‘ভক্তি’, ‘আঙ্গিক’ এবং অলোকরঞ্জনের চিন্তার ঈশ্বর

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত | কবি

হিন্দোল ভট্টাচার্য

 


লেখক কবি ও গদ্যকার

 

 

 

তুমি আমায় বলে দিও না
কী করে তোমার গান গাইতে হবে আমাকে;
আমি হঠাৎ কখন দু মাত্রা গলা তুলে
সবার সমক্ষে তোমাকে নাজেহাল করে দেব
কখন আমি নিচু খাদে গলা নামিয়ে
তোমাকে অঝোরে কাঁদাব,
তুমি আমায় শিখিয়ে দিও না।

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের হিমালয়-সদৃশ বিশাল সৃষ্টির দিকে তাকিয়ে যদি আপনার তাকে সম্পদ বলে মনে হয়, জানবেন, সেই সম্পদ নিজেকে রক্ষা করার জন্য এমন এক আপাত প্রতারক প্রচ্ছদের ন্যায় বর্ম দিয়ে আড়াল করে রেখেছে, যে আপনার প্রথমে একটু অসুবিধে হবেই তার কাছে পৌঁছতে। এই ব্যাপারটি পর্বতারোহী বা হিমালয়ের প্রেমিকরা খুব ভাল করে বোঝেন। দুরূহ এক পথ, প্রবল উচ্চতা, ক্রিভার্স, পাকদণ্ডী— কত কিছুই না আছে, সেই বিরাট ব্যাপ্ত সৌন্দর্যের কাছে যাওয়ার আগে। আছে পদে পদে ক্রিভার্সে পড়ে হারিয়ে যাওয়ার ভয়। আছে রাস্তা হারিয়ে ফেলার চিন্তা। অর্থাৎ, হিমালয়ের পথে হাঁটতে হাঁটতে দীক্ষিত হয়ে গেলে, তবেই সম্ভব, হিমালয়ের গভীর থেকে গভীরতর নির্জন পথে সত্য ও সৌন্দর্যের রূপের সন্ধান পাওয়া। কারণ এই অভিযাত্রাই আসল, পৌঁছনো না। আর প্রতিটি অভিযাত্রাই যাত্রীকে অভিজ্ঞ করে, দীক্ষিত করে। আরও একটা বড় ব্যাপার রয়েছে, তা হল, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারলে, আরও বেশি করে খুলে যায় অজানা সৌন্দর্যের আরও নতুন নতুন উচ্চতা। অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের কবিতা এইরকম। পাঠককে দীক্ষিত হতেই হবে। বারবার পড়তে হবে। পড়তে পড়তে নানাভাবে সেই কবিতার নানা দিক আবিষ্কার করতে হবে। মনের মধ্যে চলবে নানা আশঙ্কা, নানা গতিবিধি। নানা শব্দের ফাটলে পা পড়ে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে। কিন্তু দীক্ষিত পাঠক সেই সব শব্দের ধ্বনিমাধুর্যের পোশাক সরিয়ে শব্দের দূরের এবং কাছের অর্থগুলিকে উদ্ধার করতে পারবেন। কিন্তু এই সামগ্রিক কাজটিই খুব সহজ নয়। অর্থাৎ, সময় কাটানোর জন্য কবিতা নিয়ে বসে কিছুক্ষণ বাজনা বাজানো শুনে তাল দিয়ে তার পর নেচেকুঁদে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়া যাবে না। অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের কবিতা ধীরে ধীরে রক্তের মধ্যে, স্নায়ুর মধ্যে মিশে যায়। ঘুমের মধ্যে আচমকা ভেসে ওঠে। শব্দের স্বরমুকুলগুলি মাথার মধ্যে গুনগুন করতে থাকে। একটি কবিতার মধ্যে থাকা অজস্ব কবিতার রাস্তা, গ্রাম, মাঠ, ক্ষেত, দিগন্তগুলি উন্মোচিত হয়।

এই কাজগুলি করতে যাঁরা প্রস্তুত নয়, কবিতা যাঁদের কাছে কেবল ঝকঝকে এক রোমান্টিক বিলাসিতা, তাঁদের কাছে অলোকরঞ্জনের কবিতা বেশ কঠিন। এইবার আসি, তাঁদের প্রসঙ্গে, যাঁরা এই কঠিন কাজে দীক্ষিত। অলোকরঞ্জনের কবিতা তাঁদেরও অনেকে এড়িয়ে যান কেন? কেন অলোকরঞ্জনের প্রাথমিক পর্যায়ের তিন কি পাঁচটি কাব্যগ্রন্থের জন্য তাদের মুগ্ধতা এবং সেই অলোকরঞ্জনকে হারিয়ে ফেলার জন্য বুকফাটা আর্তনাদ? কেন কেউ কেউ দাগিয়ে দিয়ে থাকেন প্রথম পর্যায়ের অলোকরঞ্জন-ই কবি, দ্বিতীয় পর্যায়ের অলোকরঞ্জন কেবলই শব্দঝঙ্কার? তাঁরা নিজেরাও কি একটি বিশেষ সময়েই আটকে পড়ে আছেন? অথবা কি তাঁরা অলোকরঞ্জনকে নিবিড়ভাবে পড়েননি কখনওই? বা, আমাদের কবিতার পাঠের অভিজ্ঞতায় আমরা কি কেবলই কবিতার বহিরঙ্গের পাঠ নিয়েই ব্যস্ত থাকি? সেই বহিরঙ্গের পাঠ্যকে সরিয়ে আমরা কি অন্তর্বস্তুতে চোখ পাতি না? অলোকরঞ্জন দাশুগুপ্তের মতো কবি তো সারাজীবন বুধিয়া বা দীপির দাং দীপির দাং দীপির দীপির দাং করার জন্য জন্ম নেননি। একজন কবি যদি নিজেকেই বারবার অনুসরণ করে যান, নকল করে যান, তাহলেই কি তাঁর মৃত্যু হয়ে যায় না? এই প্রসঙ্গে বলতে ইচ্ছে করে, ৮৭ বছর বয়স পর্যন্ত অলোকরঞ্জন যেভাবে নিজেকে বারবার মেরে ফেলে, বারবার জন্ম দিয়েছেন, নতুন করে বেঁচেছেন, তার তুলনা খুব কম আছে। অপরদিকে এমন অনেক অগ্রজ এবং প্রতিষ্ঠিত বড় মাপের কবিও আছেন, যাঁরা নিজেদের অনুসরণ (পড়ুন কপি) করতে করতে নিজেদের মেরে ফেলেছেন তাঁদের প্রথম দু তিনটি বইয়ের পরেই। কোনটা তবে বেশি কাম্য? বারবার জন্ম নেওয়ার কবিজন্ম না কি একবার জন্মে নিজের সামান্য দু তিনটি কাজে খুশি হয়ে নিজেকে সেইখানেই মেরে ফেলার মতো কবিজন্ম?

যৌবনবাউলের কবিতাগুলিতে যে আধ্যাত্মিকতা, যে ভক্তি, যে সংযোগ বিশ্বপ্রকৃতির সঙ্গে, তাঁর নিজস্ব ঈশ্বরের সঙ্গে, যুগের এবং সাম্প্রতিক আধুনিকতার বিদ্রুপ তাঁকে সেই ভক্তি থেকে আলাদা করতে পারেনি। কারণ এই ভক্তির মধ্যে রয়েছে ভালবাসার এক স্বতোৎসারিত আত্মসমর্পণ। এই ভক্তি এবং ভালবাসা থেকে তিনি কখনওই বেরোননি, কিন্তু যৌবনবাউলের অলোকরঞ্জনের আস্তিকতার ভাষা এবং জবাবদিহির টিলা বা ওষ্ঠে ভাসে প্রহৃত চুম্বন বা গিলোটিনে আলপনার অলোকরঞ্জনের আস্তিকতার ভাষা অন্য। নিষিদ্ধ কোজাগরীর অলোকরঞ্জনের যে তীব্র আত্মানুসন্ধান ছড়িয়ে পড়ে অসংখ্য সত্তার মধ্যে, যে ছিন্নবিচ্ছিন্ন জগতের মধ্যে তিনি প্রাণপনে সংযোগ তৈরি করেন রক্তাক্ত ঝরোখায়, তার মূলে ছিল এক ভক্তির নির্জ্ঞান। এই বিশ্বাস পাল্টালোনা, ব্যক্তি অলোকরঞ্জনের আস্তিকতা পাল্টালো না, কিন্তু পালটে গেল তাঁর অনুসন্ধানের ধরন আর সেই ধরনের ভাষা। যেন, ব্যক্তিগত জীবনের নানান ঘটনা, বিশ্বপৃথিবীতে এক চরম অসাম্য এবং অত্যাচারের ইতিহাসকে চাক্ষুষ দেখতে পারা, বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত শরণার্থী সমস্যার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই প্রত্যক্ষ করেছেন।

এখন আমার হাত ছড়ে গেলে শিশির বেরোয়
আর সেই অবকাশে
দূর দূর থেকে আবালবৃদ্ধ এবং বনিতা
আমাকে দেখতে আসে।
আর তখনই রক্তগঙ্গা বয়ে যায় যত
অভুক্ত ঘাসে ঘাসে,
আর তক্ষুনি পৌরসংস্থা থেকে দমকল
রক্ত নেভাতে আসে।’

‘নিসর্গ আজ মানুষের মতো কাঁদে’/ কাব্যগ্রন্থ: ‘নিরীশ্বর পাখিদের উপাসনালয়ে’/ ২০১৩)

এর উত্তর খুঁজেছেন কবি। উত্তর খুঁজেছেন সোভিয়েত পতন এবং মার্ক্সকে ক্রমাগত লাঞ্ছনার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার। উত্তর খুঁজেছেন বিশ্বজুড়ে গ্লোবাল সংস্কৃতির সন্ত্রাসের। অনেক বেশি মাত্রায় রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে তাঁর দেখা। সেই রাজনীতির সঙ্গে বৃহত্তর চেতনার প্রেক্ষিত মিশে গিয়ে জন্ম নিয়েছে এক নতুন অনুসন্ধানের।

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত ছিলেন নিজেই হিমালয় এবং নিজেই হিমালয়ের পর্যটক। অর্থাৎ বৃহত্তর এক চেতনার যে নিজেকেও বৃহত্তর আকাশের অধিকারী হতে হয় তা তিনি জানতেন প্রথম থেকেই। তাই তিনি নিজেকে কুক্ষিগত করে রাখেননি সীমাবদ্ধ চেতনার পরিসরে। নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন জানলা থেকে, বারান্দা থেকে, দরজা থেকে ,  প্রাঙ্গন থেকে একেবারে সীমানা ছাড়িয়ে অন্য অনেক দিগন্তের দিকে। তাঁর কবিতার মধ্যে মাথা তুলেছে যেমন প্রাচীন ইউরোপীয় এবং সংস্কৃত পুরাণ, দর্শনের জগৎ, যেমন ভারতের ভাস্কর্য, ইউরোপের চিত্রকলা, সুদূর প্রাচ্যের জেন কবিতা, চিত্রকলা, গল্প, তাঁর কবিতায়, প্রবন্ধে, সন্দর্ভে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে আত্মপ্রকাশ করেছে, তেমনই, মিশে গেছে আধুনিক অস্তিত্ববাদ, ধ্রুপদী ও আধুনিক সঙ্গীতচেতনা, মরমিয়া বোধ এবং বিচ্ছিন্নতাবোধ উভয়েই। তিনি এক প্রকৃত অধুনান্তিক চেতনার অধিকারী শিল্পীর মতোই সনাতন দর্শন এবং আধুনিক দর্শনের মধ্যে সাঁকো তৈরি করেছেন। এই বেঁধে ফেলার কাজটি শুরু হয়েছিল সপ্তসিন্ধু দশদিগন্ত-এর অনুবাদের সময় থেকেই। কিন্তু ৭৭-এর পর তাঁর ইউরোপ যাওয়া এবং সেখানেই থেকে যাওয়া, তাঁকে প্রকৃত অর্থেই করে তুলল বিশ্বজনীন।

এখন হাঁটতে গেলে চৌকাঠে ঠোক্কর লাগবেই,
ঘরের মধ্যে পৌঁছে দেখবে রক্ত ও শ্রমে গড়া
দ্বিভাষিক সেই সংকলনের পাণ্ডুলিপিটা নেই
দেরাজে লুকোনো প্রথম প্রেমের দলিল চিদম্বরা
এবং একটি আলোকচিত্র কোথায় আচম্বিতে
বিলুপ্ত হল, ভাবতে-ভাবতে হিতে আর বিপরীতে
কী যেন ঘটল মতদ্বৈধ – এইবার মানে মানে
অন্ধকারের আগেই নিজেকে ঈষৎ গুটিয়ে নিলে
ভারি মজা হয়,…

(অশীতিপর)

অনেকেই হয়তো এই স্থানান্তরকে তাঁর কবিসত্তার শেষের শুরু বলে অভিহিত করে নিজেদের সীমাবদ্ধ পরিসরকেই আরও সীমাবদ্ধ করে ফেলেন, কিন্তু তাতে কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের ‘কোয়েস্ট’-এর কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তিনি নিজেও এক সন্ধিক্ষণের পৃথিবীর মধ্যে চলতে চলতে নিজের কবিতা ও কবিতার ভাষাকেও সন্ধিক্ষণের মধ্যে দিয়ে চালিত করেন। এক অতুলনীয় পর্যায় শুরু হয় তাঁর কাব্যভুবনে। এই পর্যায়ে আমরা পেয়ে যাই এক ভিন্ন অলোকরঞ্জনকে, যাঁর ঈশ্বরচেতনায় পরিবর্তন হয় না, কিন্তু পরিবর্তন হয় ঈশ্বরচেতনার সঙ্গে তাঁর সংলাপে। তাঁর ভক্তি-র পরিবর্তন হয় না, বরং তার সঙ্গে যুক্ত হয় অনেক বেশি প্রাণ। বিশ্বাস কতটা দৃঢ় হলে, ভক্তি কতটা অন্তরের হলে, ক্রমাগত ঈশ্বরের কাছে প্রশ্ন করা যায়, অভিযোগ করা যায় একজন বালকের মতো? রামকৃষ্ণদের হয়তো তার প্রমাণ। অলোকরঞ্জনের ভক্তি এবং আস্তিক্যবোধ এমনই সহজ ও স্বাভাবিক ছিল যে নির্দ্বিধায় তিনি বলছেন, বন্ধুরা বিদ্রূপ করে তোমায় বিশ্বাস করি বলে। আবার তিনিই ঈশ্বরকে নির্দ্বিধায় প্রশ্ন করেই চলেন শরণার্থী শিবিরের মানুষদের এত দুঃখদুর্দশার জন্য। তিনি নিজে ক্রমাগত নানা অভিযোগে ঈশ্বরকে অভিযুক্ত করেন উপসাগরীয় যুদ্ধের জন্য, লক্ষ লক্ষ মানুষের অপমৃত্যুর জন্য। ফলে, বদলে যায় তাঁর কাব্যভাষাও। যা দেখে বা পড়ে আপাতভাবে মনে হয়, অলোকরঞ্জন তো নিজ রাস্তা থেকে সরে গেছেন, তা আসলে তাঁর নিজস্ব সাধনার অঙ্গ। আমরা সেই সাধনার ভাষাটিকেই জানি না। ফলে, আমরা সেই সাধনাটিকেও ডিকোড করতে পারছি না। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই আমরা অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তকে যেভাবে পড়ার কথা, সেভাবে পড়ছি না। পড়তে সক্ষম নই বলে

অলোকরঞ্জনকে পড়তে শিখতে হবে আমাদের। তাঁর কাব্যভুবনকে পড়তে আমাদের তাঁর ভাবনার ভুবনকেও জানতে হবে। এ কথা মানতে হবে সাধারণ বাঙালি কবিদের মতো তিনি মফস্বল এবং কলকাতা শহরের মধ্যেই ঘোরাফেরা করেননি। আজকে আমরা ইন্টারনেটের কল্যাণে হয়তো সারা বিশ্বের দরজা জানলা খুলে বসে পড়ি সকাল থেকে রাত। কিন্তু অলোকরঞ্জন সেই বাস্তবতার মধ্যে দিন-রাত কাটিয়েছেন। আমাদের সিনেমা দেখার মতো যুদ্ধ বা কষ্ট দেখার বাস্তবতার বিপরীতে অলোকরঞ্জন ছিলেন একেবারে আগুনের মধ্যে। তাঁর ঘরের পাশে শরণার্থী শিবিরের লোকজন আত্মপরিচয়ের সন্ধানে ঘুরে বেরিয়েছেন। তিনি নিজের চোখে দেখেছেন জার্মানিতে বসবাসরত মধ্যপ্রাচ্য এবং তুরস্কের মানুষদের জীবনযন্ত্রণা। ফলে, তিনি নিজেই কাটিয়েছেন এক সাঁকোর মতো জীবন। দগ্ধ হয়েছেন বারেবার। সেই পোড়া দাগ নিয়েও তিনি অস্তির প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিতে তাকাননি। ভক্তি তাঁর বিন্দুমাত্র কমেনি। ভক্তি তার ভাষা বদলেছে, আঙ্গিক বদলেছে। কিন্তু সম্ভবত তাঁরা তেমন ভক্ত নন বলেই, অলোকরঞ্জনের যৌবনবাউলের বাউলসত্তার ইচ্ছেকে আঁকড়ে ধরেই তাঁকে দাগিয়ে রেখেছেন এক রোমান্টিকতার কবি হিসেবেই। তাঁর হিমালয়সদৃশ ভক্তি ও চেতনার জগতের অনিবার্য রক্তাক্ত বোধির উন্মেষের দিকে দৃষ্টিপাত করেননি।

ফলে, বোধিপ্রাপ্ত এই কবিও তাঁদের কাছে যেতে গিয়ে তাঁদের থেকে দূরে সরে গেছেন। আজকের যাঁরা তরুণ পাঠক, কবি, লেখক এবং ভাবুক, আশা করব, এই শূন্যতাকে কাটিয়ে অলোকরঞ্জন যে ভাষা ও কাব্যভুবনের নাগরিক, তাকে চেনার চেষ্টা করবেন। তবে তার জন্য নিজেদেরকেও খনন করতে হবে এবং অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের কাব্য-ঐশ্বর্যকেও।

‘ভক্তি’ সবসময় নির্দিষ্ট চেনা ভাষার ছাঁচের মধ্যেই বিচরণ করবে কেন? এবার কিন্তু আঙ্গিক বদলান।

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!
About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3909 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...