ক্রিয়েটিং ট্রাবল

শুভদীপ চক্রবর্তী

 

বারান্দা থেকে শুকনো ফুল উড়ে আসছে ঘরে। শুকনো পাতা। সহজাত জীবনী শেষে, নতুন আলপনা ছড়াচ্ছে তারা মেঝেয়। একটা ঘর ভর্তি শূন্যতার সমুদ্রের উপর পেতে দেওয়ার জন্য যেন কাঠবিড়ালির বয়ে আনা একখণ্ড নুড়ি-পাথর। বারান্দা থেকে শুকনো ফুল উড়ে আসছে ঘরে, আর ততবেশি করে ব্যালকনির বদলে একটা ছাপোষা বারান্দা হয়ে যাচ্ছে সেটা। বাবার লাগানো টব থেকে আগে খিলখিল হাসত গাছ। এখন ভারিক্কি গিন্নির মতো ছিমছাম থাকে। মাঝেমাঝে বৃষ্টিতে গা ধোয় গরমের বিকেলে। তারপর হালকা পাউডার, আলগা খোঁপা। সন্ধেবেলায় চুল ছেড়ে রাখতে নেই যে! শুধু খেয়াল রাখতে হয় ঘর ঝাঁট দেওয়ার সময়। খেয়াল রাখতে হয় যেন শলার ধাক্কায় দূরে ছিটকে না পড়ে ফুল। যেন আঘাত না লাগে নতুন করে উড়ে বেড়ানো শরীরে। ফেলে দেওয়ার বদলে বরং, জড়ো করে রাখি একটা কোণে সেইসব ঝরা পাতাদের গান। সেখানে থমকে থাকে স্মৃতি। আমাদের বয়স বাড়লেও, সেই থমকে থাকা স্মৃতিদের পাশে গিয়ে দাঁড়ালে, একঝলকে টান মারে বোলপুর, সুপুর, রূপপুর, গড়জঙ্গল। অনেকদিন পর ফোন হয় দুপুরে। অনেকদিন পর নেশা নেশা বিকেল। গঙ্গার উপর ভাঙা জেটিতে বসে গান… ‘জানে কাঁহা মেরা জিগর গ্যায়া জি…’

কোখায় গেল জিগর? কখন? কখনও ছিল নাকি এখানে?

 

.

ছুটে চলাদের রং একটা গাঢ় খুব গোলাপী। ছুটে চলাদের রেস্ট-প্যাড, রেলস্টেশন। পিঠের ব্যাগে কিছুই তেমন নেই। তার থেকেও বড় কথা, কাটা তো নেই টিকিটটাও। যাওয়া বলতে আপাতত, বোলপুর। নাকি সুপুর, রূপপুর হয়ে গড় জঙ্গলও? তারা নিজেরাও কি ছাই জানে? “মে মাসের গরমে কে বীরভূম যায় ভাই?” “চল তো, অত ভাবলে চলে না…” ট্রেনে উঠব, হুজ্জুতি হবে। সে হোক। হুজ্জুতি করতেই তো যাওয়া। কিন্তু হুজ্জুতি করার লোকটাই যে কোথায়? কদ্দূর? ফোন করলে তো, এই আসছি সেই কখন থেকেই। কত দেরি আর? “ভাবছিস কেন? বেরিয়ে পড়েছিস তো? সেটাই জরুরি। পৌঁছে যাব…”

তারপর উঠে পড়া যাচ্ছে বোলপুরের ট্রেনে। অথচ, বোলপুরেই গিয়ে না নামা অবধি নিশ্চয়তা নেই কিছুর, যে ঠিক কোথায় গিয়ে পৌঁছানো হবে। এত ভিড়েও আসল হুজ্জুতি ডিমসেদ্ধ জোগাড় করে ফেলেছে ঠিক। বর্ধমান পেরিয়ে যেতেই কেন কী জানি, হঠাৎ আনন্দ হতে শুরু করে খুব বরাবরই। তার থেকেও মজা ঘেরে ‘ঢাল’ নামের স্টেশনগুলো। দরজার ধারে দাঁড়িয়ে সিগারেট ছুড়ে ফেলে ছেলেমানুষি হাসিতে লুটিয়ে পড়ে দুজন একে অন্যের গায়ে। ঠিক তখনই বাউল ওঠে একজন। গেরুয়ায় না। গানেও না। বাউল সে কথায়। ‘এক দুয়ার ঠেলে নয় দুয়ারে, মালসা ভরা কাঁকড়-চাল/এমন পথের তাড়া, কথাই সারা হয় না গুরু কত কাল…’

 

.

