতরকমের অত্যাচার আছে, তোলা উঠানো, ইচ্ছামতো ফল বা বিক্রয়-দ্রব্য কেড়ে নেওয়া, এমনকি ঝুড়িভর্তি অন্যায়ভাবে বাজেয়াপ্ত সবজি বা ফল পুলিশের গাড়ি পর্যন্ত বয়ে দিয়ে আসা, কী না সহ্য করতে হত এইসব গরীব ঠেলাওয়ালাদের। কখনও-বা স্রেফ মজা করতেই বা এক প্রকারের বিকৃত আনন্দ পেতেই, হকার এবং ঠেলাওয়ালাদের উপর এই ধরনের অত্যাচার করত স্থানীয় পুলিশবাহিনী।

এ দিন সকালে, মোহাম্মদ বাজারের দিকে সরু, এবড়োখেবড়ো পাথরের রাস্তা ধরে যখন তার ঠেলাগাড়িটি নিয়ে এগুচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়, দুজন পুলিশকর্মী তাঁর পথ আটকে পুরো এক ঝুড়ি ফল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এইসময় মোহাম্মদের চাচা ছুটে আসে তার ২৬ বছর বয়সী ভাইপোকে সাহায্য করবার জন্য। তিনি প্রথমে পুলিশকর্মী দুজনকে বলেন এমনটা না করতে এবং এতে কাজ না-হওয়ায় সরাসরি তিনি চিফ অব পুলিশের অফিসে গিয়ে নালিশ করেন। চিফ অব পুলিশ ওই দুজন পুলিশকর্মীর একজন, মহিলা-পুলিশকর্মী ফেদিয়া হামদিকে ফোন করে বলেন, ওরা যেন এই হকারকে কাজ করতে বাধা না দেয়। এতে ওই মহিলা পুলিশকর্মী আরও ক্ষেপে ওঠে, এবং বাজারে ফিরে গিয়ে প্রথমে বাইজিজির ঠেলা থেকে এক ঝুড়ি আপেল নিয়ে পুলিশের গাড়িতে রেখে আসে। তারপর যখন আবার আরেক ঝুড়ি ফল ওঠাবার উপক্রম করে, মোহাম্মদ বাধা দেয়।

বাধা পেয়ে ওই পুলিশকর্মী ফেদিয়া হামদি, মোহাম্মদ বাইজিজিকে পুলিশের ব্যাটন দিয়ে মারতে শুরু করে। নিগ্রহকারী একজন মহিলা, এই বিষয়টি বাইজিজির অপমানকে আরও চড়া সুরে বেঁধে দেয়। এর জন্য অবশ্য শুধু মধ্যপ্রাচ্য-ঘেঁষা আফ্রিকার এই অঞ্চলের লিঙ্গবৈষম্য দায়ী নয়, এই অঞ্চলের দেশগুলির ইসলামিক ধর্মীয়-সংস্কৃতিও সমানভাবে দায়ী।

মোহাম্মদ, এরপর প্রহাররত ফেদিয়ার হাতের রুল ধরে ফ্যালেন এবং আবারও তাকে থামানোর চেষ্টা করেন।

হামদি এবং আরও দুজন অফিসার এবার মোহাম্মদকে মাটিতে ঠেলে ফেলে দেয়। ফেদিয়া এরপর প্রায় ৫০ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সামনে মোহাম্মদ বাইজিজিকে চড় মারে। থুতু দেয়।

মোহাম্মদ লজ্জায় কেঁদে ফ্যালেন।

“কেন তোমরা আমার সঙ্গে এমন করছ?” তিনি লোকাল হকার ও অন্যান্য কাস্টমারদের উপস্থিতিতে কাঁদতে কাঁদতে বলেন “আমি একজন সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ, আমি শুধু কাজ করতে চাই।”

