Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

রিক্তের যাত্রায় হাগো

সায়ন্তন মিত্র

 

আপনার একটানা একঘেয়ে সুরের প্রথম স্মৃতি কী? এর উত্তরে অনেকে একগাদা ভাবনাচিন্তা করলেও সন্দীপন, তার সময় লাগে মাত্র এক সেকেন্ড। সে দুম করে বলে দেবে, তাদের মফস্বলের বাড়িতে ছোটবেলায় একপ্রকারের ভিখিরি আসত, যারা ভিক্ষা না দেওয়া অব্দি ক্রমাগত একটা খঞ্জনী বাজিয়ে অদ্ভুত গলায় “হরে কৃষ্ণ” গেয়েই চলত, এবং ভিক্ষা দেওয়ার মুহূর্তেই দুম করে রিমোটের বোতাম টেপার মতো তাদের বাজনা থেমে যেত। আবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় পড়ে পাশের বাড়ির রাস্তায় ঢোকার মুখে শুরু হত সেই কৃষ্ণনাম। এই ঈশ্বর নামের সাথে পরপারের বা আধ্যাত্মিকতার সম্পর্ক (আদৌ ছিল কিনা) যেমন সন্দীপন কোনওদিন বোঝেনি, তেমনই সে বোঝেনি বব ডিলানের দুই ধরনের গানের আন্তঃসম্পর্ক। খোদ বব বাবুকে কোট করাই যায়, কিন্তু তা বিশেষ যুক্তিপূর্ণ লাগে না, এবং সেখানে হাওয়ায় কোনও উত্তরই ভাসে না (Blowing in the wind)। বরং ভাবার দরকার নেই সব ঠিকাছে (Don’t think twice it’s alright) গোছের ভাবালুতা নিয়ে কাটিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছু করতে পারেনি। অতএব ভিক্ষার সঙ্গে খিদের সহজতর সম্পর্কটিকেই রেফারেন্স ধরে নেওয়া অনেক সুখের, আর দুনিয়ার সকল সমস্যা ও তার প্রায় অসম্ভব সমাধানকে এই সমীকরণের দুপাশে বসিয়ে কাটাকুটি করে দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকার উপায় সে কিয়ারোস্তামির টেন দেখার বহু আগেই শিখে গেছিল। যদিও পরে বুঝবে দুনিয়ায় জোর করে ভাবনাচিন্তা করে জটিল ভজকট ব্যাপার নামানোর আর সেসব নিয়ে অন্যের মাথা খাবার লোকের অভাব কখনওই ছিল না, আর তা জানার পরেই সে বব ডিলানের উপর সকল অভিমান ভুলে যাবে, কারণ খুব গাঁত লোক না হলে জীবনের নানা পর্যায়ের মতামতের প্রতি একগুঁয়ে হয়ে থাকা বেশ অসম্ভব এবং এই নয়াউদারবাদী পরিবেশে খুব একটা ভালো চোখে দেখাও হয় না, ফলে বলাও যাবে না। সুতরাং hard rains a gonna fall.

