সনন্ত তাঁতি-র কবিতা

সনন্ত তাঁতি-র কবিতা | ভাষান্তর: বাসুদেব দাস

বাসুদেব দাস

 

অসমিয়া সাহিত্যের অন্যতম কবি, সাহিত্য আকাদেমি, অসম ভ্যালি পুরস্কার বিজেতা জনপ্রিয় কবি সনন্ত তাঁতি দীর্ঘকাল কালব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকার পরে সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেছেন। ‘উজ্জ্বল নক্ষত্রর সন্ধানত’ কাব্যগ্রন্থের কবি সনন্ত তাঁতি ১৯৫২ সনে অসমের করিমগঞ্জের কালিনগর চা বাগানে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৭ সনে অসম ভ্যালি লিটারেরি এওয়ার্ড এবং ২০১৮ সনে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। কাব্যগ্রন্থগুলি যথাক্রমে ‘মই মানুহর অমল উৎসব’, ’নিজর বিরুদ্ধে শেষ প্রস্তাব’, ’শব্দত অথবা শব্দহীনতাত’, মৃত্যুর আগর স্টপেজত’, ’কাইলৈ্র দিনটো আমার হব’, ’দীর্ণ বসন্তর সৌ্রভ ইত্যাদি। গত ২৫ নভেম্বর এই মহান কবির মৃত্যু হয়।

জনপ্রিয় এবং অজাতশত্রু এই কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কবির দশটি কবিতার বাংলা অনুবাদ পাঠকদের হাতে তুলে দিলাম। মূল অসমিয়া থেকে কবিতাগুলির বাংলা অনুবাদ করেছেন বাসুদেব দাস।

 

তোমার কাছ থেকে

তোমার কাছ থেকে আমি তোমার স্মৃতি  ছাড়া কিছুই চাই না।
স্মৃতিটুকু নিয়ে যাত্রা করতে পারলে আমার জীবন ধন্য হতে পারে।
তাই উদার হয়ে এখন সঁপে দিতে পারি হৃদয়। যতদিন পর্যন্ত রক্তের
সংজ্ঞা খুঁজে না পাই। যতদিন পর্যন্ত জীবনের সংজ্ঞা খুঁজে
না পাই রক্তের ভেতরে।

তোমার কাছ থেকে আমি কিছুই চাই না এই সন্ধিক্ষণে। চারপাশে
ছিটকে গিয়ে টুকরো টুকরো হলে অন্য কথা। আমি নিজের রক্তে হাত
ভেজাতে পারলে অন্য কথা।

মৃত্যু এবং জীবনের রহস্য জানার জন্য উৎসুক হয়ে সমস্ত দরজা খোলার
পরেও আমি কিছুই চাইনি তোমার স্মৃতি ছাড়া। তোমার
স্মৃতিজড়িত ইতিহাসের পাতায় আমি খুঁজে পাই আমার সমস্ত পাওয়ার
ঠিকানা।

তোমার কাছ থেকে আমি তোমার স্মৃতি ছাড়া কিছুই চাই না।
তোমার স্মৃতি জড়িত সমস্ত যুদ্ধ জয়ের সংলাপ নিয়ে আমি ধীরগতিতে
এগিয়ে যাই।

 

 

কোনও অপরিচিত স্টেশন থেকে

নিজেকে রক্তাক্ত করে এখনও তোমার সন্ধানে যাই
এখনও কোনও অচিন স্টেশন থেকে চীৎকার করে ডাকি তোমার নাম
তোমার নামের সঙ্গে জড়িত সমস্ত স্মৃতিকে তোলপাড় করে তুলি

তোমাকে খুঁজে পেলে বসন্ত ফিরে আসবে আমার ধাবমান রক্তকণিকায়
পৃথিবীর ক্লান্ত ইতিহাস পার হয়ে  আমি বহন করছি তোমার পতাকা
আমার সমর্থ বুকে তোমার প্রথম প্রজন্মের সন্তান তুলে ধরবে আশা
আমি প্রসারিত হব

