পড়ি পড়ি মনে করি, পড়তে গেলেম আর পেলেম না— একুশ শতকের পাঠকের সমস্যা ও অন্যান্য

অর্ধেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

 


লেখক প্রবন্ধকার

 

 

 

আমাদের স্কুল কলেজের শিক্ষার পদ্ধতি ঠিক উলটো। সেখানে ছেলেদের বিদ্যে গেলানো হয়, তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর নাই পারুক। এর ফলে ছেলেরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শীর্ণ হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে। … আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে। পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়, এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই।

–প্রমথ চৌধুরী

কবির স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন এমন এক পৃথিবী, ‘জ্ঞান যেথা মুক্ত যেথা গৃহের প্রাচীর’। উইকিপিডিয়া হোক বা টরেন্ট অথবা গিটহাব কিংবা ইউটিউব যে চাইবে যখন চাইবে যা খুশি শিখতে পারবে ঘরের একটি কোণায় বসে। ল্যারি পেজ ও সার্জেই ব্রিন, জিমি ওয়েলস ও ল্যারি স্যাঙ্গার, ব্রাম কোহেন ও আশ্বিন নভীন, স্টিভ চেন, শাদ হারলি এবং জাভেদ করিম, এছাড়া ক্রিস ওয়ানস্ট্রথ, পিজে হায়েট, টম প্রেস্টন-ওয়ার্নার এবং স্কট শ্যাকন— এই নামগুলিকে নিঃশব্দ বিপ্লবের রূপকার বলা যায়। প্রত্যেকটি বিপ্লবের কিছু আশীর্বাদ থাকে, তেমনই থাকে অভিশাপ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে সময়ের সঙ্গে বিপ্লবের অভিশপ্ত দিকগুলো ক্রমশ আত্মপ্রকাশ করে, আর করে বলেই প্রয়োজন হয় আরেকটি বিপ্লবের। এটাকেই বলে সমাজপ্রগতি। কোন ভবিষ্যতের প্রত্যাশা নিয়ে উইকিপিডিয়া, ইউটিউব কিংবা গিটহাব বহরে বেড়েছিল সেটা প্রণেতাদের একান্ত গোপনীয় চিন্তা, কিন্তু সে যাই হোক জনসমুদ্রের কাছে জ্ঞানার্জনের সুযোগটি এখানে বরাবর বিদ্যমান। বোধহয় সাধারণকে শুধু এটা বোঝানো গেল না কীভাবে এই সুযোগটিকে ব্যবহার করতে হয়। আর তাই-ই বিশ্বের তাবৎ চিন্তকদের মুক্ত জ্ঞানের উৎসের স্বপ্ন সত্যি হয়েও, পরাজিত হয়ে গেল তার বোধিবৃক্ষটি। ইন্টারন্যাশনাল লিটারেসি অ্যাসোসিয়েশন জানাচ্ছে যে, বিশ্বে ৭৮১ মিলিয়ন মানুষ আছেন যারা নিরক্ষর অর্থাৎ একটি শব্দও পড়তে পারেন না। আর এদের মধ্যে ১২৬ মিলিয়ন যুব সম্প্রদায়ভুক্ত। এই সমস্যা যে কেবল গরীব ও অনুন্নত দেশের জন্যই প্রযোজ্য তা কিন্তু নয়, বিশ্বের পয়লা নম্বর দেশ আমেরিকার বিধিলিপিও ব্যতিক্রমী নয়। একটি রিপোর্ট বলছে:

This is not just a problem in developing countries. According to the National Center for Educational Statistics (NCES), 21 percent of adults in the United States (about 43 million) fall into the illiterate/functionally illiterate category. Nearly two-thirds of fourth graders read below grade level, and the same number graduate from high school still reading below grade level. This puts the United States well behind several other countries in the world, including Japan, all the Scandinavian countries, Canada, the Republic of Korea, and the UK.

কিন্তু কেন এমনটা হচ্ছে, মানুষ কেন ফিরে যাচ্ছে গ্রন্থলোকের স্বর্গ থেকে কোডেক্স-কালেরও অতীতে? নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন বলছে:

The average time that users spend on Facebook is nearing an hour. That’s more than any other leisure activity surveyed by the Bureau of Labor Statistics, with the exception of watching television programs and movies (an average per day of 2.8 hours). It’s more time than people spend reading (19 minutes); participating in sports or exercise (17 minutes); or social events (4 minutes). It’s almost as much time as people spend eating and drinking (1.07 hours).