অবশ্য অভিমান হয় ভালোবাসার লোকের প্রতি। যেমন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, কিংবা লিও ট্রটস্কি। সেই সাধের ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড, সেই স্বপ্নের দল ছেড়ে রিয়েল মাদ্রিদের মতো বুর্জোয়া দলে চলে যাওয়া কখনওই মানা যায় না, আজও মানা যায়নি। ভাগ্যিস স্তালিন নামের কোনও খারাপ লোক ওল্ড ট্রাফোর্ডে ছিল না, নইলে আবার দুনিয়ার তাবৎ ঐতিহাসিক ও চুলচেরাবিদদের নানা ফ্যাচাং-এর বই লিখতে হত, আর কে না জানে, ইতিহাস ও রেকর্ড বুক বলে, ম্যাঞ্চেস্টার ইস “রেড”। কিন্তু একটা জিনিস সমাজতত্ত্বের দুরূহ অনুসন্ধান ছাড়াই দেখা গেছে, আর তা হল, গোদার এবং চে কলকাতার সম্মানীয় বিপ্ল-অ্যানার্কো-ক্রিয়েটিভ মহলে যতটা আড্ডাটাইম লাভ করেন স্তালিন তার সিকিভাগও পান না। চন্দ্রিলেরা বোধয় প্রথমভাগ নিয়ে বড়ই ব্যস্ত ছিলেন, কিংবা স্তালিন একেবারেই আধুনিক না, রবীন্দ্রনাথের মতো (রঞ্জন বন্দ্যর সাথে আমার রবীন্দ্রনাথ দ্রষ্টব্য)। ভাগ্যি এই যে রঞ্জন আবার কমিউনিস্ট কেচ্ছা নিয়ে বিশেষ গা ঘামাননি, এবং পোস্ট সোভিয়েত-বেঙ্গল লুম্পেন সংস্কৃতিতন্ত্রেও যখন ঘামাননি তখন আমাদের ধরে নিতে হবে সেই কেচ্ছালোচনা অন্তত তার হাত দিয়ে বেরোবে না। বরং পার্টি (সব ব্র্যাকেটেই) ও ক্ষমতার গঠনতন্ত্রে বেবাক চোদু বনে যাওয়া কোনও নিভৃত গবেষকের হাত দিয়েই হয়তো সে মাল নামবে ক্রমে। বরং বিদগ্ধ পাঠক এই রচনার লেখককে ক্রমে সিপিএম ভাবার আগে ভবিষ্যৎ দর্শনের লাটাই গোটানো হোক। তার চেয়ে যেহেতু এই প্যারাগ্রাফ শুরু হয়েছিল ভালোবাসার উল্লেখ দিয়ে, আমরা সে বিষয়েই মনোযোগ দিই। কিন্তু এখানেও একটি বিষম ক্যাচ, ভালবাসা ইকুয়াল্টু পার্সোনাল ইকুয়াল্টু পলিটিকাল, এক বন্ধু সন্দীপনকে জিজ্ঞেস করেছিল, এই সূত্র মেনে ভালবাসা পলিটিকাল হলে প্রেম কী? এবারেও চটজলদি জবাব দিয়েছিল সে, সোশিওলজিকাল (হায়ারার্কি সমেত)।

হরেক রকম বাজি ও বারুদের কারখানা, হরেকরকমবা জিওবা, রুদেরকা রখানা। আমদের অবস্থা এমনই। আমি এবং সন্দীপন, এই নিয়ে আমরা। আমরা থেকেই আমড়াগাছি। যাবতীয় হাঙ্গাম এই আমরা নিয়ে। আমরা মানেই লবি। আর লবি বাঙালির অস্তিত্ববাদী সত্য। আমার চেতনার রঙে পান্না যদি সবুজ হয়, তবে আমাদের চেতনার রঙেই লবি হয় রামধনু। মেডিজি অনুযায়ী, সার্ত্র বলেন মানুষ আগে জন্মায়, অবস্থান করে, তারপর কিছু হয়ে ওঠে। কিন্তু বাঙালি আগে জন্মায়, তারপর লবি বানায়, ও তারপর সম্মিলিত চিৎকারে কিছু একটা হয়ে ওঠে। অবশ্যই বুদ্ধুজীবী হয়ে উঠতে চাওয়া নাগরিক বাঙালি, ক্যান্টোনিজ এ যাকে বং বলে। বিশ্বাস করুন লেখক আগের লাইনে বুদ্ধিজীবীই লিখতে চেয়েছিলেন, ওটা ওনার টাইপিং মিসটেক, মাক্কালি। ফ্রয়েডের স্লিপ অফ পেন ফেন আনবেন না প্লিজ। আর ফ্রয়েড বলতেই মনে পড়ে গেল, ওয়ানাবি বংদের যেমন গোদার চে তারকোভস্কি, তেমনই আরেকজন হলেন ফ্রয়েড। মনোবীক্ষণ বাঙালির কাছে আর ফ্রয়েড ছেড়ে উঠতে পারেনি, আর বংবাবুদের হরেক কিসিমের বিজ্ঞানচেতনা কোটেশান ঝাড়ার বাইরেও যেতে পারেনি। লেখক বা লেখকের বন্ধুও তাই। আইনস্টাইন থেকে মিচিও কাকু, আইজেন্সটাইন থেকে আদিত্যবিক্রম, আমাদের কোটেশানই সম্বল। ফলত তার্কিক এবং সেই তর্ক নিয়ে গর্বিত ও এমনকি বিস্কুটের বিজ্ঞাপনে তার ব্যবহারের পরেও সেই তর্কের দিক বা দিকহীনতা নিয়ে সন্দেহের জায়গা থেকেই যায়। তর্ক মানে মূলত যা দেখা গেছে তা হল মূলত কে কত নাম আর উদ্ধৃতি ব্যবহার করতে পারে। লজিকাল আগুপিছু ছাড়া এই নাম নিয়ে লোফালুফি কদ্দুর যায় তা আর সন্দীপনের কল্পনাতে আসে না। বরং বাঙালি আঁতেলের এই মগজ ব্যবচ্ছেদ ছেড়ে নিহত বর্ষা ও নবাগতা শরত (জেন্ডার ফ্লুইড)-এর মেঘগর্জনগম্ভীর দুপুরে বসে বসে আমরা অন্য কিছু বলব, মানে আমি ও সন্দীপন, কিংবা বলার চেষ্টা করব, ব্যক্তিগত কিছু।

