রিডিং লোলিটা ইন তেহ্‌রান এবং ইরানের বর্তমান নারীআন্দোলন

রিডিং লোলিটা ইন তেহ্‌রান এবং ইরানের বর্তমান নারীআন্দোলন | শিবানী ভট্টাচার্য দে

শিবানী ভট্টাচার্য দে

 


অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক

 

 

 

 

কয়েক বছর আগে একটা স্মৃতিকথা পড়েছিলাম, ইরানি আমেরিকান লেখক আজর নাফিসি (Azar Nafisi)-র  ‘রিডিং লোলিটা ইন তেহ্‌রান’ (Reading Lolita in Tehran)। ১৯৭৯ সালের পর থেকে ইরানের কর্তৃত্ববাদী ধর্মতান্ত্রিক সরকারের শাসনে মহিলাদের জীবনের উপর যে মধ্যযুগীয় উৎপীড়ন নেমে আসছিল সেই সময়কার অভিজ্ঞতাই এই বইয়ের উপজীব্য। ১৯৭৯ সালের পর বিয়াল্লিশ বছর ধরে অবস্থার যে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি সে খবর মাঝে মাঝে বেরোয়, আর গত সেপ্টেম্বরে মাহসা আমিনির হত্যার সূত্রে বোঝা গেল তা কতটা ভয়ঙ্কর, আর মনে পড়ে গেল সেই বইটার কথা।

এই বই লেখার ঐতিহাসিক পশ্চাদপটের কথা প্রসঙ্গের খাতিরে কিছুটা বলি।

সাল ১৯৭৯, জানুয়ারি মাসে ইরানের পহ্‌লভি বংশীয় শেষ শাহ্‌র পতন হয়। নতুন সরকার গঠিত হল আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেইনির নেতৃত্বাধীন ধর্মীয় সংগঠনের দ্বারা এবং ইরানি বামপন্থীদের সমর্থনে। বামপন্থীরা তখনকার দুই ভরকেন্দ্রের পৃথিবীতে পাশ্চাত্য পুঁজিবাদী সংস্কৃতির অনুসারী শাহ্‌ এবং তাঁর সমর্থকদেরকে তাদের শত্রু মনে করত। ধর্মীয় দলগুলো শাহ্‌র শাসনে পশ্চিমি ধাঁচের সভ্যতা, শিক্ষার আধুনিকীকরণ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও নারীস্বাধীনতার বিস্তারে অসন্তুষ্ট ছিল। ইরানের সমৃদ্ধ তৈলক্ষেত্র, যা একসময় ব্রিটিশ ও আমেরিকান কোম্পানিগুলোর মালিকানায় ছিল, সেগুলো অনেক লড়াইয়ের পর সরকার নিজেদের হাতে নিয়েছিল, কিন্তু তার লাভ থেকে দেশের শুধু মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতেই বিপুল সম্পদ সঞ্চিত হচ্ছিল।

শাহ প্রভাবশালী শিয়া ধর্মগুরুদের প্রভাব হ্রাস করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন। পশ্চিমি ভাবধারা যা দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সাযুজ্য রাখে না বলে ধর্মীয় দলগুলোর অভিমত ছিল, তা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, যেমন মেয়েদের হিজাবপরা বেআইনি ঘোষিত করে, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীপুরুষের সমান অধিকার প্রচলিত করে। আয়াতোল্লা খোমেইনি ও তাঁর অনুগামীরা মূলত এইসব কারণে শাহ্‌র বিরোধী ছিল, কিন্তু তারা জনগণের কাছে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের কথা প্রচার করত। এই প্রচারের কারণে ইরানের শিক্ষিত সমাজের বড় অংশ আয়াতোল্লা খোমেইনিকে সমর্থন করেছিলেন। এঁদের সিংহভাগই ছিলেন ইউরোপ আমেরিকায় পড়াশুনো করা ধর্মনিরপেক্ষ, আবার অনেকে ছিলেন সমাজতন্ত্রের সমর্থক।

খোমেইনিদের প্রচার যে নিতান্তই মুখোশ ছিল তা অল্পদিনের মধ্যেই বোঝা গেল। নতুন সরকার, যাকে সোভিয়েতের অনুকরণে বিপ্লবী সরকার বলা হলেও আসলে মোল্লাতন্ত্র, ক্ষমতায় আসতে শাহ্‌ সিংহাসন ছেড়ে সপরিবারে পালিয়ে গেলেন। তাঁর নীতির সমর্থকদের অনেকেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেন, যাঁরা দেশে ছিলেন তাঁদের অনেকের কারাবাস ও মৃত্যুদণ্ড হল। এবং এবারে সরকারের নামে ‘ইসলামি’ শব্দটা জুড়ে গেল। যে শাসন কায়েম হল, তাতে সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতি পদক্ষেপ শয়িয়তের কট্টর বিধান অনুসারে নির্দেশিত হতে লাগল। বিরোধীদের আমেরিকার দালাল বলে দাগিয়ে দেওয়া হল। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তচিন্তার পরিসর এই তথাকথিত বিপ্লবী সরকারের পছন্দ ছিল না, কারণ মুক্তচিন্তার ফলে মানুষ প্রশ্ন করে, সংশয়ী হয়, যা তাদের মতে পাশ্চাত্য শিক্ষার ধর্মবিরোধিতা, সার্বিক অনৈতিকতা ও ক্ষয়িষ্ণুতার লক্ষণ। তারা চাইছিল তাদের মতের ইসলাম অনুসারী শিক্ষাব্যবস্থা, যা প্রশ্ন তোলে না, নিরবচ্ছিন্ন বিশ্বাস ও আনুগত্য দাবি করে। সরকারের কর্মপন্থার সমালোচনাও নিষিদ্ধ হল, সরকারের বিরোধিতা ও দেশবিরোধিতা সমার্থক পরিগণিত হল।

১৯৭৯ সালে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে গণতন্ত্র ফিরবে এই বিশ্বাসে পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে বা সেখানকার কাজ ছেড়ে যে ইরানি শিক্ষিত ব্যক্তিরা দেশে ফিরছিলেন, ডঃ আজর নাফিসি তাঁদের একজন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরাজিতে পিএইচডি সদ্য শেষ করে দেশে ফিরে তেহ্‌রান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও সাহিত্যবিভাগে ইংরাজির অধ্যাপকের পদে যোগ দেন। তেহ্‌রান বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন পৃথিবীর আর সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মতই ছাত্রছাত্রী একসঙ্গে পড়ত। শাহ্‌-এর আমলে এতদিন পর্যন্ত পাঠ্যবিষয়ে, পাঠদানে, লিঙ্গনির্বিশেষে ছাত্র এবং অধ্যাপকদের পারস্পরিক মেলামেশায়, ভাবের আদানপ্রদানে, পোশাক পরিধানে কোনও শরিয়তি নির্দেশের বাধ্যবাধকতা ছিল না।

আয়াতোল্লা খোমেইনির ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ধীরে ধীরে নারীবাদী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, উদারবাদী, এবং তাঁর ক্ষমতায় আসার সহযোগী বামপন্থীদের উপরও খাঁড়া নেমে আসতে লাগল। মেয়েদের উপর নানাধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি হল ইসলামের নামে। বাড়ির বাইরে বেরোতে, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ক্লাসেও মেয়েদের মাথার চুল সম্পূর্ণভাবে হিজাব নামক বস্ত্রখণ্ড দিয়ে ঢেকে উপরে পরতে হবে চাদোর নামক ঢোলা পোশাক, যাতে মাথা থেকে পা অবধি আবৃত থাকে। অধ্যাপকরাও এই নির্দেশের বাইরে ছিলেন না। কর্মস্থল ব্যতীত অন্যত্র মেয়েদের যাওয়ার প্রয়োজন হলে পরিবারের কোনও পুরুষ নিকট-আত্মীয় যেমন বাবা বা ভাই বা স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে পুরো পর্দা করে বেরোনোর নির্দেশ হল। কাজ করার জায়গা সীমিত হয়ে গেল, কর্তৃত্বমূলক পদ সবই পুরুষের, মেয়েরা বিপ্লবী সরকারের পোশাকবিধি সহ সমস্ত নির্দেশ মেনে নিচের ধাপের ছোটখাট পদে, যেমন মহিলা পুলিশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার কাজে বহাল রইল। শাহ সরকারে দুজন মহিলা মন্ত্রী ছিলেন। তাঁদের দুশ্চরিত্রা বলে দাগিয়ে দেওয়া হল। একজন বিদেশে পালালেন, অন্যজন, যিনি একসময় স্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন এবং পরবর্তীতে সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন, তাঁকে জেলের ভেতর নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হল। আরেকটা প্রাসঙ্গিক তথ্য এই যে ২০০৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদি, যিনি শাহের সময় দেশের প্রথম মহিলা বিচারকপদে নিযুক্ত হয়েছিলেন, এবং পরে খোমেইনির বিপ্লবী সরকারকে সমর্থন করেছিলেন, তাঁকে বিচারক থেকে বিচারবিভাগের করণিকের পদে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কারণ মহিলারা শরিয়তের নিয়মে বিচারক হতে পারেন না! বিপ্লবের রক্ষী (revolutionary guards) বলে পুলিশবাহিনি গঠিত হল, তাদের কাজ নারীপুরুষ নির্বিশেষে কে কোথায় শরিয়তি নির্দেশ অমান্য করছে তার প্রতি কড়া নজর রাখা এবং বিশেষ করে মেয়েদের পর্দার ব্যতিক্রম দেখতে পেলেই তিরস্কার, পেটানো, তারপরও প্রতিবাদ করলে জেলে পাঠানো, এবং সেখানে অকথ্য অত্যাচার, যার ফলে সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হওয়া বা মৃত্যুর ঘটনাও প্রায়ই ঘটত। অধ্যাপকদের উপর নজরদারি শুরু হল, মুক্তচিন্তার পথিক এবং প্রবক্তাদের কারাগারে পাঠানো হল।