অফিসার ফেদিয়া হামদি, পরে অবশ্য যথারীতি শুধু ফলের ঝুড়ি বাজেয়াপ্ত করা ছাড়া, বাকি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। যাই হোক এই ঘটনার পর, মোহাম্মদ সরকারি দপ্তরে যায় অভিযোগ জানাতে এবং যথারীতি সরকারি আধিকারিক মোহাম্মদের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করে। স্থানীয় থানাও পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ একপ্রকার উড়িয়েই দেয়। চরম অপমানিত মানুষটা সহ্যের একদম শেষ সীমায় পৌঁছে যায়।

মোহাম্মদ বাজারে চলে আসেন এবং স্থানীয় হকার-বন্ধু ও ব্যবসায়ীদের বলেন, “আজ সারা পৃথিবীকে আমি জানাব এখানকার পুলিশ ঠিক কীরকমভাবে আমাদের উপর অত্যাচার করে আর কী ধরনের অপশাসন এবং দুর্নীতির শিকার আমি।”

হাসান টিলি, আরেকজন ভেন্ডার এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, “আমরা ভেবেছিলাম, এসবই শুধুই কথার কথা।”

কিছুক্ষণ পর স্থানীয় ভেন্ডার ও হকাররা শুনতে পায়, মোহাম্মদ বাইজিজি, স্থানীয় পৌরসভা অফিসের সামনে গায়ে তার্পিন তেল ঢেলে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

যারা সামনে ছিল, ছোটাছুটি করে একটা অগ্নি-নির্বাপক সিলিন্ডার নিয়ে আসে পৌরসভা অফিস থেকে, কিন্তু দেখা গেল সেটা পুরো ফাঁকা। পুলিশকে ডাকা হয়, কিন্তু কেউই আসে না। মোহাম্মদ এভাবে অগ্নিদগ্ধ হবার প্রায় এক ঘণ্টা পরে একটা অ্যাম্বুলেন্স আসে।

এই ঘটনার প্রায় ২ সপ্তাহ পর জানুয়ারির ৪ তারিখ, ২০১১, মোহাম্মদ বাইজিজি মারা যান। মোহাম্মদ মারা যাবার দিন কয়েক আগে তিউনিসিয়ার অথরিটারিয়ান প্রেসিডেন্ট জিন এল আবিদীন বেন আলী, মোহাম্মদকে দেখতে এসেছিলেন এবং টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে, মোহাম্মদ বাইজিজির পরিবারকে ১০০০ দিনার (বা ৭০০০ ডলার)-এর একটা চেক তুলে দেন সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওখান থেকে চলে যাওয়ার পর-পরই সরকারি অফিসাররা চেকটা আবার ফেরত নিয়ে নেয় মোহাম্মদের পরিবারের কাছ থেকে। মোহাম্মদ বাইজিজির মা পরবর্তীকালে জানান যে চেক কেন, একটা নয়া-পয়সাও, এই দুর্ঘটনার পর ওঁরা পাননি। মোহাম্মদের সেলফ-ইম্মোলেশন এবং সহিংস মৃত্যুর কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে বিরাটকায় বিক্ষোভের জন্ম দেয়। তিউনিসিয়ার নাগরিকরা স্থানীয় সরকারের দুর্নীতি ও ঔদ্ধত্যের সঙ্গে আগে থেকেই যথেষ্টই পরিচিত ছিল এবং এই ঘটনায় রাষ্ট্রপতি বেন আলির ভূমিকা সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়।

রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারি বাহিনীর সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ শুরু হয়। মোহাম্মদ বাইজিজির অগ্নিদগ্ধ হবার পর, এক মাসেরও কম সময়ে, ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি বেন আলীকে, সরকারের প্রধান পদ থেকে জনতা ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

‘আরব বসন্ত’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনে মোহাম্মদ বাইজিজি কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন। উত্তর আফ্রিকা ও মধ্য প্রাচ্য জুড়ে কাতারে কাতারে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

আপাতদৃষ্টিতে যে সব রাজনৈতিক নেতারা ছিল ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, তাঁরা গদিচ্যুত হয়।

এখানে এর একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা রইল:

মিশর— কায়রোতে ব্যাপক বিক্ষোভের পরে দীর্ঘকালীন ক্ষমতাসীন স্বৈরতান্ত্রিক শাসক হোসনি মোবারককে পদত্যাগ করতে হয়।
লিবিয়া— গৃহযুদ্ধ হয় এবং স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হন।
ইয়েমেন— একটি সর্বকালের অন্যতম নৃশংস গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং যা আজও অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি আলী আবদুল্লাহ সালেহ তার অফিস থেকে পালিয়ে যান।

সিরিয়া, ইরাক, বাহরাইন, এই দেশগুলিতেও গৃহযুদ্ধ বা বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়। সৌদি আরব, মরক্কো এবং প্যালেস্তাইনেও কিছু কিছু জন-বিক্ষোভ শুরু হয় এবং সরকার জনগণের চাপের কারণে দ্রুত সরকারি ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংস্কার করতে শুরু করে।

মোহাম্মদ বাইজিজির মৃত্যুতে যে আন্দোলনের শুরু তার পরিণতি ছিল ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী এবং তা আজও অব্যাহত রয়েছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় শরণার্থী সঙ্কট তৈরি করেছে এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া পরিবারগুলি ইউরোপের সীমানা অতিক্রম করে বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশে আশ্রয় নিয়েছে। কিছু সরকার প্রয়োজনীয় জনদরদি সংস্কার বন্ধ করে দিয়েছে, আবার অন্যরা দ্রুত এবং নির্মমভাবে তাদের নিজস্ব নাগরিকদের উপর চড়াও হয়েছে। তবুও মোহাম্মদ বাইজিজির মরিয়া প্রতিবাদটি সহজেই এই শতকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ঘটনা এবং নিশ্চয়ই এর প্রভাব আরও বহু বছর ধরে অনুভূত হবে।

 

বহুকাল আগে এক বয়োবৃদ্ধ ‘গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরা’ কমরেড আমাকে বলেছিলেন, ভারতে সাধারণ মানুষকে জিয়ল মাছের মতো জিইয়ে রাখা হয়েছে… এদেশে কখনও সাধারণ মানুষ, অপশাসনের বিরুদ্ধে দলে দলে রাস্তায় নামবে না… সরকার এবং প্রশাসনকে কার্যত অচল করে দিতে দেশের অধিকাংশ মানুষ, সরকারকে কখনও কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে না। তাঁর আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ, উল্টে, স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের সবচেয়ে অগণতান্ত্রিক সরকারকে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত করেছেন। এদেশে রোহিত ভেমুলা, মহম্মদ আখলাক, গৌরী লঙ্কেশ, হাথরসের দলিত বোনটি… কেউ নন ভারতের মোহাম্মদ বাইজিজি। বহুত্বের জয়গান করা ভারতে, মানুষকে শুধু অন্য ধর্মের প্রতি ঘৃণা ও বিশ্বাসহীনতায় এক সূত্রে গাঁথার কাজটা সম্পূর্ণ হয়েছে। ফলত আধুনিক ভারতের “কালেক্টিভ কনশাসনেস” পাঁচশো বছর পুরনো মসজিদ গুড়িয়ে দেয় আর আমাদের সুখী গৃহকোণে “কাজটা ঠিক হয়নি… কিন্তু ওরাও তো একসময় কত মন্দির ভেঙেছে…” আলাপচারিতায় ক্রমশ ভারী  হয়ে ওঠে। এই অবিশ্বাসের ‘বাতাবরণে’ ছোটখাটো খুচরো দাঙ্গাও হয়। কিন্তু সহজেই অনুমেয় তা সরকার-বিরোধী নয়, সম্প্রদায়-বিরোধী বা সাম্প্রদায়িক। হ্যাঁ, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি, বাবাসাহেব আম্বেদকর বা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সার্বজনিক ‘ভারতবর্ষ’ নামক ধারণাটির গত ৬ই ডিসেম্বর ১৯৯২-তেই মৃত্যু হয়েছে। মুখ্য বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে কৃতজ্ঞচিত্তে ভারতীয় জনতা দলের দ্বারা রাজ্যসভার সদস্যপদ উপহার দেওয়াই হোক বা লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলী মনোহর জোশি, উমা ভারতী, কল্যাণ সিং, বিনয় কাটিয়ার প্রমুখ নেতাকে বেকসুর খালাস বা দায়মুক্ত ঘোষণা করাই হোক, এ সবই বারংবার ওই একই মৃত্যুর ডেথ-সার্টিফিকেটের নবায়ন ছাড়া অন্য কিছুই নয়।

