এ মহাজীবন… — ফাদার স্ট্যানিস্লাউস লৌরডুস্বামী স্মরণে

প্রবীর মুখোপাধ্যায়

 




প্রাবন্ধিক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক

 

 

 

 

……জীবন উৎসর্গ করি’
সবহারা জনতার তরে
মরণ যদি হয়
তাহার ভারে হার মানে ভাই পাহাড় হিমালয়……

হিমালয়ের থেকে ভারী তেমনই এক মৃত্যুর ভারে ভারাক্রান্ত আমরা সবাই আজকে। চুরাশি বছর বয়সে বিচারাধীন বন্দি হিসাবে মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালে ৫ জুলাই ২০২১ তারিখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ফাদার স্ট্যানিস্লাউস লৌরডুস্বামী— সবাই যাকে ফাদার স্ট্যান স্বামী নামেই জানে।

তামিলনাডুর তিরুচিরপল্লির একটি গ্রামে ২৬ এপ্রিল ১৯৩৭ তারিখে স্ট্যান স্বামীর জন্ম। ঐ জেলার বিখ্যাত সেন্ট জোসেফ’স স্কুলে পড়ার সময়েই জেস্যুইট প্রচারকদের সংস্পর্শে এসে তাদের কাজকর্মে ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়ে স্থির করেন তিনিও ঐ জেস্যুইট ধর্ম-সম্প্রদায়ে যোগদান করবেন। ৩০ মে ১৯৫৭ তারিখ থেকে তাঁর ধর্মীয় পড়াশোনার সূত্রপাত— তবে সবটাই নিয়োজিত ছিল প্রান্তিক আর দরিদ্র জনগণের উন্নতিকল্পে।

জেস্যুইট শিক্ষার্থীদের জীবনে ‘রিজেন্সি’ বলে একটা পর্যায় আছে। এই সময়ে রীতি অনুসারে শিক্ষার্থীকে সম্প্রদায়ের একটি বা দুটি কাজকে বেছে নিয়ে দু বছর ধরে সেই কাজ করে যেতে হয়। স্বামী বেছে নিলেন অবিভক্ত বিহারের (এখনকার ঝাড়খণ্ডের) পশ্চিম সিংভূমের চাইবাসা অঞ্চলের লুপুংগুটু-র সেন্ট জেভিয়ার হাইস্কুলকে। স্কুলের শিক্ষক আর ছাত্রাবাসের প্রিফেক্ট হিসেবে যে অভিজ্ঞতা তিনি লাভ করেন সেটা তাঁর সারা জীবনকে প্রভাবিত করেছে। চাইবাসায় হাট বসত প্রতি মঙ্গলবার— মঙ্গল-হাট [?মঙ্গলা হাট]। ছাত্রদের সঙ্গে ঐ হাটে স্বামী নিয়মিত যেতেন। দেখতেন বাইরের ব্যবসায়ী আর তাদের দালালেরা কীভাবে সরল আদিবাসীদের ঠকায়। স্বামীর নিজের ভাষায় “ব্যথা অনুভব করলেও ঐ বিষয়ে আমি তখন কিছুই করতে পারতাম না।” ছুটির দিনগুলিতে স্বামী ছাত্রদের গ্রামে তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। আদিবাসী গ্রামের অভ্যন্তর থেকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে স্বামী ক্রমশ অনুভব করতে পারেন নিজেদের মূল্যবোধের প্রতি আদিবাসীদের গভীর একাত্মতা।

স্বামীর জীবনে আরেকটি নির্ণায়ক সময় এল ‘রিজেন্সি’ পর্যায় শেষ হওয়ার পরে। ১৯৬৭ সালে ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়ার জন্য স্বামী ফিলিপিন্সের ম্যানিলা-তে গেলেন। ঐ একই সময়ে তিনি সোশিওলজি-তে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। মূলবাসী মানুষদের জীবনযাত্রা অধ্যয়ন করার মধ্যে দিয়ে স্বামীর কাছে পরিষ্কার হয়ে উঠতে থাকে কীভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে মূলবাসী মানুষদের শোষণ করা হয় আর এই সব মানুষেরা কীভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলে।

