শতানীক রায়

গঠনে আর একটাও প্রজাপতি নেই -- শতানীক রায়

গঠনে আর একটাও প্রজাপতি নেই

 

I dreamed this dream and I still dream of it
and I will dream of it sometime again.
—Arseny Tarkovsky

১.

অনেকটা পথ হাঁটতে হাঁটতে দাঁড়িয়ে দেখেছি পাথরে বিচিত্র ফুল। সুন্দর। আমি ঝুঁকে দেখি গাছ আর গানের সম্পর্ক। শুনি পৃথিবীর বদল কীভাবে আমার পায়ে পায়ে। কোথাও জল ছিল। দেখেও কি দেখিনি! ঘ্রাণের অন্য জগৎ। থেমে থাকি অনেকক্ষণ তারপর পশুপাখি ব্যাং সাপ কেমন উজাড় করে বেরিয়ে আসি। ফিরে দেখি কয়েক-শো বছর পর

 

.

ভালো থাকা নিয়ে দিনের পর দিন ভেবেছি। এখন কিছুদিন এমনি বসে আছি। এই ঝরনা। নদী। বনের সুন্দর। আকাশের প্রশান্তি। পৃথিবীর ওপর আর একটা পৃথিবী। যেভাবে শরীর সৃষ্টি হয় মায়ের গর্ভে। আমি প্রবেশ করি রাতের কোনও ফুলে। চাঁদের আলো আর কোনও বিশেষ রং নয়। আমিই স্বয়ং আলো। শব্দের জাল কেটে জল আনি। শেকড়শুদ্ধ এক অপূর্ব জীবন— আমরা একসঙ্গে গান করি সূর্যে স্নাত হই। উবু হয়ে আকাশ দেখি দিনরাত

 

৩.

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা মানুষের মুখে কী যে দেখি! আর সবচেয়ে বেঁটে। সেও মানুষ। গল্পের ভেতর প্রবেশ করে অদ্ভুত জগৎ দেখি। গোঙানির মতো শোনায় তাদের কান্না। জিরাফের শরীর পেয়েছে সেইসব মানুষ। গল্পের দেশের রাত খুব গভীরে দেখি। আর, কী যে থেকে থেকে ভাবি, যে-মাছ বিদায় জানিয়ে চলে যায়, কোথায় যে যায়

 

৪.

নিজেকে কবিতা ভেবে ভুল করি। নিজেরই গদ্যে প্রবেশ করি। প্রতিদিন এভাবেই বেঁচে চলেছি। সকালে উঠে শুধুই গান এমন দিনে একটাও আর বাক্য না। গঠনে আর একটাও প্রজাপতি নেই।

 

৫.

আমিই জীবন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমরা কেউই কাউকে দেখিনি অথচ একে-অপরের মধ্যে প্রবেশ করেছি। ভেবেছি আধোলীন চামড়ায়। এই দুনিয়া কী গোল— সবাই কোথাও-না-কোথাও আরও একটা পৃথিবীর কল্পনা করে। বয়স বাড়ে। পিঁপড়ের মতো স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক দুইই একভাবে তাকিয়ে দেখি কেমন এক অসমান ভাব। ঘুম আর জেগে থাকার চেয়ে আরও জীবন। আরও জীর্ণ কাপড়। গন্ধের দিকে এ কেমন স্পৃহা সবকিছু এক করে দেখা। ওই যে আমিই জীবন। গানের সঙ্গে সংসার। রাস্তা লক্ষ করি। সামনে কত সরু

 

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!
About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3909 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...