হাজারটি বেয়নেটের চেয়ে ভয়াবহ

বিশ্বনাথ উদিত

 

আমাদের দেশ স্বাধীন হওয়ার নয় মাস আগেই শাসনব্যবস্থা কেমন হবে তা গভীরভাবে বিবেচনা করার জন্য গণপরিষদ (constituent assembly) গঠন করা হয়। বিদেশি শাসনের অর্গলমুক্ত হয়ে জাতির আশা-আকাঙ্খাকে রূপ দিতে প্রথমেই স্থির হয় সংবিধানের তিনটি মূল লক্ষ্য হবে ন্যায়, সাম্য এবং ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা। ব্যক্তির স্বাধীনতাকে ভাবা হয় চিন্তার, মতপ্রকাশের, বিশ্বাসের, ধর্ম পালনের, জীবিকার, কর্মের ও গোষ্ঠীবদ্ধ হওয়ার স্বাধীনতা। বিআর আম্বেদকর জোর দিয়ে বলেন শুধু মহৎ উদ্দেশ্য ঘোষণা করলেই হবে না, প্রশাসন পথচ্যুত হলে সংশোধনের উপায় সংবিধানে পরিষ্কারভাবে লিখিত থাকতে হবে। তা না হলে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।

তিন বছর বিস্তর আলোচনা ও নিরন্তর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ আমরা সংবিধান পাই যা সারা বিশ্বের সমস্ত উন্নত দেশের সংবিধান ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের দেশের বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই করে ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতকে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র বলে ঘোষণা করে। এই সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে কিছু মৌলিক অধিকার দেয় যা কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা প্রশাসনের নেই সংবিধানে লিখিত বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া। এবং প্রশাসন তার গণ্ডির মধ্যে কাজ করছে কি না তা বিচারের অধিকার আদালতের। বিশেষত ২১ নম্বর ধারা অতি সংক্ষেপে দুটি অধিকার দেয়, জীবনের ও ব্যক্তিস্বাধীনতার। গভীর তাৎপর্যপূর্ণ তিনটি শব্দে বিধৃত এই অধিকারের ব্যাখ্যা সর্বোচ্চ আদালত এখনও করে চলেছে। যার ফলে নাগরিকের সামাজিক, আর্থিক ও নৈতিক মৌলিক অধিকারের পরিসীমা বিস্তৃত হয়ে চলেছে। বিশেষত, বর্তমান আলোচনার জন্য যা প্রাসঙ্গিক, আইনের এই ধারা ফৌজদারি (criminal) মামলার ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে আইনি সহায়তা ও দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার দিয়েছে ফৌজদারি আইনের অপপ্রয়োগ আটকাতে। আজকাল আমরা প্রায়ই শুনি প্রশাসন প্রতিবাদীর মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে গাঁজার মামলা বা দেশদ্রোহিতার মামলা দিয়ে দিচ্ছে। আইনের এই ধরনের অপপ্রয়োগ পরাধীন ভারতে হামেশাই ঘটত, তাই সংবিধানপ্রণেতারা রক্ষাকবচের কথা ভাবলেও সাবধান করছিলেন আইন আমাদের ততটাই রক্ষা করতে পারে আমরা তাকে যতটা করতে দেব।

শাসক যদি অসহিষ্ণু হয় অথবা তার, নিজের ইচ্ছা নাগরিকের উপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা যদি প্রবল হয় তাহলে সেই প্রাবল্য ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের নৈতিকতাকে লঙ্ঘন করতে চায়। বাকস্বাধীনতা রোধের স্বৈরাচারী প্রবণতা প্রসঙ্গে প্রাক্তন ফরাসি সম্রাট ও সর্বকালীন শ্রেষ্ঠ সেনাপ্রধান নেপোলিয়ন বোনাপার্টের বিখ্যাত উক্তি স্মরণীয়: “চারটি বিরোধী সংবাদপত্র হাজারটি বেয়নেটের চেয়ে বেশি ভয়াবহ।” এই উপলব্ধি দুর্বিনীত শাসকের মজ্জাগত। তাই সংবাদপত্র (বর্তমানে খবরের মাধ্যম বহুবিধ, তাই এককথায় সংবাদমাধ্যম বা মিডিয়া বলব) ও সাংবাদিকেরা শাসকের বিশেষ নজরে থাকে, আর স্বৈরাচারী শাসক সাংবাদিককে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় পুরস্কার দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে, না পারলে নিষ্পেষণ করে। অথচ সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ; সেই গুরুত্ব বোঝাতে প্রশাসন, আইনসভা ও বিচারালয়ের পর সংবাদমাধ্যমকে চতুর্থ এস্টেট বলা হয়।

আমরা গর্ব করে বলি জাতি-ধর্ম-লিঙ্গ নির্বিশেষে দেশের সব প্রাপ্তবয়স্কের মতদানে আমরা সরকার গঠন করি। কিন্তু মানুষের মতদানের ভিত্তি তো মতামত, যা গঠন করতে হলে চাই খবর, যেমন পরিশ্রম করতে হলে চাই খাদ্য। সরকার কাকে ধরছে, কাকে মারছে, কাকে গড়ছে, কাকে আড়াল করছে, কী করছে আর কী না করছে, এসব জানতে না পারলে মত গঠন হবে কীভাবে? সাংবাদিকের কাজ তো খবর সংগ্রহ করা, তার বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারলেই তো সংবাদমাধ্যম হয়ে ওঠে গণতন্ত্রের ধারক স্তম্ভ। এই স্তম্ভকে আঘাত করলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে যায়। স্বভাবতই স্বৈরতন্ত্র এই কাজটাই করে। তারা মিডিয়াকে গুঁড়িয়ে দেয় না, মিডিয়ার দখল নেয় নিজের প্রচারের জন্য। স্বাধীন সাংবাদিকতা তার না-পসন্দ। এর চরম উদাহরণ রাশিয়া, চিন ও উত্তর কোরিয়া। এর বিপরীতে গণতন্ত্রের পরাকাষ্ঠা হিসেবে আছে সাধারণভাবে ইউরোপের দেশগুলো।

ভৌগোলিক সীমাহীন সাংবাদিক (Reporters sans Frontiers, RSF) নামে এক আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বের সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা কোন দেশে কতটা আছে তা অনুসন্ধান করে প্রতি বছর সাংবাদিক স্বাধীনতার (Press freedom) সূচক তৈরি করে। নিজ উদ্যোগে বা সংবাদসংস্থার হয়ে কাজ করতে গিয়ে সরকারি বা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের প্রভাবে আর্থিক, শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে অথবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইনি বাধায় জড়িয়ে না পড়ে খবর সংগ্রহ করা এবং ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ কতটা তার একটা তুলনামূলক অবস্থান নির্দেশ করাই এই সূচকের উদ্দেশ্য। প্রতি বছরই নতুন করে সাংবাদিক স্বাধীনতার সূচক তৈরি করে বিভিন্ন দেশের তুলনামূলক অবস্থানের পরিবর্তনের দিশা বোঝার চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ (২০২৩) সূচক অনুযায়ী ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৬১, ২০২২ সালে অবস্থান ছিল ১৫০। এক দশক আগে ভারতের অবস্থান ছিল ১৪০তম। বলা যায় ক্রমাগত এবং দ্রুত আমরা সংবাদ সংগ্রহ এবং পরিবেশনের স্বাধীনতায় অধঃপাতে যাচ্ছি। কী করে?

মাত্র কিছুদিন আগেও স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনার জন্য আমরা NDTV-র মুখাপেক্ষী ছিলাম। সম্প্রতি এই সংস্থাকে আদানি গোষ্ঠী অধিগ্রহণ করেছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে সাংবাদিকের স্বাধীনতা খর্ব করা হবে না। আদানির নিজস্ব বিমানে চেপে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে মোদি আমেদাবাদ থেকে দিল্লিতে এসেছিলেন, এখন সেই বিমানের মালিক সংবাদসংস্থা NDTV-র মালিক। এছাড়া মুকেশ আম্বানিও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন সংস্থার কর্ণধার এবং তিনিও মোদি-ঘনিষ্ঠ। একথা বুঝতে কষ্ট হয় না যে সংবাদ পরিবেশনার দিশা নির্দেশের জন্য এইসব বহুজাতিক ব্যবসায়ী সংস্থার তীক্ষ্ণধী কর্ণধারদের সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার দরকার হয় না। নিজেদের অধীনস্থ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাই তো তাদের বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে স্থান দিয়েছে। কিন্তু যেসব সংবাদসংস্থা তুলনামূলকভাবে ছোট ব্যবসায়ী সংস্থার অধীনস্থ তারাও মালিকের ব্যবসাস্বার্থ-বিমুখ হতে পারে না। কোনও কাজের বরাত পাওয়া বা বিভিন্ন অনুমতিপত্র পাওয়া বহু ক্ষেত্রেই সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার সঙ্গে যুক্ত— যাকে বলে quid pro quo— আর সূক্ষ্ম বোঝাপড়া সহজ হয়ে যায় যখন এই বোঝাপড়া সংক্রান্ত খবর সংগ্রহ ও প্রকাশ করা দুরূহ হয়ে যায়। শুধু কেন্দ্রীয় সরকার নয়, বিভিন্ন রাজ্য সরকারও সাংবাদিকদের কাজ দুরূহ করতে উৎসাহী। উত্তরপ্রদেশে হাথরস থেকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সিদ্দিক কাপ্পান সন্ত্রাসী আইনে গ্রেফতার হয়েছিলেন সে-কথা সবার মনে আছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বহু দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। কিন্তু এইসব অভিযোগের তদন্ত হাইকোর্টের উদ্যোগে মহাক্ষমতাধর কেন্দ্রীয় সংস্থা CBI আর ED মিলিতভাবে করতে গিয়েও রাজ্য প্রশাসনের সক্রিয় বিরোধিতায় হিমসিম খাচ্ছে। সাধারণ মানুষ অবাক দর্শক। কোনও গভীর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এদেশে সচরাচর দেখা যায় না। অতি সম্প্রতি আমরা দেখেছি সন্দেশখালিতে ED এবং সাংবাদিকরা মার খেয়ে পালিয়েছে এবং তারপর ১৪৪ ধারা জারি করে এবং প্রধান বিরোধী কণ্ঠস্বরকে গ্রেফতার করে সমস্ত তথ্য গোপন করার আপ্রাণ চেষ্টা হয়েছে, যদিও ঘটনাপরম্পরায় সে চেষ্টা বহুলাংশে ব্যর্থ হয়েছে। স্বাধীন সংবাদ পরিবেশন রোধ করার অপর পিঠ হল বিচারালয়কে নানাভাবে বাধা দেওয়া। বিদ্যালয়ে নিয়োগ দুর্নীতির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার তার উচ্চপদস্থ অধিকারিকদের বিরুদ্ধে (এই লেখার সময় পর্যন্ত) তদন্তের অনুমতিই আটকে রেখেছে দেড় বছর ধরে, আর মুখ্যমন্ত্রী জনসভায় গিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন দুর্নীতি প্রমাণ করো। কেন্দ্র এবং রাজ্য, দুই স্তরেই উদাহরণ দিতে গেলে বই ভরে যাবে পাঠক তা ভালই জানেন।

 

পড়ুন, ইলেকশন এক্সপ্রেস ২০২৪

 

সাংবাদিককে লাঞ্ছনা করার অনেকই উপায় আছে। কোনও অতি উৎসাহী সাংবাদিককে দমিয়ে দেওয়ার একটা সহজ অথচ কার্যকরী উপায় তাঁকে বয়কট করা। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাঁকে দূরে রাখবেন। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা কেস দেওয়াও একটা উপায়। ভিত্তিহীন মানহানির মামলা করে তাঁকে কোর্টে ছুটিয়ে মারা যায়। আর সবচেয়ে কার্যকরী হল তাঁর বিরুদ্ধে UAPA আইনের বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ করে অন্তত বছর খানেক জেলে ভরে রাখা।  আরও অনেক পন্থা আছে, যেমন বিদেশি অনুদান সংগ্রহ করার অজুহাতে লাঞ্ছনা বা নানা ঘটনায় দলীয় কর্মীদের দ্বারা শারীরিক নিগ্রহ করা।

বেআইনি কার্যকলাপরোধী আইন (UAPA, যা সন্ত্রাসী আইন বলেও পরিচিত) ১৯৬৭ সালে বলবৎ হয়েছিল দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার লক্ষ্যে, তখন সন্ত্রাসবাদ প্রকট ছিল না। পরে সন্ত্রাসবাদের বাস্তবতা একাধিকবার এই আইনের পরিবর্তন আনে, কিন্তু ২০১৯ সালের সংশোধনের আগে পর্যন্ত সন্ত্রাসীর ধারণা অতিসরলীকৃত হয়নি। ২০১৯-এর আগে আইনটির লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী, পরে গোষ্ঠীবদ্ধ নয় এমন বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকেও সন্ত্রাসবাদী বলা আইনত গ্রাহ্য হয়েছে। সন্ত্রাসবাদী কাকে বলা যায় আইনে তার ব্যাখ্যা অপরিষ্কার। ফলে সরলভাবে প্রায় যাকে-তাকে সন্ত্রাসী বলে দেগে দেওয়া যায় এবং চার্জ গঠন না করেই ১৮০ দিন জেলে রাখা যায়। তারপর চার্জ গঠন করে বিচারপ্রক্রিয়া আরও অনির্দিষ্টকাল অনায়াসে চালানো যায়। পুলিশ ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী আইন প্রয়োগ করেছে যার ফলে তারা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে একাধিকবার ভর্ৎসিত হয়েছে; কিন্তু এক বছর বা অনেক ক্ষেত্রেই আরও অনেক বেশি, এমনকি ৭-৮ বছর বা তারও বেশি সময় মিথ্যা অভিযোগে আটকে রাখার পর। UAPA আইনে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কেবলমাত্র শতকরা দুটির কিছু বেশি ক্ষেত্রে। এমন অপব্যবহারের সুযোগ থাকে বলেই আইনটি দেশে-বিদেশে নিন্দিত হয়েছে। বুঝতে অসুবিধা হয় না যে আইনটি গণতন্ত্র হত্যার একটি প্রধান হাতিয়ার। কোর্টের ভাষায়: বিরোধিতা রুখতে গিয়ে প্রশাসন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার-সম্মত বিরোধিতায় সোচ্চার হওয়ার সঙ্গে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ভেদরেখা মুছে দিচ্ছে।

দিলই বা, তাতে কে বিচলিত?

অযোধ্যায় রামমন্দিরের জৌলুস দেখে যারা মোহিত তারা সবাই নিশ্চয় নয়. প্রধানমন্ত্রী রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা করছেন দেখে যারা আপ্লুত তারাও নিশ্চয় নয়। রাজনৈতিক প্রাণপ্রতিষ্ঠা দুর্বলচিত্ত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মোক্ষম পন্থা; প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ উপবাসের পর অনেক আচার মেনে ঘটা করে রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছেন কিন্তু কোন বিচারে তিনিই এ-কাজের সবচেয়ে উপযুক্ত বলে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করলেন তা কেউ জানে না, মন কি বাতেও তিনি সম্ভবত বলেননি। চারজন শঙ্করাচার্য সেই অনুষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়ালেন— তাঁরা কি অধার্মিক, অহিন্দু? তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা অন্য কোনও আইনের ধারা প্রয়োগ করা যায় কি? না, তারা বেশি বাড়াবাড়ি করেননি। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে চুপ কিন্তু যাঁরা রাজনৈতিক প্রাণপ্রতিষ্ঠায় আপ্লুত হননি তাঁদের অধার্মিক চরিত্র নিয়ে সোচ্চার। এত আলো, এত প্রচার, এত পোশাকের ঝলকানি! অলীক কুনাট্যের কুশীলবরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে প্রাণপাত করছেন। প্রধানমন্ত্রী ‘মন কি বাত’ শোনাচ্ছেন কিন্তু সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন না। অত্যন্ত সতর্কভাবে সংগঠিত পেটোয়া সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেওয়া এক কথা, সাংবাদিকরা স্বাধীনচেতা আর অনুসন্ধানী হলেই বিপজ্জনক। তারা মনে করাবেই দুই আর দুইয়ে চার হয়, তুমি যা বলবে তাই নয়।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4725 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...