তোমাকে খুঁজে পেলে বসন্ত ফিরে আসবে আমার দীর্ঘ ছায়ায়
নত স্বর হবে অন্ধকার কলুষিত রাত্রি
জনরব হবে
আমার জীবনের ভেতরে আরও একটি জীবনের প্রস্তুতিতে
ভেঙ্গে পড়বে অন্ধকার ঘেরা আলো

নিজেকে রক্তাক্ত করে তোমার অদ্ভুত সুগন্ধের  অপেক্ষায় থেমে থাকি
তোমার ঠিকানা খুঁজে এখনও কোনও অপরিচিত স্টেশন থেকে চিৎকার করে ডাকি
তোমার নাম। তোমার নামের সঙ্গে জড়িত সমস্ত স্মৃতি স্মরণ করি
নিজেকে রক্তাক্ত করে দিনের পর দিন।

 

 

সনন্তের  অসুখের সময়

সনন্তের অসুখের সময় মনালিসা জেনার জন্য অনূদিত হয় একমুঠো
অসমিয়া কবিতা অথবা পর্যটন এবং অক্টাভিও পাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে থাকে সমীর।
একজন কবির ঘরে  স্বেচ্ছাচারী পদাতিক দল তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে ঘোষণা
করে রেখে যায় কবিকে হত্যার কথা। চল্লিশটি বসন্ত পার হওয়ার পরে
ভেঙ্গে পড়ে ভারতীয় অর্থনীতি। ক্ষুধার জন্য আরম্ভ হয় সন্ত্রাসবাদ অথবা বিপ্লব।

সনন্তের অসুখের সময় খুব দ্রুত লেখা হয় অসমিয়া কবিতা। কবিরা
হয়ে পড়ে পতঙ্গের মতো চঞ্চল অথবা অনুশাসনহীন। তাঁর প্রিয় বন্ধু-বান্ধবরা
থাকে উদাসীন এবং সংবাদহীন। কল্পনার এক নম্বর টেবিলে হেমন্ত কবিতা পাঠ
করে। গোধূলির নির্বাপিত আগুনে বিচরণ করে কিশোর অথবা খনীন দাস।
সমীরণ শুয়ে থাকে রাতকে বুকে নিয়ে নিঃসঙ্গতায়।

সনন্তের অসুখের সময় মনালিসা জেনার জন্য অনূদিত হয় একমুঠো
অসমিয়া কবিতা অথবা পর্যটন এবং অক্টাভিও পাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে থাকে সমীর।
পণবন্দীর  মুহুর্মুহু খবরে ব্যস্ত হয়ে থাকে নগরীর সমস্ত টেলিপ্রিন্টার।
সার্গেই গ্ৰিটসেনকোর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিতর্কে ম্লান হয় দিনগুলি। হৃদয়ের প্রজাপতিগুলি
ফিরে যায় দেবুর কাছে। মাঝরাতের ছবি দেখে দেবু লেখে হৃদয়ের প্রজাপতিগুলি।
এসো হৃদয়ের প্রজাপতিগুলি–

সনন্তের অসুখের সময় দিন বাড়ে  রাতবাড়ে। ফুলের সবকিছু শেষ করে
চলে যায় ভ্রমর। কবিতা উঠে দাঁড়ায়। কবিতাই কেবল উঠে দাঁড়ায়।
ভুল যুদ্ধ করার জন্য।

 

 

খুঁজে বেড়াচ্ছি

নতুন হয়ে উঠা মুখগুলিতে। উত্তেজিত দিনগুলির শব্দগুলিতে। নদী এবং
কল্লোলিত জলরাশিতে। নীলাভ আগুনের শব্দহীনতায় অথবা আরক্ত হয়ে উঠা
অন্ধকারে।