‘মিটমিটে বিদঘুটে, তিনখানা ডানপিটে
একসাথে জুটে গেলে জুটতেও পারে…’

তিনখানার দুখানা তো লুটোপাটি খাচ্ছে ট্রেনে। আরেকজন দলছুট একটু। উত্তর থেকে বহতা সে দক্ষিণের দিকে। মালদা থেকে বোলপুর অবশ্য কতক্ষণই বা! বিশেষ করে, বিশেষ কোথাও যাওয়ারই নেই যেখানে। তার মাথাভর্তি গান। তার মনভর্তি কথা। “গানের লিরিক্সের মজাটা হচ্ছে, ফিরিয়ে ফিরিয়ে আনাটা।”

তারপর একে-অন্যকে কাটাকুটি করে যে যার পথে চলে যাচ্ছে দুটো ট্রেন, আর ফিরে আসছে হঠাৎ একটা ছোটবেলার মতো হাওয়া। ফিরে আসছে হলদে স্কুল বাড়ি। লাস্ট বেঞ্চ। স্কুলের পরে টইটই গলিঘুঁজি পাড়া। আর এভাবেই বড় হতে হতে কীভাবে মনকষাকষি একটা খুব। পশ্চিমের রাঢ়ভূমিতে কেউ, তো কেউ গৌড়ভূমে। আরেকজন তো বাউন্ডুলে আজন্ম। সে যে কোথায়! এই তিনজনের আচমকা বেরিয়ে পড়া তাই গল্পই একটা। দরজা ধরে চলতে চলতে ভাবতে থাকা, কতটা জল অজয়ে এখন? কতটা ধারা ধরে রেখেছে বুকে কোপাই? সেই যে একটা মাঠ, জ্যোৎস্না ফুটেছিল খুব, একজন নেশায় হেলান দিয়ে বসে আছে নিঝুম গোলপোস্টে একটা, আর দুজন একটা স্কুলের পাঁচিল ডিঙিয়ে ভরতে গেছে জল— কেমন আছে সেই জলের বুক চিরে জমতে থাকা অন্ধকার? দূরে কোথাও খমক বাজছে একা, আর তার সুরে একা বসে থাকার গলা ব্যথা হয়ে আসছে কেমন। কতদিন আর? বড় সুন্দর এই পৃথিবীতে কতদিনই বা আর আমরা? আত্মীয়-স্বজন, প্রিয় বন্ধু, হঠাৎ মনে পড়া ববকাট চুল… কতদিন?

 

.

“চলো!”

হুল্লোড় দিয়ে বেরিয়ে পড়ছে তারা। ব্যাগপত্র তো কিছুই নেই তেমন। ধরে নিচ্ছে টোটো। এবং ভ্যাবাচাকা খেয়ে যাচ্ছে, ঠিক যখনই ড্রাইভার জিজ্ঞেস করছে গন্তব্য। “কোথায় যাব?” তিনটে ভ্যাবাচাকার সিগারেট থেকে খসে যাচ্ছে ছাই। ওল্ড মঙ্কের বয়স্ক মানুষটাও যেন হেসে উঠছে রগড়ে। আচ্ছা চলা তো যাক, দেখা যাবে! বিশ্বভারতী পেরিয়ে খোয়াইয়ের উপর ব্রিজ পেরোতেই ডানদিকে মাসির দোকানটা তো! হাভাতের দল! দুপুর হয়েছে ঠিক। তা বলে জল দেখলেই স্নান আর ভাত দেখলেই হুড়মুড়? কে শোনে কার কথা। ছোটবেলার বন্ধু আর বাউন্ডুলের সরকারের তো কথা ততক্ষণে জলের সঙ্গে। একটা খোয়াই শরীরে মিশিয়ে নিচ্ছে তারা। আর তাদের দিকে হিংসা ছুড়ে দিতে দিতে পারে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরাচ্ছে রোগা ভ্যাবাচাকা। বাড়াবাড়ি যত!