ভাবলে অবাক হতে হয় যে, এই ১৯ মিনিটের মধ্যে যুবসম্প্রদায় মাত্র ৭ মিনিট সময় দেয়। এটা অনেকটা সহজ কার্যকারণ সম্পর্কের মত হল যেন, সকলেই জানেন, কিন্তু কারণটা স্রেফ ফেসবুক কিংবা টিভি নয়, আরেকটু গভীর। বহু চিন্তক অশিক্ষিত করে রাখার অন্তরালে পুঁজিবাদী চক্রান্তকেও দায়ী করেছেন, সেটাও সম্পূর্ণ যথার্থ নয় বোধহয়। আসল ঘটনাটা হল প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি। যেহেতু শিক্ষা মানবমনের ওপরে কৃত্রিমভাবে চাপিয়ে দেওয়া একটি অভ্যাস, তাই মানুষের অন্তরে যত দ্রুত সম্ভব একে পরিত্যাগ করার স্বাভাবিক স্পৃহা লক্ষ করা যায়। সেক্ষেত্রে সকালে উঠে দাঁত পরিষ্কার করার অভ্যেসটিও চাপিয়ে দেওয়া কিন্তু তাকে তো মানুষ ঝেড়ে ফেলতে চায় না। কেন এই বৈরিতা? তাহলে কি মানুষ পরিশ্রম-বিমুখ? সত্যি কথাখানি এই যে পড়াশুনো যে অত্যাবশ্যকীয় একটি অভ্যেস সেটির ধারণা একদিকে তৈরি করা যায়নি, কেউই সেই আচরণবিধির পক্ষে কাজ করেনি। অন্যদিকে পড়াশুনোর সুযোগটিকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-অর্থ নির্বিশেষে সকল স্তরের কাছে সমানভাবে পৌঁছে দেবার প্রয়োজনীয়তা যে আছে সেটাও কোনও শাসক স্বীকার করেননি— রাজতন্ত্র থেকে ধনতন্ত্র অব্দি। এটা বাদের নয় বিবাদের সমস্যা।

কিন্তু মার্কিন মুলুক বা অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যতটা না আবশ্যক, তার চেয়েও বেশি জরুরি নিজেদের দিকটা তাকিয়ে দেখা। ভারতবর্ষের শরীরে শিক্ষার কোন পোশাক জড়ানো আছে— মুক্তাখচিত রেশমের নাকি জীর্ণ মলিনতার বেশ— সেটাকে অগ্রাহ্য করে বিচার করা অসম্ভব। ভারতবর্ষের বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ ১৯৫২ সালে প্রথম নির্বাচনে দেশে যে পরিমাণ নিরক্ষর মানুষ ছিলেন আজ সে সংখ্যা প্রায় বিপরীত করা গেছে, এটা ভীষণ আনন্দের ব্যাপার। কিন্তু, বিজ্ঞানী জেনিং তাঁর কাজে লিখেছিলেন যে, উচ্চতর সাক্ষরতা হার প্রকৃতার্থে বাস্তব শিক্ষার সমস্যাটিকে অবগুণ্ঠিত রাখার একটি মুখোশমাত্র। কেন এই কথা? কারণ এই যে, সাক্ষরতার পরিমাপ করা হয় একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা মেনে, সেটি হল, কোনও একজন মানুষ যদি যে-কোনও একটি ভাষা লিখতে, পড়তে ও বুঝতে (তিনটি গুণ একত্রে থাকতে হবে) পারে তবেই তাকে সাক্ষর বলা হবে। কিন্তু জনগণনার সময়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে উপেক্ষিত হয় তা হল, গণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাটি প্রায়শই পরীক্ষা করেই দেখেন না যে পরিবারের প্রধান প্রদত্ত মৌখিক তথ্যটি সঠিক কিনা অর্থাৎ যাকে সাক্ষর হিসেবে গণনা করা হচ্ছে সে আদৌ পড়তে, লিখতে ও বুঝতে পারে তো, নাকি কেবলই নিজেকে সাক্ষর দেখানোর অভিসন্ধিতে ছবির মত করে শেখা নাম-সই করতে পারাটাকেই সে শিক্ষা ঠাউরেছে! এ প্রসঙ্গে ব্রিজ কোঠারি ও তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের একটি গবেষণাপত্র “Can India’s “literate” read?”-এ লিখেছেন:

A literacy policy focused on increasing the self-reported literacy rate, but not equating literacy with ability to decode, much less comprehend, creates conditions in which a large number of so-called “literates” remains or returns to being lifelong non-readers. India, unfortunately, is home to millions of lifelong literates who are also, somewhat confusingly, lifelong non-readers (who cannot read and not because they do not want to).

