রিজার্ভড বগি | চতুর্থ বর্ষ | মে ২০২০-এপ্রিল ২০২১

চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতি মাস পয়লায় ছাড়া মেল ট্রেনের রিজার্ভড বগি বা মলাট ভাবনা। চতুর্থ বর্ষ, মে ২০২০-এপ্রিল ২০২১। এই বছর আমাদের রিজার্ভড বগি-তে এসেছে করোনা সঙ্কটের সমান্তরাল ক্ষতিসমূহ, সার্ধশতবর্ষে লেনিন, করোনার সময়ে রাষ্ট্রের হিংস্রতা, কোভিড-উত্তর বিপন্নতা, নয়া শিক্ষানীতি ২০২০, কোভিড-পরিস্থিতিতে কারিগরদের কথা, ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের দ্বিশতবর্ষ, মুজিবের শতবর্ষ এবং মুক্তিযুদ্ধের সার্ধ্বশতবর্ষ, ২০২০-র সালতামামি, সংবাদমাধ্যমের সঙ্কট…

লিখেছেন অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়, অম্লান বিষ্ণু, অর্ক দেব, অর্ক ভাদুড়ি, অশোক মুখোপাধ্যায়, অহনা গাঙ্গুলি, অয়নেশ দাস, আকাশ ভট্টাচার্য, আশীষ লাহিড়ী, উর্বা চৌধুরী, কণিষ্ক চৌধুরী, কুণাল চট্টোপাধ্যায়, কুন্তল ঘোষ, কুমার রাণা, গৌতম সরকার, চিরশ্রী গাশগুপ্ত, জগন্নাথদেব মণ্ডল, দিগন্ত শর্মা, দীপসিতা ধর, দেবল দেব, দেবাদিত্য ভট্টাচার্য, নীলাঞ্জন দত্ত, নীলোৎপল বসু, প্রতীক, প্রতীপ নাগ, প্রবুদ্ধ ঘোষ, প্রশান্ত ভট্টাচার্য, মধুমিতা দোবে, মানবী মজুমদার, মোহন মানি, রুখসানা কাজল, রুচিরা গোস্বামী, শঙ্কর রায়, শঙ্কর সান্যাল, শঙ্খশুভ্র নাগ, শঙ্খশুভ্র বিশ্বাস, শতাব্দী দাশ, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, শুভাশিস মৈত্র, শুভোদয় দাশগুপ্ত, শুভ্র মৈত্র, শ্রুতিনাথ প্রহরাজ, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, সুশোভন ধর, সেলিনা হোসেন, সোমা মারিক, সৈয়দ কওসর জামাল, সৌভিক ঘোষাল, সৌমিত দেব, সৌমিত্র দস্তিদার, স্বাতী ভট্টাচার্য, স্বাতী মৈত্র, স্যমন্তক ঘোষ, হিমাদ্রি ঘোষ…

অনুবাদ করে প্রকাশ করা হয়েছে ইমতিয়াজ আলম খান, প্রতাপ ভানু মেহেতা এবং ফিদেল কাস্ত্রো-র একটি করে রচনা, তারিক আলির একটি সাক্ষাৎকার…

সূচি

মিডিয়ার গ্রাস

…এমত পরিস্থিতিতে চার নম্বর প্ল্যাটফর্মের ফেব্রুয়ারি মাসের সংখ্যায় আমরা ভুয়া, মেকি ও স্বার্থবাহী সাংবাদিকতার বিপদ ও তাহার বিরুদ্ধে সৎ সাংবাদিকতার আপাতকুণ্ঠিত অথচ ক্রমজায়মান সাহসী পদপাতের ঘটনাক্রমটি চিহ্নিত করিতে চাহিয়াছি। আমাদের মনে হইয়াছে, রাহুগ্রাসের মধ্যেই যেমন রাহুমুক্তির ঈপ্সিত ইঙ্গিতটি লুক্কায়িত থাকে, তেমনই, মিডিয়ার এই পূর্ণগ্রাসের মধ্য হইতেই সাংবাদিকতারও রাহুমুক্তি ঘটিবে। নূতনকে জায়গা করিয়া দিবার জন্য পুরাতনকে বলপূর্বক বিদায় করিবার রীতি লোকসমাজে প্রচলিত আছে। ভাবিতে ইচ্ছা করি, পুরাণকথিত মহাসর্প যেমন নিজেই নিজেকে ভক্ষণ করিয়া আত্মনাশ করে, সংবাদমাধ্যমও তেমনই নিজেকে ক্লেদমুক্ত করিবার লক্ষ্যে আপনার আজিকার কৃষ্ণচ্ছায়াগ্রস্ত রূপটি আপনিই বর্জন করিবে। যতদিন তাহা না-হইতেছে, আমরা নিশ্চিত, সমাজ অক্লান্তভাবে আরও অসংখ্য মনদীপ পুনিয়ার জন্ম দিয়া চলিবে। ইতিহাস আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়।…

সিংঘু প্রমাণ করেছে, সাংবাদিকের স্বাধীনতা বলে সত্যিই কিছু নেই — শঙ্কর রায়
একমাত্র মিডিয়াই পারে গৈরিক দেশপ্রেমকে চ্যালেঞ্জ জানাতে, যদি তারা চায় — প্রশান্ত ভট্টাচার্য
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও গণতন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা — হিমাদ্রি ঘোষ
স্বরচিত চক্রব্যূহে মূল ধারার সংবাদমাধ্যম — প্রতীক
কে বলেছে, মিডিয়ায় কাউন্টার ন্যারেটিভ নেই? — স্যমন্তক ঘোষ

চতুর্থ বর্ষ, দশম যাত্রা, ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২১

 

ধ্বংসপট, সৃজনপট

ফিরে দেখা ২০২০

…২০২০ কেবল একটি ধ্বংসের বৎসরই নহে, বস্তুত তাহা মানবসমাজকে নগ্ন করিয়া তাহাকে প্রকাণ্ড অটপ্সি-টেবিলের উপর চিৎ করিয়া শোয়াইয়া তাহার যাবতীয় রোগনির্ণয়ের এক মস্ত কেসস্টাডি রূপে আবির্ভূত হইল। আমরা সে পাঠ নিষ্ঠাসহ অনুধাবন করিলাম কি না, তাহার নিষ্কর্ষ হইতে কিছু গ্রহণ করিলাম কি না, আপনাদিগের ব্যাধিগুলিকে অতিক্রম করিবার প্রশ্নে কোনও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রস্তুত করিয়া উঠিতে পারিলাম কি না, তাহাই হইতে পারিত সর্বাপেক্ষা গুরুতর সমীক্ষার বিষয়— কিন্তু হায়, আমরা সেই পথ মাড়াইলাম না— সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা বিশ এবং বিষের সস্তা শ্লেষে মোহিত হইয়া ভুলিয়া রহিলাম যে, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এক ভাইরাস নহে, এই বিষ বস্তুত বহু শতাব্দের অক্লান্ত শ্রমে সঞ্চিত করিয়া তুলিয়াছি আমরাই— ভাইরাসের হানা কেবল সেই বিষ্ফোটকটির আবরণ বিদীর্ণ করিয়া পুঞ্জীভূত যাবতীয় রক্ত-ক্লেদ-বসা-পুঁজ বাহিরে আনিয়া ফেলিল।…

…আমাদের কাছে, অতএব, অতিমারির গত দশমাস কেবল কোভিডের বিরুদ্ধে যুদ্ধেরই ঋতু নহে, তাহা দেশের জনবিরোধী শাসকের চরিত্র-উন্মোচনেরও কাল। এবং, ইতিহাসের শিক্ষা শিরোধার্য করিয়া যদি স্মরণে রাখি যে, এমত প্রতিকূল পরিস্থিতিই পারে বিচারের স্রোতঃপথ খুলিয়া নূতন প্রতিবাদের জন্ম দিতে, তবে বুঝা কঠিন নহে কীভাবে ধ্বংসপথ হইতেই সৃজনপথ জন্ম লয়— কীভাবে ধ্বংসের প্রেক্ষাপটেই রচিত হইয়া উঠে সৃজনেরও পটভূমি। এই ভাবনা হইতেই চারনম্বর প্ল্যাটফর্মের এই সংখ্যার কেন্দ্রীয় বিষয় ‘ধ্বংসপট, সৃজনপট’-এর পরিকল্পনা।…

