পাঁচু পোদের জয়যাত্রা

সাধন দাস

 

খাচ্ছিল পাঁচু দিনের বেলা ক্যাঁকড়া ধরে আর রাতের বেলা স্বরচিত গান গেয়ে। এক কাঠা খাস জমির পরচা পেয়ে বাঁচার পাঁচ পা দেখেছে। ছিল পথের কানায়, ফুটো চালায়। জমির হাফ কাঠায় দোচালা তুলে আরাম করে উবু হয়ে বসে কাঁধের গামছা ঝেড়ে ঘাম মুছবে কি, আধো অন্ধকার চালার ভিতরে প্রতিষ্ঠা দিল জয়বাবা শিবলিঙ্গের। রাতারাতি সিমেন্টের তৈরি শিবলিঙ্গে আলকাতরা মাখিয়ে টকটকে লাল সিঁদুরে তৃতীয় চক্ষু এঁকে শুরু করল পুজো-অর্চনা। একেই বলে ভক্তির দেশ। দলে দলে ভক্তদের আড্ডা বসল দাওয়ায়। সন্ধে হলেই ঢাক ঢোল ঘন্টা বেজে ওঠে। পাড়াঘরের আকাশবাতাস ঈশ্বরের নামগানে মাতিয়ে গানবাজনা চলে গমগমিয়ে। ভক্তের দলকে বাবার আশীর্বাদী প্রসাদ দিতে হয়। কাউকে কণিকা মাত্র। কাউকে বোতলে পাঁইট মেপে। সমাগম দিনকে দিন এত বেড়ে গেল বাকি আধ কাঠা জমির আন্ডার গ্রাউন্ডে তৈরি করতেই হল বাবার প্রসাদ তৈরির কারখানা। চিতেকচার নিশ্ছিদ্র বেড়া ঘিরে, মাটির উপরে শুরু করতে হল নিবিড় লঙ্কার চাষ। লোকদেখানো আকাশমুখী লঙ্কা পেকে টকটকে লাল রঙে বাগান আলো হয়ে থাকে। কিন্তু ঘন সবুজ লঙ্কাগুল্মের আড়ালে বাবার চরণে সেবা দেওয়ার জন্যে চলে গাঁজার চাষ। কেউ জানে না কিন্তু সবাই জানে, সবই বাবা লিঙ্গের সেবার উদ্দেশ্যে। ধর্মের ত্রিসীমানায় আইনের প্রবেশ নিষেধ। রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আসেন। কিছুই দেখতে পান না। প্রতিনিধিদের মিসেসবাহিনি জয় বাবা শিবলিঙ্গের জয় হেঁকে পুজো দিয়ে আশীর্বাদ নিয়ে যান। অঞ্চলের মেম্বর এক সন্ধেয় বিনি পয়সায় পাঁইট গিলে আর ছিলিম টেনে পরীক্ষা করে দেখলেন, সমাজের অশান্তি পাপ অনাচার দূরীকরণের পবিত্র দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে পাঁচু পোদ। পাঁচুর ছেঁচেয় চিত হয়ে শুয়ে, চোখ অর্ধেক বন্ধ করে ঘোষণা করলেন, পাঁচু ইজ আওয়ার টু ইন ওয়ান, খাস চাষা আর খাঁটি শিল্পপতি। ছাই মেখে নেওয়াপাতি ভুঁড়ি বানিয়ে পাঁচু হয়ে উঠল গ্রামের বাবা শ্রীপঞ্চাননস্বামী।

স্বনামে বেনামে গোপন একশো বিঘে জমির মালিক মনা জোতদারের এফিডেবিট করা ছেলে পানু বোস, হালে জাতে উঠেছে, পাঁচুকে পঞ্চাননস্বামী বলে মানবে কেন? ‘টাঙুন কলিজে টুডেন’। প্যাণ্টালুনে জামা গুঁজে পরে। ঝাণ্ডা উঁচিয়ে পার্টি করে। হোক পাঁচু ল্যাংটোবেলার একই পাড়ার, একই স্কুলের বন্ধু। গরমের ছুটিতে বাড়ি ফিরে পানু হুলুস্থুলু বাঁধিয়ে দিল। এই সব অনাচার চলছে না, চলবে না। এককাঠা দেড়কাঠাদের জন্যেই চাষাদের মানসম্মান ডুবতে বসেছে। চাষবাস সামলাতে পারছে না। উঠতে বসতে গলায় দড়ি দিচ্ছে। ডুবে মরছে। ফলিডল খাচ্ছে। বিদেশের বাজারে দেশের বদনাম করছে। বিঘে বিঘে গোপন জমির মালিকরাই আসল বনেদি। প্রতিবাদ জানাতে পানু বেরিয়ে পড়ল।

রোজ সন্ধেয় পাঁচুর দাওয়ায় আসর বসে। নিচুতলার ছোটলোকেরা আসে। নর-করোটির খুলিতে মদ খায়, কল্কেতে ন্যাকড়া জড়িয়ে গ্যাঁজা টানে, বাবার প্রসাদে প্রসন্ন হয়ে নামগানে দোহার দেয়। চেঁচায়, হুজ্জোতি করে, গড়াগড়ি যায়। পুজো, অর্চনা, ভক্তিতে আপ্লুত হলে কারও কিছু বলার থাকে না। সরকারি আইন অনুযায়ী ধর্মপালন বন্ধ করার এক্তিয়ার কারও নেই। দূর থেকে পানুর কড়া নজরে ধরা পড়ল, ছোটলোকেদের সঙ্গে মিশে পাড়ার দু-একজন ভদ্দরলোকও মাথায় ঘোমটা টেনে গানের আসরে ঢুকে পড়েছে। ঢোঁকে ঢোঁকে তাল ঠুকছে। ঢুলে ঢুলে ধোঁয়া ওড়াচ্ছে। পানুর প্রতিবাদী চোখ কুঁচকে এল। চিতেকচার বেড়ায়, ফুটো খুঁজে কুঁজো হয়ে ঝুঁকে পড়ল। মুহূর্তে চক্ষু গোল। কী কাণ্ড! দু-চারজন প্রগতিশীল ইয়ারও পাঁচুর ডেরায় পাক খাচ্ছে! ওদের হিপিকাট চুলের ঝাঁকড়া ফুঁড়ে গলগলিয়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। এখানে ওখানে বেঁহুশ হয়ে গাঁজা টানছে। হোস্টেলে জেনেছে, গাঁজার ধোঁয়া নির্দোষ। মুখে গায়ে কোথাও দাগ লাগে না, গন্ধ বেরোয় না। পানুর গা কেমন শিরশিরিয়ে উঠল! এককাঠা-দেড়কাঠাদের এই সব অন্যায় অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে, রাত করে পানু ঢুকে পড়ল পাঁচুর এলাকায়। দেখে নেবে পাঁচুকে।

ঘোর সন্ধে। পানু ঠিক পাঁচুকে চিনে উঠতে পারেনি। চাষা আর শিল্পপতি মিলে তৈরি হয়েছে বেওসাদার পাঁচু, পানুর চেনা সে পাঁচু আর নেই। কাদামাটি মাখা পাঁচু ছাই মেখে বিড়ি ছেড়ে ফিল্টার উইলস ধরেছে। পানু ভড়কাবে কেন? একের পর এক প্রতিবাদ অভিযোগ এবং প্রতিকারের দাবি পেশ করল। পাঁচু এখন সাধুসন্ত। বিনয়াবতার। ঘাড় হেঁট করে সব অভিযোগ মেনে নিল। কথা দিল, কাল থেকেই এসব বন্ধ করে দেবে। এখন থেকেই ফের বিড়ি খাবে। আজ রাতেই কাঁকড়া ধরতে বেরিয়ে পড়বে। হাতের সিগ্রেট পানুকে দান করে পকেট থেকে একটা বিড়ি বের করে নিজের ঠোঁটে নিল। সিগ্রেট হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে, খুশি হয়ে পানু বলল— বাঃ! তোর উন্নতি হয়েছে দেখছি।

পাঁচু ঠোঁটের নিচে হাসল। গাঁটি থেকে সিগ্রেটের প্যাকেটটা বের করে পানুকে দিয়ে বলল— আমি যখন খাব না, এটা তুই নিয়ে যা।

পানু নায়কের কাতে সিগ্রেট ঠোঁটে চেপে ধরতে, দেশলাইয়ের এক কাঠিতে বিড়ি আর সিগ্রেটের দুই মুখে এক সঙ্গে আগুন দেয় পাঁচু। পানু চোখ বন্ধ করে দিল টান। খুক খুক করে দুবার কেশে উঠে পাঁচুর মুখের দিকে তাকাল। হোস্টেলে গিয়ে পানু সিগ্রেটের এই স্বাদ চেনে। নির্ঘাত গাঁজু ভরা। আরাম করে ধোঁয়ার ঢোঁক গিলে রিং ছাড়ল। এক টানেতে যেমন তেমন দুই টানেতে নেশা… তিন টানেতে শূন্যে উঠে, চার টানেতে পাঁচুর কোমর ঘেঁষা… পানুর চোখ ছোট হয়ে এল। পাঁচুর থুতনিতে হাত দিয়ে বলে উঠল— ব্রাভো!

পাঁচু বলল— তোদের সবার কথা ভেবেই আমার এই প্রান্তিকচাষ, ক্ষুদ্রকলকারখানা, ব্যবসার ত্রিমুখী পত্তন। বনেদি হওয়ার ইচ্ছে আমার একটুও নেই। খাঁটি বনেদি হচ্ছিস তোরা। আমি মনের সুখে দু-চারটে স্বরচিত জীবনমুখী গান গাইব, এক-আধটু প্রতিবাদী কবিতা লিখব। লোকে বলবে, কবি পাঁচু পোদ। এর বেশি কিছু চাই না। চাই না, লোকে আমাকে পঞ্চাননস্বামী বলুক। কিন্তু মানুষ ডাকে। পায়ের কাছে এসে লুটিয়ে পড়ে। কী করি বল! তুই ন্যাংটো বয়সের বন্ধু, আমাকে পাঁচু বলেই ডাকবি। আমি তোর কাছে সেই পাঁচু পোদ।

বলে, পানুকে জড়িয়ে ধরল।

—শুনবি আমার কবিতা? চল একটু নিরিবিলি গিয়ে বসি। কবি, গায়ক হতে হলে, কলেজপাশ সার্টিফিকেট লাগে না। গান না গাওয়ার, কবিতা না লেখার আইনও কিছু পাশ হয়নি। কেবল একটু ঘোরে থাকতে হয়, বাবার প্রসাদ সামান্য হলেও নিতে হয়। মদ, গাঁজা না খাওয়ার আইনও তো পাশ হয়নি। মাইকেলকে কি কেউ মাতাল কবি বলে? একটু জমির মালিকই না হয় হয়েছি, রবি ঠাকুরকে কি কেউ জমিদার কবি বলে? কবি যে পক্ষেই থাক, হাততালি পড়বেই।

পানু ভাবছে— পাঁচু ঠিকই বলছে। আইনকানুনে তার কোনও হাত নেই। ঠাকুরকে যারা ভক্তি প্রার্থনা জানাতে আসে গান গায়, কবিতা লেখে। গান কবিতা সংস্কৃতির অঙ্গ। সে নিজেও গান কবিতা ভালবাসে।

বন্ধুকে পেয়ে পাঁচু বলেই চলেছে— কবিতা লেখার জন্যে একটু ভাবসমাধি, একটু ঘোর লাগে। ঘোরের জন্যে একটু নেশার দরকার হয়। বাবা কবির কবি, নিজেই নেশা করেন। বাবার লিঙ্গকে সামনে রেখে আমরা বুঁদ হয়ে একটু ভাবৈশ্বর্য অর্জন করি। গান, কবিতা, সংস্কৃতি চর্চার জন্যেই এই আয়োজন। পাঁচু গলা ছেড়ে গান ধরল— ও দয়াল, কত লীলা জানো…

ছোটবেলা থেকেই পাঁচুর সুরেলা গলা। বহুবার শোনা, আবার বন্ধুর গানে মিষ্টি সুর ঝরে পড়ছে। পানু মুগ্ধ। সুর আর সুরার নেশা সংক্রামক। পানু গান গাইতে পারে না। সুরের বদলে সুরার ইচ্ছা হল তার। পাঁচুও রেডি ছিল। বন্ধুর গলা জড়িয়ে বন্ধু দু-চার পাঁইট সুরা সেবন করল। সেদিন পূর্ণিমা। জ্যোৎস্না ছড়ানো চাঁদের নিচে লাললঙ্কা ক্ষেতে বসে দুই বন্ধু আইনসম্মত কবিতাচর্চা করল।

পাঁচু বলছে— শিবলিঙ্গ হচ্ছে সৃষ্টির উৎস। আবার তিনিই ধ্বংসের গুরু। সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়ের তিনিই অনাদি কালের স্রষ্টা। আমাদের মতো খাতায়কলমে সৃষ্টি করেন না। ওম ধ্বনি তাঁরই সৃষ্টি। ধ্বনিই ব্রহ্ম, ব্রহ্মের সঙ্গে ব্রহ্মের মিলনে উদ্ভব ব্রহ্মাণ্ড। কবিতাস্বরূপ। অণু পরমাণু থেকে শুরু করে গ্রহ নক্ষত্র ছায়াপথ সাজিয়ে তিনি কবিতা লিখে চলেছেন। ধ্বনিই দৃশ্যরূপে অক্ষরনির্মিত শব্দ। শব্দের সঙ্গে শব্দের মিলনে আমাদের বাক্য। বাক্যের সঙ্গে বাক্যের মিলনে কবিতা। কবিতা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমতুল। কবিতা চর্চায়— চুল্লুর কারখানা, গাঁজাচাষের সাহায্যে কীভাবে বিপুল হারে কবিতা উৎপাদন করা যায় সে বিষয়ও ওরা আলোচনা করল।

ছুটি শেষ হলে শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার বিরহ কাটাবার জন্যে পাঁচুর দেওয়া কয়েক পাঁইট বাংলু, এক বান্ডিল গাঁজুর পুরিয়া আর পাঁচু পোদ বিরচিত এক গোছা কবিতা কলেজব্যাগে ঢুকিয়ে পানু হোস্টেলে ফিরে গেল। গাঁয়ে পাঁচু কেউকেটা হয়ে উঠেছে। শহরে পানুকেও হতে হবে। কবিতা লিখতে বসে পানু যখন ফেল মেরে গেল, ভেবে নিল, শ্রীপঞ্চাননবাবাকে টক্কর দিয়ে পাঁচু পোদের কবিতাগুলো নিজের নামে চালিয়ে দেবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। কলেজ ম্যাগাজিনের সহ সম্পাদক হোস্টেলিয়ার। হোস্টেলে বাংলু আর গাঁজুর আড্ডায় পানুর বোসের ঐশ্বর্যময় কবিতা সহ সম্পাদকের হাতে সাদরে গৃহীত হল।

পুজোর ছুটির ঠিক আগে কলেজ ম্যাগাজিন বেরোল। পানু দেখল, কবিতা সগৌরবে ছাপা হয়েছে। কিন্তু ছিঃ ছিঃ!  কবির নাম ছাপা হয়েছে ‘পাঁচু পোদ’। মালের ঘোরে কবিতা জমা দেওয়ার সময় নাম পাল্টাতে ভুলে গেছে! যাঃ শ্লা, শ্রীপঞ্চানন পোদের মালে পাঁচুর জান পয়দা হয়ে আছে!

এদিকে হৈ হৈ কাণ্ড, রৈ রৈ ব্যাপার! ‘পাঁচু পোদ’ নামে কলেজে কোনও স্টুডেন্ট নেই। বিরোধী ইউনিয়নের প্রতিবাদে মিছিলে কলেজ উত্তাল হয়ে উঠল। বহিরাগত কবি এনে ম্যাগাজিন ভরানো চলবে না। চলবে না। ম্যাগাজিন কমিটি পড়ল মহা ফাঁপড়ে। খোঁজ খোঁজ কে এই পাঁচু পোদ? কবিতা জমা দিয়েছিল পানু বোস। পুজোর ছুটিতে পানুকে পাওয়া গেল কলেজ থেকে দূরে এঁদো গাঁয়ে শ্রীপঞ্চাননবাবার আশ্রমে। বাবাকে দেখিয়ে পানু স্মার্টলি ঘোষণা করল, যে কবিতা নিয়ে এত হৈ চৈ তার বিখ্যাত কবি এই সেই পাঁচু পোদ। তিনি শুধু কবি নন, খাস চাষি এবং খাঁটি শিল্পপতি।

পাঁচু পোদ হাত জোড় করে ‘তৃণ হতে যেবা দীন তরু হতে যেবা সহিষ্ণু’ মূর্তি হয়ে জানাল— চাষি, শিল্পপতির খেতাব সে দাবি করে না। কবিতা লেখাই তার মহান উদ্দেশ্য। সে কবি, সুরকার, গায়ক হতে চায়। কলেজ ইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেটারি, আর ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদকের অনুরোধে পাঁচু কলেজে আসা যাওয়া শুরু করল। জেনারেল সেক্রেটারি কলেজ কমিটিকে জানালেন, কবি পাঁচু পোদ, কবিতাও করে, কলেজেও আসাযাওয়া করে। পড়বে বলে শহরে এসেছিল, অতিরিক্ত ছাত্রের ঠেলাঠেলিতে ভর্তি হতে পারেনি, তবে মনেপ্রাণে সে এই কলেজেরই ছাত্র। শিক্ষার প্রতি প্রবল ভালবাসায় মাঝেমাঝে ক্লাস করে সামনের বছর ভর্তির লিস্টে নাম এগিয়ে রেখেছে। স্টুডেন্ট ইউনিয়ন আর ম্যাগাজিন কমিটির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক সেরে কলেজের প্রিন্সিপাল স্যার ঘোষণা করলেন, পাঁচু পোদ কলজের প্রি-স্টুডেন্ট। সমাজব্যবস্থা বিষয়ক প্রতিবাদের কবিতাটি উঁচু মানের হওয়ার কারণেই ছাপা হয়েছে এবং বোর্ডে নোটিস ঝুলিয়ে দিলেন, কলেজ কমিটির মাননীয় সভাপতি রাজ্যের কৃষিমন্ত্রীর সহযোগিতায় রাজ্যব্যাপী কলেজ কবিতা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য কবিতাটি যোগ্যতা অর্জন করেছে।

প্রতি বছরের মতো এ বছর নবীনবরণ উৎসবে শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পাঁচু পোদকে মানপত্রে, পুরস্কারে সম্মানিত করা হল। পাঁচু পোদ মাথায় জটা, খালি গায়ে ছাই মেখে, লাল কৌপিন পরে মঞ্চে দাঁড়িয়ে অবনত মস্তকে পুরস্কার গ্রহণ করল। পাঁচু পোদের সাজসজ্জার এই স্টাইলে অনুপ্রাণিত হয়ে পড়ল কলেজের কবি এবং মহিলা কবি ছাত্রছাত্রীগণ। কবি ছাত্ররা পাঁচু পোদ স্টাইলে সেজেই কলেজে আসতে লাগল। কৌপিন পরে খালি গায়ে ছাই মেখে মহিলাকবি ছাত্রীরা আসতে না পেরে কবি ছাত্রদের চেয়ে পিছিয়ে গেল বটে তবে মাথার চুলে জটার বহরে উচ্চতা পেয়ে পুরুষ কবিদের পিছন থেকে তাদের উজ্জ্বল উপস্থিতি চোখে পড়ল।

কলেজ কমিটির সভাপতি রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী, স্থানীয় কলেজ মঞ্চ থেকে কবি এবং কলেজের প্রাকছাত্র পাঁচু পোদকে শ্রীপঞ্চাননবাবা নাম প্রতিষ্ঠা দিয়ে তুলে নিয়ে গেলেন রাজ্যের রাজধানী নগরে, সারারাজ্য কলেজ কবিতা প্রতিযোগিতার মঞ্চে। সেখানেও বাবার কবিতা যথারীতি প্রথম স্থান অধিকার করল। জাতীয় কলেজ কমিটির সভাপতি দেশের শিল্পমন্ত্রী— বিভূতি রঞ্জিত, জটাজূট, কৌপিনধারী শ্রীপঞ্চাননবাবার গলায় জবাফুলের দৈত্যাকৃতি মালা পরিয়ে সম্মানিত করলেন এবং দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বক্তৃতায় জানিয়ে দিলেন, অবহেলিত, নিপীড়িত শোষিত আদিবাসী কবি শ্রীপাঁচু পোদ ওরফে শ্রীপঞ্চাননবাবাকে আন্তর্দেশীয় কলেজ কবিতা প্রতিযোগিতার মঞ্চে তুলে ধরবেন।

তিনি আরও বললেন, দেশবাসী— ভাইয়ো, বহিনো, আপনারা জানেন, দেশের প্রান্তিক চাষি, ক্ষুদ্র শিল্পপতিদের মধ্যে ভয়ঙ্কর আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সেই হতাশা কাটিয়ে শ্রীপঞ্চাননবাবার মতো প্রান্তিক চাষি ও ক্ষুদ্র শিল্পপতি, সংস্কৃতির বিস্তারে কবিতা লিখছেন, গান গাইছেন। প্রতিদিন উৎসব পালন করছেন। সংস্কৃতির ধারক বাহক হয়ে আত্মহতার প্রবণতাকে জয় করেছেন। যাঁরা “শ্রীপঞ্চাননবাবা শিল্প সংস্কৃতি”র ধারায় ক্ষুদ্রশিল্প এবং প্রান্তিকচাষ চর্চা করেন তাঁদের আত্মহত্যার প্রবণতা থাকে না। প্রান্তিক চাষি, ক্ষুদ্র শিল্পপতি নির্বিশেষে যাঁরা হতাশায় ভুগছেন শ্রীপঞ্চাননবাবার নেতৃত্বে উৎসাহের সঙ্গে শিল্প-সংস্কৃতি চর্চায় এগিয়ে আসুন। কবিতা লিখুন। গান করুন। দেশকে আত্মহত্যামুক্ত করুন।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4720 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...