নগরীর কোনও কোনও গ্রন্থবিপনিতে অথবা কোনও কোনও কবির কবিতায়।
বিবেচক খবরের প্রতিষ্ঠানে। শিল্প গ্যালারিতে অথবা সেলুলয়েডে।
উচ্ছ্বসিত ভাবে  প্রশংসিত নাটক গুলিতে। অনুভূত গীতগুলির উৎসে।
শঙ্কাহীন ভাবে যেতে থাকা মানুষের শোভাযাত্রায়। অগ্নিকে  ছুঁয়ে শপথ নেওয়া
দুর্বিনীত হয়ে উঠা চোখগুলির প্রোজ্জলতায়। অথবা সম্ভাবনাপূর্ণ গর্ভগুলিতে।
একটি নিষ্পাপ আকাশের নিচে জন্ম নিতে চাওয়া নিরুদ্বিগ্ন প্রজন্মের প্রাক্কালে।
সবুজ প্রান্তরের কলধ্বনিতে। প্রচ্ছন্ন ভোরে। ক্লান্ত গোধূলিতে। অথবা আগুন হয়ে
জ্বলে উঠা ভর দুপুর বেলা।

খুঁজে বেড়াচ্ছি তোমাকে।
চোখ বন্ধ করে দুঃখের কাছে। চোখ বন্ধ করে আর্তনাদের কাছে।
চোখ বন্ধ করে অপমানিত মানুষের মৃত্যুর কাছে দাঁড়িয়ে থাকার মতো
সমস্ত স্বাভাবিক অভ্যাসে। ধমনীর রক্তে জন্ম হওয়া সক্ষমতায়।
শব্দগুলিতে অথবা শব্দহীনতায়।

 

 

সমস্ত কবি আমার মতো ইচ্ছা প্রকাশ করে না

সুখের জন্য গরিলা বাহিনীর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন এবং দুঃখের জন্যে স্বৈরশাসন
অবশ্য সমস্ত কবি আমার মতো এভাবে ইচ্ছা প্রকাশ করে না
কেননা অধিক সংখ্যক কবিরেই নিজস্ব মহল আছে টিভি ফ্রিজ ভিসিআর
সুন্দরী রমণীর সঙ্গে অসংখ্য ব্যাংকের হিসেব

তাঁরা উচ্চ পদাধিকারী পুরস্কার প্রাপ‍্যকে নিজস্ব  বাহনে যাতায়াতকারী
সম্পণ্ণ গৃহস্থ কবি
তাঁরা মাঝে মধ্যে কবির সভায় ধীরে ধীরে উচ্চারণ করে স্বৈরস্ত্রোত্র
কবিতার শব্দে

সমগ্র দেশে এই ধরনের কবির সংখ্যা হাজার হাজার
আর সমগ্র দেশে এই ধরনের পাঠকের সংখ্যাও হাজার হাজার
কারণ এঁরা ভালোবাসে পিঠে চাবুক খেয়ে ঘোড়ার মতো দৌড়াতে
এবং দুঃখের কাছে মাথা নুইয়ে বসবাস করতে

সুখের জন্য গরিলা বাহিনীর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন এবং দুঃখের জন্যে স্বৈরশাসন
আমার এই ধারণাটির সঙ্গে আমি নিজেও একদিন প্রবল সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়েছিলাম
উজাগরে পার করেছিলাম অনেক দীর্ঘ রাতের স্মৃতি
অবশেষে উপলব্ধি করেছিলাম যে মানুষ হয়ে বেঁচে থাকাটাই
একজন কবির পক্ষে গর্বের বিষয়

সুখের জন্য গরিলা বাহিনীর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন এবং দুঃখের জন্য স্বৈরশাসন
অবশ্য সমস্ত কবিই আমার মতো এভাবে ইচ্ছা প্রকাশ করে না

 

 

বিপ্লব

বিপ্লব মানে যারা ভাবে কেবল ক্ষমতার হস্তান্তর
আমি তাঁদের দলে নই
বিপ্লব মানে শ্রেণিসংগ্রামে জয়ী  মানুষের
উষ্ণ হিরন্ময় মুখগুলি