বাড়াবাড়ি নয়, এটাই গণতন্ত্র — অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়
গেরুয়া ইতিহাস, গেরুয়া ভূগোল, গেরুয়া বিজ্ঞান আর গেরুয়া চিৎকারে বদলে যাচ্ছে আমার দেশ — শুভাশিস মৈত্র
পশ্চিমবাংলা ২০২০: বিপর্যয়ের মধ্যে পাওয়া সুযোগ — কুমার রাণা
নিধিরামের যুদ্ধজয়: করোনা অতিমারি ও সরকারি হাসপাতাল — স্বাতী ভট্টাচার্য
কোভিড-১৯ অতিমারিতে পুষ্টির চালচিত্র — মধুমিতা দোবে
কোভিডে লুঠ শিশুদের ভবিষ্যৎ, দায় এড়াতে পারে না সরকার — অম্লান বিষ্ণু

চতুর্থ বর্ষ, নবম যাত্রা, ১লা জানুয়ারি, ২০২১

 

মুজিব ও মুক্তিযুদ্ধ

…এই বছর বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ ‘মুক্তিযুদ্ধ’-এর সার্ধশতবর্ষ। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাই আমরা স্মরণ করছি তাঁর অগণিত সহযোদ্ধাকে। আমাদের এই ডিসেম্বরের রিজার্ভড বগি বঙ্গবন্ধু ১০০, মুক্তিযুদ্ধ ৫০-এ লিখেছেন সেলিনা হোসেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণটি নিয়ে; রুখসানা কাজলের থেকে আমরা পেয়েছি একজন কমিউনিস্ট মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ; মুক্তিযুদ্ধে মওলানা ভাসানীর ভূমিকায় আলোকপাত করেছেন সৌমিত্র দস্তিদার; বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের আকাশবাণী কী ভূমিকা রেখেছিল সে কথা শুনিয়েছেন সৈয়দ কওসর জামাল; অর্ক ভাদুড়ি সামগ্রিকভাবে কমিউনিস্ট মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকার কথা লিখেছেন। আর মুক্তিযুদ্ধ এক ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে একটু ছুঁয়ে দেখার জন্য আমরা ইমতিয়াজ আলম খানের একটি স্মৃতিচারণ পুনর্মুদ্রণ করেছি পাকিস্তানের ডন পত্রিকা থেকে। ইমতিয়াজ একজন উর্দুভাষী— যাঁদের বিহারি বলা হত— যিনি সেই সময়ে কর্মসূত্রে ঢাকায় ছিলেন।…

ভাষণের পূর্ণমাত্রায় বাঙালির বিজয় — সেলিনা হোসেন
এখনও আশাজাগানিয়া স্বপ্নে আস্থা রাখেন আবু হোসেন — রুখসানা কাজল
বিহারিদের চোখে ঢাকার পতন — ইমতিয়াজ আলম খান
‘আমরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’: বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ ও আকাশবাণী — সৈয়দ কওসর জামাল
মুক্তিযুদ্ধের দার্শনিক ভিত্তি গড়েছিলেন মওলানা ভাসানী — সৌমিত্র দস্তিদার
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে হেজিমনির এই সংস্কৃতিকে প্রশ্ন করা দরকার — অর্ক ভাদুড়ি

চতুর্থ বর্ষ, অষ্টম যাত্রা, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০

 

ফ্রেডরিক এঙ্গেলস ২০০

…আপন ভূমিকাকে এঙ্গেলস বলিতেন ‘দোহারের ভূমিকা’। কী আশ্চর্য এই দোহার এবং তাঁহার দোহারকি! সেই ১৮৪৪ সনে তিনি যখন ‘ইংলন্ডে শ্রমিকশ্রেণির অবস্থা’ বিষয়ে সন্দর্ভ লিখিতেছেন— যে পুস্তক পরবর্তী কালে অবলীলায় স্থান করিয়া লইবে মার্কসবাদী ক্লাসিকগুলির মধ্যে— তখনও কার্ল মার্কসের সহিত তাঁহার ভাল করিয়া পরিচয় হয় নাই! এই দোহার তাহার পরে লিখিবেন ‘অ্যান্টি ড্যুরিং’— বিদগ্ধজনের মতে যে গ্রন্থ সম্যক আত্মস্থ করিতে পারিলেই মার্কসবাদ সম্পর্কে প্রভূত জ্ঞানলাভ সম্ভব; লিখিবেন ‘প্রকৃতির দ্বান্দ্বিকতা’— যাহার মাধ্যমে মার্কসবাদী দর্শন এবং প্রকৃতিবিজ্ঞান সমন্বিত হইবে চিরতরে; লিখিবেন ‘পরিবার, ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি’— লিঙ্গবৈষম্যের ঐতিহাসিক ভিত্তি সম্পর্কে সুস্পষ্ট উপলব্ধিতে উপনীত হওয়া যাইবে যাহার মাধ্যমে!