১৯৭১ সালে জেস্যুইট জামশেদপুর প্রভিন্সে নিজের জায়গায় ফিরে এলেন স্বামী। তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হল ঐ এলাকার ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসেসের ত্রাণ কাজের ডিরেক্টরের। ১৯৭১ থেকে ১৯৭২-এর কয়েক মাস— প্রায় দু বছর ধরে ত্রাণ সরবরাহের জন্য গুদাম নির্মাণ, ত্রাণের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা, একটা অফিস স্থাপন করা যাতে ত্রাণ কাজ সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে এসব কাজে স্বামী ব্যস্ত রইলেন। অফিসের কাজ কীভাবে করতে হবে, ত্রাণ সামগ্রীর বিতরণ কীভাবে হবে এসব কাজ নিজের দুই প্রাক্তন ছাত্রকে শেখালেন। কিন্তু, আবারও তাঁর নিজের ভাষায়, “এসব ঠিক আমার অভিপ্রেত কাজ নয়।” এই কাজের ফাঁকে ব্যাঙ্গালোরের ইন্ডিয়ান সোশ্যাল ইন্সটিটিউট-এ গিয়ে সামাজিক বিকাশের ওপর তিন মাসের এক কোর্স করে এলেন স্ট্যান স্বামী। এই ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টর হেনরি ভোলকেন-এর সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রপাত এখান থেকে।

স্বামীর জীবনের পরবর্তী মোড়— জামশেদপুর জেস্যুইট প্রভিন্সের প্রধান বিল টোম-কে স্বামী জানালেন যে তিনি শহর থেকে দূরে ‘হো’ জনজাতির এক গ্রামে বাস করতে চান, তাদের ভাষা শিখতে চান আর তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে তাদের পৃথিবীকে জানতে চান। বিল টোমের আশীর্বাদ নিয়ে স্বামী চলে এলেন বডাইবির গ্রামে। ঐ গ্রামের এক পরিবার আনন্দের সঙ্গে তাদের বাড়ির একটা ঘর স্বামীকে ছেড়ে দিল থাকার জন্যে। গ্রামে থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসকারী প্রায় সব যুবকের সঙ্গে স্বামী আলাপ করে ফেললেন। নিজেদের জীবনকে সব দিক থেকে কীভাবে খুঁটিয়ে দেখা উচিত সেই বিষয়ে স্বামী ওদের সাহায্য করতে লাগলেন। কিছুদিনের মধ্যেই স্বামীর প্রাক্তন ছাত্রদের কয়েকজন আর অল ইন্ডিয়া ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি ফেডারেশনে যুক্ত ছিলেন এমন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে স্বামীর সঙ্গে যোগ দিলেন। গ্রামের সমাজ এদের সকলের থাকার জন্য ছোট একটু জমির ব্যবস্থা করল। গ্রামের সব লোকেরা হাত লাগিয়ে একটা বাস করার ঘর আর রান্নাঘর মিলিয়ে একটা ছোট মাটির বাড়ি বানিয়ে ফেলল। ব্যাঙ্গালোরে ইন্ডিয়ান সোশ্যাল ইন্সটিটিউট স্বামীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল এমন দুজন সন্ন্যাসিনী (নান) এদের সঙ্গে যোগ দিলেন। যার আশ্রয় দরকার তাদের সকলের জন্যেই এই বাড়ির দরজা খোলা থাকত।

এদিকে ব্যাঙ্গালোরে ভোলকেন ভাবছিলেন যে ইন্ডিয়ান সোশ্যাল ইন্সটিটিউটের কর্তৃত্বে এমন একজন ভারতীয় জেস্যুইটের থাকা প্রয়োজন যিনি নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। তিনি স্বামীর নাম প্রস্তাব করলেন। স্বামী কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য সমাজ বিশ্লেষণ বিষয়ে তাঁর আরও প্রথাগত পড়াশোনা করা দরকার এমনটাই মনে করতেন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৫এর জুন মাস অবধি একবছরের জন্য এক স্কলারশিপ তিনি পেয়েও গেলেন বেলজিয়ামের ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অফ লৌভেইন-এ। এখানে পাঠ সাঙ্গ করে স্বভাবতই ডক্টরেট ডিগ্রির দিকে যাওয়ার কথা। কিন্তু স্বামী অন্য ধাতের মানুষ। ওঁর মনে হল দেশে ফিরে আসা দরকার, নতুন দায়িত্ব নিয়ে সমাজের নিপীড়িত ও শোষিত অংশ থেকে আসা যুবকদের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বোঝাতে হবে সমাজ ও সমাজের গতিশীলতা। কারণ এর থেকেই বেরিয়ে আসবে পরিবর্তন ঘটানোর কার্যকরী কর্মকৌশল।

