Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

ছায়া ঘনাইছে বনে— বদলে যাওয়া বিশ্বব্যবস্থা ও এক নতুন অস্থিরতার আখ্যান— নবম বর্ষ, সপ্তম যাত্রা

স্টেশনমাস্টারের কলাম

 

…মূলধারার ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ রাষ্ট্রকে মূল একক ধরে নেয়— রাষ্ট্রের স্বার্থ, রাষ্ট্রের কৌশল, রাষ্ট্রের ক্ষমতা। কিন্তু কোন শ্রেণির স্বার্থ এই রাষ্ট্রনীতিকে পরিচালিত করছে? কার মৃত্যু গণনায় পড়ে না? কার শ্রম, কার ভূমি, কার সম্পদ— এই যুদ্ধের জ্বালানি? অস্ত্রব্যবসার বৈশ্বিক মুনাফা এখন বার্ষিক দুই ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে— এবং প্রতিটি নতুন সংঘাত সেই সংখ্যাটিকে বড় করে। লকহিড মার্টিন, রেথিওন, বিএই সিস্টেমস— এই কর্পোরেশনগুলো কোনও যুদ্ধে সম্পদ হারায় না, প্রতিটি যুদ্ধে সম্পদ অর্জন করে।…

…বনজুড়ে ছায়া ঘনিয়েছে। সেই ছায়া কোথা থেকে এসে কার সুবিধা করে দিয়ে কোথায় ছড়িয়ে পড়ছে— তা না বুঝলে সেই অন্ধকার থেকে বেরোনোর পথ খোঁজাই বৃথা। এই সংখ্যাটি, আগে যেমন বলেছি, সেই বোঝার চেষ্টা। পথ খোঁজারও।…

 

এই সংখ্যাটি কোনও তাত্ত্বিক বিলাসের ফসল নয়। এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের দাবিতে তৈরি— যখন নীরব থাকাটাও একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের উপরে যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, সেটি নিখুঁত ছিল না কখনওই। ভিয়েতনামে মার্কিন বোমাবর্ষণ, ইরাকে অস্তিত্বহীন ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্রের’ অজুহাতে যুদ্ধ, আফগানিস্তানে দুই দশকের দখলদারিত্ব— এমন প্রতিটি ঘটনা সেই ব্যবস্থার দ্বিচারিতাকে উন্মোচন করেছে। কিন্তু সেই ব্যবস্থার মধ্যে অন্তত একটা ভান ছিল: সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার, কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের, দুর্বলের সুরক্ষার। জাতিসংঘের মঞ্চে ন্যায়বিচারের ভাষায় কথা বলার একটা বাধ্যবাধকতা ছিল— প্রায়শই ফাঁকা হলেও। আজ সেই ভানটুকুও আর নেই।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের সমন্বিত হামলা সেই মুখোশের শেষ টুকরোটিও খুলে ফেলেছে। এ কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়; এটি একটি ঘোষণা— যে যুগে আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় নেওয়া হত, সেই যুগের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির ঘোষণা। আন্তর্জাতিক আইনের পণ্ডিতরা একে বলছেন ‘targeted killing’-এর এক নতুন অধ্যায়, যেখানে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতৃত্বকে হত্যা করাকে আর যুদ্ধ-ঘোষণার সমতুল্য গণ্য করা হচ্ছে না— কারণ ঘোষণা করার প্রয়োজনটাই আর স্বীকার করা হচ্ছে না। আমরা এখন সেই পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে শক্তিই আইন।

এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান যে সাম্প্রতিক ঘোষণা দিয়েছে, তা বিশ্বের ভূরাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ইরান জানিয়ে দিয়েছে: ‘One vengeance for all — এক প্রতিশোধ, সকলের জন্য।’ এই ঘোষণার তাৎপর্য নিছক বাগাড়ম্বরে সীমাবদ্ধ নয়— এটি একটি সুচিন্তিত মতবাদগত পরিবর্তন। এতদিন পর্যন্ত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’— ইরান, হিজবুল্লাহ, হামাস, হুথি, ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া— প্রত্যেকে নিজ নিজ ভূখণ্ডে, নিজ নিজ যুক্তিতে লড়াই করত। তাদের মধ্যে সমন্বয় ছিল, কিন্তু একটি সম্মিলিত প্রতিরোধের আনুষ্ঠানিক মতবাদ ছিল না। ইরানের এই ঘোষণা সেই বিচ্ছিন্নতাকে ভেঙে দিয়েছে। এখন থেকে এই জোটের যে-কোনও একজন সদস্যের উপর হামলা মানে সমগ্র জোটের উপর হামলা— এবং প্রতিক্রিয়া হবে সমবেত।

এই ঘোষণার একটি দ্বিতীয় মাত্রাও আছে, যা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘এক প্রতিশোধ, সকলের জন্য’ কেবল সামরিক হুমকি নয়— এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা, যা বৈশ্বিক দক্ষিণের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে পড়তে হবে। এই বার্তার সারমর্ম হল: সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আর বিচ্ছিন্ন থাকবে না। ফিলিস্তিনের প্রশ্ন, ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন, ইয়েমেনের অবরোধের প্রশ্ন— এগুলো আলাদা আলাদা সমস্যা নয়, একটি অভিন্ন কাঠামোর অংশ। এবং সেই কাঠামোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধও হতে হবে সমন্বিত। এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে বামপন্থী আন্তর্জাতিকতাবাদের একটি গভীর মিল আছে— যদিও ইরানি রাষ্ট্র নিজে কোনও প্রগতিশীল শক্তি নয়, এবং সেই কথাটা স্পষ্টভাবে বলা দরকার। দেশের ভেতরে শ্রমিক আন্দোলন দমন, নারীর স্বাধীনতার উপর আঘাত, রাজনৈতিক ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ— এই সব কিছু ইরানি রাষ্ট্রের চরিত্রের অংশ। কিন্তু ইতিহাস এই জটিলতাকে চেনে। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই সবসময় নিষ্কলুষ শক্তির হাত থেকে পরিচালিত হয় না— এই সত্যটিকে স্বীকার করা এবং তার নৈতিক জটিলতাকে সরলীকৃত না করাটাই পরিপক্ক বিশ্লেষকের কাজ।

এই সংকটে সবচেয়ে জটিল কৌশলগত অবস্থানে পড়েছে চিন। বেইজিংয়ের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-সপ্তমাংশ ইরান থেকে আসে। দশকের বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের কাঠামোর মধ্যে চিন-ইরান সম্পর্ক কেবল তেলের লেনদেনে সীমাবদ্ধ নয়— এর সঙ্গে জড়িত বন্দর নির্মাণ, টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামো এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার একটি বিকল্প নেটওয়ার্ক গড়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ফলে, ‘নিরপেক্ষতা’র যে কূটনৈতিক দূরত্ব চিন এতদিন বজায় রেখেছিল, তা আজ ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। দুই পক্ষই চিনের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট অবস্থান দাবি করছে। কিন্তু চিনের প্রতিক্রিয়া কেবল বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ নেই। এই সঙ্কলনে আমরা বিশ্লেষণ করেছি কীভাবে বেইজিং ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ প্রযুক্তির বিনিময়ের মাধ্যমে এক অঘোষিত কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করছে। ড্রোন নেভিগেশন সিস্টেম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধাস্ত্রের যন্ত্রাংশ, স্যাটেলাইট যোগাযোগের পরিকাঠামো— এগুলো প্রযুক্তিগতভাবে ‘বেসামরিক’, কিন্তু যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এদের ব্যবহার সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরাসরি অস্ত্র রপ্তানির পরিবর্তে এই পদ্ধতি কম দৃশ্যমান— কিন্তু পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার ফাঁক গলে যাওয়ার ক্ষমতার দিক থেকে অনেক বেশি কার্যকর। এটি একটি নতুন ধরনের প্রক্সি যুদ্ধের ভাষা, যার জন্য এখনও আমাদের পুরোপুরি প্রস্তুত পরিভাষা নেই।

এই সংঘাতের তাৎক্ষণিক অভিঘাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে একশো ডলার ছাড়িয়েছে। কিন্তু এই সংখ্যাটি কেবল পশ্চিমি মিডিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে চলবে না। ইউরোপ বা আমেরিকার ভোক্তারা যখন পেট্রোলের দামে কষ্ট পান, তখন সেটি সংবাদের শিরোনাম হয়। কিন্তু শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া বা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর উপর এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা কয়েকগুণ বেশি— এবং সেই কষ্ট বহন করেন সবচেয়ে গরিব মানুষরা। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহনের দাম বাড়ে, খাদ্যের দাম বাড়ে, সারের দাম বাড়ে— এবং শেষ পর্যন্ত যে শিশুটি আধপেটা ঘুমায়, সে কোনও ভূরাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হিসেবে সংবাদমাধ্যমের হিসাবে ওঠে না।

আটলান্টিকের ওপারে দৃশ্যটা ভিন্ন, কিন্তু সংকটের মূল একই। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ওয়াশিংটন ইউরোপীয় মিত্রদের উপর একটি কঠিন শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে— ন্যাটোর সদস্যপদ বজায় রাখতে হলে জিডিপির আড়াই শতাংশের বেশি প্রতিরক্ষায় ঢালতে হবে। গত তিন দশকে ইউরোপ এতটা ব্যয় করেনি। এখানে একটা ভয়ঙ্কর ঐতিহাসিক বিদ্রূপ আছে। স্নায়ু-যুদ্ধের অবসানের পর ইউরোপ একটি ‘শান্তির লভ্যাংশ’ পেয়েছিল— প্রতিরক্ষা বাজেট কমে সেই অর্থ গিয়েছিল স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষায়। সেই ব্যবস্থা নিখুঁত ছিল না, কিন্তু এটি কোটি মানুষের জীবনমান নির্ধারণ করত। আজ সেই লভ্যাংশ ফেরত নেওয়া হচ্ছে। জার্মানিতে কল্যাণমূলক খরচ কাটছাঁটের মধ্যেই প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির প্রস্তাব পাশ হয়েছে। ফ্রান্সে সামাজিক নিরাপত্তার সংস্কারের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছে, তার পেছনে আংশিকভাবে আছে এই একই চাপ। সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে— এবং তার মূল্য চোকাচ্ছে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট কাটছাঁটের মধ্যে দিয়ে। এই ‘পুনরায় সামরিকীকরণ’-এর মূল্য চোকাচ্ছেন ইউরোপের সাধারণ মানুষ— এবং সেই শূন্যতায় বাড়ছে অতি-দক্ষিণপন্থার জোয়ার। এটি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। যখন রাষ্ট্র সাধারণ মানুষের জীবনে বিনিয়োগ বন্ধ করে দেয়, তখন সেই মানুষ ‘শত্রু’র খোঁজে বেরোয়— এবং অতি-দক্ষিণপন্থী রাজনীতি সেই শত্রু সরবরাহ করতে সদাপ্রস্তুত। আলটার্নেটিভ ফুর ডয়েচল্যান্ড, ফ্রান্সের ন্যাশনাল র‍্যালি, ইতালির ব্রাদার্স অফ ইতালি— এই দলগুলো কেবল নির্বাচনী শক্তি নয়, এরা ইউরোপের রাজনৈতিক কেন্দ্রটাকেই ডানদিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। লাতিন আমেরিকায় পরিস্থিতি আরও নগ্ন। ভেনেজুয়েলার উপর দশকের বেশি সময় ধরে চলা অর্থনৈতিক অবরোধ— যা সরাসরি ওষুধ ও খাদ্যের ঘাটতি তৈরি করেছে— তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতন্ত্রের পক্ষে চাপ’। কিউবার ষাট বছরের অবরোধ আজও চলছে, যদিও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বারবার এর নিন্দা জানিয়েছে। এই সবকিছু মনে করিয়ে দেয় যে আধিপত্যবাদের ভাষা বদলায়, কিন্তু তার যুক্তি একটাই: অন্যের সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ।

এই বৈশ্বিক পটপরিবর্তনে ভারতের অবস্থান সবচেয়ে উদ্বেগজনক। নেহরু যখন জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তখন সেটি নিছক আদর্শবাদ ছিল না— সেটি ছিল একটি সদ্য-স্বাধীন দেশের সচেতন ভূরাজনৈতিক কৌশল। শীতল যুদ্ধের দুই ব্লকের কাছ থেকে সমান দূরত্ব বজায় রেখে ভারত তার নিজস্ব উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ইন্দিরা গান্ধির সময়েও, এমনকি সোভিয়েত-মার্কিন উত্তেজনার চূড়ায়, ভারত কোনও একটি শিবিরে সম্পূর্ণভাবে মিশে যায়নি। এই স্বায়ত্তশাসনের মূল্য ছিল— কিন্তু তার বিনিময়ে বৈশ্বিক দরবারে ভারতের নিজস্ব কণ্ঠস্বর ছিল। আজ বিশ্ব সেই কণ্ঠস্বরের অপেক্ষায় থাকলেও বিশ্বগুরুটি নিশ্চুপ। ব্রিকস-এর বর্তমান সভাপতিত্ব করছে নয়াদিল্লি— একটি জোট যার মূল প্রতিশ্রুতি হল একটি বহুমেরু বিশ্বের পক্ষে দাঁড়ানো। অথচ গাজায় যখন বেসামরিক মানুষের মৃত্যু একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যখন ইরানের সার্বভৌমত্ব প্রকাশ্যে লঙ্ঘিত হচ্ছে— তখন ভারত ‘উদ্বেগ প্রকাশ করে’ এবং ‘সংলাপের আহ্বান জানায়’। এটি কূটনৈতিক পরিপক্বতা নয়; এটি কৌশলগত অস্পষ্টতার নামে নৈতিক ফাঁকিবাজি। পশ্চিমের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গভীরতা বাড়ছে— কোয়াড, আই২ইউ২, এবং মার্কিন অস্ত্রচুক্তির মাধ্যমে। এই সম্পর্কগুলো অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা আনে, সত্য। কিন্তু প্রতিটি সম্পর্কের একটা মূল্য থাকে। বৈশ্বিক দক্ষিণের নেতৃত্বের দাবি করতে হলে শুধু বক্তৃতায় নয়, সংকটের মুহূর্তে কথা বলতে হয়— এবং সেই মুহূর্তে ভারতের নীরবতা কেবল একটি দেশের কূটনীতিকে নয়, গোটা বৈশ্বিক দক্ষিণের সমবেত দরকষাকষির শক্তিকে দুর্বল করে দেয়।

মূলধারার ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ রাষ্ট্রকে মূল একক ধরে নেয়— রাষ্ট্রের স্বার্থ, রাষ্ট্রের কৌশল, রাষ্ট্রের ক্ষমতা। কিন্তু কোন শ্রেণির স্বার্থ এই রাষ্ট্রনীতিকে পরিচালিত করছে? কার মৃত্যু গণনায় পড়ে না? কার শ্রম, কার ভূমি, কার সম্পদ— এই যুদ্ধের জ্বালানি? অস্ত্রব্যবসার বৈশ্বিক মুনাফা এখন বার্ষিক দুই ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে— এবং প্রতিটি নতুন সংঘাত সেই সংখ্যাটিকে বড় করে। লকহিড মার্টিন, রেথিওন, বিএই সিস্টেমস— এই কর্পোরেশনগুলো কোনও যুদ্ধে সম্পদ হারায় না, প্রতিটি যুদ্ধে সম্পদ অর্জন করে।

এই সংখ্যার লেখকবৃন্দ— এরিক তুসাঁ, সুজান ওয়াটকিনস, ইউন সুন, পিয়ের আন্দ্রিউ, সুধা রামচন্দ্রন, আশিস গুপ্ত, বিবেক পরত, সুশোভন ধর, প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী, দেবাশিস মিথিয়া, জুনেইদ আলি, রেন মু এবং মুহাম্মদ ইয়াকুব— প্রত্যেকেই তাঁদের নিজ নিজ অঞ্চল ও বিশেষজ্ঞতার জায়গা থেকে এই বৈশ্বিক পরিস্থিতির একটি সৎ মানচিত্র তৈরির চেষ্টা করেছেন। মতের মিল সর্বত্র নেই— হওয়ার কথাও নয়। কিন্তু একটি প্রশ্নে সবাই একমত: যে সংকট আজ বিশ্বের উপর নেমে এসেছে, তাকে স্বীকার না করা মানে তাকে আরও শক্তিশালী করা।

বনজুড়ে ছায়া ঘনিয়েছে। সেই ছায়া কোথা থেকে এসে কার সুবিধা করে দিয়ে কোথায় ছড়িয়ে পড়ছে— তা না বুঝলে সেই অন্ধকার থেকে বেরোনোর পথ খোঁজাই বৃথা। এই সংখ্যাটি, আগে যেমন বলেছি, সেই বোঝার চেষ্টা। পথ খোঁজারও।

ইতি…