বিপ্লব মানে বুলেট বিস্ফোরণ
হত্যা ধ্বংস রক্তপাতের পরে সূর্যস্নাত ভোর
নদীর জলের গর্জন
রাতের স্বচ্ছ জ্যোৎস্না
বিপ্লব মানে শিশুর কুলুকুলু হাসি

বিপ্লব মানে যারা ভাবে কেবল  ক্ষমতার হস্তান্তর
আমি তাদের দলে নই
বিপ্লব মানে বুলেট বিস্ফোরণ শ্রেণিসংগ্রাম
বিপ্লব মানে নতুন চিন্তার শস্য সোনালি আশার গান
অমল বৃষ্টি

বিপ্লব মানে প্রবাহিত অন্ধকার রাতের নির্মোক ছিঁড়ে
উন্মোচিত স্বাস্থ্যোজ্জ্বল সময়

 

তোমার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে

উপর্যুপরি চারবার তোমার সঙ্গে দেখা
আর চারবারেই প্রেম

উদগত দুঃখে আমার শৈশবের নিরক্ষর মায়ের কোলে
তৎপর শিশুর চোখে প্রথমবার

পদাতিক স্পর্ধায় ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই করার সময়
পিতার যুথবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় অঙ্গীকারময় যৌবনের প্রারম্ভে
মাথা নত করে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয়বার

নতজানু হয়ে প্রত্যেকটি দুস্থ মানুষের ভেতরে আরও ভেতরে
উঁকি দিতে গিয়ে সাধারণ শব্দমগ্নতায় ভেসে ভেসে
তৃতীয় ভুবন তোলপাড় করে কাঁধে স্তব্ধ সংযমের পতাকা নিয়ে
তোমার সঙ্গে তৃতীয়বার

আর আজ স্বাগত সময়ে
আমার বুকের প্রতিটি কামিহাড় খুলে খুলে হৃদয় কুসুমতুল্য করে
তোমার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে

উপর্যুপরি চারবার তোমার সঙ্গে দেখা
আর চারবারেই প্রেম


টীকা: কামিহাড়- বুকের চ্যাপ্টা হাড়

 

,
আমি তোমাদের আমি তোমাদের

উর্বর মাটির চাষে আমার ইপ্সিত শস্যের জন্য
আমি তোমাদের প্রার্থিত প্রতিটি হাতের তূণ
স্থিতি এবং ধ্বংসের বিস্তৃত ভাস্কর্যের নির্মাণ
তোমাদের যন্ত্রণাকাতর কণ্ঠস্বরের অমোঘ ঘোষণা

মাটির সঙ্গে মাটি মেখে আমার ইপ্সিত শস্যের জন্য
আমি তোমাদের অন্ধকারের অবিরল আলোর দ্যোতনা
নৈঃশব্দ্যতায় প্রগাঢ় সুরের ধ্বনি
স্থিতি এবং ধ্বংসের বিস্তৃত ভাস্কর্যের নির্মাণ
তোমাদের বন্ধ মুখের সংলাপ
আমি তোমাদের  আমি তোমাদের

 

 

হামদের কথা বাবুরা লেখেন

হামদের কথা বাবুরা লেখেন হামরা বসে থাকি ঘরে
হামদের পেটে আগুনের মতো ক্ষুধা সারাদিন সারারাত
হামদের রুটি ও খুদের জাউ লাগে

বাবুরা বলেন– ‘এঁদের শরীর পাথরের মতো খোদাই ভারী  নিতম্ব
কালো শরীর প্রসারিত যৌবন এঁরা গান গায়
ঝুমুর নেচে শেষ করে রাত
বর্ষার মেঘের মতো বেজে ওঠে মাদল রাতে- সারারাত
হামদের কথা বাবুরা লেখেন হামরা চুপ হয়ে বসে থাকি ঘরে
হামরা বুঝিনা ভাষা ও কবিতা
বাবুরা বলেন– ‘এঁদের পেশীবহুল শরীর ভারতবর্ষের উর্বর মাটি
এঁদের শরীর চাষ করে বের করে নাও রস
এঁরা কর্মঠ এবং পরোপকারী এঁরা কামড়ায় না’