১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ অবধি স্বামীর জীবনের দীর্ঘ এক সাধনা শুরু হল ব্যাঙ্গালোরের ইন্ডিয়ান সোশ্যাল ইন্সটিটিউটে ডঃ দুয়ার্তে ব্যারেটো আর অন্যান্য সহকর্মীদের নিয়ে। নিয়মবদ্ধ ট্রেনিং সেশনের মধ্য দিয়ে সমাজের প্রান্তীয় অংশ থেকে আসা কয়েকশো যুবক-যুবতীর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা। আর এর পরে তারা নিজেদের কর্মক্ষেত্রে কী করছে তার খোঁজ-খবর রাখা। অল্পদিনের মধ্যেই শুধু দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নয়, প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ আর নেপাল থেকেও ছাত্র-ছাত্রীরা আসতে শুরু করল সমাজ বিশ্লেষণ এবং সামাজিক সংগঠন বিষয়ক এই তিন মাসের ইন্টেন্সিভ কোর্স করার জন্য। সমাজ বিশ্লেষণ বিষয়ে অনেকগুলি পুস্তিকাও প্রকাশিত হল এখান থেকে।

বোঝাই যায় যে ক্যাথলিক কর্মকর্তাদের অনেকেই ইন্সটিটিউটের এই ‘মার্ক্সবাদী ঝোঁক’ দেখে অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করলেন। কিন্তু জেস্যুইট ওপরওয়ালারা স্বামীর দলের পাশে দাঁড়ালেন। সাধারণ মানুষকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সমাজকে বিশ্লেষণ করতে উৎসাহিত করা আর, বিশেষ করে, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বাস্তব যে প্রচেষ্টা স্বামী আর তার সহকর্মীরা করছেন সেটা দক্ষিণ এশিয়া, এমন কি তার বাইরেও প্রশংসা লাভ করেছে।

১৯৯১ সালে স্বামী স্থির করলেন যে ইন্সটিটিউটে যথেষ্ট সময় দিয়ে কাজ করেছেন, এবার ফিরে যেতে হবে তাঁর ‘প্রথম প্রেম’ ঐ ঝাড়খণ্ডের আদিবাসীদের মাঝে। ব্যাঙ্গালোর থেকে ফিরে এসে কিছুদিন থাকলেন লুপুঙ্গুটু-র সেন্ট জেভিয়ার হাইস্কুলের জেস্যুইটদের সঙ্গে। এই সময়ে নতুন করে শুরু করলেন জোহোর (JOHAR)— ঝাড়খণ্ডী অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস (Jharkhondi Organisation of Human Rights)।

১৯৯০-এর শেষদিক থেকে দেশে শুরু হয়েছে নয়া উদারীকরণ অর্থব্যবস্থা (Neo-Liberal Economy)— উদারীকরণ (Liberalisation), বেসরকারিকরণ (Privatisation) এবং বিশ্বায়ন (Globalisation)। উন্নয়নের দোহাই দিয়ে উচ্ছেদ আর বিস্থাপনের প্রক্রিয়ার প্রথম আঘাত এসে পড়ল আদিবাসী মূলবাসী সমাজে। পালামৌ আর গুমলাতে নেতারহাট ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জ প্রজেক্ট আর পশ্চিম সিংভূমের রাঁচিতে কোয়েল-কারো ড্যামের জন্য স্থানীয় অধিবাসীদের ব্যাপক অংশ উচ্ছেদের মুখোমুখী। প্রতিরোধে এক বিরাট গণ-আন্দোলন গড়ে উঠল। প্রান্তিক মানুষদের অধিকার আর আত্মমর্যাদা রক্ষার সংগ্রামের পাশে দাঁড়ালেন অনেক জেস্যুইট নেতা, আন্দোলনের কেন্দ্রে দায়িত্ব নিলেন স্ট্যান স্বামী।

২০০১ সালের জুন মাসে স্বামী চাইবাসা থেকে রাঁচিতে চলে এলেন, থাকতে শুরু করলেন পুরুলিয়া রোডের ঘরানা অ্যাপার্টমেন্টে। উচ্ছেদ-বিস্থাপনের বিরুদ্ধে সংগ্রামগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা শুরু করলেন স্বামী। এর মধ্যে খুঁজতে লাগলেন এক টুকরো জমি যেখানে তিনি তাঁর প্রস্তাবিত সোশ্যাল অ্যাকশন সেন্টার স্থাপন করতে পারবেন। রাঁচির জেস্যুইট প্রভিন্স রাজি হল নামকুমের এগ্রিকালচার ট্রেনিং সেন্টারের ক্যাম্পাসে এক একর জমি দান করতে। সেখানে গড়ে উঠবে ‘বাগিচা’ নাম নিয়ে ঐ সেন্টার। বাড়িটি কেমন হবে সেটা স্থির করার জন্য স্বামী খোঁজ করতে লাগলেন আদিবাসী আর্কিটেক্টের। বাড়ি তৈরির অর্থ দেওয়ার দায়িত্ব নিলেন সেন্ট্রাল জোনের জেস্যুইটেরা। ২০০৪ সালে কাজ শুরু হয়ে শেষ হল ২০০৬ সালে। তখন থেকেই স্বামীর কাজকর্ম সব বাগিচা থেকেই পরিচালিত হয়ে এসেছে।

