‘শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে মুক্তি’

উর্বা চৌধুরী

 

এ শহর দিয়েই শুরু করা যায়, তারপর পৌঁছানো যায় গোটা দেশে, বিশ্বেও। তখনও কলকাতা ছিল কলকাতাতেই, শুধু আমার দর্শনটুকু ছিল তেমন, যেমন থাকে টানেলের এপ্রান্তের দর্শনে। ওপ্রান্তের পরিধি যতটুকু, ততটুকুই বুঝি বিশ্ব! বস্তুজগতের সবটুকুই আমার চেতনার রঙে যেমন, তেমন। প্রশস্ত জনপথ, পেল্লাই অট্টালিকা, গোছানো স্কুলবাড়ি, পরিকল্পনামাফিক পোঁতা কৃষ্ণচূড়া, ফুরুস, জারুল, কাঠবাদাম, কদম। মধ্যবিত্তের ছাত্রদশা যেমন হয়, ঠিক তেমন ছিল আমারও ছাত্রদশা। লেখাপড়া বলতে বুঝতাম পাশ-ফেল আর শতাংশে কোন পরীক্ষার্থী কত সংগ্রহ করতে পারে। ভারতবর্ষের মতো দেশে থেকে দারিদ্র্যের ধারণা হবে না, এ হয় না। আবার এই ভারতবর্ষের মতো দেশে থেকেই দারিদ্র্যের ন্যূনতম স্পর্শটুকু না পাওয়াও সম্ভব। এদেশে দরিদ্রের চাহিদা ও চাহিদা মেটা এবং অদরিদ্রের চাহিদা ও চাহিদা মেটার মধ্যে বিস্তর তফাত। সুষ্ঠু জীবনের সরলার্থ বিত্তের উপর দাঁড়িয়ে বদলে যায়। কোন মানুষের কাছে কোন কাজ গুরুত্ব পাবে তা মূলত নির্ভর করে মানুষটি সমাজে কোন শ্রেণিতে অবস্থান করছেন বা করতে বাধ্য হচ্ছেন তার উপর। কী তার সংগ্রামের লক্ষ্য, অস্তিত্ব টিঁকিয়ে রাখতে কী তাকে অর্জন করতে হবে আর কী তাকে ত্যাগ দিতে হবে, তা সত্বর বুঝে নেওয়াই হল সেই মানুষটির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু ও বহাল রাখার মৌলিক শর্ত। যাদের কাছে স্কুলে গিয়ে লেখাপড়া করা আর পেট ভরে খাওয়ার গুরুত্ব সমগোত্র, তাদের কাছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ঠিক ততটাই মূল্যবান যতটা এ সমাজকাঠামোর কর্মসংস্থানের কাছে তা মূল্যবান। সমাজের সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণি। ‘শিক্ষা’ প্রমাণ করেছে যে, তা কর্মসংস্থানের বেড়ার ভিতর স্থিত নয়। তার মৌলিক বা বৃহৎ উদ্দেশ্য অন্য কিছু। অর্জন ও উপার্জনের এই সহাবস্থান আমাদের বিবর্তিত বোধে এমন নানা কিছুকে স্থান দিয়েছে, যা থেকে আমরা বারবার বুঝেছি, ‘যতটুকু অত্যাবশ্যক কেবল তাহারই মধ্যে কারারুদ্ধ হইয়া থাকা মানবজীবনের ধর্ম নহে। আমরা কিয়ৎপরিমাণে আবশ্যকশৃঙ্খলে বন্ধ হইয়া থাকি এবং কিয়ৎপরিমাণ স্বাধীন। আমাদের দেহ সাড়ে তিন হাতের মধ্যে বদ্ধ, কিন্তু তাই বলিয়া ঠিক সেই সাড়ে তিন হাত পরিমাণ গৃহ নির্মাণ করিলে চলে না। স্বাধীন চলাফেরার জন্য অনেকখানি স্থান রাখা আবশ্যক, নতুবা আমাদের স্বাস্থ্য এবং আনন্দের ব্যাঘাত হয়। শিক্ষা সম্বন্ধেও এই কথা খাটে। যতটুকু কেবলমাত্র শিক্ষা অর্থাৎ অত্যাবশ্যক তাহারই মধ্যে শিশুদিগকে একান্ত নিবদ্ধ রাখিলে কখনওই তাহাদের মন যথেষ্ট পরিমাণে বাড়িতে পারে না। অত্যাবশ্যক শিক্ষার সহিত স্বাধীন পাঠ না মিশাইলে ছেলে ভালো করিয়া মানুষ হইতে পারে না — বয়ঃপ্রাপ্ত হইলেও বুদ্ধিবৃত্তি সম্বন্ধে সে অনেকটা পরিমাণে বালক থাকিয়াই যায়।’ (শিক্ষার হেরফের, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। এখন, প্রশ্ন হল, এমন উৎকৃষ্ট বোঝাপড়া সত্ত্বেও আমরা আসলে বুঝলাম কী? বরং বলা ভালো, বোঝাপড়ার সবটুকু দুরমুশ করে আমাদের উল্টো বুঝতে বাধ্য করল যে, সেই ‘রাষ্ট্র’, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার নামে আমাদের কোন গোলচক্করে এনে ফেলল? স্লোগান শুধু নয়, একসময় দৃঢ়নিশ্চয় লব্জ ছিল ‘শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে মুক্তি’। ‘জীর্ণ পুরাতন’ ছিঁড়ে মুক্ত হওয়ার একমাত্র হাতিয়ার হিসাবে আমরা চিনেছিলাম শিক্ষাকেই। বুঝেছিলাম আমাদের ‘মানসিক পাকযন্ত্র’ পুষ্ট হবে শিক্ষার হাত ধরেই। শিক্ষার আলো পেলে আমাদের কর্তব্য, দায়িত্ব, অধিকারের উচিত ব্যাকরণ কেউ গুলিয়ে দিতে পারবে না। কিন্তু কালে দিনে যা দাঁড়াল তাতে শিক্ষা বলতে আমরা বুঝলাম, উপার্জনের প্রাগায়োজন। শিক্ষা পরিষেবাটি হয়ে উঠল লৌকিক পরিষেবা, কিন্তু ‘শেখা’র বন্দোবস্ত তা আর রইল না।

