নয়া ইতিহাস লিখছে ধর্মঘট!

সুমনা রহমান চৌধুরী

 



প্রাবন্ধিক, শিক্ষক, সমাজকর্মী

 

 

 

 

প্রায় ৫০ বছর আগে এক রাজনৈতিক নেতা  বলেছিলেন, “মনে রাখবেন ভারতবর্ষে কৃষক জনতা বারবার সংগ্রাম করেছে, বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে, বহু শহীদের দেশ এই ভারতবর্ষ। … ভারতবর্ষের বিপ্লবী কৃষককে, দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষককে শ্রদ্ধা করতে শিখুন; তাদের ওপর ভরসা রাখলে, কোনওদিন পথের ভুল হবে না।” দেশের বর্তমান সরকার তা কতটা মনে রেখেছেন, সে প্রশ্নে যাওয়াটা অবান্তর। কারণ উত্তর আমরা জানি। তবে ‘জয় জওয়ান জয় কিষান’ স্লোগানের দেশে আজকাল সব কৃষকেরা দারুণ সুখে আছেন। অন্তত আমাদের সরকার বাহাদুরের তাই দাবি। এবং সেই সুখকে আরও বাড়িয়ে তুলতে অতিমারি, লকডাউন, জিডিপি হ্রাস এসবের মাঝে জোরজবরদস্তি নতুন কৃষি বিল পাশ করানো হয়েছে। কৃষকদের সাথে কোনওরূপ আলাপ আলোচনা না করেই। অপরিকল্পিত লকডাউনে কত পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, কতজন কাজ হারিয়েছেন, কতজন ডাক্তার স্বাস্থ্যকর্মী অতিমারির সাথে লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, কত মানুষ অভুক্ত, কত মানুষ আধপেটা, সেসবের কোনও তথ্য মোদি সরকারের কাছে নেই। খোদ সংসদে বিরোধীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে সময়ে সময়ে একথাই জানানো হয়েছে।। তথ্য  নেই, তাই কোনও সমস্যাও নেই। সেই ছোটবেলা আমরা যেমন ভয় পেলে চোখ বন্ধ করে নিতাম আর ভাবতাম কিচ্ছু নেই… সব স্বাভাবিক, অনেকটা সেরকম। সমস্যাই যেহেতু নেই, তাই এসব নিয়ে কাজও নেই। জরুরি কাজ শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের এবং কৃষি আইন পাশ করে কৃষকদের সুখের সমুদ্রে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া! কৃষকদের উদ্দেশ্যে মোদিজী অমিতজীরা বারবার বলছেন এই বিল কৃষকদরদী বিল। ঐতিহাসিক বিল। এই আইনে দেশের সব কৃষকরা রাতারাতি সম্পন্ন কৃষকে পরিণত হবেন। অথচ যাদের উদ্দেশ্যে সেই বিল, যাদেরকে এই আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে সেই কৃষকরাই বলছেন, মানি না এই বিল! মানি না এই আইন। নতুন কৃষি আইন বাতিল করো। বিগত তিনমাস ধরে এই একই দাবি নিয়ে এই ঠান্ডায় দাঁত কামড়ে তাঁরা দিল্লিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্র্যাক্টর র‍্যালি এবং তারপর লালকেল্লায় পতাকা উত্তোলন করে শাসকের চোখে চোখ রেখে তাঁরা বলে চলেছেন গণতন্ত্র যদি মানুষের জন্য, মানুষের দ্বারা মানুষের এক ব্যবস্থা হয়, তবে মোদি সরকার এবং তার মিত্র কর্পোরেট গোষ্ঠীদের নয়, নতুন কৃষি আইনে মতামত শুনতে হবে কৃষকদের। এবং যে আইনের ছত্রে ছত্রে কৃষকদের সর্বনাশের কথা লেখা, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। স্থগিত, পরিমার্জিত, পরিশোধিত নয়। সোজা বাতিল করতে হবে। গোটা বিশ্ব কৃষকদের এই সহজ সাধারন দাবিটি বুঝতে পারছে। দেশের অগুণতি সাধারণ নাগরিক এই দাবিটি বুঝতে পারছে। বুঝছেন না শুধু আমাদের ৫৬ ইঞ্চির গর্বে গর্বিত মোদি সরকার ও তার দোসরেরা।

এর আগেও আমরা কৃষক লং মার্চ দেখেছি। ফসলের ন্যায্য দাবি, কৃষিজমিতে জলের দাবিতে মিছিলে সামিল হওয়া কৃষকদের পায়ের চামড়া ফেটে বেরিয়ে আসা রক্তের ছাপে ছেয়ে গেছিল গোটা রাজপথ। তাঁদের ন্যূনতম  দাবিগুলোও পূরণ করা হয়নি সেদিন। আমরা মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত সহনাগরিকেরা তারিয়ে চা খেতে খেতে মিছিলকারীদের দেশের শত্রু বলে দাগিয়েছি। ফেসবুকে মিম আর হোয়াট্সঅ্যাপে ঘৃণা ফরোয়ার্ড করেছি। আজকের কৃষকদের এই আন্দোলনেও একই রকমের ঘৃণার রাজনীতির চাষ চলছে। তাঁদেরকে দেশের শত্রু দাগিয়ে ঘৃণা উগরে দেওয়া চলছে। তাঁদের মর্মান্তিক মৃত্যুকে ‘ফ্যাশন’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। ২০১৪ পরবর্তী সাল থেকে আমরা দেখছি বিলের পর বিল পাস করা হচ্ছে, আইন তৈরি করা হচ্ছে, যাদের নিয়ে আইন তৈরি হচ্ছে তাদের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা তো দূর, বিরোধীদেরও সাথেও আলোচনা মতামত কিছুই হচ্ছে না। এবং দেশের মানুষের শত বিরোধীতা সত্ত্বেও আইন তৈরি হচ্ছে, লাগু করা হচ্ছে। এনআরসি, নতুন শ্রম আইন, নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন। বিরোধীতা করলেই দেশের জনগনকে দেশদ্রোহী বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের কোনও নীতিকে প্রশ্ন করলেই মাওবাদী, খালিস্থানি, টুকরে টুকরে গ্যাং, দেশদ্রোহী। কৃষকরা নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় রাস্তায় নামলে, তারা খলিস্থানি।  পয়সা দিয়ে ভাড়া করা লোক, বিরোধীদের চক্রান্ত, মাওবাদী সহ কি না কি। যারা বলছেন, প্রচার করছেন তারা সব গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন নেতা মন্ত্রী। ভাইরাল সেসব পোষ্ট, ভিডিও দেখে সাধারণ মানুষও দ্বিধাবিভক্ত। আসলে মগজধোলাই তো এভাবেই হয়! জাতি শত্রু এভাবেই দাগিয়ে দেওয়া হয়!

জনবিদ্রোহ, জনঅভ্যুত্থান কখনও ছক প্ল্যান কষে হয় না। সিনেমা সিরিয়ালের মতো  চিত্রনাট্য সাজিয়েও হয় না। যে কোনও মুহূর্তে তা সংগঠিত হতে পারে। যে কোনও ভাবে। এবং যখন তা সংগঠিত হয়ে পড়ে সেটাকে নিয়ম মেপে অথবা ‘ক্রোনোলজিক্যাল অর্ডারে”  নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব নয়। পৃথিবীর কোনও জনবিদ্রোহের ইতিহাসেই তা সম্ভব হয়নি। ফটোগ্রাফার সাথে করে ধ্যানে বসা মোদিজী বা নাগরিকদের ‘ক্রোনোলজি’ বুঝাতে আসা অমিতজী সেটা নাই বুঝতে পারেন। তা বলে সত্যি তো আর মিথ্যে হয়ে যায় না! গত প্রায় তিনমাস থেকে দিল্লীর কনকনে ঠান্ডায় সিংঘু বর্ডার, টিকরি বর্ডার, চিল্লা বর্ডারে লক্ষ লক্ষ কৃষক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন কৃষিবিল বাতিলের দাবিতে, ১১ বার বৈঠকের পরও সরকার তাঁদের দাবি শোনেনি, উল্টে সমস্ত রকম রাষ্ট্রীয় নির্যাতন নামিয়ে এনেছে তাঁদের উপর, সমস্ত আন্দোলনের সাথে মাওবাদী, খলিস্থানি, দেশবিরোধী যোগ এনে সারা দেশের মানুষের সামনে কৃষক গোষ্ঠীকে শত্রু দাগিয়ে দিয়েছে, এনআইএ লেলিয়ে দেওয়া থেকে ইউএপিএ লাগিয়ে জেলে আটকে রাখা হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে দেড়শো জনেরও উপর কৃষকের,  পুলিশি মারে কৃষকদের রক্তে ভিজেছে দিল্লী-পাঞ্জাব বর্ডার—  এই এত এত কিছু ঘটে যাওয়ার পর কৃষকদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙাটাই স্বাভাবিক। এবং প্রজাতন্ত্র দিবসে র‍্যালি শেষে জাতীয় পতাকার নিচে ১০ শতাংশ কৃষকের নিশান সাহিবের পতাকা তোলাটা সরকার থেকে পাওয়া এতদিনকার যাবতীয় নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাগের বহিঃপ্রকাশ হতেই পারে।

গোটা আন্দোলনের নব্বই ভাগ র‍্যালির কথা, দাবির কথা কেউ বলল না। ভাবল না। কিন্তু মাত্র দশ শতাংশ বিচ্যুতি নিয়ে মিডিয়া সারাদিন চিৎকার করে গেল। লালকেল্লা দখল, খালিস্থানি ঝান্ডা, দেশের সংবিধান কৃষকরা মানে না, জাতীয় পতাকার অবমাননা সহ নানা চিৎকার। শুধু মিডিয়া নয়, মোদিজী সহ তাঁর সরকারের মন্ত্রী নেতা পাতিনেতা সিকিনেতারাও একই কথা বলে গেলেন। সোশ্যাল মিডিয়ার পাতাও একই কথায় ভরে উঠল। এবারে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতবর্ষে দেশের জাতীয় অনুষ্ঠানে অথবা কোনও সরকারি ভবনে নিশান সাহিব কেন তোলা হবে বা প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশের জাতীয় পতাকা যেখানে উড়ানো হয় তার সঙ্গে ধর্মকে কেন মোড়া হবে — এ প্রশ্ন আমরা যারা ‘রাষ্ট্রের কোনও ধর্ম নেই’ তত্ত্বে বিশ্বাসী, তারা তুলতেই পারি। এবং আমরা তুলছিও। আলোচনা পর্যালোচনা করছি। কিন্তু আরএসএস- বিজেপি কি এ প্রশ্ন তুলতে পারে? নাকি এ প্রশ্ন তোলার অধিকার তাদের রয়েছে?  এই প্রজাতন্ত্র দিবসের সরকারি প্যারেডে উত্তরপ্রদেশের ট্যাবলোটা কী ছিল? রামমন্দিরের! দেশের সংবিধান বদলে দেওয়ার কথা যারা বলে, সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার গায়ে কালি ঢেলে একতরফা নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আসতে পারে, তারা হঠাৎ সংবিধান নিয়ে এতটা মাথা ঘামাতে শুরু করল কেন? স্বাধীনতার ৫০ বছর অব্দি যে আরএসএস দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি কোনওদিন, তারা হঠাৎ  জাতীয় পতাকার অবমাননা নিয়ে এতটা সরব কেন?  ঠিক এই প্রশ্নের উত্তরে এসেই কোনও না কোনওভাবে এই ফ্ল্যাগ লাগানোটা সিম্বলিকও বটে আমার কাছে। পাল্টা আঘাত যে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের থেকেও আসতে পারে সেটা জানাটা বিজেপি আরএসএসের একান্ত প্রয়োজন ছিল। তাদের নাকের ডগায় তাদেরকেই কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে এই ভয় পাওয়াটা জরুরি ছিল। যদিও কৃষক সংগঠনগুলো এই বিচ্ছিন্ন ঘটনা সম্পর্কে অন্য মত পোষণ করেন। মিডিয়ার দৌলতে সবাই তা জানেনও। আলাদা করে লেখার প্রয়োজন বোধ করছি না। বিজেপি সরকারের মতে যদি কৃষকরা অন্যায় করে থাকেন, তাহলে ১৯৯২ সালে করসেবকরা কী করেছিলেন? কৃষকদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগ আনা হলে, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে, অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট বের করা হলে, ইউএপিএ লাগালে, করসেবকরা দেশপ্রেমিক হয়ে উঠেন কী করে? জাতীয় পতাকার বিন্দুমাত্র অবমাননা না করে তার অনেক নীচুতে যদি নিশান সাহিব টাঙানও দশ শতাংশ কৃষক তাহলে করসেবকদের একটি ঐতিহাসিক সৌধের উপর গেরুয়া পতাকা টাঙিয়ে জয় শ্রীরামের অসভ্য উল্লাস দেশের সংবিধানের অবমাননা ছিল না?