অর্থাৎ মার্কসবাদকে সমাজ ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমন্বিত ও সম্পৃক্ত করা শুধু নহে, প্রোথিত করার কাজটিও সারাজীবন ধরিয়া করিয়া গিয়াছেন এই দোহার, নির্বিকার চিত্তে! পরবর্তীতে যাঁহারা মার্কসবাদ সম্পর্কে কিছুমাত্র জানাশোনার অধিকারী হইবেন, তাঁহাদের মধ্যে নিতান্ত বুর্জোয়াশ্রেণির কলিকায় তাম্রকূটসেবীরা ছাড়া প্রত্যেকে স্বীকার করিবেন— ইহা হইতেও পারিত এঙ্গেলসবাদ। আশ্চর্য কী, মার্কস বরাবরই অকুণ্ঠ শ্রদ্ধাবনত থাকিবেন তাঁহার এই আশ্চর্য সহযোদ্ধা সম্পর্কে!…

 

ফ্রেডরিক এঙ্গেলস (২৮ নভেম্বর ১৮২০-৫ আগস্ট ১৮৯৫): জন্মদ্বিশতবর্ষ স্মরণ — কণিষ্ক চৌধুরী
এঙ্গেলস ও সংশোধনবাদ— একটি পর্যালোচনা — কুণাল চট্টোপাধ্যায়
ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের জন্ম-দ্বিশতবর্ষে ফিরে দেখা: প্রকৃতিতে দ্বান্দ্বিকতা — কুন্তল ঘোষ ও শঙ্খশুভ্র নাগ
ফিরে দেখা: এঙ্গেলসের পরিবার, ব্যক্তিগত মালিকানা এবং রাষ্ট্রের উৎপত্তি — সোমা মারিক
এঙ্গেলস ও ২য় আন্তর্জাতিক — সুশোভন ধর
এঙ্গেলস ও মার্কসবাদ — প্রতীপ নাগ
এঙ্গেলসের ডাবল্‌ সেঞ্চুরি এবং এঙ্গেলসের ভূত — প্রবুদ্ধ ঘোষ

চতুর্থ বর্ষ, সপ্তম যাত্রা, ১লা নভেম্বর, ২০২০

 

উৎসব আজি নিরালা

কারিগরদের কথা

…বিপরীতে, একটি বিষয়ে আমরা বিস্মিত না হইয়া পারি না, তাহা হইল এই আতঙ্কের চোখে চোখ রাখিয়া সারা বিশ্বে সাধারণ মানুষের নিরবিচ্ছিন্ন এবং আক্ষরিক মরণপণ লড়াই৷ এই লড়াই সে অর্থে হয়তো কোনও মহতী সংগ্রাম নয়, নিতান্ত গ্রাসাচ্ছাদনের দায়ে, নিজেদের অস্তিত্বরক্ষার তাগিদে সাধারণ মানুষকে আজ সঙ্কট উপেক্ষা করিয়া পথে নামিতে হইয়াছে, কিন্তু মানুষের অস্তিত্বের চেয়ে মহৎ অন্য কিছু আছে নাকি?…

