“দেবভাষা কোনও আর্ট গ্যালারি নয়, দেবভাষা বই ও শিল্পের আবাস”

সৌরভ দে

 


শিল্পকে ভালোবেসে স্বপ্ন দেখেছিলেন দুই তরুণ। ২০১৭ সালে এই স্বপ্ন দেখার শহর কলকাতায় জন্ম নিয়েছিল শিল্পচর্চার একান্ত নিজস্ব ও অন্যরকম একটি পরিসর— দেবভাষা। পাঁচ বছর ধরে গুটি গুটি পথ হাঁটার পর দেবভাষা অবশেষে স্থানান্তরিত হল এক স্থায়ী ঠিকানায়— ৭০/২ সেলিমপুর রোড, ফ্ল্যাট নং ২, কলকাতা–৭০০০৩১। দেবভাষার এই নতুন ঠিকানায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হল শিল্পমেলা ২০২২। এখানে ছিল প্রবীণ ও নবীন, নামী ও অনামা শিল্পীদের কাজ দেখার সু্যোগ, সুবিধেমত ছবি কেনবার সুযোগ। সঙ্গে ছিল আলোচনাসভা, বিতর্ক ও শিল্পীদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা। অতি সম্প্রতি শেষ হল দেবভাষা-র একান্ত নিজস্ব অভিনব শিল্পমেলা। সেই উপলক্ষে কথা বলা গেল দেবভাষা-র অন্যতম একজন কর্ণধার শ্রী সৌরভ দে-র সঙ্গে।

 

 

চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম: প্রথমেই জিজ্ঞেস করছি, দেবভাষা-র পথ চলা কতদিনের? আর সেই শুরুটা ঠিক কীভাবে হয়েছিল?

সৌরভ দে: ছবি ও বইয়ের কথা যদি একসঙ্গে বলি, তাহলে ২০১৭ সালে দেবভাষা-র সূচনা হয়েছিল। সেখানে মানুষ বই ও ছবি দুটোয় দেখতে পারবেন, এবং ইচ্ছেমতো কিনতেও পারবেন। এখানে বলে রাখা দরকার, দেবভাষা নিজেদের বই প্রকাশ করে, সেগুলো মূলত শিল্পসংক্রান্ত বইপত্র। কিছু যে ব্যতিক্রম হয় না তা নয়। কিছু কাব্যগ্রন্থও দেবভাষা থেকে প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু আমাদের মূল ফোকাস শিল্পবিষয়ক বইয়ের দিকেই।

ছবির প্রদর্শনী আয়োজন করার পাশাপাশি আপনারা ছবি বা শিল্প বিষয়ক বইপত্র প্রকাশ করেছেন ও করছেন। এর পেছনে কী ভাবনা কাজ করেছিল?

শিল্পসংক্রান্ত বই প্রকাশ করার উদ্দেশ্য একটাই— আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারি, শিল্প সম্বন্ধে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের ভালবাসা বা ঝোঁক, অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় অনেকটা কম। এর একটা প্রধান ও উল্লেখযোগ্য কারণ হল এই যে আমাদের পড়াশোনার গণ্ডিতে যেমন ইতিহাস, ভূগোল, গণিত ইত্যাদি বিষয় পড়ানো হয় অর্থাৎ এই বিষয়গুলির জন্য যেমন নির্দিষ্ট পাঠক্রম বা সিলেবাস রয়েছে, শিল্পের জন্য কিছুই নেই। আমাদের দেশে আর্টকে নিয়ে কোনও সিলেবাস নেই। শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষার পরে কেউ নির্দিষ্টভাবে আর্ট নিয়ে পড়তে চাইলে তবেই সে তা পড়তে পারে। অর্থাৎ আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশুনোর একবারে প্রাথমিক স্তরে আর্টের সঙ্গে কোনও পরিচয় ঘটে না, শিল্পকে দেখার চোখ তৈরি হয় না, আর্টের প্রতি ভালবাসাও গড়ে ওঠে না।