– দোকানের ঝাঁপ পড়ছে!
– দু মিনিট দাঁড়াতে বল!
– চারঅক্ষর!

এবং খাবার কিছুই নেই প্রায়। ভাত আর ডাল শুধু। ডিম নেই মাসি? শুধু ভাজা হবে। তাই দাও। একটা পেঁয়াজ লঙ্কা ছাড়া। তোর খুব প্যাকনা! মাসি, বাড়ি পাইনি এখনও!

বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে তারপর সোনাঝুরির একদম প্রান্তে। বিকেল হলে সেই হাঁটবো! সোনাঝুরির ভিতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে শনিবারের হাট। ঘর তো তিনতলায়। তাতে কী? গরম হবে। আরে ধুর, দু’দিক খোলা ছাদ। কী বলিস? রাতের আড্ডা জমে যাবে!

 

.

এবং তারপর বেরিয়ে পড়ছে তারা। চাইছে ঋজু গাছেদের সারির ভিতর শরীর থেকে জল শুষে নিক রোদ। এই প্রকৃতি ধ্বংস করুক সভ্যতার গড়েপিটে দেওয়া ভ্রান্তিতে ভরা শরীর। সামনে কত জায়গায় মাটি সরে সরে গেছে রে! কত উঁচু-নিচু। তাতে কী? নিচে নামব। আবার উঠব। ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে যাব! কিন্তু ডিঙিয়ে যাওয়া যাচ্ছে কই? কী সমস্যা? মদটা খেয়ে নিতে হবে। এই দুপুরে? রাম তো ওটা! সন্ধের জন্য। কিছু করার নেই। প্যাঁচ কেটে গেছে। চলকে পড়ছে ডিঙিয়ে চলতে গেলেই। সে মাটি ডিঙিয়ে কি মদ খাওয়া যায়? “কবি, মদ ঢালো!” “ওকে, কোল্ডড্রিঙ্কসের বোতলটা?” “ওই যা! কেনাই হল না তো!” “বোঝো! তাহলে শুধু জল দিয়েই!” কিন্তু জলের বোতল। হোটেলের ঘর থেকে নামানোই হয়নি। এদিকে জঙ্গলের মাঝে তো… কী করবি? এভাবেই খেতে হবে।

– এভাবেই?
– হ্যাঁ, তিনজন তো… শেষ হয়ে যাবে!
– ভাই, এই গরমে নিট…
– হাঁ কর তো!

গোলার্ধ-পেরোনো সেইসব হা হা বিকেল তারপর গিলে নেয় দুপুর। এবং তারা নেমে পড়ে শুকনো নদীর খাতে। নামছে যত, পৌঁছে যাচ্ছে তারা শিকড়দের কাছে। ছুঁয়ে দেখছে আরও গভীরে মাটির গন্ধ। মেকি হাটের চিৎকার আর টানছে না তাদের। বরং শুয়ে পড়ছে ধুলোয়। ক্লিক করছে শাটারে। কী ভাল লাগছে রে ভাই! বেঁচে থাকতে কী ভাল লাগছে! আর সেই উত্তাপের মধ্যে বিছিয়ে দেওয়া শরীরেই গান ধরছে একজন। নিজের গান। কথার শরীরে সুরের আলখাল্লা পরানো গান। যে গানে শুধু বলা আছে তিনখানা বিদঘুটের কথা—

মিটমিটে বিদঘুটে, তিনখানা ডানপিটে
একসাথে জুটে গেলে জুটতেও পারে…
তারপর কী যে করে, ভগাই বলতে পারে
শুধু জানি পেটে কিছু পড়তেও পারে
মনে মনে বল, কী যে তোর চাই
কানে কানে কথা যেন শুনতে পাই
মানে মানে চল, কেটে পড়ি ভাই
সন্ধের আগে যেন দর্শন পাই…
হোক হাওয়া বদল, তিনখানা পাগল
দুটো রাত বোলপুরে ক্রিয়েটিং ট্রাবল
হোক হাওয়া বদল হোক… হাওয়া বদল হোক…
হাওয়া বদল হোক… হোক হোক হোক হাওয়া বদল…

 

.