অর্থাৎ, একজন মানুষ সই করতে পারলেই ধরে নেওয়া হয় সে সাক্ষর, কিন্তু আদৌ সে কোনও ভাষ্য পড়ে মর্মোদ্ধার করে কথাগুলিকে নিজের ভাষায় লিখতে পারছে কিনা, কেউ যাচাই করে না, কিন্তু সংখ্যা হিসেবে পরিগণিত হয়। সে-কারণে আন্তর্জাতিক প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতা সমীক্ষা এককালে গদ্য সাক্ষরতা, নথির সাক্ষরতা এবং পরিমাণগত সাক্ষরতাকে একত্র করে একজন মানুষের সার্বিক সাক্ষরতার কথা বলেছিল। মোটের ওপর সেই ধারণাটিকে আরও তীক্ষ্ণধী করে অধ্যাপক কোঠারি ও বন্দ্যোপাধ্যায় সাক্ষরতার তিনটি স্তরভাগ করেছেন, রিডিং-লিটারেট বা পাঠসক্ষম সাক্ষর, আরলি রিডিং লিটারেট বা প্রাক-পাঠসক্ষম সাক্ষর ও সার্বিক নিরক্ষর, এবং তথ্য-বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে বাস্তবের জনগণনা সংস্থা প্রদত্ত সংখ্যার সঙ্গে এই তিনটির অন্তর বাস্তবে কতটা? যে ফলাফল গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে তা একপ্রকার তাজ্জব করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে পরিমাপের ক্ষেত্রে ভারতের জনগণনা দ্বারা নির্দিষ্ট করা সাক্ষরতার হার বাস্তবের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ থেকে ৪২.৯ শতাংশ অতিরিক্ত হিসেব করে ধরা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন:

We found only 37.7% of the census literates to actually be able to read at grade 2 level and almost one out of every four “CM (সেনসাস মেথড) literates” could not demonstrate any reading ability. Thus, 62.3% of the “CM literates” are in need of reading skill improvement before they can read simple texts comfortably.

এমনকি প্রাথমিকস্তরের স্কুলশিক্ষা অর্থাৎ ১ বছর থেকে ৫ বছর অব্দি স্কুলে থাকলেই যেখানে সাক্ষর বলে জনগণনা নিয়ামক সংস্থা দাগিয়ে দেয়, সেক্ষেত্রেও তথ্য-বিশ্লেষণে দেখা গেছে ঠিক তার বিপরীত চিত্র। বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরাই সামান্য সহজসরল লেখা পাঠ করতে অক্ষম। এভাবে শুধুমাত্র বিশ্বের দরবারে সাক্ষরতার হারটুকুই বৃদ্ধি পাচ্ছে ফি-বছর, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে কি? অর্থাৎ বাস্তবে ভারতবর্ষে পড়াশুনোর অভ্যেস তৈরির ব্যাপারে অগ্রসরমানতার হার প্রথম নির্বাচনের কাল থেকে নেহাত বলার মত কিছু বেড়ে যায়নি। সরকারের কি তাহলে সদিচ্ছার অভাব আছে? কথাটিকে ফিফটি-ফিফটি সত্যি বলে ধরা যায়। সরকার কর্তৃক সর্বশিক্ষা অভিযান সহ নানা খাতে ব্যায়ের পরিমাণ তো কম নয়, স্কুলছুট কমানোর জন্য মিড-ডে মিলের বন্দোবস্তও করা হয়েছে, তাতেও ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু তা সবই যেন ভস্মে ঘি ঢালা। এপ্রসঙ্গে মালিনী ঘোষ বলেছেন:

In the absence of a literate environment the investments made in making people literate is as good as providing water in leaking glasses.

তাহলে মূল কথাখানি যা শিক্ষাদান, সাক্ষরতা অভিযানের থেকেও দরকারি তা হল জনমনে পাঠ্যাভ্যাসের প্রয়োজনীয়তার বিশ্বাসটুকুকে আগে অটল করতে হবে, তারপরে বাকি সমস্ত প্রক্রিয়াগুলি নিয়ে ভাবতে হবে। যদি না সেটা হয় তবে মানুষ অপার্থিব সামাজিক মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করার শিকার হবেই । সুতরাং এই সার্বিক সাক্ষরতার অবস্থায় দেশের পাঠ্যাভ্যাস ও পাঠকসত্তার সম্পর্কে অন্য কিছু প্রত্যাশা করা কা কস্য পরিবেদনা। মনে পড়ে যায় এককালে মিন্টো সাহেব লিখেছিলেন:

এদেশীয়দের মধ্যে বিজ্ঞান আর সাহিত্য অবনমন ব্যাপক। এখানে শুধু যে শিক্ষিত সম্প্রদায়ের সংখ্যা কমে যাচ্ছে তাই নয় বরং যে যে বিদ্যার চর্চা তাঁরা করেন সেসব গণ্ডিও সংকীর্ণ হচ্ছে। মনোবিজ্ঞান, দর্শন প্রভৃতি লোকজন বুঝতে পারছে না, এমনকি অতিসুন্দর সাহিত্যের রুচি নিম্নগামী, শুধুমাত্র ধর্মবিশ্বাস ছাড়া অন্য কোনও কিছুই যেন মনে জায়গা পাচ্ছে না। ফলে যত ভাল ভাল বই আছে সব হারিয়ে যেতে বসেছে।

আজও এই ধারা যেন অপরিবর্তিত। সুতরাং, শিশুর গোড়ার দিকেরশিক্ষার প্রাথমিকতাটুকুকে রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের, সরকারকেই সেটা পালন করতে হবে। কিন্তু না মার্কিন সরকার না ভারতের সরকার— কেউই এ ব্যাপারে সদর্থক ভূমিকা পালন করেননি, করছেও না, ভবিষ্যতেও এর অন্যথা হবে না। আর তাই, বাস্তবটা কেবলমাত্র দোষারোপ-প্রতিদোষারোপের যুদ্ধ ময়দানে পরিণত হয়েছে, গ্রিম্পেন মায়ার থেকে রক্ষা করার কেউ নেই।

অথচ অনস্বীকার্য যে, বাস্তবে প্রাথমিক শিক্ষাই গঠন করে ভবিষ্যতের পাঠক সমাজটিকে। আর সেটা প্রকাশনা ব্যবসার ভবিতব্য রচনা করে। শুধু তাই নয়, পাঠ্যাভ্যাসই নিরূপণ করে প্রকৃত সভ্য সমাজের বীক্ষা। দেশের শিক্ষার স্তর নিম্নগামী হলে তা যে শুধু উঁচুদরের সাহিত্যের বা জ্ঞানের ক্ষতি করে তাই-ই নয়, তা জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষেও আতঙ্কের। কেননা অশিক্ষার অন্ধকারেই রোপিত হয় সন্ত্রাসবাদের বীজটি। এই বৃহৎ প্রেক্ষিতেই যদি সরকার ও সমাজের বিশিষ্ট মহল নিরুদ্বেগ থাকে তখন প্রকাশক বা লেখকরা তাদের বই কেউ পড়ছে না বলে যতই আক্ষেপ করুক বাস্তবে তা অর্থহীন চেঁচামেচিতে পর্যবসিত হয়, কেউ পাত্তাই দেয় না। কিন্তু এক্ষণে, যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া যায় যে, বাস্তব সমস্যাটার সমাধান হয়ে গেছে বহু আগেই এবং সকলেই মননশীল গ্রন্থপাঠের উপযুক্ত যোগ্যতা ও পরিবেশ অর্জন করে ফেলেছে, এখানে মিথ্যে চক্রান্তের কথা বলা হয়েছে। তাহলেও কি পাঠক-সমস্যার সমাধান কিছু হবে? প্রকাশকদের ও লেখকদের মুখে কি চওড়া হাসি ফুটবে?

আমেরিকার মত দেশ সম্বন্ধে, ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি নিবন্ধ জানাচ্ছে:

Roughly a quarter of U.S. adults (27%) say they haven’t read a book in whole or in part in the past year, whether in print, electronic or audio form, according to a Pew Research Center survey conducted Jan. 8 to Feb. 7.

শিক্ষিত একটি দেশে কী পরিচয় এই সব পাঠ-বর্জিত মানুষজনের, এরা কারা যারা বছরে একটাও বই পড়েনি? সংস্থাটি জানাচ্ছে:

Several demographic traits correlate with non-book reading, Pew Research Center surveys have found. For instance, adults with a high school diploma or less are far more likely than those with a bachelor’s or advanced degree to report not reading books in any format in the 12 months before the survey (44% vs. 8%). Adults with lower levels of educational attainment are also among the least likely to own smartphones, a device that saw a substantial increase in usage for reading e-books from 2011 to 2016. (College-educated adults are more likely to own these devices and use them to read e-books.).

এবার ভারতের দিকে তাকানো যাক। সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছিলেন:

বই কিনে কেউ তো কখনো দেউলে হয়নি। বই কেনার বাজেট যদি আপনি তিনগুণও বাড়িয়ে দেন, তবু তো আপনার দেউলে হবার সম্ভাবনা নেই।

বাস্তবের চিত্র কিন্তু ঠিক উলটো কথা বলছে। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও জার্মানির একটি সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, ভারতে প্রতিবছরে গড়ে প্রায় ৯০ হাজার বই প্রকাশিত হয়, মোট ২৪টি ভাষায় (ইংরেজি সহ)। তার মধ্যে অ্যাকাডেমিক বই প্রায় ৪০ শতাংশ, বাচ্চাদের বই ৩০ শতাংশ এবং বাকি ৩০ শতাংশ অন্যান্য বইপত্র। এর মধ্যে ২৬ শতাংশ হিন্দি ও ২৪ শতাংশ ইংরেজি বই আছে। নন-অ্যাকাডেমিক বইয়ের ক্ষেত্রে ২০০০ কপি বিক্রি হলেই নাকি যথেষ্ট হয়েছে বলে এদেশের প্রকাশকরা মনে করেন। আর বেস্ট সেলার বই বলতে মেরেকেটে ১০ হাজার অব্দি পৌঁছয়। কিছু ক্ষেত্রে, যেমন হ্যারি পটার কিংবা টোয়ালাইট বা চেতন ভগত মোটের ওপর ১ লক্ষ কপি মত বিক্রি হয়। কিন্তু যে দেশের জনসংখ্যা ১৩৫ কোটি, প্রকাশকের সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার (যার মধ্যে প্রায় ১২ হাজার প্রকাশকের আইএসবিএন আছে), প্রদর্শিত সাক্ষরতার হার ৭৪ শতাংশ, সেখানে যদি নন-অ্যাকাডেমিক বই মাত্র ২ হাজার কপিতেই সাফল্যের তর্জন-গর্জন করে তাহলে তা চিন্তাভাবনার দাবি করে বৈকি। যদিও এর জন্য দায়ী একটি কারণের কথা আগেই বলা হয়েছে যে ‘প্রদর্শিত সাক্ষরতার হার’ বাস্তব প্রতিফলনে অকার্যকরী। কিন্তু এও কি ভেবে দেখার প্রয়োজনীয়তা নেই যে, হোক না ৪৩ শতাংশ অতিরিক্ত পরিমাপ, তাহলেও তো কমপক্ষে অন্তত ২০ শতাংশ এ দেশে থেকে যাবে যারা পাঠ-সক্ষম। এবং তাদের মধ্যে থেকে যদি ধরে নিই কমপক্ষে ১ অথবা ০.৫ শতাংশ স্বচ্ছল, তাহলেও একটি ১৩৫ কোটির দেশে যে সংখ্যাটি উঁকি দেয় তা নেহাত কম কি? তাতেও কি ২০০০ বই বিক্রির খতিয়ান নিরাশার জন্ম দিচ্ছে না? এই অবস্থার অন্তরালে কিন্তু আর সাক্ষরতাকে দায়ী করা যায় না, কেননা এখানে যা যা অবস্থা ধরা হয়েছে তাতে সরকারি প্রচেষ্টার ফলকে যথাসম্ভব বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? অর্থাৎ, শুধু কলকাতা শহরের যা জনসংখ্যা তাতে ০.৫% মানুষ যদি স্বচ্ছল ও পাঠ-সক্ষম হয়, তবে বই-বিক্রির বেহাল দশা কেন?

এক্ষণে সমস্যাটা হল সভ্য মানুষের ইতিহাসে সঞ্চিত জ্ঞানভাণ্ডার ও বর্তমানের অনাবিল প্রকাশিত গ্রন্থাবলির সংখ্যার ধাঁধা। মনে রাখতে হবে, বইয়ের মধ্যেও কিন্তু ভালোর চেয়ে মন্দটাই মিশে আছে বেশি। গণতন্ত্রে কারও লেখার ও বই-প্রকাশ করার অধিকারকে খর্ব করা যায় না, আর সেটা উচিৎ নয়। কিন্তু ইচ্ছুক পাঠকের কাছে বর্তমানের সমস্যাটা হল কিছুটা সাহারা মরুভূমি থেকে একটি সূচ অনুসন্ধানের মত করে ভালো বই বেছে নেওয়া। প্রথমত ভালো পাঠের ধারণাটিকে আয়ত্তে রাখতে হলে প্রচলিত, আলোচিত ও অমর লেখকদের লেখাগুলিকেই আগে পড়ে ফেলা জরুরি। তারপরে নতুন লেখকদের লেখা, নইলে সাহিত্যের ধারাটিকে বোঝা যাবে না। এই হিসেবে ইংরেজি ভাষাতেই যেগুলি বহু গুণী মানুষ দ্বারা স্বীকৃত, সে তালিকাটিকে ক্ষুদ্র করলেও, কেডমন এবং স্নিওল্ফ, চসার থেকে শুরু করে বার্নার্ড শ, অ্যালডাস হাক্সলি, ফ্রস্টার পর্যন্ত বিখ্যাত লেখাগুলি সামনে চলে আসে। এবার কেউ যদি জাতীয়তাবাদের কারণে দেশের বাইরে বেরোতে না চান তবে দেশের উত্তরপ্রান্ত থেকে শুরু করলে সারহপা, কবীর থেকে হরিবংশ রায় বচ্চন; ভাস্কর ভট্ট বোরিকর, জ্ঞানেশ্বর থেকে নামদেব ধসল, দয়া পাওয়ার অব্দি কিংবা অগস্ত্য, ইলঙ্গো আদিগাল থেকে পেরুনিথিরনার পর্যন্ত অর্থাৎ দক্ষিণ ভারত অব্দি এতগুলি বিখ্যাত লেখকের লেখার সামনে পাঠককে হাজির হতে হয়। এবারে কেউ যদি জাতীয়তাবাদী এবং আঞ্চলিকতা দুয়ের দোষেই দুষ্ট হন তবে কেবল বাংলাতেই নাম আসে কমপক্ষে ৫০০ ‘সুবিখ্যাত’ লেখকদের। তারপরে স্বল্পখ্যাত ও অখ্যাত লেখকদের তালিকা, মোটের ওপরে ‘সাহিত্যের ইয়ারবুক’ খুললে একটা ধারণা পাওয়া যায়। কোনও কোনও মহাকাশচারী মানুষ হয়তো ‘সপ্ত সিন্ধু দশ দিগন্ত’ খুঁজে এনে বলবে রাশিয়া, ফরাসি, জার্মানি, স্প্যানিস, চৈনিক, আরবিক ইত্যাদিগুলো বাদ দেওয়া মোটেই উচিৎ হয়নি। সুতরাং, একুশ শতকে একজন সহৃদয় পাঠকের জীবনকাল যেখানে বড্ড কম হয়ে যায় এই পাঠ খতম করতেই, তারপরে তো নতুনদের লেখা সে পড়বে। তথ্য ও লেখার বিপুল সমারোহ থেকে ঠিক কোনগুলিকে পড়তে হবে, আর কোনগুলিকে বাদ দিলেও হবে, সে বিষয়ে অভিজ্ঞান হাতে না থাকলে কিছুতেই পাঠকের পক্ষে ধৈর্য রাখা সম্ভব নয়। পাঠক নিজেকে সর্বদিক থেকে উন্মোচিত করে রসোপলব্ধির আধার হিসেবে গড়ে নিলেও, স্বাগত জানালেও অতলস্পর্শী সমারোহকে, সেখানে তার দেশ-কাল খুঁজে পাওয়া তো দূরস্থান এমনকি স্থানিক আশ্রয়টুকুও অজানা থেকে যাবে। এ যেন মহাবিশ্বের অনন্ত স্ফুরণের গাত্রে খোদিত সেই বিখ্যাত বৃষচিত্র— মগজব্যাপী আলতামিরার গুহা। ডুব দিলেই সাত রাজার ধন, নইলে চল্লিশ চোরের ধাঁধা।

তাই ‘পাঠক বড্ড ঢ্যাঁটা’ বলার চাইতে বাস্তব সমস্যাখানির কথা লেখকদের ভেবে দেখা দরকার। সমস্যা হল দুটি— এক, দেশের সরকার কর্তৃক দেশের পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে অসমর্থতা ও দুই, পাঠের বিপুল সমারোহে পাঠক কাকে আশ্রয় করবে সে সম্বন্ধে দিশা না থাকা। এখানে ফেসবুক অবশ্যই একটা কারণ কিন্তু সেটাই প্রধানতম এমনটা নয়। সরকার নিজের তরফে কী করবে অথবা জনগণ সরকারের কাছ থেকে কী কী দাবি আদায় করতে পারবে সে কথা আলাদা আঙ্গিকের দাবি করে। কিন্তু যা নেই তা নিয়ে না ভেবে যদি, যা আছে তা নিয়ে ভেবে দেখি ও ইচ্ছুক পাঠকের সামনে অন্তত সে শুরু করবে কোথা থেকে, তার রূপরেখা আঁকা যায় তবেই একটা মঙ্গলময় ব্যাপার ঘটে। তারপরেও যদিও রয়ে গেছে জীবন সংস্থানের পামর ধ্বংসাবশেষ এবং একটি অভিশপ্ত প্রশ্ন, এত সময় কোথায়? এমতাবস্থায় কীভাবে একজন সাধারণ পাঠক স্মৃতিপ্রাসাদে বিনির্মান করবে পাঠ্যাভাসের সঙ্কল্পকে, যেখানে সারা দুনিয়াতে প্রকাশিত হয় বছরে ২.৫ মিলিয়ন বই, কোনটাকে বেছে নেবে সে— প্রশ্নগুলি সহজ আর উত্তরও তো জানা।

ফ্রেডরিক হ্যারিসন তাঁর “The Choice Of Books And Other Literary Pieces”-এ লিখেছেন:

Exercises for the eye and the memory, Books are not wiser than men, the true books are not easier to find than the true men, the bad books or the vulgar books are not less obtrusive and not less ubiquitous than the bad or vulgar men are everywhere; the art of right reading is as long and difficult to learn as the art of right living. The Choice of Books is really the choice of our education, of a moral and intellectual ideal, of the whole duty of man.

সুতরাং এই বিচারে ভালো বই বলতে শুধু সেটুকুকেই বোঝানো যায় যে যাতে অন্তত মর্মবস্তু কিছু আছে, তা একেবারে অন্তঃসারশূন্য নয়। যদি পাঠক সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে সহজ-সরল-সাবলীলতাকে গ্রহণ করে তবে সে বাজার-নির্ধারিত একটি বস্তাপচা জিনিসকেই মহামূল্যবান বলে ভুল করবে। এক্ষেত্রে তাকে সতত জটিল ও সংশয়ী হতেই হবে কেননা প্রকৃত ভালো বই যখন ভালো মানুষ চিনে নেওয়ার চাইতে কম কিছু নয়, তখন জহুরি না হলে যে রক্ষে নেই। পক্ষান্তরে এও ঠিক যে, বহুবার না ঠকলে ও ঠেকলে রত্ন চেনার চক্ষুলাভ হয় না, অর্থাৎ অভিজ্ঞতাই হল মূলধন। আর অভিজ্ঞতার জন্য বজায় রাখতে হবে পাঠ্যাভ্যাস— যেমন করে রবীন্দ্রনাথ করেছিলেন— “আমরা ছেলেবেলায় একধার হইতে বই পড়িয়া যাইতাম— যাহা বুঝিতাম এবং যাহা বুঝিতাম না দুই-ই আমাদের মনের উপর কাজ করিয়া যাইত”, সেভাবেই। জন লাবক “The Pleasures of Life” গ্রন্থে লিখেছিলেন:

We must be careful what we read, and not, like the sailors of Ulysses, take bags of wind for sacks of treasure—not only lest we should even now fall into the error of the Greeks, and suppose that language and definitions can be instruments of investigation as well as of thought, but lest, as too often happens, we should waste time over trash.

লাবক সাহেব যদিও বইয়ের ব্যাপারে একটি অবশ্যপাঠ্য তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন কিন্তু সে তালিকা যতই মহৎ হোক পাঠকের পছন্দের স্বাধিকারের দিকটিকে অবহেলা করলে চলে না। কেননা সেখানে কিছু প্রাথমিকতা থাকে, সেটাকে অগ্রাহ্য করলে উচ্চতর গ্রন্থের রসাস্বাদন করার যোগ্যতা বা রুচি কোনওটাই তৈরি হয় না। বিস্মৃত হলে চলবে না যে, পাঠকের মধ্যে সাধারণ পাঠক, আদর্শ পাঠক ও নিবিড় পাঠক— এই তিনটি স্তরভাগ আছে, এগুলি একেকটি সোপানের মত— একটাকে অতিক্রম করলে তবেই অন্যটাতে যাওয়া যায়। একেবারে দুর্ধর্ষ বইপত্র হাতে থাকলেই কেউ তুখোড় পাঠকে পরিণত হয় না, ঠিক যেমন সর্বোৎকৃষ্ট বাদ্যযন্ত্র হাতে থাকলেই কেউ ভাল সঙ্গীতজ্ঞ হয় না। তার জন্য সময় এবং পরিশ্রম দুইই দেওয়া দরকার। লেখক হওয়া যেমন কঠিন, পাঠক হওয়াও কিন্তু কিছু কম নয় সেখানে। লেখকের সারাজীবনের অভিজ্ঞতা বা ‘আত্মা দহন করে প্রজ্জ্বলিত’ লেখাটিকে ধারণ করার জন্যও হতে হবে দীক্ষিত, শিক্ষিত হওয়া সেখানে কেবল আবশ্যিক শর্ত, যথেষ্ট নয়। থমাস কার্লাইল তাঁর “On the Choice of Books”-এ বলেছেন:

Whatever you maythink of all that, the clearest and most imperative duty lies on every one ofyou to be assiduous in your reading; and learn to be good readers, which is,perhaps, a more difficult thing than you imagine. Learn to be discriminativein your reading—to read all kinds of things that you have an interest in, andthat you find to be really fit for what you are engaged in.

এই ভাল বই নির্বাচন করার মত পাঠক হওয়ার পথটি নিজেকেই বানিয়ে নিতে হয়, একেবারে খনি-শ্রমিকের মত খেটে, দিনরাত মজদুরি করে, রক্ত-জল করে। সহজ উপায় কিছু নেই সেখানে এবং শ্রমদান করলে তা বৃথা যায় না। ডারউইন বলেছিলেন বেঁচে থাকার জন্য সংঘর্ষ করার কথা, বইকেও সেই পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কেবলমাত্র যোগ্য বইপত্রই টিকে থাকে, আর সেগুলিকেই তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করা পাঠকের কাজ। ছেলেবেলা থেকে পাঠ্যাভ্যাসের ফলে সেই সব ভাল বইগুলিকে চিনে নেওয়ার চক্ষুলাভ হয়। এই পাঠ্যাভ্যাস পরিণত হলে তা জারিত হয় অভিজ্ঞতার গুণে, সময় যত যায় ততই পোক্ত হতে থাকে সে প্রাকার এবং একদিন দেখা মেলে সেই সাকার রূপটির যা পাঠের বিশ্বরূপের সামনে ঠায় দাঁড় করিয়ে দেয়। সেদিনের জন্যই পাঠককে প্রস্তুত থাকতে হবে, কজন আর সেই বিশ্বরূপের ছোঁয়া পায়। তাই পাঠককে ভয়ঙ্কর সংবেদনশীল একটি আধারে প্রস্তুত করে রাখতে হবে নিজের জন্য যাতে সেই মহীয়সী পাঠের অনির্বচনীয় ফলটিকে আস্বাদন করা যায় স্বর্গসুখে। মনে রাখতে হবে সময় হল সেই বিষম অভিঘাত যা প্রাচীনতার সঙ্গে মধুরতাকে বৃদ্ধি করে। যেমন জলন্ত কাষ্ঠের উষ্ণতার, সঞ্চিত মদ্যের নেশাগ্রস্থতার, প্রকৃত বন্ধুত্বের আলিঙ্গনের, তেমনই অতীত গ্রন্থাবলির পাঠের মধুরতা। আর্গন অঞ্চলের এলেঞ্জোই সে কথা বলুক আর পরবর্তীতে ফ্রান্সিস বেকন— অভিধাটিই হল অপরিহার্য সত্য, প্রকৃত পাঠ। আর এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাটিকে আস্বাদন করার জন্য পাঠককে অযুত-সহস্র গ্রন্থরাজি থেকে নিজেকেই বেছে নিতে হবে জীবনের অত্যাশ্চর্য পরমাদটিকে, রচনা করতে হবে, অবিনশ্বর অমরত্ব সন্ধানের প্রতিস্পর্ধা ও তৃপ্তির এষণাটিকে, লড়াই করে যুদ্ধ করে। একেই বলে সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট। পাঠকজীবনের ক্ষেত্রেই বা তা প্রযোজ্য হবে না কেন? হার্শেল তাঁর “Taste For Reading”-এ পাঠকের জন্য বরাদ্দ অন্তিম মন্ত্রটি যেন রেখে গেছেন। বলেছেন:

If I were to pray for a taste which should stand me instead under every variety of circumstances, and be a source of happiness and cheerfulness to me through life, and a shield against its ills, however things might go amiss and the world frown upon me, it would be a taste for reading. I speak of it of course only as a worldly advantage, and not in the slightest degree as superseding or derogating from the higher office and surer and stronger panoply of religious principles—but as a taste, and instrument, and a mode of pleasurable gratification. Give a man this taste, and the means of gratifying it, and you can hardly fail of making a happy man, unless, indeed, you put into his hands a most perverse selection of books.

এটাই একমাত্র সমাধান— পাঠসুখ অনুভবের জন্য নিরলস তপস্যা।


তথ্যসূত্র:

  1. https://www.statista.com/statistics/978512/india-sources-of-book-consumption/
  2. https://www.thoughtco.com/british-literary-periods-739034
  3. https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_Bengali-language_authors_(chronological)
  4. https://en.wikipedia.org/wiki/Marathi_literature
  5. https://www.newworldencyclopedia.org/entry/Tamil_literature
  6. https://en.wikipedia.org/wiki/Hindi_literature
  7. https://www.wyliecomm.com/2019/03/us-literacy-rate/
  8. https://www.libraryjournal.com/?detailStory=How-Serious-Is-Americas-Literacy-Problem
  9. https://www.washingtonpost.com/archive/politics/1982/11/25/the-secret-handicap-millions-of-american-adults-cant-read/f9111cff-dcbe-42bd-8362-35b04e3c086d/
  10. https://www.cnbc.com/2019/01/29/24-percent-of-american-adults-havent-read-a-book-in-the-past-year–heres-why-.html
  11. https://banglapaath.wordpress.com/2016/07/23/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%9C%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%A5-%E0%A6%9A%E0%A7%8C%E0%A6%A7%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%80/
  12. https://www.prothomalo.com/life/%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%BE
  13. Can India’s literate read – Brij Kothari and Tathagata Bandyopadhyay
About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2769 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...