দেবভাষা-য় আমরা যেটা করতে চেষ্টা করেছি, তা হল এখন যারা প্রবীণ শিল্পী যারা চলে গেছেন, যেমন সোমনাথ হোড়, বা কে জি সুব্রমনিয়ম, আবার যেসব শিল্পী রয়েছেন যেমন গনেশ হালুই বা যোগেন চৌধুরী, তাঁদের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের বই, স্কেচখাতা, তাঁদের নিজের স্মৃতিকথা, এগুলো আমরা প্রকাশ করেছি। এটা গেল বই প্রকাশের দিক। এছাড়াও আমরা সম্মিলিতভাবে কিংবা এককভাবে চিত্রকরদের ছবির প্রদর্শনীর আয়োজন করেছি। আমাদের এখানে সোমনাথ হোড়ের ছবির একজিবিশন, রেবা হোড়ের একজিবিশন হয়েছে। লালুপ্রসাদ সাউয়ের একক একজিবিশন হয়েছে, যোগেন চৌধুরীর একক প্রদর্শনী হয়েছে। এছাড়াও সনৎ কর, হরেন দাস, অতুল বসুর সোলো একজিবিশন হয়েছে। আর নানা সময়ে চিত্রকরদের সম্মিলিত একজিবিশন তো হয়েছেই।

পাশাপাশি, আমাদের আরেকটা লক্ষ্য থাকে, নতুন শিল্পসংগ্রাহক যেন তৈরি হয়। তাই আমাদের সবসময় একটা চেষ্টা থাকে শিল্প বা আর্ট যেন মানুষের আওতা বা অ্যাফোর্ডেবিলিটির মধ্যে থাকে। সেই কারণে কিছুটা অভিনবত্বের কথা ভাবতে গিয়ে, বা আর্টকে মানুষের ঘরের মধ্যে পৌঁছে দিতে গিয়ে ছোট পরিসরে বা স্মল ফরম্যাটেও আমরা প্রদর্শনী করে থাকি। যেমন এবারের শিল্পমেলায় এলেই দেখা যাবে যে যোগেন চৌধুরী বা গনেশ হালুই-এর পোস্টকার্ডের ওপর আঁকা ছবি রয়েছে, যা খুব স্বল্প মূল্যের বিনিময়ে যে কেউ নিজের সংগ্রহে রাখতে পারেন।

আর পোস্টকার্ডে ছবি আঁকার ব্যাপারটার মধ্যে একটা ট্র্যাডিশনও ধরা আছে। নন্দলাল বসু, সোমনাথ হোড়, অথবা কে জি সুব্রমনিয়ম, এঁরা যখন কাউকে চিঠি দিতেন, তার সামনে একটা ছবি এঁকে দিতেন। এটা গনেশ পাইনের ক্ষেত্রেও সত্য। এই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা আগেও চিঠির একজিবিশন করেছিলাম, তারপর থেকে এটা আমাদের চিত্রকরদের সম্মিলিত প্রদর্শনীর একটা অংশ হয়ে গেল।

সুন্দর পরিকল্পনা। এই রকম আরও কোনও অন্য ধরনের শিল্প প্রদর্শনী কি আপনারা করেছেন বা আগামী দিনে করার পরিকল্পনা রয়েছে?

অবশ্যই। সরার ওপর আঁকা ছবির প্রদর্শনী আগে কোথাও হয়নি। আমরা হয়তো নন্দন মেলায় দেখেছি যে কে জি সুব্রমনিয়ম বা যোগেন চৌধুরীর আঁকা সরা রয়েছে, কিন্তু সেটি অন্যান্য মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্পকাজের মধ্যে একটি অংশ হয়ে ছিল। কিন্তু আমরা শুধুমাত্র সরার ওপর আঁকা ছবির প্রদর্শনী শুরু করলাম। যেমন প্রতি বছর পুজোর সময়, আমরা নানা শিল্পীদের কাছে অনুরোধ রাখি মাটির সরার ওপর ছবি এঁকে দেওয়ার জন্য এবং প্রত্যেকে সানন্দে তা করে দেন। আমরা প্রথম যেবার সরার একজিবিশন করলাম, আমরা জানতে পারলাম যে শিল্পী লালুপ্রসাদ সাউ, গনেশ হালুই, সনৎ কর এঁরা আগে কখনও সরার ওপর ছবিই আঁকেননি, ফলে এটা তাঁদের দিক থেকেও একটা নতুন অভিজ্ঞতা ও এক্সপেরিমেন্ট হল। এইভাবেই শিল্পকে সাধারণ মানুষের পকেটের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে আমরা শিল্পমেলার আয়োজন করে থাকি।

এখানে আমি একটা প্রশ্ন রাখছি, এই কাজগুলো তো দেবভাষা ২০১৭ সাল থেকেই ধারাবাহিকভাবে করে আসছে। কিন্তু ২০২২ সালে এসে নতুন কী ঘটনা ঘটল, বা নতুন কী সংযোজন হল, যে আপনারা নতুনভাবে দেবভাষা-র সূচনার কথা বলছেন? এই ব্যাপারটা যদি একটু খোলসা করেন।

এখানে কিছু কথা জানানো দরকার। দেবভাষা-র প্রথম সূচনা হয়েছিল ৬ডি, যতীন দাস রোডে। ছবি রাখার প্রয়োজনে সেই ঠিকানা আমাদের বদল করতে হল। তার কারণ স্থান সঙ্কুলান করা যাচ্ছিল না, আরেকটা পরিসরের প্রয়োজন হয়ে পড়ছিল। তখন আমরা সরে যাই ৯/২, ফার্ন রোডে। কিন্তু এই দুটো জায়গাই আমাদের ভাড়া নেওয়া জায়গা ছিল। মাত্র একমাস আগে আমরা এই নতুন জায়গায় উঠে এলাম। ২৮ নভেম্বর, ২০২২ আমরা এখানে এসে একটি প্রদর্শনী করলাম, যে প্রদর্শনীর নাম ছিল ‘গৃহপ্রবেশ’। অর্থাৎ এই ৭০/২, সেলিমপুর রোডে এসে অবশেষে আমাদের একটা স্থায়ী ঠিকানা হল, মাথার ওপর নিজস্ব ছাদ ও ছবি রাখার একান্ত নিজস্ব পরিসর হল। এই নতুন জায়গার গঠন ও বিন্যাস আগের দুটো জায়গার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অর্থাৎ সে অর্থে, আমরা প্রায় নতুনভাবেই আবার পথচলা শুরু করলাম।

আগে দেবভাষা-য় যেভাবে ছবি দেখানো হয়, তার প্রেক্ষাপট ছিল পেছনে চট বা চাটাইয়ের দেওয়াল। কিন্তু এখানে এসে আমরা পুরোপুরি সাদা দেওয়ালের ব্যাকগ্রাউন্ডে ছবিগুলো দেখাতে পারছি। এখানে এসে আমাদের প্রদর্শনী ও শিল্পমেলার প্রকরণ আমরা সম্পূর্ণ নতুনভাবে ভাবতে চেষ্টা করেছি। পরিসর বড় হওয়ার কারণে নবীন শিল্পী, আর্ট কলেজ থেকে সদ্য পাশ করা ছাত্র, বা এখনও কলেজের ছাত্র এদের সঙ্গে প্রবীণ শিল্পীদের মেলবন্ধন ও আদানপ্রদান আরও ভালভাবে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। এইটা আমাদের চিরকালের একটা লক্ষ্য ছিল। যেমন ধরুন, এই মুহূর্তে প্রায় আড়াইশোটা ছবি একসঙ্গে প্রদর্শন করার মতো পরিসর আমাদের আছে। আমাদের ইচ্ছে এরকম যে, আমরা যেন গ্যালারির তথাকথিত ইনফর্মাল পরিবেশ থেকে সরিয়ে শিল্পী ও দর্শককে একটা ঘরোয়া পরিবেশে ছবি ও বইয়ের কাছে নিয়ে আসতে পারি। এবারের শিল্পমেলাতেও আমরা সেই একই চেষ্টাই করেছি। সেকারণে কখনও আমরা দেবভাষা আর্ট গ্যালারি বলি না। আমরা বলি, দেবভাষা— বই ও শিল্পের আবাস। সব মিলিয়ে সেলিমপুর রোডে এসে দেবভাষা-র নবজন্ম হল বলা যেতেই পারে।

শিল্পমেলার পাশাপাশি আপনারা আলোচনাসভা, বিতর্কসভার আয়োজনও করেছিলেন। সেটা নিয়ে যদি যদি কিছু বলেন?

এবারের বিতর্কের বিষয় আমরা নির্বাচন করেছিলাম— ছবি কিনব নাকি সই? আমাদের নিজের মধ্যেই আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটা জায়গায় পৌঁছনোর জন্যেই বিষয়টি স্থির করা হয়েছে। যেমন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বহু মানুষ আছেন যারা অপ্রতিষ্ঠিত কোনও শিল্পী একটি দারুণ ছবি আঁকলেও তা কেনেন না। বরং তারা প্রতিষ্ঠিত বা নামী একজন শিল্পীর মেজর কাজ নয়, এমন ছবিও বহু অর্থব্যয়ে কিনে নিয়ে যান। আমাদের মধ্যেই এই প্রশ্নটা ছিল— এক্ষেত্রে করণীয় কী হওয়া উচিত? ছবি বিবেচ্য হওয়া উচিত নাকি শিল্পীর সই? এই দ্বিধা থেকেই আমরা এবারের বিষয়টি নির্বাচন করেছিলাম। বিতর্কসভায় সইয়ের পক্ষে বলার কথা ছিল শিল্পী শুভাপ্রসন্ন, ছত্রপতি দত্ত, এবং পার্থ দাশগুপ্তের। আর বিপক্ষে বলার কথা ছিল সংযম পাল, বিষাণ বসু এবং আমার। তবে অনুষ্ঠানের দিন একটি অতি জরুরি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় শুভাদা আসতে পারেননি, তাঁর জায়গায় বিতর্কে অংশ নেন শ্রী সুশোভন অধিকারী, আমাদের অতিথি বক্তা। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আমাদের আরেকজন কর্ণধার দেবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়।

বিতর্কসভায় যা হয়, প্রথমে বক্তব্যের পক্ষের বক্তারা স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে দৃঢভাবে বলে যান, তার উত্তরে বিপক্ষের বক্তারা সে মত খণ্ডন করেন এবং পরিশেষে পক্ষের বক্তারা আবার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পান। এইভাবে তর্কটা দানা বেঁধে ওঠে ও ক্রমশ বিষয়টি ঘিরে একটি স্পষ্টতা তৈরি হয়। শেষমেশ দেখা গেল, ছবিও প্রয়োজনীয়, এবং পাশাপাশি সইও প্রয়োজনীয়। একটা ছবি ততক্ষণ সম্পূর্ণই হচ্ছে না যতক্ষণ না তাতে শিল্পীর স্বাক্ষর পড়ছে। এটা রামকিঙ্কর মনে করতেন। পাশাপাশি, সোমনাথ হোড়ের প্রচুর কাজ রয়েছে যাতে তাঁর কোনও সিগনেচার নেই, তা-ও বহু লোক তা সংগ্রহ করেছেন। ফলে ছবি ও সই দুটোই প্রয়োজনীয়, এই জায়গাতেই আসা হল। কিন্তু কখনও কখনও অনামা শিল্পীর সইহীন ভালো ছবিও যে সংগ্রহ করা হয়, তাও সত্য হিসেবে দেখা গেল।

এই বিতর্কসভাটি ছাড়াও আগের দিন শিল্পী যোগেন চৌধুরীর একটি বক্তৃতা ছিল— ‘আমার শান্তিনিকেতন’ শীর্ষক।

আমাদের শেষ প্রশ্ন, ছবিকে ভালবেসে, শিল্পকে ভালবেসে আপনারা দেবভাষা-র জন্ম দিয়েছেন। আমরা দেবভাষা-র উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি। পাশাপাশি, এটাই বলা দরকার যে এইরকম একটি উদ্যোধ মসৃণভাবে চালানোর জন্য কিছু অর্থের প্রয়োজন। যতদূর জানি, আপনারা কোনও সরকারি সাহায্য বা অনুদান পান না। সেক্ষেত্রে আপনাদের এই উদ্যোগটিকে চালিয়ে নিয়ে যাবার জন্য কি কোনও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে?

এইখানে শুরুর কথাটা আরেকবার বলা দরকার। যেমন, ২০১৭ সালের আগে আমরা কী করতাম? দেবজ্যোতি আর আমি, আমরা দুজন একটা সময় ভেবেছিলাম, আমরা কাজ-টাজ কিছু করব না। আমরা কবিতা লিখছি, আড্ডা দিচ্ছি, বন্ধুবান্ধবের একটা দল তৈরি হয়েছে, সেই দলটা ক্রমশ বড় হয়েছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আমাদের লেখা প্রকাশ হচ্ছে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে, অর্থের প্রয়োজন এড়াতে পারিনি বলেই একসময় আমরা একটা খবরের কাগজের সঙ্গে যুক্ত হই। তারপর সেখান থেকে অন্য আরেকটি কাগজের সম্পাদনার দায়িত্বে চলে আসি। এইভাবে আমাদের এক ধরনের লেখক ও সাংবাদিক জীবন সূচিত হয়। এইটা করতে করতে শিল্পীদের সঙ্গে আমাদের আলাপ হতে শুরু করে। কে জি সুব্রমনিয়মের সঙ্গে আমরা আলাপিত হই। তাঁর একটি সাক্ষাৎকার নিই যা সেইসময় শিলাদিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটা প্রকাশিত হওয়ার পর আমরা সাক্ষাৎকারটিকে বই আকারে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিই। এইভাবে আস্তে আস্তে আমরা ছবি ও বইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। এইভাবে একদিন দেবভাষা তৈরি হয়। আমরা প্রথমে ঠিক করি যে দেবভাষা থেকে আমরা বই প্রকাশ করব। তখনও আমাদের ছবি সংগ্রাহকদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ তৈরি হয়নি বা ছবি নিয়ে যে কাজ করব বা ছবির প্রদর্শনী করব সেটাই ভাবিনি। ধীরে ধীরে মানিদার সঙ্গে আলাপের পর থেকে আমাদের মনে হয় যে আমরা আস্তে আস্তে ছবি সংক্রান্ত ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা শুরু করতে পারি। চালু চিন্তার বাইরে গিয়ে ছবিকে নিয়ে একটা সমান্তরাল ভাবনা তৈরি হতে শুরু করে। তার ফলশ্রুতি হিসেবে ২০১৭ সালে বই ও ছবিকে সঙ্গে নিয়ে দেবভাষা এই ফর্মে যাত্রা শুরু করে।

এটা প্রথম থেকেই ছিল আমাদের একটা অজানা প্যাশন, এর সঙ্গে অর্থনীতির কোনও যোগ ছিল না। কিন্তু কোনও কাজই তো অর্থকে বাদ দিয়ে করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের প্যাশনকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থনীতির দরকার পড়ল। অর্থাৎ আমাদের কাজটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতাটা অর্জন করতেই হয়েছে, এখনও অবধি আমরা সফলভাবে আমাদের কাজগুলো চালিয়ে যেতে পারছি। এখনও অর্থের দরকার আছে, ছবি আনা, পাঠানো এইসব কাজে আমাদের একটি গাড়ির প্রয়োজন পড়ে, আমাদের কোনও গাড়ি নেই। গাড়ি ভাড়া করে ছবি আনা অনেক খরচসাপেক্ষ। আশা করি, আগামী দিনে, আমাদের নিজেদের জন্য নয়, কিন্তু দেবভাষা-র কাজের প্রয়োজনে একটি নিজস্ব চারচাকা গাড়ি আমরা লাগবে।

আপনার সঙ্গে কথা বলে খুব ভাল লাগল। ভবিষ্যতে আবার দেখা হবে, কথা হবে। দেবভাষা-র উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি।

আপনাদেরও অসংখ্য ধন্যবাদ। একদিন সময় করে আসুন। দেখা হবে।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4557 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...