দীর্ঘ ছয় সাত দশকের অপশাসন, ভারতের মানুষকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে, সুখী মানুষ আর দুখী মানুষ। সুখীরা, যারা সংখ্যায় খুব কম, তাদের সাফল্যের জন্য ঈশ্বর বা খোদাতালা এবং সরকারকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন বা ধন্যবাদ জানান। আর দুঃখী মানুষেরা তাদের দুর্দশার জন্য অদৃষ্টকে দায়ী করেন। কিন্তু কেউ-ই, যেরকম হওয়া উচিত, ভয়ঙ্কর ক্রোধান্বিত নয়। কংগ্রেসি আমলের একের পর স্ক্যাম থেকে শুরু করে আজকের স্বৈরাচারী বিজেপির অপশাসনের বিষয়ে গুটিকয় সমাজকর্মী, রাজনৈতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী হয়তো তাদের অনাস্থা ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মাত্র, কিন্তু তা দিয়ে দেশজুড়ে সঙ্ঘবদ্ধ বিক্ষোভ ও পথে নামা যায় না। এমনকি আজও পাঞ্জাব হরিয়ানার যে সব কৃষকরা রাজধানীর উপকণ্ঠে জড় হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই সম্ভবত এই কিছুদিন আগেও ‘শিরোমণি আকালি দল’ নামক রাজনৈতিক দলটির সমর্থক ছিলেন, যারা এতদিন বিজেপির মতো একটি ফ্যাসিস্ট দলের সহযোগী দল বলেই পরিচিত ছিল। অর্থাৎ পেটে সরাসরি লাথি না পড়লে আমরা সোজা হয়ে দাঁড়াবার কথা ভাবি না। তাই যদিও আজ এই কৃষক-যোদ্ধারা পথে নেমে এসেছেন, তবু অধিকাংশ ভারত আজ দর্শক বা ‘দেখি না কী হয়’ মোড-এ আছেন। কোথাও ‘রাগের শাদা-ফেনা’ বা ‘ক্রোধের শেফালিকা গুচ্ছ’ নেই। যদিও ভারতের ওয়ার্কফোর্সের অধিকাংশটাই (অর্ধশত কোটি) কৃষিনির্ভর, তবু অন্য অর্ধের এ বিষয়ে কোনও ধারণাই নেই যে কত বড় বিপদের সম্মুখীন হতে চলেছে তার অপর অর্ধ এবং অবশ্যম্ভাবীভাবে ক্রমে সমস্ত জনজাতি। তার একটা কারণ হতে পারে এই কৃষক-অর্ধ, বাস্তবিকই দরিদ্র-অর্ধ (যার অবদান ভারতীয় জিডিপি বা ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের মাত্র ১৫ শতাংশ। এই জিয়ল-মাছ জাতির পক্ষে তাই হয়তো ভুলে যাওয়াও খুব সহজ, যে ভারতের ১০০ শতাংশ মানুষের খাবার থালাতে, ভাত রুটি ডাল বা ইডলি সম্বর, আমরা যা খাচ্ছি বা পরিবারের অন্যদের মুখে তুলে দিচ্ছি, বস্তুত তার সবই আসছে এঁদের হাত দিয়ে।

রেটরিক আর তার পালটা রেটরিকের চাপে পিষ্ট হয়ে তাই হয়তো এবারেও ‘ভারতীয় বসন্ত’ এল না। কখনও আসবে কি?