কোভিড লইয়া কোনরূপ তাত্ত্বিক আলোচনা নহে, চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম-এর অক্টোবর সংখ্যায় আমরা লিপিবদ্ধ করিতেছি সেইসব অতিসাধারণ শিল্পী-কারিগর-শ্রমজীবী মানুষের যাপনকথা, আসন্ন উৎসবের আলোকে তাঁদের দুঃখ-দুর্দশা, হতাশা, জয়-পরাজয় এবং ধূলি হইতে পুনরায় উঠিয়া দাঁড়ানোর আখ্যানমালাকে৷ আমরা নানা পেশার সঙ্গে যুক্ত, অথবা কর্মহীন, নানা পরিচয়ের মানুষের পাশে বসিয়া শুনিয়াছি তাহাদের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার কথা, তেমনি দেখিয়াছি পুনরায় জীবনের ফিরিয়া আসার লড়াইকে। এই সংখ্যার চারটি সুনির্বাচিত লেখায় আমরা সাজাইয়া দিলাম রোদেপোড়া জলেভেজা আটপৌরে জীবনকে, সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রামকে।…

যে গন্ধগুলি কেড়ে নেয় করোনা — শুভ্র মৈত্র
আসছে বছর আবার হবে… — সৌমিত দেব
ছোট ছোট মানুষের ছোট ছোট কথা — জগন্নাথদেব মণ্ডল
রাজপথে-ফুটপাথে-অলিগলিতে অন্য রূপে নারী — দিগন্ত শর্মা

চতুর্থ বর্ষ, ষষ্ঠ যাত্রা, ১লা অক্টোবর, ২০২০

 

জ্ঞানাঞ্জনের শলাকা

শিক্ষার স্বাস্থ্য ও নয়া শিক্ষানীতি

…আমাদিগের মনে হইয়াছে যে, নতুন এই শিক্ষানীতি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি লইয়া সম্যক আলোচনা করার, এবং উক্ত প্রশ্নগুলির নিরিখে শিক্ষানীতিটিকে সরেজমিন কাটাছেঁড়া করিয়া দেখিবার ইহাই উপযুক্ত সময়। কিন্তু সম্পাদকীয় নিবন্ধের স্বল্প পরিসরে তাহা কদাচ সম্ভব নয়, পরন্তু তাহাতে একদেশদর্শিতার দোষ ঘটিতে পারে – সেই বিধায় আমরা চারনম্বর প্ল্যাটফর্মের সেপ্টেম্বর সংখ্যার মূল ভাবনা হিসাবে বিষয়টিকে বাছিয়া লইলাম। গুরুপ্রণামের স্তোত্র বলিতেছেন, অজ্ঞানের তিমিরান্ধকার হইতে চক্ষুরুন্মিলন ঘটাইয়া আলোকে উত্তরণের পথ দেখাইতে পারে একমাত্র জ্ঞানাঞ্জনের শলাকা – এই সংখ্যায় বহুমাত্রিক প্রবন্ধনিচয়ের মাধ্যমে আমরা সেই জ্ঞানাঞ্জনশলাকার (যাহার অর্থ প্রজ্বলিত মশালও হইতে পারে আবার খুঁচাইয়া ঘা করিবার কাঠিও হইতে পারে) আলোকে ধড়-মুড়া-টিকি-ল্যাজা-সমেত গোটা শিক্ষানীতিটিকে পুনরাবলোকনের ইচ্ছা করিলাম।…

শিশুশিক্ষাকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্তর্ভুক্ত হতে হবে — মানবী মজুমদার
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ — শুভোদয় দাশগুপ্ত
বিদ্যালয় শিক্ষা প্রসঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ — শ্রুতিনাথ প্রহরাজ
“শিক্ষা যদি নাও হয়, খাঁচা তো হইল”: নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ প্রসঙ্গে — দেবাদিত্য ভট্টাচার্য
উত্তরাধিকার ও গুরুদক্ষিণা: জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ প্রসঙ্গে কিছু কথা — স্বাতী মৈত্র
হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি, কর্পোরেট স্বার্থ ও শিক্ষানীতি ২০২০ — আকাশ ভট্টাচার্য
নয়া শিক্ষানীতি অর্ধদক্ষ শ্রমিক বানিয়ে মালিকদের ভেট দিতে চায় — দীপসিতা ধর

চতুর্থ বর্ষ, পঞ্চম যাত্রা, ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২০

 

