দেবাশিস মিথিয়া
ইতিহাসের একই নাটকের পুনরাবৃত্তি আজ ২০২৬ সালেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ধরে ফিরে এল। সম্প্রতি জনসমক্ষে এসেছে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার এপস্টাইন রিপোর্ট। ওই রিপোর্টে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে ট্রাম্পের যাতায়াত এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ সব প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি উঠে এসেছে, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। খোদ আমেরিকায় যখন প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ভেনেজুয়েলায় এই অতর্কিত হামলা চালানো হল। এটি যে একটি নিখুঁত ‘ওয়াগ দ্য ডগ’ চাল, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই
২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক নজিরবিহীন ও ন্যক্কারজনক সামরিক অভিযান চালায় আমেরিকা। মার্কিন ‘ডেল্টা ফোর্স’ ও ‘নেভি সিল’-এর কমান্ডোরা ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার নিয়ে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ‘মিরাফ্লোরেস’ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বাসভবন ঘিরে ফেলে। অত্যন্ত উন্নত জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা অকেজো করে দিয়ে মাত্র ২০ মিনিটের এক কমান্ডো অপারেশনের মাধ্যমে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অস্ত্রের মুখে বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। আমেরিকার দাবি, মাদুরো একজন “মাদক-সন্ত্রাসী” এবং তাঁকে ধরা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জরুরি ছিল। কিন্তু বিশ্ববাসী এই অভিযানের পেছনে দেখছে এক গভীর রাজনৈতিক অভিসন্ধি।
এই ঘটনাটি পরিচালক ব্যারি লেভিনসন পরিচালিত ১৯৯৭ সালের বিখ্যাত সিনেমা ওয়াগ দ্য ডগ-এর কাহিনিকে মনে করিয়ে দেয়। এই সিনেমাটিতে লেভিনসন সমকালীন রাজনৈতিক বিদ্রূপ বা স্যাটায়ারকে এতটাই তীক্ষ্ণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যে, তা আজও প্রাসঙ্গিক। সিনেমার গল্পে দেখা যায়, নির্বাচনের ঠিক ১১ দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক ভয়াবহ যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। সেই কেলেঙ্কারি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে হোয়াইট হাউস কনরাড ব্রিন নামের একজন দক্ষ ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ বা ‘স্পিন ডক্টর’-কে ভাড়া করে। মানুষের মন থেকে প্রেসিডেন্টের যৌন কেলেঙ্কারির কথা মুছে দিতে ব্রিন একটি মিথ্যা যুদ্ধের পরিকল্পনা করেন। তিনি আলবেনিয়াকে শত্রু দেশ হিসেবে বেছে নেন এবং একজন হলিউড প্রোডিউসারকে ভাড়া করে স্টুডিওর ভেতরেই গ্রিন স্ক্রিন প্রযুক্তিতে যুদ্ধের ভুয়ো ভিডিও তৈরি করেন। সেই সাজানো যুদ্ধের ফুটেজ ব্রেকিং নিউজ হিসেবে সারা দেশের টেলিভিশন পর্দায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা আর দেশপ্রেমের সেই দৃশ্য টিভিতে দেখে সাধারণ মানুষ ও মিডিয়া এই উন্মাদনায় এতটাই বুঁদ হয়ে যায় যে তারা প্রেসিডেন্টের কেলেঙ্কারির কথা ভুলেই যায়। ফলে এই ডামাডোলের সুযোগে প্রেসিডেন্ট পুনরায় নির্বাচিত হন। শেষে সত্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় ওই হলিউড প্রোডিউসারকে রহস্যজনকভাবে হত্যা করা হয়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হল, সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার মাত্র কয়েক মাস পরেই হোয়াইট হাউসে প্রায় একই ঘটনার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়। ১৯৯৮ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং মনিকা লিউইনস্কির যৌন কেলেঙ্কারি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ক্লিনটন যখন এই কেলেঙ্কারির চাপে কোণঠাসা এবং আদালতে তাঁর সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে, ঠিক তখনই তিনি এক নাটকীয় পদক্ষেপ নেন। ক্লিনটন হঠাৎ সুদান এবং আফগানিস্তানে আল-কায়েদার ঘাঁটিতে ক্রুজ মিসাইল হামলার নির্দেশ দেন। তখন অভিযোগ উঠেছিল যে, নিজের ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি থেকে নজর ঘোরাতেই তিনি এই ‘ডাইভারশনরি’ বা ‘ওয়াগ দ্য ডগ’ কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন।
‘ওয়াগ দ্য ডগ’ এবং ডাইভারশনরি পলিটিক্স
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ওয়াগ দ্য ডগ’ বা ‘ডাইভারশনরি থিওরি অফ ওয়ার’ হল ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার এক অতি পরিচিত ও কার্যকর হাতিয়ার। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন কোনও দেশের শাসক অভ্যন্তরীণ সংকট, অর্থনৈতিক মন্দা কিংবা ব্যক্তিগত কোনও কেলেঙ্কারির চাপে নাজেহাল হয়ে পড়েন, একেবারে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন তিনি জনরোষ থেকে বাঁচতে বিদেশের মাটিতে এক কৃত্রিম ‘শত্রু’ খাড়া করেন। শুরু করেন আকস্মিক কোনও সামরিক অভিযান বা যুদ্ধ। এর নেপথ্যে কাজ করে শাসকের ক্ষমতা হারানোর আতঙ্ক কিংবা সংবাদমাধ্যমের প্রচণ্ড চাপ। সেই চাপ সামলাতেই কোনও দুর্বল রাষ্ট্রকে ‘সহজ টার্গেট’ বানিয়ে শুরু হয় এক সাজানো বীরত্বগাথা। উদ্দেশ্য একটাই— সাধারণ মানুষের মনে দেশপ্রেমের আবেগ উসকে দিয়ে সরকারের সব সমালোচনা ধামাচাপা দেওয়া। ফলে মানুষ আবেগে আপ্লুত হয়ে সব সমালোচনা ভুলে শাসকের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার তৎকালীন সেনা সরকার (সামরিক জান্তা) ফকল্যান্ড যুদ্ধের মাধ্যমে ঠিক এই কাজটিই করার চেষ্টা করেছিল। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একেই বলা হয় ‘র্যালি রাউন্ড দ্য ফ্ল্যাগ’ এফেক্ট।
ইতিহাসের সেই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি আজ ২০২৬ সালেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ধরে ফিরে এল। সম্প্রতি জনসমক্ষে এসেছে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার এপস্টাইন রিপোর্ট। ওই রিপোর্টে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে ট্রাম্পের যাতায়াত এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ সব প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি উঠে এসেছে, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। খোদ আমেরিকায় যখন প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ভেনেজুয়েলায় এই অতর্কিত হামলা চালানো হল। এটি যে একটি নিখুঁত ‘ওয়াগ দ্য ডগ’ চাল, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের চারিত্রিক পতন আর আইনি জটিলতা থেকে বিশ্ববাসীর এবং মার্কিন জনগণের নজর ঘোরাতেই ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে বন্দি করার মতো চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। এটি মূলত নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার এবং লাতিন আমেরিকায় আমেরিকার আধিপত্য বিস্তারের এক বেপরোয়া ভূ-রাজনৈতিক দস্যুবৃত্তি।
কেন ভেনেজুয়েলা?
আমেরিকা কেন অন্য কাউকে না বেছে নিকোলাস মাদুরোকেই তাঁর এই ‘ডাইভারশন’ কৌশলের লক্ষ্যবস্তু বানাল, তার পেছনে কাজ করেছে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত কিছু ভূ-রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ। দীর্ঘকাল ধরে ভেনেজুয়েলাকে একটি ‘স্বৈরাচারী দেশ’ এবং মাদুরোকে ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে প্রচার করার ফলে মার্কিন জনগণের কাছে তাঁকে বন্দি করাটা একটি বীরত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিক্রি করা অত্যন্ত সহজ ছিল। বিশেষ করে যখন ট্রাম্পের নিজের চারিত্রিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তখন মাদুরোকে এক কুখ্যাত ‘নার্কো-টেররিস্ট’ হিসেবে বন্দি করে তিনি সুচতুরভাবে নিজেকে একজন বিশ্বস্ত ‘আইনরক্ষাকারী’ বা সুপারহিরো হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন।
ভৌগোলিকভাবে ভেনেজুয়েলা আমেরিকার দোরগোড়ায় অবস্থিত। একদিকে যেমন দেশটির বিশাল তেলের খনির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার অর্থনৈতিক লোভ ছিল, তেমনি ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে সেখান থেকে কম খরচে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও ছিল আমেরিকার বড় একটি লক্ষ্য। আবার রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র মাদুরোকে সরিয়ে পুতিন ও চিন ব্লককে এক হাত নেওয়ার রাজনৈতিক সুযোগটিও ট্রাম্প হাতছাড়া করতে চাননি। সর্বোপরি, ইরান বা উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি না নিয়ে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির দেশ ভেনেজুয়েলার ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো ছিল ট্রাম্পের জন্য একটি ‘লো রিস্ক, হাই রিওয়ার্ড’ অপারেশন, যা সফলভাবে তাঁর ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি থেকে সবার মনোযোগ সরিয়ে দিয়েছে।
আধিপত্যের নতুন অধ্যায় ও বাম রাজনীতির ভবিষ্যৎ
নিকোলাস মাদুরোর এই বন্দিত্ব শুধু ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং এটি লাতিন আমেরিকার মার্কিন-বিরোধী বামপন্থী রাজনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশা। এর মধ্যে দিয়ে ওই অঞ্চলে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি আধিপত্যের এক নতুন এবং আগ্রাসী অধ্যায় শুরু হল। মূলত ১৮২৩ সালে প্রবর্তিত “মনরো ডকট্রিন”-কে নতুন করে ফিরিয়ে এনে আমেরিকা লাতিন আমেরিকাকে আবারও তাদের নিজস্ব খাসতালুক হিসেবে ঘোষণা করতে চাইছে। এর মূল লক্ষ্য হল— এই অঞ্চলে রাশিয়া বা চিনের মতো শক্তির প্রভাব রুখে দেওয়া এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ওয়াশিংটনের একক কর্তৃত্ব বা ছড়ি ঘোরানোর পুরনো অভ্যাসটি আবার কায়েম করা। ভেনেজুয়েলা ছিল এই পুরো অঞ্চলের আমেরিকা-বিরোধী দেশগুলোর প্রধান অর্থনৈতিক জোগানদার ও রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস। ফলে মাদুরোর পতন কেবল একজন ব্যক্তির ক্ষমতাচ্যুতি নয়, বরং এটি পুরো লাতিন আমেরিকার সমাজতান্ত্রিক ব্লকের প্রধান স্তম্ভটিকেই উপড়ে ফেলার নামান্তর।
এই ধাক্কা কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং বিশ্বব্যাপী বামপন্থী আন্দোলনের জন্য এক বিশাল অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়। ভেনেজুয়েলার বিশাল জ্বালানি তেলের ভাণ্ডার এবং তা থেকে অর্জিত আয় ব্যবহার করে হুগো চাভেজ ও মাদুরো যে ছোট ছোট সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোকে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা দিতেন, সেই মেরুদণ্ড এখন ভেঙে পড়ার মুখে। ফলে, ২০০০-এর দশকের শুরুতে লাতিন আমেরিকায় যে ‘পিঙ্ক টাইড’ বা বামপন্থী জোয়ার এসেছিল, মাদুরোর বন্দিত্বের ফলে তা আজ চরম অস্তিত্বের সংকটে পড়বে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের এই পরিণতি মূলত ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে একটি কড়া সতর্কবার্তা— আমেরিকার অবাধ্য হলে কোনও বামপন্থী নেতাই এখন নিরাপদ নন। এই শূন্যস্থানে এখন আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের মতো দেশগুলোতে কট্টর ডানপন্থী ও আমেরিকা-ঘেঁষা দলগুলোর উত্থান ঘটবে, যারা সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে “ব্যর্থ” হিসেবে প্রচার করার সুযোগ পাবে।
তবে এই আধিপত্য বিস্তারের লড়াই দীর্ঘমেয়াদে কিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। লাতিন আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যে যদি এই ধারণা বদ্ধমূল হয় যে আমেরিকা তাদের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিয়েছে, তবে সেখানে উগ্র আমেরিকা-বিরোধী জাতীয়তাবাদ ও গণরোষের জন্ম হবে। এমনকি সমাজতান্ত্রিক কর্মীরা প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে না পেরে সশস্ত্র বিপ্লবের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা পুরো অঞ্চলে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে। একইসঙ্গে, চিন ও রাশিয়া মরিয়া হয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে, যা বৈশ্বিক স্নায়ুযুদ্ধকে আরও উসকে দেবে।
পরিশেষে বলা যায়, নিকোলাস মাদুরোর এই পতন বিশ্বব্যাপী বামপন্থী আন্দোলনের সামনে এক গভীর “অস্তিত্বের সংকট” খাড়া করেছে। ভেনেজুয়েলার মতো একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক স্তম্ভের পতন কেবল একটি দেশের পরাজয় নয়, বরং এটি পুরো লাতিন আমেরিকার সমাজতান্ত্রিক ব্লকের জন্য এক বিশাল পশ্চাদপসরণ। আমেরিকা এখন এই অঞ্চলে এমন সব আজ্ঞাবহ ডানপন্থী সরকার বসাতে চাইবে যারা ওয়াশিংটনের নির্দেশ মেনে চলবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৈরি এই পরিস্থিতি বাম রাজনীতির জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। একদিকে সম্পদের ওপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই, অন্যদিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ‘ওয়াগ দ্য ডগ’ কৌশলের শিকার হওয়া— এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো আজ দিশেহারা। এর ফলে বামপন্থী দলগুলো হয় আমেরিকার চাপের কাছে নতিস্বীকার করে নিজেদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবে, নয়তো চিন-রাশিয়া ব্লকের ওপর অতি-নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। ফলে স্বাধীন ও সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক যে ধারার স্বপ্ন হুগো চাভেজ বা ফিদেল কাস্ত্রো দেখিয়েছিলেন, তা আজ চরম হুমকির মুখে। বাম রাজনীতির এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ এখন কেবল তাত্ত্বিক লড়াইয়ে নয়, বরং গণরোষ ও নতুন বৈশ্বিক রাজনৈতিক মেরুকরণের ওপর নির্ভর করছে।
*মতামত ব্যক্তিগত