২০১০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ঝাড়খণ্ডের খুন্তি জেলার মুন্ডা আদিবাসীরা শুরু করে পাথালগড়ি আন্দোলন। বড় বড় পাথরের চাঁইতে সংবিধানের পঞ্চম শিডিউল খোদাই করে সেগুলি বিভিন্ন জায়গায় দৃষ্টিগ্রাহ্য অবস্থায় পুঁতে রাখা শুরু হল। আদিবাসী-মূলবাসীদের সংবিধান-স্বীকৃত অধিকার অস্বীকার করে উদারবাদী অর্থনীতির প্রভাবে সরকার কর্পোরেট সেক্টরের হাতে বনজ ও খনিজ সম্পদ লুণ্ঠনের অবাধ ছাড়পত্র দেওয়ার প্রতিবাদে এই অভুতপূর্ব আন্দোলনে সামিল হয় আদিবাসী-মূলবাসী সমাজ। পূর্বপুরুষদের সম্মান জানানোর জন্য পাথরে তাঁদের নাম খোদাই করে তাঁদের এলাকায় পুঁতে রাখার রীতি আদিবাসী সমাজে প্রচলিত আছে। সেই রীতি অবলম্বন করে প্রতিবাদের নতুন ভাষা তৈরি করলেন আদিবাসীরা।

স্বভাবতই ঝাড়খণ্ডের তখনকার বিজেপি-পরিচালিত সরকার এই পাথালগড়ি আন্দোলনকে বিকাশ-বিরোধী আর দেশ-বিরোধী আন্দোলন বলে চিহ্নিত করে পুলিশ আর আধা-সামরিক বাহিনিকে দমনের কাজে নামিয়ে দিল। স্ট্যান স্বামী সহ ২০ জন সক্রিয় কর্মীর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা শুরু করা হল। এদের অপরাধ এরা ফেসবুকে লিখেছে যে পুলিশ দিয়ে দমন না করে পাথালগড়ি আন্দোলনে যুক্ত আদিবাসীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে এই সমস্যার।

বিজ্ঞানসম্মত পথে সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক কাঠামো এবং সমাজব্যবস্থাকে নিজের অভিজ্ঞতালবদ্ধ আর তাত্ত্বিক জ্ঞান দিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে স্ট্যান স্বামী শাসকশ্রেণি আর শ্রমজীবী শ্রেণির পার্থক্য সামনে এনেছেন। কীভাবে একেবারে নিচের স্তর থেকে পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে সে বিষয়ে ঝাড়খণ্ডীদের মধ্যে তাঁর কাজের মাধ্যমে বহু বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক সংগঠনকে তিনি প্রভাবিত করেছেন। তাঁর দৃষ্টি সব সময়েই নিবদ্ধ থেকেছে আদিবাসী-মূলবাসী সমাজকে প্রভাবিত করে যে সব সমস্যা সেগুলির প্রতি। নিজেদের জমি, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সামাজিক অধিকার কীভাবে রক্ষা করতে হবে, আত্মমর্যাদা আর আত্মনির্ভরতা কীভাবে গড়ে তুলতে হবে সেই সব বাস্তব সমস্যার সমাধানে তিনি সবসময়ে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। যে সব নীতি-আইন আদিবাসী-মূলবাসীদের আদর্শ, ঐতিহ্য আর সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করেছে তার বিরুদ্ধে তিনি সবসময়েই সোচ্চার ছিলেন। উচ্ছেদ আর বিস্থাপনের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন সংগ্রামের ফলে অনেক কর্পোরেট সংস্থা আর সরকারের পক্ষে বনজ আর খনিজ সম্পদ নিজেদের আয়ত্তে আনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের কাছে তাই একটাই রাস্তা— এই কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়া। সেটাই করা হল। প্রশ্ন আমাদের নিজেদের কাছে— আমাদের নিস্তব্ধতা কবে শেষ হবে?


*প্রবন্ধ রচনায় ব্যবহৃত অধিকাংশ তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে টোনি পিএম ও পিটার মার্টিনের লেখা Scroll.in পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ থেকে।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3384 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...