মরণ-মহোৎসবে…

কোভিড-উত্তর বিপন্নতা

…শ্বেত গলাবন্ধী কর্মীদের ক্ষেত্রে সুলভে যে গৃহ-হইতে-কর্ম যোজনার ব্যবস্থা হইল, তাহা গরীবগুর্বো মজুর, ট্যাক্সিচালক ইত্যাকার সুবিধা করিল না। ফলতঃ এই দুই দলের যাপনমানে যে বিপুল পার্থক্য বর্তমান ছিল, তাহা বাড়িল। বাড়িল গৃহহিংসার সংখ্যা, যাহা বিগত দশ বৎসরে সর্বোচ্চ বলিয়া দেখা গেল। ইউএন উইমেনের মতে নারীবিরোধী হিংসা হইতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এই অতিমারি তাহা বহুগুণ বাড়িয়া যাইবার সঙ্কেত লইয়া আসিল। অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং স্বল্প সুবিধাপ্রাপ্ত কর্মীদের উপর ‘বাণিজ্যিক কারণ’ দেখাইয়া যৎপরোনাস্তি অত্যাচার এবং অনাচার নামাইয়া আনা হইল। ‘ইউনিয়নবাজি মন্দ’ বিধায় আমরা তাহাও মানিয়া লইলাম।

কোভিড-ঋতুর ‘অ-কোভিডীয়’ দুর্দশাচয়ের— যাহার সকলই মনুষ্যসৃষ্ট— কয়েকটি পরিণাম লইয়া এই সংখ্যার মূল ভাবনা ‘মরণ-মহোৎসবে’ তৈয়ার হইল। লিখিলেন আশীষ লাহিড়ী, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, রুচিরা গোস্বামী, চিরশ্রী দাশগুপ্ত এবং অয়নেশ দাস।…

কোভিড অতিমারি: শাসকের পৌষমাস মানুষের সর্বনাশ — আশীষ লাহিড়ী
আলাদা হওয়ার নীল নকশা — সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়
ডিজিটাল বৈষম্য ও অনলাইন শিক্ষা — রুচিরা গোস্বামী
অরমিতার দিনরাত্রি — চিরশ্রী দাশগুপ্ত
রেলের চাকায় ভীষণ ধার — অয়নেশ দাস

চতুর্থ বর্ষ, চতুর্থ যাত্রা, ১লা আগস্ট, ২০২০

 

রাষ্ট্র বনাম দেশ

… ‘রক্তকরবী’-র রাজা অন্তরালে থাকিতেন। তবু, কাঠিন্যের আবডালে তাঁহারও একটি মথিত হৃদয় ছিল। আজ বাঁচিয়া থাকিলে কবি নিশ্চয় ‘রক্তকরবী’-র রাজাকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান সেবকের আদলে আঁকিতেন ও তাহাতে কোমলতার চিহ্নমাত্র রাখিতেন না।

জুলাই সংখ্যায় খিলকুলুপের এই তিন মাসে রাষ্ট্র যেই যেই ক্ষেত্রে সরাসরি দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়াইয়াছে, সেই ক্ষেত্রগুলিকে চিহ্নিত করিয়া, রাষ্ট্রের দেশবিরোধী ভূমিকার প্রতি দৃষ্টিপাত করিল চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম। প্রচ্ছদকাহিনির নিবন্ধগুলিতে তাহারই চিহ্ন রহিল।…

অথৈ জলে ভারত, হালে মাঝি নেই, আছে ছলনাময় — প্রতাপ ভানু মেহতা
কোভিডের দিনগুলিতে কাজ — মোহন মানি
রাষ্ট্র মাস্ক ব্যবহার করে না — নীলাঞ্জন দত্ত
গণতন্ত্রের সব কটি স্তম্ভই আজ বিপন্ন — সৌমিত্র দস্তিদার
বেসরকারিকরণ না সম্পদ হস্তান্তর? — সুশোভন ধর
অর্থনৈতিক উদ্দীপক নাকি কর্পোরেট বেইল-আউট? — শঙ্খশুভ্র বিশ্বাস

চতুর্থ বর্ষ, তৃতীয় যাত্রা, ১লা জুলাই, ২০২০

 

