দেশ ভাল চলছে না— মানুষের জীবনের কোনও নিরাপত্তা নেই

ষষ্ঠী মুন্ডা

 


দেশের যা অবস্থা দেখি টিভিতে, এই যে অন্যায়ভাবে মানুষ মানুষকে আক্রমণ করছে নানাভাবে, মানুষের জীবনের কোনও নিরাপত্তা নেই, এসব তো একেবারেই ভাল লাগার কথা নয়। আমার ব্যক্তিগত এ-ধরনের কোনও সমস্যা না হলেও দেশের পরিস্থিতি যে ভাল না, তা বুঝতে পারি

 

দেশের যা অবস্থা দেখি টিভিতে, এই যে অন্যায়ভাবে মানুষ মানুষকে আক্রমণ করছে নানাভাবে, মানুষের জীবনের কোনও নিরাপত্তা নেই, এসব তো একেবারেই ভাল লাগার কথা নয়। আমার ব্যক্তিগত এ-ধরনের কোনও সমস্যা না হলেও দেশের পরিস্থিতি যে ভাল না, তা বেশ বুঝতে পারি। এই তো ভোট আসছে। ভোট দেব। ওটা তো দিতে হবেই। কিন্তু সরকার বদলালেই যে অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যাবে তা মনে হয় না। নেতারা তো সব একই। আজ এ-দলে তো কাল ও-দলে। তাই দল পরিবর্তন হলেও নেতার পরিবর্তন হবে না, অবস্থারও পরিবর্তন হবে বলে আমি মনে করি না।

আমি নিজে কৃষক, কৃষিকাজ করি। আমি, আমার স্ত্রী দুজনেই। বাড়িতে স্ত্রী ছাড়া আমার দুই ছেলে আছে। বড়ছেলের বিয়ে হয়েছে। তাদের দুটো বাচ্চা। ছেলেরাও আমাদের মতোই কৃষিমজুরের কাজ করে। আমাদের নিজেদের জমিজায়গা নেই। অন্যের জমিতে জন খাটি। দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি পাই। কিন্তু চাষের কাজ তো আর রোজ থাকে না। আমাদের এখানে কৃষিকাজের খুব সমস্যা। পরিবেশ একদম বিগড়ে গেছে। বৃষ্টির কোনও রুটিন নেই। দখিনা বাতাস নিজের স্বাভাবিক সময়ে বইছে না। আসলে এদিকের সব জমিই তো কিছুদিন আগে অবধি এত নোনা ছিল যে চাষবাস করাই যেত না। এখন নুনের ভাবটা কাটলেও আবহাওয়া একটু এদিকওদিক হলেই সমস্যা হয়ে যায়। এই সবকিছুর জন্য কৃষিকাজ খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমাদের এখান বলতে ত্রিদিবনগর। ঝড়খালি ত্রিদিবনগর। সুন্দরবন।

 

পড়ুন, ইলেকশন এক্সপ্রেস ২০২৪

 

একে তো কাজের এই অবস্থা— সব সময় কাজ থাকে না— তার ওপর বয়স বাড়ছে, রোগব্যাধি বাড়ছে, আর তার সঙ্গে বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম— ফলে আমাদের ধারদেনা লেগেই থাকে। সংসার চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।

সত্যি কথা বলতে, সংসারের এখন মূল খরচ হয়ে দাঁড়িয়েছে চিকিৎসার খরচ। বললামই তো, বয়স হচ্ছে, রোগব্যাধিও লেগে আছে। ওষুধবিষুধের খরচও তো সমানে বাড়ছে।

আমার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড আছে। যদিও সেটা এখনও ব্যবহার করা হয়নি। ডিজিটাল রেশন কার্ড, মানে যেটাকে খাদ্য সুরক্ষা কার্ড বলে, সেটাও আছে। আমার স্ত্রী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পায়। জনধন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট একটা আছে জিরো ব্যালান্সের। এমনি কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। টিভি আছে একটা বাড়িতে। খবর-টবর দেখি। খবরের কাগজ দেখা হয় না। আমার দুই নাতিনাতনি স্কুলে পড়ে।

সরকারের থেকে এই যে সুযোগসুবিধাগুলো পাই, এর মধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারটাই সবচেয়ে কাজে লাগে। কৃষকবন্ধু আমি পাই না। আমার তো ৬০ বছর বয়স হল। দুয়ারে সরকার-এ বয়স্কভাতার জন্য আবেদন করেছিলাম। সেটা হয়নি এখনও।


*সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুলিখিত। চার নম্বর প্ল্যাটফর্মের পক্ষে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ত্রিদিব বর্মন

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4725 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...