বাপী সমাদ্দারকে লেখা একটি চিঠি

বাপী সমাদ্দারকে লেখা একটি চিঠি -- অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

 

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের চলে যাওয়া আরও কিছুটা দরিদ্র করল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে। এই ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কতটা— নতুন প্রজন্মকে সংক্ষেপে তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার তাগিদে পুনর্মুদ্রিত হল অলোকরঞ্জনের একটি পত্র-প্রবন্ধ। উক্ত লেখাটি অলোকরঞ্জনের 'শরণার্থীর ঋতু ও শিল্পভাবনা' গদ্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত। প্রকাশকাল: জানুয়ারি ১৯৯৩। প্রকাশক: আনন্দ পাবলিশার্স।

হির্শবার্গ ২০.৩.৯১

প্রিয়বরেষু,

কবিতার প্রেক্ষিতে একটা গদ্য চেয়েছেন। এই কাজটা খুব সহজ নয়। কিন্তু এই মুহূর্তে বোধহয় ভীষণ জরুরি। বিশেষত আমাদের এই যাপিত গ্রহে প্রায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘটে যাবার পর।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হতেই নন্দনবিবেকী দার্শনিক অ্যাডোর্ণো একটি অমোঘ প্রশ্ন তুলেছিলেন: ‘আউশশুইৎসের ইহুদি-নিধন যজ্ঞ সমাধা হবার পর কি আর কখনোই লীরিক লেখা সম্ভব?’ অলঙ্কৃত এই জিজ্ঞাসার মধ্যেই প্রশ্নকর্তার মনঃপূত এই উত্তর লুকিয়েছিল যে, না, লীরিক লেখা অসম্ভব। আজ আমরা বুঝতে পারি অ্যাডোর্ণোর মতো সংবেদী মানুষও ভুল করেছিলেন। নাৎসী ও স্টালিনপন্থীদের অমার্জনীয় বর্বরতার জবাব কবিতা কেন গদ্যের মাধ্যমেও দেওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও কিছু অসাধারণ লীরিক কবিতা রচিত হয়েছে তো। শুধুমাত্র ইউরোপে নয়, আফ্রিকায়, ল্যাটিন আমেরিকায়, ভারতবর্ষে। যদি খুব সচেতনভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর কবিতার একটি সঙ্কলন তৈরি করা যায়, লক্ষ করা যেতে পারে, অন্তর্ভুক্ত কবিতাগুলির মূলতান প্রকাশ্যত কোনো যুদ্ধবিরোধী বা প্রগতিসঞ্চারী বিবৃতি নয়, বরং আবহমান কবিতার উৎস থেকে প্রবাহিত, পুণর্নব এদের প্রণোদনা, যদিও, তা সত্ত্বেও এরা অন্যতর অন্তঃশীল প্রমূল্যের গরজে স্বনিত। কবিতার বহিঃশরীরে সেই প্রমূল্য কোথাও বিজ্ঞাপিত হয়নি। এমন-কি চিরকালের এবং একালের কবিতায় আচরিত বিষয়গুলিও এখানে-ওখানে রয়ে গেছে। পালটে গেছে শুধু প্রস্বর।

এই নতুন প্রস্বরের সন্ধান, অদূরপ্রাচ্যে সংঘটিত সাম্প্রতিক সর্বনাশের পরিণামে কোনো অর্থেই অ-নান্দনিক নয়। সার্বভৌম মানুষের নিয়তির দায়ভাগ কোনো-না-কোনোভাবে কবিতায় অন্বিত হতে বাধ্য। এর মধ্যে কবির ভাষাঞ্চল বা নাগরিকতা ইত্যাদি কোনো বিবেচনা আদৌ প্রাসঙ্গিক নয়। একমাত্র প্রাসঙ্গিকতা পেতে পারে কবিতার জায়মান কাছে কবির নতজানু হয়ে বসে থাকার মুদ্রাটুকুই। এই মুদ্রা স্বকীয় শিল্পে আয়ত্ত করে নেওয়ার আগে হয়তো-বা শিল্পী কখনো-কখনো তাঁর অনুভবে তাকে একটু অতিনাটকীয় ধরনে উচ্চারণ করতে পারেন। যেমন কবিতায় দীক্ষিত জুবিন মেহতা। তিনি ইজরায়েলে স্কাড রকেট বর্ষিত হবার সময় সেখানে দুর্গত ও আহতদের দিকে ছুটে গিয়ে তাদের সঙ্গে সহমর্মিতা ব্যক্ত করে বলে উঠলেন, এখন থেকে ওখানেই তাঁর কাজের জায়গা! তাঁর এই মন্তব্যে আমেরিকার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন, কারণ নিউ ইয়র্ক ফিলহার্মনিকের এই সূত্রধার মার্কিন দেশ বর্জন করলে স্থানীয় প্রোফাইলের পক্ষে সেটা দারুণ ক্ষতিকর হবে। জুবিন মেহতা তবুও নিজের সিদ্ধান্তে অটুট। দস্তুরমতো পার্শি তথা ভারতীয় এই মানুষটি কস্মিনকালে ইহুদি নন, কিন্তু নিজেকে এখন তিনি জন্ম-ইহুদি বলে দাবি করছেন। কেউ-কেউ এখনই মনে করছেন, তাঁর সঙ্গীত পরিচালনার ধরন অন্তর্মুখী হয়ে এসেছে, আগেকার মতো উদ্দাম নাটুকেপনা নেই। এই ধারণা যদি সত্য না হয়েও থাকে, এর নিহিতার্থ প্রমাণ করছে এমন-কিছু অন্বেষা যা আমরা এই মুহূর্তের শিল্পীর কাছ থেকে প্রত্যাশা করছি৷

গানের এলাকা থেকে একটি ঈষৎ অন্য ধাঁচের আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। বাস্তিলের বিখ্যাত অপেরাসদনে মোৎসার্টের বিখ্যাত একটি গীতিনাট্য জমে উঠেছেএমন সময় মিছিলবদ্ধ মানুষ সেখানে ঢুকে পড়ে টিয়ার গ্যাস ছড়িয়ে চিৎকার করে উঠল: ‘ফরাসি সৈন্যদের গালফ থেকে সরিয়ে আনো।’ অপেরার পরিচালক পিয়ের বের্জ স্বয়ং প্রেসিডেন্ট মিতেরাঁর মনোনীত মানুষ, কিন্তু তিনিও মিছিলের মধ্যে মিশে গেলেন, বন্ধ হয়ে গেল অপেরা। ঐ মিছিলে উপস্থিত একজন তরুণ কবি সেদিন মিউনিখের একটি কফি হাউসে আমাদের বললেন, এলিটের অবসর বিনোদনের জন্য আর কতোদিন গান গাওয়া ছবি আঁকা আর কবিতা লেখা চলবে?

এই তরুণ কবির ভাই এবারকার যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সুতরাং, তাঁর ক্ষোভের প্রতি অন্তত স্বীকৃতি জানানোই আমাদের কর্তব্য। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে-বলতে ভাবছিলাম, কবিতার আজ কোনো এলিট আছে কিনা, এবং থাকলেও তার বিধিনিষেধের বালাইটা কীরকম?

আপনাকে লেখা এই চিঠির পরিসরেই এই প্রশ্নের নিরসন আমার কাঙখিত নয়। আমি শুধু তার অনুষঙ্গ এখানে উত্থাপন করলাম এবং এই সূত্রে ভবিষ্যতে আপনার সঙ্গে যেন বিস্তারিত পত্রালাপ হয় সেদিকেই আপনার এষণা আমন্ত্রণ করতে চাইলাম। আপাতত গালফের যুদ্ধকাল ও পরবর্তী পর্যায়ে আমরা যারা কবিতা নামক মহাবিশ্বের দ্বারা আচ্ছন্ন থেকেই এই মরজীবন কাটিয়ে দিতে চাই তাদের ভূমিকা নিয়েই স্বগত-যৌথ জল্পনা আমার। কোথাও কি কবিতার মহাবিশ্ব আজকের ইহজগৎটি স্পর্শ করেও নিজের কাছে সৎ হয়ে আছে? কবিতা নামক মহাবিশ্ব যদি মানুষের বোবা পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করে বসে তাহলেই কি সে তার জাত খোয়াবে? কবিতায় সমসময়ের ঘটনাস্পন্দ বেজে উঠলেই কি সে তার অভিধা থেকে বিচ্যুত হবে? কবিতায় যদি ঘটমানতার মর্মে দার্শনিক একটি বেদনা ধ্বনিত হয়ে উঠে, তাহলেই কি তাকে- বঙ্গীয় এলিটদের প্রচলিত পূর্বাচার্যরা যেরকমটা ভেবে থাকেন- তার অকালসমাধি প্রণীত হলো? বাপী, বুঝতেই পারছেন, এভাবে আপনাকে প্রশ্নের পর প্রশ্নে জর্জরিত করতে খুব ভালো লাগছে আমার।

আসলে আমার অভিসন্ধি আর সন্ধিৎসা আপনি এতক্ষণে ঠিকই ধরতে পেরেছেন৷ আপনার দু-খানি চিঠিই, যুদ্ধসময়ের সন্ধিক্ষণে আর সমাপ্তির সূচনায়, আমাদের এই অনিকেত সময় নিয়ে কিছু অস্বস্তিসুন্দর জিজ্ঞাসায় বিদ্ধ হয়ে আছে। সেই প্রেক্ষণী থেকেই আপনাকে লিখছি। এ-চিঠি যখন লিখতে বসেছি, আমার সামনে ছড়িয়ে আছে এখানকার অজস্র সাময়িকী। সত্যের সৌজন্যে কবুল করতেই হবে, যাবতীয় সাহিত্যপত্র তছনছ করেও মনের মতো কোনো সঙ্কেতসূত্র পাচ্ছি না যাকে আমি অনায়াসে কোনো আসন্ন, অনিবারণীয় নন্দনতত্ত্বের শামিল করে তুলতে পারি। কী হচ্ছে এখানে, কবিতায়? যুদ্ধের বিরুদ্ধে অনবরত আর্তনাদ করে চলেছেন কবিদের আচার্যবৃন্দ: হাল্টার, য়েনস, গ্যুন্টার গ্রাস, মার্টিন হালসার, হানস মাগনুস এনৎসেনসবার্গার। শেষোক্ত মানুষটি নানাভাবেই এযাবৎ তথাকথিত ‘তৃতীয়’ বিশ্বের সঙ্গে নিজেকে নিবিড়ভাবে যুক্ত রেখেছেন৷ মজাটা হচ্ছে এই যে, গালফ তাঁর কলমদানিটিকে শূন্য করে রেখে গেছে। তিনি আর লিখতে পারছেন না। আমি তক্ষুণি বললাম, এটা মজার ব্যাপার। প্রকৃতপক্ষে, আমি বলতে চাইছি, এর চেয়ে মর্মান্তিক এবং স্বাভাবিক আর কী হতে পারে? শুধু একজন সংবেদনশীল মানুষের পক্ষেই সম্ভব, মানুষের সামূহিক সঙ্কটের মুখে লিখতে না পারা। মনে পড়ে, অমিয় চক্রবর্তীর মতো অতীন্দ্রিয় মানুষও একদা, পর পর দুটি যুদ্ধের ফলে বিপর্যস্ত ‘তৃতীয়’ পৃথিবীতে কেন আর কবিতা লেখা হবে এই মর্মে সংশয় জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন৷ তাঁকে আমি, তাঁর অপ্রতিরোধ্য ভক্ত হওয়া সত্ত্বেও, সশ্রদ্ধ প্রতিবাদের সুরে জানিয়েছিলাম, এখনই তো যথার্থ কবিতা রচিত হবার সময়। তাঁকে অর্বাচীন ভৎসনার ভঙ্গিতে আমি বলেছিলাম, মানুষকে এখন রক্তাপ্লুত গ্লোবের নীলাভ রশ্মিতেই নিজের অস্তিত্বের স্বরলিপি খুঁজে নিতে হবে এবং সেই স্বরলিপির নাম কবিতা।

আবারও এনৎসেনসবার্গারের প্রসঙ্গে ফিরে আসি। সমগ্র মানববিশ্বের প্রতিভূ এই কবি এখন আর কবিতা লিখতে পারছেন না। তাঁর এখুনি-কবিতা-লিখতে-না পারার ক্ষমতাকে আমি শ্রদ্ধা করি। কবি কি কবিতা লিখতে পারছেন না, নাকি, তাঁর মনে হচ্ছে ঠিক আগেকার মতো যখন-তখন যেভাবে-সেভাবে কবিতা লেখা বিবেকশোভন নয়? এই কবিটিকে মনেপ্রাণে যিনি, শিল্পের শুদ্ধির সৌজন্যে, বর্জন করে চলেছিলেন, সেই বুদ্ধদেব বসু একদিন তুলনামূলক সাহিত্যের সায়াহ্নিক ক্লাস নিয়ে ঘরে ফেরার সময় উত্তর দেবার ভঙ্গিতে আমাকে জিগগ্যেস করেছিলেন, “বলতে পারো, কেন সব মিলিয়ে খুব অধিকসংখ্যক কবিতা লেখা হচ্ছে না? কারণটা হচ্ছে এই যে কবিরা তাঁদের মনে-মনে সব সময়ই লিখে চলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেসব লেখা কাগজে-কলমে উপস্থাপিত করা হয়ে ওঠে না!”

আমি এই সুযোগে এটুকুই বলতে চাই, বুদ্ধদেবের ঐ আত্মসেন্সর আমার কাছে খুবই সুসংগত ঠেকেছিল। যদি এক কথায় প্রাচীন ও সমকালীন কবিতার মধ্যে বিভাজনরেখা টানতে হয়, বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করেই আমি আজ বলব,আমাদের পরমশ্রদ্ধেয় পূর্বসূরিরা ঈশ্বরের কাছ থেকে অনায়াসে এবং অকাতরে লিখে-যাওয়ার অনুমোদন পেয়েছিলেন: আমরা, তার বদলে, প্রতি মুহূর্তে নিজেদের সংশয়ে-সংশয়ে পর্যূষিত করে চলেছিল এবং তার ফলে, ব্যহত এই স্বতঃস্ফূর্তির মধ্য থেকেই, হয়তো আচমকা নশ্বরতার কোনো সৌন্দর্য বিচ্ছুরিত হয়ে উঠতে পারে।

কথায়-,কথায় আমি ‘যুদ্ধ’ নামক অনপনেয় অধ্যায় থেকে যেন সরে আসছি। অপরাধ নেবেন না কে আজ আর এই দুই-সিলেবলের অশ্লীলতম শব্দটাকে আর শুনতে চায়? সেই কারণেই বুঝি আমি বলয় থেকে বলয়ান্তরে পারিপার্শ্বিক পরম্পরায় ভেসে যাচ্ছিলাম। এবার প্রত্যক্ষ প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আমরা যার যুযুধান শক্তিগুলিকে নিরস্ত করতে পারিনি, শিল্পচর্যাকে নিরপেক্ষ অনুশীলনে পরিণত হতে দিয়েছি, তাদের জন্য বরাদ্দআজ এক অপরিহার্য অপরাধবোধ। আজকের কবিতা স্ব্যয়ংসম্পূর্ণ থেকেও যদি বিশ্বনিয়তির পরিমণ্ডলের জন্য কোনো উদ্বৃত্ত উপলব্ধি পোষণ করতে না পারে, তাহলে আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের কাছে আমরা কোনোক্রমেই মার্জনা দাবি করতে পারব না।