নবীন অধ্যাপক ডঃ আজর নাফিসি তাঁর কয়েকজন সহকর্মী মহিলাদের ক্লাসে হিজাব পরবার ফতোয়া উপেক্ষা করেছিলেন। ইংরেজি সাহিত্যের ক্লাসে তাঁর রেফার করা বইগুলোকে ‘অনৈতিকতা’র অভিযোগ তুলে রক্ষণশীলতার পক্ষে আন্দোলনকারী ছাত্র ক্যাডারদের প্রচণ্ড চাপ সত্ত্বেও তিনি বাতিল করেননি। কিন্তু নতুন সরকার তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নিজেদের মতবাদ প্রচার করছে, ভয় দেখিয়ে বাধ্য করছে অনুগত হতে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে নাফিসির সহকর্মী অনেক অধ্যাপক সাস্‌পেন্ড হলেন, কারাগারে গেলেন, কেউ-কেউ নিখোঁজ হলেন, বছরখানেক পর নাফিসিকেও চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হল। একটি কমিটি গঠন করা হল, বিশ্ববিদ্যালয়কে কীভাবে পাশ্চাত্যপ্রভাব মুক্ত করে ইসলামিকরণ করা যায় তা দেখা, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ নির্দেশ অমান্য করলেই তাঁকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা এই কমিটির ছিল। এই কাজ করতে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হল। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রদের দলগুলি আন্দোলনে নামল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে, শহরের রাস্তায় তুমুল প্রদর্শন, ধর্না, মিছিল চলতে থাকলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালাল, মৃতদেহ লুকিয়ে ফেলল, কিছু ছাত্রছাত্রী গ্রেফতার হল, কারাদণ্ড হল। যে মেয়েরা সরকারের পর্দার কড়াকড়ির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিল, কারাগারে তাদের উপর অত্যাচারের ফলে অনেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেল, যেসব মুক্তচিন্তক বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপক কারাবন্দি হয়ে অমানুষিক অত্যাচারের সম্মুখীন হলেন, জোর করে ক্যামেরার সামনে তাঁদের অনেকের মুখ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হত যে তাঁরা ভুল করেছিলেন। তারপরও অনেকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলেন।

তেহ্‌রান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর ক-বছর ধরে নাফিসি নিজেকে পড়াশোনা, সাহিত্য আলোচনা ও লেখালেখিতে ব্যাপৃত রাখলেন। এর ক-বছর পরে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুরুদ্ধ হয়ে আবার অধ্যাপনার কাজে যোগ দিলেন। ততদিনে তিনি বাস্তবতার সঙ্গে কিছুটা আপস করে হিজাব চাদোর পরতে শুরু করেছেন। তবুও কোনও কাজে সরকারি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হলে, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটেও সরকারের মহিলা নীতিপুলিশরাই সর্বাঙ্গ ঢাকা মেয়েদেরও বডিসার্চের নামে শারীরিক হেনস্থা করত, অথচ শারীরিক হেনস্থার অভিযোগকে কর্তৃপক্ষ ‘মেয়েদের বাড়াবাড়ি’ বা ‘হিস্টিরিয়া’ বলে উড়িয়ে দিত। নাফিসি আগে পর্দার প্রতিবাদ করেছিলেন বলে তাঁর নামে তাঁর এখনকার বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসে, এবং তাঁর কর্তৃপক্ষের অফিসে উড়ো চিঠি এসেছিল, ‘দুশ্চরিত্রা নাফিসিকে বরখাস্ত করতে হবে’। যথারীতি এসব চরিত্রহননের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কোনও খোঁজখবরও করা হয়নি, এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর প্রথমপর্বের ছাত্রী অনেক মেয়ে সরকারের নারীবিরোধী নীতির আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে জেলে গিয়েছিল বা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিল। যারা ফিরেছিল তাদের অনেকেই সমাজে ফিরে আসবার জন্য নিরুপায় হয়ে অভিভাবকের সম্বন্ধ করা অসম অবস্থার, অসম মানসিকতার বিয়েতে অনিচ্ছাসত্ত্বেও সম্মত হয়েছিল। কেউ কেউ এসে আবার নাফিসির এখনকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসেও যোগ দিয়েছিল।

কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া সীমাবদ্ধ সিলেবাস, সীমাবদ্ধ বক্তৃতা, গণ্ডিজীবন, প্রতি পদে, এমনকি ক্লাসেও নজরদারি অসহ্য হয়ে উঠেছিল। রেফারেন্স হিসেবে কোনও বাইরের বই পড়বার অভিমত দেওয়া যেত না। এমনকি সরকার নির্দিষ্ট পাঠ্যবই ছাড়া অন্য বই, বিশেষ করে পাশ্চাত্য লেখকের বই বাজার থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে আট বৎসরব্যাপী (১৯৮০-৮৮) ইরান-ইরাক যুদ্ধের কারণে এমনিতেই জরুরি অবস্থা ছিল, তদুপরি সরকার দেশের মানুষের উপর গোয়েন্দা লাগিয়ে জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিল। যুদ্ধ থামবার পরও এই উৎপীড়ন থামল না, বিশেষ করে শিক্ষিত মহিলাদের জীবন হতাশাতে গ্রাস করছিল।

যুদ্ধের জন্য জীবনের অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা, জনসাধারণের প্রতি সহানুভূতিশূন্য সরকার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। নাফিসি আবারও কাজ ছেড়ে দিলেন। কিছুদিন পর তাঁর বাছাই করা সাতটি মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে পড়াতেন, শুধুমাত্র যে মেয়েরা আগ্রহী ছিল, সেরকম সাতজন। তাঁর ছাত্র, দু-একজন ছেলেও আগ্রহী ছিল, কিন্তু নীতিপুলিশের ভয়ে তাদের নেওয়ার অসুবিধা ছিল।

সেই সময় বছর খানেক তাঁরা সেই তথাকথিত অনৈতিক বইগুলো নিয়েই আলোচনা করতেন, যেমন নবোকভের লোলিটা, ফিটজেরাল্ড-এর গ্রেট গ্যাটসবি, বালজাকের মাদাম বোভারি, হেনরি জেমস, জেন অস্টেন-এর উপন্যাসগুলো। এই উপন্যাসগুলোর বেশ কয়েকটাতে নারীচরিত্রের উপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, স্বাধীন মানসিকতার নারী, তাদের সকলের নৈতিক চরিত্র সমাজের চোখে সমর্থনযোগ্য নাও হতে পারে, তবুও তারা প্রত্যেকেই চরিত্রের দিক থেকে বর্ণময়, স্বাধীনতাকামী, স্বতন্ত্র, এবং সেই স্বাতন্ত্র্যই ছিল বর্তমান সরকারের চোখে ধর্মবিরোধিতা; পুরুষ চরিত্রগুলোও সদ্‌গুণের আকর নয়, বরং লোভ লালসা উচ্চাকাঙ্ক্ষা কাম প্রেম ইর্ষা সব নিয়ে দোষেগুণে মানুষ; তারা কেউই জীবন্ত মানুষের ব্যক্তিগত আদর্শ হতে পারে না। লেখকেরা সমাজকে এইভাবেই পাঠকের সামনে তুলে ধরেন, বিনা উপদেশেই পাঠককে তার ইতিকর্তব্য স্থির করতে বলেন। কিন্তু সাদাকালোর দ্বৈতবর্ণে বিচার করা রক্ষণশীল ইসলামি সরকারের শিক্ষানীতি অনুসারে এইসব বই ছাত্রদের পাঠ্য হিসেবে বিবেচনারও অযোগ্য ছিল। উপন্যাসে কল্পিত চরিত্রের অনৈতিকতা তারা লেখক ও তাঁর দেশের উপর আরোপ করত।

এই পর্বে নাফিসি এবং তাঁর ছাত্রীরা প্রথমে নবোকভ-এর ‘লোলিটা’ পড়তে শুরু করেছিলেন। লোলিটা উপন্যাসের মূল চরিত্র বারো বছরের বালিকা লোলিটা যেন সেই সময়কালে ইরানের প্রত্যেকটি নারী, যারা এক বিশ্বাসঘাতক রক্ষকের হাতে পড়ে চূড়ান্ত নিপীড়নের শিকার। বারো বছরের অনাথ অসহায় বালিকা লোলিটাকে তার অভিভাবক সৎবাবা হাম্বার্ট ধর্ষণ করেছিল, কারণ মেয়েটির আর কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। ইরানের মহিলাদের অবস্থাও অনেকটা তেমনি, অসহায়, রক্ষকের হাতে উৎপীড়িত, অপমানিত, হৃতাধিকার, তাদেরও নালিশ জানানোর, বা মুক্তি পাওয়ার উপায় নেই। দেওয়ালে বসা কোনও পতঙ্গকে সূঁচ দিয়ে বিদ্ধ করলে সে যেমন উড়তে পারে না, শুধু পাখা ঝটপট করতে থাকে তার মৃত্যু না আসা পর্যন্ত, এইসব একদা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার খোলা বাতাস পাওয়া মহিলাদের জীবনে তেমনি নিরুপায় অনুভব ছিল।

বইয়ের প্রসঙ্গে এই মহিলারা নিজেদের অবস্থারও আলোচনা করতেন। কীভাবে দৈনন্দিন বন্দি জীবনের মধ্যে পরিবারের পুরুষ সদস্য, বাবা বা ভাইয়ের থেকেও তাদের কেউ কেউ সহানুভূতি পেত না, বিবাহিত পড়ুয়া স্বামীর অত্যাচারের কথা বলত, বলত শুধু নিজেদের নয়, তাদের মায়েদেরও প্রায় সমান সমস্যাকুল জীবনের কথা। তাঁর এক ছাত্রী আরও কয়েকজন মেয়েবন্ধুর সঙ্গে শরীর ঢাকা পোশাক পরে একসঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল,  নীতিপুলিশ তাদের ধরে অপমান করে, এবং সবচাইতে খারাপ ব্যাপার ছিল যে সামান্য এইটুকু স্বাধীনতা ভোগের জন্য তাদের ‘বেশ্যা’ আখ্যায়িত করা হয়, হাজতে পোরা হয়, দুদিন পর হলফনামা নিয়ে ছাড়া হয়। তরুণী নববিবাহিতা ডঃ নাসিফি নিজেও যখন ১৯৭৯ সালে আমেরিকা থেকে তেহ্‌রান এয়ারপোর্টে পৌছেছিলেন, নারী হিসেবে অপমানের প্রথম অভিঘাত এসেছিল সেখানেই, যখন তাঁকে তাঁর স্বামীর থেকে আলাদা করে তাঁর ব্যাগ বাক্স ঘেঁটে মদ আছে কি না, তাঁর মুখে মদের গন্ধ আছে কি না পরীক্ষা করা হয়েছিল, কারণ আমেরিকায় থাকা নারী স্বেচ্ছাচারী— এরকমই ধারণা ছিল ইরানের নীতিপুলিশের। তাঁর স্কুলছাত্রী  শিশু মেয়ে নেগারকেও হিজাব চাদোর পরে স্কুলে যেতে হত, শিশুটি স্কুলে আমেরিকা থেকে সদ্য দেশে আসা এক সহপাঠী মেয়ের হেনস্থা হতে দেখেছিল— মেয়েটি ইরানের নিয়মকানুন তখনও পুরোপুরি রপ্ত করে উঠতে পারেনি— তার হাতে লম্বা লম্বা নখ ছিল। বিদ্যালয়ের নীতিশিক্ষার শিক্ষিকা তাদের ক্লাসে ঢুকে সকলের সামনে অপমানজনক কথা বলে মেয়েটির নখ এমনকরে কেটে দেয় যে তার আঙুল থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। নেগার বান্ধবীর সহমর্মী হয়ে তার পাশে দাঁড়াতে চাইছিল, তাকে আটকে দেওয়া হয়। স্কুলে এই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরে শিশুটি মায়ের কোলে মুখ গুঁজে কাঁদতে থাকে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে, অথবা ধর্মোন্মাদনায় ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়ে অনেক পরিবার তাদের স্বামী, ছেলে বা মেয়েকে হারিয়েছে, তারা বিপরীতপক্ষের হলেও তাদের সমস্যা ছিল প্রায় একইরকম।

নারীরাই সমমনস্ক নারীদের কাছে এইধরনের অভিজ্ঞতার কথাগুলো বলতে পারত। ডঃ নাফিসির বাড়ির প্রতি বৃহস্পতিবারের প্রাইভেট ক্লাস এই সাতজন মেয়ের কাছে ছিল খোলা জানালার মত। মাঝেমাঝেই দু-একজন আসতে না পারলে খবর নেওয়ার চেষ্টা করা হত, সবসময় খবর পাওয়া যেত না। রক্ষণশীল পরিবারের যে ভাই বা পরিবারের কেউ মেয়েটিকে পৌছে দিয়ে যেত সেও মাঝে মাঝে পুরুষত্বের স্বেচ্ছাচারিতায় দায়িত্ব অস্বীকার করত। অনেক বাবাই মেয়েদের ঘরে থাকতেই উৎসাহিত করতেন, শিক্ষার ব্যাপারে তারা একমাত্র ধর্মশিক্ষাতেই যাওয়ার জন্য খোলামনে অনুমতি দিতেন।

আলোচনার মাধ্যমে নাফিসি ও তাঁর ছাত্রীরা বুঝতে পারছিলেন, যে শুধু ইসলামি প্রজাতন্ত্রই এই অবস্থার মূল ছিল না, দেশের মানুষের নারীবিরোধী মানসিকতাও এই দুর্দশার কারণ। এই ইরানেরই ঐতিহ্যবাহী গল্প শেহারজাদি ও সুলতানের কাহিনি, যেখানে প্রত্যেক নারীই অসচ্চরিত্র— এই ধারণার বশবর্তী হয়ে সুলতান প্রতি রাতে একজন মহিলাকে বিয়ে করে ভোরবেলার মধ্যে হত্যা করতেন, যতদিন না শেহারজাদি সুলতানকে বিয়ে করে হাজার রাত ধরে গল্প শোনানো শুরু করেন। সেই নারীবিদ্বেষের ধারা এখনকার পুরুষদের অনেকের মধ্যেও বহমান, যার পরিণাম এই ধর্মধ্বজী সরকার ও তার ঠ্যাঙাড়ে পুলিশবাহিনি। ১৯৭৯-র ষাট বছর আগে পর্যন্ত নারীরা পর্দার আড়ালে, অশিক্ষার অন্ধকারে ছিল, শাহের সময় তারা খানিকটা বাইরের আলোয় এসেছিল, যদিও শাহ বলপ্রয়োগ করেই সমাজসংস্কারে নেমেছিলেন। তারপর এক স্বৈরাচারীর বিরোধিতা করতে গিয়ে দেশ যে কঠোরতর কর্তৃত্ববাদীর কবলে পড়বে তা মানুষ ভাবতে পারেনি। মেয়েদের যেমন পর্দার আড়ালে অন্ধকারে পাঠানো হয়, পুরুষদের পর্দার আড়ালে যেতে না হলেও সামগ্রিক শিক্ষা ও মননের স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। নাফিসি দেখছিলেন, তাঁর আলোচিত ‘গ্রেট গ্যাটসবি’ উপন্যাসে যেমন করে নায়ক গ্যাটসবির জীবনে অর্থ, প্রতিষ্ঠা, সুন্দরী নারী, ভালবাসা— ইত্যাদি জীবনের কাম্য ভোগের আমেরিকান স্বপ্নভঙ্গ হয়, তেমনি বিপ্লবের সমর্থক প্রতিটি ইরানবাসীর গণতন্ত্র ও স্বাধিকারের স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়ছিল।

নাফিসি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লেও তাঁকে সহজে ইস্তফা দিতে দেওয়া হয়নি। ১৯৯৪ সালে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকতার জন্য আমন্ত্রিত হন, অনেক লড়াইয়ের পর শেষপর্যন্ত ১৯৯৭-এ দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি পান। যে বিদেশ ছেড়ে তিনি দেশে ফিরেছিলেন সেখানে কাজ করবেন বলে, স্বদেশ ত্যাগ করে আবার সেই বিদেশেই বাধ্য হয়ে ফেরেন খোলা বাতাসে শ্বাস নেবেন বলে। সেই স্বপ্নভঙ্গের সময়কালে  যারা পারছিল তারাই মাতৃভূমি ছেড়ে পশ্চিমি দেশে পাড়ি জমাচ্ছিল।

নাফিসি তখন যে ইরানকে রেখে চলে গিয়েছিলেন, তার থেকে বিশেষ কিছু পালটায়নি। মধ্যে কয়েকবছর, নব্বইয়ের দশকের শেষের দিক থেকে নতুন শতকের গোড়ার দিকে সামান্য আলো দেখা দিয়েছিল, ক-বছরের জন্য, পর্দার কড়াকড়ি খানিকটা শিথিল হয়েছিল। তবে ইরানের প্রেসিডেণ্টও সর্বনিয়ন্ত্রক ধর্মগুরু আয়াতোল্লার অধীন, নিজে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেইনির মৃত্যুর পরে উত্তরাধিকারে যে নতুন আয়াতোল্লা আসেন তিনিও পূর্বসূরির জুতোয় পা গলিয়েই এসেছেন। তাছাড়া ইরানি প্রেসিডেণ্টের সংস্কারের কথা কিছুটা বহির্বিশ্বে নিজেদের আধুনিক মুখ দেখানোর জন্য, নিচুতলার ধর্মরক্ষক পুলিসের কাছে তা পৌঁছোয় না; তারা প্রথম আয়াতোল্লা যা ফতোয়া দিয়েছিলেন, তাঁর মৃত্যু হলেও সেই অনুসারে কাজ করে যায়। এর ফলে একটা অদ্ভুত পরিস্থিতি– খাতায়কলমে মেয়েদের চুল দেখানো দোষের মধ্যে না পড়লেও চুল হিজাবের বাইরে দেখা গেলেই সেই মেয়েকে ধর্মরক্ষীদের হাতে গ্রেফতার হতে হয়! তাই হিজাব আইন সংস্কারের চেষ্টা বিফলেই গেছে।

এইটুকু খোলামেলার হাওয়া ঢুকতে না ঢুকতেই বর্তমান প্রেসিডেণ্ট ইব্রাহিম রইসি ক্ষমতায় এসে একটি অদ্ভুত জাতীয় দিবস চালু করেছেন, ‘হিজাব ও সতীত্ব দিবস’! কঠোরতর পোশাকবিধি, অমান্য করলে শাস্তি— এই হল এই তথাকথিত জাতীয় দিবসের শপথ! কাজেই শরিয়তি সরকার আবার কঠোরতর রক্ষণশীলতার পথে ফিরে গেছে। তারই ফল সামান্য মাথার কাপড় আলগা হওয়ার কারণে পুলিশের হাতে মাহসা আমিনির হত্যা, প্রতিবাদে দলে দলে মেয়েদের রাস্তায় নেমে হিজাব পোড়ানো এবং তারপর এখন পর্যন্ত নারীপুরুষ নির্বিশেষে প্রতিবাদী বহু মানুষের রক্তে ইরানের মাটি রঞ্জিত হচ্ছে। মহিলাদের আন্দোলনকে ‘ঈশ্বরবিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আঠাশ বছর বয়সি লেখিকা সেফিয়া রোশনো, কলেজ ছাত্রী নেদা আগা সোলতান, আরও অনেক মহিলা গ্রেফতার হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন, সম্ভবত তাঁদের গুমখুন করে মৃতদেহ লোপাট করা হয়েছে, ঠিক যেভাবে নাফিসির ছাত্রী রেজিয়ার হয়েছিল। অস্ত্রহীন বিক্ষোভ দমন করতে গুলি, লাঠি, ছররা বন্দুক, ও শারীরিক বলপ্রয়োগ করে মানুষকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জেলগুলোতে বন্দির স্থান সঙ্কুলান হচ্ছে না।

মাহসা আমিনি

এই নতুন আন্দোলনের মূল মন্ত্র হল ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’। মহিলারা আন্দোলন শুরু করলেও এবার পুরুষও এসেছে সমানতালে সমর্থন দিতে, সঙ্গে আছে এতদিনকার ক্ষোভ; একদিকে সরকারি দুর্নীতি, কিছু ক্ষমতাপন্ন লোকের হাতে দেশের সম্পদ জমা হওয়া— শাহের বিরুদ্ধে খোমেইনিদের যে অভিযোগ ছিল, সেই অভিযোগই আবার শোনা যাচ্ছে— এবং অন্যদিকে সর্বব্যাপী অর্থনৈতিক টালমাটাল অবস্থার ফলে উদ্ভূত দারিদ্র, বেকারত্ব, যা ধর্মের চাদর দিয়ে চাপা দেওয়া যায় না। যে ইসলামিক সাম্যবাদের পাঠ পড়িয়ে আয়াতোল্লা খোমেইনির নেতৃত্বে শাহ্‌কে উন্মূলন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে মৌলবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তা দেশ থেকে অর্থনৈতিক সহ কোনওরকম অসাম্য দূর করতে সক্ষম তো হয়ইনি, ধনী-দরিদ্রের প্রভেদ বেড়েছে, ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বেড়ে চলেছে। এবং যে কোনও দেশই যত বেশি ধর্মীয় মৌলবাদের কবলে পড়েছে, তত পিছিয়ে পড়েছে, কারণ ধর্মীয় মৌলবাদের সহজ এবং প্রথম শিকার সেই সমাজের নারী, যারা সব সমাজেই জনসংখ্যার অর্ধেক।

মুক্তিকামী কুর্দ আন্দোলনের নেতা আব্দুল্লা ওসেলান ১৯৯৮-এ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন—

ইতিহাসে দেখা যায়, প্রথম বন্দি হল মূলত নারীরা এবং তারা যতদিন মুক্তি না পাচ্ছে, যে কোনও মুক্তি আন্দোলনই কার্যকর হতে পারে না।

১৯৭৯ সালে যে স্বৈরাচারী শাসক উৎখাত হয়েছিল তারা জোর করে সমাজসংস্কার করতে চেয়েছিল, সেটা ছিল পাশ্চাত্যের সমমানে পৌঁছোনোর জন্য তাদের দেখনদারি, তাই সেটা ছিল ভুল। এই তথাকথিত বিপ্লবী সরকার  নিজেদের অর্ধেক স্বদেশবাসীকে ধর্মের নামে দমন, উত্পীড়ন, তাদের স্বাধীনতা হরণ করে মধ্যযুগীয় অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার যে চেষ্টা করছে সেটা মানবতার কাছে অপরাধ। মানুষের যাত্রা ভবিষ্যতের দিকে, চাইলেই তাকে অতীতে ঠেলে দেওয়া যায় না। চল্লিশ বছর ধরে দমনপীড়নের পর তাই একটি স্ফুলিঙ্গেই সারা দেশে আগুন লেগেছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনজাগরণ ঘটেছে আবারও। স্বৈরাচারী শাসক যদিও কঠোরতর অত্যাচার চালাচ্ছে, একসময় তাদের পরাজয় ও পতন হবেই, এটাই পৃথিবীর নিয়ম।

 

তথ্যসূত্র:

  • আজর নাফিসি: রিডিং লোলিটা ইন তেহ্‌রান
  • আন্তর্জাল

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4710 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

  1. মাদাম বোভারি গুস্তাভ ফ্লবেয়ার-এর লেখা, বালজাক-এর নয়।

আপনার মতামত...