বাংলা শব্দের বানান সংস্কার ও রবীন্দ্রনাথ

সুশান্ত ঘোষ

 



প্রাবন্ধিক, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক

 

 

 

বাংলার অধিকাংশ শব্দের বানান ধ্বনিসঙ্গত নয়। আমরা বলি এক আর লিখি আর এক। বাংলা শব্দতত্ত্ব ও বাংলাভাষা পরিচয় গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ বাংলা শব্দের বানান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন:

পূর্বে আমার বিশ্বাস ছিল বাংলা-অক্ষর উচ্চারণে কোনও গোলোযোগ নাই।…. এ বিশ্বাস সম্পূর্ণ সমূলক নয়।…. হরি শব্দে আমরা হ যেরূপ উচ্চারণ করি হর শব্দে হ সেরূপ উচ্চারণ করি না। দেখা শব্দের এ-কার একরূপ এবং দেখি শব্দের এ-কার আর এক রূপ।[1]

রবীন্দ্রনাথের অনুরোধে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চলিত বাংলা বানানের নিয়ম নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করে, তারা ১৯৩৬ সালের মে মাসে “বাংলা বানানের নিয়ম” প্রকাশ করে। ৮ মে, ১৯৩৬ প্রথম সংস্করণ, ২ অক্টোবর ১৯৩৬, দ্বিতীয় সংস্করণ, ও ২০ মে ১৯৩৭, তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এরপর বানান সংস্কারের জন্য পূর্ব ও পশ্চিমবঙ্গে আরও কয়েকটি কমিটি গঠিত হয় যারা নিয়ম প্রকাশ করে।

এইসব বানানবিধি সত্ত্বেও বাংলা শব্দের বানান, উচ্চারণ-অনুসারী হয়নি। দেশজ, বিদেশি এবং তদ্ভব শব্দের বানান থেকে ঈ-কার (ী) এবং ঊ-কার (ূ) বাদ গেলেও তৎসম শব্দের বানান অপরিবর্তিত থেকে গেছে।

বানান ও উচ্চারণের অসঙ্গতি নিয়ে রবীন্দ্রনাথ গভীরভাবে চিন্তা করেছিলেন। রাজশেখর বসুকে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১-এ লেখা পত্রে রবীন্দ্রনাথ লেখেন:

ভেবে দেখলে বাংলাভাষায় সংস্কৃত শব্দ একেবারেই নেই। যাকে তৎসম শব্দ বলি উচ্চারণের বিকারে তাও অপভ্রংশ পদবীতে পড়ে। সংস্কৃত নিয়মে লিখি সত্য কিন্তু বলি শোত্তো। মন শব্দে যে কেবল বিসর্গ বিসর্জন করেছে তা নয় তার ধ্বনিরূপ বদলে হয়েছে মোন। এই যুক্তি অনুসারে বাংলা বানানকে আগাগোড়া ধ্বনি- অনুসারী করব এমন সাহস আমার নেই— যদি বাংলায় কেমাল পাশার পদ পেতুম তা হলে হয়তো এই কীর্তি করতুম— এবং সেই পুণ্যে ভাবীকালের অগণ্য শিশুদের কৃতজ্ঞতাভাজন হতুম।[2]

মনোজকুমার দ. গিরিশ “বাংলা বানান এক হউক এক হউক এক হউক” প্রবন্ধে লিখেছেন:

বাংলায় বানান ভুলের যে শঙ্কা নিয়ত আমাদের তাড়া করে তা একটু সাংখ্যমান ধরে দেখা যাক। ই/ঈ, ি/ী-জনিত বানান ভুলের আশঙ্কা ৮.০৪৩৯%, তেমনি উ/ঊ, ু/ূ ভুল— ২.২৯৯৯%, ণ/ন ভুল— ৫.৩৭৫৩%, জ/য/য্ ভুল— ২.১৮৮৬%, শ/ষ/স ভুল— ৩.৯৭৬৩%।[3]

এইসব সমস্যা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

 

অ, ও

স্বরবর্ণ অ এবং অ ধ্বনি যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণ কখনও অ-এর মতো আবার কখনও ও-এর মতো হয়। যেমন অজ, অধরা, অসীম, অনন্ত, কর, কণা, খবর, গজ শব্দে অ এবং অ-কার যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণ অ-এর মতো। অপরদিকে অণু, অগ্নি, অগ্রিম, কপি, খনি, মণি, ভক্তি শব্দে অ এবং অ ধ্বনি যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণ ও-এর মতো।

এ বিষয়ে আমার প্রস্তাব, ও ধ্বনি যুক্ত অ কিংবা অকারান্ত ব্যঞ্জনবর্ণ যদি শব্দের প্রথমে থাকে তবে বর্ণটিকে নিম্নরেখ (underline) করা হোক। যেমন: দি, দী,  রলে, ভ্রমণ, ঙ্গল, গ্রিম।

অপরদিকে অকারান্ত ব্যঞ্জনবর্ণটি শব্দের শেষে থাকলে তাতে ো-কার (ও-কার) দেওয়া হোক। যেমন: বঞ্চিতো, কর্মরতো, বললো, দেখলো, করেছো, খাবো।

 

ই/ঈ, ি/ী এবং উ/ঊ, ু/ূ

বাংলা লেখায় সাংখ্যমান ধরে ই-কার/ঈ-কার-জনিত এবং উ-কার/ঊ-কার-জনিত ভুলের আশঙ্কা খুব বেশি, এই কারণে ই/ঈ এবং উ/ঊ সংক্রান্ত বিধি সংস্কার সর্বাগ্রে প্রয়োজন।

বাংলা অক্ষর-উচ্চারণে গোলোযোগ বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:

….সকলের চেয়ে কষ্ট দেয় দীর্ঘহ্রস্ব স্বর।[4]

বাংলাভাষা পরিচয় গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:

সাধারণত বাংলায় স্বরের দীর্ঘ উচ্চারণ নেই…।[5]

.

আজকাল গাড়ি, বাড়ি, শাড়ি লেখা হয়, আগে লেখা হত গাড়ী, বাড়ী, শাড়ী। এখন যদি লেখা হয়— জীবীকা, দীদী, নীতী, নীবীড়, বীবী, রীতী ইত্যাদি, তবে তা এক কথায় বর্জিত হবে।[6]

উ/ঊ, ুকার/ূকার সম্বন্ধেও একই কথা বলা যায়। এই দুটো স্বরও বাংলা লেখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, কারণ উ-কার ও ঊ-কারের পৃথক উচ্চারণ বাংলা ভাষায় নেই। সুর (সঙ্গীতের সুর) এবং সূর (বীর) আমরা একই প্রকার উচ্চারণ করি। মুমূর্ষু বানানের উ-কার ও ঊ-কারের অবস্থান নিয়ে জটায়ুও বিভ্রান্ত হয়েছিলেন!!

সুতরাং, চলিত বাংলা ভাষার বানানবিধি সংশোধন করে ঈ, ঈ-কার এবং ঊ ও ঊ-কার সম্পূর্ণ বিদায় দেওয়া হোক। অর্থাৎ ঈ-কার যুক্ত শব্দগুলো, ই-কার দিয়ে এবং ঊ-কার যুক্ত শব্দগুলো উ-কার দিয়ে লেখা হোক।

 

এ এবং অ্যা

রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:

বাংলায় এ স্বরবর্ণ আদ্যক্ষরস্বরূপ ব্যবহৃত হইলে তাহার দুই প্রকার উচ্চারণ দেখা যায়। একটি বিশুদ্ধ এ, আর একটি অ্যা। এক এবং একুশ শব্দে তাহার প্রমাণ পাওয়া যায়।[7]

কেনা, চেনা, শেষ, বেশ ইত্যাদি শব্দে একার (ে)-এর উচ্চারণ খাঁটি এ-র মতো। অপরদিকে খেলা, মেলা, বেলা, দেখা, কেন, এক, একলা ইত্যাদি শব্দে এ/একার (ে)-এর উচ্চারণ অ্যা-র মতো। অ্যা উচ্চারণ যুক্ত একটি বর্ণের প্রয়োজনীয়তা অনেকেই বুঝতে পেরেছেন। রবীন্দ্রনাথও কিছুদিন অ্যা উচ্চারণের জন্য মাত্রাযুক্ত ে-কার এবং খাঁটি এ উচ্চারণের জন্য মাত্রাবিহীন ে-কার ব্যবহার করেছিলেন। মনোজকুমার দ. গিরিশ লিখেছেন:

অনেক বিজ্ঞ পণ্ডিতব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাংলায় এর জন্য মোট আট (৮)-টি হরফ এবং নয় (৯)-টি স্বর চিহ্নের প্রস্তাব দেখা গেছে—[8]

এই আলোচনার প্রেক্ষিতে আমার প্রস্তাব অ্যা উচ্চারণের জন্য হরফ ও চিহ্ন হিসেবে যথাক্রমে নিচের হরফ এবং চিহ্নটি নেওয়া হোক।

 

ব এবং ৱ (ওয়া)

বিদ্যাসাগর প্রস্তাবিত বাংলা বর্ণমালায় দুটো “ব” আছে। এর পথমটা বর্গীয় ব এবং দ্বিতীয়টা অন্তঃস্থ ব। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:

সংস্কৃতে অন্তঃস্থ, বর্গীয় দুটো ব আছে। বাংলায় যাকে আমরা বলে থাকি তৎসম শব্দ, তাতেও একমাত্র বর্গীয় ব-এর ব্যবহার হয়। হাওয়া, খাওয়া প্রভৃতি ওয়া-ওয়ালা শব্দে অন্তঃস্থ ব-এর আভাস পাওয়া যায়। আসামি (অসমিয়া) ভাষায় এই ওয়া অন্তঃস্থ ব দিয়েই লেখে, যেমন: ‘হওয়ার পরিবর্তে’ ‘হৱা’। হ এবং অন্তঃস্থ ব-এর সংযুক্ত বর্ণেও রসনা অন্তঃস্থ ব-কে স্পর্শ করে, যেমন আহ্বান, জিহ্বা।[9]

যেহেতু অন্তঃস্থ ব (ৱ) বর্ণটির উচ্চারণ বাংলায় আছে তাই ৱ বর্ণটি বাংলা বর্ণমালায় যুক্ত করা প্রয়োজন। এর দ্বারা অনেক শব্দের বানান সহজ, সংক্ষিপ্ত ও যথাযথ হবে। যেমন: চাৱা (চাওয়া), পাৱা (পাওয়া), দেৱা (দেওয়া), নেৱা (নেওয়া), হাৱা (হাওয়া) ইত্যাদি। WAS, WILL, WOOL, WICKET, WOOD প্রভৃতি ইংরেজি শব্দ যথাযথ উচ্চরণ সহ লেখা যাবে।

 

জ, য, য়

রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:

বাংলায় আমরা যেটাকে বলি অন্তঃস্থ য, চ বর্গের জ-এর সাথে তার উচ্চারণের ভেদ নেই। য-এর নিচে ফোঁটা দিয়ে আমরা আর একটা অক্ষর বানিয়েছি তাকে বলি ইয়। সেটাই সংস্কৃত অন্তঃস্থ য। সংস্কৃত উচ্চারণ মতে ‘যম’ শব্দ ‘য়ম’। কিন্তু ওটাতে ‘জম’ উচ্চারণের অজুহাতে য়-র ফোঁটা দিয়েছি সরিয়ে। ‘নিয়ম’ শব্দের বেলায় য়-র ফোঁটা রক্ষে করেছি, তার উচ্চারণেও সংস্কৃত বজায় আছে। কিন্তু ‘য’ ফলা-আকারে য়-কে দিয়েছি খেদিয়ে আর আ-টাকে দিয়েছি বাঁকা করে। সংস্কৃত ‘ন্যাস’ শব্দের উচ্চারণ ‘নিয়াস’, বাংলায় হল nas। একদা ‘ন্যায়’ শব্দটাকে বাংলায় ‘নেয়ায়’ লেখা হয়েছে দেখেছি।[10]

