অনুরাধা কুন্ডা

তিনটি কবিতা

 

্যালজোলামের ফুল

গাছেরা যখন কথা বলছিল ফিসফিস করে
তুলি দিয়ে তখন টানা হচ্ছিল নিপুণ টান।
ঘাসজমি বড় সবুজ। নরম ও তুলতুলে।
গভীরে লকলক করে বিষধর, ফণীন্দ্র,
ওপরে ফুটে থাক কুসুম কুসুম মন, অপাবৃত।
কফিতে ধোঁয়া উঠলে তোমার মন ভাল থাকে
এই বলে সে তুলি চালাল শূন্য ক্যানভাসে
তুলির প্রতিটি রোম এক মৃত খরগোশের
হা হা করে হেসে উঠলে, সঙ্গে সঙ্গে বোল্ড আউট
ভয়ে কেঁপে লুকিয়ে পড়ল দুটি রক্তবর্ণ চোখ।
গাছেরা ফিসফিস করে কথা বলা বন্ধ করে দিল
অনাগত সন্তানেরা ফিরে গেল জঠর-গভীরে।৷

কিছুটা বিষণ্ণ রক্তপাত, তিরন্দাজ জেনে গেছে
নিঃশব্দে কাঁদবে, তারপর আবার নতজানু হয়ে
ভিক্ষা করবে প্রেম, ভিক্ষা করবে সুখ ও অপমান
সে পিছন ফিরে দেখেনি ক্যানভাস ভাসছে লাল রঙে
মর্মাহত তুলিকার অন্য নাম ছুরিকা, যদি বা শীর্ণ
তবু ব্যর্থ নয়, সে লালরংকে রক্ত ভাবল আর রক্তকে লালরং।

অরণ্যবন্দর মিছিমিছি গান গেয়ে ফিরে গেছে
ধূর্ত শৃগালেরা হেঁকে বলল, ক্যা হুয়া, ক্যা হুয়া
কুছ দিক্কত হুয়া তো মুঝে বোলো, সব ঠিক করে দেব।
ঘাসের অন্ধকারে জেগে রইল চেরা জিভ ও অতন্দ্র চোখ।

একদিন না একদিন ঘুম আসবে এই আশায়,
কে যেন একরাশ অ্যালজোলাম ঢেলে রেখে গেছে
ক্যানভাসে লাল রঙের ওপর ফুটে আছে
গুচ্ছ গুচ্ছ সাদা অ্যালজোলামের ফুল।

 

কুমির

চকিতা হরিণীর মতো ফিরে তাকালে
তুমি তো নিজেও জানো এইসব কারুকার্য
ভীষণ প্রখর। নিস্তেজ করে দেয় রুদ্ররূপ।
খাল কেটে ডাকা কুমিরেরা মন্ত্র জানে
নিরাসক্তির ভান জানে, গভীরতা চেনে
কোথায় কতটা খাপ, কত মাপ, কতটা অতল।
কতটা অন্ধ হলে বন্ধ হয় পাখা, রবি ঠাকুরের গান
কত যে বাজিয়ে গেছে বারোটার পরে
অন্তর্গ্লানি একা বসে থাকে নদীর কিনারে

 

মৃত

কাঁটাঝোপের ওপাশে মরে পড়ে আছে কে?
আমি তার মুখ দেখা ভয় পাই। খুব ভয় পাই
তার ফুলে ওঠা মুখ। বিবর্ণ, নীলাভ চর্ম, হলুদ অসুখ।
সব খুব চেনা, কিন্তু চিনে নিতে পারিনি কখনও
কখনও চোখের পাশে, কখনও অনেক দূরে
কখনও পায়রা নীল, কখনও ভীষণ তীব্র। বুনো।
নরম ভোরের ফুল ঝরে ঝরে পড়ে গেছে লাশে
অনর্থক জেগে উঠে ডাকে না কখনও…
রবি ঠাকুরের বই পড়ে আছে ভিজে সোঁদা ঘাসে
এখন পাওয়ার প্লে, এখন কঠিনতর গেম
নিকষিত হেম বুঝি? ছকবন্দি নীরবতা হেঁকে বলে
চিনে নাও, ভাল করে চেনো
বলে, “সে আমার প্রেম। তারে আমি রাখিয়া এলেম।”

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4412 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...