আলেখ্য, অপচয় চিরকাল পৃথিবীতে থাকবে। এখান থেকে আমরা যদি সন্দীপনের নাম দিই আলেখ্য, কিংবা তার নাম দেওয়া যেতে পারে মাল্যবান, কিন্তু তাতে অপচয়ের কী হালহকিকত পাল্টাবে? কিচ্ছু না। হঠাৎ হঠাৎ দুঃখ পায়, দুঃখ পেয়ে পেয়ে তারা সাল্টে যায়। এই লেখাও শুরু হয়েছিল এক দুঃখের আখ্যান শোনাতে। কিন্তু কোথা দিয়ে কী হয়ে যায়, তা আর আজকাল বোঝা যায় না। সন্দীপন, বা আলেখ্য, বা মাল্যবান, জানে, যে তার বন্ধু ন্যূনতম সৃষ্টিশীল ক্ষমতাহীন একজন লিখিয়ে। সৃষ্টিক্ষমতা না থাকার একটা পজিটিভ দিক হল প্রকাশ বা সম্মানে কিছু এসে না যাওয়া। এখানে এইটা পিশাচীয় মিথ্যা লাগলেও কথাটা সত্যি। এইখানে কেউ প্রশ্ন করবেন, সৃষ্টি আগে না প্রকাশ আগে? সন্দীপন বলে প্রকাশ আগে, অন্তত বর্তমানে। প্রকাশের অপরিসীম আকাঙ্ক্ষাতেই সৃষ্টি রচিত হচ্ছে, এমনকি এই লেখাটিও, ফলে জ্ঞানপাপী চুলকানি থেকেই নিজেকে ক্রিয়েটিভ বলা থেকে সরে আসা। কারণ প্রকৃত প্রস্তাবে আমার বলা বা লেখার কিছু নেই। হয়তো কারওরই কিছু নেই। তবু এত গণ্ডায় কুইন্টালে টনে সৃষ্টির প্রোডাকশন। বলছে সবাই, লিখছে সবাই, কিন্তু কেউ কারওটা পড়ছে না। মানে রিডিং মারছে, কিন্তু অন্তঃস্থ আর কিছু হয় না। কারণ লেখকের আর পাঠককে দেবার কিছু নেই। প্রত্যেক পাঠক নিজেই সবজান্তা, এবং অবশ্যই নিজে লেখক। এবং বলাই বাহুল্য সব একজাতীয় লেখা। বছর পনেরো থেকে বছর ষাট, চিকিৎসাবিদ্যার ছাত্র থেকে বিল্ডার্সের মালিক, প্রত্যেকের বিষয় হল স্মৃতিচারণ, আমাদের ছোটবেলায়। এই হল গদ্যে। আর কবিতা বা গল্প হলেই তা ভালবাসা বিচ্ছেদ ও সেইজনিত মনখারাপ নিয়ে। এবং স্মৃতি-ছোটবেলা ও ভালোবাসার ব্যাঙ্কআকাউন্টের নাম্বার ভুলে যাওয়া আমার বা আমাদের তাই এ নিয়ে বিশেষ কিছুই বলার পড়ে নেই। যা বলার তা আমরাও চিন্তার শৈশবে বলে ফেলেছি, এবং আলবাত লাইক কুড়িয়ে জমিয়ে রেখেছি মাটির গেলাসে।