“স্বাধীনতা”-র চুয়ান্ন বছর পর ভারতের সংবিধানের ছিয়াশিতম পরিমার্জনে ছয় থেকে চোদ্দ বছর বয়সীদের বিনা ব্যয়ে বাধ্যতামূলক শিক্ষাকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হল। সাল ২০০১। শিক্ষার মতো মৌলিক প্রয়োজনকে সাংবিধানিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে এ এক দুশ্চিন্তাজনক বিলম্ব! এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে বিংশ শতাব্দীর শেষ থেকেই আপৎকালীন তৎপরতায় স্কুলশিক্ষার সার্বজনীনিকরণ প্রশ্নে তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া শুরু হল। ১৯৯৩-৯৪ সালের ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি এডুকেশান প্রোগ্রাম (ডি পি ই পি) প্রাথমিক শিক্ষার (প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি) সার্বজনীনিকরণের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত, স্বীকৃত ও প্রণয়ন করা একটি কর্মসূচি। ২০০০-২০০১ সালের সর্বশিক্ষা অভিযান প্রারম্ভিক শিক্ষার (প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি) সার্বজনীনিকরণের উদ্দেশ্যে নেওয়া একটি পদক্ষেপ। পরবর্তীতে ন্যাশানাল কারিক্যুলাম ফ্রেমওয়ার্ক (এন সি এফ) ২০০৫ প্রস্তুত হল। প্রতিটিই হল প্রারম্ভিক শিক্ষার শিক্ষণ-শিখন পদ্ধতিসহ স্কুলের পরিকাঠামোগত বিকাশের ধারাবাহিক ধাপ। এই বিকাশের গতিপ্রকৃতিটি লক্ষ করলে দেখা যাবে, পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মানও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও তফাৎ হয়ে যায় সংখ্যাগত এবং গুণগত লক্ষ্য ধার্য করা ও লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়ার মধ্যে। সংখ্যাগত সাফল্য লাভ, গুণগত সাফল্য লাভের চাইতে অনেকটা সহজ। দু’য়ের কৌশল ও পদক্ষেপ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা। প্রারম্ভিক শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবং তার সার্বজনীনিকরণের উদ্দেশ্যে সর্বশিক্ষা অভিযানে চারটি মৌলিক লক্ষ্য স্থির হয় –

  1. স্কুলকে শিশুর ধরাছোঁয়ার মধ্যে আনা।
  2. শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়া।
  3. স্কুলে থেকে শিশুর ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি অবধি সম্পূর্ণ করা।
  4. শিশুর জন্য উন্নত গুণমানের শিক্ষা।