কোন গণতন্ত্রের দোহাই তুলেছে আরএসএস-বিজেপি? পুলিশ দিয়ে ঘিরে ধরে দাঙ্গা করানোর গণতন্ত্র? কালবুর্গী, গৌরী লঙ্কেশ, রোহিত ভেমুলাদের খুন করার গণতন্ত্র? ভারভারা রাও, অখিল গগৈ, উমর খালিদ, কাফিল খানদের জেলে বন্দি রাখার গণতন্ত্র? নিজেদের ইচ্ছেমতো এনআরসি, ডিটেনশন ক্যাম্প, নাগরিকত্ব আইন, কৃষি আইন প্রণয়ন করার গণতন্ত্র? জয় শ্রীরাম চিৎকারে বিধর্মীদের একতরফা হত্যা করার গণতন্ত্র? লিঞ্চিং-এর গণতন্ত্র? ধর্মনিরপেক্ষ ভারতবর্ষকে হিন্দুরাষ্ট্র গড়ে তোলার গণতন্ত্র? বিজেপি আরএসএসের মতো তীব্র স্বৈরাচারী দলের মুখে গণতন্ত্র শব্দটা উচ্চারণের অধিকার নেই। একথা বাকি ভারতবাসীর বোঝাটা জরুরি। এবং এহেন এক স্বৈরশাসনে নিশান সাহিব উত্তোলন করাটা যে আসলেই কোনও বিতর্কের দাবি রাখে কি না সেকথাও বিশদ আলোচনার দাবি রাখে।

বিজেপি আরএসএস সমর্থক অনেকেই বিজেপির সাথে সাথে এই বুলি আওড়াচ্ছেন যে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন কৃষকদের লালকেল্লা অভিযানে সারা বিশ্বের সামনে নাকি দেশের মাথা হেঁট হয়ে গেল! আচ্ছা দেশের মাথা ১৯৯২ সালে হেঁট হয়নি? ২০০২-তে হয়নি? একতরফা এনআরসি, নাগরিকত্ব আইন, ডিটেনশন ক্যাম্পে হয়নি? কুড়িলাখ মানুষকে দেশহীন করে দেওয়ায় হয়নি? বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে ঢুকে শিক্ষক-ছাত্রীদের মাথা ফাটানোতে হয়নি? প্রতিনিয়ত ঘটে চলা দাঙ্গাগুলোতে হয়নি? জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে লিঞ্চিংগুলোতে হয়নি? এই সেদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ায় হয়নি? জামলো মকদমদের ছটফটিয়ে মৃত্যুতে হয়নি? হাথরসের ধর্ষিতা মেয়েটিকে রাতের আঁধারে পুলিশি প্রহরায় লুকিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ায় হয়নি? আম্বানি-আদানিদের হাতে দেশটাকে বেচে দেওয়ায় হয় না? দ্রব্যমূল্যের আকাশছোঁয়া দামে হয় না? বাকস্বাধীনতা হরণ করে দেশের চিন্তা, মেধাগুলোকে জেলে পুরে রাখতে হয় না? বিজেপি সরকার আর তাদের থিংক ট্যাংক আরএসএস এবার থেকে ঠিক করবে ঠিক কোন কোন কারণে দেশের মাথা হেঁট হয় আর কোন কোন কারণে হয় না? আর সেটা শুনে নতুন করে গণতন্ত্র, দেশের মর্যাদার সংজ্ঞা শিখতে হবে বাকি ভারতবাসীকে!

কৃষকদের গোটা তিনমাসের আন্দোলনে জাতীয় পতাকার নীচে নিশান সাহিব টাঙানোর মতো একটি ‘একক ঘটনাকে’ বিজেপি এবং তাদের দোসরদের কাছে বিরাট দেশদ্রোহ হতেই পারে, কেউ কেউ এটাকে ধনী সম্পন্ন কৃষকদের আন্দোলন নামে ট্যাগাতেই পারেন,  তাতে আসলে কিছুই যায় আসে না। যেটা যায় আসে, সেটা হল এই আন্দোলন ধনী কৃষক আর গরিব কৃষকের – এরকম আলাদা আলাদা কোনও বিষয় নয়। নতুন কৃষি আইনে ধনী কৃষক এবং গরিব কৃষক উভয়েরই বিপদ। পক্ষান্তরে গরিব কৃষকদের আরও বেশি বিপদ। এবং এর আঁচ আমরা যারা কৃষক নই, এইসব সাধারণ নাগরিকের উপরে এসেও পড়বে। এই কৃষকরা একদিন বিজেপিকে হয়তো ভোট দিয়েছিলেন তাই তাদের আজকের শাসকের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার অধিকার নেই ইত্যাদি ন্যারাটিভ নামানোতেও আসলে রাস্তায় নেমে করা আন্দোলনের কিছু যায় আসে না। রাষ্ট্রের নিপীড়নের জবাবে কৃষকরা তাদের উত্তর দিয়েছেন। এখনও দিচ্ছেন। স্পর্ধা আছে বলেই দিয়েছেন। আমাদের মতো দেশের হেরিটেজের মাথায় গেরুয়া পতাকা লাগিয়ে ‘জয় শ্রী রামে’র অসভ্যতম চিৎকার দেখে অথবা নাগরিকদের বেনাগরিক করা দেখে তথ্য কপচিয়ে ফেসবুকে ঠিক ভুলের বাতেলা ঝাড়তে বসেননি। ২০২১-এ দাঁড়িয়ে  অত্যন্ত গর্বের বিষয় এটাই যে গত সাত বছর ধরে চলা শাসকের যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পথ এদেশের কৃষকরাই দেখাচ্ছেন। রাষ্ট্রের যাবতীয় দমন পীড়ন সত্ত্বেও তারা তাদের দাবি থেকে একবিন্দুও সরে আসেননি। ভারতবর্ষ খেটে খাওয়া মানুষের দেশ। এদেশের প্রতিটি ধূলোয়, শস্যের প্রতিটি কণায় তাদের রক্ত ঘাম লেগে আছে। ইতিহাস সাক্ষী স্বৈরাচারী  শাসকের পতন গৃহযুদ্ধ নতুবা গণঅভ্যুত্থান ছাড়া সম্ভব হয়নি। কৃষকরা সেই গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছেন। লড়ছেন দাঁতে দাঁত চেপে। এবারে বাকি ভারতবাসীর পালা। তারা সেই অভ্যুত্থানে সামিল হবেন নাকি স্বৈরাচারী  শাসকের পদলেহন করে বাকি জীবনটা মরে বেঁচে থাকবেন!

এত বিদ্রোহ কখনও দেখেনি কেউ,
দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ;
স্বপ্ন-চূড়ার থেকে নেমে এসো সব—
শুনেছ? শুনছ উদ্দাম কলরব?
নয়া ইতিহাস লিখছে ধর্মঘট

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4063 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...