ভীষণ নেশা কেমন ভীষণ শান্ত করে দেয় তাদের। তারা কথা বলে, যেন হাওয়ার সঙ্গে। কথা বলে, যেন আঘাত না পায় বাতাস। এই বীরভূমের মাটি, এই সোনাঝুরির মাটি কেমন ছুপছুপে শোনে তাদের ফিসফিস। শুনে ফেলে যাবতীয় ছেলেমানুষি যত। কত কত সময় ধরে যেন কীসব নিয়ে কথা হয় তাদের। মাঝে মাঝে সমবেত ‘হা হা’ কাঁপিয়ে দেয় প্রান্তর। দূর থেকে আলো মারে কে? প্রশাসন। সব কিছু ঠিক আছে তো? অনেকদিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে স্যার, তাই… “সাবধানে থাকুন, বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না!” বাড়াবাড়ি তো চাঁদ করছে স্যার। এবং এই আকাশ। এই অন্ধকার। জোনাকিরা বাড়াবাড়ি করছে না স্যার? কতদিন পর দেখা হচ্ছে স্যার আমাদের। কতদিন পর কথা হচ্ছে, জানেন? কত অপ্রয়োজনীয় নীরবতা আমাদের সময় কেড়েছে মাঝের কটা বছর। সেইসব মিটিয়ে নিতে হবে না স্যার? মিলিয়ে নিতে হবে না ব্যালেন্স শিট?

আসলেই, তারা এই তিনজন বসলে, পাশে সাউন্ডবক্সে গান বাজে না কোনও। কথার মাঝে মাঝে বরং ভেসে আসে পুরনো গান। কুছ না কহো। কুছ ভি না কহো… কোপাইও কেমন শান্ত ভীষণ। ক্যায়া কহেনা হ্যায়, ক্যায়া শুননা হ্যায়? “চাঁদটা দেখ, জলেও ছায়া নড়ছে না একটুও!” “এটা দিয়ে তোকে ক্যামেরার শাটার স্পিডের ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিই দাঁড়া…”

ওই যে হাঁটছে তারা। তাদের শরীরে লাল ধুলো। কোত্থাও কেউ নেই আর। নেই? সত্যিই নেই? নাকি আছে? এই হাওয়ায়, ধুলোয় আর টলমলে হেঁটে চলা স্মৃতিতে প্রাচীন কারিগর লেগে নেই কোত্থাও কেউ? লেগে নেই তাদের পুরনো কিছু আমি? দূর থেকে হাত নাড়ছে যারা। তারা থেকে গেল এখানে এই মুহূর্তে, নতুন তিনজনকে চাঁদের রাতে প্রজাপতির ঘরে ফেরত পাঠিয়ে দিয়ে। শুনতে থাকল, তাদের গড় জঙ্গল চলে যাওয়ার কথা। নতুন মানুষদের গলায় পুরনো গানও জাদু হয়ে যায় কেমন…

ভাবতে থাকল, এই লাল মাটিতে পিচের প্রলেপ পড়ে গেলে, তারা কি আর এখানে বেড়াতে আসবে কখনও?

 

.

কে জানে কে আসবে কোথায়? কোথায় কেই বা যাবে, কে বা জানে? কথাগুলো বলে তাদের লজের মাতাল ম্যানেজার। দিলখুশ লোক। সারারাত আড্ডার পর পরদিন দুপুরে রওনা দিয়ে, চলো রূপপুর! এবং অবধারিত ভুল রাস্তায় পড়ে, পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধে পেরোয় তাদের। ঘরের দেয়ালে জানালা বলে কিছু নেই যে! পুরোটাই কাচের দরজা। চারশো বছর আগে এমন বাড়ি এ তল্লাটে বানালো কে? বড় হুজ্জুতি লাফ দিয়ে পড়ে। “শিলাবৃষ্টি হয়ে গেছে আমরা পৌঁছানোর ঘন্টাখানেক আগে!” “আর এখন?” “নরমাল বৃষ্টি। চল, ভিজি!”

