দ্বিশতবর্ষে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

জন্মের দুশো বছর পরেও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে বিদ্যাসাগরকে একাই লড়তে হচ্ছে


শৈলেন সরকার 

অতিথি সম্পাদক, স্পেশাল ট্রেন: দ্বিশতবর্ষে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

 

 

 

কিছুদিন আগে পাঞ্জাবের পাকিস্তান সীমান্তে সড়ক নির্মাণের কারণে একটি স্মারক ভেঙে ফেলা হল। লকডাউনের জন্য স্থানীয় মানুষ শুরুতে টের পাননি। কিন্তু টের পেতেই গোটা পাঞ্জাব জুড়ে মানুষজন ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। হ্যাঁ, সীমান্তের দুপাশের পাঞ্জাবেই। হিন্দ-পাক দোস্তি মঞ্চের ব্যবস্থাপনায় ১৯৯৬ সালে দেশবিভাগের কথা মাথায় রেখে স্মারকটি তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময় রাজা পুরুকে পাঞ্জাবি জাতীয়তার প্রতীক ধরে ‘রাজা পুরু হিন্দ-পাক পাঞ্জাবি দোস্তি মেলা’র আয়োজন করা হয়েছিল। দেশবিভাগ সত্ত্বেও দুপাশের পাঞ্জাবি জাতীয়তা যে একই, ভবিষ্যতের প্রজন্মকে এই কথাটা মনে করিয়ে দেওয়াটাই ছিল এই মেলা ও স্মারকের উদ্দেশ্য। স্মারকের ভারতের দিকে উৎকীর্ণ ছিল এপারের পাঞ্জাবি কবি অমৃতা প্রীতমের কবিতা আর উল্টোদিকে ওপারের পাঞ্জাবি কবি ফৈয়াজ আহমেদ ফৈয়াজের। জনতার রোষ টের পেয়ে বিএসএফ কর্তারা কথা দেন স্মারকটি একেবারে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পুনর্নির্মাণের, কিন্তু মানুষের দাবি এর সঙ্গে পাঞ্জাবি আবেগ জড়িত, সরকারি নির্মাণে আবেগের চিহ্ন থাকবে না, সীমানার দুপাশের পাঞ্জাবিরা নিজেরাই এটির পুনর্নির্মাণ করবেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের খ্যাতনামা পাঞ্জাবি অধ্যাপক মনজিত সিং-এর কথায়, এর পেছনে আছে উগ্র জাতীয়তাবাদীরাই। এদের মোদি সরকার চেনে শুধু পাকিস্তান, হিন্দু আর মুসলমান নিয়ে রাজনীতি। সীমানার দুপাশের পাঞ্জাবিদের ধর্মের বাধা না-মানা পারস্পরিক আবেগ-ভালোবাসাকে এরা ভয় পায়।

কিছুদিন আগে ওপার বাংলার চিকিৎসক ও বুদ্ধিজীবী পিনাকী ভট্টাচার্যের একটি সাক্ষাৎকার শুনছিলাম। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে এখন দেশছাড়া পিনাকীবাবুর কথায়, বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ যার চারপাশের সীমানার সর্বত্র কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দেওয়া হবে। যেন জেলখানায় আটকে রাখা হবে দেশটাকে। আটকাবে ভারত। পিনাকীবাবুর কথায়, এই ভারত নাকি বন্ধুরাষ্ট্র বাংলাদেশের! তাঁর মতে ভারতের আসলে ভয় বাংলাদেশ লাগোয়া রাজ্য পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের সীমানার লাগোয়া একটি বাঙালি রাষ্ট্রকে নিয়ে ভয়। ভয় বাঙালির হিন্দু-মুসলমান ভেদ না-করা জাতীয়তা নিয়ে।

হয়তো এই ভয়ের জন্যই পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের মনে বাংলাদেশ সম্বন্ধে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা। বাংলাদেশি মুসলমানদের নিয়ে— ওদেশ থেকে নাকি হাজার-হাজার বা লক্ষ-লক্ষ মানুষ কেউ সন্ত্রাসী হয়ে কেউ বা ভারতীয়দের জীবন-জীবিকায় ভাগ বসাতে বর্ডার পার হয়ে… ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এই সুযোগে দু বাংলার মধ্যে কাঁটাতারের স্থায়ী বিভাজিকা। এবার ভারতের বাকি অংশ থেকে আওয়াজ উঠল বাংলার মুসলমানদের নিয়েও। বাংলার মুসলমান, অসমের বাঙালি মুসলমান। সংখ্যা বাড়িয়ে বাড়িয়ে মুসলমানরা নাকি আমাদের—। কিন্তু বাংলা বা বাংলাদেশ যে শুধু মুসলমানের বা পশ্চিমবঙ্গই যে হিন্দুদের— এটা কে বলল?