শিশুর বিনা ব্যয়ে বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ (Right of Children to Free and Compulsory Education Act 2009)-এর মূল লক্ষ্য হল প্রারম্ভিক স্তর (অষ্টম শ্রেণি) অবধি শিশুর বিনা ব্যয়ে শিক্ষার অধিকারকে সুনিশ্চিত করা। পরবর্তীকালে শুরু হল রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অভিযান, যা দ্বাদশ শ্রেণি অবধি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসহ সার্বিক বিকাশের গুণগত মানোন্নয়নকল্পে প্রণয়ন হওয়া একটি প্রকল্প। যদিও নবম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি অবধি বিনাব্যয়ে শিক্ষার বন্দোবস্ত এই প্রকল্পে নাই। নয়ের দশক থেকে ভারতবর্ষে স্কুলশিক্ষায় রাষ্ট্রের নীতিগুলি অতি সংক্ষেপে তুলে ধরতে চেষ্টা করলাম। বাহ্যিক যে ছবি আমরা দেখতে পাই তাতে মনে হতেই পারে এ এক মহতী ব্যবস্থাপনা, যার ফলাফলও আদর্শ কিছু। কিন্তু ফলাফল অভিপ্রায় মতো হল না। কারণ, এত সত্ত্বেও আমার দেশে শিশুশ্রম ঘুচল না, স্কুলছুটের সমস্যা মিটল না। শিক্ষানীতির প্রণয়নগত ত্রুটি, দুর্বলতা কেবল নয়, এই গোটা বিপন্ন চিত্রটির, ভয়াবহ চিত্রটির পিছনে রয়েছে এদেশের অর্থনীতি। শিক্ষাব্যবস্থা বা তার নীতিগুলিকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা এক্ষেত্রে সম্ভব নয়। এ রাজ্যের, এদেশের স্কুলছুটেরা কেন স্কুলছুট তার কারণ কেবল স্কুল প্রাঙ্গণে ঢুঁড়ে মিলবে না। স্কুলছুট হওয়ার পর একবার যদি তাকিয়ে দেখা যায় স্কুলছুটের দৈনিকের জীবনের দিকে, বোঝা যাবে কেন সে স্কুলে যায় না। সে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শ্রমে যোগ দেয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাকে যা দিতে পারবে না বলে সে বুঝল, সেটি পাওয়ার জন্য সে প্রতিষ্ঠান ছাড়ল। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাপ্তবয়স্কদের দেখলে বারবার একটা কথাই মনে হয় ‘আমরা যতই বিএ এমএ পাস করিতেছি, রাশি রাশি বই গিলিতেছি, বুদ্ধিবৃত্তিটা তেমন বেশ বলিষ্ঠ এবং পরিপক্ক হইতেছে না। তেমন মুঠা করিয়া কিছু ধরিতে পারিতেছি না, তেমন আদ্যোপান্ত কিছু গড়িতে পারিতেছি না, তেমন জোরের সহিত কিছু দাঁড় করাইতে পারিতেছি না।’ (শিক্ষার হেরফের, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। যে শিক্ষান্তে কাজ নাই, সে শিক্ষাকে হিঁচড়ে বয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও কারণ কার্যত স্কুলছুট শিশু বা তাদের পরিবার খুঁজে পায় না। ফলে ‘আদ্যোপান্ত কিছু’ গড়ে তোলার কাজটি আর হয়ে ওঠে না। প্রতিষ্ঠানের শংসাপত্র জোগাড় করার বাসনাবিলাসের সময়ও দরিদ্র মানুষের নাই যে, সে কেবল ‘মানসিক পাকযন্ত্র’-এর পরিণতিতেই নিজের বর্তমান বা ভবিষ্যকালকে টিঁকিয়ে রাখতে পারবে। তাহলে কী সংসারের জোয়াল টানার প্রয়োজনের প্রশ্নে শিশুর স্কুলছুট হওয়া একপ্রকার সামাজিক স্বীকৃতি পেয়ে যাবে? তাহলে কী আমরা মেনে নেব ‘শিক্ষা’ কেবল উপার্জনের প্রাগায়োজন?

