ভাষণের পূর্ণমাত্রায় বাঙালির বিজয়

সেলিনা হোসেন

 


লেখক প্রখ্যাত সাহিত্যিক। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘একুশে’ পদক সহ আরও বহু সম্মানে সম্মানিত।

 

 

 

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরে প্যারিসের ইউনেস্কো সদর দপ্তরে মহপরিচালক ইরিনা বোকোভা ঘোষণা দিলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি ‘বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ। ইউনেস্কো জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা। এই স্বীকৃতি ইতিহাসের বড় সময় ধরে বিশ্বজুড়ে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বলতেই হবে বাঙালি-বাংলাদেশের ইতিহাস এই ৭ মার্চের ইতিহাস। ইউনেস্কোর মাধ্যমে বাঙালির অর্জন বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য। যে ঐতিহ্য মানবজাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের ভেতর দিয়ে মানুষের মানবিক অধিকারকে নিশ্চিত করে।

চল্লিশের দশকে প্রখ্যাত মনীষী এস ওয়াজেদ আলি এমন একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি তাঁর ‘ভবিষ্যতের বাঙালি’ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছিলেন, “রাষ্ট্রজীবনের যে পরিকল্পনা, সমবায়িক জীবনের যে ছবি বাংলাদেশের বাইরের ভারতবাসীকে সন্তুষ্ট করে, এই ভাবপ্রবণ কল্পনাকুশল জাতি সে-আদর্শ, সে-ছবি, সে-পরিকল্পনা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারছে না। তার কুহেলিকা-সমাচ্ছন্ন নিগুঢ় অবচেতনায় মহামানবতার মহত্তর এক আদর্শ, পূর্ণতর এক পরিকল্পনা, সুন্দরতর এক ছবি আকার এবং রূপ পরিগ্রহ করতে আরম্ভ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে সেই মহনীয় আদর্শ, সেই পরিপূর্ণ পরিকল্পনা, সেই অপরূপ ছবি তার মনে স্পষ্ট হয়ে উঠবেই, আর তার প্রভাবে বাঙালি এক অভিনব জীবনের আস্বাদ পাবে; এবং সেই শুভ দিন যখন আসবে, তখন বাঙালি কেবল ভারতবর্ষের নয়, কেবল প্রাচ্য-ভূখণ্ডের নয়, সমগ্র বিশ্ববাসীর পথপ্রদর্শক হবে— সত্য, সুন্দর, শুভ জীবন-পথের। বাঙালি এখন সেই মহামানবের প্রতীক্ষায় আছে, যিনি তাঁকে এই গৌরবময় জীবনের সন্ধান দেবেন— ভগীরথের মতো এই বাংলায় ভাবগঙ্গার সঙ্গম সুস্পষ্ট করে তুলবেন।” বাঙালির সামনে এই অসাধারণ স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। বাঙালি বিশ্বাসীর পথপ্রদর্শক হবে। “এখন বাঙালি কেবল ভারতবর্ষের নয়, , কেবল প্রাচ্য-ভূখণ্ডের নয়, সমগ্র বিশ্ববাসীর পথপ্রদর্শক হবে— সত্য, সুন্দর, শুভ জীবন-পথের।” চল্লিশের দশক থেকে ষাটের দশক— মাত্র দু-দশক সময়ের ব্যবধানে এমন একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়ার সম্ভাবনা শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। ৭ মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো স্বীকৃতি বিশ্ববাসীর পথপ্রদর্শকের জায়গায় স্থান করে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু এমনই এক জাতির রাজনৈতিক নেতা যিনি ভারত উপমহাদেশের মানচিত্র বদলে দিয়েছেন। বাঙালিকে যোদ্ধা জাতি হিসেবে বিশ্বের মানুষের সামনে পরিচিত করিয়েছেন। বাঙালির এই অর্জন আজকের পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের সামনে একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত। প্রাবন্ধিক এস ওয়াজেদ আলির প্রত্যাশিত মহামানব শেখ মুজিবর রহমান।

বাঙালির প্রতি বঙ্গবন্ধুর আবেগ ছিল সীমাহীন, বাঙালিকে কেন্দ্র করে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল মৃত্তিকাসংলগ্ন এবং সমুদ্রসমান ভালোবাসা দিয়ে এ জাতিকে গৌরবময় জীবনের সন্ধান দেওয়ার স্বপ্নে তৈরি করেছিলেন নিজের সবটুকু। তিনি ভেবেচ্ছিলেন, একটি ভাষাগত ও জাতিগত একটি রাষ্ট্রের উদ্ভব হলে তা এ সময়ের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে যদি অনেক রাষ্ট্রের জন্ম হয় তাহলে আর কোনও বৃহৎ শক্তি থাকবে না। কেউ কারও উপর কর্তৃত্ব করতে পারবে না। শান্তি ও কল্যাণের রাষ্ট্র হবে সেগুলো। আগামী প্রজন্ম জানবে না বিশ্বযুদ্ধ কী! বাংলাদেশের মতো একটি একটি করে গড়ে উঠবে অসংখ্য রাষ্ট্র। অসংখ্য রাষ্ট্রের যোগ সাধনে তৈরি হবে সমতার পরিবেশ। তিনি তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থে এই জীবনদর্শনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, “আমি নিজে কমিউনিস্ট নই। তবে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বিশ্বাস করি না। একে আমি শোষণের যন্ত্র হিসাবে মনে করি। এই পুঁজিবাদী সৃষ্টির অর্থনীতি যতদিন দুনিয়ায় থাকবে ততদিন দুনিয়ায় মানুষের উপর থেকে শোষণ বন্ধ হবে না। পুঁজিপতিরা নিজেদের স্বার্থে বিশ্বযুদ্ধ লাগাতে বদ্ধপরিকর। নতুন স্বাধীনতাগ্রস্ত জনগণের কর্তব্য বিশ্বশান্তির জন্য সংঘবদ্ধ ভাবে চেষ্টা করা।”

সেই ভাষণে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন একটি অলৌকিক বাক্য। তর্জনী তুলে বলেছিলেন, “আর দাবায়ে রাখতে পারবা না।” বাক্যটি ভেবে দেখতে হবে। তিনি যদি প্রমিত বাংলা ব্যবহার করতেন তাহলে বলতেন, ‘আর দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’ তিনি প্রমিত বাংলা ব্যবহার করেননি। আঞ্চলিক শব্দ সহযোগে আঞ্চলিক ক্রিয়াপদ ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যে বাঙালি জাতিসত্তার হৃদয়ের বিশাল দরজা খুলে দিয়েছেন, যে দরজা পথে বেরিয়ে এসেছে বাঙালি চরিত্রের যাবতীয় বৈশিষ্ট। পাশাপাশি তিনি বিশ্বজোড়া মানুষের অধিকারের জায়গাটি মর্যাদার সঙ্গে ধারণ করেছেন। ছোট রাষ্ট্রগুলো যেন বৃহৎ শক্তির পুঁজিসর্বস্ব গঠনকাঠামোয় অবদমিত না থাকে। মানুষের অধিকার অর্জন মানবজীবনের মৌলিক সত্য।

এই ছোট্ট বাক্যটি সেতুবন্ধ গড়ে তুলেছে এস ওয়াজেদ আলির।দীর্ঘ একটি বাক্যের সঙ্গে, সেখানে তিনি বলেছেন, “বাঙালি এখন সেই মহামানবের প্রতীক্ষায় আছে। যিনি তাঁকে এই গৌরবময় জীবনের সন্ধান দেবেন৷– ভগীরথের মতো এই বাংলায় ভাবগঙ্গার সঙ্গম স্পষ্ট করে তুলবেন।” পার্থক্য এই যে, তাঁকে দীর্ঘ অর্থবহ বাক্য রচনা করতে হয়নি, তিনি রচনা করেছেন ছোট অথচ তীক্ষ্ণ, অপ্রমিত অথচ গভীর অর্থবহ বাক্য। এই একটি মাত্র বাক্য মানুষের অধিকারের পুরো জায়গা খুলে দেয়। মানুষ পীড়ন-বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা পায়।

৭ই মার্চের ভাষণে সেদিন তিনি সেই বাক্যটির পরে বলেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” লক্ষণীয় বিষয় এই যে, এই বাক্যটি তিনি প্রমিত বাংলায় বলেছেন। এখানেও এস ওয়াজেদ আলির আরেকটি বাক্যের সঙ্গে সংযোগসেতু তৈরি হয়। কি আশ্চর্যভাবে এই ভাষণ জাতীয় পটভূমি থেকে আন্তর্জাতিক মাত্রায় উত্তীর্ণ হয়েছে— মুক্তির সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার সংগ্রাম প্রতিটি দেশের জন্য সর্বজনীন সত্য। মুক্তির সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম এককভাবে হয় না, এর জন্য প্রয়োজন হয় আন্তর্জাতিক সমর্থন, সাহায্য এবং সহযোগিতা। তাই বাক্যটি উচ্চারিত হয় প্রমিত বাংলায়। বাঙালি জাতিসত্তার ঊর্ধ্বে পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে মেলবন্ধনের প্রত্যাশায়। স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভগীরথের মতো এই বাংলায় ভাবগঙ্গার সঙ্গম। সেদিনের বক্তৃতায় তাঁর উত্থিত সেই অমিতবিক্রম তর্জনীর সঙ্গে যখন একই সমান্তরাল পৌঁছে যায়, তখনই বাঙালির অভিনব জীবন আস্বাদের স্পৃহা প্রবল হয়ে ওঠে।

এই ভাষণের প্রতিটি বাক্যই বিশ্লেষণের অপেক্ষা রাখে। ‘আর দাবায়া রাখতে পারবা না’ বাক্যটি সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক বিষয় স্পষ্ট করে দেয়। এই বাক্যটি দেশের সীমানা অতিক্রম করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোরের কালীগঞ্জ গ্রামের একটি ঘটনা। আমার শিক্ষক-গবেষক ফোকলোর অধ্যাপক মুক্তিযুদ্ধের সময় সাংবাদিকতা করেছেন। স্বাধীনতার পরে সেই ঘটনাটি আমাকে বলেছিলেন৷ যশোরের একজন মা দুই মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচাবার জন্য বোবা সন্তানটিকে মিলিটারির হাতে তুলে দিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের রাইফেলটি হাতে ধরিয়ে দিয়ে। একজন গ্রামীণ নারীর এক আত্মত্যাগ একটি ভাষণের অনুপ্রেরণায় স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ। ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন: “আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি…।” বাঙালি নারী এই বাক্যেই বুঝে গিয়েছিলেন যে তাঁদের কী করতে হবে। এই বেদবাক্য মাথায় তুলে নিজেদের সাধ্যমতো কী করতে হবে তার সব করেছেন। কোথাও কোনও দ্বিধা ছিল না। একজন জ্ঞানের মানুষ খুরশীদা বেগম এই ভাষণকে বিশ্লেষণ করেছেন এভাবে, “যুগে যুগে বাঙালির ইতিহাসকে স্বপ্ন ও সাধনা দিয়ে ধন্য করেছেন যে সকল বরেণ্য রাজনীতিক বুদ্ধিজীবী, কবি-সাহিত্যিক শিল্পী সমাজসেবী ও সাধারণ মানুষ তাঁদের সকলের অবদানকে একটি পরম আকাঙ্খা ও চূড়ান্ত লক্ষ্যে সংস্থাপিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে মানুষটি তিনিই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং ইতিহাসের যে মাহেন্দ্রক্ষণে তাঁর হাতে সম্পাদিত হয় এই কাজ, সেটি ৭ মার্চ ১৯৭১।”

একজন স্বল্পশিক্ষিত গ্রামের মেয়ে তারামন বিবি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। তার শক্তি এই ভাষণের অণুপ্রেরণা থেকে এসেছে। একটি জনজীবন সে ভাষণটিকে কীভাবে ধারণ করেছে শুধু বাংলার নারীসমাজের দিকে তাকালে এ উপলব্ধি সবার হবে। সিলেটে কাঁকন বিবির কথা বলা যায়, যিনি মুক্তিযদ্ধাদের ক্যাম্পে রসদ সরবরাহ করেছেন, অস্ত্র সরবরাহ করেছেন আবার পাকিস্তানি সেনার ক্যাম্পে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তার কোনও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ছিল না। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ তাদের করণীয় নির্ধারণ করে দিয়েছিল। সেই অমিত ডাক শুনে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন৷ সেইদিন ৭ই মার্চের সভায় মহিলাদের হাতেও বাঁশের লাঠি ছিল। এই ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের সময় নয় মাস বাঙালিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছে।

এই ভাষণ কী করে দেশের সীমানা অতিক্রম করল এটা একজন প্রত্যক্ষদর্শীর কথা। তিনি বলেছেন যে বিদেশে কোনও একটি জায়গায় একজন কাশ্মিরের গোরিলাযোদ্ধার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে, নানা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “এভাবে কি আপনারা অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে নিজেদের স্বাধীনতা অর্জন করতে পারবেন?” সেই গোরিলাযোদ্ধা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বলেছিল, Are you from Bangladesh?

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ উন্নয়নশীল বিশ্বের ছোট ছোট, দেশগুলোর জনগণের কাছে এভাবেই পৌঁছে গেছে। এ পৌঁছে যাওয়া শুধু একটি ঘটনা নয়। এর পিছনে আছে হাজার বছরের একজন মানুষের অভিজ্ঞান নিয়ে হাজার বছরের ইতিহাসকে নিজের মধ্যে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া। আমাদের প্রাজ্ঞ মনীষী সরদার ফজলুল করিম ৭ই মার্চের ভাষণ শুনেছেন রমনা রেসকোর্সে বসে৷ তিনি লিখেছেন, “আমি নিজেকে যত ক্ষুদ্রাবয়ব মনে করি, তেমন আর তখন যথার্থই ছিলাম না। আমার অবয়বকে আমি যথার্থই ছাড়িয়ে যাচ্ছিলাম। দেহ আমার দীর্ঘ হচ্ছিল। শরীরে আমার রোমাঞ্চ জাগছিল। সাহস বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আর তাই পাকিস্তানি জঙ্গি বিমানগুলো আমার মাথার ওপর দিয়ে সগৌরবে যখন আসা-যাওয়া করছিল এবং সে বিমান থেকে যেকোনও মুহূর্তে যে মৃত্যুর বাণ আমার বুকে এসে বিঁধতে পারে, সে কথা জেনেও আমার পা একটুও কাঁপছিল না। আমি ছুটে পালাতে চেষ্টা করিনি।”

ভেবে নেওয়া যায় যে, এমন উঁচু হয়ে ওঠা মাথার চিত্রকল্প নিয়েই রচিত হয়েছিল বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বল বীর বল উন্নত মম শির’। ভারতের উর্দু ভাষার বিখ্যাত কবি কাইফি আজমী মুক্তিযুদ্ধের সময় লিখেছিলেন ‘বাংলাদেশ’ শীর্ষক কবিতা:

শুধু একটি দেশ নই যে জ্বালিয়ে দেবে
প্রাচীর নই যে তা পুরোপুরি মুছে ফেলবে
…………………….

কতই না নির্বোধ তুমি
খয়রাতে পাওয়া ট্যাঙ্ক নিয়ে আমার দিকে ধেয়ে আসছ
রাত দিন নাপাম বোমার বৃষ্টি বর্ষাচ্ছ
ক্লান্ত হয়ে পড়বে দেখো
শৃঙ্খল পরাবে তুমি কোন হাতে
হাত তো আমার আছে সাত কোটি
গর্দান থেকে কোন মাথাটি তুমি আলাদা করবে
সেখানে তো মাথা আছে সাতকোটি।

কী আশ্চর্য মেলবন্ধন! এভাবেই বুঝি কবিতার ভাষার সঙ্গে রাজনীতি এক হয়। মুখোমুখি দাঁড়ান কবি ও রাজনীতিবিদ। ‘আর দাবায়ে রাখতে পারবা না’ পঙক্তিটিও একটি কালজয়ী পঙক্তি। মর্যাদার সঙ্গে মানবজাতির বেঁচে থাকার এক অবিনাশী পঙক্তি। এই পঙক্তির ক্ষয় নেই। বিনাশ নেই। এমন একটি পঙক্তি হাজার বছরের ইতিহাস হয়ে টিকে থাকে।

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া একটি বেতার ভাষণে বলেছিলেন, “১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার জন্য আন্দোলন ছিল না, বরঞ্চ তা ছিল সাংস্কৃতিক স্বাধিকার আর মানুষের মতো বাঁচার অধিকারের সংগ্রাম। সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিল চরম সংগ্রামের প্রস্তুতি। এই আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের মানুষের স্বাধিকারের আন্দোলন, স্বাধীনতার আন্দোলন।”

বঙ্গবন্ধু বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ প্রথমবারের মতো শহীদদের স্মরণ করবেন। ভাষার জন্য সংগ্রামকে যথাযথ মর্যাদা দেবেন৷ দেশে শোষণমুক্ত সমাজ গঠিত না হলে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার কোনও অর্থ থাকবে না। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি আমরা স্বাধীন দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো শহীদ দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছি। ১৯৪৭ সালের ১১ মার্চ থেকে সংগ্রাম শুরু হয়। সেদিন আমরা গ্রেফতার হয়েছিলাম। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন শুধু ভাষা আন্দোলন ছিল না এবং কেবলমাত্র ভাষা আন্দোলনই সেদিন থেকে শুরু হয়নি। এ আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের মানুষের স্বাধিকার আন্দোলন, স্বাধীনতার আন্দোলন। ১৯৪০ সাল থেকে ধীরে ধীরে এ সংগ্রাম শুরু হয়। ‘৫২ সালে গিয়ে সেই সংগ্রাম চরম পর্যায়ে উপনীত হয়। সেদিন আমাদের দেশের ছেলেরা রক্ত দিয়েছিল, শহীদ হয়েছিল বাংলাভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। কিন্তু সেটা কি শুধু ভাষা আন্দোলন ছিল? অনেকেই বুঝতে চেষ্টা করেনি যে বাংলার মানুষ জেগে উঠেছে। বাংলার মানুষকে আর দাবিয়ে রাখা যাবে না৷ সেদিন থেকে শুরু হয়েছিল চরম সংগ্রামের প্রস্তুতি।” (দৈনিক বাংলা, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২)

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই বাঙালির জন্য বঙ্গবন্ধু এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের পর্বের অবদানকে গভীর দিকনির্দেশনায় পরিচালনা করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দেন।

ইতিহাসে তিনিই অমর যিনি সমগ্র জাতিকে স্বপ্ন দেখাতে পারেন— ইতিহাস তাঁরই পক্ষে যিনি সময়ের বিচারে নিজেকে যোগ্য বলে প্রমাণ করতে পারেন। এ সংজ্ঞায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ইতিহাসের সেই মহামানব, সময় যাঁকে সৃষ্টি করেনি, যিনি সময়কে নিজের করতলে নিয়ে এসেছেন। যিনি কঠোর স্বরে নিজস্ব ভঙ্গিতে উচ্চারণ করেছিলেন সবকালের উপযোগী এবং সবদেশের জন্য প্রযোজ্য একটি অমর পঙক্তি “মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব— এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ…।” রক্ত দেয়া অর্থবহ হয় নিজের জীবন উৎসর্গ করার প্রতিজ্ঞায়। এই প্রতিজ্ঞা মুক্তিকামী মানুষের ঘরে ঘরে উচ্চারিত না হলে মুক্তির লক্ষ্য অনিবার্য হয়ে ওঠে না। ইউনেস্কোর বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছালে এই ভাষণের তীব্রতা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে মানুষের চেতনায়। সেইজন্য ইউনেস্কোর এই দলিল সংরক্ষণের উদ্যোগ। মানুষের জীবন যেন ন্যায়সঙ্গত সমতার বিচারে মহীয়ান হয়ে চির জাগরুক থাকে। বিশ্ব সংস্থার এমন আবেদনই সকলের প্রত্যাশা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শেষ জীবনে ‘সভ্যতার সংকট’ প্রবন্ধে আশা করেছিলেন, “আজ আশা করে আছি পরিত্রাণকর্তার জন্মদিন আসছে আমাদের এই দারিদ্র্যলাঞ্ছিত কুটিরের মধ্যে; অপেক্ষা করে থাকব, সভ্যতার দৈববাণী সে নিয়ে আসবে, মানুষের চরম আশ্বাসের কথা মানুষকে এসে শোনাবে এই পূর্বদিগন্ত থেকেই। … মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব। আশা করব, মহাপ্রলয়ের পরে বৈরাগ্যের মেঘমুক্ত আকাশে ইতিহাসের একটি নির্মল আত্মপ্রকাশ হয়ত আরম্ভ হবে এই পূর্বাচলের সূর্যোদয়ের দিগন্ত থেকে। আর-এক দিন অপরাজিত মানুষ নিজের জয়যাত্রার অভিযানে সকল বাধা অতিক্রম করে অগ্রসর হবে তার মহৎ মর্যাদা ফিরে পাবার পথে। মনুষ্যত্বের অন্তহীন, প্রতিকারহীন পরাভাবকে চরম বলে বিশ্বাস করাকে আমি অপরাধ মনে করি।”

যে পরিপ্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথ এই কথাগুলো বলেন সেটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিত থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবু এই কথাও সবাইকে বঙ্গবন্ধুর কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি আমাদের যেভাবে বাঁচাতে চেয়েছিলেন, মানুষ হিসেবে মানুষকে যে আশ্বাসের কথা শোনাতে চেয়েছিলেন, এ দেশে এমন আর কে চেয়েছেন। তিনি পরিষ্কার উচ্চারণে বলেছেন, “আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়।” তিনি আরও বলেছেন, “২৩ বছরের করুণ ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। ২৩ বছরের ইতিহাস মুমূর্ষু নরনারীর আর্তনাদের ইতিহাস। বাংলার ইতিহাস, এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।” বঙ্গবন্ধুর ভাষণে রবীন্দ্রনাথের কথার একই প্রতিধ্বনি শোনা যায়। রবীন্দ্রনাথ স্বদেশের মানবপীড়ন দেখে যে ক্ষোভ থেকে পরিত্রাণকর্তার আবির্ভাব চেয়েছিলেন, রবীন্দ্রনাথের ইচ্ছাপূরণ করেছেন অমৃতের সন্তান শেখ মুজিবর রহমান। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাঁর অবদান আজ বিশ্বনন্দিত। ইতিহাসের পৃষ্ঠায় তিনি আজ অমর মানুষ।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনই প্রতিফলিত হয় ভাইয়েরা আমার উচ্চারণে। নারী পুরুষ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আত্মিক যোগ ঘটে এই সম্বোধনে। এই যোগ দেশ ও সমাজের পরিপূরক। সেখানে মানুষ যেমন রাষ্ট্রের অধিকার পাবে, তেমন পাবে মনুষ্যত্বের চেতনায় মানবিক মর্যাদা। এই ভাষণ বিশ্বের সামনে তুলে ধরল বাংলাদেশের অর্জন।

বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণ শুরু করেছিলেন, ‘ভাইয়েরা আমার’ সম্বোধন করে। ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত ভাষণে বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠস্বর ধ্বনিত হবে বিশ্বজুড়ে। তিনি বিশ্ববাসীকে জড়ো করে বলছেন, ভাইয়েরা আমার। ইউনেস্কোর মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড কর্মসূচির অ্যাডভাইজরি কমিটির ১৫ জন সদস্য দুই বছরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ঐতিহাসিক দলিলসমূহ গভীর পর্যবেক্ষণের আওতায় এনে যে সিদ্ধান্ত নিল তাতে বাঙালির দরজা খুলে গেছে বিশ্ববাসীর সামনে।

২০০১ সালের ২২ থেকে ২৬ জানুয়ারি কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল শান্তির পক্ষে একটি সম্মেলন। সেই সম্মেলনের উদ্যোক্তা ছিল অ্যাসোসিয়েশন অফ এশিয়ান পার্লামেন্টস ফর পিস। এশিয়ার উনত্রিশটি দেশের সংসদ সদস্যরা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। একই সঙ্গে এই সম্মেলনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে আমিও একটি আমন্ত্রণ পাই এবং সম্মেলনে যোগদান করি। উজবেকিস্তানের প্রতিনিধি তাঁর বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, তিনি ছিলেন শান্তির পক্ষে সোচ্চার একজন ব্যক্তিত্ব। আজকের এই সম্মেলনে আমি তাঁকে স্মরণ করছি।

পরদিন কিংডম অফ টোঙ্গা থেকে আগত প্রতিনিধি একটি লিখিত প্রবন্ধ পড়েন। যেখানে তিনি বলেন, “I have dream of the Pacific Island and its people as the people of peace, as a rejection of the Peace and the Pacific as an ocean of peace if the Exclusive Economic Zone (EEZ) is acceptable globally, why not an Exclusive Zone of Peace (EZP), why not, if we agreed, to start peace within ourselves, and between yourself, and let our fellow human being not only feel, but experience the wave of peace through the new currents of the pacific, the current of peace, why not give solidarity to the Pacific way – a concept based on tolerance, and understanding, unity in diversity and respect for one and all.”

পরে তিনি বলেছেন, এটা অনেকের কাছে স্বপ্ন মনে হতে পারে। কিন্তু এটাই শুধু স্বপ্ন নয়। পৃথিবীর অনেক বড় বড় লোক এ স্বপ্ন দেখেছেন। যেমন: “Jefferson, Adam Madison, Benjamin Franklin, and many others had this dream and look at the United States of America-Martin Luthar King, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman of Bangladesh had this dream, and though it would cost their life, we live in a world of more freedom and greater peace because of their supreme sacrifice.”

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ কিংডম অফ টোঙ্গার লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির একজন সদস্য যে সর্বোচ্চ ত্যাগের কথা উল্লেখ করেন, তখন বুঝতে হবে বঙ্গবন্ধু তাঁর কর্মফল দিয়ে এমন ছোট ছোট দেশের মানুষের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন৷ নিজের জীবনকে অন্যের কাছে উদাহরণ হিসেবে তৈরি করা সহজ কথা নয়। এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন বলেই তিনি জাতির কাছে মৃত্যুঞ্জয়।

ইউনেস্কো যে ৭ মার্চের ভাষণকে মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়েছে তা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কথা স্মরণ করায়। ইউনেস্কো আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা সবসময় বলি, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের এই দুই গৌরবময় অর্জন ইউনেস্কোর স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে গেল।

এর আগে ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ Jacob F. Field একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন ‘We shall Fight on The Beaches — The Speeches That Inspired History’ শিরোনামে। গ্রন্থটি লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালে৷ এই গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ‘This Stuggle This Time is the Struggle for Independence’ শিরোনামে। ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থটি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছেছে। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় ভাষণটির অনুবাদ হলে বেশি সংখ্যক পাঠকের কাছে পৌঁছাবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে এমন প্রত্যাশা দেশবাসীর৷ রবীন্দ্রনাথের পূর্বদিগন্ত আজকের বাংলাদেশ। তাঁর কবিতার পঙক্তি দিয়ে বিশ্ববাসীকে বঙ্গবন্ধুর আগমনবার্তা দিয়েছেন এইভাবে:

ঐ মহামানব আসে,
দিকে দিকে রোমাঞ্চ লাগে
মর্ত্যধূলির ঘাসে ঘাসে।
সুরলোকে বেজে ওঠে শঙ্খ,
নরলোকে বাজে জয়ডঙ্ক
এল মহাজন্মের লগ্ন।  …..

এই ভাষণ বিশ্বজোড়া নিপীড়িত মানুষের সামনে প্রতিরোধের প্রেরণা। মানুষের অধিকার আদায়ের জয়গানে মুখরিত হবে ভাষণের পঙক্তিমালা। বিশ্বজয় এই ভাষণের দিগন্তপ্রসারী বিস্তার।


তথ্যসূত্র:

  1. এস ওয়াজেদ আলী, রচনাবলী – ১, বাংলা একাডেমি, প্রকাশকাল – ১৯৮৫
  2. বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ: ইতিহাস ও তত্ত্ব, সম্পাদক – আবদুল ওয়াহাব, মাওলা ব্রাদার্স, ৩৯/১ বাংলাবাজার, ঢাকা- ১১০০, প্রকাশকাল- ২০১৪
  3. রবীন্দ্র রচনাবলী-২৬, বিশ্বভারতী, ৬ আচার্য জগদীশ বসু রোড, কলকাতা-১৭, প্রকাশকাল- বৈশাখ ১৩৭৩
  4. কাইফি আজমীর নির্বাচিত কবিতা, অনুবাদ- জাফর আলম, মাওলা ব্রাদার্স, ৩৯ বাংলাবাজার, ঢাকা- ১১০০, প্রকাশকাল- ২০০৬
  5. অসমাপ্ত আত্মজীবনী- শেখ মুজিবর রহমান, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ৬১, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা, প্রকাশকাল-জুন ২০১২
  6. We shall Fight on The Beaches — The Speeches That Inspired History – Jacob F. Field, প্রকাশক- মাইকেল ও’মারা, ৯, লায়ন ইয়ার্ড, ট্রেমোডেক রোড, লন্ডন, এস ডাব্লিউ ৪, ৭ এন কিউ, প্রকাশকাল- ডিসেম্বর- ২০১৩
About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3604 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

1 Trackback / Pingback

  1. বঙ্গবন্ধু ১০০, মুক্তিযুদ্ধ ৫০: চতুর্থ বর্ষ, অষ্টম যাত্রা – ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

আপনার মতামত...