আমার টেবিলে পরিকীর্ণ একরাশ জার্মান কবিতাপত্রে আমি এমন-কিছু মনোরম কবিতার সন্ধান পেয়েছি যেগুলি যুদ্ধের আগে বাংলায় তর্জমা করলেও করতে পারতাম, কিন্তু একাধিকবার এই সমস্ত কবিতা পড়তে গিয়ে আমার মনে হচ্ছে না, এদের মধ্যে শাশ্বত ঐশিতা ও সাম্প্রত নশ্বরতার অনির্দেশ্য সমবায়ে আচম্বিতে যোজিত হয়ে গিয়েছে এমন-কোনো অনন্য অভিমান যাকে আমি ভবিষ্য-কবিতার সূচিপত্রে অথবা আমার আরব্ধ অনুবাদপ্রকল্পে জায়গা করে দিতে পারি।

কী ঘটছে তাহলে? নারী ও পুরুষেরা একটানা কবিতা লিখে চলেছেন৷ সে সব কবিতার কোনো-কোনো পঙক্তি স্মৃতিধার্যতার শর্তে অনবদ্যও বটে৷ কিন্তু, আমি অন্তত, কোথাও কোনো চরাচরব্যাপী তাৎপর্য দেখতে পাচ্ছি না৷ প্রত্যেকেই রুটিন মাফিক লিখে চলেছেন, ঈঙ্গমার্কিনি ঘরানায় যাকে সচরাচর business as usual বলে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে৷ সেখানেই আমার নিবিড় অনুযোগ। ইরাক চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবার মুহূর্তেও এখানকার তরুণতরুনীরা (এঁদের মধ্যে যদিচ অনেকেই যুদ্ধবিরোধী শান্তি আন্দোলনের সংগ্রামী শরিক) কবিতা লিখছেন। সেটা হয়তো সৃষ্টিশীলতার নিদর্শন৷ কিন্তু আমার প্রশ্ন, রাতারাতি কোথা থেকে এসব কবিতায় উঠে এল এত পাখি ও ফুলের নাম! ঐ সব পাখি ও ফুলের নামের ধ্বনিময় কাব্যিকতা নিয়ে আমি এতটুকু সংশয় উত্থাপন করছি না। আমার শাদামাঠা বক্তব্য হুবহু এই সংক্রান্তিসময়ে পাখি ও ফুল নিয়ে এতটা বাড়াবাড়ি মেনে নেওয়া যায় না। মেনে নেওয়া যায় না আত্মলীন হৃদয়ের কন্দরে নিজের মসৃণ মমতাগুলিকে এতখানি প্রশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারটা। আমার সসম্ভ্রম উৎকণ্ঠা, যুদ্ধোত্তর বাংলা কবিতার দশাও কি অনেকটা একইরকম নয়? সিদ্ধহস্ত আজ যে-কোনো পদকর্তা, কথায়-কথায় বুনে তুলতে পারেন চন্দ্রকলা, কিন্তু সংক্রান্তিকালের শিল্পে তো চিরাচরিত মোটিফগুলি ভাঙিয়ে-খাওয়া আমাদের প্রত্যাশিত হতে পারে না।

কবিতায় এখনো ফুল থাক, পাখিও থাকুক, থেকে যাক আরো-অপরাপর পূর্বসংস্কার৷ কিন্তু সেই সঙ্গে তার মধ্যে যদি সদ্য-ঘটে যাওয়া প্রলয়ের পরিমণ্ডলে উচ্চার্য শোচনা যদি বিবেচিত না হয়, তাকে আমরা কোন অর্থে এই সময়সন্ধির কবিতা হিসেবে দীক্ষিত করব?

আপনারা আমার গভীর ভালবাসা জানবেন৷

অলোকদা


বানান অপরিবর্তিত

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4007 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...