আর তিনজন বেরিয়ে পড়ছে বৃষ্টিতে। তুমুল ভিজে নেমে যাচ্ছে পাশের পুকুরের ভিতর। কী গরম জল! লোডশেডিং। পরের দিন গড় জঙ্গল। সেই সেন রাজাদের কাটা পরিখার মাঝে শ্যামরূপা মায়ের মন্দির। মন্দিরের সামনে লম্বা বাঁধানো চাতাল। কেউ থাকে এখানে রাতে? পুজোর সময় ছাড়া কেউ তো থাকেনি, বলছেন পুরোহিত। “আমরা যদি থাকি?” “থাকতেই পারো!” তারপর সন্ধের আগেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে চত্বর। একটা বড় বেজি হাতে ঝুলিয়ে চলে গেছে সাঁওতাল কিছু বাচ্চা সেই কতক্ষণ আগে। দিনের শিকার বলতে, সেটুকুই। তারপর অদ্ভুত একটা অন্ধকার। অপার্থিব একটা আলো। টিমটিম করছে শ্যামরূপা মায়ের মন্দির আর তার জলজ্যান্ত একটা ইতিহাস। মন্দিরের পাশ দিয়ে নেমে গেছে একটা সিঁড়ি আরও জঙ্গলের দিকে। সেই নেমে যাওয়ার ভিতর আরও কত গল্প। রাতের সঙ্গে সঙ্গে ভীষণ খুব ভয়। শুধু এই ভয়ে, জীবন মিশে খুব। এই ভয়ে চিরকালীন বেঁধে বেঁধে থাকা…

 

.

‘ছিন্ন পাতার সাজায় তরণী’…

আচ্ছা, শুধুই বোলপুর ছাড়া কি নিছক ঘুরতে যাইনি কোথাও আমরা? ঘুরতে যাওয়ার ছবি বললেই, ঘুরে-ফিরে সেই বোলপুরেই ঘুরে আসতে হয় বারবার। এই তো সেবার, দিনে-দুপুরে লাল চোখ আর ঘুর-ঘুর মাথা নিয়ে সারা সোনাঝুরি হাঁটার পর সন্ধে নামছে একটা সমস্ত দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে। ফাঁকা হতে বসা শনিবারের হাটের থেকে দম উঠছে ধোঁয়ার। একতারা-দোতারাও দম শুষে নিচ্ছে নতুন করে। আমরা কথা হারিয়ে ফেলছি কেবল। শুনতে পাচ্ছি, যে অলীক ঘটতে চলেছে, তাকে। আর চাইছি এই আকাশ, এই বেদনা, এই বকপাতি সব ছেড়ে হেঁটে যেতে। কোথায় কে জানে, হেঁটে যেতে শুধু… আর ততই বসে থাকারা পেয়ে বসছে আমাদের। দীর্ঘকায় সোনাঝুরির পাতা থেকে তার শরীরের বাকল বেয়ে সন্ধে ঘন হচ্ছে আরও। ওই আকাশের রং দেখেই মনে হচ্ছে, প্রিয় বন্ধুর বিয়ে মাস দুই-তিন পর। ‘রূপ ধরিয়ে বিকশিবে প্রাণের আরাধন…’। কথা তেমন জড়িয়ে না যাওয়ায় নিজের কথাই কানে বাজছে স্পষ্ট করে, কে কাকে লাল করে বেশি, মাটি না আকাশ? আজকে পূর্ণিমা নাকি! তবে তো আরও একটা কিনতে হবে? ওই মুখেই দোকান আছে একটা। বেড়ার পিছন দিয়ে গেলেই হাতে চলে আসবে ম্যাজিক। আর উঠে পড়েছি আমরা। যে যার মতো চাঁদ ওঠা দেখব। সোনাঝুরি ফেলে ঢিবি মতো জায়গাটা পেরিয়ে একটা মাঠে নামতেই গোটা আকাশটাকে খেয়ে নিল ভাঙা মাটির একটা বাড়ি। তার দেওয়ালে বড় যত্নে কেউ লিখে গিয়েছে সুন্দর টানা অক্ষরে,

‘লতিকা,
‍‍‍‍‍‍‍‍ ‍‍‍‍‍‍‍‍ ‍‍‍‍‍‍‍‍ ‍‍‍‍‍‍‍‍ ‍‍‍‍‍‍‍‍ ‍‍‍‍ ‍‍‍‍‍‍‍‍ ‍‍‍‍‍‍‍‍ ‍‍‍‍‍‍‍‍ ‍‍‍‍ ‍‍‍‍‍‍‍‍ ঘৃণা’।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3960 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...