এমন ভাবনা যদি মনে আসে তবে বুঝতে হবে, সভ্য দেশ সভ্য নয়, ছিলই না কোনওদিন। তবু এমনটাই ভারতদেশ। লাগামছাড়া বৈভব আর লাগামছাড়া অনাহারের দ্বান্দ্বিক সহাবস্থানে এদেশের ঐক্যপ্রিয় বৈচিত্র পরিণত হয়েছে দুঃসহ বৈষম্যে। তবু দুর্দিনে আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে লাগাতার নানা কু-আচারের দেওয়ালে ফাটল ধরাতেই হবে। শিক্ষার ঘরানা বদলাতে হবে। ভেবে দেখতে হবে, কেমন করে শিক্ষা সমাজের সম্পদদের বেড়ে উঠতে সহায়ক হবে। পাঠক্রম পরিবর্তন-পরিমার্জন, শিখতে সাহায্য করায় শিক্ষকদের পদ্ধতিগত বদল আনতে হবে। স্কুলশিক্ষার পাঠক্রমে, পাঠ্যসূচিতে প্রাক বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্তির কথা ভাবতে হবে। শিক্ষান্তে কাজ পাওয়ার মতো প্রাথমিক দক্ষতাটুকু যাতে শিক্ষার্থীর তৈরি হতে পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে। নচেত শিক্ষার্থীর মনে টানাপোড়ন তৈরি হবেই। সে ভাববে, এ শিক্ষার তেমন পরিণতি কই, যা তাকে আর্থিক স্ব-ক্ষমতায়নে সাহায্য করবে? যা তার বিত্তগত নিরুপায় বাধ্যবাধকতার উপায় করতে সাহায্য করবে? সর্বোপরি, রাষ্ট্রকে সুনিশ্চিত করতে হবে সকলের কর্মসংস্থান। প্রাপ্তবয়স্কের পূর্ণ কর্মসংস্থানের অভাবে দরিদ্র মানুষ পরিবারের শিশুদের শ্রম বেচার পথ বাছেন। শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য জরুরি পরিবেশের প্রায় গোটাটাই শিশুর জীবন থেকে সরে যায় কেবল বাজারে তার শ্রম বিক্রি আছে বলে। শিশুশ্রম বা স্কুল ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে মানবসম্পদসহ আমাদের সার্বিক অর্থনীতি নড়বড়ে হবেই। এর ব্যত্যয় হওয়ার নয়। দিনের পর দিন শিক্ষার প্রারম্ভিকটুকুর অভাবে শিশুদের কল্পনাশক্তিহীন হয়ে পড়া, তাদের যুক্তিকাঠামোর সুষ্ঠুতা বিঘ্নিত হওয়া, কাঁচাবয়সে শ্রমিক হয়ে ওঠা কেবলমাত্র শিশুর পক্ষে ক্ষতিকর নয়, গোটা সমাজের পক্ষে উদ্বেগের! আরেকটি দিক উল্লেখ্য এ প্রসঙ্গে, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিশুর স্কুলছুট হওয়ার অন্যতম কারণ হল কিছু শিক্ষকদের দুর্ব্যবহার। আমরা মনে রাখি না, পেশাদারী শিক্ষকের দুর্মুখ হয়ে ওঠা প্রত্যাশিত নয়, কেবল শ্রেণিগত উচ্চাবস্থানের কারণে ক্ষমতায়িত শিক্ষক প্রতিদিন শিশুর প্রতি নির্মম হবেন — এর চেয়ে দুশ্চিন্তার কিছু হতে পারে না। প্রচলনের ততটুকু গ্রহণযোগ্য যা উন্নত দিন আনে, নাহলে তো ‘আমাদের পানিও আছে পিয়াসও আছে, দেখিয়া পৃথিবীর লোক হাসিতেছে এবং আমাদের চক্ষে অশ্রু আসিতেছে, কেবল আমরা পান করিতে পারিতেছি না।’ (শিক্ষার হেরফের, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। এই লেখা শুরু হয়েছিল কলকাতার রাস্তা থেকে। এ শহর বহু ইতিবাচক ছবি দেখায় রোজ। ঠিক যেমন দেখায়, টালিনালা, নোনাডাঙা, বাগজোলা খালপাড়, গার্ডেনরিচ, ঝিলমিল বস্তি, বাসন্তী কলোনি, পার্কসার্কাস-বালিগঞ্জ স্টেশন ধার, গড়িয়াহাট উড়ালপুল, ধর্মতলায় ফুটপাথ। এই রাস্তা ধরে একবার হেঁটে আসলে বোঝা যায়, এদেশে কোন বিত্তস্তরের শিশুদের শিক্ষা আজ ‘মৌলিক অধিকার’। শুধু বোঝা যায় না, কেন গোটা শহর জুড়ে ছেঁড়া পাতার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে শিশুশ্রমিক! নানা রংচটা ছবি থাকবে গোটা পৃথিবীতে। তা সত্ত্বেও আমাদের বারবার বলে যেতে হবে ‘শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে মুক্তি’। কারণ খোলাবাজারের বৈকল্যের পৃথিবীতে শৃঙ্খল ভাঙার ডাকটুকু অন্তত না দিতে পারলে রক্ষা করার মতো অস্তিত্বও আমাদের থাকবে না।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 5420 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

  1. শিক্ষা নিয়ে অনেকেই লেখেন, কিন্তু এই বিষয়ে আপনার ভাবমা খুব গোছানো।

আপনার মতামত...

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.