লেনিন ১৫০

…সকলের অন্ন ও দুগ্ধ সুনিশ্চিত করিতে হইলে, আর আছে মনীষীর দেখানো পথ। পৃথিবীর ক্রমমুক্তির পথ। এই পথ অনুসরণ করিয়া একশত বৎসর পূর্বে যে মহান মানুষটি দুনিয়ার বক্ষে প্রথম শোষিতদের দ্বারা শাসিত একটি দেশের প্রবর্তন করিয়াছিলেন, সেই রুশদেশের কমরেড লেনিনের সার্ধশতবর্ষে আমরা সীমিত উপাচারে তাঁহাকে স্মরণ করিতেছি। এই বিশ্বজোড়া অতিমারির অনিশ্চয়তার বৃত্তের ভিতর দাঁড়াইয়া আমরা স্মরণ করিতেছি সেই মহামতি লেনিনকে, যাঁহার উদ্যোগে বিশ্বে প্রথমবার জনস্বাস্থ্য নামক ব্যবস্থাটির পত্তন হয়, যে ব্যবস্থার খরচ জোগাইবার দায়িত্ব ছিল দেশেরই।…

লেনিন সত্যিই ছিলেন ব্যতিক্রমীদের একজন — ফিদেল কাস্ত্রো
“লেনিনকে মানুষ চিনুক তাঁর নিজের লেখাপত্রের মধ্যে দিয়ে, …”— কথোপকথনে তারিক আলি — রাজা নইম
সার্ধশতবর্ষে লেনিন: বৈশ্বিক অতিমারির বুকে এক চির-উন্নত মূর্তি — নীলোৎপল বসু
লেনিনের সঙ্গে কিছুক্ষণ — অশোক মুখোপাধ্যায়
লেনিন কতদূর দেখতে পেয়েছিলেন? — শুভাশিস মুখোপাধ্যায়
লেনিন, মতাদর্শগত বিতর্ক ও রুশ বিপ্লব — সৌভিক ঘোষাল
নারীমুক্তি ও লেনিন: ১৫০ বছরের এপার-ওপার — অহনা গাঙ্গুলি
বৈপ্লবিক আন্দোলনের জন্য বৈপ্লবিক তত্ত্ব চিরকালই বড় জরুরি — উর্বা চৌধুরী

চতুর্থ বর্ষ, দ্বিতীয় যাত্রা, ১লা জুন, ২০২০

 

অশনিসঙ্কেত

অতিমারির সমান্তরাল ক্ষতি

…চার নম্বর প্ল্যাটফর্মের মে সংখ্যার বিষয়সূচি প্রস্তুত করিতে বসিয়া এই প্রশ্নগুলিই আমাদিগের ভাবনার কেন্দ্রে ছিল। ঋষিরা বলিয়াছেন, অতীতকে অনুধাবন করিয়া তাহার আলোকে বর্তমানকে পাঠ করিতে পারিলে ভবিষ্যতের পথটি প্রতীয়মান হয়। সেই অনুশাসন শিরোধার্য করিয়াই আমরা আসন্ন বিপর্যয়ের অশনিসঙ্কেতের কেন্দ্রস্থ সঙ্কেতটিকে সাধ্যানুসারে বুঝিতে চেষ্টা করিয়াছি। সেই প্রয়াসেরই ফল, আমাদিগের এই সংখ্যার রিজার্ভড বগি-র নিবন্ধগুচ্ছ।…

এই যন্ত্রনির্ভর সভ্যতাকে ত্যাগ না করলে পৃথিবী ও মানুষের বাঁচা অসম্ভব — দেবল দেব
ডিজিটাল বৈষম্যের মহাসর্বনাশের মুখে নবীন প্রজন্ম — গৌতম সরকার
ভারত ও ইন্ডিয়া– দেশ এবার স্পষ্ট দুভাগে ভাগ হতে চলেছে — সৌমিত্র দস্তিদার
সঙ্কটাপন্ন ভারতীয় কৃষি, লকডাউন এবং… — শঙ্কর সান্যাল
করোনার দোহাই ও শ্রমিক শোষণ — সুশোভন ধর
দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার: বর্তমান ভারত ও অসংগঠিত শ্রমিকের সম্পর্কের রূপরেখা — অর্ক দেব
ঝড়ের পরে ঝড়— করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে অভিবাসন, পরিযান ও মানব-পাচার — শতাব্দী দাশ

চতুর্থ বর্ষ, প্রথম যাত্রা, ১লা মে, ২০২০

 

%d bloggers like this: