অমল বিমল কমল এবং ইন্দ্রজিৎ

অমল বিমল কমল এবং ইন্দ্রজিৎ | প্রবুদ্ধ বাগচী

প্রবুদ্ধ বাগচী

 


প্রাবন্ধিক, গদ্যকার, সমাজভাবুক

 

 

 

 

একটু বেশি রাত্তিরে অমল ফোন করেছিল সুধাকে। ওদের মধ্যে নানা কথা হচ্ছিল। ফোন ছাড়ার আগে অমল সুধাকে বলল, তোমায় খুব চুমু খেতে ইচ্ছে করছে। তার জবাবে সুধা কী বলেছিল বা ‘ব্লাশ’ করেছিল কি না তা আমরা জানি না। প্রেমিক-প্রেমিকার এসব একান্ত সংলাপে সচরাচর আমরা ঢুকি না, তার কোনও দরকারও নেই। এই ঘটনার পরের দিন সকালে অমল আর পাঁচটা দিনের মতোই তার ল্যাপটপ খুলে কাজে বসল। ব্রাউজারে সার্চ করে কিছু একটা জানার জন্য সে টাইপ করল how to …… , এই  পর্যন্ত লেখার পরেই আশ্চর্যভাবে তার প্রকৃত অনুসন্ধানের বিষয়টা ছেড়ে ব্রাউজার নিজেই লিখে দিল ‘how to kiss……’  — কী সর্বনাশ! অমল তো ব্রাউজারের কাছে এই তথ্য আদৌ জানতে চায়নি! জানতে চাইবেই বা কেন? চুম্বনের পদ্ধতি ও রকমসকম কি গুগল-এর থেকে জানার বিষয় নাকি? কিন্তু ঘটনাটা ঘটল। কেন ঘটল, সেই কথায় পরে আসছি। তার আগে অন্য একটা বিষয় বলি।

এবারে আমাদের কাহিনির নায়কের নাম বিমল। তার সম্প্রতি ইচ্ছে হয়েছে সে একটি ‘স্মার্ট ওয়াচ’ কিনবে। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, ইদানিং ‘স্মার্ট ওয়াচে’র খুব চল হয়েছে, যাতে সময় ছাড়াও ব্যবহারকারীর হৃদস্পন্দন, পালস রেট, তার হাঁটাহাঁটির পরিমাণ, ঘুমের সময় সব রেকর্ড করা যায়। শৌখিন ‘টেক-স্যাভি’ বিমল নানা অনলাইন সংস্থায় খুঁজে বেড়াচ্ছিল এই ধরনের ঘড়ির হদিশ। কিন্তু দাম ও মডেল পছন্দ না হওয়ায় গত এক সপ্তাহ সে আর ওই বিষয়ে মাথা ঘামায়নি। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে সে যখন সময় কাটানোর জন্য ফেসবুকে লগ-ইন করল ক্রমাগত তার সামনে এসে দাঁড়াতে লাগল নানা কোম্পানির ‘স্মার্ট ওয়াচ’ এর বিজ্ঞাপন। শুধু ফেসবুক নয়, অন্যান্য নানা পোর্টাল সার্ফিং করলেও তার ল্যাপটপ স্ক্রিনের চারপাশ দিয়ে ভেসে উঠছে ‘স্মার্ট ওয়াচ’-এর বিজ্ঞাপন। সে বারবার বন্ধ করতে চেষ্টা করছে এই বিজ্ঞাপনী মায়া — সাময়িক বন্ধ হচ্ছে। গুগল জানিয়ে দিচ্ছে ‘উই উইল ট্রাই টু স্টপ সিইং দিস অ্যাড’ — কিন্তু কথা রাখছে না। কেউ কথা রাখেনি। কেন সেটা ক্রমশ প্রকাশ্য।

এবার আসা যাক কমলের কেসটায়। কমল আসলে ব্যঙ্কের চাকুরে, মাইনেপত্র খারাপ পায় না কিন্তু তার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করার খুব শখ। দুটি ব্যাঙ্কের ক্রেডিট আপাতত তার হাতে। মাঝে মাঝে সেই কার্ড ব্যবহার করে সে টুকটাক জিনিস কেনে, রেস্টুরেন্টের বিল মেটায়। সব থেকে বড় কথা ক্রেডিট কার্ডের বিল মেটাতে তার কোনওদিন দেরি হয় না। এটাই তো সঠিক পথ, কারণ ক্রেডিট কার্ড মানে আসলে একধরনের ধার — সেটা সময়মত শোধ করে দেওয়াটাই সমীচীন। কিন্তু কমলের সমস্যা হল, গত প্রায় একমাস ধরে নানা ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত ফোন পাচ্ছে যাদের সঙ্গে কোনওকালে ওর কোনও যোগ ছিল না। এইসব ফোনে তাকে ‘অফার’ দেওয়া হচ্ছে নানা ধরনের ক্রেডিট কার্ড ও পারসোন্যাল লোনের — তাকে বলা হচ্ছে তার ‘ক্রেডিট রেটিং’ নাকি খুব ভাল তাই এইসব কোম্পানি তাকে সুবিধাজনক শর্তে ক্রেডিট কার্ড বা ব্যক্তিগত ঋণ দিতে আগ্রহী। কমল ভেবে পাচ্ছে না কীভাবে এইসব অন্য ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার হদিশ পেয়ে যাচ্ছে, কীভাবেই বা তাঁরা জেনে যাচ্ছে তার ‘ক্রেডিট রেটিং’? কীভাবে? কীভাবে? সেই রহস্য পরে।

এবং ইন্দ্রজিৎ। ইন্দ্রজিৎ বছরখানেক আগে বাড়ির জন্য একটা এয়ারকন্ডিশনার মেশিন কিনেছিল। কোম্পানির শো-রুমের সঙ্গেই বন্দোবস্ত ছিল যাতে সে মেশিন কেনার টাকাটা এক বছর ধরে মাসে মাসে শোধ করতে পারে। সেই ব্যবস্থাই চলছে। ইন্দ্রজিৎ মাসে মাসে সেই কিস্তির টাকা শোধ করে যাচ্ছে, আগামী মাসে তার শেষ কিস্তি। কিন্তু এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। সমস্যা হল, এসি মেশিন সারভিসিং করে এমন কিছু সংস্থা ইদানিং তাকে নিয়মিত মেসেজ পাঠাচ্ছে যার মূল প্রতিপাদ্য, আপনার এসি মেশিনের সারভিসিং প্রয়োজন, সুতরাং আমাদের প্যাকেজ বুক করুন। ইন্দ্রজিৎ তাজ্জব! একি ভোজবাজি নাকি? সে কবে কোন গ্যাজেট কিনেছে তা দ্বিতীয় বা তৃতীয় সংস্থা জানতে পারল কী করে? আর জানতে পারল বলেই তো তাঁরা এটাও জেনে গেছে তার এসি মেশিন এবার সারভিসিং করার সময় এসে গেছে! ছোটবেলায় ইন্দ্রজিৎ-কে তার ঠাকুমা বলতেন, সব সময় সৎপথে চলবি, বাবা! মানুষকে কষ্ট দিস না! ওপর থেকে ঠাকুর সব দেখছেন, পাপ দেবেন! তবে কি সেই অমোঘ বিধাতা পুরুষ অলক্ষ্যে নজর রাখছেন তার ওপর? এই প্রশ্নের আপাতত কি উত্তর নেই?

 

দুই.

উত্তর নেই নয়, আছে। অমল বিমল কমল এবং ইন্দ্রজিৎ। চারজনের চার রকম সমস্যারই জবাব আছে। আজ এই একুশ শতকের প্রায় সিকিভাগ পার করে দেওয়ার পরে এই কথা আর প্রাসঙ্গিক নয় যে ‘বিধাতা পুরুষ’ নামক এক ‘হেড অফিসের বড়বাবু’ আমাদের দিনে দিনে প্রতিদিনে চালনা করছেন বা মহাকাশে তাঁর ‘সেলফ কন্টেনড’ ফ্ল্যাট থেকে আমাদের ওপর নজরদারি করছেন। বিষয়টা আসলে অন্য, আপাতভাবে যা বিশ্বাস করা একটু কঠিন হলেও তা একটুও অবিশ্বাস্য নয় আর।

একটু বিস্তারে বলি। অমল যখন সুধাকে চুম্বন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল, সে জানতে পারেনি, তাঁর স্মার্ট ফোনের মাইক্রোফোন তার এই বাসনার মূল শব্দ ‘চুম্বন’ বা ‘চুমু’ শব্দটা নজরবন্দি করে নিজের কৃত্রিম মগজে ঢুকিয়ে রেখেছে। তাই পরের দিন, সে যখন গুগল- এর ব্রাউজারে নেট সার্চ করতে গেল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত প্রযুক্তি প্রথমেই বুঝে নিল এই ব্যবহারকারী ‘চুমু’ বিষয়টায় আগ্রহী, তাই ‘how to …’ লেখার সঙ্গে সঙ্গে সে ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি করে দিল পছন্দসই অপশন ‘how to kiss…’ — এই ব্যবস্থাটি আসলে প্রযুক্তি-নির্ভর। ‘গুগল’ নামক বহুজাতিক সংস্থাটির প্রধান ট্রেড ভ্যালুই হল সে তার ‘অ্যালগিরিদম’ নির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে সেকেন্ডেরও কম ভগ্নাংশের মধ্যে নানা তথ্য খুঁজে এনে দেয়। এই খোঁজ কী করে সম্ভব হয় সে এক জটিল প্রক্রিয়া, তবে তার মধ্যে ব্যবহারকারী কী চাইছেন তার একটা ব্যবস্থা থাকে। কেউ বলতে পারেন, ‘গুগল’ কি বাংলা বোঝে ? তাহলে ‘চুমু’ শব্দটি সে চিনে নিল কীভাবে? এর উত্তর হল, হ্যাঁ। প্রযুক্তি-নির্ভর ব্যবস্থায় দুনিয়ার বেশ কিছু ভাষা এখন ‘গুগল’ এর আয়ত্তে। যে কারণে সে গুগল ‘ট্রান্সলেট’-এর মাধ্যমে এক ভাষা থেকে অন্যভাষায় অনুবাদ করে নিতে পারে সহজেই। এতে সাহিত্যগুণ না থাকলেও ‘চুমু’-র ইংরিজি যে ‘কিস’ হবে এই তথ্য ‘গুগল’ এর তথ্যভাণ্ডারে ধরা আছে। তাই ‘চুমু’ শব্দটি শুনে তার ইংরিজি প্রতিশব্দ খুঁজে বার করে গুগল ব্রাউজারে (আসলে ক্রোম ব্রাউজার) সেই তথ্যের আত্তীকরন করে নিতে তার কোনও সমস্যা হয় না। হয় না, সে তো অমল নিজের অভিজ্ঞতাতেই দেখতে পেয়েছে। আপাতভাবে ‘অলৌকিক’ হলেও আদপে বিষয়টা তা-ই। স্মার্ট ফোনের ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এগুলো প্রতিটি একেকটি ‘অ্যাপ’ বা ‘অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়ার’ যার মধ্যে কিছুটা করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ থাকে যার মাধ্যমে সে ওই ব্যবহারকারীর সমস্ত ধরনের ‘অ্যাকশন’ ক্রমাগত নথিভুক্ত করে যেতে থাকে। আমরা যেসব স্মার্ট ফোন ব্যবহার করি, তার মধ্যে থাকে হয় ‘অ্যান্ড্রয়েড’ (এইটাই দামে সস্তা ও বেশিরভাগ স্মার্ট ফোনে ব্যবহার হয়)  নয়তো ‘ম্যাক’ অপারেটিং সিস্টেম (এটা আই-ফোনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য), কিছু ক্ষেত্রে ‘মাইক্রোসফট উইন্ডোজ’ (ভারতে এই ফোন কিছু বছর আগে চালু হয়েছিল, কিন্তু বেশি জনপ্রিয় হয়নি)। প্রতিটি অপারেটিং সিস্টেমের আছে নিজস্ব ব্রাউজার ও সার্চ এঞ্জিন যার মাধ্যমে আমরা ওয়েব সারফিং করি বা কিছু খুঁজি। ফলে যে অপারেটিং সিস্টেমই হোক তার আওতায় থাকা স্মার্ট ফোনটি নিয়মিত সেই কোম্পানিকে উপভোক্তার তথ্য জোগান দেয়। এই শক্তিশালী ব্যবস্থা থেকে অমল- ও মুক্ত ছিল না।

এবার আসা যাক বিমলের কথায়। বিমল যখন নানা অনলাইন কমার্স সাইটে ঢুকে নিজের পছন্দের ‘পণ্য’ খুঁজে বেড়ায় ওইসব সাইটের সঙ্গে যুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিন্তু প্রতিনিয়ত নজরে রাখে এই উপভোক্তা কী কী ধরনের জিনিস খুঁজছে — এই সাইটে সাইটে ঘুরে বেড়ানোর ওপর তৈরি হয় আমার আপনার প্রোফাইল। আপনি যদি বেড়াতে যাওয়ার জন্য নানা হোটেলের সন্ধান নিতে থাকেন, তাহলে আপনি ‘ফেসবুক’ বা অন্য সাইটে কেবলই দেখতে পাবেন বিভিন্ন হোটেলের বুকিং করার নানা লোভনীয় অফার। আপনি যদি মনে করেন অনলাইনে ফিল্ম খুঁজে খুঁজে দেখবেন, আপনার কাছে সমানে আসতে থাকবে নানা ফিল্মের লিঙ্ক। কেউ যদি ‘ডেটিং সাইটে’ নিজের মেল আইডি বা ফোন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রার করেন তাহলে আপনার মেল বা ব্রাউজিং সাইটে সমানে এসে যাবে নানা ‘সঙ্গিনীর’ উষ্ণ হাতছানি। একটা গল্প পড়েছিলাম, একজন দিনের শেষে নিজের বাড়ি ফিরে কম্পিউটারে কিছু একটা তথ্য জানার জন্য ইন্টারনেটে যুক্ত হল। কিছুক্ষণের মধ্যে তার স্ক্রিনে ভেসে এল একটি ‘পর্ণো সাইট’-এর লিঙ্ক। লোকটি কৌতূহলবশে লিঙ্কে ক্লিক করল, সঙ্গে সঙ্গে তার সামনে খুলে যেতে লাগল একের পর এক সাইট যার সবগুলিই আসলে ‘পর্ণো সাইট’ —- প্রায় নেশার মতো দুঘণ্টা ধরে সে মেতে উঠল ওইসব সাইটের দৃশ্যমান ‘ভারচুয়াল যৌনতায়’— তারপর যখন তার খেয়াল হল তখন সে দেখল আসলে কী তথ্য খুঁজতে সে কম্পিউটারের শরণাপন্ন হয়েছিল, সেটাই সে ভুলে গেছে।

সকলেই বুঝতে পারছেন, এইসবের মধ্যে একটা প্রত্যক্ষ প্রতারণার ফাঁদ পাতা আছে। পুলিশের সাইবার ক্রাইম-দমন বিভাগের সঙ্গে জড়িত এক আধিকারিকের কথায় জেনেছিলাম, কীভাবে এইসব ‘সেক্স সাইট’-গুলির মাধ্যমে মানুষ প্রতারিত হন। কেউ হয়তো নিয়মিত এইসব সাইট দেখেন, তাতে আইনগত কোনও বাধা নেই, কারণ এগুলো আর যাই হোক বিবিসি-র তথ্যচিত্রের থেকে নিরাপদ, ফলে রাষ্ট্রের এতে কোনও আপত্তি নেই। এখন কৌতূহলী মানুষ যখন এক সাইট থেকে অন্য সাইটে ঘুরে বেড়াতে থাকেন, হঠাৎ কম্পিউটার স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটা ‘নোটিশ’ তাতে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর ‘লোগো’, তার পাশে থাকে একটা ‘সমন’-এর নম্বর, নিচে লেখা থাকে ‘আপনি এই সাইট দেখার জন্য আইনভঙ্গ করেছেন। ওপরের সমন আপনার জন্য প্রযোজ্য। গ্রেফতারি এড়াতে গেলে আপনাকে একটা বড় মাপের টাকা জমা দিতে হবে। নিচের লিঙ্কে গিয়ে আপনার জরিমানা দিন।’ লিঙ্ক ক্লিক করলেই চাওয়া হয় ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর। সত্যি সত্যি যে এইভাবে কোনও বিশেষ সাইট দেখলে কোনও অপরাধ হয় না এবং পুলিশ এইভাবে কোনও সমন পাঠাতে পারে না বা গ্রেফতার করতে পারে না এগুলো অনেকেই জানে না, ফলে প্রতারিত হন। ব্যবহারকারী ভাবেন ‘থ্রি এক্স’ সাইট দেখে সে বোধহয় কোনও বেআইনি কাজ করে ফেলেছে তাই গোপন অপরাধবোধ থেকে গ্রেফতারি এড়াতে সে ভাবে এইই বোধহয় আশু সমাধান। তাই বলছিলাম, বিমল জানে কি না জানি না, তবে ইন্টারনেটের জগত মানেই কিন্তু আসলে একটা নজরদারির ভুবনে আমরা সবাই যুক্ত হয়ে রয়েছি। আমরা কী দেখছি, কী খুঁজছি, কী ভাবছি তার ওপর আসলে চলছে একটা সুনিপুণ ‘সারভেলেন্স’।

এই প্রযুক্তি-নির্ভর নজরদারি আছে বলেই বিমল যখন তার প্রার্থিত ‘স্মার্ট ওয়াচ’ কেনার অভিপ্রায়ে নানা সাইটে ঘোরাফেরা করে তখনই সাইবার দুনিয়া তাকে চিহ্নিত করে ফেলে ওই পণ্যের সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে। সঙ্গে সঙ্গে তার জন্য বরাদ্দ ‘ইউনিক ইউজার আই ডি’ ব্যবহার করে যে মুহূর্তে নেট দুনিয়ায় সে পা রাখে (আসলে হাত) সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঘিরে ধরে ওই বিশেষ পণ্যের বা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনও পণ্যের বিশাল বিজ্ঞাপনের জগৎ —- যতক্ষণ না ওই ক্রেতা ওই পণ্যটি না কিনবেন, চলতেই থাকবে এই হাতছানি। আর একবার কিনে ফেললেই কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রযুক্তি মনে করে রেখে দেবে আপনি কবে কোথায় কোনভাবে কী জিনিস কিনে রেখেছেন। ঠিক যেভাবে ‘ফেসবুক’ আপনাকে মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দেয় আজ থেকে পনেরো বছর আগে আপনি আপনার দেওয়ালে কী লিখেছিলেন। স্মার্ট ফোনের ‘লোকেশন অন’ থাকলে এইভাবেই অ্যান্ড্রয়েড প্রযুক্তি আপনাকে মাসের শেষে মেল পাঠিয়ে জানিয়ে দেয় — গত মাসটায় আপনি কবে কবে কোথায় ছিলেন, কতটা পথ হেঁটেছেন, কতটা গাড়িতে চেপেছেন, কোন কোন বিপণিতে কেনাকাটা করেছেন বা খেয়েছেন। আশা করি, বিমল এতক্ষণে তার সংশয় থেকে মুক্ত হতে পেরেছেন। এখানে আরেকটা কথা হল, প্রযুক্তির ‘বাইনারি দুনিয়ায়’ তো অমল বিমল কমল কেউ আলাদা কোনও চরিত্র নয় — প্রত্যেকেই একটা ইউজার, যাদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে একটি ‘ইউজার আই ডি’ মূলত যা তার মেল আই ডি বা মোবাইল নম্বর। তাই এই প্রতিটি ইউজার কোনও সামাজিক মাধ্যমে বা অন্য কোনও ওয়েব পোর্টাল সার্ফিং করার সময় কী ধরনের ও কোন কোন পণ্য বা পরিষেবার বিজ্ঞাপন দেখবেন তা কিন্তু সবার জন্য সমান নয়। ইউজারের সাইবার প্রোফাইল ঠিক করে দেবে কোন ধরনের কী কী বিষয়ের বিজ্ঞাপন বা প্রোমোশন অফার তার স্ক্রিনে দেখানো হবে, এই সিদ্ধান্তের পেছনেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিপুণ প্রোগ্রামিং কাজ করে চলে।

কমলের ব্যাপারটা আরেকরকম। এখানে ইন্টারনেট ব্যবস্থার কারিগরি নেই তা নয়, তবে তার ধরনটা অন্য রকম। ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থাটা কীভাবে চলে? একজন ক্রেতা বা কার্ড ব্যবহারকারী কোন ধরনের কার্ড পাবেন, তাতে কতটা ‘ক্রেডিট লিমিট’ বা ধারের উচ্চসীমা কী পাবেন এর কোনও সাধারণ নিয়ম নেই। প্রতিটি কার্ড ব্যবহারকারী কার্ড বিপণন কোম্পানির কাছে একটি ‘একক’  যাকে বলে ‘ইউনিক ইউজার’। তাই ক্রেডিট কার্ড দিতে গেলে প্রথমেই কোম্পানি দেখে নেয় এই আবেদনকারীর আয়-ব্যয়ের হিসেব কেমন —- তাই মূলত বিভিন্ন ব্যাঙ্কই এইসব ক্রেডিট কার্ডগুলির বিক্রেতা। তাদের ব্যাঙ্কে যদি গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে তারা সহজেই সেই অ্যাকাউন্টের অবস্থা জেনে নিতে পারে — ওই এক বা একাধিক অ্যাকাউন্টে কেমন আদান-প্রদান হয়, মাসিক গড় ব্যালান্স কেমন থাকে, অন্য কোনও ধার সেই অ্যাকাউন্ট থেকে শোধ হচ্ছে কি না (গৃহঋণ বা ব্যক্তিগত ঋণ অথবা গাড়ি কেনার ঋণ ইত্যাদি) এইসব কিছু খতিয়ে দেখে তৈরি হয় ওই গ্রাহকের ‘ক্রেডিট রেটিং’ যার মূল ভিত্তি হচ্ছে তার ‘সিবিল স্কোর’। ‘সিবিল’ হল ‘ক্রেডিট  ইনফরমেশন ব্যুরো ইন্ডিয়া লিমিটেড’ সংস্থার সংক্ষেপিত রূপ আর ‘সিবিল স্কোর’ আসলে এমন একটা সূচক যার মাধ্যমে বোঝা যায় এই ব্যক্তিটি ঋণ পরিশোধ করার ক্ষেত্রে কেমন ভূমিকা দেখাচ্ছেন।

আসলে এই ‘সিবিল’ সংস্থাটি ভারতে পরিচালিত একটি ক্রেডিট তথ্য সংস্থা যা ৬০০ মিলিয়ন ব্যক্তি এবং ৩২ মিলিয়ন ব্যবসার ক্রেডিট ফাইল বজায় রাখে। এই হিসেবের সূত্রে প্রতিটি ব্যক্তির একটা ‘স্কোর’ তৈরি হয় জটিল গাণিতিক প্রক্রিয়ায়। কিন্তু সমস্যা হল, এই পরিমাপক গ্রাহকের একটি মাত্র ঋণের পরিশোধ করার প্রবণতা দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হয় না। এখানেও রয়েছে একটি সুনিবিড় যোগাযোগ ব্যবস্থা। ধরা যাক, একজন গৃহঋণ নিয়েছেন এবং তা নিয়মিত শোধ করছেন, এর ফলে তিনি একটা বিশেষ সময়ে একটা ‘সিবিল স্কোর’ পেলেন। এর থেকে দুটো প্রতিক্রিয়া হতে পারে। প্রথমত, ভালো ‘সিবিল স্কোর’ দেখে  অন্য কোনও ব্যাঙ্ক এই ব্যক্তিকে তাদের ‘ক্রেডিট কার্ড’ ব্যবহার করার ‘অফার’ দিতে পারে। মনে রাখতে হবে, আপনার ‘সিবিল স্কোর’ এর তথ্য প্রতিটি ঋণদানকারী সংস্থা তাদের নাগালে পেয়ে যায়, আপনার কোনও অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই। অন্যদিকে, ভিন্ন কোনও ঋণ নিয়ে আপনি যদি ঋণ-খেলাপি হন, সঙ্গে সঙ্গে আপনার ‘সিবিল স্কোর’ নেমে যায়। এই নামা ওঠাটা সম্পূর্ণভাবে বিশেষ কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নয় — এটা আর্থিক বাজারের পুরোটার জন্য প্রযোজ্য। ক- ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে আপনি যদি আবার খ-ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন বা গ- আর্থিক প্রতিষ্ঠানের থেকে ‘পারসোন্যাল লোন’ নেন — তাহলে এর সবগুলি নিয়মিত শোধ করলে আপনার ‘স্কোর’ উঁচুতে উঠে যাবে এবং তার ভিত্তিতে আপনার ‘ক্রেডিট রেটিং’ বাড়বে ও আপনি নতুন নতুন কোম্পানি থেকে ঋণ বা ক্রেডিট কার্ড এর ‘অফার’ পেতেই থাকবেন। ধরে নিতে পারেন  আপনার ব্যক্তিগত তথ্য — ফোন নম্বর, মেল আই ডি, প্যান নম্বর সবই প্রতিটি ঋণদাতার তথ্যভাণ্ডারে জমা হয়ে গেছে। বিপরীতপক্ষে আপনি ঠিক মতো ঋণ-এর কিস্তি না মেটালে আপনার ‘স্কোর’ নিচে নামতে থাকবে। আশা করি, কমল নামক ব্যক্তিটি এতক্ষণে জেনে গেছেন এই প্রথম প্রতিক্রিয়ার সূত্রেই তার কাছে সুনামির মতো আছড়ে পড়ছিল নানা ক্রেডিট কার্ড বা ব্যক্তিগত ঋণের আহ্বান, কারণ ঋণদাতা সংস্থাগুলির কাছে তার ‘প্রোফাইল’ হল ইতিবাচক — অর্থাৎ, এই ব্যক্তিটির ঋণশোধের পূর্ব-ইতিহাস ভাল তাই তাঁকে আরও ঋণ দিলে তা ফেরত পাওয়ার সম্ভাব্যতা সর্বাধিক। ব্যবসার  নানা রকম ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে এই  সম্ভাব্যতার গাণিতিক মডেল একটা প্রচলিত পথ।

এবং ইন্দ্রজিৎ। তার ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছে তাও এই  সুবিশাল ভুবনগ্রামে খুব একটা অপরিচিত কিছু নয়। আমরা যখন কোনও জিনিস কিনি বা হোটেল রেস্টুর‍্যান্টে খাওয়ার বিল মেটাই তখন আজকাল আমাদের কাছে মোবাইল নম্বর জানতে চাওয়া হয়। সত্যি সত্যি একটা জামা-প্যান্ট বা সোয়েটার কেনা বা ভালমন্দ খাওয়ার সঙ্গে মোবাইল নাম্বারের কোনও যোগ নেই —- তাহলেও এই তথ্য আমাদের কাছে চাওয়া হয় কেন? এর পেছনেও আছে এক বিরাট প্রযুক্তির কারিকুরি। মোবাইল  নম্বর যেহেতু প্রতিটি ব্যক্তির একটা ইউনিক নম্বর যা কেবলমাত্র তারই হাতে আছে তাই প্রযুক্তির দুনিয়ায় তার দাম অনেক। আমাদের মোবাইল নম্বর ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত, আয়কর যারা দেন আয়কর দফতরেও সেই মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত থাকে, আধার কার্ডের সঙ্গে, ইদানিং রেশন কার্ডের সঙ্গে বা ভোটার কার্ডের সঙ্গেও তা যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে কোনও ব্যক্তির মোবাইল নম্বর পেয়ে গেলে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ইচ্ছে করলে সেই ব্যক্তির নাড়িনক্ষত্রের খবর বার করে ফেলা সম্ভব। ইদানিং যেসব ইউ পি আই অ্যাপ ( জি পে, ফোন পে, পে টি এম, মোবিকুইক ইত্যাদি) আমরা প্রায়ই ব্যবহার করি তাও কিন্তু আমাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি মাত্র যোগসূত্রে — তা হল আমাদের মোবাইল নম্বর। পরীক্ষা করে দেখতে পারেন, একটি ব্যাঙ্কে হয়তো আপনার নিজের এবং আপনার পরিবারের অন্য কোনও সদস্যের দুটি আলাদা অ্যাকাউন্ট আছে কিন্তু দুটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর একই । এই ক্ষেত্রে আপনি যদি  কোনো ইউ পি আই  অ্যাপে যুক্ত হয়ে ওই মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত করতে চান আপনি সফল হবেন না — কারণ, প্রযুক্তি-নিয়ন্ত্রিত এই ব্যবস্থা আসলে তখন একই মোবাইল নম্বরের সঙ্গে দুটি বা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করবে আর তাই সে কোনও সিদ্ধান্তে পৌছাতে না পেরে জানিয়ে দেবে, এই যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না। ইন্দ্রজিতের ক্ষেত্রে, বোঝাই যাচ্ছে, সে যখন পণ্য কিনেছে কোম্পানির শো-রুমে বিল তৈরি করার সময় সে অবশ্যই তার মোবাইল নম্বর দিতে বাধ্য হয়েছে। এর ওপর শো-রুমের সঙ্গে যুক্ত কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনও ব্যাঙ্ক বা ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি তাকে ওই এসি মেশিন কেনার ঋণ দিয়েছে — তার মানে তাদের কাছেও গচ্ছিত আছে ইন্দ্রজিতের মোবাইল নম্বর, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, আধার কার্ড বা প্যান কার্ড ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য।

আজকের দুনিয়ায় যে কোনও কোম্পানির কাছে সবচেয়ে মূল্যবান হল উপভোক্তা বা গ্রাহকের তথ্য। প্রতিটি কোম্পানি নিজেদের মধ্যে যতই প্রতিযোগিতা করুক, তারা গ্রাহকের তথ্য পরস্পরের মধ্যে চড়া দামে বিনিময় করে, প্রকাশ্যে অবশ্য তারা এটা স্বীকার করে না। আর এই কারণেই আমার আপনার কাছে এমন সব ব্যাঙ্ক বা পরিষেবা প্রদানকারী নানা সংস্থার আচমকা ফোন আসে যাদের সঙ্গে কস্মিনকালে আপনার যোগাযোগ ছিল না। আপনি হয়তো বিরক্ত হন কিন্তু তারা নাছোড়বান্দা। এমনকি এই অবাঞ্ছিত কল এড়াতে ‘টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ বা ‘ট্রাই’ নির্দেশ দিয়েছিল সবগুলি মোবাইল কোম্পানিকে তাদের গ্রাহকদের ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ নামে একটা অপশন দিতে হবে যা চালু করে তারা এইসব কল আটকে রাখতে পারেন। এই ব্যবস্থা বন্ধ হয়নি ঠিকই, কিন্তু পণ্য-সাম্রাজ্যে এমন হুকুমনামা থাকলে পণ্য বিপণন ও বিক্রি হবে কী করে? তাই টেলি-মারকেটিং  সংস্থাগুলি এখন নিজেরা বাণিজ্যিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে আরম্ভ করেছেন যা ওই ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ এর ছাঁকনি দিয়ে দিব্যি গলে যায়। এত কিছুর পরেও নিশ্চয়ই বুঝতে অসুবিধে নেই ঠিক কিভাবে ইন্দ্রজিতের কাছে এসেছিল এসি সারভিসিং কোম্পানির কল — ‘বিধাতা’ নন ‘প্রযুক্তি সাম্রাজ্য’ এখন নতুন ‘ঈশ্বর’ এর জায়গা নিয়েছে আজকের দুনিয়ায়।

অন্য গ্রাহকের তথ্য কীভাবে এই কোম্পানি ওই কোম্পানি ঘুরে বেড়ায় তার আরও কিছু হাতে গরম উদাহরণ এখনই দেওয়া যায়। একজন সরকারি কর্মচারী কিছুদিন আগে তার কর্মস্থল থেকে অবসর নিয়েছেন — তিনি অবসরের কিছুদিন আগে থেকেই বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ‘চুক্তি ভিত্তিক চাকরি’ র প্রস্তাব পাচ্ছিলেন — তার এই অবসরের খবর অন্য সংস্থা পেল কী করে? এই রহস্যের সমাধান করতে আজ আর কোনও ফেলুদার ‘মগজাস্ত্র’ লাগে না। তথ্য ফাঁস। এই তথ্য ফাঁসের সূত্রেই ঘটে চলেছে নানা সাইবার প্রতারণা, আজ দৈনিক সংবাদপত্রে যা প্রায় নিত্যদিনের খবর। সম্প্রতি রাজ্যের নানা অর্থনৈতিক দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তকারী আধিকারিকরা সন্ধান পেয়েছেন কীভাবে নানা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করার সময় উপভোক্তারা তাদের যেসব নথি (আধার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড ইত্যাদি) জমা দিয়েছেন, সেগুলো কাজে লাগিয়ে কীভাবে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট বা জাল নথি তৈরি করা হয়েছে। এটা ওই গোপন তথ্য বিনিময়েরই একটা দিক। সবদিক দিয়েই আজ সাধারণ গ্রাহক সাধারন উপভোক্তা বিপদে ও বিভ্রান্তিতে।

 

তিন.

বহুকাল আগে ‘চেতনা’ নাট্যদলের ‘মারীচ সংবাদ’ প্রযোজনায় একটা গান ব্যবহার করা হয়েছিল : বন থেকে বেরোলো টিয়া/ সোনার টোপর মাথায় দিয়া/ কোথা থেকে এল পাখি/ কোথা গেল উড়িয়া / সব খবর জানে শুধু সিয়া সিয়া সিয়া। সিয়া অর্থে CIA অর্থাৎ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ে লেখা হয়েছিল এই গান। সেই গানে বলা হয়েছিল ‘টক খাও কি ঝাল খাও’ ‘চায়ের কাপে ক-চামচ চিনি তুমি খাও’ এই সব খবর সংগ্রহ করে রাখে সিয়া। বাস্তবিক এক সময় অবস্থাটা তাই ছিল — ৯/১১-এর ঘটনা মার্কিন ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থার নাকে ঝামা ঘষে দেওয়ার পরে আজ তা কী অবস্থায় এসে আমরা জানি না। কিন্তু এটা বোঝা যায়, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে আজ তার থেকে অনেক অনেক বেশি মানুষের বাইরের চলাচল থেকে ভাঁড়ার ঘর, শপিং মল থেকে বাড়ির অন্দরমহল এমনকি শোওয়ার  ঘরের ব্যক্তিগত পরিসরের মধ্যেও ঢুকে পড়েছে প্রযুক্তির সুনিপুণ নজরদারি ও একচেটিয়া মাতব্বরি। অমল বিমল কমল এবং ইন্দ্রজিতের জন্য ওই গানের নতুন সংস্করণের কথা এবার কি ভাববার সময় হয়েছে বলে মনে হয়?

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4710 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

আপনার মতামত...