সুতরাং এটা পরিষ্কার যে বাংলায় ‘য’-এর উচ্চারণ ‘জ’-এর মতো, তাই একে বর্ণমালা থেকে বিদায় দেওয়া যায়। ‘য’-যুক্ত শব্দগুলো ‘জ’ দিয়ে লেখা যাবে। সংস্কৃত শব্দের ক্ষেত্রে ‘য’-এর স্থানে ‘য়’ লেখা যাবে। এর ফলে উচ্চারণ যথাযথ হবে। যেমন: য়ম (যম), য়ন্ত্র (যন্ত্র), বায়ুয়ান (বায়ুযান), ইত্যাদি।

য-ফলা শব্দটার বদলে য়-ফলা বলা উচিত, কারণ ওর উচ্চারণ য়-এর মতো। য়-ফলা যুক্ত সংস্কৃত শব্দগুলো যথাযথ উচ্চারণ করা যাবে, যেমন শ্যাম (শেয়াম) ব্যাকরণ (বেয়াকরণ), ত্যাগ (তেয়াগ) প্রভৃতি। য় (ইয়)-এর দ্বারা অনেক ইংরেজি ও হিন্দি শব্দ লেখা যাবে, যেমন: য়েস (yes), য়েলো (yellow), য়াঙ্গ (young), য়ার (ইয়ার), য়ে (ইয়ে) প্রভৃতি।

 

শ, স, ষ

রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:

বাংলা বর্ণমালায় সংস্কৃতের তিনটি বর্ণ আছে, শ, স, ষ। কিন্তু সবকটির অস্তিত্বের পরিচয় উচ্চারণে পাইনে। ওরা বাঙালি শিশুদের বর্ণপরিচয়ে বিষম বিভ্রম ঘটিয়েছে। উচ্চারণ ধরে দেখলে আছে এক তালব্য শ। আর বাকি দুটো আসন দখল করেছে সংস্কৃত অভিধানের দোহাই পেড়ে। দন্ত্য স-এর উচ্চারণ অভিধান অনুসারে বাংলায় নেই বটে, কিন্তু ভাষায় তার দুটো একটা ফাঁক জুটে গেছে। যুক্তবর্ণের যোগে রসনায় সে প্রবেশ করে, যেমন: স্নান, হস্ত, কাস্তে, মাস্তুল।[11]

সুতরাং, ‘ষ’ বর্ণটিকে বাংলা শব্দ থেকে বিদায় দিয়ে তার স্থানে ‘শ’ বা উচ্চারণ অনুসারে ‘স’ লেখা উচিত।

 

ণ, ন

রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:

বাংলা বর্ণমালায় আর একটা বিভীষিকা আছে, মূ্র্ধণ্য ণ এবং দন্ত্য ন–এর ভেদাভেদ তত্ত্ব। বানানে ওদের ভেদ, ব্যবহারে ওরা অভিন্ন। মূর্ধণ্য ণ-এর আসল উচ্চারণ বাঙালির জানা নেই।[12]

‘বাংলা শব্দতত্ত্ব’ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন:

…প্রাকৃত বাংলায় তো মূর্ধণ্য ণ-এর সাড়া নেই কোথাও। মুদ্রাযন্ত্রকে দিয়ে সবই ছাপানো যায় কিন্তু রসনাকে দিয়ে তো সবই বলানো যায় না। যে মূর্ধণ্য ণ-এর উচ্চারণ প্রাকৃত বাংলায় একেবারেই নেই, গায়ে পড়ে তার আনুগত্য স্বীকার করতে যাব কেন?[13]

সুতরাং,’ণ’-কে বিদায় দিয়ে ণ-যুক্ত বাংলা শব্দের বানানে ‘ন’ ব্যবহার করা উচিত।

 

Z জ়

বাংলা ভাষায় কথা বলেন এমন অনেক ব্যক্তি বর্গীয় জ-এর উচ্চারণ ইংরেজি ‘Z’ বর্ণের মতো করেন। যেমন: ‘তুমি Zlনতি পারো না।’ কিছু মানুষের উক্তি, উচ্চারণ সহ যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ‘Z’ উচ্চারণ যুক্ত একটি বর্ণ বাংলায় আবশ্যক। আমার প্রস্তাব জ বর্ণের নিচে বিন্দু দিয়ে বর্ণটি লেখা যেতে পারে, অর্থাৎ ‘জ়়’।