বাবুরা জোরে চেঁচাতে পারেন হামরা ঘরে বসে শুনি
হামদের পেটে জ্বলে ওঠে ক্ষুধা আগুনের মতো সারারাত
হামদের খুদ ভাত কেড়ে নেয় ওই নিঠুর গ্রামদেবতা
বাবুরা বলেন–’কাজের বদলে খাদ্য কাজের বদলে বেকার ভাতা
এবার বিপ্লব এসেছে ঘরে’

হামদের কথা বাবুরা লেখেন হামরা বুঝিনা অক্ষর
বাবুরা টাই প্যান্ট ছেড়ে পায়ে হেঁটেই চলে আসেন মাঠে
মদার ফুলের মতো কেঁপে উঠে লাল
বাবুরা বিয়ার খান পুড়ে গেলে রোদে

হামদের কথা বাবুরা লেখেন
হামরা চুপ হয়ে বসে থাকি ঘরে

 

আমার মা

প্রতিটি কবির মায়ের মতো  আমার মা নয়
আমার মা সাহিত্য এবং শিল্পকলা সম্পর্কে কবিতা কিংবা ভাস্কর্য সম্পর্কে
ওয়াকিবহাল নন

চলচ্চিত্র কিংবা নাটকের সংলাপ শুনলেও
আমার মায়ের মুখের কোনও পরিবর্তন হয় না

আমার মা আর্ট গ্যালারি এবং নন্দনতত্ত্ব সম্পর্কে অনভিজ্ঞা মহিলা
টেলিপ্রিন্টার যে খবর প্রতিষ্ঠানের আধুনিক সরঞ্জাম আমার মা জানেনা
আকাশবাণী এবং দুরদর্শনে যে শব্দ এবং চিত্রের মাধ্যমে
মানুষ সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে বুঝে নেয় আমার মা জানে না
আমার মা কখনও টেলিফোনে কথা বলেনি
(সাধারণ শ্রমিকের জন্য টেলিফোনে কথা বলা
একটা উল্লেখযোগ্য বিলাসিতা)
এভাবেই আমার মা জীবনে এক জোড়া পাদুকা পরেনি

আমার মা বিপ্লব বুঝে না কিংবা শ্রেণিসংগ্রাম
পুঁজিবাদ এবং সাম্যবাদের দ্বন্দ্ব সম্পর্কে
গান্ধীবাদ এবং মার্ক্সবাদের বিপরীতধর্মিতা সম্পর্কে
সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞা আমার মা
আমার মা জানে না যে নির্বাচনের ভোটের ফলাফলে
বেশিরভাগ মানুষেরই গায়ের চর্বি
এবং শিরাতন্তুর প্রসারণ ঘটে
অথচ এবার নিয়ে আমার মায়ের জীবনে ষষ্ঠ নির্বাচন

লেমনেড, কোলড্রিংস কিংবা কফি
চিকেন-চাও কাটলেট কিংবা স্যান্ডউইচের কথা আমার মা কখনও শুনেনি

আমার মা প্রেস-কনফারেন্স সেমিনার
কিংবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পর্কে কখনও শুনেনি
আমার মা সম্পূর্ণ সাধারণ একজন শ্রমিক মহিলা

প্রতিটি কবির  মায়ের মতো নয় আমার মা
আমার মা বিপ্লব বুঝে না কিংবা  শ্রেণিসংগ্রাম
অথচ দীর্ঘদিনের বৃদ্ধা আমার মা
শোষণ এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে
প্রত্যেকটি অন্ধকারে অবিরল আমার আলোর দ‍্যোতনা

আমার মা তুষার এবং তুফানের অন্ধকার এবং নিষ্পেষণের
আমার মা ক্ষুধা এবং অপমানের আমার মা অন্যায়ের বিরুদ্ধে
আমার ফুল এবং সুন্দরতার প্রতীক

 

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3960 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...