শোনা যায় কোনও এক লুইস ক্যারল অ্যালিস ইন দা ওয়ান্ডারল্যান্ড লিখেছিলেন এক বাচ্চা মেয়েকে খুশি করবেন বলে, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসের কোনও এক মুখবন্ধে পড়েছিলাম। আশা করাই যায় সেই শিশু সেটা পড়ে খুশি হয়েছিল। কিন্তু আমরা খুশি হব কিসে? আমাদের হাঙ্গামময় চারিদিকে গাদা গাদা মুখ চেনালোকের জীবনে ভুত ব্রহ্মদৈত্য স্কন্ধকাটা একানড়েও আসে ঠাকুমা ও শৈশবের গল্পের নস্টালজিয়া হয়ে। নস্টালজিয়া, অর্থাৎ সব ছিল, আজ আর কিছু নেই। কিন্তু যাদের কোনওকালেই কিছু ছিল না, তাদের জন্য অন্তত কিছু করার প্রয়োজন। নইলে যা আমরা দেখতে পাচ্ছি, কৈশোরে পা না রাখা বালক বালিকাও উত্তর কলকাতা নিয়ে নস্টালজিক, প্রশ্ন করলাম কেন? কী হয়েছিল বাবু তোমার বাল্যে? বলে জানি না। সত্যিই জানার নেই। কারণ তার আগের প্রজন্ম ব্যপক আত্মম্ভরিতার ভিতর নিরাপদ বসে বসে স্মৃতিচারণা, প্রেম বিচ্ছেদ, একবগ্‌গা উদাসী বিকেল রচনার বাইরে তার জন্য আর কিছুই সৃষ্টি করে যেতে পারেনি। তাই সে কাদায় ফুটবল পেটানো উচিত এমন ভয়াল বয়সে বর্ষার বিকেলে জানলায় বসে মনখারাপের কবিতা লেখে ফেসবুকে। তাও এক্সপেরিমেন্টাল নয়, একগুঁয়ে। এবং তা আলবাত সমালোচনার উর্ধ্বে।

এইখানেই সন্দীপনের জীবনের ট্রাজেডি। সে মার্কেটে পড়ে থাকা শেষ কয়েকজন সেনাইল নন ক্রিয়েটিভ মানুষ। বৃদ্ধ। বলতেই দেখুন গ্লাসে ভেজানো নকল দাঁতখানা পরে নিল। আর স্ট্যানলি কুব্রিক সেই কবে এবং কোয়েন ভ্রাতৃদ্বয় অনেক পরে যথাক্রমে বলেন যে দেয়ার ইস নো ওয়ার্ল্ড এবং কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান। তারও কোনও দেশ পরিজন পাওয়া যায় না তাই। অবশ্য এখন আবার যুগ বিরাট প্রাদেশিকতাবাদের, তার হোতারা এসব শুনলে খচে যেতে পারেন। কারণ তাদের মতে এসব ভাবালুতা অপদার্থতা, তবে তাদের থেকে কম না বেশি তা তারা স্পষ্ট করে বলতে পারেন না। বোধহয় অপদার্থতার বিচারে তারা একচুল এগিয়ে। বয়সের এই সমস্যা যেখানে সেখানে ডাইগ্রেস করে যায়। ইউফ্রেটিস করতে পারে, তা না। সন্দীপন আমার বন্ধু। বা শত্রু। বা সংজ্ঞা নেই এমন কোনও উত্তরাধুনিক সম্পর্ক। সন্দীপনের কথাই আমি আপনাদের বলেছি আমার অকহতব্য লেখনীতে। তবে সন্দীপন খুব ভালো মানুষ। সে তোতাকাহিনীর নিন্দুকের মতো না। সে বিকেলবেলা কার্জন পার্কে বসে লেনিনের টাকে পায়রা দেখলেই হুস হুস করে তেড়ে যায়। তার প্রিয় সিনেমা গ্র্যান্ড বুদাপেস্ট হোটেল। কারণ তাতে ভল্ডেমর্টের নাক দেখা গেছে। তার আদিবাস টাকী, রূপম ইসলাম সেখানে বাংলা পড়াতে আসছেন খবরেই সে বমালসুদ্ধ সাল্কেতে উঠে আসে। যদিও রূপম তখনও রূপম হয়নি। তবে গুজব আছে এই ভবিষ্যৎ-দর্শন ও টাকি টু সাল্কে ভায়া প্যারিস লিফট তাকে দিয়েছিলেন মুনি নারদ, স্বয়ং আপন ঢেঁকিতে। প্যারিসে থাকাকালীন তার দেখা হয়েছিল দেবাদিদেব কিস্লোস্কির সাথে। সেই আলোচনার ট্রান্সস্ক্রিপ্ট পরে পোল্যান্ড তার হলোকাস্ট আর্কাইভে লুকিয়ে রাখে অজানা কারণে। এবং তা জানার পর নারদমুনি সন্দীপনকে একটি অ্যাপোক্যালিপ্টিক চোখ মারেন।

নস্ত্রাদামুস-এর লেখা পড়লে বাঙালি জানতে পারত যে, বিংশ শতাব্দীতে একজন বাঙালি জন্মাবেন, অবস্থান করবেন সাল্কে শহরে। না তিনি কোনও ফ্যসিবাদি রাষ্ট্র শক্তি গড়ে তার সর্বেসর্বা নেতা হবেন না, বরং তিনি কিছুই হবেন না, জাস্ট কিচ্ছু না। একদিন বাবুঘাট থেকে হেঁটে ধর্মতলা ফেরার পথে, মাঝে মোহনবাগান তাঁবু দেখে ৯৫৪৯তম বার বিহ্বল হবার পর রাণী রাসমণিকে না ছুঁয়ে সিধুকানুর কাছে ডহরবাবুর দোকান থেকে একটা নেভিকাট কিনে ফুঁকতে ফুঁকতে ও মগজে “নকশাল আন্দোলন কেন ব্যর্থ – অঞ্জন দত্ত” লেখাটি নিয়ে ভাবতে ভাবতে টিপু সুলতান মসজিদে ফজরের নমাজ শুরুর আগেই সিগারেটের শেষ টানের সাথে সাথে বাতাসে মিলিয়ে যাবেন। স্বর্গ থেকে বেশ্যা হিজড়ে ফাঁসুড়ে বিজ্ঞানী (নিউক্লিয়ার রাষ্ট্র পুষ্ট বাদে বাকিরা) ডোম মেথর পুষ্পবৃষ্টি করবে। মৃত নোবাডিদের জন্য ১৮৮০ সালে বানানো স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝে মিডিল বাঙ্কার থেকে সেথায় স্বেচ্ছা নির্বাসিত বুকোস্কি ও তার দলবল বাঁ হাতে ওয়াইনের গ্লাস তুলে ডান হাতে পোঁদ চুলকে নেবেন। নরকে দিগ্‌গজেরা কী করবেন তা জানা যাবে না। তবে গ্রাম উজিয়ে শহরগামী, ইতিহাস শেকড় লাথিয়ে দৃষ্টি চেতনা ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া একাকীত্ব নিরাপত্তাহীনতা হিংসাশ্রয়ীতার দিকে নরনারী ও পোষা কুকুরদের ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে এক্সোডাস জারী থাকবে। সংস্কৃতিবান ও সমালোচনাহীন।