আগামী দিনের স্কুলশিক্ষা: সমস্যা ও তার মোকাবিলা

সৌভিক ঘোষাল

 


লেখক প্রাবন্ধিক ও গদ্যকার। পেশায় শিক্ষক

 

 

 

লেখার শুরুতেই সরাসরি বলে নেওয়া যাক এটা আলোচনা শুরুর একটা ভূমিকামাত্র। সমস্যাগুলোকে বুঝে নেওয়ার একটা প্রক্রিয়া। কোথাও কোথাও আলোচনা শুরুর জন্য খুব প্রাথমিক কিছু প্রস্তাব।

চলে আসা যাক করোনাকালীন লকডাউন উঠে যাওয়ার পরে যখন স্কুলগুলো খুলবে তার সমস্যাগুলোর আলোচনায়। আমরা এগুলোকে একটু সূত্রবদ্ধ করেই উপস্থাপন করি:

১) স্কুলের অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঠিক কাদের স্কুলের আঙিনায় আনা যেতে পারে, কাদের আনাটা বেশি ঝুঁকির হবে?

২) যারা আসবে তাদের ক্লাসের মধ্যে বসার ব্যবস্থা কী হবে, ক্লাসের বাইরে মেলামেশার ক্ষেত্রে কত ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে?

৩) সপ্তাহে কদিন ছেলেমেয়েদের স্কুলে আনা ঠিক হবে, রোটেশন পদ্ধতি নেওয়া হবে কিনা?

৪) সিলেবাস কি একই রাখা হবে, না কমিয়ে নতুন করে স্থির করা হবে?

৫) স্কুলের সময় নানা কারণে কমিয়ে দিতে হলে ডিজিট্যাল ক্লাসের ব্যবস্থাপনা কীভাবে গড়ে তোলা হবে, তার ফলে নতুন কী কী সমস্যা তৈরি হবে? তার সমাধানে কী কী করা যেতে পারে?

৬) মিড ডে মিল ব্যবস্থার কী হবে?

৭) যে সমস্ত স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা স্কুলগাড়ি বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে স্কুলে আসে, তাদের জন্য কী ধরনের নির্দেশিকা বা সতর্কতা থাকবে?

৮) যে সমস্ত শিক্ষকশিক্ষিকারা অনেক দূর থেকে অনেক রকম পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে স্কুলে আসেন– তাদের ক্ষেত্রে কী নীতি নেওয়া হবে?

৯) স্কুলগুলিতে কতটা নিয়মিতভাবে স্যানিটাইজেশন হবে? কী ধরনের স্যানিটাইজেশন? কারা তা করবেন?

১০) স্যানিটাইজেশন, ছাত্রছাত্রীদের মাস্ক, ফেস শিল্ড, সাবান, স্যানিটাইজার ইত্যাদি খাতে যে সব অতিরিক্ত খরচ হবে, তার ভার কারা বহন করবেন?

এভাবে আরও কিছু প্রশ্ন যুক্ত করা যায় বা প্রশ্নগুলির রদবদল করা যায়। তবে এই জিজ্ঞাসাগুলো সাধারণভাবে আছেই। এমন নয় এই প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট উত্তর ঠিক হয়ে আছে। এমন তো নয়ই যে কোনও ব্যক্তি শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক-অভিভাবিকা, শিক্ষা প্রশাসনের কোনও ব্যক্তি এসব একা একাই ভেবে ফেলতে পারবেন। এমনকী এমনও নয় যে শিক্ষা প্রশাসন, সরকার বা শিক্ষা সংগঠনগুলির কাছেও এর সার্বিক উত্তর বেশ খানিকটা তৈরি হয়ে আছে। সকলেই ভাবছেন। মতামতও ব্যক্ত করছেন। তবে দুর্ভাবনা ও ধাক্কার প্রাথমিক পর্বটা পেরিয়ে আলোচনাগুলো এখনও তেমন দানা বেঁধে ওঠেনি। কিছু আলোচনা অবশ্যই হয়েছে। মূল্যবান বেশ কিছু কথাবার্তাও উঠে এসেছে। তবে সেসব এখনও খুবই প্রাথমিকভাবে আছে। মনে হয় আরও সূত্রবদ্ধভাবে, আরও অনেক বেশি বিনিময় আলাপ আলোচনা হওয়া দরকার।