এর ফলে অনেক ইংরেজি, ফারসি, আরবি শব্দ এবং নাম যথাযথ উচ্চারণ সহ বাংলা হরফে লেখা যাবে। যেমন: ইজ়, ওয়াজ়, হ্যাজ়, জ়িরো, জ়াহির, হাফিজ়। প্রসঙ্গত বলা যায় ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় ইতিমধ্যেই জ় বর্ণটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

বাংলা বর্ণমালা সংশোধন বিষয়ে প্রস্তাব

স্বরবর্ণ: অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ অ্যা এ ঐ ও ঔ [ঈ ও ীকারএর পরিবর্তে ই ও ি-কার এবং ঊ ও ূ-কার এর পরিবর্তে উ ও ু-কার লেখা যাবে। অ্যা অর্থে পূর্বে উল্লিখিত পেটকাটা এ হরফটিও ব্যবহার করা যাবে।]

ব্যঞ্জনবর্ণ: ক খ গ ঘ ঙ চ ছ জ ঝ ঞ ট ঠ ড ঢ ত থ দ ধ ন প ফ ব ভ ম র ল ৱ শ স হ ড় ঢ় য়(ইয়) ৎ ং ঃ ঁ জ়  [ণ এর স্থানে ন, য এর স্থানে য়(ইয়) এবং ষ এর স্থানে শ বা স লেখা যাবে, ৱ=সংস্কৃত ওয়া]

রবীন্দ্রনাথ বলে গেছেন:

উপসংহারে এই কথাটি বলতে চাই বানানের বিধি পালনে আপাতত হয়তো মোটের উপরে আমরা ‘বাধ্যতামূলক’ নীতি অনুসরণ করে একান্ত উচ্ছৃঙ্খলতা দমনে যোগ দেব, কিন্তু এই দ্বিধাগ্রস্ত মধ্যপথে ব্যাপারটা থামবে না। অচিরে এমন সাহসিকের সমাগম হবে যাঁরা নিঃসঙ্কোচেই বানানকে দিয়ে সম্পূর্ণভাবেই উচ্চারণের সত্যরক্ষা করবেন।[14]

পরিশেষে বলতে চাই আজ থেকে ৮০/৮৫ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ বাংলা বানানবিধিতে যে সংস্কারগুলো চেয়েছিলেন, আজও তা অধরা থেকে গেছে। রবীন্দ্র-অনুরাগীর সংখ্যা গুনে শেষ হবে না কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ইচ্ছেগুলোকে মর্যাদা দেওয়ার কথা আজও ভাবা হল না! রবীন্দ্রনাথের ভাষাতেই তাঁকে বলতে হয়:

তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি।


[1] ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ। বাংলা শব্দতত্ত্ব, রবীন্দ্র রচনাবলী, ১০ম খণ্ড। পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ১৯৮৯। পৃঃ ৬১০।
[2] পূর্বোক্ত, পৃঃ ৭৮২।
[3] গিরিশ, মনোজকুমার দ। বাংলা বানান এক হউক এক হউক এক হউক। Ahanlipi-Bangla14.zip
[4] দ্রষ্টব্য, টীকা ১। পৃঃ ৬১০।
[5] ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ। বাংলাভাষা পরিচয়, রবীন্দ্র রচনাবলী, ১০ম খণ্ড। পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ১৯৮৯। পৃঃ ১০৪৭।
[6] দ্রষ্টব্য, টীকা ৩।
[7] দ্রষ্টব্য, টীকা ১। পৃঃ ৬১৩।
[8] দ্রষ্টব্য, টীকা ৩।
[9] দ্রষ্টব্য, টীকা ৫। পৃঃ ১০৫০।
[10] দ্রষ্টব্য, টীকা ৫। পৃঃ ১০৪৭।
[11] পূর্বোক্ত, পৃঃ ১০৫০।
[12] পূর্বোক্ত, পৃঃ ১০৪৯।
[13] দ্রষ্টব্য, টীকা ১। পৃঃ ৭৭০।
[14] পূর্বোক্ত, পৃঃ ৭৮২।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3960 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

  1. আমার লেখাটি চমৎকারভাবে প্রকাশ করার জন্য সম্পাদক মহাশয় এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরীক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সুশান্ত ঘোষ।

আপনার মতামত...