রোহিঙ্গা–- বেদনা, প্রতারণা আর অবহেলার প্রতিরূপ

শারিফুস সালেকিন-শাহান

 

বর্তমান মিয়ানমারের বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন আরাকান রাজ্য আয়তনে খুব বড় নয়। কথিত আছে আরব বণিকদের একটি জাহাজ সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় ডুবে যায়। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় অধিবাসিরা। তখন আরব বণিকরা রহম! রহম! বলেছিল। রহম শব্দটির অর্থ দয়া। সেই আরব বণিকরা ওখানেই থেকে যায়, বিয়ে করে সংসার পাতে। এদের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে স্থানীয়রা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়। পরবর্তীকালে এরাই রোসাং/রোসাংগ রাজ্য হয়ে বর্তমানে রোহিঙ্গা। ক্রমে বাঙালি, রাখাইন (মগ)-দের কিছু অংশ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হলে এরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পায়।

আরাকান রাজ্যের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত হলেও বর্ণাঢ্য । মহাকবি আলাওলের পদ্মাবতী কাব্য রচিত হয়েছিল আরাকান রাজের আনুকুল্যে।

ঢাকার মাটিতেই মিশে আছে আরাকানের গেরিলা যুবরাজের রক্তের দাগ।

১৭৮৪-তে আরাকান স্বাধীনতা হারায় বর্মনদের কাছে। তখন থেকেই প্রতিরোধ যুদ্ধ চলছিল। সেই যুদ্ধে সহযোগিতার নামে ১৮২৬-এ আরাকানে ব্রিটিশ দখলদারিত্ব কায়েম হয়। ১৮২৭-এ ব্রিটিশ বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধে নেমেছিলেন আরাকানের যুবরাজ শিউই বান (Shwe Ban) ও তার সহযোগী অং অ জা (Aung Kyaw Zan)। ব্রিটিশরা এক পর্যায়ে শিউই বানকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে এসেছিল। ১৮৩৪-এ ঢাকা কারাগারে আমরণ অনশন করতে যেয়ে মারা যান শিউই। মারা যাওয়ার আগে নিজের রক্ত দিয়ে তিনি জেলের দেয়ালে যা লিখে গিয়েছিলেন গবেষকরা তার ইংরেজি তর্জমা করেছেন এরকম :

“Those who will come in the future,
All Arakansese people;
Do not deviate with other thoughts
Follow my path
Diligently and resolutely
We shall regain our land Arakan
Keep up with the efforts and work with determinations,
Even Nirvana is not beyond the reach of attainment
I ring the bell of the truth,
These were my words at my death”

 

সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জি

৮ম শতাব্দী – রোসাং জনগোষ্ঠী স্বাধীন আরাকান রাজ্যে বাস করত।

৯ম থেকে ১৪শ শতাব্দী — রোহিঙ্গারা আরব বণিকদের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়।

১৭৮৪ সালে রাখাইন বৌদ্ধ রাজা বোদপায়া দুর্গম পাহাড় পেরিয়ে এসে রোসাং রাজ্য দখল করেন। ভয়াবহ অত্যচার থেকে বাঁচতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

১৭৯০ সালে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সকে রো

হিঙ্গা শরণার্থীদের দেখাশোনার জন্য পাঠানো হয়। উনি কক্সবাজার শহর প্রতিষ্ঠা করেন।

১৮২৪ থেকে ১৯৪২ – বার্মায় ব্রিটিশ রাজের শাসন। বার্মা ভারতের একটি প্রদেশ হিসেবে শাসিত হয়। হাজার হাজার মানুষকে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে বার্মায় নিয়ে যাওয়া হয়।

১৯৪৫ — অং সান (সু কি’র বাবা)-এর নেতৃত্বে বার্মার জাতীয়তাবাদী সংগ্রামী এবং রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ব্রিটিশ জাপানিদের হাত থেকে বার্মা পুনরুদ্ধার করে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আরাকানের স্বাধীনতা না দিয়ে বার্মার সাথে জুড়ে দেয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় সাধারণ বার্মিজরা জাপানের সাথে যোগ দেয়। আর ব্রিটিশরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে গঠন করে V-Force. এরা জাপানিদের প্রতিরোধ না করে সাধারণ বার্মিজদের উৎখাত করতে থাকে। ধর্ষণ, খুন, অগ্নিসংযোগ। ফলে মাত্র দুই বছরে এদের হাতে নিহত হয় ২২০০০ বার্মিজ।

