মাশরুম মেঘ আর সোনালী সারস

মাশরুম মেঘ আর সোনালী সারস | তপারতি গঙ্গোপাধ্যায়

তপারতি গঙ্গোপাধ্যায়

 

Life is a curious treasure.

—Fujio Torikoshi, survivor of Hiroshima

মাসাহিরো এবং সাদাকো সাসাকি। দুই ভাইবোন। বয়স চার এবং দুই। ১৯৪৫ এর ৬ আগস্টের সকালটা ছিল ঝকঝকে, নীল। তাদের পরিবার প্রাতঃরাশের জন্য তৈরি হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় যখন লিটল বয় হিরোশিমার মাটি ছুঁল, সেই ভয়ঙ্কর আলো চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছিল তাদের। বিস্ফোরণে সাদাকো ঘর থেকে উড়ে বেরিয়ে যায়। তাকে যখন খুঁজে পাওয়া যায়, সে বাড়ির পিছনে একটি বাক্সের উপর হতবাক হয়ে বসেছিল, জামাকাপড় ছিঁড়ে গেছে। যদিও সে আহত হয়নি। তাদের ঠাকুমা একটা কুয়োর মধ্যে, মৃত। প্রায় সকলেই উলঙ্গ, শরীর ঝলসে গেছে। তারপরের কয়েক দিন, কয়েক মাস অবর্ণনীয়, খাদ্য-বস্ত্রহীন, শরণার্থী শিবিরে। ধীরে ধীরে কয়েক বছরে পরিবার আবার মিলিত হয়। প্রায় নয় বছর কেটেছে। ধীরে ধীরে তারা এই ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। সাদাকো তখন একজন দুর্দান্ত দৌড়বিদ, জিমন্যাস্ট। ঠিক সেই সময়, অক্টোবর ১৯৫৪-য় এগারো বছরের সাদাকোর লিউকেমিয়া ধরা পড়ে। রেডিয়েশন ক্যান্সার। খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রোগ। সাদাকো বাঁচতে চায়। তখন তার বাবা জাপানের এক লোকগাথা শোনান তাকে। বলেন, যদি সে এক হাজার কাগজের সারস বানাতে পারে, তবে তার ইচ্ছেপূরণ হবে। সাদাকো শুরু করে, দিনরাত এক করে সে কাগজের সারস বানাতে থাকে। এক হাজার সারস তৈরি শেষ করে সে আরও এক হাজারের লক্ষ্য স্থির করে। কিন্তু তার ইচ্ছেপূরণ হয় না। আরও ৬৪৪টি সারস-শেষে ২৫ অক্টোবর, ১৯৫৫-তে সাদাকো চলে যায়। কখনও কাঁদেনি সে। তার শরীরের যন্ত্রণা অসহনীয় হয়ে উঠছিল দিনদিন। মৃত্যুর আগে যেদিন তার মা তাকে হাসপাতালে দেখতে আসেন, মায়ের কাছে গল্প শুনতে চায় সাদাকো। সারারাত গল্প শোনে। সকালে যখন মা কাজে চলে যাবেন, সেই বিদায়ের মুহূর্তে মাত্র একবারই সে কেঁদেছিল। সেদিনই সাদাকো মারা যায়।

সাদাকোর বন্ধুরা বাকি ৩৫৬টি সারস তৈরি করে। তার সমাধিতে হাজার সারস বিছিয়ে দেওয়া হয়। সারা পৃথিবীতে এই কথা ছড়িয়ে পড়ে। সাদাকোর সারসেরা শক্তি এবং আশার প্রতীক। বন্ধুরা টাকা তুলে হিরোশিমা পিস পার্কে সাদাকোর মূর্তি স্থাপন করে, ১৯৫৮ সালে। সাদাকোর হাতে ধরা এক সোনালী সারস। সেই ফলকে লেখা আছে,

This is our cry, this is our prayer, peace in the world.

হিবাকুশা একটি জাপানি শব্দ। এর অর্থ, person affected by a bomb or by radiation exposure. মূলত ১৯৪৫-এর আগস্ট থেকে এই শব্দ জাপানের মানুষের অন্যতম একটি ঐতিহাসিক পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। হিবাকুশা শব্দটির অর্থ এখন হিরোশিমা এবং নাগাসাকির উদ্বর্তী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গত ৭৭ বছর ধরে তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা চলছে সারা পৃথিবীকে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত রাখার।

 

It would be ideal if we could all cultivate in us the ability to dignify each other instead of getting upset over our differences.

—Ryouga Suwa, entered Hiroshima after the bombing and was exposed to radiation

রেডিওঅ্যাক্টিভ ক্যাটাস্ট্রফি হিরোশিমা এবং নাগাসাকিকে এমন অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল, মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমনটা কখনও ঘটেনি। দশ সেকেন্ড লাগে একটি নিউক্লিয়ার ফায়ার বলের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছতে। দুই শহরের ভূগোল আলাদা হলেও প্রায় ৮ থেকে ২০ হাজার ফুট দূরত্ব অবধি এই ধ্বংসের প্রভাব ছিল। ৯০ শতাংশ ডাক্তার, নার্স মারা গেছিলেন, ৪৫টি হাসপাতাল অকার্যকর হয়ে পড়েছিল, ৭০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ একাধিক আঘাতে জর্জরিত, পুড়েছেন, হাত পা ভেঙেছে, চামড়া গলে গেছে। অসংখ্য মানুষ বিস্ফোরণের সময় বাষ্পীভূত হয়ে গেছেন। সারা পৃথিবীর সমস্ত হাসপাতালের যত বার্ন বেড আছে, সেই সব দিয়েও শুধুমাত্র একটি শহরের মানুষদেরই সাহায্য করা সম্ভব হত না। প্রায় সবাই কোনও সহায় ছাড়াই মারা গেছেন। যাঁরা বিস্ফোরণের পরে শহরে ঢুকেছেন চিকিৎসা, সাহায্য দিতে, তাঁরা রেডিয়েশনে মারা গেছেন। দুটি পরমাণু বোমা প্রায় দু লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। বিস্ফোরণের পরবর্তী ১০ বছর ক্যান্সারের প্রকোপ, বিশেষ করে লিউকেমিয়া, গর্ভাবস্থায় ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যাওয়া, মস্তিষ্কের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রবাহিত হয়েছে।

 

‘The atom bomb killed victims three times,’ a college professor once said. Indeed, the nuclear blast has three components— heat, pressure wave, and radiation— and was unprecedented in its ability to kill en masse.

—Yoshiro Yamawaki, survivor of Nagasaki

পরমাণু অস্ত্রের কাঁচামাল হল তেজষ্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ২৩৫ এবং ২৩৮ আইসোটোপ, প্লুটোনিয়াম, ট্রাইনাইট্রোটলুইন। পৃথিবীর নয়টি দেশ পরমাণু অস্ত্রের মালিক। আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, চিন, ব্রিটেন, পাকিস্তান, ভারত, ইজরায়েল এবং দক্ষিণ কোরিয়া। দেশগুলিতে মিলিতভাবে মোট প্রায় ১৩০০০ পরমাণু অস্ত্র আছে। এখনও অবধি সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র হল জার বম্বা, ১৯৬১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন যেটি পরীক্ষা করেছিল। ৫ কোটি টনের ট্রাই নাইট্রো টলুইন (TNT)। লিটল বয়, ফ্যাট ম্যানের থেকে ৩০০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের কাছে ২০০ পরমাণু অস্ত্র আছে। আজ অবধি সারা পৃথিবী জুড়ে প্রায় ২০০০ পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা হয়েছে। যার ক্ষতিকর রেডিয়েশন পৃথিবীর বাতাসে থেকে যাবে বহু সহস্র বছর।

 

I cannot help but think that I killed those burn victims. What if I hadn’t given them water? Would many of them have lived? I think about this everyday.

—Inosuke Hayasaki, survivor of Nagasaki

নিউক্লিয়ার সুপারপাওয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশের তাগিদ পৃথিবীর সমস্ত ক্ষমতাশালী দেশেরই। প্রথম প্রচেষ্টা শুরু করেছিল ম্যানহাটান প্রজেক্ট। আপেক্ষিকতাবাদ যুদ্ধবাজদের এক অদ্ভুত উল্লাস সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু ম্যানহাটান প্রজেক্টের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল? জার্মানি অ্যাটমিক বম্ব বানাতে সফল হলে ইতিহাসের চরিত্র বদলাত কি? আইনস্টাইন কখনওই ভাবেননি তাঁর ভর ও শক্তির সমীকরণ এই রাজনৈতিক পরিণতি পাবে। E=mc2 বিজ্ঞান হলেও প্রযুক্তি নয়। শুধু এই সমীকরণের উপর নির্ভর করে তো অস্ত্র তৈরি সম্ভব না! তাছাড়া তিনি কোনওদিনও এই মিলিটারি প্রজেক্টে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। এমনকি আইনস্টাইন বামমনস্ক ছিলেন বলে ম্যানহাটান প্রজেক্টের বিজ্ঞানীরা বহু তথ্য তাঁর থেকে গোপন রেখেছিলেন। তবু পরবর্তীতে আইনস্টাইনকে বহু ক্ষুব্ধ প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু রুজভেল্টকে লেখা তাঁর চিঠির বক্তব্য এটাই ছিল যে জার্মানি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার আগেই আমেরিকা যেন এই গবেষণা শুরু করে।

হিরোশিমা নাগাসাকির বিস্ফোরণের চল্লিশ দিন পরে সোভিয়েত ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ইয়াকভ মালিক দুই শহরে যান এবং সেপ্টেম্বর মাসে একটি নয় পাতার রিপোর্ট এম্ব্যাসিতে পেশ করেন। সেই রিপোর্ট মলোটভ হয়ে স্তালিন এবং পলিটব্যুরোর কাছে পৌঁছায় ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫। সোভিয়েত নিজের পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে আগ্রহী ছিল। ফলে মালিকের রিপোর্ট জাপানের প্রেসকে ব্যঙ্গ করেই শুরু হয় এবং পরমাণু বোমায় মানুষের মৃত্যু সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছুই বলা ছিল না। বিস্ফোরণের প্রভাবকে বেশ খাটো করেই দেখানো হয়েছিল। এই রিপোর্ট সাধারণের জন্য প্রকাশিত হয় ৩০ বছর পরে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সোভিয়েত ইউনিয়নকে তার পরমাণু কর্মসূচিতে বেশ সাহায্য করেছিল। এদিকে জাপান ১৯৫২ সালে প্রথম বিস্ফোরণের গ্রাফিক ছবি প্রকাশ করে। তার আগেই ১৯৪৯-এ রাশিয়া তার পরীক্ষা শুরু করে ফেলেছে। অনেক পরে এই ক্ষতিকর প্রভাব এবং লক্ষ মানুষের মৃত্যুর সত্য প্রকাশিত হয়। ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট ডুমার চেয়ারম্যান এবং রাশিয়ান হিস্টরিক্যাল সোসাইটির ডিরেক্টর সের্গেই নারিস্কিন বলেন, “nobody should allow themselves to forget the tragedy of Hiroshima and Nagasaki.”

এই মুহূর্তে সারা পৃথিবী প্রাকৃতিক সম্পদ হারাচ্ছে। ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার বন্ধ না করলে কার্বন ফুটপ্রিন্ট পৃথিবীকে ধ্বংস করবে এই বিষয়ে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত। ২০২১-এর অক্টোবরে গ্লাসগোতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ক্লাইমেট চেঞ্জ কনফারেন্স ২০১৫-র প্যারিস এগ্রিমেন্টের শর্তপূরণের প্রথম ডেডলাইন বলা যেতে পারে। শিল্পবিপ্লবের পরবর্তী পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণই এর প্রায়োরিটি। চারটি মূল লক্ষ্যপূরণের উদ্দেশ্যে এই সামিট:

Secure global net-zero by mid-century and keep 1.5C degrees within reach;
adapt to protect communities and natural habitats;
mobilise finance, and work together to deliver.

পরবর্তী পাঁচ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যদিও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার খুব একটা চিন্তিত বলে মনে হচ্ছে না। এদিকে উত্তর মেরুর বরফ অত্যন্ত ভয়াবহভাবে গলতে শুরু করেছে। সুতরাং নিউক্লিয়ার এনার্জি নাকি ফসিল ফুয়েল, এবং নিউক্লিয়ার এনার্জি কতটা সবুজ এবং বিকল্প শক্তি, এই সিদ্ধান্ত এবার নিতেই হবে। ফ্রান্স তার বিদ্যুতের চাহিদা মেটাচ্ছে পরমাণু শক্তির মাধ্যমেই। সুতরাং অস্ত্র না, পৃথিবীর বিদ্যুৎশক্তির বিকল্প ভবিষ্যৎ হতে পারে পরমাণু শক্তি। এবং সেটা শুরুও করেছিল রাশিয়া।

১৯৫৪-র ২৭ জুন, সোভিয়েত ইউনিয়নের ওবনিন্সক (Obninsk)-এ তৈরি পৃথিবীর প্রথম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টকে গ্রিডের সঙ্গে জুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ শুরু হয়। ওবনিন্সক মস্কোর ৬০ মাইল দক্ষিণের ছোট্ট শহর। এখন জনসংখ্যা ১ লক্ষ ৮ হাজারের আশপাশে। প্রথম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট ওবনিন্সককে একটি মডেল সায়েন্স সিটিতে পরিণত করে। গ্রাফাইট মডারেটর রিয়্যাকটার (ওয়াটার কুলড), বিদ্যুৎ উৎপাদন হত ৫ মেগাওয়াট। ১৯৫৮-র পর থেকে মূলত মিলিটারি গবেষণা, আইসোটোপ তৈরি, সাবমেরিনের প্রপেলারের জ্বালানির কাজে ব্যবহার করা শুরু হয়। ১৯৯০-এর পরে ওবনিন্সকের প্রযুক্তি পৃথিবীর সামনে নিয়ে আসা হয়। তবে ১৯৮৬-তে চের্নোবিল ঘটে গেছে এবং পরবর্তীতে ২০০১-এ ৯/১১ ঘটে যাওয়ার পরে পরমাণু শক্তির যেকোনও গবেষণাই একটি তুমুল রাজনৈতিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এরপর ২০০২-এ সাউথ আফ্রিকার জোহানসবার্গে World Summit on Sustainable Development (WSSD)-এ পরমাণু শক্তির ব্যবহারের বিরুদ্ধে জোরালো সওয়াল করা হয়।

২০০২-এর এপ্রিলে APS-1 Obninsk (Atomic Power Station 1 Obninsk) বন্ধ হয়ে যায়। তবে এই ৪৮ বছরে ওবনিন্সকে তেজস্ক্রিয়তার কারণে কোনও মৃত্যু বা পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাবের ঘটনা ঘটেনি। ওবনিন্সক পাওয়ার প্ল্যান্ট পৃথিবীর পরমাণু শক্তির ইতিবাচক প্রয়োগের ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়নের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে ভাবা হয়।

ঠিক সেভাবেই পরমাণু গবেষণায় ভারতের ঐতিহাসিক যাত্রা এই কলকাতাতেই শুরু হয়েছিল। পরমাণু শক্তির সাহায্যে চিকিৎসা বিজ্ঞান যুগান্তকারী পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে চলছে। ভারতের প্রথম এবং একমাত্র সাইক্লোট্রন সিস্টেম, আমাদের কলকাতায়। ১৯৭৭ সালে ভেরিয়েবল এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টারের সল্টলেক ইউনিট তৈরি হয় ভারতের ডিপার্টমেন্ট অফ্ অ্যাটমিক এনার্জি, ইউরোপ এবং কানাডার কোলাবরেশনে। ১৯৯৭ সালে সুপারকন্ডাক্টিং ল্যাবরেটরির শিলান্যাস করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। ২০০২ সালে মেডিক্যাল সাইক্লোট্রন ফেসিলিটি, গড়িয়ার জন্য ৬ একর জমি উপহার দেন সেই সময়ের বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ভারতে প্রথম কোনও রাজ্য নিউক্লিয়ার এনার্জি এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে তার প্রয়োগ নিয়ে ভেবেছে। ক্যান্সার গবেষণার অসাধারণ সুযোগ গড়ে উঠেছে বামফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে। ২০১১-র পরে এই প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে পড়েছিল। ২০১৮-তে আবার চালু হয়। যদিও প্রচারের অভাবে এবং নিকৃষ্টতম প্রোপাগান্ডার কারণে এই অসামান্য অবদানের কথা অনেকেরই অজানা।

হিরোশিমা এবং নাগাসাকি সারা পৃথিবীর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসের পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিন্তু এই পরমাণু বোমায় শেষ হয়নি। জাপান তার পরেও বেশ কিছুদিন তার অবস্থানে অনড় ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ করেছিলেন স্তালিন। কিন্তু শুরু হয়েছিল কোল্ড ওয়ার এবং পরমাণু অস্ত্রের আতঙ্ক। ৭৭ বছরেও এই হিসেব মেলেনি। মানুষের প্রতি মানুষের যে অসহ্য প্রতিহিংসা, তার লজ্জা, যন্ত্রণা পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি আজও। যুদ্ধের আজন্ম অভিশাপ বহন করছে লক্ষ লক্ষ মানুষ, অন্তত দশটি প্রজন্ম, নবজাতক, সভ্যতা। হিরোশিমা, নাগাসাকি আমাদের উন্মত্ত রাজনৈতিক শক্তিপরীক্ষার সমস্ত সীমা অতিক্রম করে যাওয়ার ইতিহাস। আরও সহস্র শতাব্দী বয়ে বেড়াতে হবে এই অন্ধকার।

Dear young people who have never experienced war,
‘Wars begin covertly. If you sense it coming, it may be too late.’

—Takato Michishita , survivor of Nagasaki

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 4710 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...