পাক-ভারত উপমহাদেশের বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী তো বটেই, মান্ডারিন ও আরব জাতিগোষ্ঠীর পর বাঙালিরাই পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম জাতি। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখব বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ হিন্দু বা মুসলমান কারও হাতেই নয়— হয়েছে বৌদ্ধদের হাতে। লুইপাদ, ভুসুকুপাদ, কাহ্নোপাদ। উগ্র ধর্মান্ধদের বিচারমতো বাংলার ইতিহাসকে ধর্মের বন্ধনীতে রেখে দেখলে দেখব, রাজা শশাঙ্ক ছিলেন— না, তখনও ধর্মীয় পরিচয়ের হিন্দু শব্দটা চালুই হয়নি, চালু করবে মুসলমানরা আরও অন্তত শ আটেক বছর পর। শশাঙ্ক ছিলেন শৈব। শশাঙ্কই প্রথম বাঙালি সম্রাট। কেউ কেউ মনে করেন শশাঙ্কের সময়েই বাংলা ক্যালেন্ডারের বঙ্গাব্দ শুরু। পরে পালেরা মূলত বৌদ্ধ। প্রায় শ চারেক বছরের পালেদের শাসনেই বাংলা ভাষার জন্ম ও বিকাশ। এমনকি বলা যেতে পারে বাঙালি জাতীয়তারও। এই সময়ে পেয়েছি তখনকার পৃথিবীর সবচেয়ে মান্য পণ্ডিত ও বৌদ্ধ ধর্মে বুদ্ধদেবের পরেই যাঁর স্থান সেই অতীশ দীপঙ্করকে। পেয়েছি শীলভদ্রকে। পেয়েছি বিদ্যাচর্চার কেন্দ্র নালন্দা, বিক্রমশীল মহাবিহারকে। পেয়েছি তাম্রলিপ্ত নগরীকে। এরপর সেনেরা। একেবারে কট্টর সনাতনী। এই আমলে বাংলা ভাষাকে পেছনে ঠেলে সামনে আনা হল সংস্কৃতকে। বিদ্যাপতি, ধোয়ি বা হলায়ুধ কাব্য রচনা করলেন সংস্কৃততে। সোজা করে বললে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতার কথা ধরলে এই ব্রহ্মক্ষত্রিয়দের অবদান কার্যত শূন্য। বরং এই আমলেই কৌলীন্য প্রথা রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে বাঙালির সামাজিক জীবনকে দূষিত করতে শুরু করে, যে দূষণ তাকে আজ পর্যন্ত ধাওয়া করছে। এর পরপরই আসে বাংলার সুলতানি যুগ আর পরপরই মুঘল যুগ। এই মুসলমানি যুগ বলতে গেলে বাংলা ভাষা বা শিল্পসংস্কৃতির স্বর্ণযুগ। বাংলা এই সময় অর্থনৈতিকভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলির একটি। এই সময়ে মুসলমান শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় পেয়েছি কৃত্তিবাসের রামায়ণ, কাশীরাম দাসের মহাভারত। পেয়েছি ময়মনসিংহ গীতিকা। পেয়েছি মঙ্গলকাব্যগুলি। পেয়েছি চৈতন্য আন্দোলন ও তাঁর অনুসারী জীবনী সাহিত্য। প্রসঙ্গত, তুলসীদাসের রামায়ণের অন্তত শ দেড়েক বছর আগেই কৃত্তিবাসের রামায়ণ, অনেকের মতে তুলসীদাসে ছায়া আছে কৃত্তিবাসের। আর একটা কথা, তুলসীদাস রামায়ণ লিখেছিলেন আউধিতে, হিন্দিতে নয়। পরে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় হিন্দি গ্রাস করে নেয় উত্তরভারতীয় মৈথিলী বা ভোজপুরীর মতো আউধিকেও।

মুঘল যুগের পরপরেই যদি খ্রিস্টান না-বলি তবে ব্রিটিশ রাজ। কলকাতা তখন এশিয়ার জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার প্রধান কেন্দ্র। এমনকী সেই পালযুগের পর বাংলা আবার এক সাম্রাজ্যের রাজধানী শহর পেল। বাংলার বিজ্ঞান ও সাহিত্যচর্চা পৃথিবীর নজর কাড়ল। তাহলে বাংলা বা পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশ শুধু হিন্দু বা মুসলমানের এ কথা বলার অধিকার ধর্মের ধ্বজাধারীদের কে দিল?

আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মের দুশো বছর পরে দেখি এই এখনও তিনি দাঁড়িয়ে। মানে ধর্মান্ধদের রথযাত্রার পথ আগলে তাঁকেই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এখনও তিনি জাতপাত আর ধর্মান্ধদের কাছে সবচেয়ে বড় বাধা। আর তাই জাতপাত আর ধর্মীয় বিভাজনের দল বিজেপিকে তাঁর জন্মভূমি বাংলায় প্রবেশের চেষ্টায় সবার আগে তাঁর মূর্তি ধ্বংস করতে হয়। হ্যাঁ, এটি শুধুমাত্র প্রতীক নয়, একেবারে বাস্তব। রাষ্ট্র তো নয়ই— ভারত বা দুই বাংলার কোনও সরকারই তার হয়ে গান গায়নি। তবু তিনি মানুষের মনে অনেকের থেকে উজ্জ্বল। গ্রাম-শহর বা দেশ বিদেশের বাঙালিদের কাছে অন্য কারওর নাম না পৌঁছালেও বিদ্যাসাগর আছেন। তাঁর নামে কোনও মঠ, মিশন বা আশ্রম নেই, সরকারি প্রচার নেই। তবু। এমনকী যে ঘরে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনও হয়তো পড়াশুনো ঢোকেনি, সেখানে আর কেউ না থাকলেও তিনি আছেন। না, ছবি বা পুজোতে নয়, সভামঞ্চ বা বক্তৃতায় নয়, আছেন সকলের মনে। সবার হৃদয় জুড়ে।

বছর পঁচিশ আগে স্কুলের ছেলেমেয়েদের নিয়ে বেড়াতে যাব। কোথায় যাই? তখনকার পশ্চিমবঙ্গ পত্রিকায় ছবি দেখলাম একটা— পিয়ালিতে সূর্যাস্ত। একেবারে সুন্দরবনের মাতলা নদী লাগোয়া দ্বীপের মাথা লালে লাল। তবে পিয়ালিতেই যাব। লেখা ছিল বারুইপুর থেকে বাস, এরপর ঢোসার হাট হয়ে নৌকোয় ঘণ্টা আড়াই। ঢোসার হাটে নেমে পিয়ালি একবার দেখে আসতে যাব বলে নৌকায় চেপেছি, একটি লোক যেচে আলাপ করল। থুতনিতে দাড়ি, লুঙি। জামাটা স্রেফ কাঁধের উপর ফেলা, খালি গা। জানতে চাইল, যাব কোথায়, বা কেন এসেছি। লোকটা এবার কবে যাব, কয়জন যাব জেনে আমার থেকে পঞ্চাশ টাকা চেয়ে নিয়ে মাঝিকে ডাকল। আমাকে ভাবার সুযোগই দিল না কোনও। মাঝির হাতে টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলল, এটা অ্যাডভান্স। যাওয়ার দিনটির উল্লেখ করে একেবারে সকাল সাতটায় ঘাটে নৌকা লাগাতে বলল। আমাকে বলল, সময়মতো আসবেন, ভাবতে হবে না কিছু।

নির্ধারিত দিন, সেটা রোববারই হবে। ছেলেমেয়ে আর আমার সহকর্মী জনা পাঁচেক শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়ে অন্তত ত্রিশ জনের দল নিয়ে শেয়ালদা সাউথের দক্ষিণ বারাসত স্টেশনে নেমে মিনি বাস ধরে একেবারে সময়মত ঢোসার হাট। খেয়াঘাটের গায়েই। দেখি লোকটা সঙ্গে আর একজনকে নিয়ে দাঁড়িয়ে। বলল, টিফিন করবে তো সবাই? এবার নিজেই দোকান ঠিক করে কচুরির অর্ডার দিয়ে ছেলেমেয়েদের দোকানে ঢুকতে বলল। আমি আমার সঙ্গী দুই শিক্ষককে নিয়ে পাশের এক পান-বিড়ি-সিগারেটের দোকানে গিয়ে সিগারেট কিনব বলে দাঁড়াতেই, সেই দোকানদার ডাকল আমাকে। একেবারে আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে জিজ্ঞেস করল, থাকেন কোথায়? বললাম। বলল, এদের কি চেনেন আপনারা? আলাপ হল কীভাবে? বললাম। বলল, সর্বনাশ করেছেন, এরা দুজনই এখানকার নামকরা ডাকাত। নামদুটো এখন আর ঠিক মনে নেই। একজন কোনও মোল্লা, আর একজন আলি। লোকটা বলল, কী করবেন ভাবুন, সময় আছে এখনও। এর মধ্যেই মোল্লা নামের লোকটা ডাকল আমাদের। বলল, আপনারাও খেয়ে নিন স্যার। ছাত্রছাত্রীদের দূরের কথা বাকি অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আমি আর বললাম না কিছু। এই অবস্থায় আমাদের ফেরার আর রাস্তা নেই কোনও। লোকটা দাম দিতে দিল না। বলল, আমার ছেলেমেয়েদের মতোই তো ওরা। অর্থাৎ সন্দেহ বাড়ল আমার। কিন্তু করার নেই কিছু।

