Site icon ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

আশ্রমের শিক্ষা ও মেয়েরা: আজি হতে শতবর্ষ আগে

শ্রীলা বসু

 



অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, বিশ্বভারতী

 

 

 

আশ্রমকন্যা অমিতা সেনের তখন সবে বিয়ে হয়েছে। ‘শান্তিনিকেতনে আশ্রমকন্যা’ বইয়ে তখনকার একটি স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। অমিতা সেন স্বামীকে নিয়ে দেখা করতে গেছেন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে। রবীন্দ্রনাথ আশীর্বাদ করে নতুন জামাতাকে বললেন “আমার আশ্রমে ওরা একটু অন্যভাবে মানুষ হয়েছে। তুমি ওর মন বুঝতে চেষ্টা কোরো।” অমিতা সেন ক্ষিতিমোহন সেনের মেয়ে। গুরুপল্লীতে তাঁদের ছোটবেলা কেটেছে। জানতে ইচ্ছা করে এই অন্যভাবে মানুষ বলতে রবীন্দ্রনাথ ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন।

রবীন্দ্রনাথ নিজে তিন কন্যার জনক। মেয়েদের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তা তাঁকেও পোয়াতে হয়েছে, সাধারণ পরিবারের পিতার মতো। ছিন্নপত্রাবলীর ১৩৫ নং চিঠিতে তিনি ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন যে বড় মেয়ে ‘বেলি’ যেন দেশি-বিদেশি সঙ্গীতে পাকা হয়ে ওঠেন। তারপরেই বলেছেন “কিন্তু ওস্তাদও হয়ে উঠবে আর আমার ঘর থেকেও অমনি চলে যাবে।” নতুন সংসারে মেয়েরা আশ্চর্য ক্ষমতাবলে মানিয়ে নিয়ে সুখী হতে পারে এ কথা রবীন্দ্রনাথ বারবারই বলেছেন। সেই মেয়েরা, যাদের জীবনে, অন্তত রবীন্দ্রনাথের সময়কার মেয়েদের জীবনে, শ্বশুরবাড়ি অনিবার্য, তাদের কীভাবে তৈরি করতে চেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ, তা জানতে ইচ্ছে করে।

একথা সকলেই জানেন যে ব্রহ্মবিদ্যালয় তৈরি হওয়ার সাত বছরের মধ্যেই আশ্রমে মেয়েদের শিক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। সহশিক্ষার ব্যবস্থা ছিল তখন। তবে মেয়েদের শিক্ষার আয়োজন প্রথম পর্বে বেশিদিন টেঁকেনি। বিশ্বভারতী পর্বে আবার পুরোদমে নারীশিক্ষার প্রচলন হয়। প্রথাগত লেখাপড়ার আয়োজন তো ছিলই। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শে সঙ্গীত, কলা, শিল্পচর্চারও আলাদা গুরুত্ব ছিল। শুধু তাই নয়, বিশ্বভারতীর ছাত্রীরা তৈরি করেছেন প্রসাধন ও অলঙ্কারের ক্ষেত্রে অন্যরকম রুচি।

সঙ্গীতভবন কলাভবন প্রথমে একত্রে ছিল দ্বারিকবাড়িতে। এই দুটি ভবনে মেয়েদের আলাদা গুরুত্ব ছিল বললে হয়তো পুরোটা বলা হবে না। এখানে মেয়েদের আলাদা করে দেখা হত না। অর্থাৎ ছাত্রদের সঙ্গে তাঁদের স্থান ছিল একাসনে। মনে পড়বে মুকুল দে-র দুই বোনের কথা। রানী চন্দ তাঁর ‘গুরুদেব’ স্মৃতিকথায় লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ বড় বোনের গানের গলা আছে বলে তাকে দিলেন সঙ্গীতভবনে, ছোট রানী গেলেন কলাভবনে। কলাভবনে প্রথম দিন কাটাবার পর রানী চন্দের মনে হয়েছিল জীবনে প্রথম এমন একটি দিন এল যেদিন তাঁর মনে হল দিনটি তিনি ‘নষ্ট’ করেননি। সংসারজীবনে মেয়েরা যাবে তো বটেই কিন্তু শিক্ষা তার নিজের জগৎ তৈরি করবে। প্রত্যেকটি ছাত্রীর প্রবণতা আলাদা। নিজের সত্তার মূল ক্ষেত্রটিকে তাঁরা যেন চিনে নিতে পারেন সেই শিক্ষা রবীন্দ্রনাথের।

 

জোড়াসাঁকোর মানুষদের স্মৃতিকথা পড়লে বোঝা যায় ঠাকুরবাড়িতে রবীন্দ্রনাথের চেয়ে যাঁরা বয়োজ্যেষ্ঠ তাঁরা ভালোবাসতেন রবীন্দ্রনাথের গান শুনতে। ক্রমশ ব্রাহ্মসমাজের অনুষ্ঠানে উপাসনায় রবীন্দ্রনাথের গান অনিবার্য হয়ে উঠল। আশ্রম প্রতিষ্ঠার পর গানের চর্চা শান্তিনিকেতনের আকাশবাতাসে ছড়িয়ে যায়। তার মধ্যে রবীন্দ্রনাথের গান ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীত দুইই ছিল। সাহানা দেবী, মালতী সেন (ঘোষাল), অমিতা সেন (খুকু) বা অমলা দাশের রবীন্দ্রসঙ্গীত চর্চা রবীন্দ্রনাথের সময়েই রবীন্দ্রসঙ্গীতের নিজস্ব গায়কী তৈরি করে। অবাঙালি ছাত্রীদের মধ্যে রাজেশ্বরী বাসুদেব বা সাবিত্রী কৃষ্ণণের উল্লেখ জরুরি। সাবিত্রীর থেকে দক্ষিণি সুরও সংগ্রহ করেছেন রবীন্দ্রনাথ। মোটকথা এভাবেই রবীন্দ্রনাথের গান প্রধানত শান্তিনিকেতনের শিক্ষক ও ছাত্রীদের প্রচেষ্টায় একটি নিজস্ব প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে। ইন্দিরা দেবীর মতো সঙ্গীতজ্ঞ একাধারে শিক্ষকতা করেছেন, স্বরলিপি তৈরি করেছেন, গানের তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন, আবার পরে দক্ষ হাতে উপাচার্যের দায়িত্বও সামলেছেন। পরবর্তীকালে ছাত্রী-শিক্ষকদের মধ্যে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুচিত্রা মিত্র, নীলিমা সেনরা রবীন্দ্রসঙ্গীতকে আপামর বাঙালির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছেন। রবীন্দ্রনাথের গানের কাঠামো হয়তো এভাবে রক্ষিত হত না যদি বিশ্বভারতীর ছাত্রী বা শিক্ষকদের এই অবদান না থাকত।

 

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ইন্দিরা দেবী

রবীন্দ্রনাথ বিশের দশকের মধ্যভাগ থেকেই মেয়েদের নাচের শিক্ষা দিতে চেয়েছেন। ১৯২৫ সাল থেকেই নবকুমার সিংহ শান্তিনিকেতনে দীর্ঘদিন নাচ শিখিয়েছেন। কিন্তু সেই সময়ে ছাত্রীরা খুব সঙ্গোপনে নাচ শিখতেন। ছাত্ররা শিখতেন প্রকাশ্যে। গৌরী বসু নন্দলালের মেয়ে, পরে যিনি গৌরী ভঞ্জ হয়েছেন, নন্দিতা ঠাকুর, যমুনা সেন, অমিতা সেন প্রমুখ ছিলেন প্রথমদিকের ছাত্রী। আর যিনি তাঁদের উদ্দীপনা জোগাচ্ছেন, আড়াল থেকে নাচের মুদ্রা দেখিয়ে দিচ্ছেন তিনি হচ্ছেন বৌঠান প্রতিমা দেবী। এমনকি রবীন্দ্রনাথ নিজেও যে নাচ শেখাতেন তার প্রমাণ আছে রমা চক্রবর্তীর স্মৃতিকথায়। বাঙালি ‘ভদ্রলোক’ পরিবারের মেয়েদের স্টেজে নিয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের বিরাট অবদান। ‘নটীর পূজা’য় গৌরী বসুর নাচ দিয়ে সেই প্রচলন শুরু হল। আর সেই ‘নটীর পূজা’ যখন কলকাতায় অভিনয় হল তখন রবীন্দ্রনাথ সেই অভিনয়ের জন্য উপালি চরিত্রটি সংযোজন করে নিজে উপালির ভূমিকায় অভিনয় করে স্টেজে হাজির রইলেন। মেয়েদের প্রতি কী সতর্ক অভিভাবকত্ব। সমাজের তর্জনী নম্র হয়ে এল স্বাভাবিকভাবেই।

প্রতিমা দেবী

১৯২৭-এ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ভ্রমণ বিশেষত জাভা ভ্রমণের অভিজ্ঞতার পর খুব স্বাভাবিকভাবেই রবীন্দ্রনাথের নাচের প্রবাহের মুখ খুলে যাচ্ছে। ১৯৩১ সালে ‘নবীন’ এবং ‘শাপমোচন’, যেখানে নাচ আছে। ১৯৩৩ সালে ‘চণ্ডালিকা’ গদ্যনাট্য, ওই বছরেই মঞ্চস্থ হল ‘তাসের দেশ’। ১৯৩৬, ১৯৩৭ এবং ১৯৩৯-এ পরপর তিনটি নৃত্যনাট্য— ‘চিত্রাঙ্গদা’, ‘চণ্ডালিকা’ আর ‘শ্যামা’। রবীন্দ্রনাথের নাচ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষার স্রোত হু হু করে বইছে।

রবীন্দ্রনাথ রানী চন্দের সঙ্গে আলাপচারিতায় নারীপ্রেমের প্যাশনের কথা বলছেন। সেই প্যাশন যুক্তি-বুদ্ধির ধার ধারে না। তিনটি নৃত্যনাট্যের কেন্দ্রীয় চরিত্রের মধ্যেও চোখে পড়ে নারীপ্রেমের প্রচণ্ডতা। শ্যামার প্যাশনের কাছে নীতিবোধ গৌণ হয়ে গেছে। চিত্রাঙ্গদা নিজের কামনা চরিতার্থ করবার জন্য মদনের কাছে এক বছরের জন্যে রূপান্তরিত চেহারা প্রার্থনা করল। তার পরে তার নিজেরই মনে হচ্ছে যে ‘আমারে করিল অতিক্রম আমার এ তুচ্ছ দেহখানা’। নিজের সুন্দর শরীরটাকেই সতীন বলে মনে হচ্ছে। চণ্ডালিকাও যেনতেনপ্রকারেণ আনন্দকে পেতে চায়, সে তার মায়ের মন্ত্র পড়ার গুণে হলেও। কামনার সেই একই প্রচণ্ড রূপ। শান্তিনিকেতনের ছাত্রীরা সেই প্যাশন ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁদের নাচে আর অভিনয়ে। নারীর মঙ্গলমূর্তি শুধু নয়, নারী যে অমঙ্গল ঘটাতেও পারে এই শিক্ষাও রবীন্দ্রনাথ দিয়েছেন সহজভাবে। ‘চিত্রাঙ্গদা’য় নারী-পুরুষ সম্পর্কে সাম্যের কথা রবীন্দ্রনাথ যেভাবে এনেছেন তা আজও অবাক করে।

রবীন্দ্রনাথ নাচ নিয়ে ভেবেছেন। প্রতিমা দেবী যখন ‘নৃত্য’ বলে বইটি লিখছেন, রবীন্দ্রনাথ সেই বইটি নিজে অদলবদল করছেন। ‘নৃত্য’-এর পাণ্ডুলিপি যদি আমরা দেখি তাহলে দেখব যে সেখানে রবীন্দ্রনাথের হস্তাক্ষর আছে অনেক জায়গায়। রবীন্দ্রনাথের পুত্রবধূ প্রতিমা দেবী তো নাচ নিয়ে নানা ধরনের কাজ করার চেষ্টা করেছেন মেয়েদের নিয়ে। প্রতিমা দেবী না থাকলে শান্তিনিকেতনের নাচ হয়তো পরিণতি পেত না। রবীন্দ্রনাথের নৃত্যভাবনা বলতে আমরা যেটা বুঝি সেটা শুধু অভিনয় নয়, তার মধ্যে নারীমুক্তির একটা বড় জায়গা আছে।

 

আশ্রমের শিক্ষায় গুরুপত্নীদেরও আলাদা গুরুত্ব ছিল। হেমলতা দেবী, যাঁকে বড়মা বলা হত, বা দিনেন্দ্রনাথের স্ত্রী কমলা দেবীর পরিচর্যা আশ্রমকে ঋদ্ধ করেছে। ধাত্রীবিদ্যার মতো বিষয়ে ক্ষিতিমোহন-পত্নী কিরণবালার কথা বহুচর্চিত। সুশীলবালা দত্ত, যিনি কণামাসিমা নামে খ্যাত ছিলেন, যেভাবে শিশুবিভাগ সামলেছেন বা ননীবালা রায় যেভাবে শ্রীনিকেতনের পাশের গ্রামগুলিতে নারীশিক্ষার দায়িত্ব পালন করেছেন তার ইতিহাস কোনওদিন লেখা হবে নিশ্চয়ই। এরকম বহু নারীর কথা বলা যায়। বিশ শতকের প্রথমার্ধেই শান্তিনিকেতনের নারীরা যেভাবে বিভিন্ন বিষয়ে এগিয়ে এসেছিলেন ভাবলে অবাক হতে হয়। নেপথ্যে ছিল রবীন্দ্রনাথের উৎসাহ।

ননীবালা রায়

শান্তিনিকেতনে গয়না-ঐতিহ্য স্বতন্ত্র গবেষণার দাবি রাখে। সোনার মতো বহুমূল্য ধাতব গয়না ব্যবহারের রীতি বিশ্বভারতীতে ছিল না। তার একটা কারণ অর্থনৈতিক। অন্য কারণটি নান্দনিক। এ ব্যাপারে নন্দলালের প্রেরণা আর পরিকল্পনা রূপায়ণে এগিয়ে আসেন তাঁর স্ত্রী সুধীরা দেবী। অমিতা সেন ‘শান্তিনিকেতনে আশ্রমকন্যা’তে লিখছেন:

কাঁঠালের পাতা নানা নকশা আকারে কেটে, ছুঁচ সুতোয় সেলাই করে, তাতে আকন্দ ফুল, টগরের সাদা মুক্তোর মতো কুঁড়ি, লাল রঙের ফুল, হলদে লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল ধুনোর আঠা দিয়ে বসিয়ে তৈরি করলেন খোঁপায় দেওয়ার গয়না, কানে ঝোলাবার ঝাপটা, গলায় পরবার নকশা কাটা মালা, হাতের বালা, বাজু। কী অপূর্ব সুন্দর সব গয়না, এর কাছে কোথায় লাগে সোনার সাত লহরি মুক্তা বসানো মালা, জড়োয়া চুড়ি বালা ঝুমকো। এবার হাওয়া গেল পালটে। এখন সোনা ও জড়োয়া গয়না পরা বাইরে থেকে আসা মেয়েরা আমাদের ফুলের গয়না দেখে ঈর্ষাকাতর। তাদের দৃষ্টিতে আশ্রমবালিকাদের বুকে লাগে গর্বের দোলা।

শুধু কি ফুলের গহনা? প্রাকৃতিক উপাদান যেমন ফল বা বীজ দিয়ে তৈরি গহনা, অন্যদিকে ম্যাক্রমের সুতোর গহনা তৈরিতে শান্তিনিকেতন আজও অনন্য।

নন্দলালের নেতৃত্বে কলাভবনে চারুশিল্প ও কারুশিল্পের কোনও ভেদাভেদ করা হত না। শিল্পীরা যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন সেই ভাবনা নিয়ে নন্দলাল প্রমুখ তৈরি করেন কারুসঙ্ঘ। কারুসঙ্ঘের হাতের কাজ, সেলাই, বাটিক ইত্যাদির ক্ষেত্রে নন্দলালের কন্যা গৌরী ভঞ্জ, যমুনা সেন ও অন্যান্যদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। চারুশিল্পের ক্ষেত্রে রানী চন্দ, চিত্রনিভা চৌধুরী যে প্রচলনের সূত্রপাত করেন তা এখনও চলছে।

শান্তিনিকেতন বাঙালিকে দিয়েছে তার রুচি। সেক্ষেত্রে মেয়েদের অবদান অনেকখানি। এক আশ্চর্য শ্রী আর সুষমার মধ্যে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ মেয়েদের জগৎ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটাই সব নয়। মেয়েরা শারীরিকভাবে দুর্বল হলে তাদের সব শিক্ষাই মাটি। এ কথা রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন অনেকের আগে। জাপানি শিক্ষক তাকাগাকিকে বহু ব্যয়ে তিনি শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসেন জুজুৎসু শেখাতে। এই উপলক্ষে লেখা হয় ‘সঙ্কোচের বিহবলতা’ গানটি। মেয়েদের স্বাবলম্বন যে শুধু মনে নয়, শরীরেও, তা রবীন্দ্রনাথের আগে কোনও বাঙালি বুঝেছিলেন বলে মনে হয় না।

উনিশ শতক থেকেই বাঙালি মেয়েদের যে জগৎ ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়েছে তাতে ব্রাহ্মসমাজের অবদান অনেকখানি। ব্রহ্মবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় কিছুদিনের জন্য আর বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার পর ধারাবাহিকভাবে শান্তিনিকেতনের মেয়েরা এক অন্য মুক্তির সন্ধান পাচ্ছেন। আশ্রমের হাতে লেখা পত্রিকাগুলিতে এবং প্রকাশিত পত্রিকায় মেয়েদের মৌলিক লেখার সংখ্যাও কম নয়। বিশ্বভারতীর প্রথম পর্ব থেকেই রবীন্দ্রনাথ মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রটিকে একটু অন্যরকমভাবে গড়ে তুলতে চাইছেন। প্রাকস্বাধীনতা যুগে শান্তিনিকেতনের মেয়েরা যেভাবে শরীরে মনে স্বাধিকারের স্বাদ পেয়েছিলেন তা সমকালে সুলভ ছিল না।