বার্মিজরা খুন করে প্রায় ৫০০০ রোহিঙ্গা। ১৯৪২ সালের শেষের দিকে জাপানিরা বার্মা আক্রমণ করলে তারা নির্বিচারে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করে আগের খুনের বদলা নিতে। ফলে প্রায় ২০-২৫০০০ রোহিঙ্গা এ পাশে ব্রিটিশ বাংলায় এসে আশ্রয় নেয়।

১৯৪৮ – স্বাধীনতাকামী রোহিঙ্গা যারা পাকিস্তানের সাথে যোগ দিতে চেয়েছিল তাদের সাথে বার্মার সরকারের তিক্ততা বাড়তে থাকে।

১৯৫০ – মুজাহিদ নামের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু, সেটা কালক্রমে থিতিয়ে পড়ে।

১৯৬২ — জেনারেল নে উইন-এর নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখল, রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ নিপীড়ন শুরু।

১৯৭৭ – অপারেশন নাগামিন (ড্রাগন কিং) নামের সামরিক হামলা শুরু। ২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ পালিয়ে আসে।

১৯৭৮ – জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বার্মার সাথে বাংলাদেশের চুক্তি। প্রায় সমস্ত রোহিঙ্গা দেশে ফিরে যায়।

১৯৮২ – বার্মার সামরিক শাসকেরা নতুন অভিবাসী আইন করে। এই আইন অনুযায়ী ব্রিটিশ শাসনামলে যারা অভিবাসী হয়েছিল তারাও এবং তাদের বংশধর অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য হয়। বার্মা সরকার গোটা রোহিঙ্গা জাতিকেই ঐ আইনে অবৈধ অভিবাসী ঘোষণা করে।

১৯৮৯ – সামরিক বাহিনী বার্মার নাম পরিবর্তন করে মিয়ানমার নাম গ্রহণ করে।

১৯৯১ – ২৫০০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। মিয়ানমার সেনাদের অধীনে দাসত্ব, ধর্ষণ আর ধর্মীয় পরিচয়ে অত্যাচারের কারণে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা শুরু।

১৯৯২ – ১৯৯৭ — ২৩০০০০ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যায়। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নতুন চুক্তি হয়।

২০১২ – রাখাইন নারী ধর্ষণের কথিত অভিযোগে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দাঙ্গা। ১০০ জন নিহত, বেশিরভাগ রোহিঙ্গা।

ঊল্লেখ্য এই সময়ে মিয়ানমারে গোঁড়া বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের আন্দোলন শুরু হয় যার পেছনে ছিল সামরিক বাহিনী-– সু কি’র প্রতিপক্ষ হিসেবে যাদের পেছনে এখনও সেনাবাহিনীর সমর্থন আছে। এরা শুধু রোহিঙ্গা নয়, সমস্ত মুসলমানদের– যারা অন্য প্রদেশে বাস করে, জাতিগত পরিচয় ভিন্ন, তাদেরকেও হামলার লক্ষ করেছে।

২০১৬ – রোহিঙ্গা সশস্ত্র জঙ্গি হারাকাহ আল ইয়াকিন (আরসা) মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীদের পোস্টে হামলা চালিয়ে ৯ জন সীমান্ত রক্ষী হত্যা করে। ফলশ্রুতিতে নতুন করে সেনা সহিংসতায় ২৫০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুন এসবের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন সু কি।

২০১৭ – সর্বশেষ হামলা। একসাথে ২৪টা সেনা ও সীমান্তরক্ষী চৌকিতে হামলা করে আরসা। ফলশ্রুতিতে সু কি গোটা রাখাইন প্রদেশ থেকে সমস্ত সাংবাদিক ও বিদেশি এন জি ও, জাতিসংঘের কর্মীদের বহিষ্কার করেন এবং গণহত্যার নতুন পর্ব শুরু হয়। মাত্র ১০ দিনে প্রায় ১২০০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

 

নাগরিক না হলে রোহিঙ্গারা এমপি হয়েছিল কীভাবে?

বার্মা সরকার এবং সেদেশের সেনাবাহিনী বর্তমানে বেশ জোরেসোরেই বলে থাকে– আরাকানের রোহিঙ্গারা সেদেশের নাগরিক নয়, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মানুষ।

এই দাবি ১০০% মিথ্যা।  ১৯৪৮ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত সুলতান মাহমুদ, আবুল বাশার, আব্দুল গাফ্ফার, জোহরা বেগম প্রমুখ যে আরাকানের মুসলিম প্রধান এলাকাগুলো থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে দেশটির পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন বছরের পর বছর (মন্ত্রীও হয়েছিলেন!) সেটা কীভাবে সম্ভব হল? এই ব্যক্তিরা কীভাবে নির্বাচনে দাঁড়ালেন?

এমনকি ১৯৯০-এ সামরিক বাহিনীর অধীনে বার্মায় বহু দিন পর প্রথমবারের মতো বহুদলীয় নির্বাচন হল (যে নির্বাচনে অং সান সুচির দল নির্বাচিত হয়েও সরকার গঠন করতে পারেনি) তখন নীচে উল্লিখিত রোহিঙ্গারা কীভাবে উত্তর আরাকান থেকে পার্লামেন্টে নির্বাচিত হতে পারলেন? কিভাবে তখন রোহিঙ্গারা নিজস্ব রাজনৈতিক দল (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক এন্ড হিউম্যান রাইটস পার্টি) থেকেই প্রার্থী হতে অনুমতি পেয়েছিল? আইন অনুযায়ী ঐ নির্বাচনে ‘বিদেশী’ ছাড়া সকলকেই ভোট দিতে দেয়া হয়েছিল। তাহলে বুথিডং ও মংডুর এই রোহিঙ্গারা কাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন?

খ মিং (শামসুল আনোয়ার) (বুথিডং-১)
মো. নুর আহমেদ (বুথিডং-২)
উ চিট লুইঙ (ইব্রাহিম, মংডু-১)
ফজল আহমেদ (মংডু-২)

পুনশ্চ:

উপরের প্রথম চারজন এমপি’র মধ্য থেকে শামসুল আনোয়ারকে (নীচের সারিতে বাম দিক থেকে দ্বিতীয়) অং সান সুচি ১৯৯৮ সালে রোহিংগাদের প্রতিনিধি হিসেবে ‘পিপলস পার্লেমেন্টে’ যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং শুধু এই ডাকে সাড়া দেয়ার কারণে তাঁর ৪৭ বছরের জেল হয়েছিল। এমনকি তাঁর পুত্র-কন্যাদেরও ১৭ বছর করে সাজা দেয়া হয়। অথচ এখন সুচিও উত্তর আরাকানে রোহিংগাদের কোনরূপ উপস্থিতির কথা অস্বীকার করে থাকেন!!

আর এস ও (রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন) এবং আরসা

একদিকে যুগ যুগ ধরে চলা মগদের (রাখাইন) অত্যাচার, সরকারি অত্যাচার, বিধিনিষেধ আর অন্যদিকে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ-– রোহিঙ্গারা স্বাভাবিকভাবেই সশস্ত্র যুদ্ধের দিকে ঝুঁকেছে। কিন্তু নেই বড় নেতা, সংগঠিত রাজনৈতিক দল। তাদের পাশে প্রকৃতপক্ষে কোনও দেশ নেই, পাকিস্তান পেছনে সাথে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম মৌলবাদী দলগুলি। ৯/১১ উত্তর যুগে এভাবে কোনও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।

সেই অসম্ভব যুদ্ধে আর এস ও’র ব্যর্থতার পর এসেছে আরসা। এই সংগঠনের প্রাণপুরুষ ড. ওয়াকার উদ্দিন পাকিস্তান, সি আই এ এর প্রিয় পাত্র।

 

কোফি আন্নান কমিশন

সু কি রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কোফি আন্নানের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করেন। রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে সু কি’র এই উদ্যোগটি প্রকৃতপক্ষেই সাহসী এবং কার্যকরী প্রচেষ্টা। রাখাইন রাজ্যের মগ (রাখাইন) অধিবাসীরা চরম অসন্তোষ এবং প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছিলেন। যদিও সরকার ও সেনাবাহিনী কোফি আন্নানের দলকে স্বাধীনভাবে বিভিন্ন স্থানে যেতে দেয়নি বা রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলতে প্রতিবন্ধকতা করেছে, তবুও কমিশনের ৮৮ টি সুপারিশকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে কোফি আন্নান কমিশন সমস্ত চাপ উপেক্ষা করে যখন রিপোর্ট দিল এবং সেটা রোহিঙ্গাদের দাবির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং সেটার প্রতি বিশ্বজুড়ে সমর্থন থাকা সত্ত্বেও কেন আরসা হামলা করল? ঐ হামলা পরবর্তী বিশ্ব জনমত সম্পূর্ণরূপে রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে চলে গেছে। ভারত, চীন এবং পাকিস্তান মিয়ানমারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। ভারত এবং চীন (ভিন্ন ভিন্ন কারণে) মিয়ানমারের পক্ষে সমর্থন জানানোয় বাংলাদেশ অত্যন্ত জটিল এবং কঠিন এক সমস্যায় পড়েছে।

 

বাংলাদেশের সামনে বিপদ

আগামী বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। কাজেই সেই নির্বাচনের আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। আওয়ামী লিগের ধারণা এই যাত্রার রক্তপাত মূলত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা। মনে হচ্ছে, ভারত সরকারও ঐ ধারণা পোষণ করে।

এ ছাড়াও আরাকানের বিপুল গ্যাস চীনে রপ্তানি শুরু হলে মিয়ানমার আরও বেশি করে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়বে, তখন আমেরিকা, জাপান আর ভারতের পক্ষে মিয়ানমারে চীনের সামরিক উপস্থিতি মেনে নেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। আরাকানের আকিয়াব বন্দর (সিত্তওয়ে) উন্নয়নের কাজ করছে চীনারা। সেই বন্দর পুরোপুরি চালু হলে চীনের কাছে মালাক্কা প্রণালীর গুরুত্ব অনেক কমে যাবে, ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। চীনের বিনিয়োগে বাংলাদেশের সোনাদিয়া ডিপ সি পোর্ট প্রকল্প আমেরিকা, জাপান আর ভারতের প্রবল আপত্তির মুখে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চীন সিত্তওয়ে বন্দর উন্নয়ন শুরু করে। একটা মানচিত্র নিয়ে সিত্তওয়ে এবং শ্রীলংকার হাম্বানটোটা আর পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দর খুঁজে দেখুন-– বিখ্যাত স্ট্রিং অফ পার্ল।

ভারত আর বাংলাদেশকে এক সাথে এই সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। কারণ বাংলাদেশের ভেতরে চরম ভারত বিরোধী মনোভাব, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে ভারতের সমর্থন, আওয়ামী সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি এবং অব্যাহত প্রচারের কারণে ২০১৮-র নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারালে বাংলাদেশ সম্পূর্ণরূপে পাকিস্তানের হাতে পড়ে যাবে।

ভারত নিশ্চয়ই তার পূর্ব সীমান্তে একটা আফগানিস্তান চাইবে না। কাজেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মোদী সরকার কতটা ভবিষ্যৎদ্রষ্টা সেটা বড় নিয়ামক। আমেরিকার চাপ, পাকিস্তানের চাতুরি আর দেশের ভেতরে বাড়তে থাকা মৌলবাদীদের চাপ উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা কতটা ঠাণ্ডা মাথায় কাজ করতে পারে সেটা নির্ধারণ করে দেবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এবং সেই সাথে ভারত মিয়ানমার চীনের রাজনৈতিক গতি প্রকৃতির অনেকটা অংশ।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : আফজাল অরণ্য এবং আলতাফ পারভেজের লেখা থেকে উদ্ধৃতি এবং ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়েছি।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4063 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...