একেবারে প্রথমে যে প্রশ্নটা রয়েছে সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল যখন খুলবে (সেটা যখনই হোক) তখন কি সবাই আসবে স্কুলে? একেবারে ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ? একটা কথা উঠেছে যে না সবাই নয়। ক্লাস ওয়ান (বা নার্সারি) থেকে ক্লাস সেভেন অবধি ছেলেমেয়েরা স্কুলে আসবে না স্কুল খোলা হলেও। ক্লাস এইট থেকে ক্লাস টুয়েলভ কেবল আসবে। এই যে ক্লাস সেভেন অবধি শিশুদের (ধরা যাক বারো বছর অবধি, টিন এজের ঠিক আগে অবধি) স্কুলে আসাটা বেশি ঝুঁকির মনে করা হচ্ছে তার বোধহয় মূলত তিনটি কারণ আছে। এক তো তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠছে, পূর্ণ বিকশিত হয়নি। ফলে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি এবং আক্রান্ত হলে তাকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে ঝুঁকিও বেশি। দ্বিতীয়ত তারা তুলনায় অবুঝ, বিপদের গুরুত্ব পুরোটা বোঝার মতো বয়েস এখনও হয়নি তাদের অনেকেরই। ফলে যে নিয়মনীতি স্কুলের ভিড়ে এলে মানার কথা, তারা তা না মেনে বিপদ বাড়িয়ে তুলবে। তাদের দিক থেকে এই দুটো দিকের পাশাপাশি আর একটা পরিকাঠামোগত দিকও আছে। যেহেতু সব জায়গার মতো স্কুলেও ভিড় কমাতে হবে, তাই নিচু ক্লাসের ছেলেমেয়েরা যদি না আসে (হাই স্কুলে ক্লাস ফাইভ, সিক্স, সেভেন) তবে সেটা করার ক্ষেত্রে সুবিধে হবে।

এবারে আসছে দ্বিতীয় প্রশ্নটা। যারা আসবে— আপাতত যদি ধরেও নেওয়া যায় ক্লাস এইট থেকে টুয়েলভ বা ক্লাস নাইন থেকে টুয়েলভ— তবে বসার অ্যারেঞ্জমেন্ট কী ধরনের হবে? ক্লাসঘর কিছু বাড়বে ছোটরা না এলে, শিক্ষকের সংখ্যাও বাড়বে এদের ক্লাস ভাগ করে নেওয়ার জন্য। যদিও সাবজেক্ট টিচারের একটা অসুবিধে হবেই, তবুও এত বড় সমস্যার সামনে আপাতত না হয় তাকে খানিক সরিয়ে রাখা গেল। অনেক শিক্ষকই নিজেকে অন্য কিছু বিষয়ের ক্লাস নেবার জন্য তৈরি করে নেবেন এটা আশা করা যায়। কিন্তু যদি ক্লাস ফাইভ থেকে সবাই আসতে থাকে তাহলে এভাবে যে সমস্যার সমাধান হবে না, তা বলাই বাহুল্য। তবে ছেলেমেয়েদের দূরে দূরে বসার বন্দোবস্তই বা ঠিক কতটা সম্ভব ? ক্লাস এইট থেকে টুয়েলভের ছেলেমেয়েদের ভিড় কিন্তু যথেষ্টই। ক্লাস ফাইভ অনেক জায়গাতেই প্রাইমারিতে সরে গেছে। সিক্স, সেভেনের ক্লাস বন্ধ রেখেও অনেক স্কুলেই বাকিদের ফিজিক্যাল ডিসট্যান্সিং-এর নীতিমালা মেনে বসানো এক কথায় সম্ভব নয়। এই জরুরি বিষয়টার সঙ্গে ক্লাসের বাইরে তাদের ফিজিক্যাল ডিসট্যান্সিং কীভাবে কতটা রক্ষা করা যাবে— এই বিষয়টা নিয়েও অনেক আলাপ আলোচনা দরকার।

যদি ফিজিক্যাল ডিসট্যান্সিং কিছুটাও মানতে হয় তাহলে দেখা যাবে অনেক স্কুলেই ক্লাস সিক্স, সেভেনকে বাদ রেখেও রোটেশন পদ্ধতি ছাড়া স্কুল চালানো সম্ভবপর নয়। এক এক স্কুলের ক্ষেত্রে এক এক রকম ব্যাপার হবে নিশ্চয়, কিন্তু বহু স্কুলে যে রোটেশন পদ্ধতি ছাড়া ফিজিক্যাল ডিসট্যান্সিং সম্ভব নয়, তা বলাই বাহুল্য।

যদি রোটেশন পদ্ধতি নিতে হয়, তার সঙ্গেই এসে পড়ে সিলেবাসের প্রশ্ন। সিলেবাস কি কমানো হবে না কি একই সিলেবাস পড়ানোর ক্ষেত্রে অ্যাপ্রোচে বদল আনা হবে? মূল বিষয়গুলি পড়িয়ে বাকিটা ছাত্রছাত্রীদের পড়ে নিতে বলা হবে? উচ্চমাধ্যমিক স্তরে এটা সময় সংক্ষেপের কারণে করতে হয় অনেকটাই, মাধ্যমিক স্তরেও কি সেইদিকে যেতে হবে? উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিদ্যমান সূচিই সমস্যাজনক, সে আলোচনা না হয় এখন থাক। কেবল বলা যাক সময় আরও কমলে জটিলতা অনেক বাড়বে।

এই সমস্ত ক্ষতি ও বাধ্যতামূলক আপসের ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে? কতটা করা সম্ভব? একটা কথা অনেকেই বলছেন। ডিজিট্যাল ক্লাসের যে ব্যাপারটা চালু হয়েছে সেটা বজায় থাক। স্কুল খোলার পর এটা পাশাপাশি চলুক, একে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পরিকল্পনার ভেতরে ঢুকিয়ে নেওয়া হোক। এই আলোচনাটা এত নানামাত্রিক, এত বড় পরিসর দাবি করে, যে সেটা নিয়ে আলাদা করে পরে বিশদে লেখাই ভালো। কেবল কয়েকটা মূল কথা বলে নেওয়া যাক। কম্পিউটার, ল্যাপটপ খুব অল্প ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে থাকবে। স্মার্ট ফোন অনেক বেশি ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে থাকলেও অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে নেই। আর বাড়িতে বাবার একটা ফোন থাকলেও নানা কারণে নিয়মিতভাবে তা ছাত্রছাত্রীদের হাতে আসে না। অভিভাবকেরাও তাদের ব্যক্তিগত ফোন ছেলেমেয়ের হাতে স্বাভাবিক কারণেই তুলে দিতে চান না অনেক সময়ে। ফলে ডিজিট্যাল ক্লাস কিছুটাও সফল করতে হলে ছাত্রছাত্রীদের নিজস্ব স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট দেওয়া দরকার। একটা কথা উঠেছে সরকার একসঙ্গে ব্যবস্থা করে অনেক কম খরচে এটা দিতে পারে ছাত্রছাত্রীদের। এই নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলতে পারে। অনেক জায়গাতেই ডিজিট্যাল ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট নেই। সেই বিষয়টিরও সমাধান দরকার। ডিজিট্যাল ক্লাসের উপাদান সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট তৈরি করার দরকার আছে বোর্ড ও কাউন্সিলের পক্ষ থেকে। এ তাবৎ প্রস্তুত করা মাস্টারমশাইদের টিচিং এইডগুলি থেকে বেছে নিয়ে, আরও নতুন অনেক কিছু যুক্ত করে এই কাজটি শুরু করে দেওয়া দরকার। তবে এটি শিক্ষাসহায়ক হিসেবেই কেবল ব্যবহৃত হতে পারে। কখনওই প্রথাগত শিক্ষার বিকল্প হিসেবে নয়। আমাদের বর্তমান পরিকাঠামো ও সামাজিক পরিস্থিতিতে ডিজিট্যাল ক্লাসনির্ভর সমাধানসূত্র খোঁজার ক্ষেত্রে নানাবিধ বিষয়কে বারবার পর্যালোচনা করে খুব সতর্কতার সঙ্গে এগোনো দরকার।

স্কুল শুরু হলেই আসবে মিড ডে মিল সংক্রান্ত সমস্যাবলি। মিড ডে মিল কি চলবে? যদি চলে কীভাবে? ক্লাস নাইন থেকে টুয়েলভ শুধু যদি চলে, তাহলে মিড ডে মিল স্কুলে চলার দরকার পড়ছে না বর্তমান আইন অনুযায়ী। সেক্ষেত্রে মাসে এক দুদিন ফাইভ থেকে এইটের অভিভাবকদের ডেকে চাল আলু ইত্যাদি দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাই আপাতত চালু রাখা যায়। ক্লাস এইট এলে অন্তত কিছুদিন শুকনো প্যাকেট খাবার, চিঁড়ে কেক ইত্যাদি দেওয়ার কথা ভাবা যায়। কারণ খাবার তৈরি ও পরিবেশনের বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল। স্কুলে মিড ডে মিল রান্না ও বিতরণ যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে— অনেকেই এরকম ভাবছেন। মিড ডে মিল কর্মীদের অবশ্যই তাদের সাম্মানিকের পুরোটা দিয়ে যেতে হবে।

ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আসার ব্যাপারটা প্রাইভেট স্কুলের ক্ষেত্রে বেশি সমস্যাজনক। কারণ তাদের অনেকেই স্কুলগাড়িতে বা অন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্টে বেশ কিছুটা দূরের পথ পাড়ি দেয়। সরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা নেই তা নয়, তবে তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তারা হেঁটে সাইকেলেই আসে অধিকাংশ। তবে সবাই নিশ্চয় নয়। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য অতিরিক্ত কিছু সতর্কতা প্রয়োজন।

মাস্টারমশাই দিদিমণিদের অধিকাংশই এখন আসেন দূর থেকে। অনেক রকম যানবাহন বদলে। লোকাল ট্রেন চালু না হলে তাদের অনেকের আসা কার্যত অসম্ভব। আর ভিড় লোকাল ট্রেন বা বাসে এসে সেই পোশাকে ছাত্রছাত্রীদের সামনে যাওয়াটা বিপদ বাড়িয়ে তোলা বলেই অনেকে মনে করছেন। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বদলি ব্যবস্থাকে কতটা ব্যাপক করা যায়, সেটা দেখতে হবে। তার পাশাপাশি অন্তত অ্যাড হক ভিত্তিতে আগামী এক দেড় বছরের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে কতটা কাছাকাছি স্কুলে শিক্ষকশিক্ষিকাদের পড়ানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া যায়, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। খুব জরুরি ভিত্তিতে এক দেড় বছরের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার হলে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত খানিকটা বিপর্যস্ত হবে নিশ্চিত। তবুও সবদিক খতিয়ে দেখে সেদিকেই হয়তো এগোনো দরকার। অনেক জায়গায় এলাকার শিক্ষিত যুবকযুবতীদের এই সময়কালের জন্য জন্য শিক্ষক/শিক্ষাসহায়ক হিসেবে নিয়োগ করে সমস্যা খানিকটা মেটানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রাইমারি স্কুল বন্ধ থাকলে সেখান থেকেও শিক্ষকশিক্ষিকাদের কাউকে কাউকে এই অতি বিশেষ পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাদানে ব্যবহার করার কথা ভাবা যেতে পারে। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই সবচেয়ে ভালো সমাধানটা বেরিয়ে আসতে পারে। সেই আলাপ-আলোচনাটা শুরু হওয়া দরকার।

স্কুলগুলির নিয়মিত স্যানিটাইজেশন, প্রোটেকটিভ ব্যাবস্থাপনা, নিয়মিত স্যাম্পেল টেস্ট ইত্যাদি অত্যন্ত জরুরি বিষয় বলাই বাহুল্য। সেগুলো কী কী করা হবে, তার আয়োজন, খরচ কীভাবে হবে— তা নিশ্চিতভাবেই কেবল স্কুল কর্তৃপক্ষের ব্যাপার হতে পারে না। শিক্ষাদপ্তর, স্বাস্থ্যদপ্তর, পৌরদপ্তর, পঞ্চায়েত ও জনস্বাস্থ্য দপ্তর ইত্যাদি নানা কিছুর সমন্বয় দরকার। স্কুল খোলার আগেই যদি এই বিষয়গুলি নিয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনা, সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে না পারা যায়, তাহলে কিন্তু জটিল পরিস্থিতি জটিলতর হবে।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 3165 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...