পিয়ালি শান্ত একটি নদী। সরু। মাতলার মুখে এই নদী বাঁধা। বাঁধের নাম কেল্লা। যাব সেখানেই। রাস্তায় ওরা দুজন ছেলেমেয়েদের দুপাশের গ্রাম চেনাচ্ছে। নদীর এপাড় থেকে ওপাড়ে দড়ি আটকানো, আর সেই দড়ি টেনে টেনে নৌকায় দাঁড়িয়ে নদী পার হচ্ছে মানুষ। পাশে একটি গ্রামে নদীর ধার ঘেঁষে ছোট ছোট মন্দিরের মতো। মোল্লা নামের লোকটি বলল, আপনাদের বৈষ্ণবদের কবরস্থান। বললাম, আপনাদের মানে আমরা হিন্দু কীভাবে জানলে? ও বলল, এইটুকু বুঝব না!

কেল্লা থেকে ফেরার পথে দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল। সম্ভবত মহিষমারি বলে একটা গ্রামের পরেই— নৌকো দাঁড় করিয়ে নামতে বলল মোল্লা নামের লোকটা। ওর বাড়িতেই খাবারের আয়োজন সবার। সবার মানে আমাদের সেই জনা ত্রিশ জনের। নদীর মাছ, মুরগির মাংস, ডিম, মিষ্টি। আমার তখন পকেটের চিন্তা। ক টাকা বিল ধরাবে কে জানে? তারপর সর্বস্ব হারাবার আতঙ্ক। খাওয়াদাওয়ার পর লোকটা বলল, চলুন আমার ঘরবাড়ি ঘুরে দেখুন একটু। একটা ঘরে দেখি কাঁচভাঙা আলমারি একটা। ভেতরে বেশ কিছু বই। বলল, আমার আব্বার, ধর্মের, দেখবেন? ‘দেখি।’ আসলে এই সব পুরনো হেলাফেলায় থাকা বইয়ের মধ্যে অনেক সময় খুবই মূল্যবান কিছু বই পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। লোকটা আলমারি খুলে বের করল বইগুলি। দড়ি দিয়ে বাঁধা। একটা একটা করে আলাদা করে একটি বইয়ে এসে থমকে গেলাম। খুবই বিবর্ণ কালচে গোলাপীর মলাট, সরু। আমাকে থামতে দেখে লোকটা বলল, বইটা জানেন আপনি? উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকি। লোকটা বলল, বিদ্যাসাগরের বই। মারা যাওয়ার আগে আব্বা যত্ন করে রেখে দিতে বলে গেছে।

কোনও কিছুর জন্যই কোনও টাকাপয়সা নিল না লোকটি। বলল, ধর্ম আছে না? ওরা তো আমার সন্তানই। নৌকায় তুলে দিয়ে বলল, রাস্তায় কোথাও কোনও বিপদ হলে বলবেন আমার কথা।

এমনকী শেয়ালদা স্টেশনে নেমেও বিশ্বাস হচ্ছিল না যে বাড়ি ফিরছি। ধর্মের বইয়ের লেখক যদি ধর্মপ্রচারক হয়ে থাকেন, তাহলে বিদ্যাসাগর মশাই তো ধর্মপ্রচারকই। একেবারে লেখাপড়া না-জানা লোকটা সেদিন আমাদের বই পড়ে সব জানাকে নস্যাৎ করে নতুন এক বিদ্যাসাগরকে হাজির করেছিল।

সেই মানুষটির দ্বিশতবার্ষিকী উপলক্ষেই চার নম্বর প্ল্যাটফর্মের এই বিশেষ ক্রোড়পত্র (স্পেশাল ট্রেন)-টির আয়োজন। লিখেছেন রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য, অশোক মুখোপাধ্যায়, দেবাশিস্‌ ভট্টাচার্য, শুভেন্দু সরকার এবং শতাব্দী দাশ। পড়বেন, মতামত দেবেন, ভালো থাকবেন…

 

সূচি:

বিদ্যাসাগর: ব্যক্তিস্বরূপের অনন্যতা — রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: ফিরে দেখা — অশোক মুখোপাধ্যায়

বিদ্যাসাগর, নাস্তিকতা ও মদীয় আচার্যদেবগণ — দেবাশিস্‌ ভট্টাচার্য

বিধবাবিবাহ আন্দোলন: ইয়ং বেঙ্গল ও বিদ্যাসাগর — শুভেন্দু সরকার

এক পুরুষের অসমাপ্ত নারী-মুক্তি প্রোজেক্ট — শতাব্দী দাশ

%d bloggers like this: